ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো
বিদেশে না গিয়ে দেশে কীভাবে ভালো আয় করা যায়
ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো এই প্রশ্নটি যারা
অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে চান তাদের প্রায় সবার মাথায়ই আসে।
আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য কোন
প্ল্যাটফর্মগুলো সবচেয়ে ভালো, কোনটির কী সুবিধা ও অসুবিধা এবং বাংলাদেশ থেকে
ড্রপশিপিং শুরু করতে হলে কোন পথটি সেরা।
পেজ সূচিপত্রঃ ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো
- ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো
- Shopify কি ড্রপশিপিং শুরু করার জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম
- WooCommerce দিয়ে ড্রপশিপিং ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন
- AliExpress কি ড্রপশিপিং সরবরাহকারী হিসেবে ভালো
- Amazon এবং eBay তে ড্রপশিপিং করা কতটা লাভজনক
- Wix এবং BigCommerce কি Shopify এর বিকল্প হতে পারে
- বাংলাদেশ থেকে ড্রপশিপিং করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম সবচেয়ে উপযুক্ত
- ড্রপশিপিংয়ে সফল হতে সরবরাহকারী বাছাইয়ে কী দেখবেন
- ড্রপশিপিং ব্যবসায় সাধারণ ভুলগুলো এড়ানোর উপায়
- লেখকের শেষ কথা
ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো
ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য প্ল্যাটফর্ম বলতে মূলত দুটো জিনিস বোঝায়। প্রথমটি হলো
ই-কমার্স স্টোর প্ল্যাটফর্ম অর্থাৎ যেখানে আপনার অনলাইন দোকান তৈরি করবেন এবং
ক্রেতারা সেখান থেকে পণ্য কিনবেন। দ্বিতীয়টি হলো সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম অর্থাৎ
যেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে আপনার ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হবে। একটি সফল ড্রপশিপিং
ব্যবসা তৈরি করতে হলে এই দুটো ক্ষেত্রেই সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া অপরিহার্য
কারণ একটিতে ভুল করলে পুরো ব্যবসায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশ্বে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-কমার্স স্টোর প্ল্যাটফর্মগুলো হলো
Shopify, WooCommerce, Wix, BigCommerce এবং Squarespace আর সরবরাহকারী
প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে AliExpress, CJ Dropshipping, Spocket এবং SaleHoo
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ড্রপশিপিং প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার সময় কয়েকটি
বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত প্ল্যাটফর্মের মূল্য অর্থাৎ প্রতি মাসে কত টাকা
সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে সেটা বিবেচনা করতে হবে কারণ শুরুতে যত কম খরচে ব্যবসা
চালু করা যায় ততই ভালো।
দ্বিতীয়ত প্ল্যাটফর্মে ড্রপশিপিং সফটওয়্যারের সাথে ইন্টিগ্রেশন কতটা সহজ সেটা
দেখতে হবে কারণ অর্ডার প্রসেসিং স্বয়ংক্রিয় না হলে প্রতিটি অর্ডার ম্যানুয়ালি
পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় ও শ্রম নষ্ট হয়। তৃতীয়ত পেমেন্ট গেটওয়ে সাপোর্ট
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত বাংলাদেশ থেকে পরিচালনা করলে কারণ সব প্ল্যাটফর্ম
বাংলাদেশি পেমেন্ট পদ্ধতি সমর্থন করে না।
ড্রপশিপিংয়ে নতুন হলে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়ে শুরু করা উচিত যেটি ব্যবহার
করা সহজ এবং যেখানে প্রচুর শেখার রিসোর্স পাওয়া যায়। কারণ ব্যবসার শুরুতে অনেক
কিছু বুঝতে না পারলে যদি সহজে সাহায্য পাওয়া না যায় তাহলে হতাশ হয়ে অনেকেই
ছেড়ে দেন। এই কারণে Shopify বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি নতুন ড্রপশিপারদের পছন্দ
কারণ এটি সবচেয়ে সহজ এবং এর কমিউনিটি সাপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী।
Shopify কি ড্রপশিপিং শুরু করার জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম
Shopify কে ড্রপশিপিং জগতের রাজা বলা হলেও অতিরিক্ত বলা হয় না কারণ বিশ্বের
সবচেয়ে বেশি ড্রপশিপিং স্টোর এই প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হয়। Shopify ব্যবহার করা
এতটাই সহজ যে কোনো প্রোগ্রামিং বা কোডিং জ্ঞান ছাড়াই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে
একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন স্টোর তৈরি করা সম্ভব। Shopify তে DSers, AutoDS এবং
Oberlo এর মতো বিখ্যাত ড্রপশিপিং অ্যাপগুলো সহজেই সংযুক্ত করা যায় যা AliExpress
থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্য আমদানি করে এবং অর্ডার প্রসেস করে।
এই অটোমেশন সুবিধার কারণে একজন ড্রপশিপার একসাথে অনেক অর্ডার সামলাতে পারেন এবং
ব্যবসা দ্রুত স্কেল করা সম্ভব হয়। Shopify এর মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি শুরু হয়
প্রতি মাসে ২৯ মার্কিন ডলার থেকে এবং এর সাথে প্রতিটি লেনদেনে ট্রানজেকশন ফি
যুক্ত হয়। তবে এই খরচের বিপরীতে যা পাওয়া যায় সেটা অনেক বেশি মূল্যবান কারণ
Shopify তে বিল্ট-ইন এসইও টুলস, বিস্তারিত অ্যানালিটিক্স, ৭০টিরও বেশি পেমেন্ট
গেটওয়ে সাপোর্ট এবং হাজারো থিম ও অ্যাপ পাওয়া যায়।
এছাড়াও Shopify এর ২৪ ঘণ্টা কাস্টমার সাপোর্ট এবং বিশাল অনলাইন কমিউনিটি নতুন
উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক সহায়ক। Shopify এর একটি বড় সুবিধা হলো এটি মোবাইল থেকেও
সম্পূর্ণরূপে পরিচালনা করা যায় যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
তবে Shopify এর মূল সমস্যা হলো বাংলাদেশে Shopify Payments সরাসরি সাপোর্টেড নয়
তাই পেমেন্ট নেওয়ার জন্য তৃতীয় পক্ষের পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করতে হয় এবং
এতে ট্রানজেকশন ফি সামান্য বেশি হয়। তারপরও সামগ্রিকভাবে ড্রপশিপিং শুরুর জন্য
Shopify এখনো বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম।
WooCommerce দিয়ে ড্রপশিপিং ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন
WooCommerce হলো WordPress এর উপর নির্মিত একটি বিনামূল্যের ই-কমার্স প্লাগিন যা
ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিকল্প। WooCommerce ব্যবহার করতে
হলে প্রথমে একটি হোস্টিং সার্ভার ও ডোমেইন কিনতে হবে এবং তারপর WordPress ইনস্টল
করে WooCommerce যুক্ত করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি Shopify এর চেয়ে কিছুটা
জটিল তবে একবার সেটআপ হয়ে গেলে WooCommerce এ মাসিক কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি নেই
এবং ট্রানজেকশন ফিও অনেক কম থাকে যা দীর্ঘমেয়াদে অনেক সাশ্রয়ী হয়।
আরো পড়ুনঃ
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার উপায়
বাংলাদেশের ড্রপশিপাররা বিশেষত যারা বাজেট সচেতন তাদের মধ্যে WooCommerce
ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। WooCommerce এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সম্পূর্ণ
কাস্টমাইজযোগ্য এবং আপনি ঠিক যেভাবে চান সেভাবে স্টোর সাজাতে পারবেন।
AliDropship, WooDropship এবং Spocket এর মতো ড্রপশিপিং প্লাগিন ব্যবহার করে
WooCommerce কে সম্পূর্ণ ড্রপশিপিং স্টোরে পরিণত করা যায়। হাজার হাজার
বিনামূল্যের এবং প্রিমিয়াম থিম থাকায় স্টোরের ডিজাইন যথেষ্ট আকর্ষণীয় করা
সম্ভব এবং SEO এর দিক থেকেও WooCommerce অত্যন্ত শক্তিশালী কারণ WordPress মূলত
কনটেন্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য তৈরি এবং সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র্যাংক পাওয়ার জন্য
এটি অত্যন্ত কার্যকর।
WooCommerce এর প্রধান অসুবিধা হলো প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়া শুরু করা কঠিন এবং
সার্ভার ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব আপনার নিজেকেই নিতে হয়। ওয়েবসাইট স্লো হয়ে
গেলে বা নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দিলে সেটা সমাধান করার দায়িত্বও আপনার। তবে ভালো
মানের হোস্টিং যেমন SiteGround বা Bluehost ব্যবহার করলে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই
কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে WooCommerce অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য
একটি বিকল্প হয়ে ওঠে। আপনি যদি ড্রপশিপিং করে সফল হতে চান তাহলে জানা
প্রয়োজন ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো।
AliExpress কি ড্রপশিপিং সরবরাহকারী হিসেবে ভালো
AliExpress হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রপশিপিং সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম এবং
ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করতে চাওয়া প্রায় সবাই প্রথমে এই প্ল্যাটফর্মটির নামই
শোনেন। চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট Alibaba Group এর মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মে
কোটি কোটি পণ্য পাওয়া যায় এবং বেশিরভাগ সরবরাহকারীই ড্রপশিপিং এর সাথে পরিচিত
তাই তারা আলাদা আলাদা প্যাকেজিংয়ে সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠাতে রাজি থাকেন।
AliExpress এ পণ্যের দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় মার্কআপ করে বিক্রির সুযোগ অনেক বেশি
এবং নির্দিষ্ট কোনো নিবন্ধন বা অনুমোদন ছাড়াই যে কেউ সরাসরি পণ্য অর্ডার করতে
পারেন।
AliExpress এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো পণ্যের বিশাল বৈচিত্র্য যেখানে
ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে পোশাক, গহনা, গৃহসজ্জা, ক্রীড়া সরঞ্জাম থেকে শিশুদের
খেলনা পর্যন্ত সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। Shopify এর DSers অ্যাপ ব্যবহার করলে
AliExpress থেকে মাত্র কয়েক ক্লিকে শত শত পণ্য আমদানি করে দোকানে সাজানো যায়
এবং অর্ডার আসলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসেস হয়। এই অটোমেশন ড্রপশিপারদের জন্য অনেক
সময় ও পরিশ্রম বাঁচায় এবং একসাথে অনেক পণ্য নিয়ে কাজ করা সহজ হয়।
তবে AliExpress এর কিছু উল্লেখযোগ্য সমস্যাও আছে যা অনেক ড্রপশিপারকে হতাশ করে।
প্রধান সমস্যা হলো শিপিং সময় অনেক বেশি, সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত লেগে
যেতে পারে যা পশ্চিমা ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। পণ্যের মান অনেক
সরবরাহকারীর মধ্যে আলাদা আলাদা হওয়ায় বিশ্বস্ত সরবরাহকারী খুঁজে পাওয়া একটু
কষ্টসাধ্য। তাই AliExpress ব্যবহার করার সময় রিভিউ ভালোভাবে দেখে, নমুনা অর্ডার
করে এবং শিপিং সময় কম এমন সরবরাহকারী বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
Amazon এবং eBay তে ড্রপশিপিং করা কতটা লাভজনক
Amazon এবং eBay হলো বিশ্বের দুটি সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস এবং অনেকেই নিজস্ব
ওয়েবসাইট তৈরি না করে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ড্রপশিপিং করতে চান। Amazon এ
ড্রপশিপিং করা নীতিগতভাবে অনুমোদিত তবে এখানে কিছু কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়।
পণ্যের প্যাকেজিং এবং ইনভয়েসে সরবরাহকারীর নাম না থেকে আপনার বা আপনার স্টোরের
নাম থাকতে হবে, সমস্ত রিটার্ন এবং অভিযোগ আপনাকেই সামলাতে হবে এবং সরবরাহকারীর
কাছ থেকে পাওয়া পণ্য সরাসরি ক্রেতাকে পাঠানো যাবে। Amazon এ বিক্রি করতে পারলে
বিশাল গ্রাহক বেসের সুবিধা পাওয়া যায় তবে প্রতিযোগিতাও অত্যন্ত বেশি।
eBay তে ড্রপশিপিং বেশ জনপ্রিয় বিশেষত আলিবাবা বা AliExpress থেকে পণ্য কিনে
eBay তে বেশি দামে বিক্রি করার কৌশলটি অনেকে ব্যবহার করেন। eBay তে ড্রপশিপিং
করতে হলে সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং তালিকাভুক্তি ফি ও বিক্রয় কমিশন দিতে
হবে। eBay এর সুবিধা হলো এখানে ক্রেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি এবং
নিলাম পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকায় কিছু পণ্যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দামে
বিক্রি সম্ভব হয়।
তবে Amazon ও eBay তে ড্রপশিপিং এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই প্ল্যাটফর্মগুলো
যেকোনো সময় আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং তখন আপনার পুরো
ব্যবসা থেমে যায়। নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে এই ঝুঁকি থাকে না। তাই দীর্ঘমেয়াদী
স্থিতিশীল ড্রপশিপিং ব্যবসা গড়ে তুলতে চাইলে নিজস্ব Shopify বা WooCommerce
স্টোর থাকাটা সবসময়ই বেশি নিরাপদ এবং লাভজনক। এই জন্য আপনাকে জানতে
হবে ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো।
Wix এবং BigCommerce কি Shopify এর বিকল্প হতে পারে
Wix এবং BigCommerce হলো Shopify এর দুটি জনপ্রিয় বিকল্প যা ড্রপশিপিং ব্যবসার
জন্য ব্যবহার করা যায়। Wix মূলত ওয়েবসাইট বিল্ডার হিসেবে শুরু হলেও এখন এতে
ই-কমার্স এবং ড্রপশিপিং সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। Wix এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর
ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ ইন্টারফেস অত্যন্ত সহজ এবং যেকোনো ব্যক্তি কোনো প্রযুক্তিগত
জ্ঞান ছাড়াই সুন্দর স্টোর তৈরি করতে পারেন। Wix এ Modalyst নামের একটি ড্রপশিপিং
অ্যাপ ইন্টিগ্রেট করা যায় যা দিয়ে AliExpress এবং অন্যান্য সরবরাহকারীর পণ্য
সহজে আমদানি করা সম্ভব।
BigCommerce মূলত বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি তবে ড্রপশিপিং ব্যবসার জন্যও
এটি বেশ উপযুক্ত। BigCommerce এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে ট্রানজেকশন ফি নেই
যা Shopify এর তুলনায় বড় সুবিধা। বিক্রয় বাড়লে প্রতিটি লেনদেনে অতিরিক্ত ফি
না দেওয়ায় মুনাফা অনেক বেশি থাকে। BigCommerce এ বিল্ট-ইন SEO টুলস অনেক
শক্তিশালী এবং বিভিন্ন ড্রপশিপিং অ্যাপের সাথে ইন্টিগ্রেশনও সহজ। ড্রপশিপিং
ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো জানা থাকলে অনেক
সহজেই ড্রপশিপিং করতে পারবেন।
তবে Wix এবং BigCommerce উভয়েরই কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। Wix এ ড্রপশিপিং
কার্যকারিতা Shopify এর মতো শক্তিশালী নয় এবং স্কেল বাড়লে অনেক সীমাবদ্ধতার
মুখে পড়তে হয়। BigCommerce এর মাসিক ফি Shopify এর চেয়ে বেশি এবং বার্ষিক
বিক্রয় একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে উচ্চতর পরিকল্পনায় আপগ্রেড করতে হয়।
তাই সামগ্রিকভাবে নতুনদের জন্য Shopify বা WooCommerce দিয়ে শুরু করাই সবচেয়ে
উপযুক্ত।
বাংলাদেশ থেকে ড্রপশিপিং করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম সবচেয়ে উপযুক্ত
বাংলাদেশ থেকে ড্রপশিপিং করার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ চ্যালেঞ্জ আছে যা অন্য দেশের
ড্রপশিপারদের মোকাবিলা করতে হয় না। বাংলাদেশে Stripe পেমেন্ট গেটওয়ে সরাসরি
পাওয়া যায় না এবং PayPal এর সীমাবদ্ধতা আছে তাই পেমেন্ট গ্রহণের বিষয়টি
সঠিকভাবে সেটআপ করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে WooCommerce সবচেয়ে ভালো
বিকল্প কারণ এতে বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেট করা যায় এবং বাংলাদেশি
পেমেন্ট পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য রাখা সহজ। যারা আন্তর্জাতিক বাজারে ড্রপশিপিং
করতে চান তারা Shopify ব্যবহার করে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য Payoneer বা 2Checkout
এর মতো গেটওয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
বাংলাদেশ থেকে ড্রপশিপিং করতে চাইলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টার্গেট
মার্কেট নির্ধারণ করা। অনেকে মনে করেন শুধু বিদেশী বাজারেই ড্রপশিপিং করতে হবে
কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ড্রপশিপিং করা সম্ভব। দেশীয় বাজারের জন্য
Daraz, Shopify বা WooCommerce দিয়ে স্টোর তৈরি করে চীনা পণ্য বা স্থানীয়
পাইকারদের থেকে পণ্য এনে বিক্রি করা যায়। বিদেশী বাজারের জন্য মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়াকে টার্গেট করা লাভজনক কারণ এই দেশগুলোর
ক্রেতারা বেশি মূল্য দিতে রাজি থাকেন।
বাংলাদেশ থেকে ড্রপশিপিং শুরু করার ক্ষেত্রে CJ Dropshipping একটি চমৎকার বিকল্প
যা AliExpress এর তুলনায় দ্রুত শিপিং এবং আরও ভালো মানের পণ্য সরবরাহ করে। CJ
Dropshipping এ নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এরা Shopify ও WooCommerce উভয়
প্ল্যাটফর্মের সাথে সহজে সংযুক্ত হয়। এছাড়াও Spocket প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে মাত্র ৩ থেকে ৭ দিনে
ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব যা ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
ড্রপশিপিংয়ে সফল হতে সরবরাহকারী বাছাইয়ে কী দেখবেন
ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার মতোই সঠিক
সরবরাহকারী বেছে নেওয়া সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেষ পর্যন্ত আপনার ক্রেতা যে
পণ্যটি পাবেন সেটার মান, শিপিং গতি এবং প্যাকেজিং নির্ভর করে সরবরাহকারীর উপর।
ভালো সরবরাহকারী বাছাইয়ের প্রথম মানদণ্ড হলো তাদের রিভিউ এবং রেটিং, বিশেষত
AliExpress এ ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি পজিটিভ ফিডব্যাক এবং কমপক্ষে ৫০০ বা তার বেশি
অর্ডার সম্পন্ন থাকলে সেই সরবরাহকারীকে তুলনামূলক বিশ্বস্ত মনে করা যায়।
তাড়াহুড়ো করে কম রিভিউর সরবরাহকারীর সাথে কাজ শুরু করলে পরবর্তীতে মানের
সমস্যায় পড়তে হয়।
শিপিং সময় সরবরাহকারী বাছাইয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। যেসব সরবরাহকারী
AliExpress Standard Shipping বা ePacket ব্যবহার করেন তাদের শিপিং তুলনামূলক
দ্রুত হয় এবং ট্র্যাকিং সুবিধাও পাওয়া যায়। নতুন কোনো সরবরাহকারীর সাথে কাজ
শুরু করার আগে অবশ্যই নিজে একটি টেস্ট অর্ডার দিন যাতে পণ্যের মান, প্যাকেজিং এবং
শিপিং সময় সম্পর্কে নিজে অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। এই টেস্ট অর্ডারটি ভবিষ্যতে অনেক
সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে। এই জন্য আপনার জানা প্রয়োজন ড্রপশিপিং ব্যবসা
শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো।
যোগাযোগ দক্ষতা সরবরাহকারী বাছাইয়ের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড যা অনেকে
উপেক্ষা করেন। সমস্যা হলে সরবরাহকারী দ্রুত সাড়া দেন কিনা এবং ইংরেজিতে ভালো
যোগাযোগ করতে পারেন কিনা সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্রেতার অভিযোগ এলে
দ্রুত সমাধান দিতে না পারলে স্টোরের রেটিং ও বিশ্বাসযোগ্যতা দ্রুত কমে যায়। তাই
সরবরাহকারীকে প্রথমে একটি প্রশ্ন করে দেখুন কত দ্রুত এবং কতটা সহায়ক উত্তর দেন,
এটাই তার সেবার মানের একটি ভালো নির্দেশক।
ড্রপশিপিং ব্যবসায় সাধারণ ভুলগুলো এড়ানোর উপায়
ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্ম জানার পাশাপাশি নতুন
ড্রপশিপাররা যে সাধারণ ভুলগুলো করেন সেগুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকা দরকার। সবচেয়ে
বড় ভুল হলো একটি নির্দিষ্ট নিশ বা পণ্য বিভাগ নির্বাচন না করে সব ধরনের পণ্য
বিক্রির চেষ্টা করা। যে স্টোরে সব ধরনের পণ্য থাকে সেটা দেখে ক্রেতারা বিশ্বাস
করেন না কারণ বাস্তবে এত বৈচিত্র্যের পণ্য এক জায়গায় থাকা স্বাভাবিক মনে হয়
না। তাই শুরুতে একটি নির্দিষ্ট নিশ যেমন পোষা প্রাণীর পণ্য, ঘরের সাজসজ্জা বা
শিশুদের পণ্য বেছে নিয়ে সেই নিশে দক্ষতা তৈরি করা অনেক বেশি সফলতা এনে দেয়।
মার্কেটিংয়ে বিনিয়োগ না করা নতুন ড্রপশিপারদের আরেকটি বড় ভুল। অনেকে মনে করেন
স্টোর তৈরি করলেই ক্রেতা আসতে শুরু করবে কিন্তু বাস্তবে ক্রেতা আনতে হলে Facebook
বিজ্ঞাপন, Google বিজ্ঞাপন বা SEO এর মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে হয়।
শুরুতে ছোট বাজেটে Facebook বিজ্ঞাপন দিয়ে পরীক্ষা করুন এবং কোন বিজ্ঞাপনে সাড়া
বেশি আসছে সেটা দেখে ধীরে ধীরে বাজেট বাড়ান। বিজ্ঞাপন ছাড়া সফল ড্রপশিপিং
ব্যবসা গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব বিশেষত শুরুর দিকে।
গ্রাহক সেবায় অবহেলা করা ড্রপশিপিংয়ে ব্যর্থতার তৃতীয় বড় কারণ। ড্রপশিপিংয়ে
পণ্যের মান বা শিপিং সময়ের উপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই তাই সমস্যা হলে
দ্রুত এবং সহানুভূতিশীলভাবে সমাধান দেওয়াটাই আপনার ব্যবসার সুনাম রক্ষা করতে
পারে। রিফান্ড বা রিপ্লেসমেন্ট পলিসি স্পষ্টভাবে রাখুন এবং অভিযোগ আসলে দেরি না
করে সমাধান করুন কারণ একটি সন্তুষ্ট ক্রেতা আরও ১০ জনকে আপনার স্টোরে পাঠাতে
পারেন।
লেখকের শেষ কথা
ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ভালো এই প্রশ্নের উত্তর
নির্ভর করে আপনার বাজেট, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং টার্গেট মার্কেটের উপর। যারা
সহজে শুরু করতে চান এবং বেশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান নেই তাদের জন্য Shopify সবচেয়ে
ভালো, যারা কম খরচে শুরু করতে চান তাদের জন্য WooCommerce আদর্শ, সরবরাহকারী
হিসেবে AliExpress এবং CJ Dropshipping সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বাংলাদেশ থেকে
পরিচালনার ক্ষেত্রে পেমেন্ট সেটআপে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
আমার মতে ড্রপশিপিং একটি চমৎকার ব্যবসায়িক মডেল তবে এটিকে সহজ মনে করে অবহেলা
করলে ব্যর্থতা অবশ্যম্ভাবী। সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার পাশাপাশি সঠিক নিশ
নির্বাচন, বিশ্বস্ত সরবরাহকারী খোঁজা, কার্যকর মার্কেটিং এবং চমৎকার গ্রাহক সেবা
নিশ্চিত করতে পারলেই ড্রপশিপিংয়ে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য আসে। তাই তাড়াহুড়ো না
করে ভালোভাবে শিখে, পরিকল্পনা করে এবং ছোট পরিসরে শুরু করুন, সাফল্য আসতে সময়
লাগতে পারে কিন্তু একবার সঠিক পথে উঠে গেলে ড্রপশিপিং একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং
স্বাধীন জীবিকার উৎস হয়ে উঠতে পারে।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url