মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায়
চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায়
মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায় জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়
হয়ে পড়েছে কারণ ব্রণ এখন যেকোনো বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করছে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কীভাবে আপনি ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়ে মুখের ব্রণ
কমাতে পারবেন এবং ব্রণের দাগ দূর করে মসৃণ উজ্জ্বল ত্বক পেতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায়
- মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায়
- ব্রণ হওয়ার মূল কারণ এবং কীভাবে বুঝবেন ব্রণের ধরন
- নিম পাতা এবং হলুদ দিয়ে কি ব্রণ কমানো যায়
- মধু ও লেবুর রস দিয়ে কি ব্রণের দাগ দূর হয়
- অ্যালোভেরা ত্বকে ব্যবহার করলে কি ব্রণ কমে যায়
- মুলতানি মাটি কি ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে
- সঠিক খাবার এবং পানি পান কি ব্রণ কমায়
- ত্বক পরিষ্কার রাখার সঠিক নিয়ম এবং রুটিন
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন করলে কি হরমোন নিয়ন্ত্রণ থাকে
- যে ভুল গুলো ব্রণ বাড়ায় এবং এড়িয়ে চলার উপায়
- লেখকের শেষ কথা
মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায়
মুখের ব্রণ কমানোর উপায় জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে ব্রণ আসলে কী এবং কেন হয়।
ব্রণ হলো ত্বকের একটি সমস্যা যেখানে তেল গ্রন্থি অতিরিক্ত সেবাম উৎপাদন করে এবং
মৃত ত্বক কোষ এবং ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিশে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ত্বক
ফুলে যায় এবং লাল ফোলা ব্রণের সৃষ্টি হয়। ব্রণ সাধারণত মুখে কপালে নাকে গালে এবং
চিবুকে বেশি হয় কারণ এই স্থানে তেল গ্রন্থি বেশি থাকে। ব্রণের প্রভাব সবার আলাদা
হতে পারে কারো হালকা কালো মাথা, সাদা মাথা থাকে আবার কারো মারাত্মক সিস্টিক ব্রণ
হয় যা খুবই বেদনাদায়ক এবং ত্বকে দাগ ফেলে।
ঘরোয়া কার্যকরী উপায় বলতে আমরা বুঝি এমন পদ্ধতি যা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার
করে ত্বকের সমস্যা সমাধান করে এবং কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। এই পদ্ধতিগুলো আমাদের
রান্নাঘরে সহজলভ্য উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় এবং খরচও খুব কম। তবে মনে রাখতে
হবে যে ঘরোয়া উপায় তাৎক্ষণিক ফলাফল দেয় না বরং নিয়মিত ব্যবহারে ধীরে ধীরে
উন্নতি দেখা যায়। সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল
পাওয়া যায়।
ব্রণ হওয়ার মূল কারণ এবং কীভাবে বুঝবেন ব্রণের ধরন
ব্রণ হওয়ার মূল কারণ এবং কীভাবে বুঝবেন ব্রণের ধরন এই বিষয়টি জানা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ কারণ সঠিক কারণ না জানলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া কঠিন। ব্রণ হওয়ার
প্রধান কারণগুলো হলো হরমোনাল পরিবর্তন বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালে গর্ভাবস্থায় বা
মাসিকের আগে যখন অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে।
অনিয়মিত এবং তৈলাক্ত খাবার যেমন ফাস্ট ফুড চকলেট এবং দুগ্ধজাত খাবার ব্রণ
বাড়াতে পারে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি করে যা ব্রণের কারণ
হয়।
অনিয়মিত ঘুম এবং ক্লান্তি ত্বকের পুনর্নির্মাণ ক্ষমতা কমায়। ভুল প্রসাধনী
ব্যবহার বিশেষত তৈলাক্ত ক্রিম এবং ভারী মেকআপ লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। মুখে হাত
দেওয়া ব্রণ টিপে ফেলা বা স্পর্শ করার অভ্যাস ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয় এবং ব্রণ
বাড়ায়। জিনগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ যদি পরিবারে ব্রণের ইতিহাস থাকে তবে সন্তানের
হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ব্রণের বিভিন্ন ধরন আছে এবং প্রতিটির চিকিৎসা আলাদা। হোয়াইটহেডস হলো বন্ধ
লোমকূপে তেল এবং মৃত কোষ জমে সাদা বাম্প তৈরি হয়। ব্ল্যাকহেডস হলো খোলা লোমকূপে
জমা তেল যা বাতাসে অক্সিডাইজড হয়ে কালো হয়ে যায়। পেপিউলস হলো ছোট লাল শক্ত
বাম্প যা স্পর্শ করলে ব্যথা করে। পাস্টিউলস হলো লাল বাম্প যার মাঝখানে পুঁজ বা
সাদা অংশ থাকে। নডিউলস হলো ত্বকের গভীরে বড় শক্ত বেদনাদায়ক লাম্প। এই
জন্য মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায় জানার পাশাপাশি কারণ জানা
জরুরী।
সিস্টিক ব্রণ হলো সবচেয়ে মারাত্মক ধরন যেখানে ত্বকের গভীরে পুঁজ ভর্তি বড় বাম্প
থাকে যা খুবই বেদনাদায়ক এবং দাগ ফেলে। যদি আপনার হালকা ব্রণ যেমন হোয়াইটহেডস
এবং ব্ল্যাকহেডস হয় তবে ঘরোয়া উপায় যথেষ্ট কিন্তু যদি নডিউলস বা সিস্টিক ব্রণ
হয় তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্রণের ধরন বুঝে সঠিক চিকিৎসা
নিলে দ্রুত এবং কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়।
নিম পাতা এবং হলুদ দিয়ে কি ব্রণ কমানো যায়
নিম পাতা এবং হলুদ দিয়ে ব্রণ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় একটি প্রাচীন এবং অত্যন্ত
কার্যকরী পদ্ধতি যা আমাদের দেশে শত শত বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিম পাতা হলো
প্রকৃতির সেরা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান যা ব্রণ
সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রোপিওনিব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনেস কে মেরে ফেলে। নিম
পাতায় রয়েছে নিম্বিডিন এবং নিম্বিন নামক উপাদান যা প্রদাহ কমায় এবং ত্বক শান্ত
করে।
আরো পড়ুনঃ আলুর রস মুখে মাখলে কি ফর্সা হওয়া যায়
নিমের অ্যাস্ট্রিনজেন্ট গুণ অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং লোমকূপ পরিষ্কার
রাখে। হলুদ বা কাঁচা হলুদ হলো আরেকটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান যা কারকিউমিন নামক
শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত। হলুদ ব্রণের
লালভাব এবং ফোলা ভাব কমায় এবং ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে। হলুদ ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি
রোধ করে এবং ব্রণের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। নিম এবং হলুদ একসাথে ব্যবহার
করলে এদের কার্যকারিতা দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং ব্রণ দ্রুত সেরে যায়।
নিম পাতা এবং হলুদ দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করতে হলে প্রথমে এক মুঠো তাজা নিম পাতা
ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং সামান্য পানি দিয়ে পাথরের পাটায় বা ব্লেন্ডারে পেস্ট
করে নিন। এরসাথে এক চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা বা গুঁড়া হলুদ যোগ করুন এবং
ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। চাইলে এর সাথে সামান্য গোলাপজল যোগ
করতে পারেন যাতে পেস্ট লাগাতে সুবিধা হয়। মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন
তারপর এই পেস্ট পুরো মুখে বা শুধু ব্রণের জায়গায় লাগান। ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে
দিন যতক্ষণ না পেস্ট শুকিয়ে যায়।
তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং একটি নরম তোয়ালে দিয়ে মুখ
মুছে নিন। এই প্যাক সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করলে দুই সপ্তাহের মধ্যে
ব্রণ কমতে শুরু করবে এবং ত্বক পরিষ্কার হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন হলুদ ত্বকে হালকা
হলুদ ভাব ফেলতে পারে তাই ধোয়ার সময় ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করুন অথবা ব্যবহারের
পর একটি মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। নিম এবং হলুদ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং কোনো
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই তবে যাদের সংবেদনশীল ত্বক তারা প্রথমবার ব্যবহারের আগে
প্যাচ টেস্ট করে নিন।
মধু ও লেবুর রস দিয়ে কি ব্রণের দাগ দূর হয়
মধু ও লেবুর রস দিয়ে ব্রণের দাগ দূর করার পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকরী
কারণ এই দুটি উপাদানই ত্বকের জন্য অসাধারণ উপকারী। মধু হলো প্রকৃতির একটি আশ্চর্য
উপাদান যার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অ্যান্টিভাইরাল এবং
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ। মধু ব্রণের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং ত্বক নিরাময়
করতে সাহায্য করে। মধুতে প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট থাকে যা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে
রাখে এবং শুষ্কতা রোধ করে। এই জন্য মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায়
জানার আমাদের জন্য জরুরী।
মধুতে থাকা এনজাইম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্রণের দাগ হালকা করে এবং ত্বকের রঙ
সমান করে। লেবুর রস হলো প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট যার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি
এবং সাইট্রিক এসিড। লেবুর রস ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য
করে। লেবুর অ্যাসিড ত্বক এক্সফলিয়েট করে এবং কালো দাগ হালকা করে। লেবুর
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণ প্রতিরোধ করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে। মধু এবং
লেবুর রস একসাথে ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ দূর করার পাশাপাশি নতুন ব্রণও প্রতিরোধ
করে।
মধু ও লেবুর রস দিয়ে ফেসমাস্ক তৈরি করতে একটি পরিষ্কার বাটিতে দুই টেবিল চামচ
খাঁটি মধু নিন এবং এর সাথে এক টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস যোগ করুন। ভালোভাবে
মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। চাইলে এর সাথে সামান্য দারুচিনি গুঁড়া যোগ
করতে পারেন যা অতিরিক্ত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সুবিধা দেবে। মুখ পরিষ্কার করে
শুকিয়ে নিন তারপর তুলা দিয়ে এই মিশ্রণ ব্রণের দাগে বা পুরো মুখে লাগান। ১৫ থেকে
২০ মিনিট রেখে দিন তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
এই মাস্ক সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে
শুরু করবে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তবে মনে রাখবেন লেবুর রস ত্বক সংবেদনশীল
করে তুলতে পারে তাই এই মাস্ক ব্যবহারের পর সূর্যের আলোতে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন
ব্যবহার করুন। যাদের খুব সংবেদনশীল ত্বক তারা লেবুর রসের পরিমাণ কমিয়ে ব্যবহার
করুন বা প্রথমে প্যাচ টেস্ট করে নিন। মধু এবং লেবুর রস একটি সাশ্রয়ী এবং কার্যকর
পদ্ধতি যা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার এবং দাগ মুক্ত করে তোলে।
অ্যালোভেরা ত্বকে ব্যবহার করলে কি ব্রণ কমে যায়
অ্যালোভেরা এবং টি ট্রি অয়েল দিয়ে ব্রণ নিরাময় একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পদ্ধতি যা ত্বক বিশেষজ্ঞরাও সুপারিশ করেন। অ্যালোভেরা বা
ঘৃতকুমারী হলো একটি প্রাকৃতিক নিরাময়কারী উপাদান যার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি
এবং ই বিটা ক্যারোটিন এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি যৌগ। অ্যালোভেরা জেল ব্রণের
প্রদাহ কমায় এবং লালভাব দূর করে। অ্যালোভেরায় থাকা পলিস্যাকারাইড ত্বক
পুনর্নির্মাণ করে এবং ক্ষত নিরাময় করে।
অ্যালোভেরা ত্বকে আর্দ্রতা সরবরাহ করে কিন্তু তৈলাক্ত করে না তাই যেকোনো ধরনের
ত্বকের জন্য উপযুক্ত। টি ট্রি অয়েল হলো একটি শক্তিশালী এসেন্শিয়াল অয়েল যা
অস্ট্রেলিয়ান টি ট্রি থেকে আহরিত হয়। টি ট্রি অয়েলে রয়েছে টারপিনেন ফোর অল
নামক যৌগ যা ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মারার ক্ষমতা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে
যে টি ট্রি অয়েল বেনজয়েল পারঅক্সাইডের মতো কার্যকর কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কম। টি ট্রি অয়েল তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং লোমকূপ পরিষ্কার রাখে।
অ্যালোভেরা এবং টি ট্রি অয়েল দিয়ে স্পট ট্রিটমেন্ট তৈরি করতে হলে একটি তাজা
অ্যালোভেরা পাতা কেটে ভেতরের স্বচ্ছ জেল বের করে নিন অথবা বাজার থেকে খাঁটি
অ্যালোভেরা জেল কিনুন। দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে তিন থেকে চার ড্রপ
টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। মনে রাখবেন টি ট্রি অয়েল খুবই ঘন তাই বেশি পরিমাণে
ব্যবহার করবেন না কারণ এটি ত্বক জ্বালাতন করতে পারে। এই মিশ্রণ পরিষ্কার মুখে
লাগান বিশেষভাবে ব্রণের জায়গায় তুলা দিয়ে।
আরো পড়ুনঃ নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম
পুরো রাত রেখে দিতে পারেন বা কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই স্পট
ট্রিটমেন্ট প্রতিদিন রাতে ব্যবহার করলে ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যাবে এবং নতুন ব্রণ
হওয়া কমবে। শুধু অ্যালোভেরা জেলও আলাদাভাবে ব্যবহার করতে পারেন ময়েশ্চারাইজার
হিসেবে যা ত্বক নরম এবং হাইড্রেটেড রাখবে। অ্যালোভেরা এবং টি ট্রি অয়েল
প্রাকৃতিক হলেও কিছু মানুষের এলার্জি হতে পারে তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতের
কব্জিতে টেস্ট করে নিন। এই দুটি উপাদান ব্রণ নিরাময়ের পাশাপাশি ত্বকের সামগ্রিক
স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং ভবিষ্যতে ব্রণ প্রতিরোধ করে।
মুলতানি মাটি কি ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে
মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা ব্রণ কমানোর জন্য একটি
ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি যা বহু যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মুলতানি মাটি বা ফুলার্স আর্থ হলো একটি প্রাকৃতিক মাটি যা খনিজ সমৃদ্ধ এবং ত্বকের
জন্য অনেক উপকারী। মুলতানি মাটির সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি অতিরিক্ত তেল শোষণ করে
এবং লোমকূপ পরিষ্কার করে। এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম এবং সিলিকা যা
ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ব্রণের দাগ হালকা করে।
মুলতানি মাটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং ত্বক টান টান করে। এটি মৃত ত্বক কোষ
দূর করে এবং ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে। গোলাপজল হলো প্রাকৃতিক টোনার এবং
অ্যান্টিসেপটিক যা ত্বক প্রশান্ত করে এবং প্রদাহ কমায়। গোলাপজলে রয়েছে ভিটামিন
এ এবং সি যা ত্বক পুষ্টি দেয় এবং সতেজ রাখে। গোলাপজল ত্বকের লালভাব কমায় এবং
ব্রণের জ্বালাপোড়া দূর করে। মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল একসাথে ব্যবহার করলে
তৈলাক্ত এবং ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য চমৎকার ফলাফল পাওয়া যায়।
মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করতে একটি বাটিতে দুই থেকে তিন
টেবিল চামচ মুলতানি মাটির গুঁড়া নিন এবং পরিমাণ মতো গোলাপজল যোগ করে একটি মসৃণ
পেস্ট তৈরি করুন যা খুব পাতলা বা খুব ঘন নয়। চাইলে এর সাথে এক চা চামচ মধু বা দই
যোগ করতে পারেন যা অতিরিক্ত পুষ্টি দেবে। মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন এবং এই
প্যাক সমানভাবে পুরো মুখে লাগান চোখের চারপাশ এড়িয়ে।
১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন যতক্ষণ না প্যাক শুকিয়ে যায় কিন্তু সম্পূর্ণ শক্ত
হওয়ার আগেই ধুয়ে ফেলুন কারণ অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে ত্বক টান ধরে এবং অস্বস্তিকর
হয়। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং একটি মৃদু ময়েশ্চারাইজার
ব্যবহার করুন। এই প্যাক সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন যদি ত্বক তৈলাক্ত হয় এবং
সপ্তাহে একবার যদি স্বাভাবিক বা শুষ্ক ত্বক হয়। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ কমবে ত্বক
পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল হবে এবং তেল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ তবে যাদের খুব শুষ্ক ত্বক তাদের এই প্যাক ঘন ঘন
ব্যবহার না করাই ভালো।
সঠিক খাবার এবং পানি পান কি ব্রণ কমায়
সঠিক খাবার এবং পানি পান যা ব্রণ কমায় সেগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি কারণ
বাইরে থেকে যত চিকিৎসাই করেন না কেন ভেতর থেকে পুষ্টি না পেলে ত্বক সুস্থ হবে না।
আমরা যা খাই তা সরাসরি আমাদের ত্বকে প্রভাব ফেলে এবং কিছু খাবার ব্রণ বাড়ায়
আবার কিছু খাবার ব্রণ কমায়। প্রথমত তাজা ফল এবং সবজি ব্রণ কমাতে সাহায্য করে
বিশেষত যেগুলোতে ভিটামিন এ সি এবং ই আছে। গাজর মিষ্টি আলু পালং শাক এবং ব্রকলি
ভিটামিন এ সমৃদ্ধ যা ত্বক সুস্থ রাখে।
লেবু কমলা পেয়ারা এবং আমলকী ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং
ব্রণের দাগ কমায়। জিংক সমৃদ্ধ খাবার যেমন কুমড়োর বীজ ছোলা এবং বাদাম ব্রণ কমাতে
সাহায্য করে কারণ জিংক তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রদাহ কমায়। ওমেগা ৩
ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ চিয়া সিড এবং আখরোট প্রদাহ কমায় এবং ত্বক
সুস্থ রাখে। প্রোবায়োটিক খাবার যেমন দই এবং ফার্মেন্টেড খাবার হজম ক্রিয়া ভালো
রাখে এবং ব্রণ কমায় কারণ সুস্থ পেট মানে সুস্থ ত্বক।
অন্যদিকে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত যা ব্রণ বাড়ায়। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স
যুক্ত খাবার যেমন সাদা ভাত সাদা রুটি মিষ্টি এবং জাঙ্ক ফুড রক্তে শর্করা বৃদ্ধি
করে এবং ইনসুলিন স্পাইক করে যা ব্রণ বাড়ায়। দুগ্ধজাত খাবার বিশেষত দুধ কিছু
মানুষের ব্রণ বাড়াতে পারে তাই যদি সন্দেহ হয় তবে কিছুদিন দুধ ছেড়ে দেখুন।
অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন।
প্রচুর পানি পান করা ব্রণ কমানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ পানি শরীর থেকে
টক্সিন বের করে দেয় এবং ত্বক হাইড্রেটেড রাখে। দিনে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস
পানি পান করুন। পানি ত্বক পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল রাখে এবং তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ
করে। সবুজ চা পান করুন যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং ব্রণ কমায়। মনে রাখবেন
ত্বকের সৌন্দর্য শুরু হয় আপনার খাবারের প্লেট থেকে তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খান
এবং ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি দিন।
ত্বক পরিষ্কার রাখার সঠিক নিয়ম এবং রুটিন
ত্বক পরিষ্কার রাখার সঠিক নিয়ম এবং রুটিন অনুসরণ করা ব্রণ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ অপরিষ্কার ত্বক ব্রণের প্রধান কারণ। প্রথম এবং
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো দিনে দুইবার মুখ ধোয়া সকালে এবং রাতে ঘুমাতে
যাওয়ার আগে। তবে অতিরিক্ত ধোয়া ঠিক নয় কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়
এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। মুখ ধোয়ার জন্য একটি মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন যাতে
সালফেট এবং প্যারাবেন নেই।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক এসিড যুক্ত ফেসওয়াশ ভালো এবং সংবেদনশীল ত্বকের
জন্য হার্বাল বা জেল বেসড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। মুখ ধোয়ার সময় গরম পানি
ব্যবহার করবেন না কারণ গরম পানি ত্বক শুষ্ক করে দেয় বরং হালকা গরম বা ঠাণ্ডা
পানি ব্যবহার করুন। আঙুলের ডগা দিয়ে বৃত্তাকারে মুখ ম্যাসাজ করুন নখ দিয়ে ঘষবেন
না। ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং একটি পরিষ্কার নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো
করে মুখ মুছুন কখনো ঘষে মুছবেন না।
মুখ ধোয়ার পর টোনার ব্যবহার করুন যা লোমকূপ পরিষ্কার এবং টাইট করে। প্রাকৃতিক
টোনার হিসেবে গোলাপজল বা আপেল সিডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
তারপর একটি হালকা অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এমনকি যদি তৈলাক্ত ত্বক
হয় তবুও কারণ ত্বক শুষ্ক হলে আরো বেশি তেল উৎপাদন করে। সকালে বাইরে বের হওয়ার
আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি যা সূর্যের ক্ষতিকর
রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করে এবং ব্রণের দাগ কালো হওয়া থেকে রক্ষা করে।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মেকআপ তুলে ফেলুন এবং ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করুন
কারণ মেকআপ নিয়ে ঘুমালে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ হয়। সপ্তাহে দুইবার
এক্সফলিয়েট করুন মৃদু স্ক্রাব দিয়ে যা মৃত ত্বক কোষ দূর করে এবং ত্বক পরিষ্কার
রাখে। তবে খুব কঠোর স্ক্রাব ব্যবহার করবেন না যা ত্বক জ্বালাতন করতে পারে। একটি
নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চললে ব্রণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বক
সুস্থ এবং উজ্জ্বল থাকে।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন করলে কি হরমোন নিয়ন্ত্রণ থাকে
জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্রণ কমানোর জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং হরমোনাল ব্যালেন্স সরাসরি ত্বকে
প্রভাব ফেলে। প্রথমত পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি কারণ ঘুমের সময় শরীর মেরামত এবং
পুনর্নির্মাণের কাজ করে। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো মানের ঘুম ত্বকের
স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। অনিয়মিত ঘুম হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ব্রণ
বাড়ায়। মানসিক চাপ এবং স্ট্রেস ব্রণের একটি বড় কারণ কারণ স্ট্রেস কর্টিসল
হরমোন বৃদ্ধি করে যা তেল উৎপাদন বাড়ায় এবং ব্রণ সৃষ্টি করে।
স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন যোগব্যায়াম করুন মেডিটেশন করুন এবং গভীর
শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। যা আপনাকে খুশি করে সেই কাজগুলো করুন এবং পরিবার
বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলো ত্বকের
ক্ষতি করে এবং ব্রণ বাড়ায়। প্রচুর পানি পান করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার
খান। মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায় জানার মাধ্যমে
সহজেই মুখের ব্রণ কমাতে পারবেন।
হরমোনাল ব্রণ বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা যা মাসিকের আগে বা হরমোনাল
পরিবর্তনের সময় বেশি হয়। হরমোনাল ব্রণ সাধারণত চিবুক এবং চোয়ালের লাইনে বেশি
হয়। হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাবার খাওয়া
গুরুত্বপূর্ণ। কিছু হার্বাল সাপ্লিমেন্ট যেমন স্পিয়ারমিন্ট টি হরমোনাল ব্রণ
কমাতে সাহায্য করে তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে কাঁচা বাদাম খেলে কি হয়
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম পিসিওএস হলো একটি হরমোনাল সমস্যা যা মারাত্মক ব্রণ
সৃষ্টি করতে পারে এবং এর জন্য ডাক্তারি চিকিৎসা প্রয়োজন। মুখে হাত দেওয়া ব্রণ
টিপে ফেলা বা খোঁচানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে যায় এবং
ব্রণ বাড়ে এবং দাগ হয়। মোবাইল ফোন নিয়মিত পরিষ্কার করুন কারণ নোংরা ফোন মুখে
লাগলে ব্রণ হতে পারে। বালিশের কভার নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং পরিষ্কার রাখুন।
জীবনযাত্রায় এই ছোট ছোট পরিবর্তন আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে এবং
ব্রণও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
যে ভুল গুলো ব্রণ বাড়ায় এবং এড়িয়ে চলার উপায়
যে ভুল গুলো ব্রণ বাড়ায় এবং এড়িয়ে চলার উপায় জানা থাকলে আমরা অনেক সমস্যা
থেকে বাঁচতে পারি এবং ব্রণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ভুল হলো
ব্রণ টিপে ফেলা বা খোঁচানো। অনেকে মনে করেন ব্রণ টিপে পুঁজ বের করলে তাড়াতাড়ি
সেরে যাবে কিন্তু আসলে এটি সবচেয়ে খারাপ কাজ কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া গভীরে চলে
যায় প্রদাহ বাড়ে নতুন ব্রণ হয় এবং স্থায়ী দাগ পড়ে। দ্বিতীয় ভুল হলো মুখে
বারবার হাত দেওয়া বা স্পর্শ করা।
আমাদের হাতে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং মুখে হাত দিলে সেগুলো ত্বকে ছড়িয়ে
যায় এবং ব্রণ হয়। তৃতীয় ভুল হলো অতিরিক্ত মুখ ধোয়া বা কঠোর প্রোডাক্ট ব্যবহার
করা। অনেকে মনে করেন বেশি ধুলে বা শক্তিশালী সাবান ব্যবহার করলে ব্রণ ভালো হবে
কিন্তু আসলে এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয় এবং ত্বক আরো বেশি তেল উৎপাদন করে
প্রতিক্রিয়া হিসেবে। চতুর্থ ভুল হলো ভারী এবং তৈলাক্ত মেকআপ ব্যবহার করা যা
লোমকূপ বন্ধ করে দেয় এবং ব্রণ সৃষ্টি করে।
পঞ্চম ভুল হলো মেকআপ ব্রাশ এবং স্পঞ্জ নিয়মিত পরিষ্কার না করা যেগুলোতে
ব্যাকটেরিয়া জমে এবং মুখে লাগলে ব্রণ হয়। ষষ্ঠ ভুল হলো হেয়ার প্রোডাক্ট যেমন
জেল বা স্প্রে ব্যবহার করার পর সেগুলো মুখে লাগতে দেওয়া যা ব্রণ সৃষ্টি করে
বিশেষত কপাল এবং চুলের গোড়ায়। সপ্তম ভুল হলো সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা ভেবে যে
সানস্ক্রিন ব্রণ বাড়াবে কিন্তু আসলে সূর্যের রশ্মি ব্রণ আরো খারাপ করে এবং দাগ
কালো করে তাই অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
অষ্টম ভুল হলো এক্সপায়ার হওয়া বা নিম্নমানের প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যা ত্বকে
সংক্রমণ এবং ব্রণ সৃষ্টি করে। নবম ভুল হলো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং
পর্যাপ্ত পানি পান না করা। দশম ভুল হলো ধৈর্য না রাখা এবং ঘন ঘন প্রোডাক্ট
পরিবর্তন করা কারণ যেকোনো চিকিৎসা ফলাফল দিতে কমপক্ষে দুই থেকে চার সপ্তাহ সময়
নেয়। এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ব্রণ অনেক দ্রুত
নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ভবিষ্যতে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।
লেখকের শেষ কথা
আমাদের মনে রাখতে হবে রাসায়নিক পণ্য অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন ব্রণ টিপে
ফেলবেন না স্ট্রেস কমান পর্যাপ্ত ঘুমান। আপনার ত্বক আপনার ব্যক্তিত্বের একটি
গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সঠিক যত্নে সেটি আপনাকে আরো সুন্দর করে তুলবে। প্রাকৃতিক
পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন এবং ধৈর্য ধরুন কারণ প্রকৃতি তার কাজ করতে সময় নেয়।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে
মুখের ব্রণ কমানোর ঘরোয়া কার্যকরী উপায়, ব্রণ হওয়ার মূল কারণ এবং কীভাবে
বুঝবেন ব্রণের ধরন, নিম পাতা এবং হলুদ দিয়ে কি ব্রণ কমানো যায়, মধু ও লেবুর রস
দিয়ে কি ব্রণের দাগ দূর হয়, অ্যালোভেরা ত্বকে ব্যবহার করলে কি ব্রণ কমে যায়,
মুলতানি মাটি কি ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে, সঠিক খাবার এবং পানি পান কি
ব্রণ কমায়, ত্বক পরিষ্কার রাখার সঠিক নিয়ম এবং রুটিন, জীবনযাত্রার পরিবর্তন
করলে কি হরমোন নিয়ন্ত্রণ থাকে, যে ভুল গুলো ব্রণ বাড়ায় এবং এড়িয়ে চলার উপায়
ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url