ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যায়
অনলাইন কোচিং ব্যবসা কিভাবে করা যায়
ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যায় কিনা সেটা নিয়ে অনেকেই
দ্বিধায় থাকেন, কিন্তু বাস্তবে অনেক সরকারি পদ আছে যেখানে ডিগ্রি পাস করলেই
আবেদন করা যায়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি
চাকরিতে আবেদন করা যায়, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং কীভাবে সফল হওয়া সম্ভব।
পেজ সূচিপত্রঃ ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যায়
- ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যায়
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি
- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি চাকরি
- পুলিশ ও আনসার বাহিনীতে চাকরির সুযোগ
- ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সরকারে চাকরি
- পোস্ট অফিস ও টেলিযোগাযোগে চাকরির সুযোগ
- স্বাস্থ্য বিভাগে ডিগ্রিধারীদের চাকরি
- কৃষি ও পশু সম্পদ বিভাগে সরকারি চাকরি
- জেলা ও উপজেলা অফিসে চাকরির সুযোগ
- লেখকের শেষ কথা
ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যায়
ডিগ্রি পাস করার পর সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগ আসলে অনেকের ধারণার চেয়ে
অনেক বেশি, কারণ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রতি বছর
হাজার হাজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় যেখানে ডিগ্রি বা স্নাতক
পাস যোগ্যতাই যথেষ্ট। অনেকে মনে করেন শুধু মাস্টার্স বা বিসিএস
ডিগ্রিধারীরাই সরকারি চাকরি পান কিন্তু বাস্তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ
থেকে শুরু করে দ্বিতীয় শ্রেণির অনেক পদেই ডিগ্রি পাস যোগ্যতায় আবেদন করা
যায়।
আমি পরিচিত অনেককে দেখেছি যারা ডিগ্রি পাস করার পরেই প্রাথমিক শিক্ষক
নিয়োগ, ব্যাংক নিয়োগ বা পোস্ট অফিসে চাকরি পেয়েছেন এবং আজ তারা
সুন্দরভাবে সংসার চালাচ্ছেন। সঠিক তথ্য না থাকার কারণে অনেকে শুধু বিসিএসের
পেছনে ছোটেন এবং বছরের পর বছর পার করে দেন, অথচ কম প্রতিযোগিতার অনেক ভালো
সরকারি পদে তারা সহজেই সুযোগ পেতে পারতেন।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বেতন কাঠামো, পেনশন সুবিধা, চিকিৎসা ভাতা এবং
নিরাপত্তার কথা ভাবলে একটি ডিগ্রি পাস করা তরুণের জন্য এই চাকরিগুলো অনেক
আকর্ষণীয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে। তাই এই আর্টিকেলে
ডিগ্রি পাস করার পর সরকারি চাকরির সব তথ্য একসাথে দেওয়া হচ্ছে যাতে আপনি
সঠিক পথটা খুঁজে নিতে পারেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি ডিগ্রি পাস করা চাকরিপ্রার্থীদের
জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য সরকারি চাকরিগুলোর একটি কারণ এখানে
স্নাতক পাস যোগ্যতাতেই আবেদন করা যায় এবং প্রতি কয়েক বছর পরপর বড়
বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজার হাজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে একাধিক সহকারী শিক্ষক পদ
থাকে।
এই পদে নিয়োগ পরীক্ষা সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান
বিষয়ক হয় এবং যারা একটু কষ্ট করে পড়াশোনা করেন তাদের জন্য এটি একটি
অর্জনযোগ্য লক্ষ্য। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের
১৩তম গ্রেডে এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মাসে ভালো একটা আয় হয় যা একটি পরিবার
চালানোর জন্য যথেষ্ট।
আরো পড়ুনঃ
দারাজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়
এই চাকরিতে সরকারি বাসস্থান সুবিধা, ছুটি, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে পদোন্নতির
সুযোগ রয়েছে বলে এটি দীর্ঘমেয়াদে অনেক আকর্ষণীয় হয়। আমার পরিচিত অনেকেই
প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে পরে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন এবং তারা এখন
সন্তুষ্টির সাথে পেশাটি পরিচালনা করছেন।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি চাকরি
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি চাকরি ডিগ্রি পাস করা তরুণদের জন্য
একটি দারুণ সুযোগ কারণ বাংলাদেশে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী
ব্যাংক, রূপালী ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে প্রতি বছর বিভিন্ন পদে
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সহকারী অফিসার বা অফিসার পদে সাধারণত
স্নাতক ডিগ্রিধারীরাই আবেদন করতে পারেন এবং লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার
মাধ্যমে এই চাকরি পাওয়া সম্ভব।
ব্যাংকের সরকারি চাকরিতে বেতন তুলনামূলকভাবে অন্য সরকারি চাকরির চেয়ে ভালো
এবং সাথে বিভিন্ন ধরনের ভাতা, ঋণ সুবিধা ও পেনশনের সুযোগ থাকে বলে অনেকেই
এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চান। আমি নিজে জানি এমন একজনকে যিনি ডিগ্রি
পাস করার পরেই সোনালী ব্যাংকে চাকরি পেয়েছিলেন এবং এখন সিনিয়র অফিসার পদে
কর্মরত আছেন।
ব্যাংকের পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং
কম্পিউটার বিষয়ক প্রশ্ন আসে বলে এই বিষয়গুলোতে ভালো দক্ষতা থাকলে
ডিগ্রিধারীরা সহজেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারেন। বিভিন্ন পাবলিক
পরীক্ষার মতো ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিও অনেকটা একইরকম তাই একই
প্রস্তুতিতে একসাথে একাধিক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব।
পুলিশ ও আনসার বাহিনীতে চাকরির সুযোগ
পুলিশ ও আনসার বাহিনীতে চাকরির সুযোগ ডিগ্রি পাস করা তরুণদের জন্য অনেক
ভালো কারণ এই বাহিনীতে বিভিন্ন পদে স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন
এবং বেতনসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বেশ ভালো। সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআই পদে
পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে হলে সাধারণত স্নাতক পাস যোগ্যতার প্রয়োজন হয় এবং
শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে এই পেশায় সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়া
সম্ভব।
বাংলাদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ পেলে জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম
গ্রেডে বেতন পাওয়া যায় এবং পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চপদে উঠার সুযোগ রয়েছে।
আনসার বাহিনীতে বিভিন্ন পদেও ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন এবং সেখানে
বেতন, ভাতা ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত থাকে।
এই পেশাগুলোতে যোগ দিতে হলে শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা এবং
মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় বলে আগে থেকেই শারীরিক সুস্থতার দিকে
মনোযোগ দেওয়া জরুরি। পুলিশ বা আনসারে চাকরি করলে সরকারি কোয়ার্টার
পাওয়ার সুযোগ থাকে এবং পরিবার নিয়ে বসবাসের একটি সুব্যবস্থা হয়ে যায় যা
অন্য অনেক চাকরিতে নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সরকারে চাকরি
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সরকারে চাকরি ডিগ্রি পাস করা তরুণদের জন্য খুবই
উপযুক্ত কারণ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যালয়ে
এবং পৌরসভায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়া যায় যেখানে ডিগ্রি পাস যোগ্যতাই
যথেষ্ট। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদটি গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী ডিগ্রিধারীদের
জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কারণ এই পদে কাজ করলে নিজের এলাকায় থেকেই সরকারি
চাকরির সুবিধা পাওয়া যায়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বিভিন্ন পরিষদ ও পৌরসভায় কম্পিউটার অপারেটর,
হিসাব সহকারী, অফিস সহায়ক এবং প্রশাসনিক সহকারী পদে নিয়মিত নিয়োগ
বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই পদগুলোতে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়
ডিগ্রিধারী তরুণরা একটু মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলেই সহজে সফল হতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ
১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আরেকটি বড় সুবিধা হলো এখানে কাজের
পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ এবং কাজের চাপ কম হওয়ায় পরিবারকে বেশি
সময় দেওয়া সম্ভব। নিজের এলাকার মানুষদের সরাসরি সেবা দেওয়ার সুযোগ
পাওয়া যায় বলে মানসিক তৃপ্তির দিক থেকেও এই পেশাটি অনেক সন্তোষজনক। এই
জন্য জানুন ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যায়।
পোস্ট অফিস ও টেলিযোগাযোগে চাকরির সুযোগ
পোস্ট অফিস ও টেলিযোগাযোগে চাকরির সুযোগ ডিগ্রি পাস করা তরুণদের জন্য একটি
অবহেলিত কিন্তু সত্যিই আকর্ষণীয় বিকল্প কারণ বাংলাদেশ ডাক বিভাগে
পোস্টমাস্টার, পোস্টাল অপারেটর এবং ডাক পিয়ন পদে প্রতি বছর নিয়োগ দেওয়া
হয়। ডাক বিভাগে কাজ করলে সরকারি বেতন স্কেল, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা
পাওয়া যায় এবং চাকরির নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বা BTCL এ বিভিন্ন পদে
ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন এবং এই কোম্পানি সরকারের অধীনে পরিচালিত
হওয়ায় সরকারি সুবিধাও পাওয়া যায়। আমি জানি এমন কয়েকজনকে যারা পোস্ট
অফিসে চাকরি করে অনেক সুন্দরভাবে জীবন কাটাচ্ছেন এবং পদোন্নতির মাধ্যমে এখন
সিনিয়র পদে আছেন।
এই বিভাগে চাকরি পেতে হলে সাধারণত লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ
নিতে হয় এবং প্রস্তুতির ধরন অন্য সরকারি পরীক্ষার মতোই হয় বলে একই
পড়াশোনায় একসাথে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। বর্তমানে ডিজিটাল পোস্ট অফিসের
ধারণা বাস্তবায়নের ফলে এই বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষদের জন্য নতুন
সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া
যায় এই জন্য আমাদের জানতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগে ডিগ্রিধারীদের চাকরি
স্বাস্থ্য বিভাগে ডিগ্রিধারীদের জন্য চাকরির সুযোগ রয়েছে বিভিন্ন
প্রশাসনিক ও সহায়ক পদে কারণ সারা দেশের জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে অফিস সহকারী, হিসাব রক্ষক,
স্টোর কিপার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পরিবার কল্যাণ
সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদেও ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন।
স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করলে সরকারি সুবিধার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধাও
বিনামূল্যে পাওয়া যায় যা একটি পরিবারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ
করে গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবার সাথে সংযুক্ত পদগুলোতে প্রতিযোগিতা
তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ডিগ্রিধারীদের জন্য সুযোগ একটু বেশি থাকে।
এই বিভাগে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জন্য সরকারি কোয়ার্টার বা আবাসিক
সুবিধাও দেওয়া হয় যা চাকরিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। স্বাস্থ্য বিভাগের
বিজ্ঞপ্তিগুলো সাধারণত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এবং জাতীয় দৈনিক
পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাই নিয়মিত এগুলো অনুসরণ করা দরকার।
কৃষি ও পশু সম্পদ বিভাগে সরকারি চাকরি
কৃষি ও পশু সম্পদ বিভাগে সরকারি চাকরি ডিগ্রি পাস করা তরুণদের জন্য একটি
অনেক কম পরিচিত কিন্তু সত্যিই সুযোগপূর্ণ ক্ষেত্র কারণ কৃষি সম্প্রসারণ
বিভাগে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে প্রতি বছর বড় নিয়োগ হয় এবং এখানে
স্নাতক পাস যোগ্যতা থাকলেই আবেদন করা যায়। সারা দেশে ৩০ হাজারের বেশি ব্লক
সুপারভাইজার ও মাঠ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয় যেখানে একজন ডিগ্রিধারী
সরাসরি কৃষকদের মাঝে কাজ করার সুযোগ পান।
পশু সম্পদ অধিদপ্তরে ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ও কৃত্রিম প্রজনন
টেকনিশিয়ান পদেও ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন এবং এই পদগুলোতে কাজ করে
গ্রামীণ কৃষি ও পশুপালনে সরাসরি অবদান রাখা সম্ভব। কৃষি বিভাগে চাকরিতে
সরকারি মোটরসাইকেল ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়।
এই বিভাগে কাজ করার একটি বড় সুবিধা হলো মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা
অর্জন হয় যা ভবিষ্যতে পদোন্নতির জন্য সহায়ক। গ্রামীণ পরিবেশে যারা কাজ
করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাদের জন্য কৃষি বা পশু সম্পদ বিভাগ একটি আদর্শ
পেশা হতে পারে।
জেলা ও উপজেলা অফিসে চাকরির সুযোগ
জেলা ও উপজেলা অফিসে নিম্নস্তরের পদে ডিগ্রি পাস করা তরুণদের জন্য প্রচুর
সুযোগ রয়েছে কারণ সারা দেশের ৬৪ জেলা এবং প্রায় ৫০০ উপজেলা প্রশাসনিক
অফিসে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর,
ক্যাশিয়ার ও অফিস সহায়ক পদে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদগুলোতে
সাধারণত স্নাতক পাস যোগ্যতাই যথেষ্ট এবং কম্পিউটারে মৌলিক দক্ষতা থাকলে
নিয়োগ পাওয়া আরো সহজ হয়।
জেলা প্রশাসনের অধীনে ভূমি অফিস, সহকারী কমিশনারের কার্যালয় এবং বিভিন্ন
আদালতে পেশকার, কানুনগো সহকারী এবং নাজির পদে ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে
পারেন। এই পদগুলো একটু পরিশ্রমী হলেও সরকারি সুবিধা নিশ্চিত থাকে এবং কাজের
অভিজ্ঞতা থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন হয় যা
ভবিষ্যতে অনেক কাজে আসে।
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বিপিএসিসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার
মাধ্যমে এই পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং প্রতিটি বিজ্ঞপ্তি পত্রিকা ও
সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। নিয়মিত সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট যেমন
bdjobs.com, ejobsbd.com বা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সাইট চেক করলে
এই বিজ্ঞপ্তিগুলো সহজেই পাওয়া যায়।
লেখকের শেষ কথা
ডিগ্রি পাস করার পর সরকারি চাকরি নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা প্রাথমিক
শিক্ষকতা, সরকারি ব্যাংক, পুলিশ, স্থানীয় সরকার, পোস্ট অফিস, স্বাস্থ্য
বিভাগ, কৃষি বিভাগ এবং জেলা উপজেলা প্রশাসনে সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করেছি। শুধু বিসিএসের পেছনে না ছুটে এই বিভিন্ন সেক্টরে নজর দিলে ডিগ্রি
পাস করেই একটি সুন্দর সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব এবং সেখান থেকেই ধীরে ধীরে
উপরের দিকে উঠার পথও তৈরি হয়।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি
সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও
জানতে পারে ডিগ্রি পাস করার পর কোন কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যায়,
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে
সরকারি চাকরি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীতে চাকরির সুযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ ও
স্থানীয় সরকারে চাকরি, পোস্ট অফিস ও টেলিযোগাযোগে চাকরির সুযোগ, স্বাস্থ্য
বিভাগে ডিগ্রিধারীদের চাকরি, কৃষি ও পশু সম্পদ বিভাগে সরকারি চাকরি, জেলা ও
উপজেলা অফিসে চাকরির সুযোগ ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url