প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে জেনে নিন
রাতে ঘুম না আসার রোগের নাম ও ঘুমানোর সহজ উপায়
প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে জেনে নিন কারণ এই সময় কি খেতে হবে এই বিষয়টি
নিয়ে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই এবং ভুল খাবার খেয়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে ফেলেন।
আপনি যদি নিয়মিত লো প্রেসারের সমস্যায় ভুগে থাকেন অথবা হঠাৎ লো প্রেসারের কারণে
কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে সঠিক খাবার সম্পর্কে জানাটা আপনার জন্য খুবই জরুরি।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কোন খাবারগুলো খেলে লো প্রেসার দ্রুত
স্বাভাবিক হয়।
পেজ সূচিপত্রঃ প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে জেনে নিন
- প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে জেনে নিন
- লো প্রেসার কী এবং কেন হয়ে থাকে
- লো প্রেসারের প্রধান লক্ষণগুলো কি কি
- লবণ পানি পানি খেলে কি লো প্রেসার কমে
- লো প্রেসারে কোন ফলমূল খাওয়া বেশি উপকারী
- প্রোটিন ও শর্করাজাতীয় খাবার খেলে কি লো প্রেসার কমে
- লো প্রেসারে চা ও কফির কতটা উপকারী
- লো প্রেসারে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনের পরিবর্তন
- লেখকের শেষ কথা
প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে জেনে নিন
প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে এই প্রশ্নটার সঠিক উত্তর জানা থাকলে যেকোনো
পরিস্থিতিতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপের
সময় শরীরে রক্ত সঞ্চালন কমে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত
অক্সিজেন পৌঁছায় না। তখন সঠিক খাবার খেলে দ্রুত রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে
ফিরে আসে এবং শরীর আবার সতেজ অনুভব করে। তাই এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রতিটি
পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত রক্তচাপ ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে নামলে সেটাকে লো প্রেসার বলা হয়। এই
অবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার খেলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়ে এবং
রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয় যার ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসে। একেবারে
তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য কিছু খাবার আছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা প্রতিরোধের
জন্য আলাদা খাবারের তালিকা রয়েছে। দুটোর বিষয়েই আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত
জানানো হবে।
অনেকে মনে করেন লো প্রেসার হলে শুধু লবণ খেলেই কাজ হবে, কিন্তু বিষয়টা এতটা
সরল নয়। শুধু লবণ নয়, সঠিক পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, পানি এবং কিছু বিশেষ
খাবারের সমন্বয় করতে হয়। চিকিৎসকরাও বলেন যে খাদ্যাভ্যাসে সঠিক পরিবর্তন আনলে
অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
লো প্রেসার কী এবং কেন হয়ে থাকে
লো প্রেসার বা হাইপোটেনশন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিকের
তুলনায় অনেক কমে যায়। স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg ধরা হয় এবং এর চেয়ে
উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে মস্তিষ্ক,
হৃদপিণ্ড এবং কিডনিতে সঠিকভাবে রক্ত না পৌঁছানোর কারণে এই অঙ্গগুলো ধীরে ধীরে
দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
লো প্রেসার হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া বা
ডিহাইড্রেশন লো প্রেসারের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এছাড়া অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা,
বেশি গরমে থাকা, হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, থাইরয়েডের সমস্যা বা
হার্টের সমস্যাও লো প্রেসার ডেকে আনতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রেও লো
প্রেসার বেশি দেখা যায়।
আরো পড়ুনঃ
প্যানিক এটাক থেকে মুক্তির সেরা উপায়
বয়স্ক মানুষদের মধ্যে লো প্রেসারের প্রবণতা বেশি থাকে কারণ বয়সের সাথে সাথে
রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। তরুণদের মধ্যেও যারা অনিয়মিত খাবার খান,
ঘুমান কম এবং পানি কম পান করেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডায়েটিং করতে গিয়ে অনেকে খাবারের পরিমাণ হঠাৎ কমিয়ে দেন যা লো প্রেসারের ঝুঁকি
বাড়িয়ে দেয়।
লো প্রেসারের প্রধান লক্ষণগুলো কি কি
লো প্রেসারের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো হঠাৎ মাথা ঘুরে যাওয়া, বিশেষ করে বসা
বা শোয়া থেকে উঠলে। এই অবস্থায় চোখের সামনে অন্ধকার দেখা যায় এবং মনে হয়
মাথাটা শূন্য হয়ে গেছে। অনেক সময় ভারসাম্য রাখতে না পেরে পড়েও যেতে পারেন।
এই লক্ষণটাকে "অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন" বলা হয় এবং বয়স্কদের মধ্যে এটা
বেশি দেখা যায়।
শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা এবং ত্বক
ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়াও লো প্রেসারের সাধারণ লক্ষণ। বুক ধড়ফড় করা, শ্বাস নিতে
কষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও অনেক সময় দেখা যায়। যদি প্রেসার অনেক
বেশি কমে যায় তাহলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনাও থাকে, তাই সঙ্গে সঙ্গে
ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
লো প্রেসারের সময় বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়াটাও বেশ পরিচিত। কেউ কেউ
ঝাপসা দেখেন বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শুনতে পান। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সাথে সাথে
বসে পড়ুন বা শুয়ে পড়ুন এবং দ্রুত কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করুন। লক্ষণ চেনা
থাকলে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই
সামলানো সম্ভব হয়।
লবণ পানি পানি খেলে কি লো প্রেসার কমে
লো প্রেসারে লবণ সবচেয়ে দ্রুত কার্যকর একটি উপাদান কারণ লবণে থাকা সোডিয়াম
রক্তনালীতে পানি ধরে রাখে এবং রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। হঠাৎ প্রেসার কমে
গেলে এক গ্লাস পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। তবে
এটা শুধু জরুরি অবস্থায় করার পদ্ধতি, প্রতিদিন এভাবে বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়
কারণ তা কিডনির জন্য ক্ষতিকর।
যারা নিয়মিত লো প্রেসারের সমস্যায় ভোগেন তারা প্রতিদিনের খাবারে একটু বেশি
লবণ ব্যবহার করতে পারেন, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। খাবার স্যালাইন
বা ইলেকট্রোলাইট পানীয়ও লো প্রেসারে খুব ভালো কাজ করে কারণ এতে লবণ ও চিনির
সঠিক অনুপাত থাকে। বাড়িতে এক লিটার বিশুদ্ধ পানিতে আধা চামচ লবণ ও ছয় চামচ
চিনি মিশিয়েও স্যালাইন তৈরি করা যায়।
পানি কম খাওয়া লো প্রেসারের অন্যতম প্রধান কারণ তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে
১০ গ্লাস পানি পান করাটা অত্যন্ত জরুরি। গরমের সময়, ব্যায়াম করার পর বা বেশি
ঘাম হলে আরও বেশি পানি পান করতে হবে। শুধু পানি না খেয়ে ডাবের পানি, ফলের রস
বা স্যুপ খাওয়াও উপকারী কারণ এগুলো শরীরে পানির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খনিজও
সরবরাহ করে।
লো প্রেসারে কোন ফলমূল খাওয়া বেশি উপকারী
লো প্রেসারের সময় কিছু বিশেষ ফল খুব দ্রুত উপকার দেয়। কিশমিশ এর মধ্যে
সবচেয়ে পরিচিত একটি উপাদান, রাতে এক মুঠো কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে
খালি পেটে সেই পানিসহ কিশমিশ খেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে দারুণ কাজ করে।
কিশমিশে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরো পড়ুনঃ
সকালে খালি পেটে জিরা পানি খাওয়ার নিয়ম
পাকা আম, কলা এবং খেজুর লো প্রেসারের রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ফল। এই
ফলগুলোতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে যা দ্রুত শরীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং রক্তচাপ
বাড়াতে সাহায্য করে। বেদানা বা ডালিমের রস রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শরীরে
আয়রনের মাত্রা বাড়ায় যা লো প্রেসারের রোগীদের জন্য খুব দরকারি। তরমুজও পানির
ভালো উৎস এবং লো প্রেসারে উপকার করে।
আঙুর ও জাম লো প্রেসারে উপকারী ফলের তালিকায় আছে কারণ এগুলো
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আপেল নিয়মিত
খেলে রক্তনালীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে। তবে
মনে রাখতে হবে, কোনো ফল একসাথে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়, পরিমিত
পরিমাণে নিয়মিত খাওয়াটাই সবচেয়ে কার্যকর।
প্রোটিন ও শর্করাজাতীয় খাবার খেলে কি লো প্রেসার কমে
লো প্রেসারের রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়া অত্যন্ত জরুরি কারণ প্রোটিন
রক্তে অ্যালবুমিনের মাত্রা বজায় রাখে যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
ডিম, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল এবং বাদাম প্রোটিনের ভালো উৎস। প্রতিদিনের খাবারে
এই খাবারগুলো রাখলে শরীর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয় এবং রক্তচাপ ধীরে ধীরে
স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শর্করাজাতীয় খাবার শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে যা লো প্রেসারের সময় খুব
কাজে আসে। ভাত, রুটি, আলু, ওটস এবং বার্লি শর্করার ভালো উৎস। তবে সাদা চিনি বা
প্রক্রিয়াজাত মিষ্টির বদলে প্রাকৃতিক শর্করা বেছে নেওয়া ভালো কারণ এগুলো ধীরে
ধীরে রক্তে শর্করা ছাড়ে এবং রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখে। খালি পেটে থাকা লো
প্রেসারের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক তাই দিনে তিনটি মূল খাবারের পাশাপাশি মাঝে
মাঝে হালকা নাস্তা খাওয়া উচিত।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার যেমন দই, পনির এবং ছানা লো প্রেসারের রোগীদের জন্য চমৎকার
খাবার। এগুলোতে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম এবং সোডিয়াম একসাথে থাকে যা রক্তচাপ
বাড়াতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় একগ্লাস দুধ বা এক বাটি দই রাখলে সারাদিন
শরীরে শক্তি থাকে এবং লো প্রেসারের সম্ভাবনা কমে যায়।
লো প্রেসারে চা ও কফির কতটা উপকারী
চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং লো প্রেসারের
সময় দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে। এক কাপ গরম চা বা কফি খেলে রক্তনালী সংকুচিত হয়
এবং রক্তচাপ বাড়ে। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন পরে
রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে। তাই দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি চা বা কফি না
খাওয়াই ভালো।
আদা চা লো প্রেসারে বিশেষভাবে উপকারী কারণ আদা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরকে
উষ্ণ রাখে। তুলসী পাতার চাও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে কারণ তুলসীতে
ইউজেনল নামক একটি উপাদান থাকে যা রক্তনালীকে সুস্থ রাখে। লো প্রেসারের সময় সকালে
খালি পেটে আদা-তুলসী মেশানো চা খেলে সারাদিন রক্তচাপ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকে।
তবে চা বা কফি খাওয়ার সময় কখনো খালি পেটে খাবেন না কারণ খালি পেটে ক্যাফেইন বমি
বমি ভাব ও অ্যাসিডিটি তৈরি করতে পারে যা লো প্রেসারের রোগীর জন্য আরও সমস্যা
বাড়িয়ে দেয়। সবসময় কিছু খেয়ে তারপর চা বা কফি পান করুন। সন্ধ্যার পর
ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা উচিত কারণ রাতে ঘুমের ব্যাঘাত হলে সেটা লো প্রেসারের অন্যতম
কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
লো প্রেসারে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
লো প্রেসারের সময় কিছু খাবার আছে যেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এগুলো রক্তচাপ
আরও কমিয়ে দিতে পারে। অ্যালকোহল রক্তনালীকে প্রসারিত করে এবং রক্তচাপ কমায়
তাই এটা লো প্রেসারের রোগীদের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ। এছাড়া অতিরিক্ত
মশলাযুক্ত খাবার এবং তেলে ভাজা খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং শরীরের উপর
অতিরিক্ত চাপ ফেলে।
আরো পড়ুনঃ
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় জেনে নিন
কলা, তরমুজ এবং পেঁপে সাধারণত স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু
মানুষের ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমে যেতে পারে কারণ এগুলোতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে।
পটাশিয়াম বেশি থাকলে রক্তনালী শিথিল হয় এবং রক্তচাপ কমে। রসুনেরও অতিরিক্ত
সেবন রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে তাই লো প্রেসারের রোগীদের রসুন পরিমিত পরিমাণে
খাওয়া উচিত।
বেশিক্ষণ উপোস করা বা ডায়েট করে খাবার পরিমাণ হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া লো প্রেসারের
রোগীদের জন্য খুব বিপজ্জনক। খাবারের পরিমাণ কমাতে চাইলে ধীরে ধীরে করুন এবং
কখনো একটানা তিন-চার ঘণ্টার বেশি না খেয়ে থাকবেন না। বাজারের প্যাকেটজাত ও
প্রক্রিয়াজাত খাবারেও অনেক সময় এমন উপাদান থাকে যা রক্তচাপ কমিয়ে দেয়, তাই
এগুলো এড়িয়ে তাজা ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনের পরিবর্তন
শুধু সঠিক খাবার খেলেই হবে না, সেই সাথে দৈনন্দিন জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন
আনতে হবে লো প্রেসার স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট
সময়ে ঘুমানো এবং ওঠার অভ্যাস করুন কারণ অনিয়মিত ঘুম রক্তচাপকে অস্থির করে
তোলে। রাতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন এবং সকালে হঠাৎ লাফ দিয়ে
উঠে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলুন, বরং ধীরে ধীরে উঠুন।
হালকা ব্যায়াম লো প্রেসারের রোগীদের জন্য উপকারী কিন্তু অতিরিক্ত ব্যায়াম বা
হঠাৎ ভারী ব্যায়াম করা বিপজ্জনক। প্রতিদিন সকালে ২০-৩০ মিনিট হাঁটা,
যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক
রাখে। ব্যায়ামের আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলবেন না। গরমের সময়
বাইরে বেশিক্ষণ থাকা এড়িয়ে চলুন।
মানসিক চাপ বা স্ট্রেস লো প্রেসারকে অনেক সময় আরও খারাপ করে দেয় তাই মানসিক
স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মেডিটেশন, গভীর শ্বাসের অনুশীলন
বা নিজের পছন্দের কাজ করে মন শান্ত রাখুন। দীর্ঘস্থায়ী লো প্রেসারের ক্ষেত্রে
অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন কারণ কখনো কখনো এর পেছনে বড় কোনো স্বাস্থ্য
সমস্যাও লুকিয়ে থাকতে পারে।
লেখকের শেষ কথা
লো প্রেসার এমন একটি সমস্যা যা সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে
অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিজের শরীরকে ভালোভাবে বোঝা এবং লক্ষণ দেখা
দিলে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সুষম খাবার
খান, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে জেনে নিন, লো প্রেসার কী এবং কেন হয়ে থাকে, লো প্রেসারের প্রধান লক্ষণগুলো কি কি, লবণ পানি পানি খেলে কি লো প্রেসার কমে, লো প্রেসারে কোন ফলমূল খাওয়া বেশি উপকারী, প্রোটিন ও শর্করাজাতীয় খাবার খেলে কি লো প্রেসার কমে, লো প্রেসারে চা ও কফির কতটা উপকারী, লো প্রেসারে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন, লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনের পরিবর্তন ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url