বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে

অনলাইনে ওমরাহ ভিসা আবেদন করার নিয়ম

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে এটা জানা আমাদের জন্য জরুরী যদি আপনি দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান।

বাংলাদেশ-থেকে-কোন-কোন-দেশের-কাজের-ভিসা-চালু-আছে

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কোন কোন দেশে বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসা বর্তমানে চালু আছে এবং কীভাবে আপনি সেই দেশগুলোতে সহজেই যেতে পারবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে তা জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে যে কাজের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের উপর যেমন আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার উপরে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশে কাজের ভিসা পাওয়া সম্ভব এবং প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভিসা প্রসেস নিয়ম রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত এবং বাহরাইন দেশগুলোতেই কাজের অনেক চাহিদা হয়েছে।

এছাড়া এশিয়ার মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুর জাপান দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রুনাই এও কাজের সুযোগ রয়েছে।ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে রোমানিয়া, পোল্যান্ড, হাংগেরি, চেক রিপাবলিক, ইটালি, স্পেন, পর্তুগাল এবং গ্রিস বাংলাদেশিদের জন্য কাজের ভিসা দিচ্ছে। উত্তর আমেরিকার কানাডা এবং ওশেনিয়ার অস্ট্রেলিয়া স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা দিয়ে থাকে।

এর পাশাপাশি আফ্রিকার মরিশাস, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য যাচ্ছেন এবং তারা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স। তাই বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে এই তথ্য জানা আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আপনার জীবন বদলে দেওয়ার একটি সুযোগ হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কি কাজের ভিসা পাওয়া যায়

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজের ভিসা এবং চাকরির সুযোগ আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি। সৌদি আরব হলো বাংলাদেশি শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য যেখানে বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন। সৌদি আরবে কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিং, হাসপাতাল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং ক্লিনিং সেক্টরে প্রচুর চাকরির সুযোগ রয়েছে। আরব আমিরাতে বিশেষত দুবাই এবং আবুধাবিতে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন এবং এখানে বেতন তুলনামূলক ভাবে বেশি পাওয়া যায়।

কাতার যেখানে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে এখনো নির্মাণ এবং সার্ভিস সেক্টরে প্রচুর চাকরি আছে এবং এখানে বেতন ও সুবিধা অন্যান্য দেশের চেয়ে ভালো। ওমান কুয়েত এবং বাহরাইন তুলনামূলকভাবে ছোট দেশ হলেও এখানে কাজের পরিবেশ এবং নিয়মিত বেতন পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজের ভিসার একটি বড় সুবিধা হলো এখানে ভিসা প্রসেসিং তুলনামূলকভাবে দ্রুত হয় সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এবং খরচও অপেক্ষাকৃত কম।

এই দেশগুলোতে মূলত কাফালা সিস্টেমে ভিসা দেওয়া হয় যেখানে একজন স্পন্সর বা নিয়োগকর্তা আপনার দায়িত্ব নেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেতে হলে মেডিকেল টেস্ট পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং দূতাবাস থেকে ভিসা স্ট্যাম্প নিতে হয়। এই দেশগুলো বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কারণ এখানে ইসলামিক পরিবেশ এবং হালাল খাবার সহজে পাওয়া যায়।

ইউরোপীয় কোন দেশগুলোতে কাজের ভিসা পাওয়া যায়

ইউরোপীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য কাজের ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হলেও বর্তমানে অনেক দেশ শ্রমিক সংকটের কারণে বাংলাদেশি ওয়ার্কারদের কাজ দিচ্ছে। রোমানিয়া বর্তমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে সহজ কাজের স্থান হয়ে উঠেছে যেখানে কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিং, ফ্যাক্টরি এবং এগ্রিকালচার সেক্টরে প্রচুর চাকরি রয়েছে। রোমানিয়ায় বেতন ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে কম হলেও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি এবং এখানে পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পোল্যান্ড এবং হাংগেরি এও একই ধরনের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে বিশেষত যারা টেকনিক্যাল স্কিল জানেন তাদের জন্য। চেক রিপাবলিকে মেকানিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে বাংলাদেশি স্কিলড ওয়ার্কারদের চাহিদা বাড়ছে এবং এখানে কাজের পরিবেশ অনেক ভালো। ইটালি স্পেন এবং পর্তুগাল এ এগ্রিকালচার হসপিটালিটি এবং কেয়ার সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে বিশেষত যারা কিছু ইংরেজি জানেন এবং কৃষি কাজে অভিজ্ঞতা আছে। গ্রিস সাইপ্রাস এবং মাল্টা এও সিজনাল ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া যায় যেখানে পর্যটন এবং কৃষি খাতে কাজ করা যায়।

ইউরোপীয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষিত নিয়মিত বেতন এবং ওভারটাইম পেমেন্ট নিশ্চিত এবং কয়েক বছর পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে ইউরোপে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি সাধারণত ৮ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং ভিসা প্রসেসিং সময় লাগে ছয় মাস থেকে এক বছর। এছাড়া এই দেশগুলোতে ভাষা একটি বড় বাধা যদিও কিছু কোম্পানি ইংরেজি জানা শ্রমিক নেয়। ইউরোপে কাজের ভিসা পেতে হলে সাধারণত একটি জব অফার লেটার প্রয়োজন হয় যা নিয়োগকর্তা পাঠান।

মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে কি কাজের ভিসার পাওয়া যায়

মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহী কারণ এই দেশগুলো আমাদের তুলনামূলকভাবে কাছে এবং মুসলিম প্রধান পরিবেশ। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন বিভিন্ন সেক্টরে যেমন কনস্ট্রাকশন, ম্যানুফ্যাকচারিং, প্ল্যান্টেশন, রেস্টুরেন্ট এবং সিকিউরিটি। মালয়েশিয়ার কাজের ভিসা প্রসেস তুলনামূলকভাবে সহজ এবং দ্রুত হয় সাধারণত তিন থেকে চার মাসে এবং খরচও মাঝারি পর্যায়ের প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। মালয়েশিয়ায় বেতন মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং এখানে ওভারটাইমের সুযোগ প্রচুর রয়েছে।
বাংলাদেশ-থেকে-কোন-কোন-দেশের-কাজের-ভিসা-চালু
এছাড়া মালয়েশিয়ায় হালাল খাবার এবং মসজিদ পাওয়া সহজ যা আমাদের জন্য একটি বড় সুবিধা।তবে সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন ভিসা ইসু করার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হয়েছে। সিঙ্গাপুর হলো এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি এবং এখানে বেতন এবং সুবিধা অনেক বেশি কিন্তু ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন। সিঙ্গাপুরে মূলত কনস্ট্রাকশন শিপইয়ার্ড ডমেস্টিক হেল্পার এবং হসপিটালিটি সেক্টরে কাজের চাহিদা আছে।

সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পারমিট পেতে হলে স্পন্সর কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন করতে হয় এবং নির্দিষ্ট স্কিল টেস্ট পাস করতে হয়। সিঙ্গাপুরে বেতন অনেক বেশি পাওয়া যায় সাধারণ শ্রমিকরাও মাসে ৮০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। তবে সিঙ্গাপুরে থাকার খরচও অনেক বেশি। মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর উভয় দেশেই ভিসা পেতে হলে মেডিকেল ফিটনেস এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন। এই জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে।

কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াতে কি ওয়ার্কার ভিসা পাওয়া যায়

কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা প্রোগ্রাম অনেকের জন্য স্বপ্নের মতো কারণ এই দেশগুলো উন্নত জীবনযাত্রার মান এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়। কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেম এবং প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম পিএনপি এর মাধ্যমে স্কিলড ওয়ার্কাররা ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। কানাডায় আইটি প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার হেলথকেয়ার ওয়ার্কার ট্রেডস পার্সন যেমন কার্পেন্টার ইলেকট্রিশিয়ান প্লাম্বার এবং ওয়েল্ডার এবং এগ্রিকালচার ওয়ার্কারদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
কানাডায় স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার জন্য আইইএলটিএস স্কোর শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়ন এবং কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ প্রয়োজন। এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমে আপনাকে পয়েন্ট বেসড সিস্টেমে মূল্যায়ন করা হয় এবং যাদের পয়েন্ট বেশি তারা দ্রুত ভিসা পান। অস্ট্রেলিয়ার স্কিলড ইমিগ্রেশন প্রোগ্রাম একইভাবে পয়েন্ট বেসড এবং এখানে স্কিলড অকুপেশন লিস্ট এসওএল অনুযায়ী পেশাভিত্তিক ভিসা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় আইটি স্বাস্থ্যসেবা ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেডস এবং এগ্রিকালচার সেক্টরে বিশাল চাহিদা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেতে হলে স্কিল এসেসমেন্ট করতে হয় যেখানে আপনার শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা যাচাই করা হয়। কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এই দেশগুলোতে পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় সন্তানরা বিনামূল্যে শিক্ষা পায় এবং কয়েক বছর পর স্থায়ী নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এই দেশগুলোতে ভিসা পেতে সময় লাগে এক থেকে দুই বছর এবং খরচ অনেক বেশি প্রায় ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা যদি কনসালট্যান্টের মাধ্যমে করেন। এছাড়া ভালো আইইএলটিএস স্কোর সাধারণত ৬.৫ বা তার বেশি প্রয়োজন। তবে এই দেশগুলোতে যদি একবার প্রবেশ করতে পারেন তবে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা এবং নিরাপত্তা পাওয়া যায়।

জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে কি কাজের ভিসা পাওয়া যায়

জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ কাজের ভিসা সুবিধা রয়েছে আমাদের জন্য বিশেষ করে যারা টেকনিক্যাল স্কিল শিখতে চান তাদের জন্য। জাপান সরকার তাদের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম টিআইটিপি এবং নতুন স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা এসএসডব্লিউ এর মাধ্যমে বাংলাদেশিদের নিয়োগ দিচ্ছে। জাপানে কনস্ট্রাকশন এগ্রিকালচার ম্যানুফ্যাকচারিং নার্সিং কেয়ার এবং ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর চাকরি রয়েছে। জাপানের কাজের ভিসা পেতে হলে জাপানি ভাষা শেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কমপক্ষে এন৫ বা এন৪ লেভেল এবং নির্দিষ্ট ট্রেনিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।

জাপানে বেতন অনেক বেশি পাওয়া যায় মাসে ১.৫ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং কাজের উপরে নির্ভর করে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস সিস্টেম এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম এর মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হয় যা একটি সরকারি প্রোগ্রাম। দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে হলে কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষা টপিক এবং স্কিল টেস্ট পাস করতে হয় যা বাংলাদেশ সরকারের ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বোয়েসেল আয়োজন করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ম্যানুফ্যাকচারিং ফিশিং এগ্রিকালচার এবং কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কাজ করা যায় এবং বেতন মাসে ১.২ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।

জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয় দেশেই শ্রমিক অধিকার সুরক্ষিত এবং নিয়মিত বেতন ও ওভারটাইম পেমেন্ট নিশ্চিত করা হয়। এই দেশগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে স্কিল শেখার সুযোগ পাওয়া যায় এবং কয়েক বছর কাজ করার পর ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে বা অন্য দেশে যাওয়া সম্ভব। তবে এই দেশগুলোর ভাষা এবং কালচার সম্পূর্ণ আলাদা যা প্রথম দিকে অনেক চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা প্রসেস সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সরকারি যার ফলে জালিয়াতির সম্ভাবনা কম এবং খরচও কম।

আফ্রিকান দেশগুলোতে কি বাংলাদেশ থেকে কাজ পাওয়া যায়

আফ্রিকান দেশগুলোতে কাজের নতুন সুযোগ এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে অনেকেই জানেন না কিন্তু বর্তমানে আফ্রিকা কাজের জন্য একটি ভালো জায়গা হতে পারে। মরিশাস একটি ছোট দ্বীপ দেশ হলেও এখানে হোটেল রেস্টুরেন্ট কনস্ট্রাকশন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে বাংলাদেশিদের চাহিদা বাড়ছে। মরিশাস একটি সুন্দর পর্যটন দেশ এবং এখানে বেতন মাঝারি পর্যায়ের কিন্তু কাজের পরিবেশ ভালো। মোজাম্বিক এবং তানজানিয়ায় কনস্ট্রাকশন এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্টে প্রচুর চাকরি তৈরি হচ্ছে এবং চাইনিজ কোম্পানিগুলো সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে।

নাইজেরিয়া আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং এখানে আইটি প্রফেশনাল স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকার সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি এবং এখানে স্কিলড ওয়ার্কার এবং প্রফেশনালদের জন্য ভালো বেতন এবং সুযোগ রয়েছে। কেনিয়া উগান্ডা এবং ঘানায়ও এনজিও প্রজেক্ট এবং প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আফ্রিকান দেশগুলোতে কাজের ভিসা পেতে সাধারণত একটি জব অফার প্রয়োজন এবং ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস করতে হয়।

আফ্রিকায় কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে প্রতিযোগিতা কম এবং নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। তবে আফ্রিকায় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কিছু দেশে সমস্যা হতে পারে তাই যাওয়ার আগে ভালো করে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। আফ্রিকায় বেতন মধ্যপ্রাচ্যের মতো বা কিছুটা কম হতে পারে কিন্তু থাকার খরচও কম এবং বাঁচানোর সুযোগ আছে। আফ্রিকান দেশগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি বড় বাজার হতে পারে যদি সঠিক পরিকল্পনা এবং সচেতনতার সাথে এগিয়ে যাওয়া হয়।

কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি দক্ষতা প্রয়োজন

কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং দক্ষতা নির্ভর করে আপনি কোন দেশে এবং কোন সেক্টরে যেতে চাচ্ছেন তার উপর। সাধারণভাবে বলতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতা ভাষা দক্ষতা এবং টেকনিক্যাল স্কিল হলো মূল বিষয়গুলো। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে যেতে হলে সাধারণত অষ্টম শ্রেণি পাস থাকলেই চলে কিন্তু স্কিলড ওয়ার্কার যেমন ইলেকট্রিশিয়ান প্লাম্বার ড্রাইভার এর জন্য সার্টিফিকেট এবং অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ইউরোপীয় দেশগুলোতে সাধারণত এসএসসি বা এইচএসসি পাস এবং নির্দিষ্ট স্কিল ট্রেনিং সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।

কানাডা অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য উন্নত দেশে যেতে হলে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি এবং প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ভাষা দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত যদি আপনি ইউরোপ কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান। আইইএলটিএস টেস্টে কমপক্ষে ৫.৫ থেকে ৬.৫ স্কোর থাকলে অনেক দেশে ভিসা পেতে সুবিধা হয়। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য সেই দেশের ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক। টেকনিক্যাল স্কিল যেমন ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ার্ক প্লাম্বিং ড্রাইভিং মেশিন অপারেশন এবং আইটি স্কিল থাকলে বিদেশে ভালো বেতনের চাকরি পাওয়া সহজ হয়।

এছাড়া সফট স্কিল যেমন কমিউনিকেশন টিম ওয়ার্ক এবং অ্যাডাপ্টেবিলিটি বিদেশে সফল হতে সাহায্য করে। অনেক দেশে কাজের ভিসা পেতে মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয় যা আপনার স্বাস্থ্য এবং চরিত্র যাচাই করে। সবশেষে ধৈর্য এবং মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি কারণ বিদেশে কাজ করা এবং পরিবার থেকে দূরে থাকা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। সঠিক যোগ্যতা এবং দক্ষতা থাকলে বিদেশে ভালো ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব এবং পরিবারের জীবনমান উন্নত করা যায়।

কাজের ভিসা প্রসেস হতে কতো সময় লাগে

ভিসা প্রসেস এবং এজেন্সি বাছাইয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি কারণ এই ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঘটনা খুবই বেশি। বাংলাদেশে অসংখ্য ভিসা এজেন্সি এবং দালাল রয়েছে যারা বিদেশে কাজের লোভ দেখিয়ে মানুষকে প্রতারণা করে। প্রথমেই জানতে হবে যে কোন দেশে যাওয়ার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড ডব্লিউইডব্লিউবি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হতে হবে।
ডব্লিউইডব্লিউবির ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সির তালিকা দেখতে পারবেন এবং যাচাই করতে পারবেন। কখনোই অপরিচিত দালাল বা এজেন্টের কাছে টাকা দেবেন না এবং সব লেনদেন অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে করুন যাতে প্রমাণ থাকে। ভিসা প্রসেসে যে খরচ হয় তা অবশ্যই রসিদ সহ নিন এবং কোনো এজেন্সি যদি আপনাকে অস্বাভাবিক বেশি টাকা চায় বা খুব তাড়াতাড়ি ভিসা দেওয়ার গ্যারান্টি দেয় তবে সতর্ক হন কারণ এটি জালিয়াতির লক্ষণ হতে পারে।

বিদেশে যাওয়ার আগে আপনার জব কন্ট্রাক্ট ভালোভাবে পড়ুন এবং বুঝে নিন কী কী শর্ত আছে এবং কত বেতন পাবেন। অনেক সময় কন্ট্রাক্টে একটি বেতন লেখা থাকে কিন্তু বাস্তবে কম দেওয়া হয় তাই যাওয়ার আগে সব কিছু স্পষ্ট করে নিন। দূতাবাসের ভিসা স্ট্যাম্প অবশ্যই চেক করুন এবং নিশ্চিত হন যে এটি আসল কিনা। কিছু জালিয়াত গ্রুপ নকল ভিসা স্ট্যাম্প তৈরি করে মানুষকে ঠকায়। আপনার পাসপোর্ট কখনোই এজেন্টের কাছে জমা রাখবেন না বরং প্রসেসিং এর সময় ছাড়া সবসময় নিজের কাছে রাখুন।

বিদেশে কাজ করার সুবিধা এবং অসুবিধা কি কি

বিদেশে কাজ করার সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ সমূহ বোঝা অত্যন্ত জরুরি যাতে আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারেন। প্রথম এবং সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উচ্চ আয়ের সুযোগ যা দেশে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিদেশে কাজ করে আপনি মাসে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন যা দিয়ে পরিবারের জীবনমান উন্নত করা এবং সন্তানদের ভালো শিক্ষা দেওয়া সম্ভব। দ্বিতীয় সুবিধা হলো নতুন স্কিল এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
বিদেশে-কাজ-করার-সুবিধা-এবং-অসুবিধা-কি-কি
বিদেশে কাজ করার মাধ্যমে আপনি আধুনিক প্রযুক্তি শিখতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক মানের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন যা ভবিষ্যতে আপনার ক্যারিয়ারে অনেক কাজে লাগে। তৃতীয় সুবিধা হলো নতুন সংস্কৃতি এবং মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে। চতুর্থ সুবিধা হলো অনেক দেশে কয়েক বছর কাজ করার পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যা আপনার এবং পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।

তবে বিদেশে কাজ করার চ্যালেঞ্জও অনেক রয়েছে যা আগে থেকে জানা উচিত। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো পরিবার এবং প্রিয়জন থেকে দূরে থাকা যা মানসিকভাবে অনেক কঠিন। বিশেষত প্রথম কয়েক মাস খুবই কষ্টকর হয় যখন আপনি হোমসিকনেস অনুভব করেন। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ভাষা এবং সংস্কৃতির পার্থক্য। নতুন দেশে নতুন ভাষা এবং রীতিনীতির সাথে খাপ খাওয়ানো সময় নেয় এবং প্রথম দিকে যোগাযোগে সমস্যা হয়। বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে জানার মাধ্যমে বিদেশে সহজেই চাকরি পেটে পারবেন।

তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো কঠিন কাজের পরিবেশ এবং লম্বা কাজের সময়। অনেক দেশে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয় এবং শারীরিকভাবে অনেক ক্লান্তিকর হতে পারে। চতুর্থ চ্যালেঞ্জ হলো কিছু দেশে বৈষম্য এবং শ্রমিক অধিকারের অভাব যেখানে বেতন সময়মতো না দেওয়া বা খারাপ ব্যবহার করার ঘটনা ঘটতে পারে। পঞ্চম চ্যালেঞ্জ হলো আবহাওয়া এবং খাবারে অভ্যস্ত হওয়া বিশেষত যদি আপনি ইউরোপ বা জাপানের মতো ঠাণ্ডা দেশে যান।

লেখকের শেষ কথা

আমাদের মনে রাখতে হবে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি জীবন পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্ত এবং এটি অবশ্যই ভালোভাবে ভেবে এবং পরিবারের সাথে আলোচনা করে নিতে হবে। সঠিক তথ্য সংগ্রহ করুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি বেছে নিন এবং জালিয়াতি থেকে সতর্ক থাকুন। আপনার যোগ্যতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করুন ভাষা শিখুন এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন। বিদেশে কাজ করা চ্যালেঞ্জিং হলেও এটি আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কি কাজের ভিসা পাওয়া যায়, ইউরোপীয় কোন দেশগুলোতে কাজের ভিসা পাওয়া যায়, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে কি কাজের ভিসার পাওয়া যায়, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াতে কি ওয়ার্কার ভিসা পাওয়া যায়, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে কি কাজের ভিসা পাওয়া যায়, আফ্রিকান দেশগুলোতে কি বাংলাদেশ থেকে কাজ পাওয়া যায়, কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি দক্ষতা প্রয়োজন, কাজের ভিসা প্রসেস হতে কতো সময় লাগে, বিদেশে কাজ করার সুবিধা এবং অসুবিধা কি কি ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url