ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায়
রক্তচাপ মাপার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায় সম্পর্কে আমরা অনেকেই কিছু
জানি না, অথচ প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করলেই
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া
ব্যায়ামগুলো কী কী, কীভাবে সেগুলো সঠিকভাবে করতে হয় এবং কোন অভ্যাসগুলো মেনে
চললে ফুসফুস দীর্ঘদিন সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে।
পেজ সূচিপত্রঃ ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায়
- ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায়
- শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে কি ফুসফুস ভালো থাকে
- শ্বাসকষ্ট কমানোর সেরা ব্যায়াম কোনগুলো
- বক্ষ প্রসারণ ব্যায়াম ও গভীর শ্বাসের কৌশল
- ঘরে বসে প্রাণায়াম ব্যায়ামে ফুসফুস শক্তিশালী করার নিয়ম
- হাঁটা ও হালকা কার্ডিওতে ফুসফুসের উন্নতি কিভাবে হয়
- ফুসফুস ভালো রাখতে যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং
- শ্বাস ধরে রাখার ব্যায়ামে কি ফুসফুস ভালো থাকে
- ফুসফুস সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস মেনে চলবেন
- লেখকের শেষ কথা
ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায়
ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম কেন জরুরি সেটা বোঝতে হলে আগে জানতে হবে
আমাদের ফুসফুস আসলে কতটা পরিশ্রম করে, প্রতিটি শ্বাসে ফুসফুস বায়ু থেকে
অক্সিজেন সংগ্রহ করে রক্তে পাঠায় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে দেয়, এই
প্রক্রিয়া একটানা চব্বিশ ঘণ্টা সাত দিন চলে এবং কখনো বিশ্রাম নেয় না। বায়ু
দূষণ, ধুলাবালি এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে ফুসফুসে ধীরে ধীরে ক্ষতি জমা
হতে থাকে যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে কোনো লক্ষণ ছাড়াই হয় এবং
হঠাৎ একদিন শ্বাসকষ্ট বা অন্য সমস্যা হিসেবে প্রকাশ পায়।
আমার একজন পরিচিত আছেন যিনি সারাজীবন ধূমপান করেননি কিন্তু ঢাকার বায়ু দূষণ এবং অলস জীবনযাপনের কারণে পঞ্চাশ বছর বয়সে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলেই হাঁপিয়ে যেতেন এবং ডাক্তারের পরামর্শে প্রতিদিন সকালে কিছু শ্বাসের ব্যায়াম শুরু করার পর মাত্র দুই মাসে তার শ্বাসক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়েছে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।
ফুসফুস ভালো রাখার ব্যায়ামগুলো করতে কোনো যন্ত্রপাতি বা জিম মেম্বারশিপ লাগে না, ঘরের মেঝেতে বসে বা শুয়ে মাত্র কয়েক মিনিটেই এই ব্যায়ামগুলো করা সম্ভব। তাই এই আর্টিকেলটি শুধু পড়লেই হবে না, প্রতিদিন অন্তত একটি ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে কারণ জ্ঞান যতই থাকুক অভ্যাস না হলে কোনো লাভ নেই।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে কি ফুসফুস ভালো থাকে, শ্বাসকষ্ট কমানোর সেরা ব্যায়াম কোনগুলো, বক্ষ প্রসারণ ব্যায়াম ও গভীর শ্বাসের কৌশল, ঘরে বসে প্রাণায়াম ব্যায়ামে ফুসফুস শক্তিশালী করার নিয়ম, হাঁটা ও হালকা কার্ডিওতে ফুসফুসের উন্নতি কিভাবে হয়, ফুসফুস ভালো রাখতে যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং, শ্বাস ধরে রাখার ব্যায়ামে কি ফুসফুস ভালো থাকে, ফুসফুস সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস মেনে চলবেন ইত্যাদি।
আমার একজন পরিচিত আছেন যিনি সারাজীবন ধূমপান করেননি কিন্তু ঢাকার বায়ু দূষণ এবং অলস জীবনযাপনের কারণে পঞ্চাশ বছর বয়সে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলেই হাঁপিয়ে যেতেন এবং ডাক্তারের পরামর্শে প্রতিদিন সকালে কিছু শ্বাসের ব্যায়াম শুরু করার পর মাত্র দুই মাসে তার শ্বাসক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়েছে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।
ফুসফুস ভালো রাখার ব্যায়ামগুলো করতে কোনো যন্ত্রপাতি বা জিম মেম্বারশিপ লাগে না, ঘরের মেঝেতে বসে বা শুয়ে মাত্র কয়েক মিনিটেই এই ব্যায়ামগুলো করা সম্ভব। তাই এই আর্টিকেলটি শুধু পড়লেই হবে না, প্রতিদিন অন্তত একটি ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে কারণ জ্ঞান যতই থাকুক অভ্যাস না হলে কোনো লাভ নেই।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে কি ফুসফুস ভালো থাকে
ডায়াফ্রাম্যাটিক ব্রিদিং বা পেটের শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুস
ভালো রাখার সবচেয়ে মৌলিক ও কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি কারণ এটি
ফুসফুসের নিচের অংশকে সক্রিয় করে যেটা সাধারণ অগভীর শ্বাসে ব্যবহৃত হয়
না। এই ব্যায়ামটি করতে হলে পিঠের ওপর শুয়ে বা চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন,
একটি হাত বুকে এবং অন্যটি পেটের ওপর রাখুন এবং নাক দিয়ে ধীরে ধীরে
এমনভাবে শ্বাস নিন যাতে পেটের হাতটি ওঠে কিন্তু বুকের হাত যতটা সম্ভব
স্থির থাকে।
আরো পড়ুনঃ
চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়
তারপর ঠোঁট দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন এবং পেটের পেশি সংকুচিত করে
পেটটি ভেতরের দিকে নিয়ে আসুন, এভাবে একবার শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া মিলিয়ে
১০ থেকে ১৫ বার করুন এবং প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে করার অভ্যাস
তৈরি করুন। প্রথম কয়েকদিন এই ব্যায়ামটি কঠিন মনে হতে পারে কারণ আমরা
সাধারণত বুক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যস্ত, কিন্তু কিছুদিন নিয়মিত করলেই
এটি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ডায়াফ্রাম্যাটিক ব্রিদিং নিয়মিত করলে ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা
বাড়ে, শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে কম শক্তি লাগে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা
উন্নত হয়। যাঁরা দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বা ফুসফুসের সমস্যা আছে
তাঁদের জন্য এটি একটি বিশেষভাবে উপকারী ব্যায়াম এবং ফিজিওথেরাপিস্টরা
প্রায়ই এই ব্যায়ামটি রোগীদের করতে বলেন।
শ্বাসকষ্ট কমানোর সেরা ব্যায়াম কোনগুলো
পার্সড লিপ ব্রিদিং বা ঠোঁট কুঁচকে শ্বাস ছাড়ার ব্যায়ামটি বিশেষ
করে যাঁরা হাঁপানি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস বা সিওপিডিতে ভুগছেন তাঁদের
জন্য অত্যন্ত কার্যকর কারণ এটি শ্বাসনালিতে চাপ তৈরি করে বাতাসকে আরো
বেশি সময় ফুসফুসে রেখে দেয় এবং গ্যাস বিনিময় আরো ভালো হয়। এই
ব্যায়ামটি করতে হলে নাক দিয়ে দুই গুনে শ্বাস নিন এবং তারপর ঠোঁট
দুটো এমনভাবে কুঁচকান যেন মোমবাতি ফুঁ দিতে যাচ্ছেন, এই অবস্থায় চার
গুনে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।
এই ব্যায়ামের মূল বিষয় হলো শ্বাস নেওয়ার দ্বিগুণ সময় ধরে শ্বাস
ছাড়তে হবে এবং এই ধীরগতির শ্বাস ছাড়ার প্রক্রিয়া ফুসফুসে আটকে
থাকা পুরনো বায়ু বের করে দিতে সাহায্য করে। দিনে ৪ থেকে ৫ বার,
প্রতিবার ১০ মিনিট করে এই ব্যায়াম করলে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে
উল্লেখযোগ্য পার্থক্য অনুভব করা যায়।
পার্সড লিপ ব্রিদিং শুধু ফুসফুসের জন্যই নয়, মানসিক চাপ কমাতেও অনেক
কার্যকর কারণ এই ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে
এবং উদ্বেগ কমায়। যেকোনো শারীরিক পরিশ্রমের সময় হাঁপ ধরলে এই
পদ্ধতিতে শ্বাস নিলে দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব। এই জন্য আপনাকে
জানতে হবে ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায়।
বক্ষ প্রসারণ ব্যায়াম ও গভীর শ্বাসের কৌশল
বক্ষ প্রসারণ ব্যায়াম ও গভীর শ্বাসের কৌশল ফুসফুসের সমস্ত অংশকে
সমানভাবে সক্রিয় করতে সাহায্য করে কারণ অগভীর শ্বাসে ফুসফুসের
মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার হয় এবং বাকি অংশ প্রায়
নিষ্ক্রিয় থাকে। বক্ষ প্রসারণ ব্যায়ামটি করতে হলে সোজা
দাঁড়িয়ে বা বসে দুই হাত দুই পাশে মেলে বুককে সম্পূর্ণ প্রসারিত
করুন এবং এই অবস্থায় নাক দিয়ে যতটা সম্ভব গভীরভাবে শ্বাস নিন।
শ্বাস নেওয়ার পর ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর ধীরে
ধীরে মুখ দিয়ে ছেড়ে দিন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি ৫ থেকে ১০ বার
করুন এবং প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খোলা জানালার সামনে বা
বাইরে গিয়ে করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। বুকের মাংসপেশি
প্রসারিত হওয়ায় এই ব্যায়ামটি একই সাথে ফুসফুস ও বুকের পেশির
ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে।
এই ব্যায়ামটির একটি উন্নত সংস্করণ হলো হাত মাথার ওপরে তুলে পুরো
শরীর টানটান করে গভীর শ্বাস নেওয়া, যাতে পাঁজরের হাড়গুলো আরো
বেশি প্রসারিত হয় এবং ফুসফুসের ওপরের দিকের অংশও সক্রিয় হয়।
যাঁরা সারাদিন টেবিলে বসে কাজ করেন তাঁদের জন্য প্রতি ঘণ্টায়
একবার এই ব্যায়ামটি করা বিশেষভাবে উপকারী। এর
পাশাপাশি ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর
উপায় জানাও অনেক জরুরী।
ঘরে বসে প্রাণায়াম ব্যায়ামে ফুসফুস শক্তিশালী করার নিয়ম
ঘরে বসে প্রাণায়াম ব্যায়ামে ফুসফুস শক্তিশালী করা যায়
অনেক কার্যকরভাবে কারণ হাজার বছরের পুরনো এই ভারতীয় যোগ
পদ্ধতিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানো হয় এবং আধুনিক চিকিৎসা
বিজ্ঞানও এই পদ্ধতির কার্যকারিতা স্বীকার করেছে।
অনুলোম-বিলোম বা নাসারন্ধ্র বদলে শ্বাস নেওয়ার প্রাণায়াম
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মন শান্ত রাখতেও
সাহায্য করে।
আরো পড়ুনঃ
চিরতা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা জেনে নিন
অনুলোম-বিলোম করতে হলে আরামদায়কভাবে বসুন, ডান হাতের বুড়ো
আঙুল দিয়ে ডান নাসারন্ধ্র বন্ধ করে বাম নাক দিয়ে ৪ গুনে
শ্বাস নিন, তারপর বাম নাক বন্ধ করে ডান নাক খুলে ৮ গুনে
শ্বাস ছাড়ুন এবং এভাবে পালাক্রমে ১০ থেকে ১৫ মিনিট করুন।
ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম বা দ্রুত শ্বাসের ব্যায়ামে দ্রুতগতিতে
শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া করলে ফুসফুসের বাতাস সঞ্চালন ক্ষমতা
বাড়ে।
প্রাণায়াম করার সময় পেট খালি থাকা উচিত বলে সকালে খাওয়ার
আগে এই ব্যায়াম করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় এবং
যাঁরা সঠিকভাবে শিখতে চান তাঁরা অনলাইনে বিনামূল্যে অনেক
ভিডিও টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। কোভিড পরবর্তী সময়ে অনেক
ডাক্তার তাঁদের রোগীদের ফুসফুসের পুনরুদ্ধারে এই প্রাণায়াম
ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন এবং ফলাফল অনেক ইতিবাচক হয়েছে।
হাঁটা ও হালকা কার্ডিওতে ফুসফুসের উন্নতি কিভাবে হয়
হাঁটা ও হালকা কার্ডিও ব্যায়াম ফুসফুল ভালো রাখার জন্য
সবচেয়ে সহজ ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পদ্ধতি কারণ যখন
আমরা দ্রুত হাঁটি বা হালকা জগিং করি তখন শরীরে
অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায় এবং এই বাড়তি চাহিদা পূরণ
করতে গিয়ে ফুসফুস আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। প্রতিদিন
মাত্র ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা যাকে ব্রিস্ক ওয়াকিং বলে তা
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এবং এটি
যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য নিরাপদ।
ঘরে বসে সাইকেল চালানো, স্কিপিং বা দড়ি লাফানো এবং
জায়গায় দাঁড়িয়ে মার্চ করার মতো হালকা কার্ডিও
ব্যায়ামগুলো ফুসফুসের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং
ফুসফুসের টিস্যু সুস্থ ও সক্রিয় রাখে। যাঁরা অনেকদিন
ধরে ব্যায়াম করেননি তাঁরা প্রথমে ১০ মিনিট দিয়ে শুরু
করুন এবং প্রতি সপ্তাহে ৫ মিনিট বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ৩০
মিনিটে নিয়ে যান।
ব্যায়ামের সময় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন
কারণ নাকের ভেতরের লোম ও মিউকাস বাইরের ধুলাবালি ও
জীবাণু ফিল্টার করে ফেলে এবং ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখে।
সকালে পার্কে হাঁটলে তাজা বাতাস পাওয়া যায় এবং সেই
পরিবেশ মানসিক সতেজতাও দেয় যা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য
অনেক উপকারী। আপনি ও যদি ফুসফুস ভালো রাখতে চান তাহলে
জানুন ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর
উপায়।
ফুসফুস ভালো রাখতে যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং
ফুসফুস ভালো রাখতে যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং অনেক
কার্যকর কারণ এই ব্যায়ামগুলো শুধু ফুসফুস নয় বরং
বুকের পেশি, মেরুদণ্ড ও শ্বাসনালিকে একসাথে সক্রিয়
করে এবং ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ উন্নত করে।
ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ বা বিড়ালের ভঙ্গির ব্যায়ামে
মেরুদণ্ড ওঠানামা করার সাথে সাথে গভীরভাবে শ্বাস
নিলে বুক ও পিঠের পেশি প্রসারিত হয় এবং ফুসফুসে
বাতাস চলাচলের জায়গা বাড়ে।
কোবরা পোজ বা ভুজঙ্গাসন যোগব্যায়ামে উপুড় শুয়ে
হাতের তালুতে ভর দিয়ে বুক ওপরে তোলা হয় এবং এই
সময় গভীরভাবে শ্বাস নিলে ফুসফুসের সামনের অংশ
পুরোপুরি প্রসারিত হয়। এই আসনটি মেরুদণ্ড শক্তিশালী
করার পাশাপাশি ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও
উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এবং প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ বার
করলে এক মাসের মধ্যে পার্থক্য টের পাবেন।
হালকা স্ট্রেচিং বিশেষ করে বুকের সামনের পেশি
স্ট্রেচ করলে যাঁরা সারাদিন কুঁজো হয়ে কাজ করেন
তাঁদের ফুসফুসের জন্য অনেক উপকারী কারণ কুঁজো
ভঙ্গিতে ফুসফুস সম্পূর্ণ প্রসারিত হতে পারে না।
দেয়ালের কোণায় দাঁড়িয়ে দুই হাত ছড়িয়ে বুককে
সামনের দিকে ঠেলে দেওয়ার এই সহজ স্ট্রেচটি অফিস
থেকে শুরু করে ঘরে যেকোনো জায়গায় করা সম্ভব।
শ্বাস ধরে রাখার ব্যায়ামে কি ফুসফুস ভালো থাকে
শ্বাস ধরে রাখার ব্যায়াম বা ব্রিদ হোল্ডিং
ব্যায়াম ফুসফুসের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর একটি
প্রমাণিত পদ্ধতি কারণ এই ব্যায়ামে ফুসফুস
অক্সিজেন ব্যবহারে আরো দক্ষ হয়ে ওঠে এবং শ্বাস
ছাড়া ছাড়া যে অস্বস্তি হয় সেই সহনশীলতাও ধীরে
ধীরে বাড়ে। শুরু করতে হলে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস
নিয়ে পুরোপুরি ছেড়ে দিন, তারপর আবার গভীরভাবে
শ্বাস নিয়ে যতক্ষণ সম্ভব ধরে রাখুন এবং ধীরে
ধীরে ছাড়ুন।
আরো পড়ুনঃ
১ কিলোমিটার হাটলে কত ক্যালরি খরচ হয়
প্রথমে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড ধরে রাখা থেকে শুরু
করুন এবং প্রতিদিন ২ থেকে ৩ সেকেন্ড করে
বাড়িয়ে যান, নিয়মিত অনুশীলনে এক মাসের মধ্যে
৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড ধরে রাখা সম্ভব হবে। এই
ব্যায়ামটি অ্যাসিডিক পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতা
বাড়ায় এবং শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের দক্ষতা
উন্নত করে যা সার্বিক শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়।
এই ব্যায়ামটি করার সময় কখনো অত্যধিক চাপ দিয়ে
শ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করবেন না কারণ মাথা
ঘোরানো বা অস্বস্তি লাগলে সাথে সাথে শ্বাস ছেড়ে
দিন। যাঁদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো
শ্বাস সংক্রান্ত রোগ আছে তাঁরা এই ব্যায়ামটি
করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ
নেবেন। ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম
ও কার্যকর উপায় জানার মাধ্যমে
সহজেই ফুসফুস ভালো রাখা যায়।
ফুসফুস সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস মেনে চলবেন
ফুসফুস সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের পাশাপাশি
কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস মেনে চলা জরুরি কারণ
ব্যায়াম করলেও যদি প্রতিদিনের জীবনযাপনে
ফুসফুসের ক্ষতিকর কারণগুলো থাকে তাহলে
কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো ধূমপান
সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া কারণ একটি
সিগারেটও ফুসফুসের কোষে অপূরণীয় ক্ষতি করে
এবং পরোক্ষ ধূমপানও সরাসরি ধূমপানের মতোই
ক্ষতিকর।
ঘরের ভেতরের বায়ু পরিষ্কার রাখা অনেক
গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত রান্নার ধোঁয়া বের
করার জন্য এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করা, ঘর
নিয়মিত ঝাড় মোছা করা এবং ঘরে গাছপালা রাখা
ফুসফুসের জন্য অনেক উপকারী। প্রচুর পরিমাণে
পানি পান করলে শ্বাসনালির মিউকাস পাতলা থাকে
এবং ধুলোবালি সহজে বের হয়ে যায় বলে দিনে
আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস গড়ে
তোলা উচিত।
আদা, তুলসি, রসুন ও হলুদ ফুসফুসের প্রদাহ
কমাতে সাহায্য করে বলে খাদ্যতালিকায় এগুলো
নিয়মিত রাখলে ফুসফুসের সুস্থতায় অনেক
উপকার পাওয়া যায়। বাইরে বেরোলে বিশেষত
ধুলোবালির পরিবেশে মাস্ক পরার অভ্যাস করুন
কারণ ছোট ছোট ধুলিকণা ফুসফুসে জমে
দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতি করে যা একবার
হলে পুরোপুরি ভালো হওয়া কঠিন।
লেখকের শেষ কথা
ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে ডায়াফ্রাম্যাটিক ব্রিদিং থেকে শুরু করে পার্সড লিপ ব্রিদিং, প্রাণায়াম, কার্ডিও, যোগব্যায়াম এবং শ্বাস ধরে রাখার ব্যায়ামসহ বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই ব্যায়ামগুলো কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতি বা খরচ ছাড়াই ঘরে বসে করা সম্ভব এবং নিয়মিত করলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে ফুসফুস ভালো রাখার ঘরোয়া ব্যায়াম ও কার্যকর উপায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে কি ফুসফুস ভালো থাকে, শ্বাসকষ্ট কমানোর সেরা ব্যায়াম কোনগুলো, বক্ষ প্রসারণ ব্যায়াম ও গভীর শ্বাসের কৌশল, ঘরে বসে প্রাণায়াম ব্যায়ামে ফুসফুস শক্তিশালী করার নিয়ম, হাঁটা ও হালকা কার্ডিওতে ফুসফুসের উন্নতি কিভাবে হয়, ফুসফুস ভালো রাখতে যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং, শ্বাস ধরে রাখার ব্যায়ামে কি ফুসফুস ভালো থাকে, ফুসফুস সুস্থ রাখতে যেসব অভ্যাস মেনে চলবেন ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url