গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস

২০২৬ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বেতনের চাকরি কোনটি
গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস অনেকেই জানেন না তবে আপনারা যদি আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলে র‍্যাংক করতে চান তাহলে এটি জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়েবসাইট-স্পিড-বাড়ানোর-কার্যকরী-উপায়
মূলত গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে যখন আপনার ওয়েবসাইট গুগলে ভালো পজিশনে থাকবে তখন আপনার ভিজিটর এবং ইনকাম দুটোই বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আজকের আর্টিকেল আমরা জানবো বেসিক SEO টিপস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।

পোস্ট সূচীপত্রঃ গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস

গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস

গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস জানার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমরা যারা ব্লগিং করে থাকি তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গুগলের প্রথম পেজে র‍্যাঙ্ক করা যার মাধ্যমে আমরা বেশি ভিজিটর এবং ইনকাম পেতে পারি। বর্তমান সময়ে SEO এমন একটি বিষয় যা আমরা না যেনে থাকলে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সাধারণত গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সঠিক SEO করা। এজন্য আপনাকে অন পেজ SEO এবং অফ পেজ SEO দুটি বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিতে হবে যা আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলে ভালো র‍্যাঙ্ক করাতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট গুগল সার্চ রেজাল্টে উপরের দিকে আসবে এবং আপনার ভিজিটর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

এছাড়াও গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার জন্য আপনাকে নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে এবং সেই কনটেন্ট অবশ্যই মানসম্মত হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার কনটেন্ট যত বেশি তথ্য দিতে হবে এবং পাঠকদের সমস্যার সমাধান করতে হবে যেন গুগল আপনার কনটেন্টকে মূল্য দেয়। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করতে এবং গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করবেন যেন আপনার ওয়েবসাইট গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করে।

কীওয়ার্ড রিসার্চ করে সঠিক কীওয়ার্ড নির্বাচন করা

কীওয়ার্ড রিসার্চ করে সঠিক কীওয়ার্ড নির্বাচন করা গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই রয়েছেন যারা কীওয়ার্ড রিসার্চ না করেই আর্টিকেল লিখে ফেলেন যার কারণে তাদের কনটেন্ট গুগলে র‍্যাঙ্ক করে না। মূলত সঠিক কীওয়ার্ড নির্বাচন করার মাধ্যমে আপনার কনটেন্ট গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় যা আপনার ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণত কীওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য প্রথমে আপনাকে আপনার নিশ সম্পর্কিত বিভিন্ন কীওয়ার্ড খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি গুগল কীওয়ার্ড প্ল্যানার, Ubersuggest, Ahrefs বা Semrush এর মতো টুলস ব্যবহার করতে পারেন যা আপনাকে সঠিক কীওয়ার্ড খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এই টুলস গুলো আপনাকে কীওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম, কম্পিটিশন এবং CPC সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে যার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কোন কীওয়ার্ডে কাজ করলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

এরপর আপনাকে লং টেইল কীওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে যা নতুন ওয়েবসাইটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে লং টেইল কীওয়ার্ড বলতে বোঝানো হয় এমন কীওয়ার্ড যা ৫ থেকে ৮ শব্দের হয়ে থাকে এবং যার সার্চ ভলিউম কম হলেও কম্পিটিশন অনেক কম থাকে। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই গুগলে র‍্যাঙ্ক করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট অডিয়েন্সকে টার্গেট করতে পারবেন। তাই কীওয়ার্ড রিসার্চ করার সময় অবশ্যই লং টেইল কীওয়ার্ডের দিকে বেশি নজর দিন এবং এমন কীওয়ার্ড বেছে নিন যার মাসিক সার্চ ভলিউম ১০০ থেকে ১০০০ এর মধ্যে এবং কম্পিটিশন কম যাতে আপনি দ্রুত গুগলে র‍্যাঙ্ক করতে পারেন।

কনটেন্ট এর মধ্যে সঠিকভাবে কীওয়ার্ড ব্যবহার করার কৌশল

কনটেন্ট এর মধ্যে সঠিকভাবে কীওয়ার্ড ব্যবহার করার কৌশল জানা আমাদের সকলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের ওয়েবসাইটকে গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করাতে সাহায্য করে। অনেকেই রয়েছেন যারা কনটেন্টে অতিরিক্ত কীওয়ার্ড স্টাফিং করে ফেলেন যার কারণে গুগল তাদের কনটেন্টকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করে। মূলত কনটেন্টে সঠিকভাবে কীওয়ার্ড ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
সাধারণত কনটেন্টের প্রথম ১০০ শব্দের মধ্যে আপনার মূল কীওয়ার্ড অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম প্যারাগ্রাফে কীওয়ার্ড উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে কারণ গুগল কনটেন্টের শুরুর অংশকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে গুগল বট যখন আপনার কনটেন্ট ক্রল করে তখন প্রথম দিকের কনটেন্ট দেখে বুঝতে পারে যে আপনার আর্টিকেল কোন বিষয় নিয়ে লেখা। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন প্রথম প্যারাগ্রাফে স্বাভাবিক ভাবে আপনার টার্গেট কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে যা আপনার SEO এর জন্য অনেক উপকারী।

এরপর পুরো কনটেন্ট জুড়ে আপনাকে কীওয়ার্ড ডেনসিটি ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনার কনটেন্ট ১০০০ শব্দের হয় তাহলে আপনার মূল কীওয়ার্ড ১০ বার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও আপনাকে LSI কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে যা হচ্ছে আপনার মূল কীওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য কীওয়ার্ড যা গুগলকে আপনার কনটেন্ট সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। তাই কনটেন্ট লেখার সময় অবশ্যই কীওয়ার্ড প্লেসমেন্টের দিকে বিশেষ নজর দিন এবং সাবহেডিং, মেটা ডিসক্রিপশন এবং URL এ কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন যা আপনার অন পেজ SEO ফ্রেন্ডলি করবে।

ভালো মানের ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্ট তৈরি করার নিয়ম

বর্তমান সময়ে গুগল ভালো মানের কনটেন্টকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় এবং যে কনটেন্ট পাঠকদের সমস্যার সমাধান দিতে পারে সেই কনটেন্ট দ্রুত র‍্যাঙ্ক করে থাকে। মূলত কনটেন্ট কোয়ালিটি এমন একটি বিষয় যেটিতে আমাদের বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন যা আমাদের ওয়েবসাইটের সফলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
গুগলে-দ্রুত-র‍্যাঙ্ক-করার-বেসিক-SEO-টিপস-জানুন
সাধারণত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করার জন্য প্রথমে আপনাকে পাঠকদের সমস্যা এবং চাহিদা সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কি ধরনের তথ্য খুঁজছে সেটা জানার জন্য গুগল সার্চ রেজাল্ট এনালাইসিস করতে পারেন এবং People Also Ask সেকশন দেখতে পারেন। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন মানুষ আপনার নিশ সম্পর্কে কি কি প্রশ্ন করে থাকে এবং সেই অনুযায়ী আপনি আপনার কনটেন্টে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন যা আপনার কনটেন্টকে আরো ভালো মানের করে তুলবে।

এরপর আপনার কনটেন্ট অবশ্যই কমপক্ষে ১৫০০ থেকে ২০০০ শব্দের হওয়া উচিত যাতে আপনি বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে ছোট কনটেন্ট লিখলে গুগলে র‍্যাঙ্ক করা কঠিন হয়ে যায় কারণ গুগল এখন লম্বা এবং বিস্তারিত কনটেন্টকে বেশি পছন্দ করে। এছাড়াও আপনার কনটেন্টে অবশ্যই ছবি, ভিডিও এবং ইনফোগ্রাফিক্স ব্যবহার করুন যা পাঠকদের এনগেজমেন্ট বাড়াতে সাহায্য করবে এবং গুগল আপনার কনটেন্টকে আরো মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করবে। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন মানসম্মত, তথ্যবহুল এবং ইউনিক কনটেন্ট তৈরি করতে যা অন্য কোথাও থেকে কপি করা নয় বরং আপনার নিজের রিসার্চ এবং অভিজ্ঞতা থেকে লেখা যা আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করাতে সাহায্য করবে।

টাইটেল ট্যাগ এবং মেটা ডিসক্রিপশন অপটিমাইজেশন

টাইটেল ট্যাগ এবং মেটা ডিসক্রিপশন অপটিমাইজেশন গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই রয়েছেন যারা টাইটেল ট্যাগ এবং মেটা ডিসক্রিপশনের গুরুত্ব বুঝেন না এবং এগুলো সঠিকভাবে অপটিমাইজ করেন না। মূলত এই দুটি এলিমেন্ট আপনার ক্লিক থ্রু রেট বাড়াতে সাহায্য করে যা আপনার ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং এ সরাসরি প্রভাব ফেলে থাকে।

সাধারণত টাইটেল ট্যাগ তৈরি করার সময় আপনার মূল কীওয়ার্ড টাইটেলের শুরুতে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে টাইটেল ট্যাগ ৫০ থেকে ৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে রাখতে হবে যাতে গুগল সার্চ রেজাল্টে পুরো টাইটেল দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে যদি টাইটেল খুব বড় হয় তাহলে গুগল শেষের অংশ কেটে দেয় যা ভালো ইমপ্রেশন তৈরি করে না। এছাড়াও টাইটেলে সংখ্যা, পাওয়ার ওয়ার্ডস যেমন সেরা, গুরুত্বপূর্ণ, সহজ ইত্যাদি ব্যবহার করুন যা অনেকেই ক্লিক করতে উৎসাহিত করবে।

এরপর মেটা ডিসক্রিপশন তৈরি করার সময় ১৫০ থেকে ১৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে রাখতে হবে এবং এতে আপনার মূল কীওয়ার্ড অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে মেটা ডিসক্রিপশনে আপনার কনটেন্টের একটি সংক্ষিপ্ত সামারি দিতে হবে যা পড়ে মানুষ বুঝতে পারবে আপনার আর্টিকেল পড়লে তারা কি কি তথ্য পাবে। এছাড়াও মেটা ডিসক্রিপশনে কল টু অ্যাকশন ব্যবহার করুন যেমন জেনে নিন, দেখে নিন, পড়ুন ইত্যাদি যা মানুষকে আপনার লিংকে ক্লিক করতে আগ্রহী করবে। তাই টাইটেল ট্যাগ এবং মেটা ডিসক্রিপশন সঠিকভাবে অপটিমাইজ করুন যা আপনার সিটিআর বাড়াবে এবং ফলস্বরূপ আপনার ওয়েবসাইট গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করবে।

ইন্টারনাল লিংকিং এবং এক্সটার্নাল লিংকিং কিভাবে করে

লিংকিং স্ট্র্যাটেজি এমন একটি বিষয় যা আমাদের মাঝে বোঝা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যা আমাদের ওয়েবসাইটের SEO এর জন্য অত্যন্ত জরুরি। মূলত সঠিক লিংকিং স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের অথরিটি বাড়াতে পারবেন এবং গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করতে পারবেন।
সাধারণত ইন্টারনাল লিংকিং বলতে বোঝানো হয় আপনার ওয়েবসাইটের একটি পেজ থেকে অন্য পেজে লিংক দেওয়া। এক্ষেত্রে প্রতিটি নতুন আর্টিকেলে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ টি ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার করা উচিত যা আপনার পুরাতন কনটেন্টের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ইন্টারনাল লিংকিং এর মাধ্যমে গুগল বট আপনার পুরো ওয়েবসাইট সহজে ক্রল করতে পারে এবং আপনার সাইটের স্ট্রাকচার বুঝতে পারে। এছাড়াও ইন্টারনাল লিংকিং ভিজিটরদের আপনার ওয়েবসাইটে বেশি সময় কাটাতে সাহায্য করে যা বাউন্স রেট কমায়।

এরপর এক্সটার্নাল লিংকিং বলতে বোঝানো হয় আপনার ওয়েবসাইট থেকে অন্য কোনো অথরিটি ওয়েবসাইটে লিংক দেওয়া। এক্ষেত্রে আপনার কনটেন্টে প্রাসঙ্গিক হাই কোয়ালিটি ওয়েবসাইটের লিংক দিতে হবে যা গুগলকে বুঝতে সাহায্য করে যে আপনি রিসার্চ করে কনটেন্ট লিখেছেন এবং নির্ভরযোগ্য সোর্স ব্যবহার করেছেন। তবে মনে রাখবেন যে এক্সটার্নাল লিংক সব সময় নতুন ট্যাবে ওপেন হওয়ার জন্য সেট করবেন যাতে ভিজিটররা আপনার সাইট ছেড়ে না যায়। তাই ইন্টারনাল এবং এক্সটার্নাল লিংকিং উভয়ই সঠিকভাবে ব্যবহার করুন যা আপনার ওয়েবসাইটের SEO কে শক্তিশালী করবে এবং গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করতে সাহায্য করবে।

ইমেজ অপটিমাইজেশন এবং অল্ট ট্যাগ ব্যবহার

ইমেজ অপটিমাইজেশন এবং অল্ট ট্যাগ ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস গুলোর মধ্যে সেরা। অনেকেই রয়েছেন যারা কনটেন্টে ইমেজ ব্যবহার করলেও সেগুলো সঠিকভাবে অপটিমাইজ করেন না যার কারণে ওয়েবসাইটের স্পিড কমে যায় এবং SEO এর ক্ষতি হয়। মূলত ইমেজ অপটিমাইজেশন এমন একটি বিষয় যা আমাদের ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সাধারণত ইমেজ অপটিমাইজেশন করার জন্য প্রথমে আপনাকে ইমেজের সাইজ কমাতে হবে। এক্ষেত্রে একটি ইমেজ ৫০ KB এর নিচে রাখা উচিত যাতে আপনার ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হয়। এর জন্য আপনি photoshop বা photopea এর মতো টুলস ব্যবহার করতে পারেন যা ইমেজের কোয়ালিটি ঠিক রেখে সাইজ কমিয়ে দেয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বড় সাইজের ইমেজ ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইট স্লো হয়ে যায় যা ভিজিটররা পছন্দ করে না এবং গুগলও স্লো ওয়েবসাইটকে কম র‍্যাঙ্ক দেয় থাকে।

এরপর প্রতিটি ইমেজে অল্ট ট্যাগ ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি যা গুগল ইমেজ সার্চে র‍্যাঙ্ক করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে অল্ট ট্যাগে আপনার কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে তবে স্বাভাবিক ভাবে এবং ইমেজের বর্ণনা দিয়ে। এছাড়াও ইমেজের ফাইল নেম দেওয়ার সময় কীওয়ার্ড রিলেটেড নাম ব্যবহার করুন যেমন image1.jpg এর পরিবর্তে seo-tips-bangla.jpg ব্যবহার করুন। এছাড়াও WebP ফরম্যাট ব্যবহার করলে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যায় কারণ এই ফরম্যাট PNG বা JPG এর চেয়ে ছোট হয় কিন্তু কোয়ালিটি একই থাকে। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন ইমেজ অপটিমাইজেশন এবং অল্ট ট্যাগ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে যা আপনার অন পেজ SEO কে আরো ভালো করবে।

মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি

মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি জানা আমাদের সকলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমান সময়ে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন যে কারণে গুগল মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটকে বেশি প্রাধান্য দেয়। মূলত গুগল এখন মোবাইল ফার্স্ট ইনডেক্সিং ব্যবহার করে যার মানে হচ্ছে গুগল প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটের মোবাইল ভার্সন দেখে র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণ করে থাকে।

সাধারণত মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য রেসপন্সিভ ডিজাইন ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে যাতে সেটি মোবাইল, ট্যাবলেট এবং ডেস্কটপ সব ডিভাইসে সুন্দরভাবে দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে যদি আপনার ওয়েবসাইট মোবাইলে ঠিকমতো দেখা না যায় তাহলে ভিজিটররা চলে যাবে এবং আপনার বাউন্স রেট বেড়ে যাবে যা গুগল র‍্যাঙ্কিং এ নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। তাই WordPress বা blogger ব্যবহার করে রেসপন্সিভ থিম ব্যবহার করুন যা সব ডিভাইসে ভালোভাবে কাজ করে।
এরপর মোবাইলে আপনার ওয়েবসাইটের ফন্ট সাইজ কমপক্ষে ১৬px হতে হবে যাতে সহজে পড়া যায়। এছাড়াও বাটন এবং লিংক গুলো যথেষ্ট বড় রাখুন যাতে মোবাইল স্ক্রিনে সহজে ট্যাপ করা যায়। এছাড়াও পপআপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন বা খুব কম ব্যবহার করুন কারণ মোবাইলে পপআপ বিরক্তিকর এবং গুগল এটা পছন্দ করে না। তাই Google Mobile-Friendly Test টুল দিয়ে আপনার সাইট টেস্ট করুন এবং যে সমস্যা গুলো দেখাবে সেগুলো ঠিক করে নিন যা আপনার ওয়েবসাইটকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি করে তুলবে এবং গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করতে সাহায্য করবে।

ওয়েবসাইট স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী উপায়

ওয়েবসাইট স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী উপায় সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস গুলোর মধ্যে সেরা। বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইট স্পিড এমন একটি বিষয় যা আমাদের গুগল র‍্যাঙ্কিং এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মূলত গুগল ফাস্ট লোডিং ওয়েবসাইটকে বেশি পছন্দ করে এবং স্লো ওয়েবসাইটকে র‍্যাঙ্কিং এ পেনাল্টি দেয় থাকে।
ওয়েবসাইট-স্পিড-বাড়ানোর-কার্যকরী-উপায়
সাধারণত ওয়েবসাইট স্পিড বাড়ানোর জন্য প্রথমে আপনাকে ভালো হোস্টিং ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে শেয়ার্ড হোস্টিং এর চেয়ে VPS বা ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে শেয়ার্ড হোস্টিং এ অনেক ওয়েবসাইট একসাথে থাকে যার ফলে রিসোর্স শেয়ার হয় এবং স্পিড কমে যায়। এছাড়াও CDN ব্যবহার করুন যেমন Cloudflare যা আপনার কনটেন্ট বিভিন্ন সার্ভারে স্টোর করে রাখে এবং ভিজিটরদের নিকটবর্তী সার্ভার থেকে কনটেন্ট দেখায় যার ফলে লোডিং টাইম কমে যায়।

এরপর ক্যাশিং প্লাগইন ব্যবহার করুন যেমন WP Rocket, W3 Total Cache বা LiteSpeed Cache যা আপনার ওয়েবসাইটের স্ট্যাটিক ভার্সন তৈরি করে রাখে এবং ভিজিটরদের দ্রুত দেখায়। এক্ষেত্রে ক্যাশিং ব্যবহার করলে আপনার সার্ভার লোড কমে যায় এবং পেজ লোডিং টাইম অনেক কমে যায় যা ভিজিটরদের এক্সপেরিয়েন্স ভালো করে। এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় প্লাগইন ডিলিট করে ফেলুন এবং CSS এবং JavaScript ফাইল মিনিফাই করুন যা ফাইল সাইজ কমিয়ে দেয়। তাই Google PageSpeed Insights টুল দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট চেক করুন এবং যে সাজেশন গুলো দেখাবে সেগুলো ইমপ্লিমেন্ট করুন যাতে আপনার ওয়েবসাইট ৩ সেকেন্ডের কম সময়ে লোড হয় যা গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করতে সাহায্য করবে।

লেখকের শেষ কথা

বর্তমান সময়ে SEO এমন একটি বিষয় যা ছাড়া গুগলে র‍্যাঙ্ক করা প্রায় অসম্ভব এবং আমরা যদি এই বেসিক টিপস গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করি তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট দ্রুত গুগলে র‍্যাঙ্ক করবে। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করতে এবং সঠিক SEO কৌশল অবলম্বন করতে যা আপনার ওয়েবসাইটের সফলতা নিশ্চিত করবে ট্রাফিক বাড়াতে সাহায্য করবে।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস, কীওয়ার্ড রিসার্চ করে সঠিক কীওয়ার্ড নির্বাচন করা, কনটেন্ট এর মধ্যে সঠিকভাবে কীওয়ার্ড ব্যবহার করার কৌশল, ভালো মানের ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্ট তৈরি করার নিয়ম, টাইটেল ট্যাগ এবং মেটা ডিসক্রিপশন অপটিমাইজেশন, ইন্টারনাল লিংকিং এবং এক্সটার্নাল লিংকিং কিভাবে করে, ইমেজ অপটিমাইজেশন এবং অল্ট ট্যাগ ব্যবহার, মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি, ওয়েবসাইট স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী উপায় ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url