কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে
ইউটিউবে ভিডিও র্যাংক করানোর সহজ উপায় জানুন
কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে আপনার মাথায়
থাকা ব্যবসার আইডিয়া বা সমস্যার সমাধান একটি বাস্তব অ্যাপে রূপান্তর করতে
প্রোগ্রামার খোঁজার অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কোডিং না জেনেও কীভাবে অ্যাপ বানাতে
হয়, কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এই কাজে সবচেয়ে সহায়ক এবং অ্যাপ তৈরি করে কীভাবে সেটা
প্রকাশ করা যায়।
পেজ সূচিপত্রঃ কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে
- কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে
- কোডিং ছাড়া অ্যাপ বানানোর আগে যা জানতে হবে
- Thunkable দিয়ে সহজে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করুন
- Adalo ব্যবহার করে প্রফেশনাল অ্যাপ বানানোর পদ্ধতি
- Glide দিয়ে স্প্রেডশিট থেকে অ্যাপ তৈরির কৌশল
- MIT App Inventor দিয়ে কিভাবে অ্যাপ বানাবেন
- Bubble দিয়ে ওয়েব অ্যাপ ও মার্কেটপ্লেস বানানো
- কোডিং ছাড়া অ্যাপের ডিজাইন সুন্দর করার কৌশল
- তৈরি করা অ্যাপ প্রকাশ ও আয় করার উপায়
- লেখকের শেষ কথা
কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে
কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানানো কেন সম্ভব হয়েছে তার মূল কারণ হলো নো-কোড
প্ল্যাটফর্মগুলো জটিল প্রোগ্রামিং ভাষাকে সহজ ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ ইন্টারফেসে
রূপান্তরিত করে দিয়েছে যেখানে কোনো লাইন কোড না লিখেই বিভিন্ন উপাদান টেনে এনে
একটি সম্পূর্ণ কার্যকর অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর পেছনে আসলে
প্রোগ্রামাররাই কাজ করেছেন, তারা জটিল কোড আগে থেকেই লিখে এমন একটি সিস্টেম তৈরি
করেছেন যা সাধারণ মানুষও সহজে ব্যবহার করতে পারেন।
আমার এক পরিচিত ব্যবসায়ী বন্ধু কোনো প্রোগ্রামিং জ্ঞান ছাড়াই Glide ব্যবহার করে
তার দোকানের পণ্যের তালিকা দিয়ে একটি সম্পূর্ণ অ্যাপ বানিয়েছিলেন মাত্র দুই
দিনে এবং সেই অ্যাপ দিয়ে এখন তিনি নিয়মিত অর্ডার নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে
স্পষ্ট বোঝা যায় যে আজকের দিনে প্রযুক্তি এত সহজলভ্য হয়ে গেছে যে আইডিয়া থাকলে
সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য বড় কোনো প্রযুক্তিগত বাধা নেই।
নো কোড প্ল্যাটফর্মে অ্যাপ বানানোর সুবিধা হলো এতে সময় ও খরচ দুটোই অনেক কমে
যায় কারণ একজন প্রফেশনাল ডেভেলপার দিয়ে অ্যাপ বানাতে যেখানে কয়েক লাখ টাকা ও
কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, সেখানে নো কোড টুল দিয়ে মাত্র কয়েক হাজার টাকা এবং
কয়েক দিনের মধ্যে একটি কার্যকর অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব। তাই যাদের ভালো আইডিয়া
আছে কিন্তু কোডিং শেখার সময় বা ইচ্ছা নেই তাদের জন্য নো কোড একটি আশীর্বাদের মতো
সুযোগ।
কোডিং ছাড়া অ্যাপ বানানোর আগে যা জানতে হবে
নো-কোড অ্যাপ বানানোর আগে সঠিক পরিকল্পনা করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ
পরিকল্পনা ছাড়া সরাসরি টুলে গিয়ে কাজ শুরু করলে অনেক সময় নষ্ট হয় এবং শেষ
পর্যন্ত একটি অগোছালো অ্যাপ তৈরি হতে পারে। প্রথমে কাগজে বা মোবাইলের নোটে আপনার
অ্যাপটি কী কাজ করবে, কোন কোন স্ক্রিন থাকবে এবং একটি স্ক্রিন থেকে আরেকটি
স্ক্রিনে কীভাবে যাবে তার একটি সাধারণ স্কেচ বা ফ্লোচার্ট তৈরি করুন।
আপনার অ্যাপের মূল উদ্দেশ্য একটি বাক্যে লিখে ফেলুন যেমন "এই অ্যাপ দিয়ে
কাস্টমার আমার রেস্তোরাঁর খাবার অর্ডার করতে পারবে" বা "এই অ্যাপ দিয়ে
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার রুটিন দেখতে পারবে", এই স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে কাজ করার সময়
বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অ্যাপে কতগুলো মূল ফিচার থাকবে তার একটি
তালিকা তৈরি করুন এবং প্রথম ভার্সনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন থেকে চারটি ফিচারেই
ফোকাস করুন, পরে ধীরে ধীরে নতুন ফিচার যুক্ত করা যাবে।
আরো পড়ুনঃ
বিকাশ নাকি নগদ কোনটা বেশি ভালো জেনে নিন
কোন প্ল্যাটফর্মে অ্যাপ বানাবেন সেটা নির্ধারণ করার আগে আপনার অ্যাপের ধরন বুঝে
নিন, যেমন যদি এটি শুধু মোবাইল অ্যাপ হয় তাহলে Thunkable বা Adalo ভালো হবে, আর
যদি ডেটা-ভিত্তিক ব্যবসায়িক অ্যাপ হয় তাহলে Glide বেশি উপযোগী। প্রতিযোগী
অ্যাপগুলো ডাউনলোড করে দেখুন তারা কীভাবে ডিজাইন করেছে এবং কোন ফিচারগুলো
ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয়, এই গবেষণা আপনার অ্যাপ ডিজাইনে অনেক সাহায্য করবে।
Thunkable দিয়ে সহজে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করুন
Thunkable দিয়ে সহজে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা যায় কারণ এটি ব্লক-ভিত্তিক
প্রোগ্রামিং ব্যবহার করে যেখানে বিভিন্ন রঙের ব্লক টেনে এনে যুক্ত করলেই অ্যাপের
লজিক তৈরি হয়ে যায়, ঠিক যেমন পাজল মেলানোর মতো সহজ। Thunkable এ একই সাথে
Android ও iOS এর জন্য অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব এবং এই প্ল্যাটফর্মের একটি
বিনামূল্যের সংস্করণ আছে যা নতুনদের শেখার জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক।
Thunkable এ অ্যাপ তৈরি করতে হলে প্রথমে একটি ডিজাইনার স্ক্রিনে বাটন, টেক্সট
বক্স, ইমেজ এবং অন্যান্য উপাদান টেনে এনে বসাতে হয় এবং তারপর ব্লকস ট্যাবে গিয়ে
এই উপাদানগুলোর আচরণ নির্ধারণ করতে হয় যেমন বাটনে ক্লিক করলে কী ঘটবে। এই
প্ল্যাটফর্মে একটি লাইভ টেস্টিং ফিচার আছে যার মাধ্যমে নিজের ফোনে Thunkable Live
অ্যাপ ইনস্টল করে রিয়েল টাইমে দেখা যায় অ্যাপটি কেমন কাজ করছে, যা ডেভেলপমেন্ট
প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও মজাদার করে তোলে।
Thunkable এ ডাটাবেস সংযুক্ত করে ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ করা, পুশ নোটিফিকেশন
পাঠানো এবং গুগল শিটের সাথে সংযোগ করার মতো উন্নত ফিচারও পাওয়া যায় যা একটি
সম্পূর্ণ কার্যকর অ্যাপের জন্য প্রয়োজনীয়। YouTube এ Thunkable নিয়ে অনেক ফ্রি
টিউটোরিয়াল আছে যা ধাপে ধাপে অনুসরণ করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি কার্যকর
অ্যাপ তৈরি করে ফেলা সম্ভব। আপনি ও যদি কোডিং ছাড়া অ্যাপ বানাতে চান তাহলে জানতে
হবে কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে।
Adalo ব্যবহার করে প্রফেশনাল অ্যাপ বানানোর পদ্ধতি
Adalo ব্যবহার করে প্রফেশনাল অ্যাপ বানানোর পদ্ধতি অনেক ব্যবসায়িক উদ্যোক্তার
কাছে জনপ্রিয় কারণ এই প্ল্যাটফর্মে তৈরি অ্যাপগুলো দেখতে অনেক বেশি প্রফেশনাল ও
পরিণত মনে হয় এবং বিভিন্ন রেডিমেড টেমপ্লেট থাকায় শুরু করা সহজ হয়। Adalo তে
একটি ডাটাবেস তৈরি করে সেই ডেটার ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিন তৈরি
হয়ে যায়, যেমন একটি প্রোডাক্ট লিস্ট থাকলে সেখান থেকে প্রতিটি প্রোডাক্টের
বিস্তারিত পেজও নিজেই তৈরি হয়ে যায়।
Adalo এর মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ও টেমপ্লেট পাওয়া যায় যা অন্য
ব্যবহারকারীরা তৈরি করেছেন এবং এগুলো ব্যবহার করে অনেক সময় বাঁচানো সম্ভব। এই
প্ল্যাটফর্মে ই-কমার্স ফিচার যেমন পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করা, ইউজার লগইন সিস্টেম
তৈরি করা এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে মেসেজিং সিস্টেম তৈরি করার মতো উন্নত ফিচারও
সহজেই যুক্ত করা যায়।
Adalo তে তৈরি অ্যাপ সরাসরি Google Play Store এবং Apple App Store এ পাবলিশ করার
সুবিধা আছে এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো কোড লেখার প্রয়োজন নেই, প্ল্যাটফর্মই
স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় ফাইল তৈরি করে দেয়। যাদের ব্যবসায়িক অ্যাপ যেমন
বুকিং সিস্টেম, ডেলিভারি অ্যাপ বা মেম্বারশিপ অ্যাপ বানানোর প্রয়োজন তাদের জন্য
Adalo একটি অত্যন্ত উপযোগী পছন্দ। এর পাশাপাশি জানতে হবে কোডিং না জেনেও
অ্যাপ বানাবেন যেভাবে।
Glide দিয়ে স্প্রেডশিট থেকে অ্যাপ তৈরির কৌশল
Glide দিয়ে স্প্রেডশিট থেকে অ্যাপ তৈরির কৌশল সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুততম
পদ্ধতিগুলোর একটি কারণ এই প্ল্যাটফর্মে শুধু একটি গুগল শিট বা এক্সেল ফাইল আপলোড
করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সম্পূর্ণ অ্যাপ তৈরি হয়ে যায়। যারা ইতিমধ্যে
এক্সেল বা গুগল শিট ব্যবহার করে তাদের পণ্য, কাস্টমার বা যেকোনো তথ্যের তালিকা
রাখেন তাদের জন্য Glide একটি আদর্শ সমাধান কারণ বিদ্যমান ডেটা দিয়েই অ্যাপ তৈরি
হয়ে যায়।
Glide এ একটি স্প্রেডশিটের প্রতিটি কলাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপের একটি ফিল্ড
হিসেবে রূপান্তরিত হয় এবং প্রতিটি সারি একটি আলাদা আইটেম বা এন্ট্রি হিসেবে
দেখানো হয়, এতে ম্যানুয়ালি কোনো ডাটাবেস ডিজাইন করার প্রয়োজন হয় না।
স্প্রেডশিটে নতুন তথ্য যুক্ত করলে অ্যাপেও সাথে সাথে সেই তথ্য আপডেট হয়ে যায় যা
একটি ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট বা ডিরেক্টরি অ্যাপের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
আরো পড়ুনঃ
বিকাশ একাউন্ট হ্যাক হলে কী করবেন জেনে নিন
Glide এ বিভিন্ন রেডিমেড টেমপ্লেট আছে যেমন রেস্তোরাঁ মেনু অ্যাপ, রিয়েল এস্টেট
লিস্টিং অ্যাপ বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ যা শুরু করার জন্য অনেক সাহায্য করে
এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই টেমপ্লেটগুলো কাস্টমাইজ করা সম্ভব। ছোট ব্যবসায়ীদের
জন্য Glide দিয়ে নিজের পণ্যের একটি ডিজিটাল ক্যাটালগ অ্যাপ তৈরি করা মাত্র কয়েক
ঘণ্টার কাজ এবং এটি অনেক প্রফেশনাল মানের হয়ে থাকে।
MIT App Inventor দিয়ে কিভাবে অ্যাপ বানাবেন
MIT App Inventor শিক্ষার্থীদের জন্য নো-কোড অ্যাপ তৈরির সেরা টুল হিসেবে বিবেচিত
হয় কারণ এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা MIT এটি তৈরি করেছে শিক্ষার উদ্দেশ্যে।
এই প্ল্যাটফর্মে ব্লক ভিত্তিক প্রোগ্রামিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যা Scratch-এর
মতো সহজ এবং তাই স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও সহজে শিখে নিতে পারেন।
MIT App Inventor এ Android অ্যাপ তৈরি করা যায় এবং বিভিন্ন সেন্সর যেমন GPS,
ক্যামেরা বা অ্যাক্সিলোমিটার ব্যবহার করে মজার ও কার্যকরী অ্যাপ বানানো সম্ভব যা
শিক্ষামূলক প্রজেক্টের জন্য আদর্শ। বাংলাদেশের অনেক স্কুল ও কলেজে এখন
প্রোগ্রামিং ক্লাবে এই টুল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অ্যাপ তৈরির প্রাথমিক ধারণা
দেওয়া হয় এবং অনেক শিক্ষার্থী এই অভিজ্ঞতা থেকেই পরবর্তীতে প্রকৃত প্রোগ্রামিং
শেখার অনুপ্রেরণা পান।
এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইনেই সরাসরি কাজ করা যায় এবং কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করার
প্রয়োজন নেই, শুধু একটি ওয়েব ব্রাউজার থাকলেই যথেষ্ট। MIT App Inventor এর
কমিউনিটিতে প্রচুর টিউটোরিয়াল ও উদাহরণ প্রজেক্ট পাওয়া যায় যা নতুনদের শেখার
জন্য অনেক সহায়ক এবং বিশ্বব্যাপী শিক্ষাবিদরা এই টুলের কার্যকারিতা স্বীকার
করেছেন। কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে জানা থাকলে কোন ধরনের কোডিং
ছাড়াই অ্যাপ বানাতে পারবেন।
Bubble দিয়ে ওয়েব অ্যাপ ও মার্কেটপ্লেস বানানো
Bubble দিয়ে ওয়েব অ্যাপ ও মার্কেটপ্লেস বানানো নো-কোড জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী
সমাধানগুলোর একটি কারণ এই প্ল্যাটফর্মে জটিল ব্যবসায়িক লজিক, ডাটাবেস সম্পর্ক
এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে লেনদেনের মতো উন্নত ফিচার তৈরি করা সম্ভব যা সাধারণ
নো-কোড টুলে পাওয়া যায় না। Bubble এ Airbnb বা Uber এর মতো জটিল মার্কেটপ্লেস
অ্যাপও তৈরি করা সম্ভব হয়েছে এমন উদাহরণ অনেক উদ্যোক্তা দেখিয়েছেন।
Bubble শেখার ক্ষেত্রে অন্যান্য নো কোড টুলের তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে কারণ
এর ফিচার অনেক বিস্তৃত এবং জটিল ব্যবসায়িক লজিক তৈরি করতে কিছুটা টেকনিক্যাল
চিন্তা করতে হয়, তবে একবার মৌলিক ধারণা বুঝে গেলে এটি অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন
একটি টুল হয়ে যায়। Bubble Academy তে বিনামূল্যে অনেক কোর্স পাওয়া যায় যা
ধাপে ধাপে শেখার জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং অনেক উদ্যোক্তা এই কোর্সগুলো অনুসরণ করে
নিজেরাই স্টার্টআপের প্রাথমিক ভার্সন তৈরি করেছেন।
যারা একটি জটিল মার্কেটপ্লেস বা সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চান
কিন্তু প্রোগ্রামার ভাড়া করার মতো বাজেট নেই তাদের জন্য Bubble একটি অত্যন্ত
মূল্যবান বিকল্প। অনেক সফল স্টার্টআপ প্রাথমিকভাবে Bubble দিয়ে তাদের
প্রোডাক্টের প্রাথমিক ভার্সন বা MVP তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের কাছে আইডিয়া
প্রমাণ করেছে এবং পরে প্রয়োজনে প্রকৃত কোডিং করে সেটা আরও উন্নত করেছে।
কোডিং ছাড়া অ্যাপের ডিজাইন সুন্দর করার কৌশল
নো-কোড অ্যাপের ডিজাইন সুন্দর করার কৌশল জানা থাকলে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকলেও
আপনার অ্যাপটি প্রফেশনাল মানের দেখাতে পারে যা ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করতে
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপের রঙ পরিকল্পনায় দুই থেকে তিনটি প্রধান রঙের বেশি
ব্যবহার না করে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কালার স্কিম বজায় রাখা উচিত, এতে অ্যাপটি
দেখতে অনেক বেশি পরিষ্কার ও প্রফেশনাল মনে হয়।
ফন্ট নির্বাচনের সময় সর্বোচ্চ দুটি ফন্ট ব্যবহার করুন, একটি হেডিংয়ের জন্য এবং
একটি সাধারণ টেক্সটের জন্য, কারণ অতিরিক্ত ফন্ট ব্যবহার করলে অ্যাপটি অগোছালো
দেখায়। আইকন ও ছবির ক্ষেত্রে সবসময় উচ্চ মানের এবং একই স্টাইলের আইকন সেট
ব্যবহার করুন, বিভিন্ন স্টাইলের আইকন মিশিয়ে দিলে অ্যাপের সামগ্রিক ডিজাইন
অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়। এই জন্য আপনাকে জানতে হবে কোডিং না জেনেও অ্যাপ
বানাবেন যেভাবে।
বাটন ও ক্লিকযোগ্য উপাদানগুলো পর্যাপ্ত আকারের রাখুন যাতে মোবাইল স্ক্রিনে আঙুল
দিয়ে সহজেই চাপা যায়, ছোট বাটনে ক্লিক করতে অসুবিধা হলে ব্যবহারকারীরা বিরক্ত
হয়ে যান। অ্যাপ তৈরি করার পর কয়েকজন বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে দিয়ে পরীক্ষা
করিয়ে নিন এবং তাদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনুন কারণ ব্যবহারকারীর
দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক সমস্যা সহজে চিহ্নিত করা যায়।
তৈরি করা অ্যাপ প্রকাশ ও আয় করার উপায়
তৈরি করা অ্যাপ প্রকাশ ও আয় করার উপায় জানা থাকলে শুধু অ্যাপ বানিয়েই থেমে না
থেকে সেটা থেকে প্রকৃত মূল্য তৈরি করা সম্ভব হয়। অ্যাপ Google Play Store এ
পাবলিশ করতে হলে একটি ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় যার জন্য একবারে ২৫ ডলার ফি
দিতে হয় এবং Apple App Store এ পাবলিশ করতে বছরে ৯৯ ডলার ফি দিতে হয়, তবে
শুরুতে শুধু Android এ পাবলিশ করলেও যথেষ্ট সুযোগ থাকে।
অ্যাপ থেকে আয়ের জন্য বিজ্ঞাপন যুক্ত করা সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, Google AdMob
ব্যবহার করে অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করা সম্ভব এবং অনেক নো-কোড
প্ল্যাটফর্মেই এই ইন্টিগ্রেশন সহজে যুক্ত করা যায়। ইন-অ্যাপ পার্চেজ বা
সাবস্ক্রিপশন মডেল ব্যবহার করেও আয় করা সম্ভব, যেমন বিনামূল্যে কিছু ফিচার দিয়ে
প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য অর্থ চার্জ করা।
যদি অ্যাপটি কোনো ব্যবসার জন্য তৈরি করা হয় তাহলে সরাসরি আয়ের চেয়ে ব্যবসার
কাস্টমার সার্ভিস ও বিক্রয় বাড়ানোর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে লাভ হয় যা অনেক
ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন আয়ের চেয়েও বেশি মূল্যবান। অ্যাপ প্রকাশের পর নিয়মিত
ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাক নিয়ে আপডেট করতে থাকুন কারণ একটি অ্যাপ একবার তৈরি করেই
ফেলে রাখলে সময়ের সাথে সাথে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
লেখকের শেষ কথা
নো কোড অ্যাপ বানাবেন যেভাবে সেই বিষয়ে আজকের এই আর্টিকেলে Thunkable, Adalo,
Glide, MIT App Inventor এবং Bubble এর মতো বিভিন্ন নো কোড প্ল্যাটফর্ম নিয়ে
বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে যেকোনো সাধারণ মানুষ নিজের
আইডিয়াকে একটি বাস্তব অ্যাপে রূপান্তরিত করতে পারেন। সহজ মোবাইল অ্যাপের জন্য
Thunkable বা Adalo, স্প্রেডশিট-ভিত্তিক অ্যাপের জন্য Glide এবং জটিল
মার্কেটপ্লেসের জন্য Bubble বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে কোডিং না জেনেও অ্যাপ বানাবেন যেভাবে, কোডিং ছাড়া অ্যাপ বানানোর আগে যা
জানতে হবে, Thunkable দিয়ে সহজে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করুন, Adalo ব্যবহার করে
প্রফেশনাল অ্যাপ বানানোর পদ্ধতি, Glide দিয়ে স্প্রেডশিট থেকে অ্যাপ তৈরির কৌশল,
MIT App Inventor দিয়ে কিভাবে অ্যাপ বানাবেন, Bubble দিয়ে ওয়েব অ্যাপ ও
মার্কেটপ্লেস বানানো, কোডিং ছাড়া অ্যাপের ডিজাইন সুন্দর করার কৌশল, তৈরি করা
অ্যাপ প্রকাশ ও আয় করার উপায় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url