বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে
বিকাশ নাকি নগদ কোনটা বেশি ভালো জেনে নিন
বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে এই প্রশ্নটা প্রায় প্রতিটা বিকাশ ব্যবহারকারীর
জীবনে অন্তত একবার হলেও এসে থাকে। হঠাৎ টাকা পাঠাতে গিয়ে বা ক্যাশ আউট করতে
গিয়ে পিন মনে করতে না পারলে সেই মুহূর্তে বেশ অস্বস্তিকর একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি
হয়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমি ধাপে ধাপে দেখাব কীভাবে আপনি ঘরে বসেই নিজের বিকাশ পিন
রিসেট করতে পারবেন, কী কী তথ্য প্রয়োজন হবে এবং কোন কোন বিষয় সতর্কতার সাথে
খেয়াল রাখতে হবে। অ্যাপ ও ইউএসএসডি কোড, দুই পদ্ধতিই এখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা
করা হয়েছে।
পেজ সূচিপত্রঃ বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে
- বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে
- বিকাশ অ্যাপ থেকে পিন রিসেট করার নিয়ম
- ইউএসএসডি কোড দিয়ে পিন রিসেট করার পদ্ধতি
- পিন রিসেটের জন্য কী কী তথ্য প্রয়োজন হবে
- এনআইডি ও লেনদেনের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
- পিন রিসেট না হলে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগর মাধ্যম
- নিকটস্থ বিকাশ এজেন্টের সাহায্য নেওয়ার নিয়ম
- নতুন পিন সেট করার সময় যা মাথায় রাখবেন
- পিন সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে সাবধানে থাকার মাধ্যম
- লেখকের শেষ কথা
বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে
বিকাশ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হয়ে
উঠেছে, আর প্রতিদিনের লেনদেনে এই পিন নম্বরটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার কারণে বা
নতুন কোনো পিন সেট করার পর পুরনো অভ্যাসবশত ভুলে যাওয়ার কারণে অনেকেই হঠাৎ করে
নিজের পিন মনে করতে পারেন না। এটা একেবারেই স্বাভাবিক একটা বিষয়, তাই এই নিয়ে
অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আমি বিভিন্ন সময়ে দেখেছি, অনেকে পিন ভুলে গেলে ঘাবড়ে গিয়ে বিভিন্ন অপরিচিত
নম্বরে ফোন করে বা অজানা লিংকে ক্লিক করে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন, যা আসলে
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটা কাজ। বিকাশ পিন রিসেট করার জন্য শুধুমাত্র তাদের
অফিসিয়াল অ্যাপ, নির্দিষ্ট ইউএসএসডি কোড এবং অফিসিয়াল হেল্পলাইনই ব্যবহার করা
উচিত। এর বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে অ্যাকাউন্ট হ্যাক
হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই আর্টিকেলে আমি বিকাশের বর্তমান অফিসিয়াল পিন রিসেট প্রক্রিয়া নিয়ে
বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনি নিজে থেকেই নিরাপদভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে
পারেন। প্রতিটা ধাপ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে যেকোনো বয়সের মানুষও
সহজেই এটা অনুসরণ করতে পারেন।
বিকাশ অ্যাপ থেকে পিন রিসেট করার নিয়ম
বর্তমানে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে পিন রিসেট করাটাই সবচেয়ে সহজ ও দ্রুততম পদ্ধতি।
প্রথমে বিকাশ অ্যাপ খুলে লগইন স্ক্রিনে গিয়ে "পিন ভুলে গিয়েছেন?" অপশনে ট্যাপ
করতে হবে। এরপর "পিন রিসেট" অপশন নির্বাচন করলে স্ক্রিনে একটা পপ-আপ ব্যানার
দেখানো হবে, যেখানে সরাসরি ইউএসএসডি কোড ডায়াল করার একটা বাটন থাকবে। সেই বাটনে
ট্যাপ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে *247# কোডটা ডায়াল হয়ে যাবে।
এরপর মাই বিকাশ মেনু থেকে পিন রিসেট নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা চাপতে
হবে, সাধারণত এটা আট নম্বর অপশন হিসেবে দেখানো হয়। পিন রিসেট নিশ্চিত করার পর
আবার অ্যাপে ফিরে এসে বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটা মাত্র
কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন করা যায়, যদি সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়। এই
জন্য আমাদের জানতে হবে বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ একাউন্ট হ্যাক হলে কী করবেন জেনে নিন
প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে আপনাকে নতুন পাঁচ সংখ্যার একটা পিন নম্বর দিতে হবে এবং সেটা
আরেকবার লিখে নিশ্চিত করতে হবে। দুইবার একই পিন সঠিকভাবে দিলে বিকাশ আপনার নতুন
পিন সেট করে দেবে এবং একটা কনফার্মেশন মেসেজ পাঠাবে। এরপর থেকে নতুন এই পিন
দিয়েই আপনি সব ধরনের লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
ইউএসএসডি কোড দিয়ে পিন রিসেট করার পদ্ধতি
যাদের স্মার্টফোন নেই বা অ্যাপ ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য সরাসরি ইউএসএসডি
কোড ব্যবহার করেও পিন রিসেট করা সম্ভব। যেকোনো মোবাইল থেকে *247# ডায়াল করলে
একটা মেনু দেখানো হবে, যেখান থেকে "মাই বিকাশ" অপশনটা নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত
এটা নয় নম্বর অপশন হিসেবে থাকে, তবে সময়ের সাথে মেনুর নম্বর পরিবর্তন হতে পারে,
তাই স্ক্রিনে দেখানো নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেওয়া উচিত।
মাই বিকাশ মেনুতে প্রবেশ করার পর "চেঞ্জ পিন" বা "রিসেট পিন" নামে একটা অপশন
খুঁজে পাওয়া যাবে, যেখানে ক্লিক করলে পরবর্তী ধাপগুলো শুরু হবে। বর্তমান পিন মনে
থাকলে সেটা দিয়ে সরাসরি পরিবর্তন করা যায়, আর পিন সম্পূর্ণ ভুলে গেলে "পিন ভুলে
গেছি" জাতীয় অপশন বেছে নিতে হবে, যেখানে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু
তথ্য চাওয়া হবে।
এই পদ্ধতিতে প্রতিটা ধাপে স্ক্রিনে দেখানো নির্দেশনা মনোযোগ সহকারে পড়ে সঠিক
অপশন বেছে নেওয়া জরুরি, কারণ ভুল অপশন সিলেক্ট করলে প্রক্রিয়া আবার শুরু থেকে
করতে হতে পারে। ধীরস্থিরভাবে প্রতিটা ধাপ অনুসরণ করলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই
ইউএসএসডি কোডের মাধ্যমেও পিন রিসেট করা সম্ভব হয়। বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি
করতে হবে যানা থাকলে অন্য দের ও সাহায্য করতে পারবেন।
পিন রিসেটের জন্য কী কী তথ্য প্রয়োজন হবে
পিন রিসেট করার সময় বিকাশ আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট তথ্য
চেয়ে থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যটা প্রয়োজন হয় তা হলো আপনার জাতীয়
পরিচয়পত্রের নম্বর, যেটা দিয়ে অ্যাকাউন্টটা মূলত রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। তাই
পিন রিসেট প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিজের এনআইডি নম্বরটা হাতের কাছে রাখা উচিত,
যাতে প্রক্রিয়ার মাঝপথে আটকে যেতে না হয়।
এনআইডি নম্বরের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে করা কোনো আউটগোয়িং লেনদেনের তথ্যও
জিজ্ঞেস করা হতে পারে, যেমন সর্বশেষ কোনো নম্বরে টাকা পাঠিয়েছিলেন বা কত টাকা
লেনদেন করেছিলেন। তাই পিন রিসেট করার আগে নিজের সাম্প্রতিক লেনদেনের ইতিহাস একটু
মনে করার চেষ্টা করুন, কারণ এই তথ্য সঠিকভাবে দিতে পারলে যাচাই প্রক্রিয়া অনেক
দ্রুত সম্পন্ন হয়।
কিছু ক্ষেত্রে আপনার জন্মতারিখ বা অ্যাকাউন্ট খোলার সময়কার অন্যান্য তথ্যও
জিজ্ঞেস করা হতে পারে। এই সমস্ত তথ্য আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে পুরো প্রক্রিয়াটা
অনেক সহজ ও দ্রুত হয়ে যায়। কোনো তথ্য নিয়ে অনিশ্চিত থাকলে অনুমান করে ভুল তথ্য
না দিয়ে বরং সঠিক তথ্য খুঁজে বের করে তারপর প্রক্রিয়া শুরু করাই বুদ্ধিমানের
কাজ। এই জন্য আপনি ও জেনে নিন বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে।
এনআইডি ও লেনদেনের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিকাশ কেন এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য যাচাই করে থাকে, তার পেছনে মূল কারণ হলো
অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেহেতু বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি
টাকা লেনদেন হয়, তাই কেউ যদি অন্যের অ্যাকাউন্টের পিন পরিবর্তন করার চেষ্টা করে,
তাহলে এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া সেটা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এনআইডি নম্বর আর
সাম্প্রতিক লেনদেনের তথ্য একসাথে মিলিয়ে দেখাটা প্রকৃত অ্যাকাউন্ট মালিক শনাক্ত
করার একটা কার্যকর পদ্ধতি।
আমি দেখেছি, অনেকে এই যাচাই প্রক্রিয়াকে জটিল মনে করে বিরক্ত হন, কিন্তু আসলে এই
নিরাপত্তা ব্যবস্থাটাই আমাদের অ্যাকাউন্টকে অন্যের হাতে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা
করে। যদি এই যাচাই প্রক্রিয়া না থাকত, তাহলে যে কেউ শুধু ফোন নম্বর জেনে অন্যের
অ্যাকাউন্টের পিন পরিবর্তন করে ফেলতে পারত, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটা পরিস্থিতি
তৈরি করত।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ থেকে লোন কিভাবে নেব এবং শর্ত কি কি
তাই পিন রিসেট প্রক্রিয়ায় এই তথ্যগুলো চাওয়া হলে বিরক্ত না হয়ে বরং এটাকে
আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার একটা অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সঠিক
তথ্য দিয়ে ধৈর্য ধরে প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করলে আপনি নিজেই দেখবেন যে এটা আসলে
খুব বেশি সময়সাপেক্ষ নয়, বরং একটা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা স্তর।
পিন রিসেট না হলে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগের উপায়
যদি অ্যাপ বা ইউএসএসডি কোড দিয়ে চেষ্টা করার পরও পিন রিসেট করতে না পারেন, অথবা
পিন লক হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সরাসরি বিকাশের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে
যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভালো সমাধান। বিকাশের হেল্পলাইন নম্বর ১৬২৪৭ এ কল করে আপনার
সমস্যার কথা জানালে তাদের প্রতিনিধি আপনাকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সঠিক
দিকনির্দেশনা দেবেন।
হেল্পলাইনে কল করার সময় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হতে পারে, কারণ অনেক সময় কল
ভলিউম বেশি থাকলে লাইনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এক্ষেত্রে বিরক্ত না হয়ে
শান্তভাবে অপেক্ষা করা উচিত, কারণ প্রতিনিধির সাথে সরাসরি কথা বলতে পারলে
সমস্যাটা দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। প্রতিনিধি আপনার পরিচয়
যাচাইয়ের জন্য কিছু প্রশ্ন করবেন, তাই আগে থেকে এনআইডি নম্বর ও লেনদেনের তথ্য
প্রস্তুত রাখা ভালো।
যদি ফোনে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে ইমেইলের মাধ্যমেও বিকাশের সাথে যোগাযোগ
করা যায়। support@bkash.com ঠিকানায় আপনার সমস্যার বিস্তারিত বর্ণনা লিখে মেইল
পাঠালে তাদের সাপোর্ট টিম যাচাই করে যথাযথ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে
ইমেইলের মাধ্যমে সমাধান পেতে ফোন কলের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। এই
জন্য বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে জেনে রাখা ভালো।
নিকটস্থ বিকাশ এজেন্টের সাহায্য নেওয়ার নিয়ম
যদি অ্যাপ, ইউএসএসডি কোড বা হেল্পলাইন কোনো মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান না হয়,
তাহলে নিকটস্থ কোনো বিকাশ এজেন্ট পয়েন্টে সরাসরি গিয়ে সাহায্য নেওয়া যেতে
পারে। এজেন্টরা প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার পিন পুনরায়
সেট করে দিতে সাহায্য করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের
মূল কপি সাথে নিয়ে যাওয়া জরুরি, কারণ এটা ছাড়া পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করা সম্ভব
হবে না।
এজেন্ট পয়েন্টে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিন যে সেটা একটা অফিসিয়াল ও
নিবন্ধিত বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট। সাইনবোর্ডে বিকাশের অফিসিয়াল লোগো ও এজেন্ট
নম্বর দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়। কখনোই কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছে নিজের পিন বা
এনআইডি সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়, শুধুমাত্র অফিসিয়াল এজেন্ট বা
কাস্টমার কেয়ারের সাথেই এই তথ্য শেয়ার করা নিরাপদ।
এজেন্টের মাধ্যমে পিন রিসেট করার সময় লক্ষ্য রাখুন যেন পুরো প্রক্রিয়াটা আপনার
সামনেই সম্পন্ন হয় এবং নতুন পিনটা আপনি নিজেই টাইপ করেন, কোনো এজেন্ট বা অন্য
কারো সামনে নিজের পিন প্রকাশ না করাই সবচেয়ে নিরাপদ। এই সতর্কতা মেনে চললে
এজেন্টের মাধ্যমেও নিরাপদভাবে পিন রিসেট করা সম্ভব হয়।
নতুন পিন সেট করার সময় যা মাথায় রাখবেন
নতুন পিন সেট করার সময় এমন একটা সংখ্যা বেছে নেওয়া উচিত যা সহজে মনে রাখা যায়,
কিন্তু অন্য কেউ সহজে অনুমান করতে পারবে না। জন্মতারিখ, ফোন নম্বরের শেষ কয়েক
সংখ্যা বা ধারাবাহিক সংখ্যা যেমন ১২৩৪৫ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এই
ধরনের সহজ পিন অন্য কেউ সহজেই অনুমান করে ফেলতে পারে। বরং এমন একটা সংমিশ্রণ বেছে
নিন যা শুধু আপনার কাছেই অর্থবহ।
পিন সেট করার পর সেটা কোথাও লিখে না রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে মোবাইলের
নোট অ্যাপে বা কোনো কাগজে লিখে মানিব্যাগে রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত। যদি লিখে
রাখতেই হয়, তাহলে এমন কোনো জায়গায় রাখুন যেখানে অন্য কারো নজরে পড়ার সম্ভাবনা
নেই। সবচেয়ে ভালো হয় যদি পিনটা শুধু নিজের স্মৃতিতেই রাখতে পারেন।
নিয়মিত বিরতিতে পিন পরিবর্তন করার অভ্যাসও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়িয়ে
দেয়। প্রতি কয়েক মাস পর পর পিন পরিবর্তন করলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যাকাউন্ট হ্যাক
হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আমি দেখেছি, যারা নিয়মিত পিন পরিবর্তন করেন এবং
কারো সাথে পিন শেয়ার করেন না, তাদের অ্যাকাউন্ট তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ
থাকে।
পিন সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার মাধ্যম
বাংলাদেশে বিকাশ সংক্রান্ত প্রতারণা একটা সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে
প্রতারকরা নিজেদের বিকাশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে পিন নম্বর জানতে চায়।
মনে রাখা জরুরি, বিকাশ কর্তৃপক্ষ কখনোই ফোনে বা মেসেজে গ্রাহকের পিন নম্বর জানতে
চায় না। যদি কেউ নিজেকে বিকাশের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে পিন জানতে চায়, তাহলে
সেটা অবশ্যই একটা প্রতারণার চেষ্টা এবং সাথে সাথে কল কেটে দেওয়া উচিত।
এছাড়া অনেক সময় প্রতারকরা ভুয়া পুরস্কার বা অফারের কথা বলে ওটিপি কোড বা পিন
জানতে চায়। এই ধরনের কোনো কল বা মেসেজ পেলে সাথে সাথে সন্দেহজনক মনে করা উচিত
এবং কোনো অবস্থাতেই এই তথ্য শেয়ার করা যাবে না। প্রকৃত বিকাশ কর্তৃপক্ষ কখনো এই
ধরনের অফার দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চায় না।
যদি কখনো এই ধরনের প্রতারণামূলক কল বা মেসেজ পান, তাহলে সেটা বিকাশের হেল্পলাইনে
জানানো উচিত, যাতে অন্যান্য গ্রাহকদেরও সতর্ক করা যায়। নিজের পরিবারের বয়স্ক
সদস্য বা যারা প্রযুক্তির সাথে কম পরিচিত, তাদেরও এই বিষয়ে সচেতন করে রাখা উচিত,
কারণ প্রতারকরা সাধারণত কম সচেতন মানুষদেরই বেশি টার্গেট করে থাকে।
লেখকের শেষ কথা
শেষ কথা হলো, বিকাশ পিন ভুলে গেলে এবং হঠাৎ এই ধরনের সমস্যায় পড়লেও ঘাবড়ানোর
কিছু নেই। অ্যাপ বা ইউএসএসডি কোডের মাধ্যমে নিজে থেকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পিন
রিসেট করা সম্ভব, আর সেটা না হলে কাস্টমার কেয়ার বা নিকটস্থ এজেন্টের সাহায্য
নেওয়ার সুযোগ তো থাকছেই। শুধু মনে রাখতে হবে সবসময় অফিসিয়াল মাধ্যমেই এই
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে, বিকাশ অ্যাপ থেকে পিন রিসেট করার
নিয়ম, ইউএসএসডি কোড দিয়ে পিন রিসেট করার পদ্ধতি, পিন রিসেটের জন্য কী কী তথ্য
প্রয়োজন হবে, এনআইডি ও লেনদেনের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, পিন রিসেট না হলে
কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগর মাধ্যম, নিকটস্থ বিকাশ এজেন্টের সাহায্য নেওয়ার
নিয়ম, নতুন পিন সেট করার সময় যা মাথায় রাখবেন, পিন সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে
সাবধানে থাকার মাধ্যম ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url