গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায়
অনলাইনে কোন ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া টাকা ইনকামের নিয়ম
গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায় খুঁজছেন কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে টা বিস্তারিত জানতে পারবেন।
গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায় খুঁজছেন কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে টা বিস্তারিত জানতে পারবেন।
অনেকেই ভাবেন গুগল শুধু সার্চ ইঞ্জিন, কিন্তু বাস্তবে গুগলের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করা সম্ভব।
পেজ সূচিপত্রঃ গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায়
- গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায়
- গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে ব্লগ থেকে আয়
- ইউটিউব চ্যানেল খুলে গুগল থেকে আয়
- গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ বিক্রি করে আয়
- গুগল অ্যাডওয়ার্ডস বা গুগল অ্যাডস দিয়ে আয়
- গুগল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
- গুগল অপিনিয়ন রিওয়ার্ডস থেকে আয়
- গুগল ম্যাপে রিভিউ ও লোকাল গাইড থেকে আয়
- গুগল ওয়ার্কস্পেস ও ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে আয়
- লেখকের শেষ কথা
গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায়
গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় আসলে একটা নয়, বরং অনেকগুলো এবং প্রতিটি পথে
ভিন্ন ধরনের দক্ষতা ও সময় বিনিয়োগ করতে হয়, তাই শুরু করার আগে আপনার নিজের
আগ্রহ ও সুবিধা বুঝে সঠিক পথটি বেছে নেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। অনেকেই এক সাথে সব
পদ্ধতি চেষ্টা করতে গিয়ে কোনোটাতেই সফল হতে পারেন না, তাই প্রথমে একটি
পদ্ধতিতে মনোযোগ দিয়ে সেটা রপ্ত করুন এবং আয় শুরু হলে তারপর অন্যটিতে মনোযোগ
দিন।
আমি যখন প্রথম অনলাইনে ইনকামের কথা ভেবেছিলাম, তখন এত তথ্যের ভিড়ে হারিয়ে
গিয়েছিলাম এবং মনে হয়েছিল এই কাজ বুঝি আমার দ্বারা সম্ভব নয়, কিন্তু পরে
বুঝেছিলাম যে একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি ঠিক করে ধৈর্য ধরে কাজ করলে ফলাফল আসবেই।
গুগলের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম যেমন ব্লগার, ইউটিউব, গুগল অ্যাডসেন্স এগুলো
বাংলাদেশ থেকে ব্যবহার করে আয় করার পথ একদমই বৈধ এবং হাজার হাজার বাংলাদেশি
তরুণ এখন এই পথে সফলভাবে আয় করছেন।
গুগল থেকে আয় শুরু করতে বড় কোনো বিনিয়োগ দরকার নেই, শুধু একটি স্মার্টফোন বা
কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং শেখার আগ্রহ থাকলেই যথেষ্ট। একটু সময় ও
পরিশ্রম দিলে গুগলের প্ল্যাটফর্মগুলো আপনার জন্য একটি স্থায়ী আয়ের উৎস হয়ে
উঠতে পারে যা থেকে মাসের পর মাস নিয়মিত আয় আসতে থাকবে।
গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে ব্লগ থেকে আয়
গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে ব্লগ থেকে আয় করা বাংলাদেশে অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে
জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর একটি কারণ একটি ব্লগ একবার তৈরি করে সেখানে মানসম্মত লেখা
দিলে গুগল বিজ্ঞাপন দেখিয়ে প্রতি ক্লিকে বা ভিউতে অর্থ পরিশোধ করে। গুগলের
নিজস্ব ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম Blogger.com একদম বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং সেখানে
অ্যাডসেন্স অনুমোদন পেলেই ইনকাম শুরু হয়ে যায়।
একটি ব্লগ থেকে আয় করতে হলে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিতে হবে যেমন
স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, রান্না বা শিক্ষা এবং সেই বিষয়ে নিয়মিত মানসম্মত
আর্টিকেল লিখতে হবে যাতে গুগল সার্চে সেই আর্টিকেলগুলো উপরের দিকে আসে। একটি
ব্লগে যত বেশি পাঠক আসবে তত বেশি বিজ্ঞাপন দেখাবে এবং ইনকামও তত বেশি হবে, আর এই
পাঠক বাড়ানোর মূল কাজটাই হলো SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।
অনেক বাংলাদেশি ব্লগার আছেন যারা এখন প্রতি মাসে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা শুধু ব্লগ
থেকে আয় করছেন এবং তারা প্রথম দিন থেকেই এই অবস্থায় আসেননি বরং ৬ মাস থেকে ১
বছর ধৈর্য ধরে কাজ করে এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই ব্লগিং শুরু করলে হতাশ না হয়ে
ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি গুগল থেকে টাকা
ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায় গুলোর মধ্যে সেরা।
ইউটিউব চ্যানেল খুলে গুগল থেকে আয়
ইউটিউব চ্যানেল খুলে গুগল থেকে আয় করা এখন বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় এবং কার্যকর
পদ্ধতি কারণ ইউটিউব হলো গুগলের একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ভিডিও তৈরি করে আপলোড
দিলে গুগল সেই ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় ভাগ করে দেয়। একটি ইউটিউব চ্যানেল
মনিটাইজ করতে হলে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ টাইম লাগে যা
ধৈর্য ধরে কাজ করলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে অর্জন করা সম্ভব।
আমি নিজে পরিচিত অনেক ইউটিউবারকে দেখেছি যারা শুধু মোবাইল ফোনে ভিডিও তুলে এবং
বাড়িতে বসে এডিট করে মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন এবং তাদের বেশিরভাগই
প্রথম দিকে মনে করেননি যে ইউটিউব থেকে এতটা আয় সম্ভব। রান্না, ভ্রমণ, শিক্ষামূলক
কন্টেন্ট, কমেডি বা প্রযুক্তি, যেকোনো বিষয়ে মানসম্মত ভিডিও তৈরি করলে ইউটিউব
থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।
ইউটিউব চ্যানেল থেকে শুধু অ্যাডসেন্স নয়, স্পনসরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও
নিজের পণ্য বিক্রি করেও আয় করা যায় যার ফলে একটি সফল চ্যানেলের মাসিক আয়
অ্যাডসেন্সের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হওয়া সম্ভব। তাই ইউটিউব চ্যানেলকে একটি
দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত এবং নিয়মিত ভিডিও আপলোড করে দর্শক তৈরি
করাটাই হলো সফলতার মূল চাবিকাঠি।
গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ বিক্রি করে আয়
গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ বিক্রি করে আয় করাটা প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের জন্য একটি
দারুণ সুযোগ কারণ একটি ভালো অ্যাপ একবার তৈরি করলে বছরের পর বছর সেই অ্যাপ থেকে
আয় আসতে পারে এবং ঘুমের মধ্যেও আয় হওয়ার ধারণাটা এখানে সত্যিকার অর্থেই
বাস্তব। Android অ্যাপ তৈরি করতে Java বা Kotlin প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে
হয় এবং Google Play Console এ মাত্র ২৫ ডলার একবার ফি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে
অ্যাপ পাবলিশ করা যায়।
প্রোগ্রামিং না জানলেও নিরাশ হওয়ার কিছু নেই কারণ এখন অনেক নো কোড প্ল্যাটফর্ম
আছে যেমন MIT App Inventor বা Thunkable যেগুলো ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং জ্ঞান
ছাড়াই সহজ অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব। এই অ্যাপগুলোতে গুগল অ্যাডমব বিজ্ঞাপন লাগিয়ে
দিলে অ্যাপ ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপন দেখলেই আয় শুরু হয়।
অ্যাপ থেকে আয়ের আরেকটি পদ্ধতি হলো প্রিমিয়াম ফিচার বা ইন অ্যাপ পার্চেজ
সিস্টেম রাখা যেখানে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত সুবিধার জন্য অর্থ পরিশোধ করেন।
বাংলাদেশে তৈরি এমন কিছু শিক্ষামূলক ও প্রার্থনা সংক্রান্ত অ্যাপ আছে যেগুলো
লক্ষাধিক ডাউনলোড পেয়ে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় করছে।
গুগল অ্যাডওয়ার্ডস বা গুগল অ্যাডস দিয়ে আয়
গুগল অ্যাডওয়ার্ডস বা গুগল অ্যাডস দিয়ে আয় করার পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন ধরনের
কারণ এখানে সরাসরি গুগল থেকে আয় না হলেও গুগল অ্যাডস পরিচালনার দক্ষতা ব্যবহার
করে অন্যদের ব্যবসার বিজ্ঞাপন চালিয়ে সার্ভিস ফি নেওয়া যায় যা বর্তমানে
ফ্রিল্যান্সিং জগতে একটি অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা। একজন দক্ষ গুগল অ্যাডস
বিশেষজ্ঞ একটি ক্লায়েন্ট থেকে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ
নিতে পারেন।
গুগল অ্যাডস শিখতে হলে গুগলের নিজস্ব ফ্রি কোর্স প্ল্যাটফর্ম Google Skillshop
ব্যবহার করা যায় যেখানে সার্টিফিকেট পর্যন্ত পাওয়া যায় এবং এই সার্টিফিকেট
ক্লায়েন্টদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে অনেক সাহায্য করে। আমার এক বন্ধু গুগল
অ্যাডস শিখে মাত্র তিন মাসের মধ্যে দুটি ছোট ব্যবসার বিজ্ঞাপন পরিচালনার কাজ
পেয়েছিলেন। গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায় জানা থাকলে আপনি
সহজেই অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ
দারাজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়
একজন গুগল অ্যাডস বিশেষজ্ঞ Upwork, Fiverr বা LinkedIn এ প্রোফাইল তৈরি করে
আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকেও কাজ পেতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে ডলারে
পেমেন্ট পাওয়া যায় যা বাংলাদেশি মুদ্রায় অনেক বেশি হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং
শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে গুগল অ্যাডস বিশেষজ্ঞদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং
এই দক্ষতা ভবিষ্যতেও অনেক মূল্যবান থাকবে।
গুগল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
গুগল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার পদ্ধতিটি হলো গুগল সার্চ ও ব্লগের
মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের প্রচার করে প্রতিটি বিক্রয় থেকে কমিশন উপার্জন করা, এবং
এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কারণ এখানে নিজের কোনো পণ্য না
থাকলেও অন্যের পণ্য বিক্রি করে ভালো আয় সম্ভব। Amazon Associates, ClickBank,
Commission Junction বা দেশীয় বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের অ্যাফিলিয়েট
প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে শুরু করা যায়।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ভালো আয় করতে হলে একটি ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেলের
দরকার হয় যেখানে পণ্যের রিভিউ বা তুলনামূলক আর্টিকেল লিখে পাঠকদের কেনাকাটার
সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা হয়। আমি এমন কয়েকজনকে চিনি যারা শুধু অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং করে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করছেন এবং তাদের ব্লগে গুগল
সার্চ থেকে বেশিরভাগ ট্রাফিক আসে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সুবিধা হলো এটি একটি প্যাসিভ ইনকামের উৎস হতে পারে
অর্থাৎ একটি ভালো আর্টিকেল লিখে দিলে সেটা বছরের পর বছর ধরে আয় দিতে পারে কারণ
যতক্ষণ পর্যন্ত পাঠকরা সেই লিংকে ক্লিক করে পণ্য কিনছেন ততক্ষণ কমিশন আসতেই
থাকবে। এই ধরনের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে আর্থিক স্বাধীনতা
পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়।
গুগল অপিনিয়ন রিওয়ার্ডস থেকে আয়
গুগল অপিনিয়ন রিওয়ার্ডস থেকে আয় করার পদ্ধতিটি সবচেয়ে সহজ কারণ এখানে কোনো
দক্ষতা বা বিশেষ জ্ঞান ছাড়াই শুধু সার্ভে বা জরিপে অংশ নিয়ে গুগল প্লে ক্রেডিট
উপার্জন করা যায়। Google Opinion Rewards অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে
বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ইনস্টল করলে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন বিষয়ে সার্ভে পাঠানো
হয় এবং প্রতিটি সার্ভে সম্পন্ন করলে গুগল ক্রেডিট পাওয়া যায়।
এই ক্রেডিট দিয়ে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ, গেম, মুভি বা বই কেনা যায় এবং
এভাবে পরোক্ষভাবে প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার সমতুল্য সাশ্রয় করা সম্ভব।
প্রতিটি সার্ভে সাধারণত মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়
বলে এটি অন্য যেকোনো কাজের ফাঁকে করা সম্ভব।
এই পদ্ধতিটি মূল আয়ের উৎস না হলেও পার্শ্ব আয় হিসেবে অনেক কাজে লাগে এবং বিশেষ
করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি একটি ঝামেলামুক্ত ছোট আয়ের সুযোগ। বাংলাদেশে গুগল
অপিনিয়ন রিওয়ার্ডসের সার্ভে পাওয়ার হার কিছুটা কম হলেও নিয়মিত ব্যবহারকারীরা
প্রতি সপ্তাহে কিছু না কিছু সার্ভে পান। এই জন্য আমাদের জানতে হবে গুগল থেকে
টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায়।
গুগল ম্যাপে রিভিউ ও লোকাল গাইড থেকে আয়
গুগল ম্যাপে রিভিউ ও লোকাল গাইড প্রোগ্রাম থেকে আয় করার বিষয়টা অনেকের কাছেই
অজানা কারণ সরাসরি নগদ অর্থ না দিলেও এই প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে পয়েন্ট অর্জন করা
যায় যা পরবর্তীতে গুগলের বিভিন্ন সুবিধায় ব্যবহার করা সম্ভব। Google Local
Guide প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে আশেপাশের রেস্তোরাঁ, হোটেল, দোকান বা যেকোনো স্থানের
রিভিউ এবং ছবি আপলোড করলে গুগল পয়েন্ট দেয়।
এই পয়েন্ট থেকে সরাসরি টাকা না পেলেও গুগল Drive এর বাড়তি স্টোরেজ, গুগল One
সাবস্ক্রিপশন ডিসকাউন্ট এবং বিভিন্ন প্রিমিয়াম সার্ভিসে ছাড় পাওয়া যায় যা
অর্থের বিচারে অনেক মূল্যবান। এছাড়াও একজন সক্রিয় লোকাল গাইড হিসেবে পরিচিতি
পেলে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসার রিভিউ করার জন্য যোগাযোগ করেন
এবং পেইড রিভিউর সুযোগ তৈরি হয়।
আরো পড়ুনঃ
গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়
স্থানীয় ব্যবসার প্রচার করে অনেক লোকাল গাইড কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজেদের
পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সেখান থেকে ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাফিক আনতে
সক্ষম হয়েছেন। ছোট পরিসরে শুরু করে ধৈর্যের সাথে কাজ করলে এই পথ থেকেও একটি
উল্লেখযোগ্য আয় তৈরি করা সম্ভব।
গুগল ওয়ার্কস্পেস ও ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে আয়
গুগল ওয়ার্কস্পেস ও ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে আয় করা এমন একটি পদ্ধতি যেটা অনেকে
সরাসরি গুগল থেকে আয় বলে মনে না করলেও গুগলের তৈরি বিভিন্ন টুল যেমন গুগল ডকস,
গুগল শিট, গুগল স্লাইড, গুগল ফর্ম ইত্যাদিতে দক্ষতা অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিং
মার্কেটে কাজ করে ভালো আয় করা সম্ভব। ডাটা এন্ট্রি, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট,
ডকুমেন্ট ফরম্যাটিং বা গুগল শিটে ড্যাশবোর্ড তৈরির কাজের চাহিদা আন্তর্জাতিক
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে প্রচুর।
গুগলের অ্যাপস স্ক্রিপ্ট শিখে গুগল শিট বা গুগল ফর্মে অটোমেশন তৈরি করার দক্ষতা
অর্জন করলে Upwork বা Fiverr এ প্রতি ঘণ্টায় ২০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত আয় করা
সম্ভব যা বাংলাদেশি মুদ্রায় অনেক বেশি। আমার পরিচিত একজন ফ্রিল্যান্সার শুধু
গুগল শিট অটোমেশনের কাজ করে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা আয় করছেন।
গুগলের বিভিন্ন টুলে দক্ষতা তৈরি করতে Google Skillshop এবং Coursera তে গুগলের
অফিসিয়াল কোর্সগুলো সম্পন্ন করা যায় যেগুলো বেশিরভাগই বিনামূল্যে পাওয়া যায়
এবং সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়। তাই গুগল ওয়ার্কস্পেসে দক্ষতা অর্জন করে
ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই আয়ের পথ হতে
পারে। গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায় জানা থাকলে আপনি
সহজেই ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।
লেখকের শেষ কথা
গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ৯টি কার্যকর
পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি যেগুলোর প্রতিটিই বাংলাদেশ থেকে বসে শুরু
করা সম্ভব এবং প্রতিটি পদ্ধতিতেই ধৈর্য ও পরিশ্রম করলে ভালো আয় করা যায়। ব্লগ
থেকে শুরু করে ইউটিউব, অ্যাপ তৈরি থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং, গুগলের বিশাল
ইকোসিস্টেম আপনার জন্য অনেক সুযোগ তৈরি করে রেখেছে শুধু সেই সুযোগগুলো সঠিকভাবে
কাজে লাগানোর অপেক্ষা।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে গুগল থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৯টি উপায়, গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে ব্লগ
থেকে আয়, ইউটিউব চ্যানেল খুলে গুগল থেকে আয়, গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ বিক্রি করে
আয়, গুগল অ্যাডওয়ার্ডস বা গুগল অ্যাডস দিয়ে আয়, গুগল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
করে আয়, গুগল অপিনিয়ন রিওয়ার্ডস থেকে আয়, গুগল ম্যাপে রিভিউ ও লোকাল গাইড
থেকে আয়, গুগল ওয়ার্কস্পেস ও ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে আয় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url