বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন
ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন জানার আগ্রহ অনেকের হয়ে
থাকে এবং অনেকেই জানতে চান বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করে কত টাকা ইনকাম করা যায়।
আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন বিকাশ এজেন্ট হওয়ার নিয়ম কী কী
কাগজপত্র লাগে কত টাকা প্রয়োজন, কীভাবে আবেদন করতে হয় এবং কত কমিশন পাওয়া
যায়।
পেজ সূচিপত্রঃ বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- বিকাশ এজেন্ট হওয়ার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে
- বিকাশ এজেন্ট আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি এবং অনলাইন প্রক্রিয়া
- বিকাশ SR অফিস কীভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন
- বিকাশ এজেন্ট লিমিট ব্যবসার লিমিট কত টাকা
- বিকাশ এজেন্ট কমিশন রেট এবং আয়ের হিসাব
- বিকাশ এজেন্ট সিম এবং একাউন্ট সেটআপ প্রক্রিয়া
- বিকাশ এজেন্ট আবেদন রিজেক্ট হলে কী করবেন
- বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায় প্রথম মাসে কত আয় সম্ভব
- লেখকের শেষ কথা
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম বলতে আমরা বুঝি একটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যেখানে
আপনি বিকাশের অনুমোদিত এজেন্ট হিসেবে গ্রাহকদের ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট এবং অন্যান্য
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিবেন এবং প্রতিটি লেনদেন থেকে কমিশন পাবেন। বিকাশ এজেন্ট
ব্যবসা একটি নিরাপদ এবং লাভজনক ব্যবসা মডেল যেখানে আপনি বিকাশ লিমিটেডের সাথে
চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন এবং তাদের নির্ধারিত নিয়ম কানুন মেনে সেবা প্রদান
করবেন।
বিকাশ এজেন্ট হওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা এবং শর্ত পূরণ করতে
হবে তারপর আবেদন করতে হবে এবং অনুমোদন পেলে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে
পারবেন। বিকাশ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার
এবং প্রায় ৭ কোটি গ্রাহক রয়েছে যার ফলে এজেন্ট ব্যবসার চাহিদা অনেক বেশি। বিকাশ
এজেন্ট ব্যবসায় আপনার মূল কাজ হবে গ্রাহকদের টাকা জমা নেওয়া ক্যাশ ইন এবং টাকা
তুলে দেওয়া ক্যাশ আউট বিল পেমেন্ট রিচার্জ এবং অন্যান্য সেবা প্রদান করা।
প্রতিটি লেনদেনে আপনি একটি নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন পাবেন যা বিকাশ নির্ধারণ করে
দেয়। এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে কোন কিছু বাস্তবে রাখার ঝামেলা
নেই এবং প্রতিদিন নিয়মিত লেনদেন হয় যার ফলে নিয়মিত আয় হয়। তবে এই ব্যবসা
শুরু করার আগে অবশ্যই সব নিয়ম কানুন জানতে হবে। বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায় সফল হতে
হলে ভালো লোকেশন ঠিক করতে হবে যেখানে মানুষের চলাচল বেশি যেমন বাজার, বাস
স্ট্যান্ড, স্কুল, কলেজ বা অফিস পাড়া।
বিকাশ এজেন্ট হওয়ার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বিকাশ এজেন্ট হওয়ার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জানা থাকলে আপনি সহজেই আবেদন
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং দ্রুত অনুমোদন পাবেন। বিকাশ এজেন্ট হতে হলে
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আপনার একটি স্থায়ী দোকান বা ব্যবসায়িক
স্থাপনা থাকতে হবে যেখানে গ্রাহকরা সহজে আসতে পারবে। এর পরে আপনার বয়স কমপক্ষে
১৮ বছর হতে হবে এবং জাতীয় পরিচয় পত্র এনআইডি থাকতে হবে।
এর পরে আপনার একটি ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে যা স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা
পৌরসভা থেকে নিতে হয় এবং এটি প্রমাণ করে যে আপনি একজন বৈধ ব্যবসায়ী। প্রাথমিক
লোড ব্যালেন্স হিসেবে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা থাকতে হবে যা আপনার এজেন্ট একাউন্টে
রাখা হবে। বিকাশ এজেন্ট কাগজপত্র এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয় পত্র এনআইডি এর
ফটোকপি এবং অরিজিনাল যাচাইয়ের জন্য ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি যা অবশ্যই
চলতি বছরের হতে হবে দোকানের ছবি যেখানে দোকানের বাইরের এবং ভেতরের ছবি থাকবে।
এর পাশাপাশি দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট যা প্রমাণ
করবে আপনার আর্থিক সক্ষমতা নমিনির এনআইডি এবং ছবি এবং দোকানের ভাড়া চুক্তি বা
মালিকানা দলিল। এই সব কাগজপত্র অবশ্যই সঠিক হতে হবে কারণ বিকাশ খুবই সতর্কতার
সাথে যাচাই করে। যদি কোনো কাগজপত্রে ভুল বা জাল থাকে তবে আবেদন রিজেক্ট হবে এবং
ভবিষ্যতে আর আবেদন করতে পারবেন না। তাই সব ডকুমেন্টস সঠিকভাবে প্রস্তুত করুন এবং
সঠিক কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করুন।
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে
বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে এটি অনেকের মনে থাকে এবং এর উত্তর হলো প্রায় ১
লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাজেট রাখতে হবে। এই বাজেটের মধ্যে
সবচেয়ে বড় খরচ হলো প্রথম লোড ১ লাখ টাকা যা আপনার এজেন্ট একাউন্টে জমা রাখতে
হবে। এই টাকা আপনার মূলধন যা দিয়ে আপনি গ্রাহকদের সেবা প্রদান করবেন এবং এটি
আপনার একাউন্টেই থাকবে শুধু লেনদেন হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে বিকাশের নিয়ম
অনুযায়ী এজেন্ট একাউন্টে সবসময় মিনিমাম ৭ হাজার টাকা ব্যালেন্স রাখতে হয়।
আরো পড়ুনঃ ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
তাই আপনার ব্যবহারযোগ্য টাকা হবে প্রায় ৯৩ হাজার টাকা। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স
করতে খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। দোকান সাজানো এবং বিকাশ এজেন্ট
সাইনবোর্ড লাগাতে খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। কম্পিউটার বা
স্মার্টফোন কেনার খরচ যদি না থাকে তবে আরো ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগতে
পারে। বিকাশ এজেন্ট সিম নেওয়ার জন্য কোনো চার্জ নেই এটি ফ্রি দেওয়া হয় এবং
মাসিক কোনো ফি দিতে হয় না শুধু লেনদেনের উপর কমিশন পাবেন এবং দেবেন।
প্রথম মাসে কিছু অতিরিক্ত খরচ হতে পারে যেমন দোকান ভাড়া বিদ্যুৎ বিল এবং
কর্মচারী বেতন যদি কাউকে নিয়োগ দেন। তাই সব মিলিয়ে একটি নিরাপদ বাজেট হিসাবে ১
লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখলে ভালো হয় যাতে প্রথম মাসের সব খরচ মেটানো যায়। তবে যদি
আপনার ইতিমধ্যে একটি দোকান থাকে এবং ট্রেড লাইসেন্স থাকে তবে শুধু ১ লাখ টাকার
প্রথম লোডই যথেষ্ট হবে। অনেকে প্রশ্ন করেন যে এই ১ লাখ টাকা কি ফেরত পাওয়া যাবে
উত্তর হলো হ্যাঁ এটি আপনার নিজের টাকা এবং যেকোনো সময় আপনি ব্যবসা বন্ধ করতে
চাইলে এই টাকা ফেরত নিতে পারবেন তবে বিকাশের প্রক্রিয়া মেনে।
বিকাশ এজেন্ট আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি এবং অনলাইন প্রক্রিয়া
বিকাশ এজেন্ট আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি এবং অনলাইন প্রক্রিয়া জানা থাকলে আপনি
নিজেই ঘরে বসে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন অথবা নিকটস্থ বিকাশ SR অফিসে গিয়ে
সাহায্য নিতে পারবেন। অনলাইনে বিকাশ এজেন্ট আবেদন করতে হলে প্রথমে বিকাশের
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.bkash.com এ যান এবং মেনুতে "Agent" বা "Become an
Agent" অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে একটি আবেদন ফর্ম পাবেন যেখানে আপনার ব্যক্তিগত
তথ্য যেমন নাম ঠিকানা এনআইডি নাম্বার মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল অ্যাড্রেস দিতে
হবে।
তারপর ব্যবসার তথ্য দিতে হবে যেমন দোকানের ঠিকানা, ট্রেড লাইসেন্স, নাম্বার এবং
ব্যবসার ধরন। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর সাবমিট করুন এবং একটি রেফারেন্স
নাম্বার পাবেন যা দিয়ে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। অনলাইন আবেদনের পর
বিকাশ টিম আপনার তথ্য যাচাই করবে এবং তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে আপনার সাথে
যোগাযোগ করবে। যদি সব ডকুমেন্ট ঠিক থাকে তবে আপনাকে নিকটস্থ বিকাশ SR অফিসে যেতে
বলা হবে কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য।
বিকাশ SR বা সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হলেন বিকাশের এলাকা ভিত্তিক প্রতিনিধি যিনি
নতুন এজেন্ট নিয়োগ এবং বিদ্যমান এজেন্টদের সাপোর্ট করেন। SR এর সাথে যোগাযোগ
করতে পারেন সরাসরি অফিসে গিয়ে বা বিকাশ হটলাইন নাম্বার ১৬২৪৭ এ কল করে আপনার
এলাকার SR এর নাম্বার জানতে পারবেন। অনেকে অনলাইন আবেদনের পরিবর্তে সরাসরি SR
অফিসে গিয়ে আবেদন করতে পছন্দ করেন কারণ সেখানে SR সাহায্য করেন এবং দ্রুত প্রসেস
হয়।
আবেদনের সময় অবশ্যই সব অরিজিনাল ডকুমেন্টস সাথে নিয়ে যাবেন এবং ফটোকপি জমা
দেবেন। অনলাইন বিকাশ এজেন্ট আবেদন ফর্ম পূরণের সময় কোনো ভুল করবেন না কারণ ভুল
তথ্য দিলে আবেদন রিজেক্ট হবে এবং পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে। আবেদন প্রক্রিয়া
সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং অনুমোদন পেলে আপনাকে প্রশিক্ষণে
পাঠানো হবে যেখানে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার এবং লেনদেনের নিয়ম শেখানো হবে।
বিকাশ SR অফিস কীভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন
বিকাশ SR অফিস যোগাযোগ এবং ঢাকার SR লিস্ট জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ SR বা
সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ আপনার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম যিনি আবেদন থেকে শুরু করে
প্রতিদিনের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবেন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিকাশের SR
অফিস রয়েছে যেমন মিরপুর, গুলশান, মতিঝিল, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা এবং
অন্যান্য প্রধান এলাকায়। প্রতিটি এলাকার জন্য নির্দিষ্ট SR নিয়োজিত আছেন এবং
তাদের যোগাযোগ নাম্বার এবং অফিস ঠিকানা বিকাশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া
যায়।
তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিকাশ কাস্টমার কেয়ার নাম্বার ১৬২৪৭ এ কল করা এবং
আপনার এলাকার SR এর নাম্বার এবং অফিস ঠিকানা জানতে চাওয়া। কাস্টমার কেয়ার
আপনাকে নিকটস্থ SR এর সাথে সংযুক্ত করে দেবে অথবা নাম্বার দেবে। ঢাকার বাইরেও
প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় বিকাশের SR অফিস রয়েছে এবং সেখানেও একইভাবে যোগাযোগ
করতে পারবেন। SR অফিসে যাওয়ার আগে অবশ্যই ফোনে যোগাযোগ করে নিন এবং
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিন যাতে SR অফিসে থাকেন এবং আপনার সাথে কথা বলার সময়
পান।
SR এর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনিই আপনার মূল সাপোর্ট
এবং যেকোনো সমস্যায় তাকে কল করতে পারবেন। অনেক সময় আবেদন দ্রুত প্রসেস করানোর
জন্য SR এর সাথে সরাসরি দেখা করা ভালো এবং তাকে সব ডকুমেন্টস দেখানো ভালো। SR
অফিসে গেলে তারা আপনাকে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করবেন এবং কী কী কাগজপত্র লাগবে
তা বলে দেবেন।
বিকাশ এজেন্ট লিমিট ব্যবসার লিমিট কত টাকা
বিকাশ এজেন্ট লিমিট এবং ২০২৬ সালের আপডেট তথ্য জানা থাকলে আপনি আপনার ব্যবসা
সঠিকভাবে পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং কত লেনদেন করতে পারবেন তা বুঝতে পারবেন। একটি
বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের দৈনিক লেনদেন লিমিট হলো ৩ লাখ টাকা এবং মাসিক লিমিট হলো
৯০ লাখ টাকা। এর মানে আপনি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার ক্যাশ ইন এবং ক্যাশ আউট
লেনদেন করতে পারবেন এবং মাসে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ টাকা।
তবে এই লিমিট বাড়ানো যায় যদি আপনার লেনদেনের পরিমাণ বেশি হয় এবং ভালো ট্র্যাক
রেকর্ড থাকে তবে SR এর মাধ্যমে লিমিট বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্যালেন্স
লিমিট হলো এজেন্ট একাউন্টে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা রাখতে পারবেন এবং মিনিমাম ৭
হাজার টাকা রাখতে হবে সবসময়। যদি ব্যালেন্স ৭ হাজার টাকার নিচে চলে যায় তবে
একাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে।
বিকাশ এজেন্ট লিমিট ২০২৬ সালে কিছু পরিবর্তন এসেছে যেমন নতুন এজেন্টদের জন্য
প্রথম তিন মাস ডেইলি লিমিট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থাকে এবং ট্রায়াল পিরিয়ড শেষে
যদি সব ঠিক থাকে তবে ফুল লিমিট ৩ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া বিকাশ
ডিস্ট্রিবিউটর থেকে লোড কেনার লিমিট রয়েছে এবং প্রতিদিন ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লোড
কিনতে পারবেন। ক্যাশ ইন এবং ক্যাশ আউটের জন্য আলাদা লিমিট নেই বরং টোটাল
ট্রানজেকশন লিমিট দেখা হয়।
তবে নিরাপত্তার জন্য বিকাশ কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক লিমিট কমাতে পারে যদি কোনো
সন্দেহজনক লেনদেন দেখা যায়। বিকাশ এজেন্ট লিমিট বাড়ানোর জন্য আপনাকে নিয়মিত
লেনদেন করতে হবে এবং কোনো রকম অনিয়ম বা ফ্রড করা যাবে না। যদি আপনার ব্যবসা ভালো
চলে এবং লেনদেন বৃদ্ধি পায় তবে ছয় মাস পর SR এর মাধ্যমে লিমিট বৃদ্ধির আবেদন
করতে পারবেন এবং সাধারণত অনুমোদন পাওয়া যায়।
বিকাশ এজেন্ট কমিশন রেট এবং আয়ের হিসাব
বিকাশ এজেন্ট কমিশন রেট এবং আয়ের হিসাব জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি
থেকেই আপনি বুঝবেন মাসে কত টাকা আয় করতে পারবেন এবং ব্যবসা লাভজনক হবে কিনা।
বিকাশ এজেন্ট কমিশন রেট তালিকা অনুযায়ী ক্যাশ ইন করলে অর্থাৎ গ্রাহক যখন তার
বিকাশ একাউন্টে টাকা জমা করতে আসবে তখন আপনি পাবেন ০ দশমিক ১০ শতাংশ কমিশন।
উদাহরণ স্বরূপ যদি কোনো গ্রাহক ১০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন করে তবে আপনি পাবেন ১০
টাকা কমিশন।
ক্যাশ আউট করলে অর্থাৎ গ্রাহক যখন তার বিকাশ একাউন্ট থেকে টাকা তুলতে আসবে তখন
আপনি চার্জ নেবেন ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ গ্রাহকের কাছ থেকে এবং এর মধ্যে আপনার খরচ হবে
বিকাশকে দিতে হবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ তাই আপনার লাভ থাকবে ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। উদাহরণ
স্বরূপ যদি কোনো গ্রাহক ১০ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে তবে আপনি নেবেন ১৮৫ টাকা
চার্জ এবং বিকাশকে দেবেন ১৫০ টাকা তাই আপনার লাভ ৩৫ টাকা।
বিকাশ মার্চেন্ট পেমেন্ট করলে কোনো কমিশন নেই তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রমোশনাল কমিশন
পাওয়া যায়। রিচার্জ এবং বিল পেমেন্টে কমিশন রেট ০ দশমিক ২০ থেকে ০ দশমিক ৫০
শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যায় সার্ভিস প্রোভাইডার অনুযায়ী। এখন আসুন হিসাব করি মাসে
কত আয় সম্ভব। যদি আপনি প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন করেন তবে দৈনিক
কমিশন ৫০ টাকা এবং মাসে ১৫০০ টাকা। যদি প্রতিদিন ১ লাখ টাকা ক্যাশ আউট করেন তবে
দৈনিক কমিশন ৩৫০ টাকা এবং মাসে ১০ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়া রিচার্জ এবং অন্যান্য লেনদেন থেকে মাসে ২ হাজার টাকা কমিশন ধরলে টোটাল
মাসিক আয় হবে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। তবে এটি একটি কনজারভেটিভ হিসাব এবং যদি
আপনার দোকান ভালো লোকেশনে হয় এবং লেনদেন বেশি হয় তবে মাসে ৩০ হাজার থেকে ৫০
হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন আয় করা সম্ভব। কিছু ব্যস্ত এলাকার এজেন্ট মাসে ১ লাখ
টাকা পর্যন্ত কমিশন আয় করেন। বিকাশ এজেন্ট কমিশন প্রতি সপ্তাহে আপনার একাউন্টে
জমা হয় এবং আপনি যেকোনো সময় তা তুলে নিতে পারবেন।
বিকাশ এজেন্ট সিম এবং একাউন্ট সেটআপ প্রক্রিয়া
বিকাশ এজেন্ট সিম এবং একাউন্ট সেটআপ প্রক্রিয়া বোঝা জরুরি যাতে আপনি দ্রুত
ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং কোনো সমস্যায় না পড়েন। বিকাশ এজেন্ট হওয়ার পর
আপনাকে একটি বিশেষ এজেন্ট সিম দেওয়া হবে যা সাধারণ বিকাশ একাউন্ট থেকে আলাদা এবং
এর বিশেষ ফিচার রয়েছে। এজেন্ট সিম দিয়ে আপনি ইউএসএসডি কোড ডায়াল করে বা বিকাশ
এজেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন।
এজেন্ট সিম একটিভ করার জন্য আপনার মোবাইলে সিম ঢুকিয়ে স্টার ২৪৭ হ্যাশ ডায়াল
করুন এবং একটি পিন সেট করুন যা পাঁচ ডিজিটের হবে। এই পিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং
কাউকে শেয়ার করবেন না কারণ এটি দিয়ে সব লেনদেন হবে। পিন সেট করার পর আপনার
একাউন্ট একটিভ হয়ে যাবে এবং লেনদেন শুরু করতে পারবেন। বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলা
হয়ে গেলে প্রথম কাজ হলো আপনার এজেন্ট একাউন্টে লোড নেওয়া। লোড নেওয়ার জন্য
আপনাকে নিকটস্থ বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর এর কাছে যেতে হবে এবং ক্যাশ দিয়ে লোড কিনতে
হবে।
ডিস্ট্রিবিউটর আপনার এজেন্ট নাম্বারে লোড ট্রান্সফার করে দেবে এবং আপনার একাউন্টে
ব্যালেন্স জমা হবে। প্রথমবার কমপক্ষে ১ লাখ টাকার লোড নিতে হবে যা আমরা আগেই
জেনেছি। লোড নেওয়ার পর আপনি গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবেন। বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ
ডাউনলোড করুন গুগল প্লে স্টোর থেকে এবং আপনার এজেন্ট নাম্বার এবং পিন দিয়ে লগইন
করুন। অ্যাপে সব ফিচার দেখতে পাবেন যেমন ক্যাশ ইন ক্যাশ আউট ব্যালেন্স চেক
ট্রানজেকশন হিস্ট্রি এবং কমিশন রিপোর্ট।
অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন করা সহজ এবং দ্রুত তাই অবশ্যই অ্যাপ ব্যবহার শিখুন।
বিকাশ আপনাকে প্রশিক্ষণ দেবে যেখানে সব ফিচার এবং নিরাপত্তা নিয়ম শেখানো হবে।
এজেন্ট সিম এবং একাউন্ট সবসময় নিরাপদ রাখুন এবং নিয়মিত পিন পরিবর্তন করুন। যদি
কোনো সমস্যা হয় তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে কল করুন ১৬২৪৭
নাম্বার এবং সমস্যা রিপোর্ট করুন।
বিকাশ এজেন্ট আবেদন রিজেক্ট হলে কী করবেন
বিকাশ এজেন্ট আবেদন রিজেক্ট হলে কী করবেন এটি একটি কমন প্রশ্ন কারণ অনেক সময়
বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় এবং অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। প্রথমে বুঝতে
হবে কেন আবেদন রিজেক্ট হয়েছে। সবচেয়ে কমন কারণগুলো হলো অসম্পূর্ণ বা ভুল
ডকুমেন্টস যেমন ট্রেড লাইসেন্স এক্সপায়ার হয়ে গেছে বা এনআইডি ইনফরমেশন ম্যাচ
করছে না। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে দোকানের লোকেশন উপযুক্ত নয় যেমন খুব কাছাকাছি
ইতিমধ্যে অন্য বিকাশ এজেন্ট আছে।
তৃতীয় কারণ হতে পারে আর্থিক যোগ্যতার প্রমাণ যথেষ্ট নয় বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
সন্তোষজনক নয়। চতুর্থ কারণ হতে পারে অতীতে বিকাশ লেনদেনে কোনো অনিয়ম বা ফ্রড
ইতিহাস পাওয়া গেছে। পঞ্চম কারণ হতে পারে নমিনি ইনফরমেশন সঠিক নয় বা নমিনির
এনআইডি ভেরিফাই হয়নি। যদি আবেদন রিজেক্ট হয় তবে প্রথমে বিকাশ কাস্টমার কেয়ার
বা SR এর সাথে যোগাযোগ করুন এবং রিজেকশনের নির্দিষ্ট কারণ জানুন। তারপর সেই
সমস্যাগুলো সমাধান করুন যেমন ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ করুন সঠিক ডকুমেন্টস সংগ্রহ
করুন বা দোকানের লোকেশন পরিবর্তন করুন।
সব সংশোধন করার পর পুনরায় আবেদন করতে পারবেন তবে কমপক্ষে ৩০ দিন অপেক্ষা করতে
হবে। দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় অবশ্যই সব কিছু সঠিকভাবে দিন এবং SR এর সাহায্য
নিন যাতে আর কোনো ভুল না হয়। অনেক সময় SR আপনাকে গাইড করতে পারেন কী কী
পরিবর্তন করতে হবে। যদি আপনার ট্রেড লাইসেন্স না থাকে তবে সেটি করার জন্য
স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে ট্রেড
লাইসেন্স সংগ্রহ করুন।
যদি দোকানের সমস্যা হয় তবে হয়তো অন্য এলাকায় দোকান খোলার পরিকল্পনা করতে
হবে। বিকাশ এজেন্ট আবেদন রিজেক্ট হওয়া মানে শেষ নয় বরং এটি একটি সুযোগ যেখানে
আপনি ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আরো শক্তিশালী আবেদন করতে পারবেন। ধৈর্য ধরুন এবং
সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন তবে অবশ্যই সফল হবেন।
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায় প্রথম মাসে কত আয় সম্ভব
বিকাশ এজেন্ট প্রথম মাসে কত আয় সম্ভব এবং সফলতার টিপস জানা থাকলে আপনি
বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখতে পারবেন এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করতে পারবেন। প্রথম
মাসে সাধারণত আয় কম হয় কারণ আপনি নতুন এবং এলাকার মানুষ আপনাকে চেনে না এবং
আপনার দোকানে আসতে সময় লাগে। একটি নতুন বিকাশ এজেন্ট প্রথম মাসে গড়ে ৫ হাজার
থেকে ১৫ হাজার টাকা কমিশন আয় করতে পারে যদি ভালো লোকেশনে দোকান হয় এবং নিয়মিত
কাজ করা হয়।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রথম মাসে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকাও হতে পারে যদি
লেনদেন খুব কম হয়। এটি স্বাভাবিক এবং হতাশ হওয়ার কিছু নেই কারণ দ্বিতীয় এবং
তৃতীয় মাস থেকে আয় বাড়তে থাকে যখন মানুষ আপনার সেবা সম্পর্কে জানতে পারে এবং
নিয়মিত গ্রাহক হয়। প্রথম মাসে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত বেশি আয় করা নয় বরং
ভালো সেবা দেওয়া এবং গ্রাহক বেস তৈরি করা।
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো ভালো লোকেশন
নির্বাচন করুন যেখানে মানুষের চলাচল বেশি এবং বিকাশ লেনদেনের চাহিদা আছে। দোকানে
বড় করে বিকাশ এজেন্ট সাইনবোর্ড লাগান যাতে মানুষ সহজে দেখতে পায়। সব সময়
যথেষ্ট ব্যালেন্স রাখুন যাতে গ্রাহকরা যখন আসে তখন সেবা দিতে পারেন। দ্রুত এবং
ভালো সেবা দিন কারণ গ্রাহক সন্তুষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত
ডিস্ট্রিবিউটর থেকে লোড নিন এবং শেষ হওয়ার আগেই নতুন লোড কিনুন। প্রতিদিনের
লেনদেন রেকর্ড রাখুন এবং কমিশন ট্র্যাক করুন।
পরিচিত মানুষদের জানান যে আপনি বিকাশ এজেন্ট হয়েছেন এবং তাদের আপনার দোকানে আসতে
বলুন। ফেসবুক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার দোকানের তথ্য শেয়ার করুন। অন্যান্য
এজেন্টদের সাথে নেটওয়ার্ক করুন এবং তাদের থেকে টিপস শিখুন। সততা বজায় রাখুন এবং
কখনো ফ্রড করবেন না কারণ এতে আপনার একাউন্ট ব্যান হতে পারে। এই টিপস অনুসরণ করলে
এবং ধৈর্য ধরে কাজ করলে ছয় মাসের মধ্যে আপনার মাসিক আয় ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার
টাকায় পৌঁছে যাবে এবং এক বছরে আরো বেশি বাড়বে।
লেখকের শেষ কথা
আমাদের মনে রাখতে হবে যে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং
প্রথম কয়েক মাস ধৈর্য ধরতে হবে। বিকাশ একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম এবং তাদের সাথে
কাজ করে আপনি একটি নিরাপদ এবং লাভজনক ব্যবসা গড়তে পারবেন। বিকাশ এজেন্ট আবেদন
করার সঠিক পদ্ধতি এবং অনলাইন প্রক্রিয়া জানা থাকলে আপনি নিজেই ঘরে বসে আবেদন
সম্পন্ন করতে পারবেন অথবা নিকটস্থ বিকাশ SR অফিসে গিয়ে সাহায্য নিতে পারবেন।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন, বিকাশ এজেন্ট
হওয়ার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে,
বিকাশ এজেন্ট আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি এবং অনলাইন প্রক্রিয়া, বিকাশ SR অফিস
কীভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন, বিকাশ এজেন্ট লিমিট ব্যবসার লিমিট
কত টাকা, বিকাশ এজেন্ট কমিশন রেট এবং আয়ের হিসাব, বিকাশ এজেন্ট সিম এবং
একাউন্ট সেটআপ প্রক্রিয়া, বিকাশ এজেন্ট আবেদন রিজেক্ট হলে কী করবেন, বিকাশ
এজেন্ট ব্যবসায় প্রথম মাসে কত আয় সম্ভব ইত্যাদি।


.webp)
টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url