প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায়

অনার্স ছাড়া সরকারি চাকরি পাওয়ার সেরা উপায়
প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায় না জানার কারনে, অনেকেই ভাবেন ই-কমার্স মানেই শুধু ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া, কিন্তু সত্যিকারের প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস গড়তে হলে সঠিক উপায় জানতে হয়।
প্রফেশনাল-ই-কমার্স-বিজনেস-শুরু-করার-সঠিক-উপায়
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে জানব প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক পদ্ধতি, কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে এবং কীভাবে শুরু থেকেই একটি টেকসই অনলাইন ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব।

পেজ সূচিপত্রঃ প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায়

প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায়

প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে অনেক বড় পুঁজির দরকার হয় বলে অনেকে ভাবলেও আসলে সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু মৌলিক বিষয় ঠিকঠাক করলেই মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যেও একটি প্রফেশনাল ই-কমার্স ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব। একটি ডোমেইন নাম, হোস্টিং, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, পেমেন্ট সিস্টেম এবং প্রথম স্টকের পণ্য এই পাঁচটি জিনিস হলেই মূলত শুরু করা যায় এবং বাকি সব ধীরে ধীরে যোগ করা যাবে।

আমি যখন প্রথম ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার কথা ভেবেছিলাম তখন মনে হয়েছিল এটা বুঝি শুধু বড় কোম্পানিগুলোর কাজ, কিন্তু পরে দেখলাম আমার পরিচিত অনেকেই ছোট পরিসরে শুরু করে এখন মাসে লাখ টাকার উপরে আয় করছেন। আসলে ই-কমার্সের সুন্দর বিষয় হলো এখানে দোকান ভাড়া নেই, ২৪ ঘণ্টা সাত দিন বিক্রির সুযোগ আছে এবং সারা দেশের যেকোনো প্রান্তের কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব।

প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার আগে মার্কেট রিসার্চ করা অত্যন্ত জরুরি কারণ কোন পণ্যের চাহিদা আছে, প্রতিযোগিতা কতটুকু এবং আপনার টার্গেট কাস্টমার কারা সেটা না জেনে ব্যবসা শুরু করলে প্রথম কয়েক মাসেই হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করলে ই-কমার্স ব্যবসা বাংলাদেশে অনেক দ্রুত বাড়ানো সম্ভব কারণ এখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও অনলাইন ক্রেতার সংখ্যা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

সঠিক পণ্য বা নিশ বেছে নেওয়ার কৌশল

সঠিক পণ্য বা নিশ বেছে নেওয়াটা ই-কমার্স ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি কারণ ভুল পণ্য বেছে নিলে যতই মার্কেটিং করুন না কেন বিক্রি হবে না, আর সঠিক পণ্য বেছে নিলে কম মার্কেটিংয়েও ভালো বিক্রি হয়। পণ্য বেছে নেওয়ার সময় তিনটি মূল বিষয় মাথায় রাখতে হবে, পণ্যের চাহিদা আছে কিনা, প্রতিযোগিতা সামলানো সম্ভব কিনা এবং পণ্যে পর্যাপ্ত লাভ রাখা সম্ভব কিনা।

বাংলাদেশে ফ্যাশন ও পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, হোম ডেকর, কসমেটিক্স, মা ও শিশু পণ্য এবং খাদ্যপণ্য ই-কমার্সে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় এবং এই ক্যাটাগরিগুলোতে প্রতিযোগিতা থাকলেও বাজার এতটাই বড় যে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। তবে যদি পরিচিত এবং কম প্রতিযোগিতার নিশ বেছে নিতে চান তাহলে নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরির একটি সাব-ক্যাটাগরিতে ফোকাস করুন যেমন শুধু মেয়েদের থ্রি পিস বা শুধু অর্গানিক খাবার।
পণ্য বেছে নেওয়ার পর প্রতিটি পণ্যের জন্য কস্ট অ্যানালাইসিস করতে হবে অর্থাৎ পণ্যের ক্রয় মূল্য, প্যাকেজিং খরচ, ডেলিভারি চার্জ এবং মার্কেটিং খরচ যোগ করে দেখতে হবে বিক্রি করলে কতটুকু লাভ থাকবে। কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লাভ না থাকলে সেই পণ্যে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হয় কারণ মার্কেটিং ও অন্যান্য খরচের পর নেট লাভ অনেক কমে যায়।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার সঠিক পদ্ধতি

ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করাটা এখন আর আগের মতো কঠিন বা ব্যয়বহুল নয় কারণ WooCommerce, Shopify বা OpenCart এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব সহজেই একটি প্রফেশনাল ই-কমার্স সাইট তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশে বেশিরভাগ উদ্যোক্তা WordPress এর সাথে WooCommerce ব্যবহার করেন কারণ এটি অনেক সাশ্রয়ী এবং কাস্টমাইজেশনের সুবিধা অনেক বেশি।

ওয়েবসাইট তৈরির জন্য প্রথমে একটি ভালো ডোমেইন নাম নিতে হবে যেটা ব্যবসার নামের সাথে মিলে যায়, সহজে মনে রাখা যায় এবং .com বা .com.bd এক্সটেনশনের হলে বেশি প্রফেশনাল দেখায়। হোস্টিং বেছে নেওয়ার সময় নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশি হোস্টিং প্রভাইডার বা আন্তর্জাতিক কোম্পানির বাংলাদেশ সার্ভার বেছে নেওয়া উচিত কারণ সার্ভার কাছাকাছি হলে ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হয় যা কাস্টমারের অভিজ্ঞতা ভালো রাখে।

ওয়েবসাইটের ডিজাইন সহজ ও পরিষ্কার রাখতে হবে এবং মোবাইলে যেন সুন্দরভাবে দেখা যায় সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে কারণ বাংলাদেশে ই-কমার্স কেনাকাটার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই মোবাইল থেকে হয়। পণ্যের ছবি পরিষ্কার ও আকর্ষণীয় হওয়া, প্রতিটি পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ থাকা এবং চেকআউট প্রক্রিয়া সহজ রাখা কাস্টমারদের কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই জন্য আপনাদের জানতে হবে প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায়।

পেমেন্ট গেটওয়ে ও অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা করার উপায়

পেমেন্ট গেটওয়ে ও অর্থ লেনদেনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকলে কাস্টমাররা পেমেন্ট করতে অসুবিধায় পড়বেন এবং অনেকেই কেনার মাঝপথে বের হয়ে যাবেন, তাই এই বিষয়টি ই-কমার্স ব্যবসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড পেমেন্ট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং এই সব পদ্ধতি আপনার ওয়েবসাইটে চালু রাখলে কাস্টমারের পেমেন্টে অসুবিধা হবে না।
প্রফেশনাল-ই-কমার্স-বিজনেস-শুরু-করার-সঠিক-উপায়-জানুন
SSLCommerz, AamarPay বা ShurjoPay, এই বাংলাদেশি পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সাথে সহজে যুক্ত করা যায় এবং এগুলোর মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সব একটি গেটওয়েতে পাওয়া যায়। ক্যাশ অন ডেলিভারি বা সিওডি পদ্ধতিও বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প কারণ অনেক কাস্টমার অগ্রিম অনলাইনে পেমেন্ট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

পেমেন্ট সিস্টেম সেটআপ করার সময় নিরাপত্তার দিকটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাস্টমারের আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত না থাকলে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয় এবং ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। SSL সার্টিফিকেট ওয়েবসাইটে যুক্ত করা এবং পিসিআই কমপ্লায়েন্ট পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত কারণ এটি কাস্টমারের আস্থাও বাড়ায়।

পণ্যের সোর্সিং ও সাপ্লায়ার ঠিক করার উপায়

পণ্যের সোর্সিং ও নির্ভরযোগ্য সাপ্লায়ার ঠিক করা ই-কমার্স ব্যবসার সফলতার একটি মূল ভিত্তি কারণ পণ্যের মান ভালো না হলে বা সঠিক সময়ে স্টক না থাকলে কাস্টমারের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো অনেক দ্রুত হয় কিন্তু ফিরে পাওয়া অনেক কঠিন। ঢাকার চকবাজার, ইসলামপুর, নিউমার্কেট বা দেশের বিভিন্ন বড় পাইকারি বাজার থেকে সরাসরি পণ্য কিনলে মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় খরচ কম হয় এবং লাভ বেশি রাখা সম্ভব।

সাপ্লায়ার বেছে নেওয়ার আগে তাদের পণ্যের মান, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং দামের নমনীয়তা যাচাই করে নেওয়া দরকার এবং কখনোই একজন মাত্র সাপ্লায়ারের ওপর নির্ভর না করে কমপক্ষে দুইজন ব্যাকআপ সাপ্লায়ার রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সাপ্লায়ারের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক তৈরি হলে ক্রমশ ভালো দামে পণ্য পাওয়া যায় এবং বিশেষ সুবিধাও পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ড্রপশিপিং মডেলেও ব্যবসা করা যায় যেখানে নিজের কাছে স্টক না রেখে সাপ্লায়ার থেকে সরাসরি কাস্টমারের কাছে ডেলিভারি দেওয়া হয়, এতে গুদামঘরের খরচ বাঁচে এবং মূলধনও কম লাগে। তবে ড্রপশিপিংয়ে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ কঠিন হওয়ায় নির্ভরযোগ্য সাপ্লায়ার খুঁজে পাওয়াটা এই মডেলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায় জানা জরুরী।

ডেলিভারি ও লজিস্টিক সিস্টেম তৈরি করার উপায়

ডেলিভারি ও লজিস্টিক সিস্টেম ই-কমার্স ব্যবসার সেই অংশ যেখানে অনেক নতুন উদ্যোক্তা হোঁচট খান কারণ সময়মতো পণ্য ডেলিভারি না হলে কাস্টমার রাগান্বিত হন এবং নেগেটিভ রিভিউ দেন যা ব্যবসার জন্য অনেক ক্ষতিকর। বাংলাদেশে Pathao Courier, Steadfast, Redx, Sundarban Courier বা Paperfly এর মতো কুরিয়ার সার্ভিসের সাথে চুক্তি করে দেশের যেকোনো প্রান্তে পণ্য পাঠানো সম্ভব।

একাধিক কুরিয়ার সার্ভিসের সাথে চুক্তি রাখা ভালো কারণ কোনো একটি সার্ভিস কোনো এলাকায় ভালো কভারেজ না দিলে অন্যটি দিয়ে পাঠানো যায়। ঢাকার মধ্যে সেইমডে বা নেক্সটডে ডেলিভারি দিতে পারলে কাস্টমারের সন্তুষ্টি অনেক বেশি হয় এবং বারবার কেনার সম্ভাবনাও বাড়ে। ডেলিভারি ট্র্যাকিং সিস্টেম থাকলে কাস্টমার নিজেই পণ্যের অবস্থান জানতে পারেন যা কলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

পণ্য প্যাকেজিং-এর দিকেও বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে কারণ প্যাকেজিং শুধু পণ্য সুরক্ষার কাজ করে না, এটি ব্র্যান্ডিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুন্দর ও ব্র্যান্ডেড প্যাকেজিংয়ে পণ্য পেলে কাস্টমার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে আগ্রহী হন যা বিনামূল্যে মার্কেটিং হয়ে যায়।

ই-কমার্স বিজনেসের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল

ই-কমার্স বিজনেসের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল সঠিকভাবে না থাকলে সুন্দর ওয়েবসাইট ও ভালো পণ্য থাকলেও কেউ জানবে না এবং বিক্রি হবে না বলে অনেক ভালো উদ্যোগও প্রথম কয়েক মাসেই বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম সবচেয়ে কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং টার্গেটেড ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়স, এলাকা ও আগ্রহের মানুষদের কাছে পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছানো সম্ভব।

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ই-কমার্সের দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য অপরিহার্য কারণ গুগলে পণ্যের নাম সার্চ করলে যদি আপনার ওয়েবসাইট উপরের দিকে আসে তাহলে বিনামূল্যে প্রচুর ট্রাফিক পাওয়া যায়। পেইড বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ব্লগ লেখা, ভিডিও কন্টেন্ট এবং ইমেইল মার্কেটিং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনে। ই-কমার্স ব্যবসা করার জন্য আপনাকে জানতে হবে প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায়।

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং বাংলাদেশে অনেক কার্যকর হয়েছে বিশেষ করে মাঝারি সাইজের ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে কাজ করলে তুলনামূলক কম খরচে বেশি বিক্রি পাওয়া সম্ভব। নতুন ব্যবসায় শুরুতে মার্কেটিং বাজেটের অন্তত ৩০ শতাংশ রাখা উচিত কারণ ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি হতে সময় লাগে এবং সেই সময়টা পার করতে পারলেই ব্যবসা নিজের গতিতে চলতে শুরু করে।

কাস্টমার সার্ভিস ও রিটার্ন পলিসি নির্ধারণ করার উপায়

কাস্টমার সার্ভিস ও রিটার্ন পলিসি একটি প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেসকে সাধারণ অনলাইন দোকান থেকে আলাদা করে কারণ কাস্টমার শুধু পণ্য কিনতে আসেন না, তারা একটি ভালো অভিজ্ঞতাও চান এবং সমস্যা হলে সমাধান পেতে চান। ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেইল ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা রাখলে কাস্টমার সন্তুষ্ট থাকেন এবং বারবার কেনার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

স্পষ্ট রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসি লিখিতভাবে ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকলে কাস্টমারের আস্থা বাড়ে কারণ তারা জানতে পারেন যে সমস্যা হলে তারা পণ্য ফেরত দিতে বা বদলাতে পারবেন। রিটার্ন পলিসি কঠিন বা অস্পষ্ট হলে অনেক কাস্টমার কেনার সাহস করেন না বিশেষ করে যারা নতুন কোনো ব্র্যান্ড থেকে প্রথমবার কিনছেন।
কাস্টমারের ফিডব্যাক ও রিভিউ সংগ্রহ করা এবং সেগুলো ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করা নতুন কাস্টমারদের কেনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে কারণ মানুষ কেনার আগে অন্যের অভিজ্ঞতা পড়তে ভালোবাসেন। কাস্টমার যদি সমস্যায় পড়েন এবং আপনি দ্রুত ও সন্তোষজনকভাবে সমাধান দিতে পারেন তাহলে সেই কাস্টমার আপনার ব্যবসার সবচেয়ে বড় প্রচারক হয়ে যান।

ই-কমার্স বিজনেসের আইনি নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স

ই-কমার্স বিজনেসের আইনি নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স করা অনেকের কাছে ঝামেলার মনে হলেও এটি ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য কারণ রেজিস্ট্রেশন না থাকলে ব্যবসা বড় হওয়ার পথে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার জন্য স্থানীয় পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে টিআইএন সার্টিফিকেট নেওয়া প্রয়োজন।
প্রফেশনাল-ই-কমার্স-বিজনেস-শুরু-করার-সঠিক-উপায়-বিস্তারিত
ব্যবসার নামে একটি আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অর্থ আলাদা রাখলে হিসাব পরিষ্কার থাকে এবং ট্যাক্স ফাইলিং সহজ হয়। এছাড়াও ব্যবসা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি আয় করলে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনও করতে হতে পারে তাই একজন ট্যাক্স পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া ভালো।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ই-ক্যাবের সদস্য হওয়া ব্যবসার পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং সাথে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্কিং ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আইনি নিবন্ধন থাকলে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ব্যবসা তালিকাভুক্ত করা সহজ হয় এবং ব্যাংক থেকে ব্যবসায়িক ঋণ পাওয়ার পথও খোলা থাকে। প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায় জানা থাকলে সহজেই ই-কমার্স ব্যবসা করতে পারবেন।

লেখকের শেষ কথা

প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার সঠিক উপায় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট তৈরি, পেমেন্ট গেটওয়ে, সোর্সিং, ডেলিভারি, মার্কেটিং, কাস্টমার সার্ভিস এবং আইনি নিবন্ধন পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে যেকোনো তরুণ উদ্যোক্তাই বাংলাদেশে একটি সফল ও টেকসই ই-কমার্স ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে প্রফেশনাল ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে কী কী লাগে, সঠিক পণ্য বা নিশ বেছে নেওয়ার কৌশল, ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার সঠিক পদ্ধতি, পেমেন্ট গেটওয়ে ও অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা করুন, পণ্যের সোর্সিং ও সাপ্লায়ার ঠিক করার উপায়, ডেলিভারি ও লজিস্টিক সিস্টেম তৈরি করার উপায়, ই-কমার্স বিজনেসের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল, কাস্টমার সার্ভিস ও রিটার্ন পলিসি নির্ধারণ করার উপায়, ই-কমার্স বিজনেসের আইনি নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url