কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে | বাচ্চাদের রুচি বাড়ানোর উপায়
আলুর রস মুখে মাখলে কি ফর্সা হওয়া যায়
কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে এই প্রশ্নটি আমাদের মনে প্রায়ই আসে বিশেষ করে যখন
আমাদের বাচ্চারা খাবারে অরুচিতে ভোগে, তবে সঠিক ভিটামিন খাবার ফলে রুচি বাড়ানো
সম্ভব।
ভিটামিনের ঘাটতি হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় যার মধ্যে খাবারে
অরুচি অন্যতম। এজন্য আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কোন ভিটামিনের অভাবে অরুচি হয় এবং
বাচ্চাদের রুচি বাড়ানোর উপায় নিয়ে থাকছে বিস্তারিত তথ্য।
পোস্ট সূচীপত্রঃ কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে | বাচ্চাদের রুচি বাড়ানোর উপায়
- কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে
- বাচ্চাদের খাবারে অরুচির প্রধান কারণগুলো কি কি
- ভিটামিন বি কীভাবে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে
- জিংক এর ঘাটতি হলে কি খাবারে অরুচি হয়
- বাচ্চাদের খাবারে রুচি বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়
- কোন খাবারে প্রাকৃতিকভাবে রুচি বাড়ানোর ভিটামিন পাওয়া যায়
- বাচ্চাদের জন্য রুচি বাড়ানোর সিরাপ ও ওষুধ কখন দরকার
- রুচি না থাকলে কি ধরনের খাবার খাওয়ানো উচিত
- বাচ্চাদের খাবারের রুটিন ও পরিবেশ কীভাবে তৈরি করবেন
- লেখকের শেষ কথা
কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে
কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে প্রথমে আমাদের বুঝতে
হবে যে রুচি কমে যাওয়ার সাথে ভিটামিনের সম্পর্ক কী। মূলত আমাদের শরীরে বিভিন্ন
ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি হলে খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিটামিন বি বিশেষ করে ভিটামিন বি১ বি৬ এবং বি১২। এই ভিটামিনগুলো
আমাদের হজম শক্তি বাড়ায় এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে।
ভিটামিন বি১ যা থায়ামিন নামেও পরিচিত এটি আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট হজম করতে
সাহায্য করে। যখন এই ভিটামিনের ঘাটতি হয় তখন হজম প্রক্রিয়া কমে যায় এবং খাবারে
রুচি কমে যায়। আর ভিটামিন বি৬ প্রোটিন আমাদের বিপাক ক্রিয়ায় ভালো রাখতে
সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে যা খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে
সাহায্য করে। ভিটামিন বি১২ রক্তে লোহিত কণিকা তৈরি করে এবং শক্তি উৎপাদনে সাহায্য
করে।
এছাড়াও ভিটামিন সি রুচি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। যখন শরীর সুস্থ থাকে তখন
স্বাভাবিকভাবেই খাবারে রুচি থাকে। ভিটামিন ডি এর ঘাটতিও খাবারে অরুচির একটি কারণ
হতে পারে। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং হাড় মজবুত রাখে। জিংক
একটি গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা স্বাদ এবং গন্ধের অনুভূতি ঠিক রাখে এবং এর ঘাটতিতে
খাবারে রুচি কমে যায়।
বাচ্চাদের খাবারে অরুচির প্রধান কারণগুলো কি কি
বাচ্চাদের রুচি বাড়ানোর উপায় জানার আগে আমাদের জানতে হবে বাচ্চাদের খাবারে
অরুচির কারণগুলো কী কী। বাচ্চাদের খাবারে অরুচির অনেক কারণ রয়েছে যার মধ্যে
ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি অন্যতম। তবে এছাড়াও আরো অনেক কারণ রয়েছে যা খাবারে
অরুচি সৃষ্টি করে। বাচ্চাদের যদি কোন শারীরিক অসুস্থতা থাকে যেমন জ্বর সর্দি কাশি
বা পেটের সমস্যা তাহলে তাদের খাবারে রুচি কমে যায়।
অনেক সময় বাচ্চারা একই ধরনের খাবার বারবার খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যায় এবং
খাবারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। খাবারের ভিন্নতার অভাব খাবারে অরুচির একটি বড় কারণ
হতে পারে। বাচ্চারা যদি অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড চকলেট বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খায়
তাহলে তাদের মূল খাবারে রুচি থাকে না। অতিরিক্ত টিভি দেখা বা মোবাইল ফোনে গেম
খেলার সময় খাবার খাওয়ানোও একটি কারণ।
মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা বাচ্চাদের খাবারে অরুচি সৃষ্টি করতে পারে। স্কুলে বা
বাড়িতে কোন সমস্যা থাকলে বাচ্চারা খাবার কম খায়। অনিয়মিত খাবারের সময় এবং
ঘুমের অভাবও রুচি কমিয়ে দেয়। বাচ্চাদের যদি পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম বা
খেলাধুলার সুযোগ না থাকে তাহলেও তাদের ক্ষুধা কম লাগে। কৃমির সংক্রমণ বাচ্চাদের
খাবারে অরুচির একটি সাধারণ কারণ হতে পারে। এছাড়া হজমে সমস্যা কোষ্ঠকাঠিন্য বা
পেটে ব্যথা থাকলেও বাচ্চারা খাবার এড়িয়ে যায়।
ভিটামিন বি কীভাবে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে
ভিটামিন বি আসলে আটটি ভিন্ন ভিটামিনের একটি গ্রুপ যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজে
সাহায্য করে এবং খাবারে রুচি বাড়াতে বিশেষভাবে কাজ করে। ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন
খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। যখন শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় তখন
বিপাক ক্রিয়া ভালো হয় এবং খাবারে রুচি বাড়ে। কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে
এটি জানার মাধ্যমে আমারা অনেক সহজেই খাবারে রুচি বাড়াতে পারবো।
ভিটামিন বি২ আমাদের হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজম
ভালো হলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় এবং পেট ভালো থাকে যার ফলে খাবারে রুচি থাকে।
ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন পাচক রস তৈরিতে সাহায্য করে যা খাবার হজমের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে হজমে সমস্যা হয় এবং খাবারে অরুচি দেখা
দেয়।
ভিটামিন বি৬ এবং অ্যামিনো এসিড আমাদের বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং
মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে যা মন ভালো রাখে। মন ভালো থাকলে খাবারে
আগ্রহ বাড়ে। ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি করে এবং রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ
করে। রক্তশূন্যতা হলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি আসে যার ফলে খাবারে রুচি থাকে না। ফলিক
এসিড বা ভিটামিন বি৯ কোষ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। এভাবে
ভিটামিন বি এর প্রতিটি উপাদান আমাদের আলাদা আলাদা ভাবে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।
জিংক এর ঘাটতি হলে কি খাবারে অরুচি হয়
জিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা আমাদের শরীরের বহু কাজে প্রয়োজন হয়
এবং খাবারে রুচির সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। জিংক আমাদের স্বাদ ও গন্ধ অনুভব
করার ক্ষমতা ঠিক রাখে। যখন জিংকের ঘাটতি হয় তখন জিহ্বায় স্বাদের কোষগুলো
সঠিকভাবে কাজ করে না এবং খাবারের স্বাদ ঠিকমতো বোঝা যায় না। এর ফলে খাবারে আগ্রহ
কমে যায় এবং অরুচি দেখা দেয়।
জিংক হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পাচক এনজাইম তৈরিতে
সাহায্য করে। যখন জিংক কম থাকে তখন হজমে সমস্যা হয় এবং পেটে অস্বস্তি হয় যার
কারণে বাচ্চারা খাবার এড়িয়ে চলে। জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে
সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। যখন বাচ্চারা বারবার অসুস্থ হয় তখন তাদের খাবারে রুচি
থাকে না। জিংক পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে এবং
বাচ্চারা সুস্থ থাকে।
জিংকের ঘাটতির লক্ষণগুলো হলো খাবারে অরুচি ওজন না বাড়া ঘন ঘন সংক্রমণ চুল পড়া
এবং ত্বকের সমস্যা। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জিংকের ঘাটতি হলে তাদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়
এবং শারীরিক বিকাশ ধীর হয়ে যায়। জিংক সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাংস মাছ ডিম বাদাম শিম
এবং দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ালে জিংকের ঘাটতি পূরণ হয়। তবে মনে রাখতে হবে যে জিংক
সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
বাচ্চাদের খাবারে রুচি বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়
বাচ্চাদের রুচি বাড়ানোর উপায় নিয়ে অনেক অভিভাবক চিন্তিত থাকেন এবং ঘরোয়া
পদ্ধতিতে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। ঘরোয়া উপায়ে বাচ্চাদের রুচি বাড়ানো
সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কার্যকর। প্রথমেই বাচ্চাদের খাবারে ভিন্নতা আনতে হবে।
প্রতিদিন একই ধরনের খাবার না দিয়ে বিভিন্ন রকমের খাবার দিন যাতে বাচ্চারা নতুন
স্বাদ পায় এবং খাবারে আগ্রহী হয়।
আদা একটি চমৎকার প্রাকৃতিক উপাদান যা হজম শক্তি বাড়ায় এবং রুচি বৃদ্ধি করে।
সামান্য আদার রস মধুর সাথে মিশিয়ে খাবারের আগে দিলে খাবারে রুচি বাড়ে। লেবুর রস
হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং খাবারের স্বাদ বাড়ায়। এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস
মিশিয়ে খাবারের আগে দিতে পারেন। এর পাশাপাশি পুদিনা পাতা বাচ্চাদের রুচি বাড়াতে
অত্যন্ত কার্যকর। পুদিনা পাতার রস বা পুদিনার চাটনি দিয়ে খাবার খাওয়ালে ভালো
ফলাফল পাওয়া যায়।
খাবারের উপস্থাপনা আকর্ষণীয় করলেও বাচ্চাদের খাবারের রুচি বাড়তে পারে। যেমন
রঙিন সবজি এবং ফল দিয়ে খাবার সাজালে বাচ্চারা খেতে আগ্রহী হয়। খাবারকে বিভিন্ন
আকৃতিতে পরিবেশন করতে পারেন যেমন প্রাণীর আকৃতি বা কার্টুন চরিত্রের আকৃতি।
বাচ্চাদের খেলাধুলা এবং শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ দিন। যখন বাচ্চারা খেলাধুলা করে
তখন তাদের শক্তি ব্যয় হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুধা লাগে। নিয়মিত ঘুমের সময়
মেনে চলা জরুরি কারণ পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং খাবারে
রুচি কমে যায়।
কোন খাবারে প্রাকৃতিকভাবে রুচি বাড়ানোর ভিটামিন পাওয়া যায়
কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে তা জানার পাশাপাশি কোন খাবারে এই ভিটামিনগুলো পাওয়া
যায় সেটাও জানা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক খাবার থেকে ভিটামিন পাওয়া সবসময় ভালো
এবং নিরাপদ। ভিটামিন বি১ পাওয়া যায় ভাত রুটি ওটস বাদাম শুকনো ফল এবং শিমে। এই
খাবারগুলো বাচ্চাদের খাবারের তালিকায় নিয়মিত রাখলে ভিটামিন বি১ এর ঘাটতি হয় না
এবং হজম শক্তি ভালো থাকে।
ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায় মুরগির মাংস মাছ ডিম কলা এবং আলুতে। এই খাবারগুলো
বাচ্চাদের জন্য পুষ্টিকর। ভিটামিন বি১২ প্রধানত প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায় যেমন
মাংস মাছ দুধ দই এবং পনিরে। নিরামিষাশী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ফরটিফাইড খাবার যেমন
ফরটিফাইড সিরিয়াল খাওয়ানো যেতে পারে। এর পাশাপাশি ফলিক এসিড পাওয়া যায় সবুজ
শাকসবজি ডাল মটরশুঁটি এবং কমলালেবুতে।
ভিটামিন সি পাওয়া যায় লেবু কমলা আমলকী টমেটো এবং পেয়ারায়। এই ফলগুলো বাচ্চারা
সাধারণত পছন্দ করে এবং সহজেই খায়। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় মাছের তেল ডিমের কুসুম
এবং ফরটিফাইড দুধে। এছাড়া সূর্যের আলোতে খেলাধুলা করলে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি
হয়। জিংক পাওয়া যায় লাল মাংস মাছ ডাল বাদাম কুমড়োর বীজ এবং দুগ্ধজাত খাবারে।
এই খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ালে বাচ্চাদের সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় এবং
খাবারে রুচি বাড়ে।
বাচ্চাদের জন্য রুচি বাড়ানোর সিরাপ ও ওষুধ কখন দরকার
বাচ্চাদের রুচি বাড়ানোর উপায় হিসেবে অনেক সময় ওষুধ বা সিরাপের প্রয়োজন হয়।
তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে ওষুধ সবসময় শেষ সমাধান হওয়া উচিত এবং ডাক্তারের
পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। যখন ঘরোয়া উপায়ে এবং খাবারের মাধ্যমে
বাচ্চার রুচি বাড়ানো সম্ভব হয় না তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ দেওয়া যেতে
পারে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের রুচি বাড়ানোর সিরাপ পাওয়া যায় যেগুলোতে সাধারণত ভিটামিন
বি জিংক এবং লাইসিন থাকে। লাইসিন একটি অ্যামিনো এসিড যা বৃদ্ধি ও রুচি বাড়াতে
সাহায্য করে। যদি বাচ্চা দীর্ঘদিন ধরে খাবারে অরুচিতে ভোগে এবং ওজন না বাড়ে
তাহলে ডাক্তার এই ধরনের সিরাপ দিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে যে এই সিরাপগুলো
শুধুমাত্র সাময়িক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
করতে হবে।
রুচি না থাকলে কি ধরনের খাবার খাওয়ানো উচিত
কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে তা জানার পাশাপাশি রুচি না থাকলে কি ধরনের খাবার
খাওয়ানো উচিত সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যখন বাচ্চার রুচি কম থাকে তখন হালকা ধরনের
খাবার খাওয়ানো উচিত। ভারী ও তেল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এগুলো
হজম হতে সময় লাগে এবং পেট ভারী করে দেয়। এ সময় আপনার বাচ্চার জন্য সবজির স্যুপ
খুবই পুষ্টিকর এবং সহজে খাওয়ানো যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে
স্বাস্থ্যকর স্যুপ তৈরি করে দিতে পারেন।
ফলের রস বিশেষ করে তাজা ফলের রস বাচ্চাদের শক্তি দেয় এবং ভিটামিন সরবরাহ করে।
তবে বাজারের প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলুন কারণ এতে চিনি ও প্রিজারভেটিভ থাকে। ঘরে
তৈরি তাজা ফলের রস দিন। দই খুবই উপকারী খাবার যা হজম শক্তি বাড়ায় এবং পেটকে
ঠান্ডা রাখে। দইয়ে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
মধু দিয়ে দই বা ফলের সাথে দই মিশিয়ে দিতে পারেন।
ডিম একটি সম্পূর্ণ খাবার যাতে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন রয়েছে। সিদ্ধ ডিম বা
অমলেট করে খাওয়াতে পারেন। কলা খুবই পুষ্টিকর ফল যা সহজে হজম হয় এবং শক্তি দেয়।
কলার শেক বা কলা দিয়ে স্মুদি তৈরি করে দিতে পারেন। খিচুড়ি একটি আদর্শ খাবার যা
হালকা ও পুষ্টিকর। সবজি দিয়ে খিচুড়ি করে খাওয়ালে বাচ্চারা সহজেই হজম করতে
পারে। ছোট ছোট অংশে বারবার খাবার দিন বড় পরিমাণে একবারে খাওয়ানোর চেষ্টা না
করে।
বাচ্চাদের খাবারের রুটিন ও পরিবেশ কীভাবে তৈরি করবেন
বাচ্চাদের রুচি বাড়ানোর উপায় হিসেবে সঠিক খাবারের রুটিন ও পরিবেশ তৈরি করা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খাবারের সময় মেনে চলা জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে
খাবার দিলে বাচ্চার শরীর সেই সময়ে খাবারের জন্য প্রস্তুত হয় এবং ক্ষুধা লাগে।
সকালের নাশতা দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়ার চেষ্টা
করুন। এর মাঝে দুটি স্বাস্থ্যকর নাস্তা দিতে পারেন।
বাচ্চাদের খাবার সাথে বাজার করতে যান এবং তাদের পছন্দের সবজি বা ফল বাছাই করতে
দিন। রান্নার সময় তাদের সাহায্য নিন সহজ কাজগুলোতে। এতে খাবারের প্রতি তাদের
আগ্রহ বাড়ে। খাবারের থালা ও বাটি রঙিন ও আকর্ষণীয় হলে বাচ্চারা খেতে বেশি
আগ্রহী হয়। বাচ্চাদের প্রিয় কার্টুন চরিত্রের থালা ব্যবহার করতে পারেন।
লেখকের শেষ কথা
ঘরোয়া উপায়ে বাচ্চাদের রুচি বাড়ানো যায় যেমন খাবারে বৈচিত্র্য আনা আদা লেবু
পুদিনা ব্যবহার করা এবং খাবারের উপস্থাপনা আকর্ষণীয় করা। নিয়মিত খাবারের রুটিন
মেনে চলা এবং খাবারের পরিবেশ আরামদায়ক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের
খেলাধুলার সুযোগ দিন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন যে প্রতিটি
বাচ্চা আলাদা এবং প্রতিটি বাচ্চার জন্য আলাদা আলাদা পদ্ধতি কার্যকর হতে
পারে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে কোন ভিটামিন খেলে রুচি বাড়ে, বাচ্চাদের খাবারে অরুচির প্রধান কারণগুলো
কি কি, ভিটামিন বি কীভাবে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে, জিংক এর ঘাটতি হলে কি খাবারে
অরুচি হয়, বাচ্চাদের খাবারে রুচি বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়, কোন খাবারে
প্রাকৃতিকভাবে রুচি বাড়ানোর ভিটামিন পাওয়া যায়, বাচ্চাদের জন্য রুচি বাড়ানোর
সিরাপ ও ওষুধ কখন দরকার, রুচি না থাকলে কি ধরনের খাবার খাওয়ানো উচিত, বাচ্চাদের
খাবারের রুটিন ও পরিবেশ কীভাবে তৈরি করবেন ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url