অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা | রাতে অ্যালোভেরা ব্যবহার

ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা | ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম
অ্যালোভেরা আমাদের জন্য ত্বকের এর জন্য অনেক উপকারী বিশেষ করে অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা অনেক বেশী। আপনার ত্বক কে প্রাকিতিক ভাবে উজ্জ্বল করার জন্য অ্যালোভেরা জেল অনেক সাহায্য করতে পারে।
অ্যালোভেরা-জেল-মুখে-ব্যবহারের-উপকারিতা
হাজার হাজার বছর ধরে ত্বকের যত্ন নেবার জন্য অ্যালোভেরা জেল অসাধারণ ভাবে কাজ করে আসছে।অ্যালোভেরার মধ্যে আমাদের ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ভিটামিন রয়েছে যেগুলো আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বিশেষভাবে অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা অনেক বেশি।

পোস্ট সূচীপত্রঃ অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা | রাতে অ্যালোভেরা ব্যবহার

অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা

অ্যালোভেরা জেল আমাদের ত্বকের সকল সমস্যা দূর করতে পারে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা, ত্বক থেকে ব্রণ দূর করা, ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমানো ইত্যাদির পাশাপাশি অ্যালোভেরার বিভিন্ন গুণ আছে। আপনারা অনেকেই ত্বক এবং চুলের সমস্যা গুলো ঠিক করার জন্য বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহার করে থাকেন। তবে আপনারা কি জানেন যে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি প্রাকৃতিকভাবেই মুখের সমস্যা দূর করতে পারবেন। অ্যালোভেরার মধ্যে ভিটামিন এ, বি, সি, এবং ই আছে যেগুলো আমাদের ত্বকের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই ভিটামিন গুলো আমাদের ত্বককে যেকোনো ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং কোষের বৃদ্ধির পাশাপাশি কোষগুলোকে উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে।

অ্যালোভেরা আমাদের ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে, ত্বকের গর্ত পরিষ্কার রাখে এবং ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরার মধ্যে থাকা বিশেষ ৬ টি উপাদান আমাদের ত্বকের জন্য অনেক উপকারী সেইগুলোর মধ্যে আছে লুপিওল, স্যালিসিলিক অ্যাসিড, ইউরিয়া নাইট্রোজেন, সিনামনিক অ্যাসিড, ফেনল এবং সালফার। এই উপাদানগুলো আমাদের ত্বককে ত্বকে থাকা ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা অনেকগুলো রয়েছে। এটি নিয়মিত ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা বিভিন্নভাবে উপকারিতা পেতে পারি সেগুলোর মধ্যে রয়েছে।
  • অ্যালোভেরা জেল ত্বকের চুলকানি এবং খসখসে ভাব কমায়
  • ত্বককে রোদে পোড়ার হাত থেকে রক্ষা করে
  • শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখে
  • ত্বকের ব্রণ এবং প্রদাহ জাতীয় সমস্যা গুলো দূর করে
  • ঠোঁটের ঠান্ডা ঘা বা কোল্ড সোরের জন্যও এটি উপকারী

চুলে অ্যালোভেরা দেওয়ার নিয়ম

অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা তো রয়েছেই তবে আপনারা অ্যালোভেরা জেল চুলে দেওয়ার মাধ্যমেও বিভিন্ন উপকারিতা পেতে পারেন। চুলের যত্নের জন্য অ্যালোভেরা একটি অসাধারণ উপাদান হতে পারে। আপনারা চাইলে অ্যালোভেরা জেল বা তেল দুই ভাবেই ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত চুলে অ্যালোভেরা ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনারা অনেক সহজেই চুল শক্ত করতে পারবেন, চুল পড়া কমাতে পারবেন এবং চুলকে লম্বা করতে পারবেন। চুলে অ্যালোভেরা দেওয়ার বিশেষ কিছু উপকারিতা গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
  • চুলকে ময়েশ্চারাইজ ও মজবুত করতে সাহায্য করে, অ্যালোভেরার জেল চুলের শুষ্কতা দূর করে এবং চুলকে শক্তিশালী করে।
  • চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করতে পারে, এতে থাকা এনজাইম ও ভিটামিন চুলের ফলিকলকে পুষ্টি দিয়ে নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
  • অ্যালোভেরা আমাদের চুলের খুশকি কমায় এবং অ্যালোভেরার অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের খুশকি ও চুলকানি কমায়।
  • চুল পড়া কমায়, রুট শক্তিশালী হওয়ার ফলে চুল কম পড়ে এবং ঘন দেখায়।
নিয়মিত অ্যালোভেরা আপনাদের চুলের ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনারা অনেক উপকারিতা পেতে পারবেন। অ্যালোভেরা তেল বানিয়ে অথবা সরাসরি অ্যালোভেরা জেল আপনাদের চুলে ব্যবহার করতে পারেন।
রাতে অ্যালোভেরা ব্যবহার

শরীরে অ্যালোভেরার উপকারিতা

অ্যালোভেরা শুধু মাত্র আমাদের চুল বা ত্বক এর জন্যই উপকারী না এইটি আমাদের শরীর এর জন্যও অনেক উপকারী। নিয়মিত অ্যালোভেরা খাবার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা পেতে পারি যেমন হজম শক্তি বাড়ানো, শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডাইবেটিস ও ও স্ট্রোকের মতো ক্ষতিকার রোগের ঝুঁকি কমানো ইত্যাদি। অ্যালোভেরা সকল উপকারিতা সম্পর্কে আপনার বিস্তারিত জানা প্রয়োজন সেই গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা সম্পর্কে নিচে লেখা হলো।
আমরা অনেকেই অ্যালোভেরার পেস্ট বা মাউথওয়াশ ব্যবহার করি, এটি আমাদের মুখের পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে অনেক সাহায্য করে। তবে বাজারে পাওয়া অ্যালোভেরার পেস্ট বা মাউথওয়াশ এর মধ্যে বিভিন্ন কেমিক্যাল বা কৃত্রিম রং মেশানো হয়ে থাকে এজন্য আপনারা যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন তাহলে এটি আপনার জন্য সেরা হয়। প্রাকৃতিকভাবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনারা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির ব্যাথা কমানোর পাশাপাশি আপনাদের মুখ কে সুস্থ রাখতে পারবেন।

সান বার্ন বা রোদে ত্বক পুড়ে যাবে বলে অনেকেই সানস্ক্রিম এর ব্যবহার করে থাকেন। তবে আপনারা কি জানেন যে অ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক সানস্ক্রিম এর মত কাজ করে। এটি শুধুমাত্র আমাদের ত্বককে রোদে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে না বরং এটি আমাদের পোড়া ত্বকের জ্বালা কমতেও অনেকটা সাহায্য করে। এর পাশাপাশি অ্যালোভেরা জেল কোন ক্ষতস্থানে ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা অনেক সহজেই সেই ক্ষতটি শুকাতে পারবো এবং অ্যালোভেরা আমাদের ক্ষত দ্রুত সারাতেও অনেক সাহায্য করে।

ত্বকের আদ্রতা দূর করার জন্য এবং শুকনো ত্বকের সমস্যার জন্য অনেকেই বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে থাকেন। তবে আপনাদের ত্বকের আদ্রতা প্রাকৃতিক ভাবে দূর করার জন্য আপনার অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনাদের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বিশেষ করে করে শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি সেরা।

নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনারা এই সকল উপকারিতার সঙ্গে আরও বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন। অ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক উপাদান যেটি অনেক অনেক বছর ধরে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। আপনারা প্রাকৃতিকভাবে আপনার ত্বক বা শরীরের চিকিৎসা করার মাধ্যমে বিভিন্ন উপকারিতা পেতে পারেন। এজন্য আমাদের ত্বক বা শরীরের কোন সমস্যা হলে প্রথমে প্রাকৃতিকভাবেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

বাড়িতে অ্যালোভেরা জেল তৈরি করবেন যেভাবে

আপনার বাড়িতে অ্যালোভেরার গাছ থাকলে আপনি সেখানে থেকে অনেক সহজেই অ্যালোভেরা জেল তৈরি করতে পারবেন। আপনার বাসায় অ্যালোভেরা গাছ না থাকলেও আপনি বাজার থেকে তাদের অ্যালোভেরা কিনে তা ব্যবহার করতে পারেন। প্রাকৃতিকভাবে আপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা অনেক বেশি।

অ্যালোভেরার জেল অনেক সহজেই আপনি ঘরে তৈরি করতে পারবেন এবং অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা পেতে পারবেন। অ্যালোভেরা জেল বাড়ানোর জন্য প্রথমে অ্যালোভেরা গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করুন অথবা আপনি বাজারে থেকেও অ্যালোভেরার পাতা কিনতে পারেন। এরপরে অ্যালোভেরার দুইপাশের কাঁটাযুক্ত অংশগুলোকে কেটে ফেলতে হবে। আপনারা অ্যালোভেরার পাতা ছোট ছোট টুকরো করে কাটলে আরো সহজে অ্যালোভেরার ভিতরে জেল বের করতে পারবেন। অ্যালোভেরার বাইরের অংশগুলো বাদ দিলেই আপনারা আমার সহজেই চামচের মাধ্যমে জেল সংগ্রহ করতে পারবেন।

আপনারা যদি অ্যালোভেরার জেল কে আরো নরম করতে চান সেক্ষেত্রে জেলগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে একটু পানি মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। ভালোভাবে ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে আপনারা একটি পরিষ্কার কাপড় বা একটি ছাকনি দিয়ে জেলগুলো ভালোভাবে ছেঁকে নিন। এর মাধ্যমে আপনারা অনেক ভালো মানের অ্যালোভেরা জেল পেতে পারবেন। এরপর আপনারা অনায়াসেই ইচ্ছামত অ্যালোভেরা জেল প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে পারবেন।

তাজা অ্যালোভেরা জেল দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার জন্য আপনারা এটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন, তবে এক সপ্তাহের বেশি ফ্রিজে অ্যালোভেরা জেল না রাখাই ভালো। আপনারা যদি এর থেকেও বেশি সময় ধরে অ্যালোভেরার জেল সংরক্ষণ করে রাখতে চান তাহলে অ্যালোভেরার জেলের ছোট ছোট আইস কিউব বানিয়ে ফ্রিজের সংরক্ষণ করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনারা অনেক সহজেই ঘরেই বিভিন্ন ফেসপ্যাক, হেয়ার মাস্ক বানাতে পারবেন। বাজারে পাওয়া অ্যালোভেরার ফেসওয়াশ বা অন্যান্য ফেসপ্যাক এর তুলনায় ঘরোয়া উপায়ে বানানো অ্যালোভেরার জেল বেশি উপকারী। কেননা এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা এবং কোন ধরনের কৃত্রিম উপাদান মিশানো নেই এজন্য এটি আপনার ত্বকের জন্য সেরা।

অ্যালোভেরা শরবতের উপকারিতা

অ্যালোভেরা জুস করে খাওয়া আপনাদের জন্য একটি সেরা মাধ্যম হতে পারে। এটি বানানো অনেক সহজ এবং নিয়মিত অ্যালোভেরা শরবত খাওয়ার মাধ্যমে আপনি অ্যালোভেরার সকল উপকারিতা নিতে পারবেন। ওজন কমানোর থেকে শুরু করে আমাদের শরীরে রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতেও অ্যালোভেরা আমাদের অনেক সাহায্য করে। এই জন্য আপনারা নিয়মিত অ্যালোভেরা শরবত খাওয়ার মাধ্যমে একটি সুস্বাস্থ্য পেতে পারবেন।

বাড়িতে অ্যালোভেরা শরবত বানানো অনেক সহজ। ১ কাপ পানিতে ২ থেকে ৩ চামচ এ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আপনারা সহজেই অ্যালোভেরার প্রাকৃতিক শরবত তৈরি করতে পারবেন। আপনার যদি সরাসরি অ্যালোভেরার শরবত খাওয়ায় সমস্যা হয় তাহলে আপনার পছন্দের যেকোন ফল বা শাকসবজি মিশিয়ে খেতে পারেন। নিয়মিত অ্যালোভেরা শরবত খাওয়ার মাধ্যমে আপনারা হজম শক্তি বাড়াতে পারবেন, শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখতে পারবেন এবং আমাদের শরীর থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।

আপনারা যারা অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান এবং সে জন্য ডায়েট বা ব্যায়াম করছেন তারা সেগুলোর পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরা শরবত খেতে পারেন। এটি আপনার ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করতে পারে। অ্যালোভেরার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি আমাদের শরীরের হজম শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এই জন্য আপনারা যদি নিজেদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান তাহলে প্রতিদিন এক গ্লাস করে অ্যালোভেরা শরবত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের জন্যও অ্যালোভেরার শরবত খাওয়া অনেক উপকারী হতে পারে।ডায়াবেটিসের রোগীদের প্রধান সমস্যা হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। আপনাদের যদি রক্তে শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে তাহলে ডায়াবেটিসের সমস্যা অনেক সহজেই কমাতে পারবেন।আপনাদের জন্য অ্যালোভেরার শরবত খাওয়ার উপকারিতা বিশেষভাবে রয়েছে কেননা অ্যালোভেরা ইনসুলিন প্রতিরোধ কমাতে অনেক সাহায্য করে এবং এর পাশাপাশি আপনাদের অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

অ্যালোভেরার অপকারিতা

অ্যালোভেরা আমাদের ত্বক এবং শরীরের জন্য অনেক উপকারী তবে এটি অতিরিক্ত ব্যবহার করা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কোন কিছুই অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করা বা খাওয়া আমাদের উচিত না কেননা এর বিভিন্ন অপকারিতা থাকতে পারে। অ্যালোভেরা অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে, ত্বক জ্বালাপোড়া করতে পারে, পেটের সমস্যা হতে পারে ইত্যাদি। আপনার অ্যালোভেরাই অ্যালার্জি আছে কিনা জানার জন্য প্রথমে ত্বকের অল্প জায়গায় এটি লাগিয়ে দেখতে পারেন। যদি তেমন কোন অ্যালার্জি লক্ষণ না দেখতে পান তাহলে এটি ব্যবহার করতে পারেন তবে অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
অতিরিক্ত-অ্যালোভেরা-ব্যবহারের-ঝুঁকি

অতিরিক্ত অ্যালোভেরা ব্যবহারের ঝুঁকি

অতিরিক্ত অ্যালোভেরা ব্যাবহার করলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তবে সঠিকভাবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা সেই ঝুঁকি অনেক সহজেই কমাতে পারবো। অতিরিক্ত অ্যালোভেরা ব্যবহারের মধ্যে রয়েছেঃ
  • ডায়রিয়া
  • বমি বমি ভাব
  • পেশীর দুর্বলতা
  • কিডনির সমস্যা
  • ত্বকে অতিরিক্ত শুষ্কতা
  • হরমোনজনিত প্রভাব বাড়াতে পারে
  • অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা
  • লিভারের সমস্যা
  • রক্তে সুগার হঠাৎ কমে যাওয়া
  • হজমের অসুবিধা

অ্যালোভেরা দিয়ে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়

অ্যালোভেরা ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার জন্য অ্যালোভেরা অনেক উপকারে। এতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং প্রদাহনাশক গুণ ত্বকের ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে। ফলে মুখের লালভাব, ফোলাভাব এবং ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। অ্যালোভেরা ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করে, যা নতুন ব্রণ হওয়া প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা জিবেরেলিন ও পলিস্যাকারাইড ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পুনর্গঠন দ্রুত করে, ফলে ব্রণের দাগ দ্রুত হালকা হয়। অ্যালোভেরা ত্বকের কোষ উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং পানির চেয়ে দ্রুত ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বককে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র রাখে। এই গভীর ময়েশ্চারাইজিং প্রভাব কালো দাগ নিরাময়ে বিশেষভাবে সহায়ক, কারণ ভালোভাবে হাইড্রেটেড ত্বক দ্রুত ঠিক হয় এবং রঙ সমান হয়ে আসে। নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহার করা মাধ্যমে আপনারা সহজেই ব্রণ কমাতে পারবেন ও ত্বকের দাগ কমানোর পাশাপাশি ত্বক আরও পরিষ্কার ও মসৃণ করতে পারবেন।

অ্যালোভেরা ব্যবহারে সতর্কতা

অ্যালোভেরা ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। গুরুতর পোড়া, গভীর ক্ষত বা সংক্রামিত ত্বকে জেল প্রয়োগ করা উচিত না কেনোনা এটি ক্ষতস্থানের আরো বেশি ক্ষতি করতে পারে। আপনার কিডনি বা হৃদরোগের সমস্যা, ক্রোনের রোগ, আলসারেটিভ কোলাইটিস, অন্ত্রের বাধা বা ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে অ্যালোভেরা ব্যবহার এড়ানো উচিত এবং অবশ্যই ওষুধের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো যায়।

লেখকের শেষ কথা

অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা অনেক বেশি এবং এর পাশাপাশি এটি আমাদের শরীর এবং চুলের জন্য অনেক উপকারে। তবে অতিরিক্ত অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে আমাদের বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে এজন্য এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের উপকারিতা , চুলে অ্যালোভেরা দেওয়ার নিয়ম, শরীরে অ্যালোভেরার উপকারিতা, বাড়িতে অ্যালোভেরা, জেল তৈরি করবেন যেভাবে, অ্যালোভেরা শরবতের উপকারিতা, অ্যালোভেরার অপকারিতা, অতিরিক্ত অ্যালোভেরা ব্যবহারের ঝুঁকি, অ্যালোভেরা দিয়ে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়, অ্যালোভেরা ব্যবহারে সতর্কতা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url