মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয়
বিকাশ পিন ভুলে গেলে কি করতে হবে
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয় এই প্রশ্নটা এখন অনেক উদ্যোক্তা
ও দোকান মালিকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসার
কমিশন কাঠামো, প্রকৃত লাভের হিসাব, শুরু করতে কী কী প্রয়োজন হয় এবং কীভাবে এই
ব্যবসা থেকে সর্বোচ্চ আয় করা সম্ভব।
পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয়
- মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয়
- এজেন্ট কমিশনের হিসাব কীভাবে কাজ করে
- দৈনিক ও মাসিক আয়ের বাস্তবসম্মত হিসাব
- এজেন্ট ব্যবসা শুরু করতে কী কী লাগবে
- মূলধন ও ক্যাশ ফ্লো ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব
- এলাকাভিত্তিক আয়ের পার্থক্য কেন হয়
- একাধিক অপারেটরের এজেন্সি নিলে বাড়তি সুবিধা
- এজেন্ট ব্যবসায় ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
- আয় বাড়ানোর কার্যকর কিছু কৌশল
- লেখকের শেষ কথা
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয়
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসা বর্তমানে বাংলাদেশের একটা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও
তুলনামূলক কম ঝুঁকির ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের
ইতিমধ্যে একটা মুদি দোকান, মোবাইল রিচার্জের দোকান বা অন্য কোনো খুচরা ব্যবসা
আছে, তাদের জন্য এই এজেন্সি নেওয়াটা বাড়তি একটা আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে। মূল
ব্যবসার পাশাপাশি এই সেবা যুক্ত করলে দোকানে গ্রাহকের আনাগোনাও বেড়ে যায়, যা
পরোক্ষভাবে মূল ব্যবসাকেও উপকৃত করে।
আমি বিভিন্ন এজেন্টের সাথে কথা বলে দেখেছি, এই ব্যবসার লাভ মূলত নির্ভর করে দৈনিক
কত পরিমাণ লেনদেন হচ্ছে তার ওপর। এলাকাভেদে এই লেনদেনের পরিমাণে বিশাল পার্থক্য
দেখা যায়, শহরের ব্যস্ত এলাকায় যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার লেনদেন হয়,
সেখানে গ্রামের কম জনবহুল এলাকায় এই পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। তবে সঠিকভাবে
পরিচালনা করলে যেকোনো এলাকাতেই এটা একটা লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।
এই আর্টিকেলে আমি প্রকৃত কমিশন রেট, বাস্তবসম্মত আয়ের হিসাব এবং এই ব্যবসা শুরু
করার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যাতে আপনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরো
চিত্রটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন। কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগের আগে বাস্তবসম্মত তথ্য
জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
এজেন্ট কমিশনের হিসাব কীভাবে কাজ করে
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টরা মূলত দুই ধরনের লেনদেনের ওপর কমিশন পেয়ে থাকেন, ক্যাশ
ইন এবং ক্যাশ আউট। কেউ যখন এজেন্টের কাছে টাকা জমা দিয়ে নিজের মোবাইল ব্যাংকিং
অ্যাকাউন্টে টাকা তোলেন, তখন সেটাকে ক্যাশ ইন বলা হয়, আর যখন কেউ নিজের
অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নগদে নেন, তখন সেটাকে ক্যাশ আউট বলা হয়। বর্তমানে
সাধারণত প্রতি এক হাজার টাকা লেনদেনে এজেন্টরা প্রায় চার থেকে সাড়ে চার টাকার
মতো কমিশন পেয়ে থাকেন, যা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এই কমিশনের হার দেখে অনেকেই প্রথমে মনে করতে পারেন যে এটা খুব সামান্য পরিমাণ,
কিন্তু বাস্তবে যদি প্রতিদিন অনেক গ্রাহক লেনদেন করে, তাহলে এই ছোট ছোট কমিশন
মিলিয়ে দিনশেষে একটা ভালো পরিমাণ আয় দাঁড়িয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন
এজেন্ট প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা লেনদেন পরিচালনা করেন, তাহলে সেখান থেকে
দৈনিক প্রায় দুইশো টাকার মতো কমিশন আয় হতে পারে। এর পাশাপাশি জানতে
হবে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয়।
কমিশনের হার সময়ের সাথে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, কারণ বিভিন্ন মোবাইল
ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান মাঝে মাঝে তাদের নীতিমালা হালনাগাদ করে থাকে। তাই এজেন্সি
নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কমিশন কাঠামো সম্পর্কে সরাসরি তাদের
ডিস্ট্রিবিউটর বা কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত, যাতে
সঠিক হিসাব করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
দৈনিক ও মাসিক আয়ের বাস্তবসম্মত হিসাব
একজন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের দৈনিক আয় মূলত তার দোকানের অবস্থান, গ্রাহকের
সংখ্যা এবং লেনদেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে পাঁচশো টাকা থেকে শুরু করে দশ হাজার
টাকা পর্যন্তও হতে পারে। শহরের ব্যস্ত বাজার এলাকা বা জনবহুল মহল্লায় অবস্থিত
এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে সাধারণত এই আয় তুলনামূলক বেশি থাকে, কারণ সেখানে প্রতিদিন
অনেক বেশি সংখ্যক গ্রাহক লেনদেন করতে আসেন।
গ্রামাঞ্চলে বা কম জনবহুল এলাকায় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ কম থাকলেও, যদি এলাকায়
প্রতিযোগী এজেন্ট কম থাকে, তাহলে সেই একচেটিয়া অবস্থানের কারণে ভালো পরিমাণ
গ্রাহক পাওয়া সম্ভব হয়। আমি দেখেছি, অনেক গ্রামীণ এজেন্ট নিয়মিত গ্রাহকদের
সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে তুলনামূলক কম
জনসংখ্যার এলাকাতেও ভালো আয় করছেন।
মাসিক হিসাবে যদি দেখা যায়, তাহলে একজন গড় এজেন্ট মাসে পনেরো থেকে ত্রিশ হাজার
টাকা পর্যন্ত নিট আয় করতে পারেন, তবে এটা সম্পূর্ণভাবে লেনদেনের পরিমাণ ও এলাকার
ওপর নির্ভরশীল। ব্যস্ত এলাকার বড় এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে এই আয় আরও অনেক বেশি হতে
পারে, বিশেষ করে যদি একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এজেন্সি একসাথে পরিচালনা করা
হয়।
এজেন্ট ব্যবসা শুরু করতে কী কী লাগবে
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসা শুরু করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা
প্রয়োজন হয় তা হলো একটা বৈধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যার জন্য ট্রেড লাইসেন্স
থাকা আবশ্যক। কোনো ব্যক্তিগত পরিচয়ে সরাসরি এজেন্সি নেওয়া যায় না, বরং একটা
নিবন্ধিত দোকান বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এই সেবা নিতে হয়। তাই যাদের ইতিমধ্যে
কোনো ছোট ব্যবসা আছে, তাদের জন্য এজেন্সি নেওয়াটা তুলনামূলক সহজ।
ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, দোকানের ছবি এবং কিছু ক্ষেত্রে
ব্যাংক স্টেটমেন্টের মতো কাগজপত্রও জমা দিতে হতে পারে। প্রতিটা মোবাইল ব্যাংকিং
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিছু নির্দিষ্ট শর্ত থাকে, তাই এজেন্সি নেওয়ার আগে
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের সাথে যোগাযোগ করে সম্পূর্ণ
তালিকা জেনে নেওয়া উচিত। আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে
সাধারণত কয়েকদিন সময় লাগে।
কাগজপত্রের পাশাপাশি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রাথমিক বিনিয়োগও প্রয়োজন হয়,
কারণ এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করার জন্য নিজের কাছে কিছু পরিমাণ নগদ টাকা এবং
মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রাখতে হয়। এই প্রাথমিক মূলধনের পরিমাণ
এলাকা ও প্রত্যাশিত লেনদেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, তাই
ব্যবসা শুরুর আগে এই বিষয়ে একটা স্পষ্ট পরিকল্পনা করে নেওয়া জরুরি। এই জন্য
জানুন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয়।
মূলধন ও ক্যাশ ফ্লো ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটা হলো
সঠিকভাবে ক্যাশ ফ্লো ব্যবস্থাপনা করা। যেহেতু এজেন্টদের কাছে একই সাথে নগদ টাকা
এবং মোবাইল অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স, দুটোই থাকা প্রয়োজন হয়, তাই এই দুইয়ের
মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে ব্যবসায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি
কোনো এলাকায় ক্যাশ আউটের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে সেখানে বেশি পরিমাণ নগদ টাকা
হাতে রাখতে হয়, আবার ক্যাশ ইনের পরিমাণ বেশি হলে মোবাইল অ্যাকাউন্টে বেশি
ব্যালেন্স রাখতে হয়।
শুরুতে অনেক নতুন এজেন্ট এই ভারসাম্য বুঝতে না পেরে সমস্যায় পড়েন, কারণ হঠাৎ
কোনো গ্রাহক বড় অঙ্কের ক্যাশ আউট করতে চাইলে হাতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকলে
সেই লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। আমি দেখেছি, অভিজ্ঞ এজেন্টরা তাদের এলাকার
লেনদেনের প্যাটার্ন বুঝে প্রতিদিন সকালেই একটা আনুমানিক পরিকল্পনা করে নেন, যাতে
সারাদিন কোনো ঘাটতিতে না পড়তে হয়।
নিয়মিত হিসাব রাখাও এই ব্যবসার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতিদিনের লেনদেন, কমিশন
আয় এবং খরচের একটা সঠিক হিসাব রাখলে ব্যবসার প্রকৃত লাভের পরিমাণ বোঝা সহজ হয়।
অনেক এজেন্ট শুধু মোবাইল অ্যাপের ট্রানজেকশন হিস্ট্রির ওপর নির্ভর না করে আলাদা
একটা খাতায় বা ডিজিটাল স্প্রেডশিটে দৈনিক হিসাব লিখে রাখেন, যা মাস শেষে
সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের একটা স্পষ্ট চিত্র দেয়।
এলাকাভিত্তিক আয়ের পার্থক্য কেন হয়
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসার আয়ের ক্ষেত্রে এলাকার ভূমিকা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। শহরের বাণিজ্যিক এলাকা, বাজার, বাস স্ট্যান্ড বা রেলস্টেশনের
কাছাকাছি অবস্থিত এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে সাধারণত মানুষের চলাচল বেশি থাকে, যার ফলে
সেখানে লেনদেনের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি হয়। এই ধরনের এলাকায় শ্রমিক শ্রেণির
মানুষ, দোকানদার এবং যাতায়াতকারী যাত্রীরা নিয়মিত টাকা পাঠানো বা তোলার জন্য
এজেন্ট পয়েন্ট ব্যবহার করেন।
অন্যদিকে, প্রবাসী পরিবার বেশি থাকে এমন এলাকাতেও এজেন্ট ব্যবসা তুলনামূলক ভালো
চলে, কারণ বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায়ই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে
গ্রহণ করা হয়। এই ধরনের এলাকায় এজেন্টরা নিয়মিত বড় অঙ্কের লেনদেন পরিচালনা
করার সুযোগ পান, যা তাদের কমিশন আয়কেও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিযোগিতার পরিমাণও আয়ের ক্ষেত্রে একটা বড় নিয়ামক। যদি একটা নির্দিষ্ট
এলাকায় ইতিমধ্যে অনেক এজেন্ট পয়েন্ট থাকে, তাহলে গ্রাহক সংখ্যা বিভক্ত হয়ে
যায় এবং প্রতিটা এজেন্টের ভাগে কম লেনদেন পড়ে। তাই নতুন এজেন্সি শুরু করার আগে
সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইতিমধ্যে কতগুলো এজেন্ট পয়েন্ট আছে এবং সেখানকার জনসংখ্যা
কেমন, এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
একাধিক অপারেটরের এজেন্সি নিলে বাড়তি সুবিধা
অনেক সফল এজেন্ট শুধু একটা প্রতিষ্ঠানের এজেন্সি না নিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো
একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এজেন্সি একসাথে পরিচালনা করেন। এতে গ্রাহকদের
বিভিন্ন প্রয়োজন একই দোকান থেকে পূরণ করা সম্ভব হয়, যা দোকানের প্রতি গ্রাহকের
আস্থা ও নির্ভরতা বাড়িয়ে দেয়। একজন গ্রাহক যদি জানেন যে একটা নির্দিষ্ট দোকানে
সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যায়, তাহলে তিনি বারবার সেই দোকানেই আসতে
আগ্রহী হন।
একাধিক অপারেটরের এজেন্সি পরিচালনা করলে সামগ্রিক আয়ও বহুগুণে বেড়ে যায়, কারণ
প্রতিটা সেবা থেকে আলাদাভাবে কমিশন পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে প্রতিটা সেবার
জন্য আলাদা মূলধন ও হিসাব রাখতে হয়, যা একটু বেশি ব্যবস্থাপনার দাবি রাখে। যারা
এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারেন, তাদের জন্য একাধিক এজেন্সি পরিচালনা করাটা
দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে। মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায়
কত টাকা লাভ হয় জানা থাকলে সহজেই এই ব্যবসা করতে পারবেন।
আমি দেখেছি, যেসব দোকানে একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যায়, সেখানে
গ্রাহকের ভিড়ও তুলনামূলক বেশি থাকে, কারণ মানুষ একবারে একটা জায়গায় গিয়ে সব
কাজ সম্পন্ন করতে পছন্দ করেন। তাই যাদের পর্যাপ্ত মূলধন ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা
আছে, তাদের জন্য একাধিক অপারেটরের এজেন্সি নেওয়াটা একটা লাভজনক কৌশল হতে পারে।
এজেন্ট ব্যবসায় ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
যেকোনো ব্যবসার মতোই মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্সিতেও কিছু ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটা হলো জাল টাকা বা প্রতারণামূলক লেনদেনের শিকার হওয়া।
কিছু প্রতারক ভুয়া পরিচয় দিয়ে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে এজেন্টদের কাছ থেকে
অবৈধভাবে টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাই প্রতিটা লেনদেনের সময় গ্রাহকের
পরিচয় সঠিকভাবে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নগদ টাকা হাতে রাখার কারণে চুরি বা ডাকাতির ঝুঁকিও থাকে, বিশেষ করে যেসব এজেন্ট
পয়েন্টে নিয়মিত বড় অঙ্কের নগদ টাকা রাখা হয়। এই ঝুঁকি কমাতে দোকানে সিসিটিভি
ক্যামেরা স্থাপন করা, দিনের শেষে অতিরিক্ত নগদ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা এবং
নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কিছু এজেন্ট স্থানীয় থানা বা পুলিশের সাথেও
যোগাযোগ রাখেন, যাতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়।
আরো পড়ুনঃ
ঘরে বসে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার উপায়
প্রযুক্তিগত সমস্যা, যেমন নেটওয়ার্ক সমস্যা বা সার্ভার ডাউন থাকার কারণেও মাঝে
মাঝে লেনদেন পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা সাময়িকভাবে আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা এবং গ্রাহকদের বিনয়ের সাথে
পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না। তবে এই ধরনের সমস্যা
সাধারণত অস্থায়ী এবং দ্রুতই সমাধান হয়ে যায়।
আয় বাড়ানোর কার্যকর কিছু কৌশল
মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসা থেকে আয় বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো
গ্রাহকদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। যে এজেন্টরা গ্রাহকদের সাথে সৎ ও আন্তরিক
ব্যবহার করেন, তাদের কাছে গ্রাহকরা বারবার ফিরে আসেন এবং অন্যদেরও সেই দোকানে
যাওয়ার পরামর্শ দেন। মুখে মুখে প্রচারের এই শক্তি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার জন্য
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দোকানের অবস্থান যদি পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়, তাহলে দোকানের সময়সূচি বাড়িয়ে
বা সপ্তাহের সাতদিনই খোলা রেখে বাড়তি গ্রাহক ধরে রাখা যায়। বিশেষ করে সকাল ও
সন্ধ্যায় যখন মানুষ কাজ থেকে ফেরেন, তখন এজেন্ট পয়েন্ট খোলা রাখলে বেশি লেনদেন
পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ছুটির দিনেও দোকান খোলা রাখলে সেই সময়ে যেসব মানুষ
লেনদেন করতে চান, তাদের কাছ থেকেও বাড়তি আয় করা সম্ভব হয়। আপনার যদি নিজের
একটি দোকান থাকে তাহলে জানুন জরুরী যে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত
টাকা লাভ হয়।
মূল মোবাইল ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি মোবাইল রিচার্জ, ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রি বা
বিল পরিশোধের মতো বাড়তি সেবা যুক্ত করলেও দোকানের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি পায়। আমি
দেখেছি, যেসব দোকানে একসাথে অনেক ধরনের ডিজিটাল সেবা পাওয়া যায়, সেখানে
গ্রাহকের সংখ্যা ও লেনদেনের পরিমাণ উভয়ই তুলনামূলক বেশি থাকে, যা মোবাইল
ব্যাংকিং এজেন্সির আয়কেও পরোক্ষভাবে বাড়িয়ে দেয়।
লেখকের শেষ কথা
শেষ কথা হলো, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসায় কত টাকা লাভ হয় তা মূলত নির্ভর
করে এলাকা, লেনদেনের পরিমাণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। প্রতি হাজারে চার থেকে
সাড়ে চার টাকা কমিশন দেখতে সামান্য মনে হলেও প্রতিদিন পর্যাপ্ত লেনদেন হলে মাস
শেষে এটা একটা উল্লেখযোগ্য আয়ে পরিণত হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত মূলধন
ও গ্রাহকসেবার প্রতি মনোযোগ দিলে এই ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে একটা স্থায়ী ও লাভজনক
আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে।
আমার নিজের মতামত হলো, যেকোনো নতুন ব্যবসা শুরু করার আগে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা
রাখা এবং এলাকার প্রকৃত চাহিদা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু অন্যের
সাফল্যের গল্প শুনে না ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের এলাকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে
সিদ্ধান্ত নিলে সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে
জানাবেন।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url