বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম

দারাজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়
বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম অনেকেই জানতে জান কারণ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের জন্য পেওনিয়ারকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ-থেকে-পেওনিয়ার-একাউন্ট-খোলার-সম্পূর্ণ-নিয়ম
আপনি যদি অনলাইনে ইনকাম করেন বা করার পরিকল্পনা করছেন এবং সেই টাকা সহজে বাংলাদেশে আনতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম

বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম

বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম জানা এখন প্রতিটি অনলাইন উপার্জনকারীর জন্য অপরিহার্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে পেপালের মতো অনেক আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম এখনো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর না হওয়ার কারণে পেওনিয়ার হলো ফ্রিল্যান্সারদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বিকল্প। এটি একটি নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যা ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে পেমেন্ট সেবা দিয়ে আসছে।

পেওনিয়ার ব্যবহার করে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা Upwork, Fiverr, Freelancer.com, Amazon, eBay, YouTube, Google AdSense-সহ শতাধিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাসরি পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টধারীরা একটি ভার্চুয়াল মার্কিন ব্যাংক একাউন্ট নম্বর পান যা দিয়ে যেকোনো আমেরিকান কোম্পানি থেকে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ করা যায়। এই সুবিধাটি বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সত্যিকারের গেম চেঞ্জার হয়ে উঠেছে।

ভালো খবর হলো পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই সম্পন্ন করা যায়। শুধু কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য এবং ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। একবার একাউন্ট চালু হয়ে গেলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করে সেই অর্থ সরাসরি বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা সম্ভব।

পেওনিয়ার কী এবং কেন এত জনপ্রিয়

পেওনিয়ার হলো একটি আমেরিকান ফিনটেক কোম্পানি যা ব্যক্তি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা দেয়। এটি মূলত ফ্রিল্যান্সার, ই কমার্স বিক্রেতা এবং ডিজিটাল পেশাদারদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। পেওনিয়ার ব্যবহারকারীরা একটি ভার্চুয়াল মার্কিন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইউরোপীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ব্রিটিশ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পান, যেগুলো দিয়ে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ করা যায় ঠিক যেন একটি দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো।

বাংলাদেশে পেওনিয়ার এত জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি বাংলাদেশে সম্পূর্ণরূপে বৈধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা মেনে পরিচালিত হয়। দ্বিতীয়ত, পেওনিয়ার থেকে সরাসরি বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যায় যা পেপালের মাধ্যমে এখনো সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলো পেওনিয়ারকে অফিশিয়াল পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে ব্যবহার করে।

পেওনিয়ারের মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডেড প্রিপেইড কার্ড সুবিধাটি ব্যবহারকারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। এই কার্ড দিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে ATM থেকে টাকা তোলা এবং অনলাইন কেনাকাটা করা যায়। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে এই কার্ড সুবিধা সরাসরি পাওয়া নাও যেতে পারে, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য পেওনিয়ারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন। এই জন্য আপনাদের জানতে হবে বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম।

পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে যা যা লাগবে

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার আগে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও ডকুমেন্ট একসাথে গুছিয়ে নিন যাতে রেজিস্ট্রেশনের সময় কোনো ঝামেলা না হয়। সবার আগে আপনার একটি সক্রিয় ইমেইল অ্যাড্রেস দরকার যেটা আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন এবং যেখানে পেওনিয়ারের যাচাইকরণ ইমেইল পাঠানো হবে। ইমেইল অ্যাড্রেসটি অবশ্যই আপনার নিজের এবং সক্রিয় হতে হবে কারণ এটিই আপনার পেওনিয়ার একাউন্টের মূল যোগাযোগ মাধ্যম।

আপনার NID কার্ডে যে নাম আছে সেই নামেই পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে হবে। নামে সামান্য পার্থক্য থাকলেও পরে ভেরিফিকেশনের সময় সমস্যা হতে পারে। অনেকেই ভুল করে ডাকনাম বা ইংরেজিতে নাম লেখার সময় NID কার্ডের বানানের সাথে মিল রাখেন না, যা পরে বড় ঝামেলার কারণ হয়। তাই রেজিস্ট্রেশনের সময় NID কার্ড সামনে রেখে হুবহু একই বানানে নাম দিন।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পেওনিয়ার থেকে সরাসরি টাকা তুলতে হলে একটি বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম এবং পেওনিয়ার একাউন্টের নাম অবশ্যই একই হতে হবে, নয়তো ট্রান্সফার রিজেক্ট হতে পারে। Dutch Bangla Bank, BRAC Bank, Islami Bank বা যেকোনো তফসিলভুক্ত ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে।

পেওনিয়ার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের ধাপগুলো

পেওনিয়ার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন শুরু করতে সরাসরি payoneer.com ওয়েবসাইটে যান এবং Register বাটনে ক্লিক করুন। প্রথম ধাপে আপনার পূর্ণ নাম, ইমেইল অ্যাড্রেস, জন্ম তারিখ এবং দেশ হিসেবে Bangladesh সিলেক্ট করুন। এরপর একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন যেটায় বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন আছে। নামের বানান NID কার্ডের সাথে মিলিয়ে নিশ্চিত করুন।
বাংলাদেশ-থেকে-পেওনিয়ার-একাউন্ট-খোলার-সম্পূর্ণ-নিয়ম-জানুন
রেজিস্ট্রেশন ফর্মে একাউন্টের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করা হয়। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্ট পেতে চান তাহলে Getting paid for freelance or professional services অপশনটি সিলেক্ট করুন। ই-কমার্স ব্যবসার জন্য হলে সেই সংশ্লিষ্ট অপশন বেছে নিন। এই তথ্যটি পরে একাউন্ট ভেরিফিকেশনের সময় কাজে আসে এবং পেওনিয়ার সেই অনুযায়ী আপনার একাউন্টের ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে।

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পরে পেওনিয়ার আপনার ইমেইলে একটি ওয়েলকাম মেসেজ পাঠাবে এবং আপনার একাউন্ট প্রাথমিকভাবে চালু হয়ে যাবে। তবে এই পর্যায়ে একাউন্টটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয় না, পুরোপুরি সক্রিয় করতে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রথম পেমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম পেমেন্ট না পেলে একাউন্ট আবার সক্রিয়করণের প্রয়োজন হতে পারে। এর পাশাপাশি যানা উচিত বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম।

পেওনিয়ার একাউন্ট ভেরিফিকেশনের সঠিক পদ্ধতি

পেওনিয়ার একাউন্ট ভেরিফিকেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ কারণ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে আপনি পেমেন্ট গ্রহণ বা পাঠাতে পারবেন না। ভেরিফিকেশনের জন্য পেওনিয়ার সাধারণত পরিচয় যাচাই Identity Verification করতে বলে। এজন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের স্পষ্ট ছবি আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্টের সামনের এবং পেছনের দুটি ছবিই আপলোড করুন এবং নিশ্চিত করুন যে ছবিগুলো স্পষ্ট ও পরিষ্কার।

পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি পেওনিয়ার অনেক সময় ফেসিয়াল ভেরিফিকেশনও করে। এজন্য একটি ক্যামেরাযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করে নির্দেশনা অনুযায়ী সেলফি বা লাইভ ভিডিও দিতে হয়। মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যায় এমন পরিবেশে ভেরিফিকেশন করুন, চশমা বা টুপি পরিহার করুন এবং ভালো আলোর মধ্যে থাকুন। ছবি ঝাপসা বা অস্পষ্ট হলে ভেরিফিকেশন রিজেক্ট হতে পারে।

ভেরিফিকেশন সাধারণত ১ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়। কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে এবং পেওনিয়ার অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে। ভেরিফিকেশন রিজেক্ট হলে হতাশ হবেন না। পেওনিয়ার ইমেইলে কারণ জানাবে এবং সেই অনুযায়ী সঠিক ডকুমেন্ট বা তথ্য দিয়ে আবার সাবমিট করুন। ধৈর্যের সাথে সঠিক তথ্য দিলে ভেরিফিকেশন অবশ্যই সম্পন্ন হবে।

পেওনিয়ারে বাংলাদেশি ব্যাংক যোগ করার নিয়ম

পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশি ব্যাংকে টাকা পাঠাতে হলে আগে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পেওনিয়ারে যোগ করতে হবে। এজন্য পেওনিয়ার ড্যাশবোর্ডে লগইন করুন এবং Withdraw বা Bank Account সেকশনে যান। সেখানে Add Bank Account অপশনে ক্লিক করুন এবং বাংলাদেশ সিলেক্ট করে ব্যাংকের তথ্য পূরণ করুন। এখানে আপনার ব্যাংকের নাম, শাখার নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং রাউটিং নম্বর দিতে হবে।

বাংলাদেশি ব্যাংকের রাউটিং নম্বর পেতে আপনার ব্যাংকের ওয়েবসাইটে যান অথবা সরাসরি ব্যাংকের শাখায় জিজ্ঞেস করুন। বেশিরভাগ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তাদের প্রতিটি শাখার রাউটিং নম্বর তালিকা থাকে। রাউটিং নম্বর সাধারণত ৯ সংখ্যার হয়। এই নম্বরটি সঠিক না হলে পেমেন্ট ট্রান্সফার ফেল হবে তাই ডবল চেক করে নিশ্চিত হয়ে তারপর সাবমিট করুন। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করেন তাহলে বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংক যোগ করার পরে পেওনিয়ার সেটি যাচাই করার জন্য আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটি ছোট পরিমাণ অর্থ পাঠাতে পারে এবং সেই পরিমাণটি পেওনিয়ারে নিশ্চিত করতে বলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শুধু তথ্য দেওয়াই যথেষ্ট। ব্যাংক যোগ করার পরে প্রথম ট্রান্সফারটি একটু সময় নিতে পারে, সাধারণত ৩ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা ব্যাংকে পৌঁছায়।

পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশে টাকা উত্তোলনের পদ্ধতি

পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশি ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করাটা খুব সহজ একটি প্রক্রিয়া যা মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই সম্পন্ন হয়। পেওনিয়ার ড্যাশবোর্ডে লগইন করুন এবং Withdraw বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আগে যোগ করা আপনার বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি সিলেক্ট করুন, উইথড্র করতে চান এমন পরিমাণ টাকা লিখুন এবং কনফার্ম করুন। পেওনিয়ার সাধারণত ডলার থেকে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করে বাজারদরের কাছাকাছি বিনিময় হারে পাঠায়।

পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশে টাকা পৌঁছাতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ কার্যদিবস লাগে তবে কিছু ব্যাংকে ১ থেকে ২ কার্যদিবসেও পৌঁছে যায়। ট্রান্সফার করার পরে পেওনিয়ার একটি কনফার্মেশন ইমেইল পাঠায় এবং ড্যাশবোর্ডে Pending স্ট্যাটাস দেখায়। টাকা ব্যাংকে পৌঁছালে Completed স্ট্যাটাস দেখা যায়। যদি ৫ কার্যদিবস পরেও টাকা না পৌঁছায় তাহলে পেওনিয়ারের কাস্টমার সাপোর্টে যোগাযোগ করুন।

প্রতিটি উইথড্রালে পেওনিয়ার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি কাটে। এই ফি সাধারণত উইথড্রাল অ্যামাউন্টের ২ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ১.৫ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তাই একসাথে বেশি পরিমাণ উইথড্রাল করলে ফির হিসাবে কম খরচ পড়ে। ছোট ছোট পরিমাণে বারবার উইথড্রাল না করে একসাথে একটু বেশি পরিমাণে উইথড্রাল করার অভ্যাস তৈরি করুন।

পেওনিয়ার ব্যবহারে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

পেওনিয়ার ব্যবহারে নতুনরা প্রায়ই কিছু সাধারণ ভুল করেন যা পরে বড় সমস্যার কারণ হয়। সবচেয়ে বড় ভুল হলো রেজিস্ট্রেশনের সময় NID কার্ডের সাথে মিল না রেখে নাম দেওয়া। পেওনিয়ারের নাম ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নামে যদি কোনো অমিল থাকে তাহলে পেমেন্ট ট্রান্সফার আটকে যায়। আরেকটি সাধারণ ভুল হলো ভুল ব্যাংক রাউটিং নম্বর দেওয়া, যার কারণে ট্রান্সফার ব্যর্থ হয় এবং অর্থ ফেরত আসতে ৫-১০ কার্যদিবস সময় লাগে।

পেওনিয়ার একাউন্ট দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় রাখলে একাউন্ট ফি কাটতে শুরু করে। পেওনিয়ারের নীতি অনুযায়ী টানা ১২ মাস কোনো লেনদেন না হলে একাউন্ট নিষ্ক্রিয় হিসেবে গণ্য হয় এবং প্রতি বছর ২৯.৯৫ ডলার নিষ্ক্রিয়তা ফি কাটা হয়। তাই একাউন্ট চালু করার পর নিয়মিত ব্যবহার করুন বা কমপক্ষে প্রতি বছর একটি লেনদেন করুন।
পেওনিয়ারের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো যোগাযোগের জন্য শুধুমাত্র পেওনিয়ারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট payoneer.com এবং অ্যাপ ব্যবহার করুন। কেউ যদি ফোন করে বা ইমেইল করে আপনার পেওনিয়ার পাসওয়ার্ড বা OTP চায় তাহলে কখনোই দেবেন না কারণ পেওনিয়ারের কর্মীরা কখনো এই তথ্য চান না। বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম না যানা থাকলে অন্যদের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে যাবেন।

পেওনিয়ার একাউন্টের ফি ও চার্জ সম্পর্কে জানুন

পেওনিয়ার ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের ফি রয়েছে যেগুলো আগে থেকে জানা থাকলে আপনি আপনার আয়ের পরিকল্পনা সঠিকভাবে করতে পারবেন। সবচেয়ে পরিচিত ফি হলো পেমেন্ট গ্রহণের ফি। কোনো ক্লায়েন্ট যদি সরাসরি পেওনিয়ারের Request a Payment ফিচার ব্যবহার করে আপনাকে টাকা পাঠান তাহলে সাধারণত ৩ শতাংশ ফি লাগে। তবে Upwork বা Fiverr-এর মতো অ্যাফিলিয়েটেড প্ল্যাটফর্ম থেকে পেমেন্ট পেলে সাধারণত ফি কম বা শূন্য হয়।
বাংলাদেশ-থেকে-পেওনিয়ার-একাউন্ট-খোলার-সম্পূর্ণ-নিয়ম-বিস্তারিত
ব্যাংকে উইথড্রালের ফি সম্পর্কে আগেই বলেছি, এটি সাধারণত ২ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ১.৫ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ ডলার পর্যন্ত হয়। এছাড়া পেওনিয়ার থেকে অন্য পেওনিয়ার একাউন্টে টাকা পাঠালে Make a Payment কোনো ফি লাগে না যদি উভয় পক্ষই পেওনিয়ার ব্যবহারকারী হন। তবে পেওনিয়ার থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারে আলাদা ফি প্রযোজ্য হয়।

মুদ্রা রূপান্তরেও একটি ফি যোগ হয়। যেমন ডলারে পেমেন্ট গ্রহণ করে বাংলাদেশি টাকায় উইথড্রাল করলে পেওনিয়ার মধ্যবর্তী বিনিময় হারে সামান্য মার্জিন রাখে। এটা সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের বিনিময় হারের তুলনায় ২ থেকে ৩ শতাংশ কম হয়। পেওনিয়ারের ফি কাঠামো মাঝে মাঝে পরিবর্তন হয় তাই সর্বশেষ ফির তালিকা জানতে পেওনিয়ারের অফিশিয়াল ফি পেজ দেখুন।

লেখকের শেষ কথা

পেওনিয়ার বাংলাদেশের প্রতিটি ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তার জন্য অপরিহার্য একটি টুল। আজকের ডিজিটাল যুগে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের এত সহজ সুযোগ আগে কখনো ছিল না। তাই আর দেরি না করে আজই পেওনিয়ার একাউন্ট খুলুন, সঠিকভাবে ভেরিফাই করুন এবং আপনার অনলাইন আয়ের পথ আরও প্রশস্ত করুন। যেকোনো সমস্যায় পেওনিয়ারের অফিশিয়াল সাপোর্টে যোগাযোগ করুন। শুভকামনা রইল।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম, পেওনিয়ার কী এবং কেন এত জনপ্রিয়, পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে যা যা লাগবে, পেওনিয়ার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের ধাপগুলো, পেওনিয়ার একাউন্ট ভেরিফিকেশনের সঠিক পদ্ধতি, পেওনিয়ারে বাংলাদেশি ব্যাংক যোগ করার নিয়ম, পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশে টাকা উত্তোলনের পদ্ধতি, পেওনিয়ার ব্যবহারে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন, পেওনিয়ার একাউন্টের ফি ও চার্জ সম্পর্কে জানুন ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url