থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় | থাইরয়েড নরমাল কত

তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও সঠিক নিয়ম
থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় এবং থাইরয়েড নরমাল কত এই দুটি বিষয় আমাদের জানা জরুরি  কারণ প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ থাইরয়েডে আক্রান্ত হচ্ছেন।
থাইরয়েড-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানব থাইরয়েড নরমাল মাত্রা কত হওয়া উচিত, থাইরয়েড বেড়ে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং ঘরে বসেই কোন কোন প্রাকৃতিক উপায়ে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পেজ সূচিপত্রঃ থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় | থাইরয়েড নরমাল কত

থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় ও থাইরয়েড নরমাল কত

থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় জানার আগে আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে থাইরয়েড সমস্যা আসলে কী এবং এটি কতভাবে হতে পারে। মূলত থাইরয়েড সমস্যা দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো হাইপোথাইরয়েডিজম যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে এবং দ্বিতীয়টি হলো হাইপারথাইরয়েডিজম যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে, আমাদের দেশে হাইপোথাইরয়েডিজম বেশি দেখা যায়।

এই দুটি অবস্থার লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা তাই প্রথমে সঠিকভাবে জানা দরকার কোন ধরনের থাইরয়েড সমস্যায় আপনি ভুগছেন। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে মূলত দুটি হরমোন তৈরি হয় যার নাম T3 অর্থাৎ ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এবং T4 অর্থাৎ থাইরক্সিন। এই দুটি হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত TSH বা থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন। তাই রক্ত পরীক্ষায় সাধারণত TSH, T3 এবং T4 এই তিনটির মাত্রা একসাথে দেখা হয় এবং এই তিনটির রিপোর্ট দেখেই চিকিৎসক বুঝতে পারেন থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা।

থাইরয়েড নরমাল কত এবং কখন চিন্তার বিষয় হয়

থাইরয়েড নরমাল কত এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় এবং এর উত্তর জানা প্রত্যেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে TSH এর স্বাভাবিক মাত্রা হলো ০.৪ থেকে ৪.০ মিলি-ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট প্রতি লিটারে অর্থাৎ mIU/L। তবে বিভিন্ন ল্যাবরেটরি এবং বিভিন্ন দেশে এই মানের সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে তাই রিপোর্টের সাথে ল্যাবের রেফারেন্স রেঞ্জ মিলিয়ে দেখাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। T3 এর স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ ন্যানোগ্রাম প্রতি ডেসিলিটারে এবং T4 এর স্বাভাবিক মাত্রা ৫ থেকে ১২ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ডেসিলিটারে।

TSH এর মাত্রা যদি ৪.০ mIU/L এর বেশি হয় তাহলে বোঝা যায় থাইরয়েড গ্রন্থি কম কাজ করছে অর্থাৎ হাইপোথাইরয়েডিজম হয়েছে। আর যদি TSH এর মাত্রা ০.৪ mIU/L এর কম হয় তাহলে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত কাজ করছে অর্থাৎ হাইপারথাইরয়েডিজম হয়েছে বলে ধরা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েডের স্বাভাবিক মাত্রা আলাদা হয় এবং গর্ভাবস্থার বিভিন্ন ত্রৈমাসিকে এই মাত্রা বিভিন্নরকম হতে পারে তাই গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখবেন রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের কাছে রিপোর্ট দেখান। কারণ একই TSH মাত্রা একজনের জন্য স্বাভাবিক হতে পারে আবার অন্যজনের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে এটা নির্ভর করে বয়স, লিঙ্গ, গর্ভাবস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর।

থাইরয়েড বেড়ে গেলে শরীরে কোন লক্ষণগুলো দেখা দেয়

থাইরয়েডের ঘরোয়া উপায় জানার আগে লক্ষণগুলো সঠিকভাবে চেনা দরকার কারণ অনেক সময় মানুষ থাইরয়েডের লক্ষণকে অন্য রোগের সাথে গুলিয়ে ফেলেন এবং সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হয়ে যায়। হাইপোথাইরয়েডিজম অর্থাৎ থাইরয়েড গ্রন্থির কম কাজ করার লক্ষণগুলো হলো কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, সবসময় ক্লান্ত অনুভব করা এমনকি পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও, সবসময় ঠান্ডা লাগা বা গরম আবহাওয়াতেও শরীর ঠান্ডা অনুভব করা, চুল অতিরিক্ত পড়ে যাওয়া এবং চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
এর পাশাপাশি ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখ বিশেষত চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া, মানসিক বিষণ্নতা এবং মনোযোগের অভাব। হাইপারথাইরয়েডিজম অর্থাৎ থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত কাজ করার লক্ষণগুলো সম্পূর্ণ বিপরীত। এই ক্ষেত্রে হঠাৎ অনেক বেশি ওজন কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া বা অনিয়মিত হওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং গরম সহ্য না হওয়া, হাত কাঁপা, ঘুম না হওয়া এবং অস্থিরতা, পেটে সমস্যা ও ঘন ঘন মলত্যাগ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে যেকোনো কয়েকটি একসাথে দেখা দিলে দ্রুত থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত।

থাইরয়েড কমানোর জন্য কোন খাবারগুলো সবচেয়ে কার্যকর

থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায়ের মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক কার্যক্রমের জন্য আয়োডিন একটি অপরিহার্য খনিজ কারণ আয়োডিন ছাড়া থাইরয়েড হরমোন তৈরিই সম্ভব নয়। আয়োডিনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড গ্রন্থি আরও বেশি পরিশ্রম করে হরমোন তৈরির চেষ্টা করে এবং এতে গ্রন্থিটি বড় হয়ে যায় যাকে আমরা গলগণ্ড বলি। তাই আয়োডিন যুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ যেমন ইলিশ ও চিংড়ি, দুধ এবং ডিম নিয়মিত খাওয়া থাইরয়েড স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
থাইরয়েড-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়-থাইরয়েড-নরমাল-কত
এছাড়াও সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোনকে সক্রিয় রূপে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। সেলেনিয়ামের ভালো উৎস হলো ব্রাজিল নাট, সূর্যমুখীর বীজ, মাশরুম, চিকেন এবং মাছ। জিংকও থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং জিংকের ভালো উৎস হলো কুমড়ার বীজ, বাদাম, ডাল এবং গরুর মাংস। এই খাবারগুলো নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতিও থাইরয়েড সমস্যার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। তাই প্রতিদিন সকালের হালকা রোদে ২০ থেকে ৩০ মিনিট থাকা এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিমের কুসুম, ফ্যাটি ফিশ এবং দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া থাইরয়েডের সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে আদা ও হলুদ কতটা সাহায্য করে

থাইরয়েডের ঘরোয়া উপায় হিসেবে আদা এবং হলুদের কথা বলতে গেলে এই দুটি মশলার ঔষধি গুণ সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানা দরকার। আদায় রয়েছে জিঞ্জেরল নামক একটি শক্তিশালী প্রদাহনাশক যৌগ যা থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। থাইরয়েড অটোইমিউন রোগ বিশেষত হাশিমোটো থাইরয়েডিটিসে প্রদাহ একটি বড় সমস্যা এবং এই ক্ষেত্রে আদা বিশেষভাবে উপকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক টুকরা তাজা আদা চা হিসেবে পান করলে বা সামান্য মধুর সাথে খেলে থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
হলুদে থাকা কারকিউমিন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যৌগ যা থাইরয়েড গ্রন্থিকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। গবেষণায় দেখা গেছে কারকিউমিন থাইরয়েড ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে এবং অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন রান্নায় হলুদ ব্যবহার করার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে গরম দুধে এক চামচ হলুদ মিশিয়ে পান করলে থাইরয়েড স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।

আদা ও হলুদ একসাথে গরম পানিতে মিশিয়ে চা হিসেবে পান করলে এই দুটির যৌথ প্রভাব আরও বেশি কার্যকর হয়। তবে মনে রাখতে হবে যারা রক্ত পাতলার ওষুধ খাচ্ছেন তাদের অতিরিক্ত পরিমাণে আদা না খাওয়াই ভালো কারণ আদাও রক্ত পাতলা করার বৈশিষ্ট্য রাখে। এজন্য আমাদের জানা প্রয়োজন থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় ও থাইরয়েড নরমাল কত।

নারকেল তেল কি সত্যিই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

নারকেল তেল এবং থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক জনপ্রিয় এবং অনেকেই থাইরয়েড কমানোর জন্য নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করে থাকেন। নারকেল তেলে রয়েছে মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড বিশেষত লরিক অ্যাসিড যা শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। হাইপোথাইরয়েডিজমে বিপাকক্রিয়া কমে যাওয়ার কারণে ওজন বাড়ে এবং ক্লান্তি আসে, এই ক্ষেত্রে নারকেল তেল বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে কিছুটা সাহায্য করতে পারে।

তবে নারকেল তেল সরাসরি থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে কিনা সেটা এখনো সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত নয়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক থেকে দুই চামচ কোকোনাট অয়েল খেলে বা রান্নায় ব্যবহার করলে থাইরয়েড রোগীরা উপকার পেতে পারেন। এটি শরীরে শক্তির মাত্রা বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে যা থাইরয়েড রোগীদের সাধারণ সমস্যাগুলো কমাতে সহায়তা করে। তবে যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন তারা নারকেল তেল খাওয়া শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন।

থাইরয়েড কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করলে কি সাহায্য করে

থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায়ের মধ্যে নিয়মিত ব্যায়াম একটি সেরা পদ্ধতি হতে পারে যা অনেকেই অবহেলা করেন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং হরমোনের সাথে কোষের সংবেদনশীলতা উন্নত করে। আপনারা যদি প্রতি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট ধরে ব্যায়াম করতে পারেন তাহলে এটি থাইরয়েড রোগীদের TSH মাত্রাকে স্বাভাবিক মাত্রার দিকে নিয়ে আসতে সাহায্য করে।

নিয়মিত প্রতিদিন ব্যায়াম করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এটি থাইরয়েডের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। আপনি যদি থাইরয়েডের জন্য কোন ওষুধ না খেয়ে শুধুমাত্র ব্যায়াম করেন তাহলেও থাইরয়েড এর প্রভাব অনেকটাই কমে যেতে, পারে তবে ব্যায়ামের পাশাপাশি থাইরয়েড এর জন্য আলাদা পদক্ষেপ করে নেওয়া প্রয়োজন।

থাইরয়েড রোগীদের জন্য কোন খাবার খাওয়া নিষেধ

ঘরোয়া উপায় হিসেবে শুধু কী খাবেন সেটা জানলেই হবে না, কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে সেটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গয়ট্রোজেনিক খাবার অর্থাৎ যে খাবারগুলো থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয় সেগুলো হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীদের কাঁচা অবস্থায় খাওয়া উচিত নয়। এই তালিকায় রয়েছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, সরিষাশাক, মুলা এবং সয়াবিন জাতীয় খাবার। তবে এই সবজিগুলো রান্না করলে গয়ট্রোজেনিক গুণ অনেকটাই কমে যায় তাই রান্না করে খেলে তেমন সমস্যা হয় না।
সয়া বা সয়াবিন থাইরয়েড হরমোন শোষণে বাধা দেয় এবং থাইরয়েডের ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই যারা থাইরয়েডের ওষুধ খাচ্ছেন তারা ওষুধ খাওয়ার কমপক্ষে চার ঘণ্টার মধ্যে সয়াবিন বা সয়াযুক্ত খাবার খাবেন না। এছাড়াও গ্লুটেন অর্থাৎ গম ও যবের প্রোটিন থাইরয়েড অটোইমিউন রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়াতে পারে তাই অনেক বিশেষজ্ঞ থাইরয়েড রোগীদের গ্লুটেন মুক্ত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেন।

চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থাইরয়েড রোগীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি ক্ষতিকর কারণ এগুলো প্রদাহ বাড়ায় এবং ইনসুলিন রেজিস্টেন্স তৈরি করে যা পরোক্ষভাবে থাইরয়েড কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বিশেষত থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার পর পরই চা বা কফি পান করলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায় তাই ওষুধ খাওয়ার কমপক্ষে এক ঘণ্টা পর চা বা কফি পান করুন।

থাইরয়েড সমস্যায় ডাক্তার দেখানোর সঠিক সময় কখন

ঘরোয়া উপায় অনেক কার্যকর হলেও কিছু ক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতিতে সমাধান করার চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গলা ফুলে যাওয়া বা গলায় কোনো চাকা অনুভব করলে, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা খাবার গিলতে কষ্ট হলে, হৃদস্পন্দন অতিরিক্ত দ্রুত বা অনিয়মিত হলে, বিশেষত রাতে হৃদস্পন্দন বাড়লে, অতিরিক্ত ওজন কমে গেলে বা বেড়ে গেলে যদিও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করা হয়, চোখ বের হয়ে আসার মতো অনুভব হলে বা চোখে জ্বালা করলে।
থাইরয়েড-সমস্যায়-ডাক্তার-দেখানোর-সঠিক-সময়-কখন
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড সমস্যা বিশেষভাবে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে কারণ মায়ের থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার আগেই থাইরয়েড পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। যাদের পরিবারে থাইরয়েড সমস্যার ইতিহাস আছে তাদের বছরে অন্তত একবার থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত কারণ এটি অনেকটা বংশগত রোগ।

লেখকের শেষ কথা

থাইরয়েড TSH এর স্বাভাবিক মাত্রা ০.৪ থেকে ৪.০ mIU/L এবং এই মাত্রার বাইরে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। ঘরোয়া উপায় হিসেবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, আদা ও হলুদের নিয়মিত ব্যবহার, নারকেল তেল, নিয়মিত ব্যায়াম এবং যোগব্যায়াম থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। একইসাথে গয়ট্রোজেনিক খাবার, অতিরিক্ত সয়াবিন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা থাইরয়েড স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় ও থাইরয়েড নরমাল কত, থাইরয়েড নরমাল কত এবং কখন চিন্তার বিষয় হয়, থাইরয়েড বেড়ে গেলে শরীরে কোন লক্ষণগুলো দেখা দেয়, থাইরয়েড কমানোর জন্য কোন খাবারগুলো সবচেয়ে কার্যকর, থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে আদা ও হলুদ কতটা সাহায্য করে, নারকেল তেল কি সত্যিই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, থাইরয়েড কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করলে কি সাহায্য করে, থাইরয়েড রোগীদের জন্য কোন খাবার খাওয়া নিষেধ, থাইরয়েড সমস্যায় ডাক্তার দেখানোর সঠিক সময় কখন ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url