কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় | ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়
আপনি কি রাতে ঠিক ভাবে ঘুমাতে পারেন না? অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঘুমাতে অসুবিধা হয়? তাহলে আপনার অবশ্যই জানা প্রয়োজন কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় এবং ঘুম না আসলে করণীয় কি।
সঠিক ভিটামিন গুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী যেগুলো আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। আপনার যদি শরীরে ভিটামিনের অভাব হয় তাহলে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে।
পোস্ট সূচীপত্রঃ কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয় | ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়
- ভিটামিনের ঘাটতি ঘুমের উপর যেভাবে প্রভাব ফেলে
- কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়
- রাতে ঘুম আসার সহজ টিপস
- ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়
- ভালো ঘুমের জন্য ভিটামিনের উপকারিতা
- লেখকের শেষ কথা
ভিটামিনের ঘাটতি ঘুমের উপর যেভাবে প্রভাব ফেলে
আমাদের ঘুম সঠিকভাবে হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের মাত্রা শরীরে থাকা প্রয়োজন। ঘুম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাদের শরীরে যে সকল হরমোন গুলো কাজ করে তার মধ্যে রয়েছে মেলাটোনিন এবং সেরোটোনিন। ঘুমের ভিটামিন আমাদের শরীরে ঘুমের হরমোন নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং যখন এ ভিটামিন গুলোর ঘাটতি হয় তখন ঘুমের হরমোন ঠিকভাবে তৈরি করতে পারেন না। ঘুমের হরমোন ঠিকভাবে তৈরি না হওয়ার জন্য আমাদের মধ্যে অস্থিরতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, নার্ভাসনেস তৈরি হতে থাকে যার ফলে আমরা রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারি না। এজন্য আপনার জানা প্রয়োজন কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়, এটি জানার মাধ্যমে আপনারা সহজেই সেই ভিটামিনের ঘাটতি কমাতে পারবেন।
কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়
বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতির কারণে আমাদের ঘুম কম হতে পারে এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়ন। এ সকল ভিটামিনের ঘাটের জন্য সাধারণত আমাদের ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে এবং এ সকল ভিটামিন গুলো আমাদের ঘুম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন ডি আমাদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে যার ফলে আমার শান্তিতে ঘুমাতে পারি। ঘুমানোর সময় আপনার যদি ঘন ঘন ঘুম ভেঙ্গে যায় বা ঠিকমতো ঘুম না হয় তা সাধারণ কারণ হতে পারে ভিটামিন দিয়ে। যাদের শরীরের ভিটামিন ডি কম থাকে তাদের প্রায়ই শরীরে ক্লান্তি হয়ে থাকে, শরীরে পেশী ব্যথা হয় এবং সহজে কোন কিছুর উপরে মনোযোগ দেওয়া যায় না। ভিটামিন ডি ঘাটতি দূর করার জন্য আপনারা চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং নিয়মিত দুধ খাওয়ার একটি অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এছাড়াও আমরা অনেকেই জানি রোদ একটি ভিটামিন ডির প্রধান উৎস, এজন্য নিয়মিত সকালে রোদে থাকার মাধ্যমে আমরা ভিটামিন ডির ঘাটতি কমাতে পারবো।
ভিটামিন বি আমাদের শরীরে ঘুমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে অনেক সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো আমাদের শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরি করে থাকে যা একটি ভালো ঘুমের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। আমাদের শরীরে ভিটামিন বি কম থাকলে ঘুম অনেক কম হয়, বারবার ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং অতিরিক্ত অস্বস্তি দেখা যেতে পারে। শরীরে ভিটামিন বি এর মাত্রা বাড়ানোর জন্য আপনারা সুষম খাদ্য খেতে পারেন, এর মধ্যে রয়েছে গরুর মাংস, মাছ, ডিম, দুধজাত খাবার।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, টেনশন এর কারণে অনেকেই ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না, তবে আপনারা কি জানেন এটি সাধারণত আমাদের শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির জন্য হয়ে থাকে। ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শীতল রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এজন্য শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে আমাদের ঘুমের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা বিভিন্নভাবে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে বাদাম, কলা, পালং শাক ইত্যাদি খাওয়া অনেক কার্যকরী হতে পারে।
আমাদের ঘুমের ঘাটতি তৈরি করতে পারে এমন আরেকটি উপাদানের নাম হল আয়রন। আমাদের শরীরে ঘুমের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ডোপামিন এবং সেরোটোনিন নামে দুটি উপাদান থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ যদি এগুলোর পরিমাণ কমে যায় তাহলে ঘুমের উপরে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের শরীরে ঘুমের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অনেক সাহায্য করে, আয়রনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঘুম নষ্ট হয় না, বারবার ঘুম ভেঙ্গে যায় না এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে ক্লান্তি অনুভব হয় না। আয়রনের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য আপনারা মাংস, পালং শাক, ডাল, ডিম ইত্যাদি খেতে পারেন। আমাদের শরীরে আয়রনের পরিমাণ বাড়লে ভিটামিন সি এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।
রাতে ঘুম আসার সহজ টিপস
আপনারা যদি মনে করেন শুধু ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করার মাধ্যমে আপনারা ভালোভাবে ঘুমাতে পারবেন তাহলে আপনার এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। শরীরে সকল ভিটামিনের প্রয়োজনে ঘাটতি মেটাতে পারলে আপনারা ওখানে উন্নতি করতে পারবেন, তবে এর পাশাপাশি আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু ছোট পরিবর্তন আনার মাধ্যমে অনেক সহজেই ঘুমের সম্পূর্ণভাবে উন্নতি করতে পারবেন।
প্রথমে আপনাকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আপনি যদি এটি করতে পারেন তাহলে অনেক সহজেই আপনার ঘুম স্বাভাবিকের তুলনায় গভীর ঘুম হতে সাহায্য করবে। এছাড়াও অনেকেই ঘুমানোর আগে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে, আপনারা যদি ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করা বন্ধ করে দেন তাহলে আপনাদের ঘুমে অনেক উন্নতি দেখতে পারবেন। কেননা মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের নীল আলো মেলাটোনিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয় যা একটি ভালো ঘুমের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
রাতে একটি ভাল এবং গভীর ঘুমে ঘুমানোর জন্য আপনার খাবারের নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। আমাদের সাধারণত রাতে অনেক ভারী এবং মসলাদার খাবার থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। কারণ আমরা যদি রাতে বেশি ভারী খাবার খায় তাহলে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এছাড়াও অনেকে রাতে খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়েন, আপনাদের এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করতে হবে কেননা এটি আমাদের ঘুমের পাশাপাশি শরীরের জন্যেও ক্ষতিকর। খাওয়ার পরে শুয়ে পড়লে আমাদের খাবার গুলো ঠিকভাবে হজম হয় না এবং এর কারণে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়।
ভালো ঘুমের জন্য আপনারা চাইলে রাতে খাওয়ার আগে বা পরে দৌড়ানো বা হাটার একটি ভালো অভ্যাস করে তুলতে পারেন। ব্যায়াম আমাদের শরীরের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়, আপনার যদি নিয়মিত সকালে বা দিনে কোন সময় ব্যায়াম করেন তাহলে এটি আপনার ঘুমের অনেক উন্নতি করতে পারে। তবে ঘুমানোর আগে তেমন কোনো ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো, আপনারা চাইলে দৌড়ানো বা হাটার মতো হালকা ব্যায়াম গুলো করতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা
আপনি যদি সাধারন অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আপনার ঘুমের অনেক উন্নতি হতে পারে। এটি টিপসগুলো মেনে চলার মাধ্যমে আপনার অনেক সহজেই গভীর ঘুমে ঘুমাতে পারবেন।
১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়
আপনারা অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না যা আমাদের শরীরও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য অনেকেই ঘুমানোর আগে বই পড়া, মোবাইল বন্ধ রাখা ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতি চেষ্টা করেন তো ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না। দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করার জন্য আপনার জানা প্রয়োজন ঘুমানোর সঠিক কৌশল। ঘুমানোর জন্য একটি পরিবেশ ঠিক করা, সঠিক নিয়মে ঘুমানো, মানসিক চাপ কম রাখা ইত্যাদি পরিবর্তন আনার মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করতে পারবেন।
ভালো ঘুমের জন্য ভিটামিনের উপকারিতা
ভালো ঘুম আমাদের সুস্থতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, আর এই ঘুম নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রনের ঘাটতি থাকলে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন ঠিকমতো তৈরি হয় না, যার ফলে অনিদ্রা, অস্থিরতা, ক্লান্তি এবং রাতভর ঘন ঘন জেগে ওঠার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শুধু স্ট্রেস বা মোবাইল ব্যবহারের দোষ না দিয়ে ভিটামিন ঘাটতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
লেখকের শেষ কথা
ভালো ঘুম শুধু আমাদেরকে আর আমি নেয় না বরং এটি আমাদের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটাই আমাদের কাজের জন্য শক্তি যোগায়, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমায়, সুস্বাস্থ্য অর্জন করতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করে। আপনারা নিয়মিত সঠিক সময় ঘুমানোর মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য অর্জন করতে পারেন তবে ভালো ঘুমের জন্য আমাদের অবশ্যই সকল ভিটামিনের সফলতা দূর করতে হবে। আশা করি আপনারা জানতে পেরেছেন কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়। আমাদের শরীরে এ সকল ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ঠিকভাবে ঘুম হয় না, রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়, অস্থিরতা থাকে এমনকি ঘুম থেকে ওঠার পরে ক্লান্তি হয়।
আর তারা নিয়মিত সুষম খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে এবং ব্যায়াম করার মাধ্যমে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি সহজেই ঘুমের উন্নতি করতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি ফেসবুকে কত ফলোয়ার হলে টাকা পাওয়া যায় পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে ভিটামিনের ঘাটতি ঘুমের উপর যেভাবে প্রভাব ফেলে, কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়, রাতে ঘুম আসার সহজ টিপস, ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়, ভালো ঘুমের জন্য ভিটামিনের উপকারিতা, ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url