ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন
খালি পেটে ব্যায়াম করলে কি বেশি চর্বি কমে
ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন কারণ এর মাধ্যমে আপনারা উচ্চ
রক্তচাপের সমস্যা প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
তাছাড়াও আজকের আর্টিকেলের বিস্তারিত জানতে পারবেন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কোন খাবার
খাওয়া প্রয়োজন, কতটুকু ব্যায়াম করা প্রয়োজন এবং কোন বিষয় গুলোর উপরে বিশেষ
সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পেইজ সূচিপত্রঃ ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন
- ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন
- খাবারে লবণ কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী উপায়
- নিয়মিত ব্যায়াম করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার পদ্ধতি
- উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কোন খাবারগুলো বেশি উপকারী
- ওজন নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়
- মানসিক চাপ কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহজ পদ্ধতি
- ধূমপান ও অ্যালকোহল ছেড়ে রক্তচাপ কমানোর উপায়
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামে কি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে
- উচ্চ রক্তচাপে কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন
- লেখকের শেষ কথা
ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন
দ্রুত হাই প্রেসার কিভাবে কমাবেন এই বিষয়টি সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মূলত উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বর্তমানে
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু বিপজ্জনক স্বাস্থ্য সমস্যা
হিসেবে পরিচিত যা নীরব ঘাতক নামেও পরিচিত কারণ এটি দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ না
দেখিয়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি বিকলের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে। বিশ্বের
প্রায় ১৩০ কোটির বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত
বাড়ছে।
মূলত জীবনযাপনের সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই উচ্চ
রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যারা সঠিক জীবনযাপনের
অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তারা অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধের প্রয়োজন ছাড়াই রক্তচাপ
স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হন। তাই ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর সকল কার্যকরী
উপায় সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিতভাবে জানা খুবই প্রয়োজনীয়।
চলুন, উচ্চ হাইপ্রেসার কমানোর সেরা উপায় নিয়ে আমরা স্টেপ বাই স্টেপ
বিস্তারিতভাবে জেনে নেই। আপনারা যদি এই সকল বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেন তাহলে
প্রাকৃতিক উপায়েই আপনাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব হবে। তবে মনে
রাখবেন যে যেকোনো স্বাস্থ্য পরিবর্তনের আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া অপরিহার্য।
খাবারে লবণ কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী উপায়
অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ এবং লবণের
পরিমাণ কমানো ওষুধ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে প্রমাণিত ও কার্যকর
পদ্ধতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম বা এক চা চামচের কম
লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয় কিন্তু আমাদের দেশে গড়ে এর দ্বিগুণ বা তার বেশি লবণ
খাওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিনের সোডিয়াম গ্রহণ মাত্র ১০০০
মিলিগ্রাম কমালে রক্তচাপ ৫ থেকে ৭ মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
লবণ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে
চলা কারণ এই খাবারগুলোতে লুকানো লবণের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে। চিপস, আচার,
বিস্কুট, কৌটাজাত খাবার, ফাস্ট ফুড এবং রেস্তোরাঁর খাবারে সাধারণত অনেক বেশি
সোডিয়াম থাকে এবং এগুলো নিয়মিত খেলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। রান্নায়
লবণের পরিবর্তে লেবুর রস, হলুদ, আদা বা রসুন ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বজায়
থাকে এবং লবণের ব্যবহারও কমানো যায়।
কাঁচা লবণ অর্থাৎ পাতে আলাদা লবণ দেওয়ার অভ্যাস সম্পূর্ণ বাদ দিন কারণ এই অভ্যাস
রক্তচাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। খাবারের লেবেল পড়ার অভ্যাস তৈরি
করুন এবং প্রতি সার্ভিংয়ে সোডিয়ামের পরিমাণ ২০০ মিলিগ্রামের কম থাকলে সেটি
নিরাপদ বলে বিবেচনা করা যায়। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা, আলু ও পালং শাক
বেশি খান কারণ পটাশিয়াম সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে সাহায্য
করে। ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন যার মাধ্যমে
আপনারা প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।
নিয়মিত ব্যায়াম করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার পদ্ধতি
নিয়মিত ব্যায়াম ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর ও
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি কারণ ব্যায়াম হৃদযন্ত্রকে
শক্তিশালী করে এবং হৃদযন্ত্র যখন বেশি দক্ষতার সাথে কাজ করে তখন রক্ত পাম্প করতে
কম চাপের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম যেমন
দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং বা সাঁতার কাটা রক্তচাপ ৫ থেকে ৮ মিলিমিটার মার্কারি
পর্যন্ত কমাতে পারে যা অনেক ওষুধের সমতুল্য প্রভাব। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন এই
পরিমাণ ব্যায়াম করলে দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা
যায়।
হাঁটা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য ব্যায়াম কারণ এতে বিশেষ
সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই এবং যেকোনো বয়সের মানুষ সহজেই করতে পারেন।
প্রতিদিন সকাল বা বিকেলে ৩০ মিনিট জোরে হাঁটার অভ্যাস তৈরি করুন এবং ধীরে ধীরে
সময় ও গতি বাড়ান। যোগব্যায়াম ও শ্বাসের ব্যায়াম বিশেষভাবে উচ্চ রক্তচাপের
রোগীদের জন্য কার্যকর কারণ এগুলো একই সাথে মানসিক চাপ কমায় এবং রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আরো পড়ুনঃ
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন
ব্যায়াম শুরু করার আগে যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া উচিত কারণ হঠাৎ করে অতিরিক্ত ব্যায়াম করা বিপজ্জনক হতে পারে। ধীরে শুরু
করুন এবং প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট করে ব্যায়ামের সময় বাড়ান। ব্যায়ামের সময়
যদি বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো অনুভূতি হয় তাহলে সাথে সাথে
বিশ্রাম নিন এবং চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কোন খাবারগুলো বেশি উপকারী
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং
বিশেষজ্ঞরা ডাশ বা ডায়েটারি অ্যাপ্রোচেস টু স্টপ হাইপারটেনশন ডায়েট অনুসরণ করার
পরামর্শ দেন যা উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি
খাদ্যপরিকল্পনা। এই ডায়েটে প্রচুর ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, কম চর্বির দুগ্ধজাত
পণ্য এবং বাদাম অন্তর্ভুক্ত থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই ডায়েট মাত্র দুই
সপ্তাহের মধ্যে রক্তচাপ ১১ মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর কারণ পটাশিয়াম
সোডিয়ামের প্রভাব নিরপেক্ষ করে রক্তনালির উপর চাপ কমায়। কলা, আলু, মিষ্টি আলু,
পালং শাক, টমেটো, ডাব ও লাউ পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস যেগুলো নিয়মিত খেলে রক্তচাপ
স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, বীজ, কালো
শিম এবং আখরোটও রক্তনালি শিথিল করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
লাল মাংস, ঘি, মাখন এবং নারকেল তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে যা রক্তচাপ
বাড়ায় তাই এগুলো সীমিত রাখুন। বরং সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে
যা রক্তনালির স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। রসুন উচ্চ
রক্তচাপের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক প্রতিকার কারণ এতে এ্যালিসিন নামক
উপাদান থাকে যা রক্তনালি প্রসারিত করে রক্তচাপ কমায়। ওষুধ ছাড়া উচ্চ
রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন কারণ এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই
সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে একটি
কারণ শরীরের ওজন বাড়লে হৃদযন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং রক্তচাপও বেড়ে
যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমালে রক্তচাপ ৫ থেকে ২০
মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত কমানো সম্ভব যা অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজনীয়তা
সম্পূর্ণ দূর করে দেয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর
সবচেয়ে টেকসই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি।
ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি করা অর্থাৎ যতটুকু
ক্যালোরি খাওয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি খরচ করা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত
ব্যায়ামের সমন্বয়েই এই ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি করা সম্ভব। রাতে দেরিতে খাওয়া,
অতিরিক্ত মিষ্টি ও তেলযুক্ত খাবার এবং বেশি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিলে ধীরে
ধীরে ওজন কমতে শুরু করে।
কোমরের মাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ পেটের চারপাশে জমা চর্বি উচ্চ
রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বিশেষভাবে বাড়ায়। পুরুষের ক্ষেত্রে কোমরের পরিমাপ ৯০
সেন্টিমিটার বা ৩৬ ইঞ্চির কম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৮০ সেন্টিমিটার বা ৩২ ইঞ্চির
কম রাখার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে ও টেকসইভাবে ওজন কমানো দ্রুত কিন্তু
অস্থায়ীভাবে ওজন কমানোর চেয়ে অনেক বেশি উপকারী।
মানসিক চাপ কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহজ পদ্ধতি
মানসিক চাপ বা স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপের একটি বড় কারণ কারণ চাপের মুহূর্তে শরীর
অ্যাড্রিনালিন ও কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ করে যা সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়
এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপে এই বৃদ্ধি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। ধ্যান বা
মেডিটেশন, গভীর শ্বাসের ব্যায়াম এবং মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে এবং
একই সাথে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পদ্ধতি। গবেষণায়
দেখা গেছে যে প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধ্যান করলে রক্তচাপ
উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
আরো পড়ুনঃ
কিডনি ভালো রাখার সেরা ১০টি উপায় জেনে নিন
যারা মুসলিম তারা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মাধ্যমে মানসিক শান্তি পেতে
পারেন কারণ নামাজ শুধু আত্মিক প্রশান্তিই দেয় না বরং এর শারীরিক ব্যায়ামের
প্রভাবও রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো, শখের কাজ করা,
হাসি-আনন্দে থাকা এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা মানসিক চাপ কমানোর প্রাকৃতিক
উপায়। নেতিবাচক মানুষ ও পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন এবং যেসব কাজ আপনাকে
আনন্দ দেয় সেগুলোর জন্য নিয়মিত সময় বের করুন।
গভীর শ্বাসের ব্যায়াম বা ডিপ ব্রিদিং রক্তচাপ তাৎক্ষণিকভাবে কমানোর একটি সহজ
পদ্ধতি। চার গণনায় নাক দিয়ে শ্বাস নিন, সাত গণনায় ধরে রাখুন এবং আট গণনায় মুখ
দিয়ে ছেড়ে দিন। এই ব্যায়ামটি দিনে দুই থেকে তিনবার করলে রক্তচাপ
উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং মানসিক শান্তিও ফিরে আসে। আপনার যদি হাই
প্রেসারের সমস্যা থাকে তাহলে ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে
নিন।
ধূমপান ও অ্যালকোহল ছেড়ে রক্তচাপ কমানোর উপায়
ধূমপান উচ্চ রক্তচাপের একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর কারণ কারণ তামাকের নিকোটিন রক্তনালি
সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি সিগারেট খাওয়ার পর রক্তচাপ
সাময়িকভাবে বাড়ে এবং নিয়মিত ধূমপানকারীদের রক্তচাপ সবসময়ই স্বাভাবিকের চেয়ে
বেশি থাকে। ধূমপান ছেড়ে দিলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রক্তচাপ কমতে শুরু করে
এবং বছরখানেকের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
ধূমপান ছাড়ার জন্য নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, কাউন্সেলিং বা সহায়তা গোষ্ঠীর
সাহায্য নিতে পারেন। ধূমপান ছাড়াটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয় এবং এটি হয়তো আপনার
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। একসাথে সব
ছেড়ে দেওয়া কঠিন মনে হলে ধীরে ধীরে সিগারেটের সংখ্যা কমিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধের
পরিকল্পনা করুন।
অ্যালকোহল অতিরিক্ত পান করাও রক্তচাপ বাড়ানোর একটি প্রধান কারণ এবং ইসলামে মদপান
নিষিদ্ধ হওয়ায় আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের এই সমস্যা সাধারণত কম হলেও যারা এই
অভ্যাসে পড়েছেন তাদের জন্য এটি বাদ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এমনকি সীমিত পরিমাণে
নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলেও রক্তচাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং এটি রক্তচাপের
ওষুধের কার্যকারিতাও কমিয়ে দেয়।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামে কি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে
পর্যাপ্ত ঘুম ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একটি অবহেলিত কিন্তু অত্যন্ত
কার্যকর পদ্ধতি কারণ ঘুমের সময় শরীর ও হৃদযন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং রক্তচাপ
স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে যে রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে উচ্চ
রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের
ঘাটতি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকে ক্রমশ কঠিন করে দেয়। প্রতিরাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা
ভালো মানের ঘুম নিশ্চিত করুন কারণ এটি শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা উচ্চ রক্তচাপের
একটি কম পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যারা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন বা
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে জেগে যান তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া উচিত কারণ স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা করলে রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
এই সমস্যা অনেক সময় ওজন বেশি থাকার কারণে হয় তাই ওজন কমালে স্লিপ অ্যাপনিয়াও
কমে এবং রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভালো ঘুমের অভ্যাস তৈরিতে রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ও স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন, ঘরের
আলো কমিয়ে রাখুন এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার চেষ্টা করুন।
ঘুমানোর আগে হালকা মেডিটেশন, বই পড়া বা আরামদায়ক সংগীত শোনা মন শান্ত করতে
সাহায্য করে এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সহায়তা করে। ঘুমের মান উন্নত হলে সামগ্রিক
স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
উচ্চ রক্তচাপে কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন
ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়গুলো জানা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি কখন
অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে তাও জানাটা অত্যন্ত জরুরি কারণ সব পরিস্থিতিতে
শুধু প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি আপনার
রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার মার্কারির বেশি থাকে এবং তিন মাসের জীবনযাপন পরিবর্তনেও
না কমে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষত যদি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা
কিডনির সমস্যা থাকে তাহলে ওষুধ ছাড়া চলার চেষ্টা না করে সরাসরি চিকিৎসকের
পর্যবেক্ষণে থাকুন।
হঠাৎ করে মাথাব্যথা তীব্র হলে, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হলে, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট
হলে এবং একদিকে হাত বা পায়ে দুর্বলতা অনুভব হলে এটি হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস বা
স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে এবং এই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে যান।
রক্তচাপ ১৮০/১২০ মিলিমিটার মার্কারির বেশি হলে এটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি হিসেবে
বিবেচনা করুন এবং দেরি না করে হাসপাতালে যান। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর সেরা
মাধ্যম জানতে হলে ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন।
মনে রাখবেন যে জীবনযাপনের পরিবর্তনগুলো ওষুধের পরিপূরক হতে পারে কিন্তু
প্রতিস্থাপক নয়। ডাক্তার যদি ওষুধ দেন তাহলে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না বরং
ডাক্তারের নির্দেশনা মেনে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পাশাপাশি ওষুধও সেবন করুন।
নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করুন এবং পরিবর্তনগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখুন যাতে
চিকিৎসককে সঠিক তথ্য দিতে পারেন।
লেখকের শেষ কথা
আপনার যদি অতিরিক্ত রক্তচাপ হয়ে থাকে তাহলে আপনি উপরে দেওয়া নিয়মগুলো মেনে
অনেক সহজেই নিজের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। কারো উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা
থাকলে অনেকে চিন্তায় পড়ে যান যার কারণে এটি আরো প্রভাব ফেলে। এই সময় আপনার
রক্তচাপের টেনশন না নিয়ে এটি ভালো করার উপায় গুলো মেনে চলা প্রয়োজন যার
মাধ্যমে দ্রুত হাই প্রেসার কমাতে পারবেন।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন, খাবারে লবণ কমিয়ে
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী উপায়, নিয়মিত ব্যায়াম করে রক্তচাপ
স্বাভাবিক রাখার পদ্ধতি, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কোন খাবারগুলো বেশি উপকারী, ওজন
নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়, মানসিক চাপ কমিয়ে রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণের সহজ পদ্ধতি, ধূমপান ও অ্যালকোহল ছেড়ে রক্তচাপ কমানোর উপায়,
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামে কি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, উচ্চ রক্তচাপে কখন
অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url