অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম
জমির খাজনা অনলাইনে চেক করার নিয়ম ২০২৬
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম জানা আমাদের জন্য অনেক
গুরুত্বপূর্ণ কেনোনা জাতীয় পরিচয়পত্র আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়
পত্র।
চাকরি ব্যাংক একাউন্ট খোলা সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন পাসপোর্ট তৈরি এবং চাকরি বা
পড়াশোনার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কাজে এনআইডি কার্ড প্রয়োজন হয়। এই জন্য
আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো এনআইডি আপডেট করার নিয়ম।
পোস্ট সূচীপত্রঃ অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম
- অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম
- এনআইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে
- অনলাইনে এনআইডি ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম
- এনআইডি ঠিকানা সংশোধনের ফি কত টাকা
- এনআইডি ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন কিভাবে দেখে
- স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য কি
- এনআইডি কার্ড সংশোধনে কতদিন সময় লাগে
- অনলাইনে এনআইডি সংশোধন আবেদন বাতিল হলে কি করবেন
- এনআইডি কার্ডে ঠিকানা সংশোধনের পরে কার্ড কিভাবে পাবেন
- লেখকের শেষ কথা
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করা জানার আগে প্রথমে বুঝতে হবে কেন এটি প্রয়োজন হয়।
মূলত আমরা যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থায়ীভাবে চলে যাই বা চাকরির কারণে
দীর্ঘদিন অন্য জেলায় বা বিভাগে থাকি তখন আমাদের বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন হয়।
এনআইডি কার্ডে সঠিক ঠিকানা থাকা জরুরি কারণ এটি আমাদের পরিচয়ের একটি
গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এবং আইনি কাজে সঠিক ঠিকানা প্রয়োজন
হয়।
অনলাইনে এনআইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র
অনলাইন ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এই ওয়েবসাইটটি হলো services.nidw.gov.bd যেখানে
এনআইডি সংক্রান্ত সকল অনলাইন সেবা পাওয়া যায়। এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর
আপনাকে একাউন্ট তৈরি করতে হবে যদি আগে থেকে একাউন্ট না থাকে। একাউন্ট তৈরি করতে
আপনার এনআইডি নাম্বার মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস প্রয়োজন হবে।
একাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে লগইন করে এনআইডি সংশোধনের অপশনে যেতে হবে। সেখানে বিভিন্ন
ধরনের সংশোধনের অপশন থাকবে যার মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তন একটি। ঠিকানা পরিবর্তন অপশন
এ গিয়ে আপনাকে নতুন ঠিকানার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। সবকিছু সঠিকভাবে পূরণ করার পর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে
আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর আপনার আবেদন যাচাই করা হবে এবং অনুমোদন হলে নতুন এনআইডি
কার্ড পাওয়া যাবে।
এনআইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম অনুসরণ করতে হলে সঠিক
কাগজপত্র থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এনআইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য কিছু
নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় যা আপনাকে স্কেন করে অনলাইনে আপলোড করতে হবে।
প্রথমত আপনার বর্তমান এনআইডি কার্ডের একটি স্পষ্ট কপি প্রয়োজন হবে। এনআইডি
কার্ডের সামনে ও পিছনে উভয় পাশের স্ক্যান কপি রাখুন যাতে সব তথ্য পরিষ্কার দেখা
যায়।
নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কিছু ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। যদি আপনি নিজের বাড়িতে
থাকেন তাহলে হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বা জমির দলিল জমা দিতে পারেন। যদি ভাড়া
বাড়িতে থাকেন তাহলে ভাড়া চুক্তিপত্র বা বাসার মালিকের এনআইডি কপি এবং একটি নো
অবজেকশন লেটার প্রয়োজন হতে পারে। ইউটিলিটি বিল যেমন বিদ্যুৎ বিল গ্যাস বিল বা
পানির বিল যেখানে আপনার নতুন ঠিকানা উল্লেখ আছে সেটিও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে
পারেন।
যদি চাকরির কারণে ঠিকানা পরিবর্তন করছেন তাহলে অফিস থেকে একটি সার্টিফিকেট নিতে
পারেন যেখানে উল্লেখ থাকবে যে আপনি সেই এলাকায় চাকরি করছেন এবং সেখানেই থাকছেন।
ওয়ার্ড কমিশনার বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে একটি সনদপত্র নিতে
পারেন যা আপনার নতুন ঠিকানা প্রমাণ করবে। এছাড়াও আপনার পাসপোর্ট ড্রাইভিং
লাইসেন্স বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট যেখানে নতুন ঠিকানা উল্লেখ আছে সেগুলোও সাপোর্টিং
ডকুমেন্ট হিসেবে জমা দিতে পারেন। সব ডকুমেন্ট পিডিএফ বা জেপিজি ফরম্যাটে স্ক্যান
করে রাখুন এবং ফাইল সাইজ যেন ২ এমবির মধ্যে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
অনলাইনে এনআইডি ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম অনুসরণ করে আপনি অনেক
সহজেই এনআইডির ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা
স্মার্টফোন থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজার ওপেন করুন এবং services.nidw.gov.bd
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটের হোমপেজে এনআইডি সংশোধন বা NID Correction
এর অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন এবং যদি আপনার একাউন্ট না থাকে তাহলে
প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করুন।
রেজিস্ট্রেশন করতে আপনার এনআইডি নাম্বার জন্ম তারিখ মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল
এড্রেস দিতে হবে। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন এবং মনে রাখুন।
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনার মোবাইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে সেটি দিয়ে
একাউন্ট অ্যাক্টিভেট করুন। এরপর আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন
করুন। লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে বিভিন্ন সেবার অপশন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে
এনআইডি তথ্য সংশোধন বা NID Information Correction এ ক্লিক করুন।
এরপর আপনি যে ধরনের সংশোধন করতে চান তা নির্বাচন করুন।
এনআইডি সংশোধনের বিভিন্ন ধরন আছে যেমন নাম সংশোধন জন্ম তারিখ সংশোধন ঠিকানা
পরিবর্তন ইত্যাদি। আপনি ঠিকানা পরিবর্তন নির্বাচন করুন। এরপর একটি ফর্ম আসবে
যেখানে আপনার বর্তমান তথ্য এবং নতুন তথ্য দিতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা না বর্তমান
ঠিকানা পরিবর্তন করবেন তা নির্বাচন করুন। নতুন ঠিকানার বিভাগ জেলা উপজেলা
ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড গ্রাম বা মহল্লা এবং হোল্ডিং নাম্বার সঠিকভাবে পূরণ করুন।
এরপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন এবং সবকিছু চেক করে নিশ্চিত হয়ে সাবমিট
বাটনে ক্লিক করুন।
এনআইডি ঠিকানা সংশোধনের ফি কত টাকা
এনআইডি কার্ডের তথ্য সংশোধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি আছে যা পরিবর্তন হতে
পারে। বর্তমানে সাধারণ সংশোধনের জন্য ফি ২৩০ টাকা যার মধ্যে ভ্যাট সহ। তবে
জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করতে চাইলে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। সাধারণ ১৫ থেকে ২০ দিন
সময় লাগে এবং জরুরি সেবায় ৫ থেকে ৭ দি সময় লাগে।
পেমেন্ট করার জন্য অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা হয়। আবেদন ফর্ম পূরণ
করার পর পেমেন্ট অপশনে যেতে হবে। সেখানে বিভিন্ন পেমেন্ট মেথড দেখতে পাবেন যেমন
মোবাইল ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং। আপনার
সুবিধামত যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নিন। মোবাইল ব্যাংকিং যেমন বিকাশ নগদ বা রকেট
ব্যবহার করলে আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে পিন কোড এন্ট্রি করে পেমেন্ট সম্পন্ন
করতে পারবেন।
পেমেন্ট সফল হলে একটি ট্রানজেকশন আইডি পাবেন যা অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখুন। এই
ট্রানজেকশন আইডি পরবর্তীতে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে এবং যেকোনো সমস্যা হলে
রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। পেমেন্ট করার পর আপনার রেজিস্টার্ড
মোবাইল নাম্বারে এবং ইমেইলে একটি কনফার্মেশন মেসেজ যাবে। সেখানে আপনার আবেদন
নাম্বার এবং ট্র্যাকিং নাম্বার থাকবে। এই নাম্বার গুলো সযত্নে রাখুন কারণ এগুলো
দিয়ে আপনি পরবর্তীতে আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন।
এনআইডি ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন কিভাবে দেখে
এনআইডি আপডেট করার নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন জমা দেওয়ার পরে এটি এটা দেখা
প্রয়োজন যে আপনার ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে কিনা। এই প্রক্রিয়া বোঝা জরুরি
যাতে আপনি জানতে পারেন আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে আছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর
প্রথমে অনলাইন সিস্টেম আপনার দেওয়া তথ্য এবং ডকুমেন্ট গুলো অটোমেটিক্যালি
যাচাই করে। যদি সব তথ্য সঠিক থাকে এবং ডকুমেন্ট গুলো পরিষ্কার হয় তাহলে
আবেদন পরবর্তী ধাপে যায়।
এরপর স্থানীয় নির্বাচন অফিসে আবেদন পাঠানো হয় যেখানে আপনার নতুন ঠিকানা
অবস্থিত। সেই অফিসের কর্মকর্তারা আপনার দেওয়া ডকুমেন্ট গুলো ম্যানুয়ালি
যাচাই করেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা ফিল্ড ভেরিফিকেশন করতে পারেন অর্থাৎ আপনার
দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে যাচাই করতে পারেন যে আপনি সত্যিই সেখানে থাকেন কিনা।
এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। যদি সব কিছু ঠিক
থাকে তাহলে স্থানীয় অফিস থেকে আবেদন অনুমোদন করা হয় এবং কেন্দ্রীয় অফিসে
পাঠানো হয়।
আরো পড়ুনঃ অনলাইনে ওমরাহ ভিসা আবেদন করার নিয়ম
কেন্দ্রীয় অফিস থেকে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং নতুন এনআইডি কার্ড প্রিন্ট করার
নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর নতুন কার্ড প্রিন্ট করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ে
আপনার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। যদি কোন সমস্যা পাওয়া যায় যেমন
ডকুমেন্ট পরিষ্কার না হওয়া বা তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন রিজেক্ট হতে পারে।
সেক্ষেত্রে আপনার মোবাইলে এবং ইমেইলে একটি বার্তা পাঠানো হয়ে থাকে। আপনি তখন
সমস্যা সমাধান করে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। আপনি যে কোন সময় অনলাইনে
আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য কি
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম জানার সময় স্থায়ী
ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানার পার্থক্য বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এনআইডি কার্ডে
দুই ধরনের ঠিকানা থাকে একটি স্থায়ী ঠিকানা এবং আরেকটি বর্তমান ঠিকানা।
স্থায়ী ঠিকানা হলো সেই ঠিকানা যেখানে আপনার পৈতৃক বাড়ি অবস্থিত বা যে
জায়গায় আপনার জন্ম হয়েছে এবং বড় হয়েছেন। এটি সাধারণত পরিবর্তন করা হয়
না কারণ এটি আপনার মূল পরিচয়ের সাথে জড়িত।
বর্তমান ঠিকানা হলো সেই ঠিকানা যেখানে আপনি বর্তমানে বসবাস করছেন। চাকরি
পড়াশোনা বা অন্য কোন কারণে আপনি যদি আপনার স্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে অন্য কোথাও
থাকেন তাহলে সেটি আপনার বর্তমান ঠিকানা। বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করা
তুলনামূলক সহজ এবং এর জন্য কম ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়। অনেকে চাকরির কারণে
ঢাকা বা অন্য শহরে থাকেন এবং তাদের বর্তমান ঠিকানা সেখানকার হয় কিন্তু
স্থায়ী ঠিকানা থাকে গ্রামের বাড়ি।
স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে হলে খুব বিশেষ কারণ দেখাতে হয় এবং বেশি
ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। যেমন আপনি যদি বিয়ে করে স্বামী বা স্ত্রীর বাড়িতে
স্থায়ীভাবে চলে যান তাহলে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারেন। এক্ষেত্রে
বিয়ের সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান
ঠিকানা পরিবর্তন করতে শুধু নতুন ঠিকানার প্রমাণ দিলেই হয় যেমন ভাড়া
চুক্তিপত্র বা অফিসের সার্টিফিকেট। তাই আবেদন করার আগে ভালো করে ভেবে নিন
আপনি কোন ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান এবং সেই অনুযায়ী ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন।
এনআইডি কার্ড সংশোধনে কতদিন সময় লাগে
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম অনুসরণ করার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে
যে কতদিন সময় লাগবে নতুন কার্ড পেতে। সাধারণত এনআইডি কার্ডের তথ্য সংশোধনে
১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে ছুটির দিন বাদে, তাই মোট সময় প্রায় এক মাস হতে
পারে। যদি জরুরি ভিত্তিতে নেন তাহলে ৫ থেকে ৭ দিন এর মধ্যেও কার্ড পেতে পারেন
তবে এর জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হয়।
আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করার জন্য নিয়মিত ওয়েবসাইটে লগইন করে দেখতে পারেন
আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে আছে। লগইন করার পর আমার আবেদন বা My Applications
অপশনে ক্লিক করলে সব আবেদনের তালিকা দেখতে পাবেন। প্রতিটি আবেদনের পাশে
স্ট্যাটাস লেখা থাকবে যেমন পেন্ডিং প্রসেসিং অ্যাপ্রুভড বা রিজেক্টেড। আবেদন
নাম্বারে ক্লিক করলে বিস্তারিত দেখতে পাবেন যে কোন পর্যায়ে আছে এবং কোন
সমস্যা আছে কিনা।
এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র অনলাইন সেবার ওয়েবসাইটে একটি ট্র্যাকিং সিস্টেম
আছে যেখানে আবেদন নাম্বার বা ট্র্যাকিং নাম্বার দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করা
যায়। মোবাইল অ্যাপ থাকলে সেখান থেকেও স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। নতুন কোন
আপডেট হলে আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নাম্বারে এসএমএস এবং ইমেইলে বার্তা
পাঠানো হয়। তাই নিয়মিত আপনার ফোন এবং ইমেইল চেক করুন। যদি নির্ধারিত সময়ের
পরেও কার্ড না পান বা কোন সমস্যা হয় তাহলে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে
পারেন বা হেল্পলাইন নাম্বারে কল করতে পারেন।
অনলাইনে এনআইডি সংশোধন আবেদন বাতিল হলে কি করবেন
কখনো কখনো ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করে ফেললে বা ভুল ডকুমেন্ট আপলোড করলে
আবেদন বাতিল করার প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর যদি পেমেন্ট
করার আগে ভুল ধরা পড়ে তাহলে সেই আবেদন ডিলিট করে নতুন আবেদন করতে পারবেন।
কিন্তু পেমেন্ট করার পর আবেদন বাতিল করা কঠিন এবং সেক্ষেত্রে নির্বাচন
অফিসে যোগাযোग করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম
যদি আবেদন রিজেক্ট হয় তাহলে আপনার মোবাইলে এবং ইমেইলে কারণ জানানো হবে।
সাধারণত ডকুমেন্ট পরিষ্কার না হওয়া তথ্যে গরমিল থাকা বা প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র না থাকলে আবেদন রিজেক্ট হয়। রিজেক্ট হওয়ার কারণ পড়ে সেই
অনুযায়ী সমস্যা সমাধান করুন এবং পুনরায় নতুন আবেদন করুন। নতুন আবেদনে
আগের ভুলগুলো সংশোধন করে সঠিক তথ্য এবং পরিষ্কার ডকুমেন্ট জমা দিন। কিছু
ক্ষেত্রে পুনরায় ফি দিতে হতে পারে তাই প্রথমবারই সব কিছু সঠিকভাবে করার
চেষ্টা করুন।
এনআইডি কার্ডে ঠিকানা সংশোধনের পরে কার্ড কিভাবে পাবেন
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম সম্পূর্ণ হওয়ার পর
আপনাকে নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর নতুন এনআইডি
কার্ড প্রিন্ট করা হয় এবং আপনার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। কার্ড
ডেলিভারির দুটি পদ্ধতি আছে একটি হলো নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করা এবং
অন্যটি হলো কুরিয়ারের মাধ্যমে বাসায় পাঠানো। আবেদন করার সময় আপনি কোন
পদ্ধতি চান সেটি উল্লেখ করতে হবে।
যদি অফিস থেকে সংগ্রহ করার অপশন নির্বাচন করেন তাহলে কার্ড রেডি হওয়ার পর
আপনার মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হবে। এসএমএসে উল্লেখ থাকবে কোন অফিস থেকে এবং
কখন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে আপনার মূল এনআইডি কার্ড এবং
একটি ফটোকপি সাথে নিয়ে নির্বাচন অফিসে যান। সেখানে আপনার পরিচয় যাচাই করা
হবে এবং নতুন কার্ড হাতে দেওয়া হবে। কার্ড পাওয়ার সময় ভালো করে চেক করে
নিন যে সব তথ্য সঠিক আছে কিনা বিশেষ করে নতুন ঠিকানা।
যদি কুরিয়ারের মাধ্যমে ডেলিভারি নির্বাচন করেন তাহলে আপনার দেওয়া
ঠিকানায় কার্ড পাঠানো হবে। কুরিয়ার কোম্পানি থেকে আগে ফোন করে আপনার সাথে
যোগাযোग করবে। কার্ড ডেলিভারি নেওয়ার সময় আপনার পরিচয় প্রমাণ করতে হবে
এবং একটি রিসিভিং স্লিপে স্বাক্ষর করতে হবে। এই পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ডেলিভারি
চার্জ লাগতে পারে। নতুন কার্ড পাওয়ার পর পুরনো কার্ড বাতিল হয়ে যায় তাই
পুরনো কার্ড নষ্ট করে ফেলুন বা নিরাপদ স্থানে রাখুন যাতে কেউ অপব্যবহার
করতে না পারে।
লেখকের শেষ কথা
এনআইডি কার্ডে সঠিক ঠিকানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আপনার
পরিচয়ের একটি আইনি দলিল। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি এবং আইনি কাজে সঠিক
ঠিকানা প্রয়োজন হয়। তাই যখনই আপনার ঠিকানা পরিবর্তন হয় তখনই এনআইডি
কার্ডে সেটি আপডেট করে নেওয়া উচিত। আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ
করুন এবং পরিষ্কার ডকুমেন্ট আপলোড করুন যাতে আবেদন রিজেক্ট না হয়। যদি কোন
সমস্যা হয় তাহলে ধৈর্য ধরে সমাধান করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনে
নির্বাচন অফিস বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি
সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও
জানতে পারে অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করে এনআইডি আপডেট করার নিয়ম,
এনআইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে, অনলাইনে
এনআইডি ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম, এনআইডি ঠিকানা সংশোধনের ফি কত
টাকা, এনআইডি ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন কিভাবে দেখে, স্থায়ী ঠিকানা ও
বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য কি, এনআইডি কার্ড সংশোধনে কতদিন
সময় লাগে, অনলাইনে এনআইডি সংশোধন আবেদন বাতিল হলে কি করবেন, এনআইডি কার্ডে
ঠিকানা সংশোধনের পরে কার্ড কিভাবে পাবেন ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url