রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়
রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন কারণ অনেকেই ভুল রিডিং পান এবং সেই ভুল তথ্যের
ওপর ভিত্তি করে ওষুধ খান বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক
ক্ষতিকর হতে পারে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম কী, কোন
সময়ে মাপলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়া যায় এবং মাপার আগে ও পরে কী কী
বিষয় মেনে চলা দরকার।
পেজ সূচিপত্রঃ রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
- রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
- রক্তচাপ মাপার আগে যেসব প্রস্তুতি নিতে হবে
- সঠিক বসার ভঙ্গি ও বাহুর অবস্থান নির্ধারণ
- ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল মেশিনে রক্তচাপ মাপার পদ্ধতি
- রক্তচাপ মাপার সঠিক সময় ও পরিবেশ নির্বাচন
- স্বাভাবিক রক্তচাপ কত এবং কখন সতর্ক হবেন
- ঘরে বসে রক্তচাপ মাপার সঠিক মেশিন বেছে নিন
- রক্তচাপের রিডিং লিখে রাখার সঠিক পদ্ধতি
- রক্তচাপ মাপায় যেসব ভুল বেশিরভাগ মানুষ করেন
- লেখকের শেষ কথা
রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জানাটা শুধু একটি স্বাস্থ্য তথ্য নয়, এটি আপনার জীবন
বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা কারণ উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বিশ্বে
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি এবং এটি প্রায়ই কোনো স্পষ্ট
লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর শরীরে থাকতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজন
প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই জানেনই
না যে তাদের এই সমস্যা আছে।
আমার নিজের পরিবারে এই অভিজ্ঞতা আছে, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিতভাবে
রক্তচাপ মাপতেন এবং প্রতিবার একটু ভিন্ন ভিন্ন রিডিং আসত বলে তিনি বিষয়টা
গুরুত্ব দিতেন না। পরে ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানা গেল যে সঠিক নিয়মে না মাপার
কারণে রিডিং ওঠানামা করছিল এবং আসলে তার রক্তচাপ অনেকদিন ধরেই বেশি ছিল। তাই সঠিক
নিয়মে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং সেই রেকর্ড রাখা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
ঘরে রক্তচাপ মাপার অভ্যাস গড়ে তুললে চিকিৎসকের কাছে গেলে সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব
হয় এবং ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ ও চিকিৎসার অগ্রগতি মূল্যায়নে চিকিৎসক সঠিক
সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাই শুধু অসুস্থ হলেই নয়, সুস্থ অবস্থায়ও নিয়মিত
রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম মেনে চলা প্রতিটি মানুষের জন্য জরুরি।
রক্তচাপ মাপার আগে যেসব প্রস্তুতি নিতে হবে
রক্তচাপ মাপার আগে যেসব প্রস্তুতি নিতে হবে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো
মাপার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ক্যাফেইন অর্থাৎ চা, কফি বা কোলা জাতীয় পানীয় পান করা
যাবে না কারণ ক্যাফেইন সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং এতে ভুল রিডিং
পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে ধূমপান ও ব্যায়ামও মাপার আগে কমপক্ষে ৩০ মিনিট
বন্ধ রাখতে হবে কারণ এগুলো রক্তনালিতে সাময়িক পরিবর্তন আনে।
মাপার আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট শান্তভাবে বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি কারণ হাঁটাচলা
বা দৌড়ানোর পরপরই মাপলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসবে এবং সেটা
সত্যিকারের রক্তচাপের চিত্র দেবে না। এই বিশ্রামের সময় চুপচাপ বসে থাকতে হবে এবং
কথা বলা বা ফোনে কথা বলাও এড়িয়ে চলা উচিত কারণ কথা বলতে বলতে রক্তচাপ মাপলে
রিডিং কিছুটা বেশি আসতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
চিরতা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা জেনে নিন
মূত্রথলি পূর্ণ অবস্থায় রক্তচাপ মাপলেও রিডিং বেশি আসতে পারে বলে মাপার আগে
প্রস্রাব করে আসা উচিত। শক্ত টাইট হাতার পোশাক পরা থাকলে হাতা গুটিয়ে বা সরিয়ে
খোলা বাহুতে মাপতে হবে কারণ হাতার চাপ রক্তচাপ পরিমাপে বাধা তৈরি করে এবং ভুল
রিডিং দেখাতে পারে। এই জন্য রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন।
সঠিক বসার ভঙ্গি ও বাহুর অবস্থান নির্ধারণ
সঠিক বসার ভঙ্গি ও বাহুর অবস্থান রক্তচাপ মাপার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর
একটি কারণ ভুল ভঙ্গিতে বসলে সঠিক রক্তচাপের চিত্র পাওয়া যায় না এবং পার্থক্য ১০
থেকে ১৫ মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত হতে পারে। পিঠ সরাসরি চেয়ারের পিঠে ঠেকিয়ে
সোজা হয়ে বসতে হবে এবং পা দুটো মাটিতে সমতলভাবে রাখতে হবে কারণ পা ঝুলিয়ে বসলে
বা একটার ওপর একটা রাখলে রিডিং বেশি আসে।
বাহুটি হার্টের সমান উচ্চতায় রাখতে হবে এবং টেবিলের ওপর রাখলে সবচেয়ে ভালো হয়
কারণ বাহু নিচে ঝুলিয়ে মাপলে রক্তচাপ বেশি আসে এবং বাহু হার্টের চেয়ে উঁচুতে
থাকলে কম আসে। কাফ বা আর্মব্যান্ডটি কনুইয়ের দুই আঙুল উপরে বাহুতে লাগাতে হবে
এবং এটি এতটা শক্ত হওয়া উচিত যে একটি আঙুল ঢোকানো যায় কিন্তু দুটো আঙুল একসাথে
ঢোকানো কঠিন হয়।
বাহুটি শিথিল রাখতে হবে এবং মাপার সময় কনুই বাঁকানো যাবে না কারণ বাঁকানো
অবস্থায় পেশিতে চাপ পড়ে যা রক্তচাপের রিডিংকে প্রভাবিত করে। প্রথমবার দুই হাতেই
মাপা উচিত এবং যে হাতে বেশি আসে সেই হাতটিকে পরবর্তী সব মাপের জন্য নির্দিষ্ট করে
নেওয়া উচিত কারণ দুই হাতে সামান্য পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। রক্তচাপ মাপার
সঠিক নিয়ম জেনে নিন তাহলে সহজেই রক্তচাপ মাপতে পারবেন।
ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল মেশিনে রক্তচাপ মাপার পদ্ধতি
ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল মেশিনে রক্তচাপ মাপার পদ্ধতি কিছুটা আলাদা হলেও উভয়
ক্ষেত্রেই সঠিক নিয়ম মানলে নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়া যায়। ডিজিটাল মেশিনে মাপার
সময় কাফটি সঠিকভাবে পরে স্টার্ট বাটন চাপলেই মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতাস ভরে
এবং ছেড়ে দিয়ে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রিডিং স্ক্রিনে দেখায়, এই সময়
নড়াচড়া না করে স্থির থাকতে হবে। ম্যানুয়াল স্ফিগমোম্যানোমিটারে মাপতে হলে
স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করতে হয় এবং এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ ছাড়া সঠিকভাবে মাপা
কঠিন হয়।
ডিজিটাল মেশিনে একবার মাপার পর কমপক্ষে দুই মিনিট অপেক্ষা করে আবার মাপা উচিত এবং
দুটি রিডিংয়ের গড় নেওয়াকে বিশেষজ্ঞরা সঠিক পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করেন। প্রথম
মাপটি অনেক সময় সামান্য বেশি আসে কারণ মেশিনের চাপ দেওয়ায় শরীর সামান্য
উদ্বিগ্ন হয়ে যায়, দ্বিতীয় মাপটি সাধারণত বেশি সঠিক হয়।
মেশিনের ব্যাটারি ও ক্যালিব্রেশন ঠিক আছে কিনা সেটা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করা দরকার
কারণ পুরনো বা ক্যালিব্রেশন নষ্ট হওয়া মেশিনে ভুল রিডিং আসতে পারে। প্রতি বছর
একবার হলেও ডাক্তারের কাছে গিয়ে নিজের মেশিনের রিডিং ডাক্তারের মেশিনের সাথে
মিলিয়ে যাচাই করা উচিত।
রক্তচাপ মাপার সঠিক সময় ও পরিবেশ নির্বাচন
রক্তচাপ মাপার সঠিক সময় ও পরিবেশ নির্বাচন করাটা সঠিক রিডিং পাওয়ার জন্য
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ রক্তচাপ সারাদিনে ওঠানামা করে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার
পর থেকে দুপুর পর্যন্ত সাধারণত একটু বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা দিনে দুটি নির্দিষ্ট
সময়ে রক্তচাপ মাপার পরামর্শ দেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ওষুধ খাওয়ার আগে এবং রাতের
খাবারের আগে এবং প্রতিদিন একই সময়ে মাপলে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা সহজ হয়।
মাপার পরিবেশ হওয়া উচিত শান্ত, স্বাভাবিক তাপমাত্রার এবং চাপমুক্ত কারণ উদ্বেগ,
শব্দ বা অতিরিক্ত গরম-ঠান্ডা পরিবেশে মাপলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসতে
পারে। ডাক্তারের চেম্বারে অনেকেরই রক্তচাপ বেশি আসে যেটাকে হোয়াইট কোট
হাইপারটেনশন বলে এবং এই কারণে ঘরে নিজে মাপলে আরো সঠিক চিত্র পাওয়া যায়।
আরো পড়ুনঃ
প্যানিক এটাক থেকে মুক্তির সেরা উপায়
রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে রক্তচাপ মাপা উচিত নয় কারণ এই সময়ে শরীর ক্লান্ত থাকে এবং
দিনের শেষে জমে থাকা মানসিক চাপ রক্তচাপকে প্রভাবিত করতে পারে। খাওয়ার পরপরই
মাপলেও রিডিং কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে তাই খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পরে মাপা
ভালো।
স্বাভাবিক রক্তচাপ কত এবং কখন সতর্ক হবেন
স্বাভাবিক রক্তচাপ কত এটা অনেকেরই ঠিকমতো জানা নেই এবং এই অজ্ঞতার কারণে অনেকে
অস্বাভাবিক রক্তচাপকেও স্বাভাবিক মনে করে থাকেন যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির
কারণ হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক
রক্তচাপ হওয়া উচিত সিস্টোলিক ১২০ মিলিমিটার মার্কারির নিচে এবং ডায়াস্টোলিক ৮০
মিলিমিটার মার্কারির নিচে, যেটাকে সংক্ষেপে ১২০/৮০ বলা হয়।
সিস্টোলিক ১২০ থেকে ১২৯-এর মধ্যে এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ এর কম থাকলে সেটাকে
এলিভেটেড বা উচ্চপ্রবণ বলা হয় এবং এই পর্যায়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে
নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সিস্টোলিক ১৩০ বা তার বেশি অথবা ডায়াস্টোলিক ৮০ বা
তার বেশি হলে সেটাকে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ বলা হয় এবং তখন চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি হলে সেটা হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস যা মেডিকেল
ইমার্জেন্সি হিসেবে বিবেচিত এবং সাথে সাথে হাসপাতালে যেতে হবে। এছাড়াও রক্তচাপ
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হলেও অর্থাৎ ৯০/৬০ এর নিচে হলে সেটাও লো ব্লাড প্রেশার
বা হাইপোটেনশন যা মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়ার কারণ হতে পারে। রক্তচাপ মাপার
সঠিক নিয়ম জেনে নিন কারণ এটি বিপদে অনেক কাজে আসে।
ঘরে বসে রক্তচাপ মাপার সঠিক মেশিন বেছে নিন
ঘরে বসে রক্তচাপ মাপার সঠিক মেশিন বেছে নেওয়াটা অনেকের কাছেই কঠিন মনে হয় কারণ
বাজারে শত শত মডেল পাওয়া যায় এবং দামের পার্থক্যও অনেক বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা
সাধারণত উচ্চবাহু বা আপার আর্ম ডিজিটাল মনিটর ব্যবহারের পরামর্শ দেন কারণ কব্জিতে
মাপার মেশিনের তুলনায় এটি বেশি নির্ভুল ফলাফল দেয় এবং হার্টের কাছাকাছি হওয়ায়
পরিমাপ আরো সঠিক হয়।
মেশিন কেনার সময় অবশ্যই ভ্যালিডেটেড বা স্বীকৃত মডেল দেখে কিনতে হবে যেগুলো
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। Omron, Beurer বা A&D
ব্র্যান্ডের মেশিনগুলো বিশ্বব্যাপী বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশের
বাজারেও এগুলো পাওয়া যায়, তবে কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে মেশিনটির
ভ্যালিডেশন সার্টিফিকেট দেখে নেওয়া ভালো।
কাফের সাইজ সঠিক হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছোট কাফে মাপলে রিডিং বেশি আসে
এবং বড় কাফে কম আসে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড কাফ ব্যবহার
করা হয় কিন্তু বাহু মোটা হলে লার্জ কাফ বেছে নেওয়া দরকার এবং মেশিন কেনার সময়
এই বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত।
রক্তচাপের রিডিং লিখে রাখার সঠিক পদ্ধতি
রক্তচাপের রিডিং লিখে রাখার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে চিকিৎসক আপনার রক্তচাপের
দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা সহজে বুঝতে পারেন এবং তার ভিত্তিতে সঠিক চিকিৎসা দিতে
পারেন। প্রতিটি রিডিং লেখার সময় তারিখ ও সময়, সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক সংখ্যা,
পালস রেট এবং মাপার আগে বিশেষ কিছু হলে যেমন ব্যায়াম করা বা অস্থির লাগছিল সেটাও
লিখে রাখা উচিত।
একটি ছোট নোটবুক বা স্মার্টফোনে একটি ডেডিকেটেড অ্যাপ ব্যবহার করে রক্তচাপের
রেকর্ড রাখা যায় এবং অনেক ডিজিটাল মেশিনেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড সংরক্ষণের
সুবিধা থাকে। পরপর কয়েকদিনের রিডিং একসাথে দেখলে কোনো প্যাটার্ন আছে কিনা বা
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে রক্তচাপ বেশি হচ্ছে কিনা সেটা বোঝা সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ
প্রেসার লো হলে কি খেতে হবে জেনে নিন
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় অন্তত দুই সপ্তাহের রিডিং নিয়ে যাওয়া উচিত কারণ
দীর্ঘ সময়ের গড় রিডিং দেখে চিকিৎসক অনেক সঠিকভাবে রোগের অবস্থা বুঝতে এবং
ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন। শুধু একদিনের রিডিং দেখে চিকিৎসা নির্ধারণ
করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই নিয়মিত রেকর্ড রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
ভালো ভাবে রক্তচাপ মাপার জন্য রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন।
রক্তচাপ মাপায় যেসব ভুল বেশিরভাগ মানুষ করেন
রক্তচাপ মাপায় যেসব ভুল বেশিরভাগ মানুষ করেন সেগুলো জানা থাকলে সহজেই সেগুলো
এড়ানো সম্ভব এবং প্রতিটি রিডিং অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হয়। সবচেয়ে সাধারণ ভুল
হলো মাপার আগে বিশ্রাম না নেওয়া কারণ অনেকেই হাঁটতে হাঁটতে এসে সাথে সাথেই মেশিন
পরে মাপতে বসেন যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেখায়। আরেকটি বড় ভুল হলো একবার মেপেই
সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিশেষজ্ঞরা একই সেশনে দুই থেকে তিনবার মেপে গড় নেওয়ার
পরামর্শ দেন।
কাফ সঠিকভাবে না লাগানো একটি অত্যন্ত সাধারণ ভুল যা অনেকেই করেন, কাফ ঢিলে থাকলে
রিডিং বেশি আসে আর খুব শক্ত থাকলে রক্ত চলাচলে বাধা পড়ে। মাপার সময় হাত দিয়ে
মেশিন ধরে রাখলে হাতের পেশির সংকোচন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেখাতে পারে তাই হাতটা
টেবিলে বা কোথাও রেখে মাপতে হবে।
মাপার সময় কথা বলা, হাসা বা কিছু পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত কারণ এই সব কার্যকলাপ
শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ পরিবর্তন করে এবং রক্তচাপে প্রভাব ফেলে। সর্বশেষ যে ভুলটা
অনেকেই করেন তা হলো বিভিন্ন হাতে মাপা এবং যে রিডিং কম বা বেশি সেটাকে বেছে
নেওয়া, আসলে সবসময় একই হাতে মাপলেই তুলনামূলক বিশ্লেষণ সম্ভব।
লেখকের শেষ কথা
রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে মাপার আগের প্রস্তুতি থেকে
শুরু করে সঠিক বসার ভঙ্গি, মেশিন বেছে নেওয়া, রিডিং লিখে রাখা এবং সাধারণ
ভুলগুলো এড়ানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা মেনে চললে আপনি ঘরে
বসেই সঠিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে রক্তচাপ মাপতে পারবেন। স্বাস্থ্যই সম্পদ এবং রক্তচাপ
নিয়মিত ও সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সুস্বাস্থ্য রক্ষার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর
পদক্ষেপগুলোর একটি।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন, রক্তচাপ মাপার আগে যেসব প্রস্তুতি
নিতে হবে, সঠিক বসার ভঙ্গি ও বাহুর অবস্থান নির্ধারণ, ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল
মেশিনে রক্তচাপ মাপার পদ্ধতি, রক্তচাপ মাপার সঠিক সময় ও পরিবেশ নির্বাচন,
স্বাভাবিক রক্তচাপ কত এবং কখন সতর্ক হবেন, ঘরে বসে রক্তচাপ মাপার সঠিক মেশিন বেছে
নিন, রক্তচাপের রিডিং লিখে রাখার সঠিক পদ্ধতি, রক্তচাপ মাপায় যেসব ভুল বেশিরভাগ
মানুষ করেন ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url