ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা | ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম
সকালে খালি পেটে কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা
ড্রাগন ফলের নামের এই বিদেশি ফলের সাথে আমরা অনেকে পরিচিত। তবে আপনারা কি ড্রাগন
ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানেন? ড্রাগন ফলের বিভিন্ন স্বাস্থ্য
উপকারিতা আছে যেগুলো সম্পর্কে আমাদের আমাদের জানা উচিত।
এই বিদেশী খাবার সম্পর্কে আপনাদের সবাইকে জানা দরকার আজকের আর্টিকেলে
আপনাদেরকে জানাবো ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা, ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম এবং
ড্রাগন ফল সম্পর্কে সকল বিস্তারিত তথ্য।
পোস্ট সূচীপত্রঃ ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা | ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম
ড্রাগন ফল কী
ড্রাগন ফল একটি বিদেশি ফল, এই ফলের জন্মস্থান মধ্য আমেরিকা হলেও এখন এটি এশিয়া,
মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো সহ আমাদের বাংলাদেশেও ড্রাগন
ফলে চাষ করা হয়। ড্রাগন ফল সাধারণত একটি ক্যাকটাস জাতীয় গাছ থেকে তৈরি হয় যাকে
হাইলোসেরিয়াস ও বলা হয়ে থাকে। অনেকের মনের প্রশ্ন থাকতে পারে যে এই ফলকে
ড্রাগন ফল কেন বলা হয়? এই ফলের বাইরের অংশটি কাটাযুক্ত অনেকটাই ড্রাগনের
চামড়ার মত দেখতে হওয়ায় এই ফলকে ড্রাগন ফল নাম দেওয়া হয়। এই ফলটি বাইরে
থেকে কাটাযুক্ত হলেও ভিতর থেকে নরম, রসালো এবং সুস্বাদু যা অনেকের একটি
প্রিয় ফল হয়ে উঠেছে।
যারা টক ফল পছন্দ করেন না বরং মিষ্টি ফল বেশি পছন্দ করেন তাদের জন্য ড্রাগন
ফল অনেক সেরা হতে পারে, কেননা ড্রাগন ফল একটি মিষ্টি জাতীয় ফল। ড্রাগন
ফলের স্বাদ অনেকটাই কিউই আর নাশপাতি ফলের মিশ্রণ এর মত
খেতে। আপনার যদি এই দুটি ফল অনেক ভালো লাগে তাহলে আপনার ড্রাগন ফল অনেক
সহজেই পছন্দ হতে পারে।
ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা
ড্রাগন ফলের মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য
অনেক উপকারী। ড্রাগন ফলের মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে এর মত শক্তিশালী পুষ্টিগুণ। নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার
মাধ্যমে আপনারা অতি সহজেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারবেন, সর্দি কাশি জ্বরের
মতো সাধারণ রোগ থেকেও সুস্থ হতে পারবেন এছাড়াও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ রোগ থেকেও
দূরে থাকতে আমাদের সাহায্য করে তাদের মধ্যে কিছু রোগ মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ,
ক্যান্সার ডায়াবেটিস ইত্যাদি।
ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে আপনারা অনেক সহজেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারবেন কেননা
ড্রাগন ফলের মধ্যে থাকা উপাদান গুলো আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল গুলো কমাতে
অনেক সাহায্য করে। যেগুলো আমাদের হৃদয়ের ঝুড়ি কমাতে অনেকটাই সাহায্য করতে
পারে, অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের ফলে আমাদের শরীরের রক্তনালী গুলো বন্ধ
হয়ে যায় ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এর মত সমস্যাগুলো তৈরি
করে। নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে আপনারা অতি সহজেই শরীর থেকে
অতিরিক্ত কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে পারবেন এবং হৃদরোগ জনিত সকল
সমস্যাগুলোর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
আপনার পেটে যদি হজমের সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে ড্রাগন ফল আপনাকে অনেকটাই সাহায্য
করতে পারে। অনেকে পেটের হজমের সমস্যার জন্য অনেক সময় তাদের পছন্দের খাবারগুলো
খেতে পারে না। নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে আপনার হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে
পারবেন কেননা ড্রাগন ফলের মধ্যে রয়েছে ফাইবার সমৃদ্ধ গুণ যা আপনার হজম শক্তি
বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে। এছাড়াও আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে তাহলেও
ড্রাগন ফল আপনার জন্য সেরা, ড্রাগন ফলের ফাইবার সমৃদ্ধ গুণ আপনার পেট ভরা রাখতে
সাহায্য করে যার ফলে আপনি অতিরিক্ত খেতে পারেন না এই মাধ্যমে সহজেই আপনার ওজন
কমাতে সাহায্য করে।
যাদের ক্যান্সারের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ড্রাগন ফল অনেক উপকারী হতে
পারে। ড্রাগন ফল ভিটামিন C ও লাইকোপিন পুষ্টি উপাদানে ভরপুর যেগুলো
আমাদের শরীরে ক্যান্সারের প্রভাব কমাতে অনেকটাই সাহায্য করতে পারে। লাল
ড্রাগন ফলে থাকা লাইকোপিন শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি-রেডিক্যাল কমাতে সাহায্য করে, যা
ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেকটাই সহায়ক। এছাড়াও লাল ড্রাগন ফলের নির্যাস স্তন
ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে
ড্রাগন ফল বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর ফলগুলো খাওয়ার মাধ্যমে আপনার রোগের প্রভাব
কিছুটা মাত্র কমাতে সাহায্য করতে পারে কিন্তু এগুলো আপনার রোগের কোন চিকিৎসা
না। এজন্য আপনার যদি ক্যান্সার বা হৃদয়ের মত সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই কোন
কিছু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনেকের শরীরের ফোলা ভাব এবং জয়েন্টের ব্যথার সমস্যায় থাকেন যেগুলো আপনাদের
স্বাভাবিকভাবে কাজ করার গতিকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়। নিয়মিত ড্রাগন ফল
খাওয়ার মাধ্যমে আপনারা এই ধরনের সমস্যা গুলো অনেক সহজেই সমাধান করতে
পারেন। ড্রাগন ফলে থাকা পুষ্টিকর উপাদান গুলো আমাদের শরীরে জয়েন্টের ফোলা
ভাব গুলো এবং এর পাশাপাশি ব্যথা এবং অস্বস্তি অনেক সহজে কমাতে পারে।
এছাড়াও আপনার কোন কারণে শরীরের আঘাত বা ক্ষত হয়ে থাকলে ড্রাগন ফল খাওয়ার
মাধ্যমে আপনারা সেই ক্ষত অনেক সহজেই শুকাতে পারবেন। ড্রাগন ফলের মধ্যে থাকা
অনেক পুষ্টিকর উপাদান গুলো আমাদের শরীরের ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে। তবে
ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে আপনার কত শুকাতে একদমই কম সময় লাগবে এমনটা নয়,
ড্রাগন ফল স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা হল দ্রুত আপনার ক্ষতস্থান শুকাতে
সাহায্য করতে পারে মাত্র।
সাধারণত ড্রাগন ফল খাওয়া আমাদের জন্য অনেক পুষ্টিকর এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য
অনেক উপকারী। তবে অনেকের জন্য ড্রাগন ফল খাওয়া ক্ষতিকর হতে
পারে, এইজন্য ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনার জানা
প্রয়োজন।
ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে সাধারণত কারো এলার্জি হয় না, তবে কিছু মানুষের
ক্ষেত্রে এলার্জি হতে পারে যেমন চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি বা ঠোঁট, চোখ বা মুখে
ফোলাভাব ইত্যাদি এছাড়াও খুব গুরুতর হলে শ্বাসকষ্ট বা
অ্যানাফিল্যাক্সিস। যাদের আগে থেকে ক্যাকটাস জাতীয় গাছের ফলের প্রতি
এলার্জি আছে তাদের ড্রাগন ফল খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তবে আপনার যদি
ড্রাগন ফল খাওয়ার পরে এ সকল লক্ষণ দেখতে পান তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ
নিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে চিকিৎসা করা উচিত।
অতিরিক্ত ড্রাগন ফল খেলে আমাদের হজমের সমস্যা হতে পারে। কেননা ড্রাগন ফলের
মধ্যে অতিরিক্ত ফাইবার থাকে, আমরা যদি সঠিক পরিমাণে ড্রাগন ফল খায় তাহলে
এটি আমাদের ওজন ক্ষমতা সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে আমাদের
হজমের সমস্যার পাশাপাশি ওজন বাড়তে পারে। এছাড়াও পেটে সমস্যা হতে পারে
সেগুলো হল গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ইত্যাদি। আপনি যদি ড্রাগন ফল খাওয়া
শুরু করতে চান তাহলে অল্প অল্প করে খাওয়া শুরু করতে পারেন যার মাধ্যমে এ
সমস্যাগুলো এড়াতে পারবেন।
অতিরিক্ত ড্রাগন ফল খাওয়ার জন্য আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, এই
কারণে ডায়াবেটিসের রোগীদের বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে। ড্রাগন ফল একটি মিষ্টি
জাতীয় ফল, স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে তেমন কোন ক্ষতি হয় না তবে অতিরিক্ত করে
অনেক হাওয়া ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে
তাহলে আপনি ড্রাগন ফল খেতে পারেন তবে অতিরিক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন কেননা এর
ফলে আপনার শরীরে ইনসুলিন এর প্রভাব অনেকটা কমে যেতে পারে।
আপনার যদি ড্রাগন ফলে এলার্জি থাকে তাহলে এটি আপনার ত্বকের ক্ষতি করতে
পারে। যেমন ত্বক জ্বালা করা, ত্বকে চুলকানি, হালকা
ফুসকুড়ি ইত্যাদি। ড্রাগন ফল খাওয়ার পরে আপনার যদি এ সকল লক্ষণ দেখা যায়
তাহলে আপনার ত্বক ভালো ভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ড্রাগন ফল খাওয়ার
জন্য এইসব এলার্জির লক্ষণ দেখা গেলে আপনার ড্রাগন ফল না খাওয়াই ভালো।
ড্রাগন ফল কি ওজন কমাতে সাহায্য করে
ড্রাগন ফল সরাসরি ওজন কমায় না, কিন্তু এটি আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, কম
ক্যালোরি গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখতে পারে। ওজন কমানোর জন্য এমন কোন ফল নেই যেগুলো খেলে রাতারাতি আবার ওজন কমে
যাবে। তবে একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট, স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা এবং নিয়মিত
ব্যায়াম করার মাধ্যমে আপনার ওজনে পরিবর্তন আনতে পারেন। ড্রাগন ফল এর মধ্যে
ক্যালোরির পরিমাণ অনেক কম, এজন্য আপনি ওজন বাড়ার চিন্তা ছাড়াই ড্রাগন ফল খেতে
পারেন। নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে আপনার ওজন অনেক সহজে নিয়ন্ত্রনে
রাখতে পারবেন। ড্রাগন ফলের মধ্যে অতিরিক্ত ফাইবার থাকায় এটি খেলে আপনার পেট
ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্ষুধা লাগে না। যার মাধ্যমে
আপনার অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাসটা নিয়ন্ত্রণে আসে যার মাধ্যমে আপনি অতি সহজেই
নিজের ওজন কমাতে পারবেন।
ড্রাগন ফলের ক্ষতিকর দিক
ড্রাগন ফল আমাদের শরীরের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর এবং বিভিন্ন পুষ্টি দিয়ে সমৃদ্ধ।
তবে আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ড্রাগন ফল খান তাহলে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের
ক্ষতি হতে পারে। যেমন ড্রাগন ফলে অতিরিক্ত ফাইবার উপাদান থাকে এটি আপনার শরীরে
বেশি পরিমাণ থাকলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গুলো ঠিকভাবে শোষণ হয় না, যার ফলে
আপনার শরীরে আস্তে আস্তে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত ড্রাগন ফল
খেলে আপনার পেটব্যথা গ্যাস, ফাঁপাভাব, ডায়রিয়া ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে
পারে। ড্রাগন ফলে আপনার যদি কোন এলার্জি না থাকে তাহলে আপনার অবশ্যই ড্রাগন ফল
খাওয়া প্রয়োজন কেননা ড্রাগন ফল আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তবে ড্রাগন ফল
খাওয়ার সময় আমাদের সঠিক পরিমাণে খেতে হবে।
ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম
ড্রাগন ফলের উপকারিতা পাওয়ার জন্য আপনি ড্রাগন ফলকে বিভিন্নভাবে খেতে পারেন।
ড্রাগন ফলের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি স্বাদ থাকার জন্য আপনাকে সাথে আলাদাভাবে
কোন চিনিও মেশাতে হয় না। ড্রাগন ফল একটি সুস্বাদু ফল যেটা অনেক ভাবে খাওয়া
যায়। তবে আপনার জানা প্রয়োজন কোন ভাবে খেলে আপনি ড্রাগন ফলের বেশি উপকারিতা
নিতে পারবেন। ড্রাগন ফল খাওয়ার বিভিন্ন উপায় গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
- সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়া
- ফলের সালাদ বানিয়ে
- স্মুদি বা জুস করে খাওয়া
- আইসক্রিমে এর সাথে মিশিয়ে
এছাড়াও আপনার পছন্দের যেকোনো ফল বা মাধ্যমে ড্রাগন ফলকে আরো সুস্বাদু
বানিয়ে খেতে পারেন।
ডায়াবেটিসে ড্রাগন ফল খাওয়া কি ভালো
ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ড্রাগন ফল অনেক উপকারী একটি ফল। কেননা এর মধ্যে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আছে যেগুলো রক্তের শর্করা
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের রোগীদের অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার
খাওয়ার অভ্যাস দূর করার জন্যও ড্রাগন ফল অনেক সাহায্য করতে
পারে। কেননা ড্রাগন ফল প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি যেটি খাওয়ার ফলে আপনাদের রক্তে
শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং আপনার অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসটিও
কমাতে সাহায্য করবে। তবে ডায়াবেটিসের রোগীদের খেয়াল রাখতে হবে যেন তারা
পরিমাণ মতো ড্রাগন ফল খান, অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য তাদের শরীরে শর্করার
মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। এইজন্য আপনাদের ড্রাগন ফলের উপকারিতা
ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
ড্রাগন ফল কি প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে
আপনাদের অনেকেই মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে ড্রাগন ফল কি প্রতিদিন খাওয়া যায়, আর
খাওয়া গেলও প্রতিদিন কয়টি করে ড্রাগন ফল খাওয়া আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।
প্রতিদিন ড্রাগন ফল খাওয়ার কোন ক্ষতি নেই বরং ড্রাগন ফলকে অন্যান্য সুষম খাদ্যের
সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে যার মাধ্যমে আপনি আরো বেশি উপকারিতা পেতে পারেন।
তবে আপনাকে একটি খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি সঠিক পরিমাণে ড্রাগন ফল খান যেন আপনার
শরীরে সকল পুষ্টির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আপনারা চাইলে প্রতিদিন একটি করে ড্রাগন ফল খেতে পারেন। যার মাধ্যমে আপনাদের
শরীরে সকল পুষ্টির মাত্রাগুলো নিয়মিত থাকবে।
ড্রাগন ফল খেলে কি রক্ত বাড়ে
ড্রাগন ফল খেলে আমাদের শরীরে আসলে রক্ত বাড়তে সাহায্য করে। কেননা ড্রাগন ফলের
মধ্যে থাকা আয়রন আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। যাদের
রক্তস্বল্পতা আছে তাদের জন্য নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়া অনেক উপকারী হতে পারে।
এছাড়াও ড্রাগন ফলের মধ্যে বিভিন্ন উপকারী গুণ রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য
অনেক উপকারী। নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে অনেক সহজেই রক্তস্বল্পতার সমস্যা
দূর করার পাশাপাশি একটি সুস্বাস্থ্য অর্জন করতে পারবেন।
ড্রাগন ফলের খোসা দিয়ে রূপচর্চা
ড্রাগন ফল খাওয়ার পরে আপনারা ফলের খোসা দিয়ে অতি সহজে একটি ফেসপ্যাক তৈরি করতে
পারেন যেটি নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করার মাধ্যমে একটি উজ্জ্বলতা পেতে পারবেন।
ড্রাগন ফলের পাশাপাশি ড্রাগন ফলের খোসাতেও বিভিন্ন উপকারিত রয়েছে যেগুলো আমাদের
ত্বকের উচ্চতা বৃদ্ধি করার জন্য অনেক সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক
পাওয়ার জন্য আপনি নিয়মিত ড্রাগন ফলের খোসার ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করুন।
লেখকের শেষ কথা
ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলোর মধ্যে উপকারিতা সংখ্যা অনেক বেশি। ড্রাগন
ফলের তেমন কোন অপকারিতা নেই শুধু আমাদের এটা খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা অতিরিক্ত
পরিমাণে ড্রাগন ফল না খায়। নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার একটি ভালো অভ্যাস গড়ে
তোলার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন উপকারিতা পেতে পারেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের
রোগীদের জন্য এটি একটি সেরা ফল।
আপনি চাইলে ড্রাগন ফল সরাসরি খেতে পারেন অথবা স্বাদ বাড়ানোর জন্য সালাত বানিয়ে,
জুস বানিয়ে এছাড়া বিভিন্নভাবে খেতে পারেন। তবে আপনি যদি অন্যান্য সুষম খাবারের
সাথে মিশিয়ে ড্রাগন ফল খান তাহলে তা আপনার জন্য সেরা হতে পারে। প্রিয় পাঠক
আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে
আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে ড্রাগন ফল কী,
ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা, ড্রাগন ফল, কি ওজন কমাতে সাহায্য করে, ড্রাগন
ফলের ক্ষতিকর দিক, ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম, ডায়াবেটিসে ড্রাগন ফল খাওয়া কি
ভালো, ড্রাগন ফল কি, প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে, ড্রাগন ফল খেলে কি রক্ত বাড়ে,
ড্রাগন ফলের খোসা দিয়ে রূপচর্চা ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url