Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায়
বিকাশ থেকে লোন কিভাবে নেব এবং শর্ত কি কি
Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায় জানার মাধ্যমে আপনি অনেক
সহজেই মাত্র ১০ মিনিটে একটি আমেরিকান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।
তবে এই অ্যাপটি সম্পর্কে অনেকেই এখনো জানেন না বা জানলেও কীভাবে শুরু করবেন বুঝতে
পারছেন না। তাই আজকের আর্টিকেল আপনারা জানতে পারবেন Nsave App দিয়ে
কিভাবে একাউন্ট তৈরি করবেন এবং কিভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায়
- Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায়
- Nsave App আসলে কী এবং কে তৈরি করেছে
- বাংলাদেশ থেকে কি Nsave ব্যবহার করা যায়
- Nsave দিয়ে কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়
- Nsave অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী লাগবে
- ধাপে ধাপে Nsave অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
- Nsave এর ফ্রি ও Pro প্ল্যানে পার্থক্য কী
- Nsave Mastercard কীভাবে পাবেন ও ব্যবহার করবেন
- বাংলাদেশে Nsave থেকে টাকা তোলার উপায়
- লেখকের শেষ কথা
Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায়
আমেরিকান ব্যাংক একাউন্ট খোলা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ এবং সম্পূর্ণ অনলাইনে
সম্পন্ন করা যায়। আপনার স্মার্টফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করুন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা
পাসপোর্টের ছবি দিন, একটি সেলফি তুলুন এবং মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে আপনার
অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে। অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হওয়ার পরই আপনি একটি আমেরিকান
Routing Number ও Account Number পাবেন যা Upwork, Deel, Fiverr বা যেকোনো
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট মেথড হিসেবে যুক্ত করা যাবে এবং সরাসরি ডলারে
পেমেন্ট নেওয়া সম্ভব হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং কোনো ব্যাংকে সশরীরে যেতে হয় না।
আগে বাংলাদেশ থেকে সত্যিকারের আমেরিকান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া প্রায় অসম্ভব
ছিল কারণ Payoneer বা Wise তে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু Nsave সেই বাধাটা
সরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে যারা Upwork এর Direct to US Bank পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করতে চান তাদের
জন্য এটি এখন সবচেয়ে সহজ পথ।
মূল বিষয় হলো এটি একটি ভার্চুয়াল ওয়ালেট নয়, বরং একটি আসল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
যা আমেরিকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয়। এই অ্যাকাউন্টে
থাকা টাকা যেকোনো সময় মাত্র ১ ডলার ফি তে বাংলাদেশি ব্যাংকে পাঠানো যায় এবং USD
ব্যালেন্সে প্রতিদিন রিওয়ার্ডও জমতে থাকে। তাই অ্যাকাউন্টটি শুধু পেমেন্ট রিসিভ
করার জায়গা নয়, ছোট পরিসরে সঞ্চয়ের কাজও করে।
Nsave App আসলে কী এবং কে তৈরি করেছে
Nsave হলো যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত Masref Ltd কোম্পানির তৈরি একটি আন্তর্জাতিক
আর্থিক প্ল্যাটফর্ম যার মূল স্লোগান "Earn globally, spend locally"। এই
প্ল্যাটফর্মটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ, মিশর, পাকিস্তান, তুরস্ক,
নাইজেরিয়াসহ ২৫টিরও বেশি দেশের সেই পেশাদারদের জন্য যারা বিদেশি ক্লায়েন্টের
কাছ থেকে ডলারে আয় করেন কিন্তু স্থানীয় মুদ্রায় খরচ করেন। Google Play Store এ
অ্যাপটির ১ লক্ষেরও বেশি ডাউনলোড রয়েছে।
Nsave মূলত তিনটি আলাদা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে। USD সেবার জন্য কাজ
করে npay Inc যা আমেরিকার ডেলাওয়্যার স্টেটে নিবন্ধিত এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বে কাজ করে। GBP সেবার জন্য কাজ করে Frost
Money Ltd যা যুক্তরাজ্যের Financial Conduct Authority বা FCA অনুমোদিত এবং
আন্তর্জাতিক মানের নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হয়। বিনিয়োগ সেবার জন্য Nsave
নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।
Nsave একটি সাধারণ পেমেন্ট টুল নয়, এটি একটি পূর্ণ আর্থিক ইকোসিস্টেম। একটিমাত্র
অ্যাপে আপনি পাবেন USD ও GBP অ্যাকাউন্ট, ভার্চুয়াল Mastercard, আমেরিকান শেয়ার
বাজারে বিনামূল্যে বিনিয়োগ এবং দেশে টাকা পাঠানোর সুবিধা। আগে এই সুবিধাগুলো
পেতে একাধিক আলাদা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হতো কিন্তু এখন Nsave একটাতেই সব
মিটিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে কি Nsave ব্যবহার করা যায়
অনেকেরই প্রথম প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ থেকে আসলেই Nsave ব্যবহার করা সম্ভব কিনা এবং
এটা বৈধ কিনা। উত্তর হলো হ্যাঁ, বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে Nsave ব্যবহার
করা যায় এবং Nsave এর ওয়েবসাইটে আলাদাভাবে Bangladesh সেকশন রয়েছে যেখানে
বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ তথ্য ও সহায়তা গাইড দেওয়া আছে। এমনকি
তাদের রেট ক্যালকুলেটরে USD to BDT কনভার্সনের অপশনও আলাদাভাবে রাখা হয়েছে যা
স্পষ্টভাবে দেখায় যে বাংলাদেশ তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বাংলাদেশের হাজার
হাজার ফ্রিল্যান্সার ইতিমধ্যে সফলভাবে এটি ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশ থেকে Nsave ব্যবহার করলে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে যেটা জেনে রাখাটা দরকার।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্ড দিয়ে Nsave অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো যায় না এবং
ক্রিপ্টো ডিপোজিটের সুবিধাও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক
প্ল্যাটফর্ম থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করা এবং সেই টাকা বাংলাদেশে পাঠানো সম্পূর্ণভাবে
কাজ করে। যাদের মূল উদ্দেশ্য বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়া তাদের
জন্য এই সীমাবদ্ধতাগুলো তেমন কোনো সমস্যা নয়।
বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে সবসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মাবলী মেনে
চলা উচিত। ফ্রিল্যান্সিং আয় বৈধ চ্যানেলে আনলে সরকারিভাবে ২% প্রণোদনা পাওয়া
যায় এবং বিভিন্ন ট্যাক্স সুবিধাও মেলে। Nsave এর মাধ্যমে টাকা আনলে সেটা একটি
বৈধ ও নিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আসে তাই ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতার
সম্ভাবনা থাকে না। আপনার কাছে যদি একটি এনআইডি থাকে তাহলে সহজেই Nsave
App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায় জানার মাধ্যমে আমেরিকান
ব্যাংক একাউন্ট পেতে পারবেন।
Nsave দিয়ে কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়
Nsave তে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা মূলত দুটি ধরনের অ্যাকাউন্ট পেতে পারেন।
প্রথমটি হলো USD ACH Account যেখানে একটি আমেরিকান Routing Number ও Account
Number পাওয়া যায়। এই তথ্য ব্যবহার করে Upwork, Deel, Remote.com, Toptal বা
যেকোনো আমেরিকান কোম্পানি থেকে সরাসরি ডলারে পেমেন্ট নেওয়া যাবে এবং এটি ফ্রি
প্ল্যানেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সারের চাহিদা এই
অ্যাকাউন্টটি দিয়েই মেটে।
দ্বিতীয়টি হলো USD Wire Account যেখানে একটি IBAN নম্বর থাকে এবং SWIFT পদ্ধতিতে
আন্তর্জাতিক ওয়্যার ট্রান্সফার গ্রহণ করা সম্ভব। এটি ফ্রি প্ল্যানে এককালীন ১.৯৯
ডলার ফি দিয়ে এবং Pro প্ল্যানে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যারা ইউরোপ বা এশিয়ার
কোম্পানি থেকে SWIFT পদ্ধতিতে পেমেন্ট পান তাদের জন্য এই অ্যাকাউন্টটি
প্রয়োজনীয়। এছাড়াও GBP Account রয়েছে যা যুক্তরাজ্যের ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে
পাউন্ডে পেমেন্ট নিতে কাজে লাগে।
Nsave অ্যাকাউন্টে রাখা USD ব্যালেন্সের উপর প্রতিদিন রিওয়ার্ড জমতে থাকে যা
বার্ষিক হিসেবে Standard প্ল্যানে ৩.২% এবং Pro প্ল্যানে ৪.২%। এটি মূলত একটি
হাই-ইল্ড সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো কাজ করে তাই অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা নিষ্ক্রিয়
থাকে না। আমেরিকান শেয়ার বাজারে বিনামূল্যে বিনিয়োগের সুবিধাও রয়েছে যেখানে US
Stocks, ETF ও Bond কেনা সম্ভব।
Nsave অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী লাগবে
Nsave অ্যাকাউন্ট খুলতে যা লাগবে তার তালিকাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি সচল ইমেইল
অ্যাড্রেস, একটি সচল বাংলাদেশি ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের উভয়
পাশের স্পষ্ট ছবি এবং একটি সেলফি ছবি। এর বাইরে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের প্রমাণ,
কোম্পানির কাগজপত্র বা অন্য কোনো দলিল দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং কোনো ন্যূনতম
ব্যালেন্সও রাখতে হয় না। এই সরলতাটাই Nsave কে অন্য প্ল্যাটফর্মের তুলনায় আলাদা
করে তোলে।
পরিচয়পত্রের ছবি আপলোড করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখলে KYC যাচাই দ্রুত হয়। ছবি
যেন ঝাপসা না হয়, কাটছাঁট না থাকে এবং NID এর লেমিনেটের কারণে আলোর প্রতিফলন না
পড়ে তা নিশ্চিত করুন। পাসপোর্ট ব্যবহার করলে প্রধান তথ্যের পাতার ছবি দিলেই চলে।
সেলফি তোলার সময় মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে কিনা এবং পর্যাপ্ত আলো আছে কিনা
সেটা নিশ্চিত করুন কারণ অ্যাপটি ছবির সাথে আপনার মুখ মিলিয়ে যাচাই করে।
আরো পড়ুনঃ
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার উপায়
অ্যাকাউন্টের ফর্মে ঠিকানা পূরণের সময় NID বা পাসপোর্টে যে ঠিকানা আছে সেটা
ইংরেজিতে হুবহু লিখতে চেষ্টা করুন। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন যে ঠিকানার তথ্য
সঠিকভাবে না দিলে KYC অনুমোদনে বিলম্ব হতে পারে। সাধারণত KYC যাচাই কয়েক মিনিট
থেকে সর্বোচ্চ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায় এবং অনুমোদিত হলে ইমেইলে
নোটিফিকেশন পাঠানো হয়।
ধাপে ধাপে Nsave অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রথম ধাপে আপনার ফোনে Google Play Store বা Apple App Store থেকে "nsave" লিখে
সার্চ করুন এবং "nsave: Global USD Accounts" অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। অ্যাপ ইন্সটল
হলে খুলুন এবং Get Started বাটনে ট্যাপ করুন। Country সিলেক্ট করার জায়গায়
Bangladesh বেছে নিন, তারপর ইমেইল অ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি
করুন। ইমেইলে আসা ভেরিফিকেশন কোড দিয়ে ইমেইল যাচাই করুন এবং ফোন নম্বরে আসা OTP
দিয়ে ফোন নম্বরও নিশ্চিত করুন।
দ্বিতীয় ধাপে KYC করতে হবে। এই ধাপে NID বা পাসপোর্টের ছবি আপলোড করুন এবং
নির্দেশনা অনুযায়ী সেলফি তুলুন। এরপর ঠিকানাসহ ব্যক্তিগত তথ্যের ফর্ম পূরণ করুন
এবং Terms and Conditions এ সম্মতি দিন। KYC সম্পন্ন হওয়ার পর প্ল্যান সিলেক্ট
করার পেজ আসবে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য শুরুতে Standard বা ফ্রি প্ল্যান বেছে
নেওয়াই সবচেয়ে ভালো কারণ এতে কোনো খরচ নেই।
তৃতীয় ধাপে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হওয়ার পর অ্যাপের Accounts সেকশনে গেলে আপনার
USD ACH Account এর Routing Number ও Account Number দেখতে পাবেন। এই তথ্য
স্ক্রিনশট নিয়ে সংরক্ষণ করুন এবং Upwork বা অন্য যেকোনো প্ল্যাটফর্মে Payment
Method হিসেবে এই তথ্য যোগ করুন। এরপর থেকে পেমেন্ট সরাসরি আপনার Nsave
অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবেন। আপনি যদি
ফ্রিল্যান্সিং করেন তাহলে Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার
উপায় যারা আপনার জন্য অনেক প্রয়োজন।
Nsave এর ফ্রি ও Pro প্ল্যানে পার্থক্য কী
Standard বা ফ্রি প্ল্যানে যা পাবেন তা হলো বিনামূল্যে USD ACH Account, ACH
Routing ও Account Number, ডলার গ্রহণ ও পাঠানোর সুবিধা, USD ব্যালেন্সে বার্ষিক
৩.২% রিওয়ার্ড এবং আমেরিকান শেয়ার বাজারে বিনামূল্যে বিনিয়োগ। Mastercard পেতে
হলে ফ্রি প্ল্যানে একবার ১.৯৯ ডলার দিতে হয় এবং USD Wire IBAN পেতে হলেও ১.৯৯
ডলার ফি লাগে। যারা শুধু Upwork বা ACH পেমেন্ট নিতে চান তাদের জন্য এই প্ল্যানই
যথেষ্ট এবং অতিরিক্ত কোনো মাসিক খরচ নেই।
Pro প্ল্যানে মাসে ৯.৯৯ ডলার দিলে যে বাড়তি সুবিধাগুলো পাবেন তা হলো GBP Account
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, USD Wire IBAN বিনামূল্যে, Mastercard বিনামূল্যে, SWIFT
Transfer এ চার্জ ১২.৯৯ ডলার থেকে কমে ৯.৯৯ ডলার, USD ও GBP কনভার্সন ফি ১% থেকে
কমে ০.৫% এবং USD ব্যালেন্সে রিওয়ার্ড ৩.২% থেকে বেড়ে ৪.২% হয়। যারা ব্রিটিশ
বা ইউরোপিয়ান ক্লায়েন্ট থেকে নিয়মিত SWIFT পেমেন্ট পান তাদের জন্য Pro প্ল্যান
বেশি সাশ্রয়ী।
নতুন ব্যবহারকারীরা সাধারণত ১ মাস Pro প্ল্যান বিনামূল্যে ট্রায়াল করতে পারেন।
এই সময়ে Pro এর সব ফিচার ব্যবহার করে দেখুন এবং কোনটি আপনার কাজে লাগছে সেটা
বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। যদি GBP বা SWIFT এর দরকার না হয় তাহলে ট্রায়াল
শেষে ফ্রি প্ল্যানে ফিরে আসলেই চলবে কারণ মাসে ৯.৯৯ ডলার বছরে প্রায় ১২০
ডলার। এখনও সময় আমাদের জন্য Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
খোলার উপায় জানা অনেক জরুরী হয়ে গেছে।
Nsave Mastercard কীভাবে পাবেন ও ব্যবহার করবেন
KYC সম্পন্ন হওয়ার পর অ্যাপের Cards সেকশনে গেলে ভার্চুয়াল Mastercard এর জন্য
আবেদন করার অপশন দেখতে পাবেন। ফ্রি প্ল্যানে এককালীন ১.৯৯ ডলার দিয়ে এবং Pro
প্ল্যানে বিনামূল্যে এই কার্ডটি অ্যাক্টিভেট করা যায়। আবেদনের পর সাধারণত মাত্র
কয়েক মিনিটের মধ্যে কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ও CVV সহ কার্ডের সব তথ্য
অ্যাপেই দেখা যায় এবং সাথে সাথে ব্যবহার শুরু করা সম্ভব। কার্ডটি সর্বোচ্চ ৫ বছর
পর্যন্ত বৈধ থাকে।
এই ভার্চুয়াল Mastercard দিয়ে অনলাইনে Mastercard সাপোর্টেড যেকোনো সাইটে
পেমেন্ট করা যাবে যেমন Netflix, Amazon, Spotify, Adobe, Google Workspace বা
যেকোনো আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন। USD তে পেমেন্ট করলে কোনো FX ফি
লাগে না তবে অন্য মুদ্রায় পেমেন্ট করলে ১.৫% বিদেশি মুদ্রা রূপান্তর ফি কাটে।
যারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুল ব্যবহার করেন কিন্তু বাংলাদেশি কার্ড দিয়ে পেমেন্ট
করতে পারছেন না তাদের জন্য এটা একটা বড় সমাধান।
তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে জেনে রাখুন। কার্ডটি এখনো সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করে
না বিশেষত Google Pay বা কিছু নির্দিষ্ট মার্চেন্টে সমস্যা হতে পারে বলে কিছু
ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আছে। তবে সরাসরি অনলাইন পেমেন্টে কার্ডটি সাধারণত ভালোভাবে
কাজ করে এবং Nsave দল ধীরে ধীরে কার্ড সাপোর্ট আরও বিস্তৃত করছে।
বাংলাদেশে Nsave থেকে টাকা তোলার উপায়
ডলার জমা হওয়ার পর বাংলাদেশে কীভাবে টাকা আনবেন সেটা জানতে অ্যাপের Payouts বা
Send Money Home সেকশনে যান। সেখানে USD থেকে BDT তে কনভার্ট করে সরাসরি
বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর অপশন পাবেন। প্রতিটি ট্রান্সফারে
মাত্র ১ ডলার ফি লাগে এবং Nsave দাবি করে যে তারা বাজারের সবচেয়ে কাছাকাছি
মধ্যবর্তী রেটে কনভার্সন করে দেয়। সাধারণত ১ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা
বাংলাদেশের ব্যাংকে পৌঁছে যায়।
টাকা পাঠানোর সময় প্রাপক ব্যাংকের সঠিক তথ্য দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংকের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং রাউটিং নম্বর একটুও ভুল হলে পেমেন্ট আটকে
যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যাংকের রাউটিং নম্বর আলাদা এবং এটি বাংলাদেশ
ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা নিজের ব্যাংকের পাসবুক থেকে পাওয়া যাবে। প্রথমবার
ট্রান্সফার করার আগে ছোট একটা পরিমাণ পাঠিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়াটাই সবচেয়ে
বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়মকানুন মেনে টাকা আনলে সরকারিভাবে ২%
প্রণোদনা পাওয়া যায় এবং ফ্রিল্যান্সিং আয়ের উপর বিশেষ ট্যাক্স সুবিধাও মেলে।
Nsave একটি নিবন্ধিত ও বৈধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর মাধ্যমে আয় আনলে সেটা সঠিক পথে
আসার প্রমাণ থাকে। তাই নিজের আর্থিক নিরাপত্তার জন্যও সবসময় বৈধ চ্যানেল ব্যবহার
করাটা সুবিধাজনক। বিদেশের থেকে টাকা লেনদেন করার জন্য Nsave App দিয়ে
বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায় জানা অনেক জরুরী।
লেখকের শেষ কথা
আজকের পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে জেনেছি যে Nsave App একটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈধ
ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম যেখানে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১০ মিনিটে USD ACH Account খোলা
যায়, ভার্চুয়াল Mastercard পাওয়া যায়, মাত্র ১ ডলার ফিতে দেশে টাকা পাঠানো
যায় এবং USD ব্যালেন্সে ৩.২% থেকে ৪.২% বার্ষিক রিওয়ার্ড পাওয়া যায়। NID বা
পাসপোর্ট ও একটি সেলফি দিয়েই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব এবং ফ্রি প্ল্যানেই বেশিরভাগ
সুবিধা পাওয়া যায়।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে Nsave App দিয়ে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উপায়, Nsave App আসলে
কী এবং কে তৈরি করেছে, বাংলাদেশ থেকে কি Nsave ব্যবহার করা যায়, Nsave দিয়ে কোন
ধরনের অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়, Nsave অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী লাগবে, ধাপে ধাপে
Nsave অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, Nsave এর ফ্রি ও Pro প্ল্যানে পার্থক্য কী, Nsave
Mastercard কীভাবে পাবেন ও ব্যবহার করবেন, বাংলাদেশে Nsave থেকে টাকা তোলার উপায়
ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url