হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

চিরতা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা জেনে নিন
হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে, ওজন বৃদ্ধির কারণে কিংবা দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার ফলে হাঁটুর ব্যথা এখন একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
হাঁটুর-জয়েন্টে-ব্যথা-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর কার্যকর ঘরোয়া উপায়গুলো কী কী, কোন খাবার ও ব্যায়াম এই ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং কখন এই ব্যথাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

পেজ সূচিপত্রঃ হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কেন হয় সেটা জানা থাকলে সঠিক প্রতিকার বেছে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায় কারণ ব্যথার কারণ ভিন্ন হলে চিকিৎসার পদ্ধতিও ভিন্ন হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জয়েন্টের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে যাকে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বলা হয় এবং এটি হাঁটুর ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি, বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ্ব মানুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

আমার নিজের মায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, তিনি কয়েক বছর ধরে হাঁটুর ব্যথায় ভুগছিলেন এবং সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে গেলে খুব কষ্ট হতো। ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়মিত মেনে চলার পর তার ব্যথা অনেকটাই কমে এসেছে এবং এখন তিনি অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছি যে সঠিক ঘরোয়া পদ্ধতি কতটা কার্যকর হতে পারে যদি নিয়মিত মেনে চলা যায়।

অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, পুরনো ইনজুরি, ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমও হাঁটুর ব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই হাঁটুর ব্যথা কমানোর আগে নিজের জীবনযাত্রা পর্যালোচনা করে দেখুন কোন কারণটি আপনার ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য এবং সেই অনুযায়ী ঘরোয়া পদ্ধতি বেছে নিন।

গরম ও ঠান্ডা সেঁক দিয়ে হাঁটুর ব্যথা কমান

গরম ও ঠান্ডা সেঁক দিয়ে হাঁটুর ব্যথা কমানো একটি অত্যন্ত পুরনো কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি যা ডাক্তাররাও প্রায়ই পরামর্শ দিয়ে থাকেন কারণ এটি প্রদাহ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। ঠান্ডা সেঁক প্রদাহ ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে এবং কোনো আঘাত বা হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ঠান্ডা সেঁক দেওয়া উচিত। একটি কাপড়ে বরফ মুড়িয়ে দিনে তিন থেকে চারবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে হাঁটুতে লাগালে ব্যথা ও ফোলাভাব দ্রুত কমে আসে।

গরম সেঁক বিশেষত পুরনো বা দীর্ঘস্থায়ী হাঁটুর ব্যথার জন্য বেশি উপকারী কারণ এটি পেশি শিথিল করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথাযুক্ত স্থানে আরাম দেয়। একটি গরম পানির ব্যাগ বা গরম তোয়ালে দিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট সেঁক দিলে জয়েন্টের শক্ততা কমে এবং নড়াচড়া করা সহজ হয়ে যায়।
অনেকে গরম ও ঠান্ডা সেঁক পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করেন যাকে কনট্রাস্ট থেরাপি বলা হয় এবং এই পদ্ধতিতে প্রথমে তিন মিনিট গরম তারপর এক মিনিট ঠান্ডা সেঁক দিয়ে এই চক্র কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করা হয়। এই পদ্ধতিতে রক্ত সঞ্চালন আরও বেশি উন্নত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমাতে এটি বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। দ্রুত হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমাতে চাইলে জানুন হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়।

হলুদ ও আদা দিয়ে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক তৈরি করুন

হলুদ ও আদা দিয়ে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক তৈরি করা হাঁটুর ব্যথা কমানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিজ্ঞানসম্মত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর একটি কারণ হলুদে থাকা কারকিউমিন এবং আদায় থাকা জিঞ্জারল নামক উপাদান শক্তিশালী প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে যা জয়েন্টের প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধে আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে পান করলে দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্টের ব্যথা কমে আসে।
হাঁটুর-জয়েন্টে-ব্যথা-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়-জেনে-নিন
আদা চা তৈরি করতে এক টুকরো কাঁচা আদা থেঁতলে গরম পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার পান করলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং হাঁটুর ব্যথায় স্বস্তি পাওয়া যায়। হলুদ ও আদার পেস্ট বানিয়ে সরাসরি ব্যথার স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলেও স্থানীয়ভাবে ব্যথা ও ফোলাভাব কমে যায়।

হলুদের সাথে এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে শরীরে কারকিউমিন শোষণের হার অনেক বেড়ে যায় কারণ গোলমরিচে থাকা পাইপারিন কারকিউমিনের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যাঁদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাঁরা খালি পেটে বেশি পরিমাণে আদা বা হলুদ খাওয়া এড়িয়ে চলবেন কারণ এতে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

সরিষার তেল মালিশে হাঁটুর ব্যথায় আরাম পান

সরিষার তেল মালিশ গ্রামবাংলার একটি বহু পুরনো ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি যা আজও সমানভাবে কার্যকর কারণ সরিষার তেলে থাকা উপাদান রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশি ও জয়েন্টকে উষ্ণ করে আরাম দেয়। সরিষার তেল সামান্য গরম করে এতে কয়েক কোয়া রসুন থেঁতলে মিশিয়ে নিন এবং রসুনের রং পরিবর্তন হলে তেল ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা হলে হাঁটুতে আস্তে আস্তে বৃত্তাকারে মালিশ করুন।

মালিশ করার সময় খুব বেশি জোরে চাপ না দিয়ে হালকা হাতে কিন্তু নিয়মিতভাবে পাঁচ থেকে দশ মিনিট মালিশ করা উচিত কারণ অতিরিক্ত চাপে জয়েন্টের ক্ষতি হতে পারে বিশেষত যদি ভেতরে প্রদাহ থাকে। মালিশের পর হালকা গরম তোয়ালে দিয়ে সেঁক দিলে তেলের উপাদান আরও ভালোভাবে শোষিত হয় এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি জানতে হবে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়।

নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সাথে কর্পূর মিশিয়েও মালিশ করা যায় যা ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে কার্যকর। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত মালিশ করার অভ্যাস গড়ে তুললে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হাঁটুর জয়েন্টে স্বস্তি অনুভব করা সম্ভব এবং নড়াচড়া করতে আগের চেয়ে সহজ মনে হবে।

হাঁটুর জয়েন্ট মজবুত করার সহজ ব্যায়াম

হাঁটুর জয়েন্ট মজবুত করার ব্যায়াম নিয়মিত করলে আশেপাশের পেশি শক্তিশালী হয় এবং জয়েন্টের ওপর চাপ কমে যায় যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কোয়াড সেট নামক ব্যায়ামে মেঝেতে পা সোজা করে বসে উরুর পেশি সংকুচিত করে পাঁচ সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন এবং এভাবে প্রতি পায়ে ১০ থেকে ১৫ বার করুন, এই ব্যায়ামে হাঁটুর ওপর কোনো চাপ পড়ে না বলে ব্যথা থাকা অবস্থাতেও করা যায়।

স্ট্রেইট লেগ রেইজ ব্যায়ামে পিঠের ওপর শুয়ে এক পা সোজা রেখে অন্য পা ভাঁজ করে রাখুন এবং সোজা পাটি ধীরে ধীরে ৩০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে তুলে কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে নামিয়ে আনুন, এভাবে প্রতি পায়ে ১০ বার করে করুন। এই ব্যায়ামটি উরুর সামনের পেশি বা কোয়াড্রিসেপ মজবুত করে যা হাঁটুর জয়েন্টকে সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হালকা সাঁতার বা পানিতে হাঁটা হাঁটুর জয়েন্টের জন্য বিশেষভাবে উপকারী কারণ পানির উচ্ছ্বাস শক্তি শরীরের ওজন অনেকটা বহন করে নেয় বলে জয়েন্টের ওপর চাপ অনেক কম পড়ে। প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট এই ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হাঁটুর শক্তি ও স্থিতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই জন্য আপনাকে জানতে হবে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে হাঁটুর চাপ কমানোর উপায়

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হাঁটুর ব্যথা কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানগুলোর একটি কারণ গবেষণায় দেখা গেছে শরীরের ওজন এক কিলোগ্রাম বাড়লে হাঁটার সময় হাঁটুর জয়েন্টে চার থেকে পাঁচ কিলোগ্রাম অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ কিলোগ্রাম ওজন কমালে হাঁটুর ওপর ২০ থেকে ২৫ কিলোগ্রাম চাপ কমে যায় যা ব্যথা কমাতে অসাধারণ ভূমিকা রাখে।

ওজন কমানোর জন্য হঠাৎ কঠোর ডায়েট না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা উচিত কারণ দ্রুত ওজন কমালে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে যা জয়েন্টের জন্য আরও ক্ষতিকর। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে এবং চিনি ও তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

হাঁটুর ব্যথা থাকা অবস্থায় ভারী ব্যায়াম করা কঠিন হলেও হালকা হাঁটাচলা, সাঁতার বা সাইক্লিংয়ের মতো জয়েন্ট-বান্ধব ব্যায়াম করে ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব। নিয়মিত ওজন মাপুন এবং প্রতি সপ্তাহে আধা থেকে এক কিলোগ্রাম ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখুন কারণ এই গতিতে ওজন কমালে তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সহজ হয়।

হাঁটুর ব্যথা কমাতে যেসব খাবার খাবেন

হাঁটুর ব্যথা কমাতে যেসব খাবার খাওয়া উচিত সেগুলো জানা থাকলে খাদ্যতালিকার মাধ্যমেই অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব কারণ কিছু খাবার শরীরে প্রদাহ কমায় এবং জয়েন্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ যেমন ইলিশ, রুই বা সামুদ্রিক মাছ নিয়মিত খেলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশম হয়।

দুধ, দই, পনির এবং সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে যা হাড় ও জয়েন্ট মজবুত রাখতে অপরিহার্য, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো নিয়মিত রাখা উচিত। বাদাম, বিশেষ করে আখরোট ও কাঠবাদাম এবং তিসির বীজও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খাওয়ার অভ্যাস জয়েন্টের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

লাল মাংস, অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় বলে এগুলো যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া উচিত। প্রচুর পানি পান করাও জয়েন্টের কার্টিলেজ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে কারণ কার্টিলেজের বড় অংশই পানি দিয়ে গঠিত এবং পানিশূন্যতা জয়েন্টের ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

এপসম সল্ট ও মেথি বীজের ঘরোয়া চিকিৎসা

এপসম সল্ট ও মেথি বীজের ঘরোয়া চিকিৎসা হাঁটুর ব্যথা কমানোর কম পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি কারণ এপসম সল্টে থাকা ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হয়ে পেশি শিথিল করে এবং প্রদাহ কমায়। একটি বালতি বা গামলায় কুসুম গরম পানিতে দুই থেকে তিন টেবিল চামচ এপসম সল্ট মিশিয়ে তাতে হাঁটু ডুবিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বসে থাকলে ব্যথায় উল্লেখযোগ্য আরাম পাওয়া যায়।

মেথি বীজ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং জয়েন্টের ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। মেথি বীজ গুঁড়ো করে সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে সরাসরি হাঁটুতে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললেও স্থানীয়ভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় জানা থাকলে সহজেই এটি দূর করতে পারবেন।
এই পদ্ধতিগুলো সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার নিয়মিত করলে এক মাসের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পার্থক্য অনুভব করা সম্ভব এবং এগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হওয়ায় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও নেই। তবে এপসম সল্ট ব্যবহারের সময় পানির তাপমাত্রা খুব বেশি গরম না রাখাই ভালো কারণ অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

হাঁটুর ব্যথায় যেসব ভুল কাজ করবেন না

হাঁটুর ব্যথায় যেসব ভুল কাজ করবেন না সেগুলো জানা থাকলে অজান্তেই সমস্যা আরও বাড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি এড়ানো যায় কারণ অনেকেই না জেনে এমন কিছু কাজ করেন যা ব্যথা কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়। ব্যথা থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণভাবে নড়াচড়া বন্ধ করে দেওয়া একটি বড় ভুল কারণ দীর্ঘ সময় জয়েন্ট স্থির রাখলে আশেপাশের পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং জয়েন্ট আরও শক্ত হয়ে যায়।
হাঁটুর-জয়েন্টে-ব্যথা-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়-জানুন
মাটিতে বসে কাজ করা বা স্কোয়াট ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ থাকা হাঁটুর জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ ফেলে বলে যাঁদের ইতিমধ্যে হাঁটুর ব্যথা আছে তাঁদের এই ভঙ্গি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। উঁচু হিল জুতা পরা বা শক্ত মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও হাঁটুর জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে যা ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ব্যথা সহ্য করে জোর করে ভারী কাজ করা বা ভারী জিনিস বহন করাও একটি মারাত্মক ভুল কারণ এতে জয়েন্টের ক্ষতি আরও বেড়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। নিজে নিজে অতিরিক্ত পেইনকিলার খাওয়াও ঠিক নয় কারণ এটি শুধু সাময়িক স্বস্তি দেয় কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান করে না এবং দীর্ঘদিন খেলে কিডনি ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে।

লেখকের শেষ কথা

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে গরম-ঠান্ডা সেঁক থেকে শুরু করে হলুদ-আদা, সরিষার তেল মালিশ, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যাভ্যাস পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই পদ্ধতিগুলো নিয়মিত মেনে চললে অনেকের ক্ষেত্রেই হাঁটুর ব্যথা থেকে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাওয়া সম্ভব এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসে।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কেন হয় তা জেনে নিন, গরম ও ঠান্ডা সেঁক দিয়ে হাঁটুর ব্যথা কমান, হলুদ ও আদা দিয়ে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক তৈরি করুন, সরিষার তেল মালিশে হাঁটুর ব্যথায় আরাম পান, হাঁটুর জয়েন্ট মজবুত করার সহজ ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে হাঁটুর চাপ কমানোর উপায়, হাঁটুর ব্যথা কমাতে যেসব খাবার খাবেন, এপসম সল্ট ও মেথি বীজের ঘরোয়া চিকিৎসা, হাঁটুর ব্যথায় যেসব ভুল কাজ করবেন না ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url