বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশের কাজের ভিসা চালু আছে
বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায় এ প্রশ্নটি অনেকের মনে থাকে বিশেষ করে যারা বিদেশে গিয়ে বেশি টাকা ইনকাম করতে চান তারা জানতে চান।
বিদেশে-শ্রমিক-হিসেবে-গেলে-কত-টাকা-বেতন-পাওয়া-যায়
তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়, কোন দেশে কোন কাজে বেশি বেতন, দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের বেতনের পার্থক্য এবং বেতন বাড়ানোর উপায় কী।

পেজ সূচিপত্রঃ বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়

বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়

বিদেশে শ্রমিকের কাজ করলে কত টাকা বেতন পাওয়া যাবে এটি নির্ভর করে কোন দেশে যাচ্ছেন, কোন কাজে নিয়োগ পাচ্ছেন এবং আপনার দক্ষতার মাত্রা কেমন তার উপর। সাধারণভাবে বলতে গেলে সৌদি আরবে একজন অদক্ষ শ্রমিক মাসে ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন, যেখানে একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান বা ইলেকট্রিশিয়ান একই দেশে মাসে ৮০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

একইভাবে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ১,৫০০ রিঙ্গিত যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫,০০০ টাকা এবং সিঙ্গাপুরে একজন শ্রমিক মাসে ৮০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। বিদেশে বেতনের পাশাপাশি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাকার জায়গা ও খাবারের খরচ নিয়োগকর্তা বহন করেন যা বাংলাদেশে থাকলে নিজে দিতে হতো। এই সুবিধাগুলো হিসাব করলে মোট প্যাকেজের মূল্য আরও অনেক বেশি হয়। যেমন সৌদি আরবে বেতন ৩০,০০০ টাকা হলেও থাকা-খাওয়ার পেছনে আলাদা খরচ নেই তাই কার্যত সেটা অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

ওভারটাইম করলে বেতন আরও বাড়ে এবং কিছু দেশে বার্ষিক বোনাস ও দেশে আসার টিকিটও কোম্পানি দিয়ে থাকে। তবে বিদেশ যাওয়ার আগে মাইগ্রেশন খরচের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। গবেষণায় দেখা গেছে সৌদি আরব যেতে গড়ে ৫ থেকে ৯ লক্ষ টাকা খরচ হয় এবং মালয়েশিয়া যেতে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা লাগে। এই বিশাল খরচ তুলতেই অনেকের প্রথম ১ থেকে ২ বছর লেগে যায়। তাই শুধু মাসিক বেতন নয়, যাওয়ার খরচ ও উপার্জন ঘরে পাঠাতে কত সময় লাগবে সেটাও হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত বেতন পাওয়া যায়

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭.৫ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক সৌদি আরবে কাজে গেছেন। সৌদি আরবে একজন সাধারণ শ্রমিক যেমন ক্লিনার বা ফ্যাক্টরি হেলপার মাসে ১,০০০ থেকে ১,৬০০ সৌদি রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪৭,০০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পান। কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ শ্রমিকরা মাসে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ রিয়াল অর্থাৎ ৪৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন এবং দক্ষ রাজমিস্ত্রি বা সুপারভাইজার হলে এটি আরও বেশি হয়। রেস্টুরেন্ট ও হোটেল কর্মীরা সাধারণত ১,৫০০ থেকে ২,০০০ রিয়াল পান।

সৌদি আরবে যেসব দক্ষ পেশায় বেশি বেতন পাওয়া যায় সেগুলো হলো ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার, অটোমোবাইল মেকানিক এবং এসি টেকনিশিয়ান। এই ক্যাটাগরির কর্মীরা মাসে ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ রিয়াল অর্থাৎ ৭৫,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। সরকারি কোম্পানিতে কাজ করলে বেতন আরও বেশি হয় এবং সেখানে মাসিক ১,৬০০ থেকে ২,২০০ রিয়াল ন্যূনতম বেতন নির্ধারিত আছে। ওভারটাইম সুবিধা ব্যবহার করলে মাসিক মোট আয় আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বাড়তে পারে।

তবে সৌদি আরবে বর্তমানে ইকামা বা ওয়ার্ক পারমিটের খরচ বছরে ১১,০০০ রিয়াল পর্যন্ত হওয়ায় অনেক শ্রমিক সমস্যায় পড়ছেন। এই উচ্চ ইকামা ফি পরিশোধ করতে না পারলে অবৈধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ জন শ্রমিক সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসছেন এই কারণে। তাই সৌদি আরবে যাওয়ার আগে ইকামা খরচ কে বহন করবে অর্থাৎ নিয়োগকর্তা নাকি কর্মী সেটা চুক্তিতে স্পষ্ট করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কাতারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করলে মাসিক বেতন কত

কাতার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং ২০২৫ সালে এখানে ১ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নতুনভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। কাতারে একজন সাধারণ নির্মাণ শ্রমিক মাসে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ কাতারি রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৬,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পান। ক্লিনার ও হাউজকিপিং কাজে বেতন কিছুটা কম অর্থাৎ ১,০০০ থেকে ১,৩০০ রিয়াল তবে থাকা ও খাওয়ার সুবিধা সাধারণত নিয়োগকর্তাই বহন করেন। নিরাপত্তাকর্মী বা সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করলে মাসে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ রিয়াল পাওয়া যায় যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা।
কাতারে বিশ্বকাপের পরেও নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রচুর কাজ রয়েছে এবং দক্ষ কর্মীদের বেতন অনেক বেশি। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এইচভিএসি টেকনিশিয়ান এবং ওয়েল্ডারদের মাসিক বেতন ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ কাতারি রিয়াল অর্থাৎ ৭৫,০০০ থেকে ১,৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়। ডেলিভারি ড্রাইভার ও লজিস্টিকস সেক্টরে বেতন মাসে ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ রিয়াল এবং কাতারে মোটামুটি সব স্তরের কর্মীরা ওভারটাইমের সুবিধা পেয়ে থাকেন।

কাতারের একটি বিশেষ সুবিধা হলো বেশিরভাগ বড় কোম্পানি এখানে শ্রমিকদের থাকার জায়গা, খাওয়া এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়। এই সুবিধাগুলো হিসাব করলে প্রকৃত মোট প্যাকেজ ঘোষিত বেতনের চেয়ে অনেক বেশি হয়। তাই কাতারে বেতন যদিও সৌদি আরব বা সিঙ্গাপুরের চেয়ে কিছুটা কম মনে হয় তবে সামগ্রিক সুবিধা বিবেচনায় এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।

কুয়েত ও ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেতন কেমন

কুয়েত বাংলাদেশিদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার যেখানে ২০২৫ সালে প্রায় ৪২,০০০ বাংলাদেশি নতুনভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। কুয়েতে একজন সাধারণ শ্রমিক মাসে ৫০ থেকে ৮০ কুয়েতি দিনার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৮,০০০ থেকে ২৮,০০০ টাকা পান, যা সৌদি আরব বা কাতারের তুলনায় কিছুটা কম। তবে কুয়েতে গৃহকর্মী বা হাউজমেইড হিসেবে কাজ করলে সাধারণত মাসে ৮০ থেকে ১২০ কুয়েতি দিনার পাওয়া যায় এবং থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
বিদেশে-শ্রমিক-গেলে-কত-টাকা-বেতন-পাওয়া-যায়
দক্ষ কারিগর যেমন ইলেকট্রিশিয়ান বা মেকানিক কুয়েতে মাসে ১২০ থেকে ২০০ দিনার অর্থাৎ ৪৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। ওমান বাংলাদেশিদের জন্য আরেকটি চেনা গন্তব্য যেখানে প্রায় ৭ লক্ষ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। ওমানে নির্মাণ শ্রমিকদের বেতন মাসে ১২০ থেকে ১৮০ ওমানি রিয়াল অর্থাৎ প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৫৫,০০০ বাংলাদেশি টাকার সমতুল্য। রেস্টুরেন্ট ও সুপারমার্কেটে কাজ করলে বেতন কিছুটা কম তবে ড্রাইভার, সিকিউরিটি গার্ড বা টেকনিশিয়ান হিসেবে ওমানে মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

ওমানের জীবনযাত্রার মান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলক সহনশীল এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি শক্তিশালী হওয়ায় মানিয়ে নেওয়া সহজ। কুয়েত ও ওমানে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কতা হলো ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা অনেক বেশি হয় এই দেশগুলোতে। ফ্রি ভিসা মানে হলো গন্তব্য দেশে পৌঁছানোর পর নিজেকে কাজ খুঁজতে হবে এবং এই ধরনের ভিসায় যাওয়া অনেকেই সেখানে গিয়ে নির্দিষ্ট কাজ পান না, বরং বিপদে পড়েন। তাই অবশ্যই কোম্পানি ভিসা বা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির অফার লেটার নিয়ে যাওয়াই নিরাপদ।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা আয় করা যায়

মালয়েশিয়া বাংলাদেশিদের অন্যতম পছন্দের শ্রমবাজার যেখানে ভাষার বাধা কম এবং পরিবেশও অনেকটা পরিচিত। মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ১,৫০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নির্ধারিত আছে যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৩৮,০০০ টাকা। ফ্যাক্টরি শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় কাজ করলে মাসে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ রিঙ্গিত পাওয়া যায় এবং ওভারটাইম করলে সেটা ৩,০০০ রিঙ্গিত বা প্রায় ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। নির্মাণ ও ল্যান্ডস্কেপিং কাজে বেতন কিছুটা বেশি এবং দক্ষ কারিগরদের জন্য ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত উপার্জন সম্ভব।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সুবিধা হলো এখানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক আছে এবং নতুন আসা কর্মীরা সহজেই বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সহায়তা পান। তবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার খরচ এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নতুনভাবে খোলার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৩,০০০ জনের মতো কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়েছে। সরকারি মাধ্যম বা BOESL এর মাধ্যমে গেলে তুলনামূলক কম খরচে ও নিরাপদে মালয়েশিয়া যাওয়া সম্ভব।

মালয়েশিয়ায় বেতন বৃদ্ধির সুযোগও ভালো। প্রথমে ফ্যাক্টরি হেলপার হিসেবে শুরু করে অভিজ্ঞতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে অপারেটর বা লাইন সুপারভাইজার পদে উন্নীত হলে মাসে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত বেতন পাওয়া যায়। ইংরেজি ভালো জানলে এবং মালয় ভাষার কিছুটা জ্ঞান থাকলে মালয়েশিয়ায় উপরে ওঠার পথ অনেক সুগম হয়।

সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিকদের বেতন কত

সিঙ্গাপুর বাংলাদেশিদের জন্য একটি উচ্চ বেতনের শ্রমবাজার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৭০,০০০ বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সিঙ্গাপুরে একজন নির্মাণ শ্রমিক মাসে ১,২০০ থেকে ২,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ১,০০,০০০ থেকে ১,৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। দক্ষ কারিগর যেমন ওয়েল্ডার, পাইপ ফিটার বা স্ক্যাফোল্ডার সিঙ্গাপুরে মাসে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলার অর্থাৎ ১,৭০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। সিঙ্গাপুরে জীবনযাত্রার খরচ বেশি হলেও বেতনও অনেক বেশি তাই সঞ্চয় করার সুযোগ ভালো।

দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশিদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য কারণ এখানে EPS বা Employment Permit System এর মাধ্যমে সরকারিভাবে কর্মী নেওয়া হয় এবং বেতন অনেক বেশি। কোরিয়ায় একজন ফ্যাক্টরি শ্রমিকের গড় বেতন মাসে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ১,৬০,০০০ থেকে ২,৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়। কোরিয়ায় যেতে হলে EPS-TOPIK পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে হতে হয়। এই পরীক্ষা পাস করতে পারলে কোরিয়া হলো সবচেয়ে বেশি বেতনের শ্রমবাজার।

ইউরোপের কিছু দেশ যেমন ইতালি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডেও বাংলাদেশি কর্মীরা যাচ্ছেন এবং সেখানে বেতন মাসে ৮০০ থেকে ১,৫০০ ইউরো অর্থাৎ ১,০০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ টাকার মধ্যে। জাপানেও সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন যেখানে মাসিক আয় ১,০০০ থেকে ২,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়। তবে এই দেশগুলোতে যাওয়া এখনো বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক কঠিন কারণ ভাষার বাধা ও যোগ্যতার মান বেশি।

 পাদক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের বেতনেরর্থক্য কেমন

বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায় তার উত্তরে সবচেয়ে নির্ধারক বিষয় হলো দক্ষতার মাত্রা। একই দেশে একই সেক্টরে কাজ করলেও দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের বেতনের মধ্যে দুই থেকে তিনগুণ পার্থক্য হতে পারে। সৌদি আরবে একজন অদক্ষ ক্লিনার মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ রিয়াল পান যেখানে একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান সেখানেই ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ রিয়াল পেয়ে থাকেন। এই পার্থক্যটাই প্রমাণ করে যে বিদেশ যাওয়ার আগে একটি দক্ষতা অর্জন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বিনিয়োগটি সবচেয়ে বেশি ফলদায়ক।

BMET অনুমোদিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং, এসি রিপেয়ার, গার্মেন্টস মেশিন অপারেটর, ড্রাইভিং বা রান্নার দক্ষতা অর্জন করা যায়। এই প্রশিক্ষণগুলো সাধারণত ১ থেকে ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং খরচ কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার টাকার মধ্যে। এই ছোট বিনিয়োগ বিদেশে বেতন দ্বিগুণ বা তিনগুণ করে দিতে পারে যা মাত্র কয়েক মাসেই উঠে আসে। সরকারি টেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার বা TTCs থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে এই প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব।

ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও বিদেশে বেতন বাড়ানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। যারা ইংরেজিতে কথা বলতে ও বুঝতে পারেন তারা সুপারভাইজার, ফোরম্যান বা দোভাষীর ভূমিকায় যেতে পারেন যেখানে বেতন সাধারণ শ্রমিকের দ্বিগুণ বা তিনগুণ। আরবি ভাষার প্রাথমিক দক্ষতাও মধ্যপ্রাচ্যে অনেক বেশি কাজে লাগে। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে এই দক্ষতাগুলো অর্জনে সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করাটা দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।

বেতনের বাইরে বিদেশে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়

বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায় শুধু এটুকু জানলেই চলবে না, বেতনের বাইরে কী কী সুবিধা পাওয়া যায় সেটাও জানা সমান গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সুবিধাগুলোর মোট মূল্য অনেক সময় মাসিক বেতনের চেয়েও বেশি হয়। বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্যের কোম্পানি কর্মীদের থাকার আবাসন বিনামূল্যে দেয়। যদি মাসে ৫,০০০ টাকায় একটি ঘর ভাড়া ধরা হয় তাহলে বছরে ৬০,০০০ টাকার সমমূল্য সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে শুধু এই একটি সুবিধা থেকেই। এছাড়াও অনেক কোম্পানি খাবার সরবরাহ করে যা দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা সাশ্রয় করে।
চিকিৎসা সুবিধা বিদেশে কাজ করার আরেকটি বড় সুবিধা। অনেক কোম্পানি কর্মীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয় এবং অসুস্থ হলে হাসপাতালের খরচও বহন করে। বিমান টিকিট সুবিধাও অনেক কোম্পানি দেয় বিশেষত চুক্তি শেষে দেশে ফেরার টিকিট বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কিছু কোম্পানি বার্ষিক ছুটিতে দেশে যাওয়া-আসার টিকিটও দেয় যা প্রতিবার ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার সমতুল্য। এই সুবিধাগুলো হিসাব করলে মোট প্যাকেজ ঘোষিত বেতনের চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি হয়।

ওভারটাইমের সুযোগও বিদেশে আয় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বেশিরভাগ দেশে নিয়মিত কাজের সময়ের বাইরে কাজ করলে ১.৫ থেকে ২ গুণ হারে বেতন দেওয়া হয়। রমজান মাস ও বিশেষ প্রজেক্টে কাজ করলে বোনাস পাওয়া যায়। এছাড়াও দীর্ঘদিন একই কোম্পানিতে কাজ করলে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও পারফরম্যান্স বোনাসের সুযোগ থাকে যা সময়ের সাথে সাথে মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

বিদেশে বেতন বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়

বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায় তা শুধু জানলেই চলবে না, কীভাবে সেই বেতন দ্রুত বাড়ানো যায় সেটাও জানা দরকার। প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কাজ শেখার মানসিকতা রাখা। বিদেশে গিয়ে যারা শুধু নির্ধারিত কাজটুকু করেন এবং নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন না তাদের বেতন বছরের পর বছর একই থাকে। কিন্তু যারা কাজের পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জন করেন, ইংরেজি বা স্থানীয় ভাষা শেখেন এবং সিনিয়র কর্মীদের কাছ থেকে কাজ শেখেন তারা দ্রুত সুপারভাইজার বা ফোরম্যান পদে উন্নীত হন এবং বেতন দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে যায়।
বিদেশে-শ্রমিক-হিসেবে-গেলে-কত-টাকা-বেতন-পাওয়া-যায়
বিদেশে একই কোম্পানিতে থেকে সততা ও নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিলে দ্রুত উন্নতি হয়। অনেকে বেশি বেতনের আশায় ঘন ঘন কোম্পানি বদলান কিন্তু এতে প্রতিটি নতুন কোম্পানিতে আবার শুরু থেকে বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। একই কোম্পানিতে ৩ থেকে ৫ বছর থেকে ভালো পারফরম্যান্স দেখালে সাধারণত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতি পাওয়া যায়। এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ।

দেশে থাকতেই বিদেশের কাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই বেতন বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ পথ। যেদেশে যাবেন সেই দেশের ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান নিন, কারিগরি প্রশিক্ষণ নিন এবং কম্পিউটার বেসিক শিখুন। এই প্রস্তুতি নিয়ে গেলে যাওয়ার দিন থেকেই ভালো পদে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে এবং বেতনও শুরু থেকেই বেশি হয়। দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশ যাওয়া মানেই বেতনের যুদ্ধে অনেক এগিয়ে থাকা।

লেখকের শেষ কথা

আপনি যদি বিদেশে গিয়ে ইনকাম করতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সাধারণ চাকরি চেয়ে বেশি ইনকাম করতে পারবেন। সৌদি আরবে ৩০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ টাকা, কাতারে ৩৬,০০০ থেকে ১,৩৫,০০০ টাকা, মালয়েশিয়ায় ৩৫,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা, সিঙ্গাপুরে ১,০০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১,৬০,০০০ থেকে ২,৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক আয় সম্ভব। বেতনের পার্থক্যের মূল কারণ হলো দক্ষতা, দেশ ও কাজের ধরন।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে বিদেশে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়, সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে গেলে কত বেতন পাওয়া যায়, কাতারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করলে মাসিক বেতন কত, কুয়েত ও ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেতন কেমন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে গেলে কত টাকা আয় করা যায়, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিকদের বেতন কত, দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের বেতনের পার্থক্য কেমন, বেতনের বাইরে বিদেশে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়, বিদেশে বেতন বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url