ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়
৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায় জানা আমাদের জন্য অনেক জরুরী কারণ
এখন অনেকেই ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো আপনি কীভাবে নিজে ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে
আয় করতে পারবেন এবং কোন কোন পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর এবং লাভজনক।
পেজ সূচিপত্রঃ ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়
- ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়
- কম্পাইলেশন ভিডিও তৈরি করে আয় করার পদ্ধতি
- স্লাইডশো এবং টেক্সট টু স্পিচ ভিডিও তৈরি করা
- অন্যদের ভিডিও রিভিউ করে কি ইনকাম করা যায়
- স্টক ফুটেজ এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স ভিডিও ব্যবহার
- অ্যানিমেশন চ্যানেল বানালে কি ইনকাম করা যায়
- গেমিং ভিডিও বানিয়ে কে ইনকাম করা যায়
- ইউটিউব অটোমেশন করে কিভাবে ইনকাম করবেন
- মনিটাইজেশন না থাকলে এটা থেকে কি আয় করা যায়
- লেখকের শেষ কথা
ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়
ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায় বলতে আমরা বুঝি এমন পদ্ধতি যেখানে
আপনাকে ক্যামেরার সামনে আসতে হবে না বা নিজে কোনো ভিডিও শুট করতে হবে না কিন্তু
তবুও একটি সফল ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারবেন এবং মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে আয়
করতে পারবেন। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্যের ভিডিও রিইউজ করা, কম্পাইলেশন
তৈরি করা, স্টক ফুটেজ ব্যবহার করা, অ্যানিমেশন তৈরি করা, টেক্সট টু স্পিচ ভিডিও
বানানো, স্লাইডশো তৈরি করা এবং আরো অনেক কিছু।
তবে এই সব পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউটিউবের কপিরাইট এবং
মনিটাইজেশন নীতি মেনে চলা। ইউটিউব খুবই কঠোরভাবে কপিরাইট এবং রিপিটেড কন্টেন্ট
নিয়ে নিয়ম বানিয়েছে তাই আপনাকে সে সকল নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে যেন আপনার
ভিডিও অরিজিনাল ভ্যালু যোগ করছে এবং শুধুমাত্র কপি পেস্ট নয়।
সফল হতে হলে একটি নির্দিষ্ট নিশ বেছে নিতে হবে যেমন মোটিভেশনাল কন্টেন্ট, ফ্যাক্ট
চ্যানেল, টপ টেন লিস্ট, হাউ টু টিউটোরিয়াল, গেমিং, হাইলাইট স্পোর্টস, ক্লিপস
মুভি, রিভিউ বা এডুকেশনাল কন্টেন্ট। প্রতিটি নিশের নিজস্ব অডিয়েন্স রয়েছে এবং
সঠিক নিশ নির্বাচন করলে দ্রুত চ্যানেল গ্রো করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড়
সুবিধা হলো আপনি কম সময়ে বেশি ভিডিও আপলোড করতে পারবেন কারণ ভিডিও শুট করতে সময়
লাগে না।
তবে চ্যালেঞ্জ হলো মনিটাইজেশন পাওয়া কারণ ইউটিউব এখন রিইউজ কন্টেন্ট নিয়ে বেশি
সতর্ক এবং আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার কন্টেন্ট ইউনিক এবং ভ্যালু যোগ করছে।
ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায় জানা থাকলে আপনি আপনার স্বপ্নের
চ্যানেল শুরু করতে পারবেন এবং আস্তে আস্তে আয় করতে পারবেন। পরবর্তী সেকশনগুলোতে
আমরা প্রতিটি পদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা করব যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কম্পাইলেশন ভিডিও তৈরি করে আয় করার পদ্ধতি
কম্পাইলেশন ভিডিও তৈরি করে আয় করার পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকর যেখানে
আপনি বিভিন্ন সোর্স থেকে ক্লিপ সংগ্রহ করে একটি নতুন ভিডিও তৈরি করবেন।
কম্পাইলেশন ভিডিও হতে পারে ফানি ক্লিপস, ফেইল ভিডিও, টপ টেন লিস্ট, বেস্ট
মোমেন্টস বা থিম ভিত্তি। এই ধরনের ভিডিও তৈরি করতে হলে প্রথমে একটি নিশ বেছে নিন
যেমন পেট অ্যানিমালস, বেবি ভিডিও, স্পোর্টস হাইলাইট বা ভাইরাল ক্লিপস কম্পাইলেশন।
তারপর ইউটিউব ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক থেকে রিলেটেড ক্লিপ সংগ্রহ করুন তবে
অবশ্যই পারমিশন নিতে হবে বা ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সযুক্ত ভিডিও ব্যবহার করতে
হবে। অনেক ক্রিয়েটর তাদের ভিডিও রিইউজ করার অনুমতি দেয় যদি আপনি তাদের ক্রেডিট
দেন এবং অরিজিনাল ভিডিও লিংক ডেসক্রিপশনে রাখেন। কম্পাইলেশন ভিডিও তৈরি করার সময়
শুধু ক্লিপ জোড়া দিলেই হবে না বরং আপনাকে ভ্যালু যোগ করতে হবে যেমন ভয়েস ওভার
যোগ করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দেওয়া টেক্সট ওভারলে ব্যবহার করা বা নিজস্ব
কমেন্টারি যোগ করা।
এতে আপনার ভিডিও অরিজিনাল হিসেবে গণ্য হবে এবং মনিটাইজেশন পাওয়ার সম্ভাবনা
বাড়বে। ভিডিও এডিটিং এর জন্য ফ্রি সফটওয়্যার যেমন ডাভিঞ্চি রিজলভ বা পেইড
সফটওয়্যার যেমন এডোবি প্রিমিয়ার প্রো ব্যবহার করতে পারেন। কম্পাইলেশন চ্যানেল
সফল হতে হলে নিয়মিত আপলোড করতে হবে সপ্তাহে কমপক্ষে তিন থেকে চারটি ভিডিও এবং
ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে ভিডিও বানাতে হবে।
তবে মনে রাখতে হবে যে শুধু অন্যের ভিডিও ডাউনলোড করে আপলোড করলে কপিরাইট স্ট্রাইক
পাবেন এবং চ্যানেল ব্যান হতে পারে তাই সবসময় পারমিশন নিন এবং ট্রান্সফরমেটিভ
কন্টেন্ট তৈরি করুন যেখানে আপনার নিজস্ব কাজ থাকবে। কম্পাইলেশন চ্যানেল থেকে মাসে
১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব যদি চ্যানেল ভালো গ্রো করে
এবং ভিউ বেশি হয়।
স্লাইডশো এবং টেক্সট টু স্পিচ ভিডিও তৈরি করা
স্লাইডশো এবং টেক্সট টু স্পিচ ভিডিও তৈরি করা একটি সহজ পদ্ধতি যেখানে কোনো ভিডিও
শুট করতে হয় না শুধু ইমেজ এবং টেক্সট ব্যবহার করে ভিডিও বানানো যায়। এই
পদ্ধতিতে আপনি একটি টপিক নির্বাচন করবেন যেমন ইতিহাস, ফ্যাক্ট, বায়োগ্রাফি,
মোটিভেশনাল স্টোরি বা এডুকেশনাল কন্টেন্ট। তারপর সেই টপিক সম্পর্কে একটি
স্ক্রিপ্ট লিখবেন বা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে জেনারেট করবেন। এরপর রিলেটেড ইমেজ
সংগ্রহ করবেন ফ্রি স্টক ফটো ওয়েবসাইট থেকে যেমন পিক্সাবে আনস্প্ল্যাশ বা
পেক্সেলস থেকে।
আরো পড়ুনঃ
ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার উপায় ২০২৬
এই ইমেজগুলো দিয়ে একটি স্লাইডশো তৈরি করবেন এবং টেক্সট টু স্পিচ সফটওয়্যার
ব্যবহার করে ভয়েসওভার যোগ করবেন। টেক্সট টু স্পিচ এর জন্য ভালো টুলস হলো গুগল
টেক্সট, টু স্পিচ, এলেভেনল্যাবস বা নেচারাল রিডার যেগুলো ভালো ভয়েস তৈরি
করে। স্লাইডশো ভিডিও তৈরি করার জন্য ক্যানভা পাওয়ারপয়েন্ট বা বিডিও নামক
সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন যেগুলোতে প্রি মেড টেমপ্লেট রয়েছে। ভিডিওতে
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করুন কপিরাইট ফ্রি মিউজিক ব্যবহার করে যেমন ইউটিউব অডিও
লাইব্রেরি বা এপিডেমিক সাউন্ড থেকে।
এই ধরনের চ্যানেল খুবই জনপ্রিয় বিশেষত ফ্যাক্ট চ্যানেল যেখানে প্রতিদিন নতুন
নতুন তথ্য শেয়ার করা হয় এবং দর্শকরা এই ধরনের কন্টেন্ট পছন্দ করে। স্লাইডশো
ভিডিও তৈরি করতে খুব বেশি সময় লাগে না একটি ভিডিও এক থেকে দুই ঘণ্টায় তৈরি করা
যায়। তবে মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য আপনার ভিডিও অবশ্যই ইনফরমেটিভ এবং ভ্যালু যোগ
করতে হবে শুধু র্যান্ডম ইমেজ দিয়ে স্লাইডশো বানালে মনিটাইজেশন পাবেন না।
স্লাইডশো এবং টেক্সট টু স্পিচ চ্যানেল থেকে মাসে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা
পর্যন্ত আয় করা সম্ভব যদি নিয়মিত ভালো কন্টেন্ট আপলোড করা যায়।
অন্যদের ভিডিও রিভিউ করে কি ইনকাম করা যায়
রিইউজ কন্টেন্ট এবং ফেয়ার ইউজ নীতি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনি অন্যের
ভিডিও ব্যবহার করে চ্যানেল পরিচালনা করতে চান। ইউটিউবের রিইউজড কন্টেন্ট পলিসি
অনুযায়ী আপনি অন্যের ভিডিও ব্যবহার করতে পারবেন যদি আপনি সেখানে অরিজিনাল ভ্যালু
যোগ করেন যেমন কমেন্টারি ক্রিটিসিজম রিভিউ প্যারোডি বা এডুকেশনাল পারপাস। ফেয়ার
ইউজ হলো একটি আইনগত নীতি যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কপিরাইট উপাদান ব্যবহার করার
অনুমতি দেয় যেমন নিউজ রিপোর্টিং বা রিসার্চ।
তবে ফেয়ার ইউজ একটি জটিল বিষয় এবং এটি নিশ্চিত করা কঠিন যে আপনার ব্যবহার
ফেয়ার ইউজ হিসেবে গণ্য হবে কিনা। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ক্রিয়েটিভ কমন্স
লাইসেন্সযুক্ত ভিডিও ব্যবহার করা যেগুলো ক্রিয়েটর নিজেই রিইউজ করার অনুমতি
দিয়েছেন। ইউটিউব সার্চে ফিল্টার ব্যবহার করে ক্রিয়েটিভ কমন্স ভিডিও খুঁজতে
পারেন এবং সেগুলো ডাউনলোড করে আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারেন ক্রেডিট
দিয়ে। ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায় গুলোর মধ্যে এটি
সেরা।
রিইউজ কন্টেন্ট করার সময় আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার ভিডিও ট্রান্সফরমেটিভ
অর্থাৎ অরিজিনাল ভিডিও থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং নতুন অর্থ বা মেসেজ বহন করছে।
শুধুমাত্র অন্যের ভিডিও ডাউনলোড করে রি আপলোড করা রিইউজ কন্টেন্ট নয় বরং তা
কপিরাইট লঙ্ঘন এবং এর জন্য চ্যানেল স্ট্রাইক পেতে পারেন। মুভি রিভিউ চ্যানেল
স্পোর্টস এনালাইসিস চ্যানেল বা মিউজিক রিয়্যাকশন চ্যানেল ফেয়ার ইউজের ভালো
উদাহরণ যেখানে অরিজিনাল কন্টেন্ট ব্যবহার করা হয় কিন্তু নিজস্ব মতামত এবং
বিশ্লেষণ যোগ করা হয়।
স্টক ফুটেজ এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স ভিডিও ব্যবহার
স্টক ফুটেজ এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স ভিডিও ব্যবহার করা একটি সম্পূর্ণ লিগাল এবং
নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো কপিরাইট ইস্যু নেই। স্টক ফুটেজ হলো প্রফেশনাল ভিডিও
ক্লিপ যা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় যেমন পিক্সাবে ভিডিও পেক্সেলস মিক্সকিট
বা ভিডিজি। এই সাইটগুলোতে লাখ লাখ ফ্রি ভিডিও ক্লিপ রয়েছে যেগুলো আপনি
কমার্শিয়াল ইউজ সহ ব্যবহার করতে পারবেন কোনো পারমিশন ছাড়াই। এই ভিডিও ক্লিপ
দিয়ে আপনি নিজের ইউটিউব ভিডিও তৈরি করতে পারবেন যেমন ট্রাভেল ভিডিও নেচার ভিডিও
লাইফস্টাইল ভিডিও বা মোটিভেশনাল ভিডিও।
স্টক ফুটেজ ব্যবহার করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো হাই কোয়ালিটি এবং
প্রফেশনাল লুকিং।স্টক ফুটেজ দিয়ে ভিডিও তৈরি করতে হলে প্রথমে একটি টপিক এবং
স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন। তারপর রিলেটেড স্টক ভিডিও ডাউনলোড করুন এবং ভিডিও এডিটিং
সফটওয়্যারে ইম্পোর্ট করুন। ভয়েসওভার রেকর্ড করুন বা টেক্সট টু স্পিচ ব্যবহার
করুন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করুন। স্টক ফুটেজ ভিডিওর সাথে ট্রানজিশন
ইফেক্ট এবং টেক্সট ওভারলে যোগ করে আরো আকর্ষণীয় করতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি
ক্রিয়েটিভ কমন্স ভিডিও হলো এমন ভিডিও যেগুলো ক্রিয়েটর ফ্রি ব্যবহারের জন্য
লাইসেন্স দিয়েছেন এবং ইউটিউব নাসা স্পেস এজেন্সি বা বিভিন্ন সরকারি সংস্থার
ভিডিও ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সে পাওয়া যায়। তবে ভিডিওতে আপনার নিজস্ব নারেটিভ
এবং ইনফরমেশন যোগ করতে হবে শুধু স্টক ফুটেজ জোড়া দিলে মনিটাইজেশন পাবেন না। স্টক
ফুটেজ চ্যানেল থেকে মাসে ৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
অ্যানিমেশন চ্যানেল বানালে কি ইনকাম করা যায়
অ্যানিমেশন এবং হোয়াইটবোর্ড ভিডিও চ্যানেল খুবই জনপ্রিয় এবং লাভজনক যেখানে কোনো
ফিজিক্যাল ভিডিও শুট করতে হয় না শুধু সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা
হয়। অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি করতে আপনি বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করতে পারেন যেমন টুন,
বুম, হারমোনি, অ্যানিমেটর, ভাইপার, ডুডলি বা টুডি অ্যানিমেশন মেকার। অ্যানিমেশন
চ্যানেল এডুকেশনাল কন্টেন্ট স্টোরি টেলিং মোটিভেশনাল ভিডিও বা চিলড্রেন কন্টেন্ট
এর জন্য আদর্শ।
হোয়াইটবোর্ড অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি করতে ভিডিও স্ক্রাইব ডুডলি বা এক্সপ্লেইন
এভরিথিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন যেগুলোতে প্রি মেড টেমপ্লেট এবং
ক্যারেক্টার রয়েছে। হোয়াইটবোর্ড অ্যানিমেশনে একটি হাত দেখা যায় যা
হোয়াইটবোর্ডে লেখে এবং ড্র করে এবং এই স্টাইল ভিউয়ারদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়।
অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি করতে প্রথমে একটি স্ক্রিপ্ট লিখুন এবং স্টোরিবোর্ড তৈরি
করুন যেখানে প্রতিটি সিনের ডিটেইলস থাকবে।
তারপর অ্যানিমেশন সফটওয়্যারে ক্যারেক্টার ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অবজেক্ট যোগ করুন
এবং অ্যানিমেট করুন। ভয়েসওভার রেকর্ড করুন বা টেক্সট টু স্পিচ ব্যবহার করুন এবং
সাউন্ড ইফেক্ট এবং মিউজিক যোগ করুন। অ্যানিমেশন তৈরি করা শুরুতে কঠিন মনে হলেও
অনলাইনে অনেক টিউটোরিয়াল এবং কোর্স রয়েছে যা থেকে শেখা যায়। এছাড়া ফাইভার বা
আপওয়ার্কে অ্যানিমেটর হায়ার করতে পারেন যারা আপনার জন্য ভিডিও তৈরি করে দেবে
এবং আপনি শুধু স্ক্রিপ্ট এবং আইডিয়া দেবেন।
অ্যানিমেশন চ্যানেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে কপিরাইট ইস্যু নেই কারণ
সবকিছু আপনার নিজের তৈরি এবং মনিটাইজেশন সহজে পাওয়া যায়। জনপ্রিয় অ্যানিমেশন
চ্যানেলগুলো প্রতি মাসে লাখ টাকা আয় করছে কারণ তাদের ভিডিও ভাইরাল হয় এবং
শেয়ার হয় বেশি। তবে অ্যানিমেশন তৈরি করতে সময় এবং ধৈর্য প্রয়োজন একটি ভিডিও
তৈরি করতে কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ লাগতে পারে। অ্যানিমেশন চ্যানেল থেকে মাসে ১৫
হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব যদি ভিডিও ভাইরাল হয় এবং ভিউ বেশি
হয়।
গেমিং ভিডিও বানিয়ে কে ইনকাম করা যায়
গেমিং হাইলাইট এবং টিউটোরিয়াল চ্যানেল তৈরি করা একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি যেখানে
আপনাকে নিজে গেম না খেলেও চ্যানেল পরিচালনা করা সম্ভব। গেমিং হাইলাইট চ্যানেলে
আপনি বিভিন্ন প্রো প্লেয়ার এবং স্ট্রিমারদের বেস্ট মোমেন্ট ক্লিপ সংগ্রহ করে
কম্পাইলেশন তৈরি করতে পারেন। জনপ্রিয় গেম যেমন পাবজি ফ্রি ফায়ার কল অফ ডিউটি
ফোর্টনাইট বা ভ্যালোরান্ট এর হাইলাইট খুবই ডিমান্ডে রয়েছে। টুইচ ইউটিউব গেমিং বা
ফেসবুক গেমিং থেকে ক্লিপ সংগ্রহ করতে পারেন তবে অবশ্যই স্ট্রিমারদের পারমিশন নিতে
হবে বা তাদের ক্লিপ ব্যবহারের অনুমতি আছে কিনা চেক করতে হবে।
অনেক স্ট্রিমার তাদের ক্লিপ ব্যবহার করতে দেয় যদি আপনি তাদের চ্যানেল ক্রেডিট
দেন এবং লিংক দেন। গেমিং টিউটোরিয়াল চ্যানেলে আপনি গেম প্লে টিপস ট্রিকস গাইড
এবং ওয়াকথ্রু ভিডিও তৈরি করতে পারেন। গেমিং টিউটোরিয়াল তৈরি করতে আপনি গেম
রেকর্ডিং সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন যেমন ওবিএস স্টুডিও বা ব্যানডিক্যাম এবং নিজে
গেম খেলে রেকর্ড করবেন বা অন্যের গেমপ্লে ফুটেজ ব্যবহার করবেন ফেয়ার ইউজ
অনুযায়ী। ভয়েসওভার দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে কোনো লেভেল পাস করতে হয় বা
কোনো টিপস ব্যবহার করতে হয়।
গেমিং কন্টেন্ট ইউটিউবে খুবই জনপ্রিয় এবং লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন গেমিং ভিডিও
দেখে। তবে গেমিং নিশে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি তাই আপনাকে ইউনিক কন্টেন্ট তৈরি করতে
হবে এবং ভালো এসইও করতে হবে। গেমিং চ্যানেল মনিটাইজ করতে হলে আপনাকে নিশ্চিত করতে
হবে যে আপনি ফেয়ার ইউজ মেনে চলছেন এবং গেম ডেভেলপারদের কপিরাইট লঙ্ঘন করছেন না।
বেশিরভাগ গেম কোম্পানি তাদের গেমের ভিডিও তৈরি করার অনুমতি দেয় কিন্তু কিছু গেমে
নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই আগে চেক করে নিন।
ইউটিউব অটোমেশন করে কিভাবে ইনকাম করবেন
ইউটিউব অটোমেশন একটি আধুনিক পদ্ধতি যেখানে আপনি নিজে কন্টেন্ট তৈরি করবেন না বরং
একটি টিম হায়ার করবেন যারা আপনার জন্য কাজ করবে। ইউটিউব অটোমেশনে আপনি একজন
ম্যানেজার হিসেবে কাজ করবেন এবং স্ক্রিপ্ট রাইটার ভয়েস অভার আর্টিস্ট ভিডিও
এডিটর থাম্বনেইল ডিজাইনার এবং এসইও এক্সপার্ট হায়ার করবেন ফাইভার আপওয়ার্ক বা
লোকাল ফ্রিল্যান্সার থেকে। আপনি শুধু টপিক এবং আইডিয়া দেবেন এবং টিম পুরো ভিডিও
তৈরি করে দেবে।
এই পদ্ধতিতে আপনি একসাথে একাধিক চ্যানেল পরিচালনা করতে পারবেন এবং স্কেল করতে
পারবেন। ইউটিউব অটোমেশনের জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন প্রতি ভিডিও তৈরি করতে
৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে তবে একবার চ্যানেল মনিটাইজড হলে এবং ভিউ
বাড়লে সেই খরচ উঠে যায় এবং প্রফিট হতে থাকে। আপনি যদি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে
চান তাহলে ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায় জানা জরুরী।
আরো পড়ুনঃ
ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায় কিভাবে
ইউটিউব অটোমেশন ব্যবসা হিসেবে করা যায় যেখানে আপনি কোনো কন্টেন্ট তৈরি না করেই
মাসে লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এই পদ্ধতিতে সফল হতে হলে ভালো নিশ সিলেকশন
এবং মার্কেট রিসার্চ প্রয়োজন এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল করতে হবে যাতে টিম ভালো কাজ
করে। অনেক ইউটিউবার এখন অটোমেশন মডেল ব্যবহার করছেন এবং দশ থেকে বিশটি চ্যানেল
পরিচালনা করছেন একই সাথে।
ভার্চুয়াল টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য ট্রেলো আসানা বা স্ল্যাক এর মতো টুলস ব্যবহার
করতে পারেন যেখানে টাস্ক এসাইন করা এবং প্রোগ্রেস ট্র্যাক করা যায়। ইউটিউব
অটোমেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভালো টিম খুঁজে পাওয়া এবং তাদের ম্যানেজ
করা তবে একবার সিস্টেম সেটআপ হলে এটি প্যাসিভ ইনকামের একটি চমৎকার সোর্স হয়ে
যায়। ইউটিউব অটোমেশন থেকে মাসে ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা
সম্ভব যদি একাধিক চ্যানেল সফলভাবে চালানো যায়।
মনিটাইজেশন না থাকলে এটা থেকে কি আয় করা যায়
মনিটাইজেশন এবং আয়ের বিকল্প উপায় জানা থাকলে আপনি ইউটিউব থেকে সর্বোচ্চ আয়
করতে পারবেন। ইউটিউব মনিটাইজেশন পেতে হলে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪ হাজার
ঘণ্টা ওয়াচ টাইম বা ১০ মিলিয়ন শর্টস ভিউ প্রয়োজন এবং তারপর ইউটিউব পার্টনার
প্রোগ্রামে অ্যাপ্লাই করতে হয়। একবার মনিটাইজেশন পেলে আপনার ভিডিওতে অ্যাড
দেখানো হবে এবং প্রতি হাজার ভিউতে সিপিএম অনুযায়ী আয় হবে যা নির্ভর করে নিশ এবং
দর্শকদের লোকেশনের উপর।
তবে শুধু অ্যাডসেন্সই একমাত্র আয়ের উপায় নয় বরং আরো অনেক উপায় রয়েছে যেমন
স্পন্সরশিপ এফিলিয়েট মার্কেটিং মার্চেন্ডাইজ বিক্রয় চ্যানেল মেম্বারশিপ সুপার
চ্যাট এবং সুপার থ্যাঙ্কস এবং কোর্স বা ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রয়। স্পন্সরশিপ
হলো কোম্পানির সাথে ডিল করা যেখানে আপনি তাদের প্রোডাক্ট আপনার ভিডিওতে প্রমোট
করবেন এবং ফি নেবেন।
এফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনি প্রোডাক্ট লিংক আপনার ভিডিও ডেসক্রিপশনে দেবেন এবং
সেই লিংক দিয়ে কেউ কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। চ্যানেল মেম্বারশিপে দর্শকরা মাসিক
ফি দিয়ে মেম্বার হতে পারে এবং বিশেষ সুবিধা পাবে। সুপার চ্যাট এবং সুপার
থ্যাঙ্কস এ দর্শকরা আপনাকে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারে লাইভ স্ট্রিমে বা ভিডিওতে।
মার্চেন্ডাইজ বিক্রয়ে আপনি টিশার্ট মগ বা অন্যান্য পণ্য ডিজাইন করে বিক্রয় করতে
পারবেন।
ডিজিটাল প্রোডাক্ট যেমন ই বুক কোর্স বা টেমপ্লেট বিক্রয় করে আয় করতে পারেন।
একটি সফল চ্যানেল একাধিক রেভিনিউ স্ট্রিম থেকে আয় করে তাই শুধু অ্যাডসেন্সের উপর
নির্ভর না করে অন্যান্য উপায়ও এক্সপ্লোর করুন। ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব চ্যানেল
থেকে মাসে ১০ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব যদি
চ্যানেল ভালো গ্রো করে এবং একাধিক ইনকাম সোর্স ব্যবহার করা যায়।
লেখকের শেষ কথা
আমাদের মনে রাখতে হবে যে ইউটিউব সাকসেস রাতারাতি আসে না বরং এটি একটি
দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া যেখানে ধৈর্য এবং নিয়মিত কাজ করতে হয়। সবসময় ইউটিউবের
নীতিমালা মেনে চলুন কপিরাইট লঙ্ঘন করবেন না এবং অরিজিনাল ভ্যালু যোগ করার চেষ্টা
করুন। দর্শকদের জন্য ভালো এবং উপকারী কন্টেন্ট তৈরি করুন যাতে তারা বারবার আপনার
চ্যানেলে ফিরে আসে। এসইও শিখুন এবং ভালো থাম্বনেইল টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন ব্যবহার
করুন যাতে ভিডিও সার্চে র্যাঙ্ক করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার চ্যানেল প্রমোট
করুন এবং কমিউনিটি বিল্ড করুন।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়, কম্পাইলেশন ভিডিও তৈরি
করে আয় করার পদ্ধতি, স্লাইডশো এবং টেক্সট টু স্পিচ ভিডিও তৈরি করা, অন্যদের
ভিডিও রিভিউ করে কি ইনকাম করা যায়, স্টক ফুটেজ এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স ভিডিও
ব্যবহার, অ্যানিমেশন চ্যানেল বানালে কি ইনকাম করা যায়, গেমিং ভিডিও বানিয়ে কে
ইনকাম করা যায়, ইউটিউব অটোমেশন করে কিভাবে ইনকাম করবেন, মনিটাইজেশন না থাকলে এটা
থেকে কি আয় করা যায় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url