শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানা না থাকলে এই ঠান্ডার মৌসুমে আপনার ত্বক একেবারে খসখসে আর প্রাণহীন হয়ে যেতে পারে।
শীতে-ত্বকের-রুক্ষতা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়
আপনি যদি প্রতি বছর শীত এলেই ত্বকের এই সমস্যায় ভোগেন, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটা আপনার জন্যই। এখানে এমন কিছু সহজ, ঘরোয়া আর কার্যকর সমাধান তুলে ধরা হয়েছে যা আপনি নিজের বাড়িতে বসেই প্রয়োগ করতে পারবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

শীতকাল আসলেই আমাদের ত্বক নিয়ে এক ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। বাতাসে ঠান্ডার সাথে সাথে আর্দ্রতাও কমে যায়, ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক তেল ধরে রাখতে পারে না। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন, শীতের শুরুতেই গালে হাতে টান ধরা শুরু হয়, চামড়া সাদাটে হয়ে ওঠে আর কখনো কখনো ফেটেও যায়। এই সমস্যা শুধু দেখতে খারাপ লাগে তা নয়, অনেক সময় চুলকানি আর জ্বালাপোড়াও করে। বিশেষ করে যাদের ত্বক আগে থেকেই শুষ্ক প্রকৃতির, তাদের জন্য শীতকাল রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং একটা সময়।

আমি নিজে অনেকের সাথে কথা বলে দেখেছি, বেশিরভাগ মানুষ শীতে দামি দামি ক্রিম বা লোশন কিনে ব্যবহার করেন, কিন্তু তাতেও পুরোপুরি সমাধান হয় না। কারণ কেমিক্যাল যুক্ত প্রোডাক্ট অনেক সময় সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করে ফেলে। তাই ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ আর টেকসই সমাধান। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে যত্ন নিলে ত্বক ধীরে ধীরে নিজের হারানো আর্দ্রতা ফিরে পায় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ও থাকে না।

এই আর্টিকেলে আমি এমন কিছু সহজ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব যা প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পাওয়া উপকরণ দিয়েই করা সম্ভব। আপনাকে বাড়তি কোনো টাকা খরচ করে পার্লারে যেতে হবে না বা দামি প্রোডাক্ট কিনতে হবে না। শুধু নিয়মিত কিছু অভ্যাস মেনে চললেই আপনি এই শীতে আপনার ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত রাখতে পারবেন। চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

শীতে কেন ত্বক এত শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়

শীতে ত্বক শুষ্ক হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। গরমকালে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে, ফলে ত্বকও একটা নির্দিষ্ট আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। কিন্তু শীতে বাতাস শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ত্বকের উপরের স্তর থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এর ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল গ্রন্থিগুলোও কম সক্রিয় হয়ে পড়ে, যার কারণে ত্বক তার নিজস্ব সুরক্ষা স্তর হারিয়ে ফেলে। এজন্যই শীতে হাত, পা, মুখ আর ঠোঁট সবচেয়ে বেশি শুষ্ক হয়ে যায়।

এছাড়া গরম পানিতে বারবার গোসল করা বা মুখ ধোয়ার অভ্যাসও এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেকে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করেন, যা আসলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে দেয়। ফলে ত্বক আরও বেশি টানটান ও রুক্ষ হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকের তেল উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যায়, তাই বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়।
পুষ্টির ঘাটতিও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। শীতকালে অনেকেই পানি কম পান করেন, কারণ তেষ্টা কম লাগে। কিন্তু শরীরে পানির অভাব হলে সবার আগে তার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। এছাড়া ভিটামিন ই এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া হলেও ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করে। তাই সমস্যার মূল কারণ বুঝে সমাধান করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

গোসলের সঠিক নিয়ম মেনে ত্বকর সুরক্ষা করা

শীতে ত্বক ভালো রাখতে চাইলে সবার আগে আপনাকে গোসলের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে তা সাময়িকভাবে আরাম দিলেও ত্বকের জন্য মোটেও ভালো নয়। কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল স্তর ধ্বংস হয় না। গোসলের সময়ও পাঁচ থেকে সাত মিনিটের বেশি সময় নেওয়া উচিত নয়, কারণ দীর্ঘ সময় পানিতে থাকলে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে।

সাবান বা বডি ওয়াশ বেছে নেওয়ার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। কড়া কেমিক্যাল যুক্ত সাবান ত্বকের ময়েশ্চার একেবারে শুষে নেয়, তাই শীতকালে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান সমৃদ্ধ মৃদু সাবান ব্যবহার করা উচিত। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে গা মোছার সময়ও জোরে ঘষা উচিত নয়, বরং হালকাভাবে চেপে চেপে পানি শুকিয়ে নেওয়াই ভালো। এতে ত্বকের ওপরের সংবেদনশীল স্তর নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গোসলের ঠিক পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগানো। ত্বক তখনো একটু ভেজা থাকে, আর এই সময় ময়েশ্চারাইজার লাগালে তা পানিকে ত্বকের ভেতরে আটকে রাখতে সাহায্য করে। আমি অনেককে দেখেছি গোসলের অনেকক্ষণ পর ক্রিম লাগান, কিন্তু ততক্ষণে ত্বক শুকিয়ে যায় বলে সেই ক্রিমের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়। তাই এই ছোট্ট অভ্যাসটা মেনে চললেই আপনি অনেকটা পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এই জন্য আমাদের জানতে হবে শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায়।

নারিকেল তেল ও অলিভ অয়েলের সঠিক ব্যাবহার

আমাদের প্রায় প্রতিটি ঘরেই থাকা নারিকেল তেল শীতকালীন ত্বকের যত্নে অসাধারণ কাজ করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা জোগায় এবং একটা প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য নারিকেল তেল হাতে নিয়ে সারা শরীরে ভালোভাবে মালিশ করে নিলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনি ত্বকে একটা নরম, কোমল অনুভূতি পাবেন। যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা প্রতিদিন এই অভ্যাস করলে কয়েকদিনের মধ্যেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
শীতে-ত্বকের-রুক্ষতা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়-জানুন
অলিভ অয়েলও এক্ষেত্রে কোনো অংশে কম যায় না। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর ভিটামিন ই ত্বকের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের মুখের ত্বক শীতে ফাটাফাটি হয়ে যায়, তাদের জন্য সামান্য অলিভ অয়েল হালকা গরম করে সরাসরি মুখে লাগানো খুবই কার্যকর একটা সমাধান। তবে খেয়াল রাখতে হবে তেলটা যেন খুব বেশি গরম না হয়, কারণ অতিরিক্ত গরম তেল ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করতে পারে।

এই দুটো তেল একসাথে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়। সমপরিমাণ নারিকেল তেল ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিলে তা সপ্তাহখানেক ভালো থাকে। প্রতিদিন গোসলের আগে বা রাতে ঘুমানোর আগে এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে আপনার ত্বক ধীরে ধীরে তার হারানো কোমলতা ফিরে পাবে। আমি নিজে অনেকের কাছ থেকে শুনেছি, এই সহজ পদ্ধতিটা মেনে চলার পর তাদের শীতকালীন ত্বকের সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে।

মধু ও দুধের প্যাক যেভাবে ত্বকের আর্দ্রতা দূর করে

মধু প্রকৃতির এক অসাধারণ উপাদান, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দারুণ কাজ করে। মধুতে থাকা হিউমেক্ট্যান্ট উপাদান বাতাস থেকে পানি টেনে এনে ত্বকের মধ্যে ধরে রাখে, ফলে ত্বক সহজে শুকিয়ে যায় না। সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন কাঁচা মধু সরাসরি মুখে লাগিয়ে পনেরো থেকে বিশ মিনিট রেখে দিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক অনেকটাই কোমল ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। যাদের ত্বকে ব্রণের সমস্যাও আছে, তাদের জন্য মধু আরও বেশি উপকারী, কারণ এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানও রয়েছে।

দুধ বা দুধের সর দিয়ে বানানো প্যাকও শীতে ত্বকের জন্য দারুণ কার্যকর। দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে এবং একইসাথে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। মধু আর দুধের সর একসাথে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্বকে একটা সতেজ অনুভূতি পাওয়া যায়। এই প্যাক ব্যবহারের পর ত্বক টানটান লাগার বদলে বরং নরম আর মসৃণ অনুভূত হয়।
আরো ভালো ফল পেতে চাইলে মধু, দুধের সর আর সামান্য হলুদ গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে নিতে পারেন। হলুদে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং একটা প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এনে দেয়। তবে যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তারা প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতের কনুইয়ে সামান্য পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। এতে বোঝা যাবে কোনো উপাদানে আপনার এলার্জি আছে কিনা। শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানা থাকলে সহজেই ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে পারবেন।

অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহারে ত্বকের উপকারিতা

অ্যালোভেরা জেল শীতকালীন ত্বকচর্চায় প্রায় সবার প্রথম পছন্দ, আর তার পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। এতে থাকা প্রাকৃতিক জেল উপাদান ত্বকে দ্রুত শোষিত হয় এবং সাথে সাথেই একটা ঠান্ডা, আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। যাদের ত্বকে জ্বালাপোড়া বা লালচেভাব দেখা দেয়, তাদের জন্য অ্যালোভেরা জেল একদম উপযুক্ত সমাধান। বাড়িতে অ্যালোভেরা গাছ থাকলে সরাসরি পাতা থেকে জেল বের করে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো, কারণ তাতে কোনো কেমিক্যাল মেশানো থাকে না।

নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ত্বকের কোষ পুনর্গঠনেও সাহায্য হয়। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে মুখ, হাত ও পায়ে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে রাখলে সকালে উঠে আপনি নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এটি শুধু আর্দ্রতা জোগায় না, বরং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতাও বাড়িয়ে তোলে। যাদের ঠোঁট বা গোড়ালি ফাটার সমস্যা আছে, তারাও এই জেল ব্যবহার করে ভালো ফল পেতে পারেন। এর পাসাপাশি শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানা জরুরী।

অ্যালোভেরা জেলের সাথে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়। একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল ফুটো করে তার তেল অ্যালোভেরা জেলের সাথে মিশিয়ে নিলে একটা শক্তিশালী প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার তৈরি হয়ে যায়। এই মিশ্রণ সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করলে শীতের কড়া আবহাওয়াতেও আপনার ত্বক তুলনামূলক নরম ও সতেজ থাকবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করা কেন ত্বকের জন্য জরুরী

শীতে ত্বক ভালো রাখার জন্য বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে যত্ন নেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শীতকালে তেষ্টা কম অনুভব করেন বলে পানি কম পান করেন, কিন্তু এটা একটা বড় ভুল। শরীরে পানির ঘাটতি হলে সবার আগে তার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর, কারণ ত্বক তখন ভেতর থেকে আর্দ্রতা পায় না। প্রতিদিন অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই সতেজ ও কোমল থাকে।

খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, মাছ বা বীজজাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ফলমূল, যেমন কমলা, লেবু বা পেঁপে খেলে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে, যা ত্বককে স্থিতিস্থাপক রাখতে সাহায্য করে। শীতকালীন সবজি যেমন গাজর ও মিষ্টি কুমড়াও ত্বকের জন্য দারুণ উপকারী।

চা বা কফির পরিবর্তে হালকা গরম লেবু পানি বা হার্বাল চা পান করার অভ্যাস করলেও উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে ডিহাইড্রেট করে ফেলে, যার প্রভাব সরাসরি ত্বকে পড়ে। তাই খাবারের তালিকায় সচেতনভাবে পরিবর্তন আনলে আপনি বাইরের যেকোনো ক্রিম বা প্যাকের চেয়েও বেশি স্থায়ী ফল পাবেন। ভেতর থেকে সুস্থ থাকলে ত্বকও স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর থাকে।

ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঠোঁট ও হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া

শীতে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয় ঠোঁট, হাত ও পায়ের যত্ন, অথচ এই অংশগুলোই সবচেয়ে বেশি ফেটে যায়। ঠোঁট ফাটা রোধ করতে রাতে ঘুমানোর আগে মধু বা ঘি লাগিয়ে ঘুমানো খুবই কার্যকর একটা অভ্যাস। এছাড়া দিনের বেলা বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাস একদমই বাদ দিতে হবে, কারণ এতে ঠোঁট আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। প্রয়োজনে একটা ভালো মানের লিপবামও সাথে রাখতে পারেন।

হাতের যত্নের ক্ষেত্রে প্রতিবার পানি ব্যবহারের পর হাত ভালোভাবে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করতে হবে। বিশেষ করে যারা বাসন মাজা বা কাপড় ধোয়ার মতো কাজ বেশি করেন, তাদের হাত অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। রাতে ঘুমানোর আগে হাতে ভালোভাবে ক্রিম মেখে হালকা কাপড়ের গ্লাভস পরে ঘুমালে সকালে হাত অনেক নরম অনুভূত হয়। পায়ের গোড়ালির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
সপ্তাহে অন্তত একবার হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রেখে পিউমিস স্টোন দিয়ে মৃত চামড়া তুলে ফেলা উচিত। এরপর ভালো করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে মোজা পরে নিলে গোড়ালি ফাটার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। আমি দেখেছি নিয়মিত এই ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললে শীতের শেষে গিয়েও অনেকের ত্বক তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকে। ত্বকের যত্ন নিতে ছাইলে জানতে হবে শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায়।

শীতে ভুলেও যেসব কাজ করা যাবে না

শীতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি কিছু ভুল অভ্যাস এড়িয়ে চলাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘ সময় গোসল করা বা মুখ ধোয়া একদমই উচিত নয়। এছাড়া স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েটিং প্রোডাক্ট অতিরিক্ত ব্যবহার করলেও ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যায়। সপ্তাহে একবারের বেশি স্ক্রাব করা শীতকালে একদমই উচিত নয়, কারণ এতে ত্বক আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
শীতে-ত্বকের-রুক্ষতা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়-বিস্তারিত
অনেকে শীতে সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করে দেন, ভাবেন যে রোদ কম বলে দরকার নেই। কিন্তু এটা একটা বড় ভুল ধারণা। শীতেও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকে প্রভাব ফেলে, তাই দিনের বেলা বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা কড়া কেমিক্যাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে তা ত্বকের ময়েশ্চার আরও দ্রুত শুষে নেয়, যা শীতে একেবারেই কাম্য নয়।

আরেকটা সাধারণ ভুল হলো পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। ঘুমের অভাবে শরীরের কোষ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। তাই প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। এই ছোট ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে চললেই আপনি আপনার ত্বককে শীতের কড়া প্রভাব থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারবেন।

লেখকের শেষ কথা

শেষ কথা হলো, শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার জন্য দামি প্রোডাক্টের চেয়ে নিয়মিত সঠিক অভ্যাসই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। নারিকেল তেল, মধু, দুধ, অ্যালোভেরা জেলের মতো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে এবং সঠিক নিয়মে গোসল, পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে আপনি সহজেই এই শীতেও আপনার ত্বককে কোমল, সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে পারবেন। শুরুতে হয়তো একটু ধৈর্য লাগবে, কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করলে ফলাফল নিজেই টের পাবেন।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে শীতে ত্বকের রুক্ষতা দূর করার ঘরোয়া উপায়, শীতে কেন ত্বক এত শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়, গোসলের সঠিক নিয়ম মেনে ত্বকর সুরক্ষা করা, নারিকেল তেল ও অলিভ অয়েলের সঠিক ব্যাবহার, মধু ও দুধের প্যাক যেভাবে ত্বকের আর্দ্রতা দূর করে, অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহারে ত্বকের উপকারিতা, পর্যাপ্ত পানি পান করা কেন ত্বকের জন্য জরুরী, ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঠোঁট ও হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া, শীতে ভুলেও যেসব কাজ করা যাবে না ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url