শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন
কিডনি ভালো রাখার সেরা ১০টি উপায় জেনে নিন
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন কারন শিশু হামে আক্রান্ত হলে কি করতে হবে তা
না জানলে এবং সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে শিশুর অবস্থা আরো জটিল হয়ে পড়ে।
তাছাড়াও এইসকল বিষয়গুলো জেনে থাকার মাধ্যমে আমরা শিশুদের হাম হলে করণীয়
সম্পর্কে পরবর্তীতে আর কোনো সমস্যার সম্মুখীন হবো না।
পেইজ সূচিপত্রঃ শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন
- শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন
- শিশুদের হামের লক্ষণ কিভাবে চেনা যায়
- শিশুর হাম হলে তাৎক্ষণিক করণীয় কি কি
- হাম আক্রান্ত শিশুকে কিভাবে যত্ন নেবেন
- শিশুর হামের সময় কোন খাবারগুলো খাওয়াবেন
- হাম থেকে শিশুকে বিচ্ছিন্ন রাখা কেন জরুরি
- শিশুর হামে কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
- হামের টিকা শিশুকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখে
- হাম থেকে শিশু সুস্থ হতে কতদিন লাগে
- লেখকের শেষ কথা
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন
শিশুদের হাম হলে কি করবেন এই বিষয়টি সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মূলত হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত
রোগ যা বিশেষভাবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং সঠিক
সময়ে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে এটি শিশুর জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয় এবং সঠিক জ্ঞানের অভাবে
অনেক পরিবার সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন না।
মূলত শিশুদের হাম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাটা অত্যন্ত জরুরি কারণ প্রাথমিক
পর্যায়ে সঠিক পরিচর্যা করলে হাম থেকে শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং জটিলতা
এড়ানো সম্ভব হয়। যে অভিভাবকরা হামের লক্ষণ, করণীয় এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সঠিক
জ্ঞান রাখেন তারাই তাদের শিশুকে সবচেয়ে ভালোভাবে সুস্থ রাখতে পারেন। তাই শিশুদের
হাম হলে করণীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিতভাবে জানা খুবই
প্রয়োজনীয়।
চলুন, হাম হলে কি করবেন সে বিষয়ে আমরা স্টেপ বাই স্টেপ বিস্তারিতভাবে জেনে নেই।
আপনারা যদি এই সকল বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেন তাহলে আপনাদের শিশু হামে
আক্রান্ত হলেও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে আপনাদের
শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব হবে।
শিশুদের হামের লক্ষণ কিভাবে চেনা যায়
শিশুদের হামের লক্ষণ সঠিকভাবে চেনা জানাটা প্রতিটি অভিভাবকের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসা অনেক সহজ ও
কার্যকর হয়। হামের প্রথম লক্ষণ সাধারণত উচ্চ জ্বর দিয়ে শুরু হয় যা ১০৩ থেকে
১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং সাথে সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার
মতো লক্ষণও দেখা দেয়। অনেকেই এই প্রাথমিক পর্যায়টিকে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে
ভুল করেন কিন্তু হামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো কয়েকদিনের মধ্যে শরীরে লালচে দানা বা
র্যাশ দেখা দেওয়া।
আরো পড়ুনঃ
১ ঘন্টা ব্যায়াম করলে কত ক্যালরি খরচ হয়
হামের বিশেষ একটি প্রাথমিক লক্ষণ হলো মুখের ভেতরে গালের ভেতরের দিকে ছোট ছোট সাদা
দানা দেখা দেওয়া যেগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোপলিকস স্পট নামে পরিচিত। এই দানাগুলো
সাধারণত র্যাশ বের হওয়ার দুই থেকে তিন দিন আগে দেখা দেয় এবং এটি দেখলে
নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে শিশুটি হামে আক্রান্ত হতে চলেছে। জ্বর শুরু হওয়ার তিন
থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে গলা, বুক, পেট এবং সবশেষে পা
পর্যন্ত লালচে দানা ছড়িয়ে পড়ে।
হামের দানাগুলো অন্য অনেক চর্মরোগের মতো হয় বলে অনেক সময় বাবা-মা বিভ্রান্ত
হয়ে পড়েন। হামের দানা সাধারণত চ্যাপ্টা ও লালচে হয় এবং পরে একসাথে মিলে বড়
আকার ধারণ করে। শিশুর এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই একজন শিশু
চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান কারণ সঠিক রোগ নির্ণয় না করলে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া
সম্ভব নয়। শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন কারণ এর মাধ্যমে দ্রুত
আমের ঘরোয়া চিকিৎসা করতে পারবেন।
শিশুর হাম হলে তাৎক্ষণিক করণীয় কি কি
শিশুর হাম ধরা পড়ার সাথে সাথে কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি যা
শিশুর কষ্ট কমাতে এবং রোগ দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। সবার আগে শিশুকে পূর্ণ
বিশ্রামে রাখুন এবং তাকে যতটা সম্ভব কম পরিশ্রম করতে দিন কারণ বিশ্রাম শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতাকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দেয়। শিশুকে আলাদা ঘরে রাখুন
এবং বাড়ির অন্য শিশুদের থেকে দূরে রাখুন কারণ হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং একটি
শিশু থেকে অন্য শিশুতে খুব দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে।
শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দিন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো
অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ শিশুকে দেবেন না কারণ হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং
ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না বরং অকারণে ওষুধ দিলে শিশুর আরো
ক্ষতি হতে পারে। শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার দিন কারণ জ্বর ও র্যাশের
কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়।
শিশুর চোখে যদি স্রাব আসে বা চোখ লাল হয়ে যায় তাহলে পরিষ্কার কাপড় বা তুলো
দিয়ে হালকাভাবে মুছে দিন এবং সরাসরি সূর্যালোক থেকে শিশুর চোখ রক্ষা করুন কারণ
হামের সময় চোখ আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস
নিশ্চিত করুন তবে সরাসরি রোদ যেন চোখে না পড়ে সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এই
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে নিলে শিশুর কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
হাম আক্রান্ত শিশুকে কিভাবে যত্ন নেবেন
হাম আক্রান্ত শিশুর যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে
পালন করতে হবে কারণ সঠিক পরিচর্যাই শিশুর দ্রুত সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। হাম
আক্রান্ত শিশুর ত্বকে চুলকানি হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে শিশুকে দানাগুলো আঁচড়াতে
বা ঘষতে দেবেন না কারণ আঁচড়ানোর ফলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে এবং
রোগ আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে। শিশুর নখ ছোট করে দিন এবং প্রয়োজনে রাতে ঘুমানোর
সময় হালকা হাতমোজা পরিয়ে দিন যাতে ঘুমের মধ্যে আঁচড়াতে না পারে।
শিশুকে গোসল করানোর ক্ষেত্রে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন কারণ ঠান্ডা
পানিতে গোসল করালে জ্বর বেড়ে যেতে পারে। গোসলের সময় শিশুর ত্বকে কোনো কড়া
সাবান বা কেমিক্যাল যুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না কারণ এগুলো র্যাশের
জায়গাগুলোতে জ্বালা বাড়িয়ে দিতে পারে। গোসলের পর নরম তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে
মুছে দিন এবং ত্বক ঘষবেন না। শিশুর পোশাক সুতির এবং ঢিলেঢালা রাখুন কারণ টাইট বা
সিন্থেটিক পোশাক র্যাশের জায়গায় ঘর্ষণ তৈরি করে কষ্ট বাড়ায়।
শিশুর ঘর পরিষ্কার, শুষ্ক এবং ভালো বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন কারণ আর্দ্র ও
গুমোট পরিবেশে ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুর অস্বস্তিও বাড়ে। বাড়িতে যদি অন্য
ছোট শিশু থাকে তাহলে তাদের হাম আক্রান্ত শিশু থেকে অবশ্যই আলাদা রাখুন। নিয়মিত
হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে
রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। এই জন্য আমাদের হাম নিয়ে বিশেষ
সতর্ক হতে হবে এবং শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন।
শিশুর হামের সময় কোন খাবারগুলো খাওয়াবেন
হাম আক্রান্ত শিশুর খাবারের বিষয়ে সঠিক মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি কারণ সঠিক
পুষ্টি শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং দ্রুত সুস্থতায়
সহায়তা করে। হাম আক্রান্ত অবস্থায় শিশু সাধারণত খেতে চায় না কারণ মুখের ভেতর
ঘা হয় এবং গলায় ব্যথা থাকে তাই নরম, সহজপাচ্য এবং তরল বা আধা-তরল খাবার দিন।
ভাতের মাড়, সুজি, খিচুড়ি, মসুর ডালের পাতলা স্যুপ এবং দুধভাত এই সময়ে শিশুর
জন্য আদর্শ খাবার কারণ এগুলো সহজে খাওয়া যায় এবং পুষ্টিও সরবরাহ করে।
ভিটামিন এ হামের সময় শিশুর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হাম শরীরে ভিটামিন
এর মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং এর ঘাটতি শিশুর চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গাজর,
মিষ্টিকুমড়া, পাকা পেঁপে এবং মিষ্টি আলুতে প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে এবং এগুলো
রান্না করে নরম করে শিশুকে দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হামে আক্রান্ত শিশুদের
ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং ডাক্তারের পরামর্শে সঠিক
মাত্রায় ভিটামিন এ দিলে শিশুর দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা হয়।
প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার দিন যেমন ডাবের পানি, লেবুর রস, ফলের রস এবং স্যালাইন
কারণ জ্বর ও ঘামের কারণে শরীর থেকে অনেক পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়।
শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না বরং ছোট ছোট পরিমাণে বারবার খাওয়ান।
মশলাদার, ভাজাপোড়া ও কঠিন খাবার এই সময় এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলো শিশুর পেটে
সমস্যা তৈরি করতে পারে।
হাম থেকে শিশুকে বিচ্ছিন্ন রাখা কেন জরুরি
হাম থেকে শিশুকে বিচ্ছিন্ন রাখা কারণ এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোঁয়াচে রোগগুলোর
মধ্যে একটি এবং একজন আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে
পড়া ভাইরাস থেকে একসাথে ১৮ জন পর্যন্ত মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। একটি শিশু
হামের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার চার দিন আগে থেকে লক্ষণ প্রকাশের চার দিন পর পর্যন্ত
সে অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে তাই এই পুরো সময়টুকু শিশুকে অন্যদের থেকে
আলাদা রাখা অপরিহার্য। বিশেষ করে নবজাতক, টিকা না নেওয়া শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের থেকে আক্রান্ত শিশুকে দূরে রাখতে হবে।
বিচ্ছিন্নতার সময় শিশুকে স্কুল, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ বা যেকোনো জনসমাগমের
জায়গায় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাড়িতে যদি একাধিক শিশু থাকে তাহলে আক্রান্ত
শিশুর জন্য আলাদা ঘর, আলাদা থালা-বাটি এবং আলাদা তোয়ালে ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
আক্রান্ত শিশুর যত্ন নেওয়ার পর প্রতিবার ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন
কারণ হামের ভাইরাস হাতের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
পরিবারের যেসব সদস্য হামের টিকা নেননি বা হামে আগে আক্রান্ত হননি তাদের সংক্রমণের
ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তাই তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাড়ির পরিবেশ
নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করুন কারণ তাজা
বাতাসে ভাইরাস দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সচেতনতা এবং সতর্কতার মাধ্যমে একটি
শিশুর হাম থেকে পুরো পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব। হামের সকল
লক্ষণ জানার পাশাপাশি শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন।
শিশুর হামে কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
শিশুর হামে কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এই বিষয়টি প্রতিটি অভিভাবকের জানা
অত্যন্ত জরুরি কারণ কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে শিশুর জীবন ঝুঁকিতে
পড়তে পারে। শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, শ্বাস খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হলে সাথে
সাথে হাসপাতালে নিয়ে যান কারণ এটি নিউমোনিয়ার লক্ষণ হতে পারে যা হামের সবচেয়ে
মারাত্মক জটিলতাগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়া শিশু যদি পানি শূন্যতার লক্ষণ দেখায়
অর্থাৎ প্রস্রাব কম হওয়া, শুষ্ক মুখ বা চোখ বসে যাওয়া তাহলেও দ্রুত চিকিৎসা
নেওয়া উচিত।
শিশু যদি খিঁচুনি দেয়, অজ্ঞান হয়ে যায়, অনেক বেশি অলস ও নিস্প্রাণ হয়ে পড়ে
বা ডাকে সাড়া না দেয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যান। কানে ব্যথা বা
কানের ভেতর থেকে কিছু বের হলেও দ্রুত ডাক্তার দেখানো দরকার কারণ এটি কানে
সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। হামের পর শিশুর দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হলে বা চোখে মারাত্মক
সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান কারণ হাম চোখের
মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
জ্বর যদি পাঁচ দিনের বেশি স্থায়ী হয় বা কিছুটা কমার পর আবার হঠাৎ বেড়ে যায়
তাহলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া অপরিহার্য কারণ এটি ব্যাকটেরিয়াল সুপার-ইনফেকশনের
লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত হামের চিকিৎসা বাড়িতে করা সম্ভব হলেও শিশুর বয়স এক
বছরের কম হলে, পুষ্টিহীনতা থাকলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে সবসময়ই
ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে রাখাই নিরাপদ।
হামের টিকা শিশুকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখে
হামের টিকা শিশুকে এই রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে
প্রমাণিত উপায় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে হামের টিকা প্রতি বছর লক্ষাধিক
শিশুর জীবন বাঁচাচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুকে নয় মাস
বয়সে প্রথম হামের টিকা এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় হামের টিকা দেওয়া হয় যা এমআর
বা এমএমআর নামে পরিচিত। এই দুটি ডোজ সম্পন্ন করলে শিশু হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭
থেকে ৯৯ শতাংশ সুরক্ষা পায় যা অত্যন্ত কার্যকর।
টিকার মাধ্যমে শিশুর শরীরে হামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা
পরবর্তীতে যদি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে তাহলে সাথে সাথে তা ধ্বংস করে দেয়। টিকা
নেওয়া শিশু যদি কোনো কারণে হামে আক্রান্তও হয় তাহলে রোগের তীব্রতা অনেক কম হয়
এবং জটিলতার ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত
সময়ে টিকা দেওয়া প্রতিটি অভিভাবকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে
একটি।
অনেক অভিভাবক নানা ভুল ধারণা বা ভয়ের কারণে শিশুকে টিকা দেন না যা অত্যন্ত
বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত সামান্য জ্বর বা টিকার জায়গায় হালকা ব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। মনে
রাখবেন যে টিকা না দেওয়া শিশু শুধু নিজেই বিপদে থাকে না বরং সে রোগ ছড়ানোর বাহক
হয়ে অন্য টিকা না নেওয়া শিশু বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদেরও বিপদে
ফেলে। শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন কারন এটি আপনার শিশুকে
আরও অসুস্থ হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।
হাম থেকে শিশু সুস্থ হতে কতদিন লাগে
হাম থেকে শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে তবে এটি
শিশুর বয়স, পুষ্টির অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সঠিক পরিচর্যার উপর নির্ভর
করে পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত হামের র্যাশ বের হওয়ার পর তিন থেকে পাঁচ দিনের
মধ্যে জ্বর কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে দানাগুলো মিলিয়ে যেতে থাকে। র্যাশ
সম্পূর্ণ মিলিয়ে যেতে সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে এবং এই সময়ে ত্বকে
কালচে দাগ পড়তে পারে যা পরে আপনাআপনি মিলিয়ে যায়।
হাম থেকে সেরে ওঠার পরেও শিশুর শরীর কিছুটা দুর্বল থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
কমে যায় বলে এই সময়ে অন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই সুস্থ হওয়ার পরেও
কয়েক সপ্তাহ শিশুকে ভিড়ের জায়গা এড়িয়ে চলতে দিন এবং পুষ্টিকর খাবার দিয়ে
তার শরীরকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলুন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল যেমন আমলকী, লেবু
ও পেয়ারা এই পুনরুদ্ধারের সময়ে বিশেষভাবে উপকারী কারণ এগুলো রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই স্কুলে বা বাইরে পাঠানোর ভুল করবেন না কারণ
একদিকে শিশুর শরীর তখনো দুর্বল থাকে এবং অন্যদিকে সে তখনো সংক্রামক থাকতে পারে।
ডাক্তার যতদিন পর্যন্ত বিশ্রামের পরামর্শ দেন ততদিন পর্যন্ত শিশুকে ঘরে রাখুন এবং
সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখকের শেষ কথা
হাম এখন শিশুদের মধ্যে অনেক বেশি ছড়াতে দেখা যাচ্ছে এজন্য আপনার শিশুকে সুস্থ
রাখতে হামের লক্ষণ এবং এর প্রতিকার কিভাবে করবেন তা আমাদের জানা প্রয়োজন। আপনি
যদি সঠিক সময়ে হামের লক্ষণগুলো ধরতে পারেন তাহলে অনেক সহজেই এটি প্রতিকার করা
সম্ভব। তবে হাম হবার পরেও আপনি যদি সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন তাহলে সহজে এটি ঠিক
করা সম্ভব।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন, শিশুদের হামের লক্ষণ কিভাবে চেনা
যায়, শিশুর হাম হলে তাৎক্ষণিক করণীয় কি কি, হাম আক্রান্ত শিশুকে কিভাবে যত্ন
নেবেন, শিশুর হামের সময় কোন খাবারগুলো খাওয়াবেন, হাম থেকে শিশুকে বিচ্ছিন্ন
রাখা কেন জরুরি, শিশুর হামে কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন, হামের টিকা শিশুকে কিভাবে
সুরক্ষিত রাখে, হাম থেকে শিশু সুস্থ হতে কতদিন লাগে ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url