বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে
বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এ বিষয়ে আমরা অনেকে আগ্রহী থাকি
কারণ ছোট থেকেই বিভিন্ন দেশে যাওয়ার ইচ্ছা আমাদের হয়ে থাকে।
এজন্য আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশে কম খরচে যাওয়া
যায় এবং কীভাবে আপনি সবচেয়ে কম খরচে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
- বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
- ভারতে ভ্রমণ করতে কত টাকা খরচ হয়ে থাকে
- নেপালের পাহাড়ে যাওয়ার জন্য কত টাকা লাগে
- থাইল্যান্ডে কি কম খরচে ভ্রমণ করা যায়
- কত টাকায় মালয়েশিয়া আধুনিক শহর ভ্রমণ করা যায়
- শ্রীলঙ্কা সুন্দর দ্বীপ দেশ ভ্রমণ করতে কত টাকা লাগে
- কম খরচে কি ভুটানে ভ্রমণ করা যায়
- ইন্দোনেশিয়া বালিতে কি কম বাজেটে ভ্রমণ করা যায়
- ভিয়েতনামে কি কম খরচে ভ্রমণ করা যায়
- কম টাকা খরচে বিদেশ ভ্রমণের জন্য টিপস
- লেখকের শেষ কথা
বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার আগে
আমাদের বুঝতে হবে কম খরচে ভ্রমণ বলতে আসলে কী বোঝায়। সাধারণত যদি ভিসা ফ্লাইট
টিকেট হোটেল খাবার এবং লোকাল ট্রান্সপোর্ট মিলিয়ে মোট খরচ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ
টাকার মধ্যে থাকে তবে সেটিকে বাজেট ভ্রমণ হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশ থেকে বেশ
কয়েকটি দেশ রয়েছে যেগুলোতে ভ্রমণ করা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং সহজ।
এশিয়ার দেশগুলো বিশেষত ভারত নেপাল থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া শ্রীলঙ্কা ভুটান
ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনাম বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কম
খরচের গন্তব্য। এই দেশগুলোর ভিসা প্রসেস তুলনামূলকভাবে সহজ এবং কিছু দেশে ভিসা অন
এরাইভাল বা ই ভিসা সুবিধাও রয়েছে। ফ্লাইট টিকেটের খরচও কম বিশেষত বাজেট
এয়ারলাইনসে যেমন এয়ার এশিয়া মালিন্দো বা ফ্লাইদুবাই তে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিদেশ যান এবং এর
মধ্যে ৬০ শতাংশই এশিয়ার কাছাকাছি দেশগুলোতে যান কারণ খরচ কম। কম খরচে ভ্রমণের
জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে যেমন অফ সিজনে ভ্রমণ করা যখন
হোটেল এবং ফ্লাইটের দাম কম থাকে বাজেট হোটেল বা হোস্টেল বেছে নেওয়া লোকাল খাবার
খাওয়া এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা।
এছাড়া ট্যুর প্যাকেজ না কিনে নিজে নিজে পরিকল্পনা করলে খরচ অনেক কমানো যায়।
বাংলাদেশ থেকে কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ এখন আর স্বপ্ন নয় বরং একটি বাস্তব যদি আপনি
সঠিক পরিকল্পনা এবং গবেষণা করে এগিয়ে যান। পরবর্তী সেকশনগুলোতে আমরা প্রতিটি দেশ
সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আপনার
স্বপ্নের ভ্রমণ বাস্তবায়ন করতে পারেন।
ভারতে ভ্রমণ করতে কত টাকা খরচ হয়ে থাকে
ভারত ভ্রমণ সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং সহজ বিকল্প বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য কারণ ভারত
আমাদের প্রতিবেশী দেশ এবং সাংস্কৃতিক ভাষাগত অনেক মিল রয়েছে। ভারতের ভিসা প্রসেস
অনেক সহজ এবং ই ভিসা অনলাইনে আবেদন করা যায় যার খরচ মাত্র ৯ হাজার টাকা এবং তিন
থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ভিসা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে ভারতের ফ্লাইট খরচ খুবই
কম ঢাকা থেকে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই বা চেন্নাই প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়
রিটার্ন টিকেট পাওয়া যায়।
এছাড়া বাসে বা ট্রেনেও ভারত যাওয়া যায় বিশেষত কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ যা আরো
সস্তা বিকল্প। ভারতে থাকা এবং খাবারের খরচ খুবই কম বাজেট হোটেলে দিনে ৫০০ থেকে
১৫০০ রুপি অর্থাৎ ৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায় ভালো থাকা এবং খাওয়া যায়। ভারতে ঘুরার
জায়গা অসংখ্য রয়েছে যেমন দিল্লির তাজমহল, লাল কেল্লা, কুতুব মিনার, কলকাতার
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ, আগ্রার তাজমহল, জয়পুরের হাওয়া মহল এবং
আম্বের দুর্গ গোয়ার সৈকত কেরালার ব্যাকওয়াটার দার্জিলিং এবং শিমলার পাহাড় এবং
আরো অনেক কিছু।
ভারতে ট্রেনে ভ্রমণ খুবই সস্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া যায় সহজে।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে সহজ কারণ ভাষা একই এবং খাবার
দাবার একই রকম। মোট খরচ যদি পাঁচ থেকে সাত দিনের ট্রিপ হয় তবে ভিসা ফ্লাইট হোটেল
খাবার এবং দর্শনীয় স্থান মিলিয়ে মাত্র ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে
যায়। ভারত ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি কাছে নিরাপদ এবং বাংলাদেশ থেকে
যাওয়া সহজ। তাই যারা প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণ করবেন তাদের জন্য ভারত সবচেয়ে ভালো
পছন্দ।
নেপালের পাহাড়ে যাওয়ার জন্য কত টাকা লাগে
নেপাল পাহাড়ি দেশ কম খরচে প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ প্রদান করে এবং এটি
আমাদের ভ্রমণের জন্য একটি সেরা জায়গা বলা চলে। নেপালের সবচেয়ে বড় সুবিধা
হলো বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা অন এরাইভাল পাওয়া যায় কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছেই
ভিসা করা যায় এবং খরচ মাত্র ৩ হাজার টাকা পনের দিনের জন্য এবং ৪৫০০ টাকা ত্রিশ
দিনের জন্য। ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু ফ্লাইট টিকেট রিটার্ন প্রায় ১৮ থেকে ২৫ হাজার
টাকা এবং মাত্র এক ঘণ্টার ফ্লাইট।
আরো পড়ুনঃ অনলাইনে ওমরাহ ভিসা আবেদন করার নিয়ম
নেপালে থাকা এবং খাবারের খরচ খুবই কম বাজেট হোটেল বা গেস্ট হাউসে দিনে ৫০০ থেকে
১৫০০ টাকায় থাকা যায় এবং খাবার দাম খুবই সস্তা দাল ভাত মোমো এবং থুক্পা খুবই
জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু। নেপালে দর্শনীয় স্থানের এন্ট্রি ফি খুবই কম এবং অনেক
জায়গায় ফ্রি। নেপালের প্রধান আকর্ষণ হলো হিমালয় পর্বতমালা বিশেষত মাউন্ট
এভারেস্ট এবং অন্যান্য চূড়া। এইখানে রয়েছে পোখরা শহর যা ফেওয়া লেক এবং পাহাড়ের
সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
থাইল্যান্ডে কি কম খরচে ভ্রমণ করা যায়
থাইল্যান্ড বাজেট ফ্রেন্ডলি খাওয়ার জন্য অনেক বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত এবং
বাংলাদেশিদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি দেশ। থাইল্যান্ডের ভিসা প্রসেস সহজ হয়েছে
এবং ই ভিসা অনলাইনে আবেদন করা যায় যার খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা এবং এক সপ্তাহের
মধ্যে পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে ব্যাংককে ফ্লাইট খরচ রিটার্ন প্রায় ২৫ হাজার থেকে
৪০ হাজার টাকা এবং ফ্লাইট সময় প্রায় তিন ঘণ্টা। থাইল্যান্ডে থাকা খাবার এবং
ভ্রমণ খুবই সস্তা বাজেট হোস্টেল বা গেস্ট হাউসে দিনে ৫০০ থেকে ১৫০০ বাহট অর্থাৎ
১৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকায় থাকা যায় এবং স্ট্রিট ফুড খুবই সুস্বাদু।
থাইল্যান্ডে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যেমন বিটিএস, স্কাইট্রেন, এমআরটি এবং বাস খুবই
সস্তা। থাইল্যান্ডের প্রধান আকর্ষণ হলো ব্যাংকক শহর যেখানে গ্র্যান্ড প্যালেস
ওয়াট অরুণ ওয়াট ফো এবং চাটুচাক উইকএন্ড মার্কেট রয়েছে। পাতায়া সমুদ্র সৈকত
শহর যেখানে সৈকত ওয়াটার স্পোর্টস এবং নাইটলাইফ জনপ্রিয়। ফুকেত দ্বীপ যেখানে
পাটং বিচ কারন বিচ এবং ফি ফি আইল্যান্ড ট্যুর করা যায়। চিয়াং মাই পাহাড়ি শহর
যেখানে মন্দির জঙ্গল এবং এলিফ্যান্ট স্যাংচুয়ারি রয়েছে। ক্রাবি যেখানে চার
দ্বীপ ট্যুর এবং রক ক্লাইম্বিং করা যায়।
আয়ুথায়া প্রাচীন রাজধানী যেখানে ঐতিহাসিক মন্দির এবং ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
থাইল্যান্ডে ম্যাসাজ এবং স্পা খুবই সস্তা এবং মানসম্মত। পাঁচ থেকে সাত দিনের
থাইল্যান্ড ট্রিপে মোট খরচ ভিসা ফ্লাইট হোটেল খাবার এবং ভ্রমণ মিলিয়ে প্রায় ৫০
হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা হয় যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও সাশ্রয়ী। থাইল্যান্ড
ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি যখন আবহাওয়া ঠাণ্ডা এবং
আরামদায়ক। থাইল্যান্ড একটি নিরাপদ পর্যটক বান্ধব এবং সুন্দর গন্তব্য যা প্রথমবার
এশিয়া ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ।
কত টাকায় মালয়েশিয়া আধুনিক শহর ভ্রমণ করা যায়
মালয়েশিয়া আধুনিক শহর এবং প্রকৃতির একটি আশ্চর্য দেশ যেখানে আমরা অনেক সহজে
যেতে পারি এবং নিরাপদে ভ্রমণের জন্য এ দেশটি সেরা। মালয়েশিয়ার ভিসা প্রসেস সহজ
হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য এবং অনলাইন ই ভিসা বা ই এন্ট্রি নোট পাওয়া যায় যার
খরচ প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ফ্লাইট খরচ রিটার্ন
প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা এবং ফ্লাইট সময় প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা।
মালয়েশিয়ায় থাকা এবং খাবার মধ্যম দামের বাজেট হোটেলে দিনে ৮০ থেকে ২০০ রিঙ্গিত
অর্থাৎ ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকায় থাকা যায় এবং হালাল খাবার সহজলভ্য এবং সুস্বাদু।
মালয়েশিয়ায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যেমন এলআরটি এমআরটি মনোরেল এবং বাস খুবই উন্নত
এবং সস্তা। মালয়েশিয়ার প্রধান আকর্ষণ হলো কুয়ালালামপুর শহর যেখানে পেট্রোনাস
টুইন টাওয়ার বাটু গুহা কেএল টাওয়ার এবং বিভিন্ন শপিং মল রয়েছে। পুত্রজায়া
নতুন প্রশাসনিক রাজধানী যেখানে সুন্দর মসজিদ এবং স্থাপত্য রয়েছে।
মালাক্কা ঐতিহাসিক শহর যেখানে ডাচ এবং পর্তুগিজ প্রভাব দেখা যায়। পেনাং দ্বীপ
যেখানে জর্জটাউন এর স্ট্রিট আর্ট এবং খাবার বিখ্যাত। লাংকাউই দ্বীপ যেখানে সৈকত
কেবল কার এবং স্কাই ব্রিজ জনপ্রিয়। ক্যামেরন হাইল্যান্ড চা বাগান যেখানে পাহাড়ি
ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং স্ট্রবেরি ফার্ম রয়েছে। মালয়েশিয়ায় শপিং খুবই ভালো এবং
ইলেকট্রনিক্স পোশাক এবং প্রসাধনী সস্তা পাওয়া যায়।
পাঁচ থেকে সাত দিনের মালয়েশিয়া ট্রিপে মোট খরচ ভিসা ফ্লাইট হোটেল খাবার এবং
ভ্রমণ মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা হয়। মালয়েশিয়া ভ্রমণের
যেকোনো সময়ই ভালো তবে এপ্রিল থেকে অক্টোবর তুলনামূলকভাবে শুষ্ক মৌসুম।
মালয়েশিয়া একটি মুসলিম প্রধান দেশ তাই বাংলাদেশিদের জন্য সাংস্কৃতিক ভাবে
আরামদায়ক এবং নিরাপদ। এই জন্য আপনার জানা প্রয়োজন বাংলাদেশ থেকে কম খরচে
কোন কোন দেশে যাওয়া যায়।
শ্রীলঙ্কা সুন্দর দ্বীপ দেশ ভ্রমণ করতে কত টাকা লাগে
শ্রীলঙ্কা সুন্দর দ্বীপ দেশ অল্প খরচে ভ্রমণ করা যায় এবং এটি আমাদের জন্য জন্য
একটি সেরা ভ্রমণের স্থান যেখানে সমুদ্র সৈকত পাহাড় এবং সংস্কৃতি সব একসাথে
পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কায় আমাদের জন্য ভিসা অন এরাইভাল পাওয়া যায় যার জন্য
ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন ইটিএ অনলাইনে আবেদন করতে হয় যার খরচ মাত্র ৬ হাজার
টাকা ত্রিশ দিনের জন্য। ঢাকা থেকে কলম্বো ফ্লাইট খরচ রিটার্ন প্রায় ২০ হাজার
থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং ফ্লাইট সময় প্রায় তিন ঘণ্টা।
আরো পড়ুনঃ IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
শ্রীলঙ্কায় থাকা এবং খাবার খুবই সস্তা বাজেট হোটেল বা গেস্ট হাউসে দিনে ১০০০
থেকে ৩০০০ রুপিতে অর্থাৎ ৪০০ থেকে ১২০০ টাকায় থাকা যায় এবং খাবার দাম কম বিশেষত
রাইস এন্ড কারি খুবই সস্তা এবং সুস্বাদু। শ্রীলঙ্কার প্রধান আকর্ষণ হলো কলম্বো
রাজধানী শহর যেখানে গাল ফেস গ্রিন গঙ্গারামায়া মন্দির এবং শপিং মার্কেট রয়েছে।
ক্যান্ডি পাহাড়ি শহর যেখানে দাঁতের মন্দির এবং ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। নুওয়ারা
এলিয়া চা বাগান অঞ্চল যেখানে ট্রেন যাত্রা অসাধারণ সুন্দর এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়া।
সিগিরিয়া রক ফোর্টেস বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান যেখানে প্রাচীন দুর্গ এবং ম্যুরাল
রয়েছে। গাল ফোর্ট ডাচ কলোনিয়াল শহর যেখানে প্রাচীর এবং লাইটহাউস রয়েছে। মিরিসা
এবং উনাওয়াতুনা সৈকত যেখানে সাঁতার সার্ফিং এবং হোয়েল ওয়াচিং করা যায়।
উডাওয়ালাওয়ে ন্যাশনাল পার্ক যেখানে সাফারি করে হাতি এবং বন্যপ্রাণী দেখা
যায়। বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় জানার মাধ্যমে আপনি
সহজেই জানতে পারবেন কোন দেশে যাওয়া আপনার জন্য সেরা হবে।
শ্রীলঙ্কায় ট্রেনে ভ্রমণ খুবই সুন্দর এবং সস্তা বিশেষত কলম্বো থেকে ক্যান্ডি এবং
এলা পর্যন্ত। পাঁচ থেকে সাত দিনের শ্রীলঙ্কা ট্রিপে মোট খরচ ভিসা ফ্লাইট হোটেল
খাবার এবং ভ্রমণ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা হয়। শ্রীলঙ্কা
ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় হলো ডিসেম্বর থেকে মার্চ যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূলে
আবহাওয়া ভালো থাকে। শ্রীলঙ্কা একটি নিরাপদ সুন্দর এবং বাজেট ফ্রেন্ডলি গন্তব্য।
কম খরচে কি ভুটানে ভ্রমণ করা যায়
ভুটান অনন্য সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে একটি হিমালয়ান রাজ্য যা
খুশির দেশ হিসেবে পরিচিত। ভুটান সাধারণত একটি ব্যয়বহুল গন্তব্য কারণ তাদের
সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ ভারত এবং মালদ্বীপের
নাগরিকদের জন্য এই ফি মাফ করা হয়েছে। বাংলাদেশিরা ভুটানে ভিসা অন এরাইভাল পান
কিন্তু আগে থেকে পারমিট নিতে হয় ভুটান ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে। ভুটানে যাওয়ার
জন্য সাধারণত দুই উপায় আছে ফ্লাইট বা সড়ক পথ।
ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইট নেই তাই দিল্লি কলকাতা বা ব্যাংককের মাধ্যমে পারো বা
গেলেফু যেতে হয় এবং খরচ প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। সড়ক পথে ফুনশোলিং
বর্ডার দিয়ে প্রবেশ করা সস্তা বিকল্প। ভুটানে থাকা এবং খাবার মধ্যম দামের বাজেট
হোটেলে দিনে ১৫০০ থেকে ৩০০০ নুল্ট্রাম অর্থাৎ ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং খাবার দাম
তুলনামূলকভাবে বেশি।
ভুটানের প্রধান আকর্ষণ হলো থিম্পু রাজধানী যেখানে তাশিচো জং বুদ্ধ ডোরডেনমা এবং
লোকাল মার্কেট রয়েছে। পারো ভ্যালি যেখানে বিখ্যাত টাইগার্স নেস্ট মোনাস্ট্রি যা
একটি খাড়া পাহাড়ের উপরে এবং ট্রেকিং করে যেতে হয়। পুনাখা জং সুন্দর নদীর ধারে
একটি প্রাচীন দুর্গ। ফোবজিখা ভ্যালি যেখানে শীতে ব্ল্যাক নেকড ক্রেন পাখি আসে।
বুমথাং ভ্যালি যেখানে অনেক মন্দির এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ভুটানে মানুষ খুবই
বন্ধুত্বপূর্ণ এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক গো এবং কিরা পরিধান করে।
ভুটানে দুর্দান্ত পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণ দেখা যায়। পাঁচ থেকে
সাত দিনের ভুটান ট্রিপে মোট খরচ ভিসা পারমিট ফ্লাইট বা ট্রান্সপোর্ট হোটেল খাবার
এবং ভ্রমণ মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা হয় যা অন্যান্য দেশের
তুলনায় একটু বেশি কিন্তু অভিজ্ঞতা অমূল্য। ভুটান ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় হলো
মার্চ থেকে মে এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। ভুটান একটি অনন্য শান্তিপূর্ণ এবং
আধ্যাত্মিক গন্তব্য।
ইন্দোনেশিয়া বালিতে কি কম বাজেটে ভ্রমণ করা যায়
ইন্দোনেশিয়া বালি এবং জাকার্তা কম বাজেটে ভ্রমণ করা যায় এবং এটি অনেকের
স্বপ্নের ভ্রমণ স্থান। ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা অন এরাইভাল পাওয়া
যায় ত্রিশ দিনের জন্য যার খরচ মাত্র প্রায় ৪ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে জাকার্তা বা
বালিতে ফ্লাইট খরচ রিটার্ন প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা এবং ফ্লাইট সময়
প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সাধারণত কুয়ালালামপুর বা ব্যাংকক হয়ে যেতে হয়।
আপনি যদি ভ্রমণ করতে পছন্ধ করেন তাহলে বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে
যাওয়া যায় জানা টা আপনার জন্য জরুরী।
ইন্দোনেশিয়ায় থাকা এবং খাবার খুবই সস্তা বিশেষত বালিতে বাজেট হোস্টেল এবং
হোটেলে দিনে ১৫০ হাজার থেকে ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকায় থাকা যায় এবং খাবার এর মান ও
ভালো। ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আকর্ষণ হলো বালি দ্বীপ যেখানে উবুদ এর ধানক্ষেত এবং
মন্দির কুটা সেমিনিয়াক এবং নুসা দুয়া সৈকত তানাহ লট মন্দির সমুদ্রের মধ্যে
উলুওয়াতু মন্দির এবং কেচাক ড্যান্স এবং তেগাললাং রাইস টেরেস রয়েছে। নুসা পেনিডা
দ্বীপ যেখানে কেলিংকিং বিচ এবং এঞ্জেল বিলাবং জনপ্রিয়।
গিলি আইল্যান্ডস যেখানে স্নরকেলিং এবং শান্ত পরিবেশ। জাকার্তা রাজধানী যেখানে
ন্যাশনাল মনুমেন্ট ইস্তিকলাল মসজিদ এবং ওল্ড টাউন রয়েছে। জোগজাকার্তা যেখানে
বোরোবুদুর বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির এবং প্রামবানান হিন্দু মন্দির
রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় স্কুটার ভাড়া নিয়ে ঘোরা খুবই সস্তা এবং জনপ্রিয়। পাঁচ
থেকে সাত দিনের ইন্দোনেশিয়া ট্রিপে মোট খরচ ভিসা ফ্লাইট হোটেল খাবার এবং ভ্রমণ
মিলিয়ে প্রায় ৫৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা হয়। ইন্দোনেশিয়া একটি মুসলিম
প্রধান দেশ তাই আমাদের জন্য অনেক আরামদায়ক দেশ।
ভিয়েতনামে কি কম খরচে ভ্রমণ করা যায়
ভিয়েতনাম একটি সস্তা এবং সুন্দর ভ্রমণ স্থান যা এখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
কারণ সেখানে অল্প খরচে যাওয়া যায় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো রয়েছেই। ভিয়েতনামে
বাংলাদেশিদের জন্য ই ভিসা পাওয়া যায় অনলাইনে আবেদন করে যার খরচ মাত্র ৩ হাজার
টাকা ত্রিশ দিনের জন্য এবং তিন দিনে পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে হ্যানয় বা হো চি মিন
সিটিতে ফ্লাইট খরচ রিটার্ন প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং ফ্লাইট সময়
প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সাধারণত ব্যাংকক হয়ে যেতে হয়।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে
ভিয়েতনামে থাকা এবং খাবার খুবই সস্তা বাজেট হোস্টেল বা হোটেলে দিনে ১০ থেকে ৩০
ডলার অর্থাৎ ১২০০ থেকে ৩৬০০ টাকায় থাকা যায় এবং স্ট্রিট ফুড খুবই সস্তা এবং
সুস্বাদু যেমন ফো বান মি এবং বান চা। ভিয়েতনামের প্রধান আকর্ষণ হলো হ্যানয়
রাজধানী যেখানে হোয়ান কিয়েম লেক ওল্ড কোয়ার্টার হো চি মিন মজার এবং ওয়াটার
পাপেট শো রয়েছে। হালং বে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান যেখানে হাজারো দ্বীপ এবং ক্রুজ
ট্যুর করা যায়। সাপা পাহাড়ি অঞ্চল যেখানে ধানক্ষেত এবং উপজাতি গ্রাম রয়েছে।
হো চি মিন সিটি বা সাইগন যেখানে নটরডেম ক্যাথেড্রাল যুদ্ধ জাদুঘর এবং কু চি টানেল
রয়েছে। হোই আন প্রাচীন শহর যেখানে লণ্ঠনের রাত এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য বিখ্যাত।
নিয়া ট্রাং সৈকত শহর যেখানে স্নরকেলিং এবং আইল্যান্ড হপিং জনপ্রিয়। ড্যা ল্যাট
পাহাড়ি শহর যেখানে ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং ফুলের বাগান। ভিয়েতনামে স্লিপার বাস এবং
ট্রেন ভ্রমণ খুবই সস্তা এবং জনপ্রিয়। পাঁচ থেকে সাত দিনের ভিয়েতনাম ট্রিপে মোট
খরচ ভিসা ফ্লাইট হোটেল খাবার এবং ভ্রমণ মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার
টাকা হয়।
কম টাকা খরচে বিদেশ ভ্রমণের জন্য টিপস
কম খরচে বিদেশ ভ্রমণের টিপস এবং পরিকল্পনা জানা থাকলে আপনি অনেক টাকা সাশ্রয়
করতে পারবেন এবং একই বাজেটে আরো ভালো ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রথমত অফ সিজনে ভ্রমণ
করুন যখন পর্যটকদের ভিড় কম থাকে এবং হোটেল ফ্লাইট এবং ট্যুর সবকিছুর দাম কম থাকে
যেমন গ্রীষ্মকালে ইউরোপ এবং বর্ষাকালে দক্ষিণ এশিয়া। আগে থেকে পরিকল্পনা করুন
এবং ফ্লাইট টিকেট বুকিং দিন কারণ শেষ মুহূর্তে টিকেট অনেক ব্যয়বহুল হয়।
বাজেট এয়ারলাইনস ব্যবহার করুন যেমন এয়ার এশিয়া মালিন্দো বা নোকস্কোট যারা কম
দামে টিকেট দেয়। ফ্লেক্সিবল ডেট রাখুন কারণ কিছু দিন আগে পরে গেলে টিকেট অনেক
সস্তা পাওয়া যায়। বাজেট হোটেল হোস্টেল বা এয়ারবিএনবি ব্যবহার করুন বিলাসবহুল
হোটেল এড়িয়ে চলুন। লোকাল খাবার খান রেস্টুরেন্টের পরিবর্তে স্ট্রিট ফুড বা
লোকাল ইটারি খুঁজুন যা সস্তা এবং সুস্বাদু এবং স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন ট্যাক্সি বা প্রাইভেট গাড়ির পরিবর্তে বাস
ট্রেন মেট্রো ব্যবহার করুন যা অনেক সস্তা। ফ্রি অ্যাট্রাকশন খুঁজুন অনেক শহরে
ফ্রি ওয়াকিং ট্যুর ফ্রি মিউজিয়াম এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য রয়েছে যা কোনো টাকা
খরচ ছাড়াই উপভোগ করা যায়। গ্রুপ ভ্রমণ করুন বন্ধু বা পরিবারের সাথে গেলে হোটেল
এবং ট্রান্সপোর্ট খরচ শেয়ার করা যায়। কারেন্সি এক্সচেঞ্জ স্মার্টলি করুন
বিমানবন্দরে না করে শহরে ভালো রেট দেয় এমন জায়গা খুঁজুন বা ক্রেডিট কার্ড
ব্যবহার করুন। ট্রাভেল ইন্সুরেন্স নিন যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য পাওয়া
যায়।
সঠিক প্যাকিং করুন যাতে এক্সেস ব্যাগেজ ফি না দিতে হয় এবং প্রয়োজনীয় জিনিস
সাথে থাকে। লোকাল সিম কার্ড কিনুন রোমিং এর পরিবর্তে যা অনেক সস্তা। প্রি বুকিং
করুন জনপ্রিয় অ্যাট্রাকশন এবং ট্যুর যাতে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। এই টিপস অনুসরণ
করলে আপনার ভ্রমণ খরচ অনেক কমে যাবে এবং আপনি আরো বেশি জায়গা ঘুরতে পারবেন একই
বাজেটে।
লেখকের শেষ কথা
কম খরচে ভ্রমণ করলেও আপনি সুন্দর স্মৃতি তৈরি করতে পারবেন এবং বিশ্বকে ঘুরে দেখতে
পারবেন। ভ্রমণ শুরু করার আগে ভালোভাবে পরিকল্পনা করুন বাজেট তৈরি করুন এবং
প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন। আপনি কম খরচেই বিশ্বের অনেকগুলো
দেশ ঘুরতে পারবেন বিশেষ করে আমাদের এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়, ভারতে ভ্রমণ করতে কত
টাকা খরচ হয়ে থাকে, নেপালের পাহাড়ে যাওয়ার জন্য কত টাকা লাগে, থাইল্যান্ডে কি
কম খরচে ভ্রমণ করা যায়, কত টাকায় মালয়েশিয়া আধুনিক শহর ভ্রমণ করা যায়,
শ্রীলঙ্কা সুন্দর দ্বীপ দেশ ভ্রমণ করতে কত টাকা লাগে, কম খরচে কি ভুটানে ভ্রমণ
করা যায়, ইন্দোনেশিয়া বালিতে কি কম বাজেটে ভ্রমণ করা যায়, ভিয়েতনামে কি কম
খরচে ভ্রমণ করা যায়, কম টাকা খরচে বিদেশ ভ্রমণের জন্য টিপস ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url