মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব
ফেসবুক আইডি ডিজেবল হলে ফিরে পাওয়ার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব এই প্রশ্নটি প্রায়ই তাদের মনে আসে যারা পুরোনো ফোন কিনতে চান অথবা নিজের ফোনটি কতটা পুরোনো হয়েছে তা জানতে চান।
অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন উভয় ধরনের ডিভাইসে মোবাইলের ব্যবহারের বয়স ও সময় যাচাই করার সব পদ্ধতি আজকে এ আর্টিকেলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব
- মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব
- মোবাইলের ব্যবহারের বয়স জানা কেন জরুরি
- IMEI নম্বর দিয়ে ফোনের তথ্য বের করার উপায়
- অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথম চালু হওয়ার তারিখ দেখার নিয়ম
- আইফোনে ব্যবহারের তারিখ ও ইতিহাস যাচাইয়ের পদ্ধতি
- ডিভাইসের ওয়ারেন্টি স্ট্যাটাস দেখে বয়স যাচাইয়ের নিয়ম
- মোবাইলের স্ক্রিন টাইম ও হিস্টরি দেখার উপায়
- ব্যাটারির স্বাস্থ্য দেখে ফোনের বয়স অনুমান করুন
- পুরোনো ফোন কেনার আগে যা যা যাচাই করবেন
- লেখকের শেষ কথা
মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব
মোবাইল কতক্ষণ ব্যাবহার হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরটা আসলে একটু জটিল কারণ একটি ফোনের ব্যবহারের বয়স বলতে দুটো আলাদা বিষয় হতে পারে। প্রথমটি হলো ফোনটি কারখানা থেকে প্রস্তুত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট কত সময় হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি হলো ফোনটি প্রথমবার কখন চালু করা হয়েছিল বা কতক্ষণ সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুটো তথ্যই ফোনের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার সময় বিক্রেতার কথার উপর ভরসা রাখেন যা প্রায়ই ভুল তথ্য দেয়। বিক্রেতা বলতে পারেন ফোনটি মাত্র তিন মাস ব্যবহার হয়েছে, কিন্তু আসলে হয়তো দুই বছর ব্যবহার হয়েছে। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য ফোনের নিজস্ব তথ্য যাচাই করার পদ্ধতি জানাটা অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে যাচাই করলে আপনি কেনার আগেই নিশ্চিত হতে পারবেন ফোনটি আসলে কতটা পুরোনো।
এই আর্টিকেলে আমরা এমন সব পদ্ধতি আলোচনা করব যেগুলো ব্যবহার করে আপনি যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের ব্যবহারের বয়স এবং ইতিহাস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারবেন। কিছু পদ্ধতি একদম বিনামূল্যে এবং ফোনের ভেতর থেকেই করা যায়, আর কিছু পদ্ধতিতে অনলাইন টুল ব্যবহার করতে হবে। আসুন ধাপে ধাপে সব পদ্ধতি জেনে নেই।
মোবাইলের ব্যবহারের বয়স জানা কেন জরুরি
একটি মোবাইলের ব্যবহারের বয়স জানাটা শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়, এটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অপরিহার্য। সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে ফোন কেনার সময় সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় ফোনের বয়স নিয়ে। একটি ফোন যত বেশি পুরোনো হয়, সেটার প্রসেসর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়, ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমে এবং সফটওয়্যার আপডেট পাওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে আসে। তাই সঠিক বয়স না জেনে পুরোনো ফোন কিনলে কম দামে কিনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ওয়ারেন্টি ক্লেম করার ক্ষেত্রেও ফোনের ব্যবহারের বয়স জানা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে বেশিরভাগ স্মার্টফোনে ১ বছরের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি দেওয়া হয় এবং এই ওয়ারেন্টির মেয়াদ ফোনটির প্রথম বিক্রয়ের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়। যদি আপনি একটি পুরোনো ফোন কেনেন এবং জানেন না যে সেটির ওয়ারেন্টি আছে কি না, তাহলে পরে ওয়ারেন্টি সার্ভিস পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন। আশা করি মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন।
আরো পড়ুনঃ দারাজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়
নিজের ফোনের জন্যও ব্যবহারের বয়স ট্র্যাক করাটা উপকারী। একটি স্মার্টফোন সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর ভালোভাবে চলে এবং এরপর ধীরে ধীরে পারফরম্যান্স কমতে শুরু করে। আপনার ফোনটি কতটা পুরোনো হয়েছে সেটা জানলে আপনি সময়মতো নতুন ফোনে আপগ্রেড করার পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং হঠাৎ ফোন নষ্ট হওয়ার অপ্রত্যাশিত ঝামেলা এড়াতে পারবেন।
IMEI নম্বর দিয়ে ফোনের তথ্য বের করার উপায়
IMEI (International Mobile Equipment Identity) নম্বর হলো প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি অনন্য পরিচিতি নম্বর যা দিয়ে ফোনটির উৎপাদনের তারিখ, মডেল, মূল দেশ এবং ওয়ারেন্টি স্ট্যাটাস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব। আপনার ফোনের IMEI নম্বর জানতে ডায়াল প্যাড খুলে *#06# টাইপ করুন এবং সাথে সাথে ১৫ সংখ্যার IMEI নম্বরটি স্ক্রিনে দেখা যাবে। এটি নোট করে রাখুন কারণ এই নম্বরটিই ফোনের সব তথ্য বের করার চাবিকাঠি। IMEI যানা থাকলে মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব সহজেই বুঝতে পারবেন।
IMEI নম্বর পাওয়ার পরে imei.info বা imeicheck.com-এর মতো বিনামূল্যের অনলাইন সার্ভিসে গিয়ে সেই নম্বরটি দিয়ে সার্চ করুন। এই ওয়েবসাইটগুলো ফোনের ব্র্যান্ড, মডেল, রঙ, মূল বাজার এবং কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদনের তারিখ দেখাতে পারে। স্যামসাং, অ্যাপল এবং কিছু অন্যান্য ব্র্যান্ডের জন্য তাদের নিজস্ব অফিশিয়াল IMEI চেক সার্ভিস আছে যেখানে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
IMEI নম্বর দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা যায়, সেটা হলো ফোনটি চুরি করা বা হারানো কি না। GSMA-এর অফিশিয়াল ডেটাবেজে (checkmend.com বা similar সার্ভিস) IMEI দিয়ে সার্চ করলে জানা যাবে ফোনটি কোথাও ব্লকলিস্টে আছে কি না। সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে এই যাচাইটি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্লকলিস্টেড ফোনে নেটওয়ার্ক কাজ করে না।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথম চালু হওয়ার তারিখ দেখার নিয়ম
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথম চালু হওয়ার তারিখ জানার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো Google অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। আপনার ফোনে যে Google অ্যাকাউন্টটি প্রথমে সাইন ইন করা হয়েছিল সেই অ্যাকাউন্টে যান এবং myaccount.google.com এ লগইন করুন। সেখানে Data & Privacy সেকশনে My Activity অপশনে গেলে আপনি দেখতে পাবেন কোন তারিখে এই ডিভাইসটি প্রথমবার Google-এ সাইন ইন হয়েছিল, যেটা মূলত ফোনটি প্রথম সেটআপ করার তারিখ।
স্যামসাং ফোনে একটি বিশেষ সুবিধা আছে। Samsung Members অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেখানে লগইন করলে আপনার ডিভাইসের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় যার মধ্যে ওয়ারেন্টির মেয়াদ থেকে শুরু করে সার্ভিসের ইতিহাসও দেখা সম্ভব। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন ফোনটি কখন প্রথম বিক্রয় হয়েছিল এবং বর্তমানে ওয়ারেন্টি আছে কি না। শাওমি, রিয়েলমি বা অন্যান্য ব্র্যান্ডেরও নিজস্ব সার্ভিস অ্যাপ আছে যেখানে একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।
আইফোনে ব্যবহারের তারিখ ও ইতিহাস যাচাইয়ের পদ্ধতি
আইফোনে ব্যবহারের বয়স যাচাই করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো অ্যাপলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট checkcoverage.apple.com ব্যবহার করা। এই ওয়েবসাইটে আপনার আইফোনের সিরিয়াল নম্বর দিলে অ্যাপল জানাবে ফোনটির ওয়ারেন্টির মেয়াদ কখন থেকে শুরু হয়েছে এবং কখন শেষ হবে। সাধারণত আইফোনের ওয়ারেন্টি প্রথম বিক্রয়ের তারিখ থেকে ১ বছর গণনা হয়, তাই ওয়ারেন্টির শুরুর তারিখ থেকেই বোঝা যায় ফোনটি কখন প্রথম বিক্রি হয়েছিল।
আরো পড়ুনঃ অনলাইন কোচিং ব্যবসা কিভাবে করা যায়
আইফোনের সিরিয়াল নম্বর বের করতে Settings এ গিয়ে General এ ক্লিক করুন, তারপর About বা সম্পর্কে তে গেলে Serial Number দেখতে পাবেন। এই সিরিয়াল নম্বর দিয়ে আরেকটি কাজও করা যায় যেকোনো সিরিয়াল নম্বর ডিকোডার ওয়েবসাইটে দিলে আইফোনের উৎপাদনের সপ্তাহ ও বছর পর্যন্ত জানা সম্ভব। আইফোনের পুরোনো মডেলের সিরিয়াল নম্বরে উৎপাদনের তারিখের এনকোডেড তথ্য থাকে যা অনলাইন টুল দিয়ে ডিকোড করা যায়।
আইফোনে আরেকটি দারুণ সুবিধা আছে Settings এ গিয়ে Battery সেকশনে যান এবং Battery Health চেক করুন। যদি ব্যাটারির ক্ষমতা ৮০ শতাংশের নিচে থাকে তাহলে ফোনটি অনেকদিন ব্যবহার হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। এছাড়া Screen Time সেকশনে গেলে দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক ব্যবহারের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন যা ফোনটির সক্রিয় ব্যবহারের ধারণা দেবে।
ডিভাইসের ওয়ারেন্টি স্ট্যাটাস দেখে বয়স যাচাইয়ের নিয়ম
ওয়ারেন্টি স্ট্যাটাস চেক করাটা মোবাইলের ব্যবহারের বয়স জানার অন্যতম সহজ এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। প্রতিটি স্মার্টফোন ব্র্যান্ড সাধারণত ১ থেকে ২ বছরের ওয়ারেন্টি দেয় এবং এই ওয়ারেন্টির শুরু হয় ফোনটির প্রথম বিক্রয়ের তারিখ থেকে। তাই যদি দেখেন ফোনের ওয়ারেন্টি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, তাহলে ফোনটি কমপক্ষে ওয়ারেন্টির মেয়াদ (১-২ বছর) পুরোনো।
স্যামসাং ফোনের ওয়ারেন্টি চেক করতে Samsung এর অফিশিয়াল সাইটে IMEI দিয়ে সার্চ করুন অথবা Samsung Members অ্যাপ ব্যবহার করুন। শাওমি ফোনের জন্য Xiaomi এর অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি চেক পেজে IMEI দিয়ে যাচাই করা যায়। ওয়ানপ্লাস, রিয়েলমি এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডেরও নিজস্ব ওয়ারেন্টি চেক পোর্টাল আছে যা তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। এই পোর্টালগুলো সাধারণত IMEI বা সিরিয়াল নম্বর দিয়ে সার্চ করলে সঠিক তথ্য দেয়।
বাংলাদেশে ফোন কেনার সময় আরেকটি বিষয় যাচাই করা উচিত, সেটা হলো ফোনটি অফিশিয়াল চ্যানেলে আনা হয়েছে কি না। BTRC এর ওয়েবসাইটে IMEI দিয়ে সার্চ করলে জানা যাবে ফোনটি বাংলাদেশে নিবন্ধিত কি না। নিবন্ধিত না হলে ফোনটি অনিয়মিতভাবে আনা হয়েছে এবং সেক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মোবাইলের স্ক্রিন টাইম ও ব্যবহারের ইতিহাস দেখার উপায়
স্ক্রিন টাইম হলো একটি ফোন প্রতিদিন মোট কতক্ষণ সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয় তার পরিমাপ। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্ক্রিন টাইম দেখতে Settings এ গিয়ে Digital Wellbeing & Parental Controls বা স্ক্রিন টাইম অপশনে যান। এখানে দৈনিক এবং সাপ্তাহিক ব্যবহারের গড় দেখতে পাবেন এবং কোন অ্যাপে কত সময় কাটানো হয়েছে সেটাও বিস্তারিত জানতে পারবেন। তবে এই তথ্য শুধু বর্তমান সেটআপের পর থেকেই রেকর্ড হয়, ফ্যাক্টরি রিসেটের আগের ডেটা দেখা যায় না।
আইফোনে Screen Time ফিচারটি iOS 12 থেকে চালু হয়েছে এবং এটি অনেক বিস্তারিত তথ্য রাখে। Settings থেকে Screen Time এ গেলে দৈনিক গড় ব্যবহারের সময়, কোন অ্যাপে কতক্ষণ সময় কাটানো হয়েছে এবং ফোন কতবার তোলা হয়েছে সেসব তথ্য পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন এই ডেটা মূলত বর্তমান ব্যবহারকারীর আচরণ দেখায়, ফোনটির সার্বিক ব্যবহারের বয়স সরাসরি এখান থেকে বোঝা না গেলেও ব্যবহারের ধরন বোঝা যায়।
Google Photos বা iCloud এ থাকা পুরোনো ছবির তারিখ দেখেও একটি ফোনের ব্যবহারের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যদি ফোনে Google Photos থাকে এবং আগের ছবিগুলো মুছে না ফেলা হয়, তাহলে সবচেয়ে পুরোনো ছবির তারিখ দেখলে বোঝা যাবে ফোনটি কমপক্ষে কত দিন আগে থেকে ব্যবহার হচ্ছে। এটি একটি পরোক্ষ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি। এইটা জানার পাশাপাশি মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব জানাও অনেক জরুরী।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য দেখে ফোনের বয়স অনুমান করুন
মোবাইল ফোনের ব্যাটারি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক চার্জ সাইকেলের পরে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। সাধারণত একটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ৩০০ থেকে ৫০০ সম্পূর্ণ চার্জ সাইকেলের পরে তার মূল ধারণক্ষমতার প্রায় ৮০ শতাংশে নেমে আসে। তাই ব্যাটারির বর্তমান স্বাস্থ্য দেখে ফোনটি প্রায় কতটা ব্যবহার হয়েছে তা অনুমান করা সম্ভব। ব্যাটারির স্বাস্থ্য যদি ৭০ শতাংশের নিচে থাকে তাহলে বুঝতে হবে ফোনটি অনেক দিন ও বেশি পরিমাণে ব্যবহার হয়েছে।
আইফোনে ব্যাটারির স্বাস্থ্য সরাসরি দেখার সুবিধা আছে। Settings থেকে Battery তে গেলে Battery Health & Charging অপশনে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ক্ষমতা শতাংশে দেখানো হয়। যদি দেখেন ৮৫ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে আছে তাহলে ফোনটি তুলনামূলক নতুন বা কম ব্যবহৃত। ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে মাঝারি বয়সী এবং ৭০ শতাংশের নিচে হলে ফোনটি অনেক বেশি ব্যবহার হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
আরো পড়ুনঃ গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যাটারির বিস্তারিত তথ্য পেতে ডায়াল প্যাড থেকে *#*#4636#*#* কোডটি ডায়াল করুন। এটি একটি হিডেন মেনু খুলবে যেখানে ব্যাটারির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। তবে সব ফোনে এই কোড কাজ নাও করতে পারে। AccuBattery বা Battery Doctor এর মতো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করেও অ্যান্ড্রয়েডের ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরিমাপ করা যায়। এই মাধ্যমে অনেক সহজাই মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব জানতে পারবেন।
পুরোনো ফোন কেনার আগে যা যা যাচাই করবেন
পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে শুধু দামের দিকে না তাকিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা উচিত। প্রথমেই IMEI নম্বর বের করুন এবং সেটি অনলাইনে যাচাই করুন যাতে ফোনটি চুরির বা হারানোর রিপোর্ট করা কি না নিশ্চিত হওয়া যায়। তারপর উপরে আলোচিত পদ্ধতিতে ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল পোর্টালে ওয়ারেন্টি চেক করুন এবং ব্যাটারির স্বাস্থ্য যাচাই করুন। এই তিনটি মৌলিক চেক করলেই ফোনটির প্রকৃত অবস্থার একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
একটি বিষয় মাথায় রাখবেন, সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে আইক্লাউড লক বা Google FRP লক করা ফোন প্রায়ই সস্তায় পাওয়া যায়। এই ফোনগুলো দেখতে ঠিকঠাক মনে হলেও আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট দিয়ে লক থাকার কারণে আপনি সেটা ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই ফোন কেনার আগে অবশ্যই সেটা ফ্যাক্টরি রিসেট করে নিন এবং নিজের অ্যাকাউন্ট দিয়ে সেটআপ করতে পারছেন কি না পরীক্ষা করুন।
শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি ফোনটির সফটওয়্যার পরীক্ষাও করুন। ফোনটি চালু করে চেক করুন যে আপডেটের সুবিধা আছে কি না, কারণ খুব পুরোনো ফোনে নতুন অ্যান্ড্রয়েড বা iOS আপডেট পাওয়া যায় না। নেটওয়ার্ক সংযোগ, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এবং GPS সব পরীক্ষা করুন। এই সব যাচাই করার পরে কিনলে আপনি ঠকবেন না এবং পরে আক্ষেপ করার সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে।
লেখকের শেষ কথা
সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে সময় নিয়ে ভালোভাবে যাচাই করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। একটু সময় নিয়ে IMEI চেক, ওয়ারেন্টি যাচাই এবং ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে পরে অনেক বড় ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়। তাড়াহুড়ো করে সস্তার লোভে ভুল ফোন কিনলে শেষ পর্যন্ত বেশি টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই এই আর্টিকেলে শেখা পদ্ধতিগুলো কাজে লাগান এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। ভালো থাকবেন।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব, মোবাইলের ব্যবহারের বয়স জানা কেন জরুরি, IMEI নম্বর দিয়ে ফোনের তথ্য বের করার উপায়, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথম চালু হওয়ার তারিখ দেখার নিয়ম, আইফোনে ব্যবহারের তারিখ ও ইতিহাস যাচাইয়ের পদ্ধতি, ডিভাইসের ওয়ারেন্টি স্ট্যাটাস দেখে বয়স যাচাইয়ের নিয়ম, মোবাইলের স্ক্রিন টাইম ও হিস্টরি দেখার উপায়, ব্যাটারির স্বাস্থ্য দেখে ফোনের বয়স অনুমান করুন, পুরোনো ফোন কেনার আগে যা যা যাচাই করবেন।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url