অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি


IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইনে কাজ করে আয় করা অনেক সহজ এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অনলাইনে কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই জানতে হবে অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং কোন কাজ শিখলে সহজে ইনকাম করা যাবে।
অনলাইনে-কোন-কাজের-চাহিদা-সবচেয়ে-বেশি
আপনাদের ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কোন ধারণা থাকলেও আপনারা এই আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, ফ্রিল্যান্সিং করে আয়ের উপায় এবং কোন কাজ শিখলে ভালো ইনকাম করা যাবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচীপত্রঃ অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি

অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে প্রতিমাসে লক্ষ টাকা আয় করছেন। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন উন্নত হচ্ছে। আপনি যদি অনলাইন থেকে আয় করতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করাটা আপনার জন্য সেরা হতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন সেক্টর রয়েছে এবং বিভিন্ন স্কিল শেখার মাধ্যমে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। তবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে অবশ্যই জানতে হবে কোন স্কিল শেখার মাধ্যমে আপনারা সহজে ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইনে কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন যে কাজগুলো আছে তাদের মধ্যে সেরা দশটি কাজের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো যার মাধ্যমে অনেক সহজে জানতে পারবেন অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

অনলাইনে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সম্পন্ন কাজের তালিকায় ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট প্রথম রয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা অত্যন্ত জরুরী। তাই ওয়েব ডিজাইনার এবং ডেভেলপারদের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনার যদি কোডিং এবং ডেভেলপমেন্ট জাতীয় কাজ ভালো লাগে তাহলে ওয়েব ডিজাইন আপনার জন্য সেরা কাজ হতে পারে।

যাদের ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা নাই তারাও অনেক সহজেই ওয়েব ডিজাইন শেখার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবে। ওয়েব ডিজাইন হলো ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে সেটা তৈরি করা যেমন কালার কেমন হবে, লেআউট কেমন হবে এবং ওয়েবসাইটকে দেখতে আকর্ষণীয় করা ইত্যাদি সকল কাজ ওয়েব ডিজাইনারের। ওয়েব ডিজাইনের জন্য Adobe Photoshop, Adobe XD, Figma এবং Sketch এর মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একজন ভালো ওয়েব ডিজাইনার মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইনের জন্য ৫০০-৫০০০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা হয়ে থাকে।

ওয়েব ডিজাইনিং করার জন্য কোডিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয় এবং সঠিক স্কিল না থাকলে এটি করা সম্ভব না। ওয়েব ডিজাইনিং করার জন্য আপনাকে জানতে হয় ওয়েবসাইট কিভাবে কাজ করবে, ডেটাবেস কিভাবে ম্যানেজ হবে, এডমিন প্যানেল কিভাবে কাজ করবে ইত্যাদি। এর পাশাপাশি Front-end Development এবং Back-end Development ও আপনাদেরকে জানতে হয়। আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপিং শিখে একজন Full Stack Web Developer হতে পারেন তাহলে মাসে ১-৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
অনলাইনে-কোন-কাজের-চাহিদা-সবচেয়ে-বেশি-জেনে-নিন

ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সম্পন্ন কাজের মধ্যে একটি। প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য এবং সেবা অনলাইনে মার্কেটিং করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটারদের সাহায্য নিয়ে থাকে, আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার মাধ্যমে অনেক সহজে তাদের সার্ভিস দিতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং হলো অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার মার্কেটিং করা। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। একজন ডিজিটাল মার্কেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রয় বৃদ্ধি করে থাকেন। ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক সেক্টর রয়েছে। Facebook Marketing, Instagram Marketing, YouTube Marketing, Google Ads, LinkedIn Marketing, Email Marketing এবং Influencer Marketing এগুলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন অংশ।
প্রতিটি সেক্টরে আলাদাভাবে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি Facebook Marketing এ এক্সপার্ট হন তাহলে শুধুমাত্র Facebook Marketing করেই মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা  পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। একইভাবে অন্যান্য সেক্টরেও ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এ নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা অনেক সুবিধাজনক হতে পারে। প্রথমত, এই কাজের চাহিদা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা তুলনামূলক সহজ এবং কম সময়ে শেখা যায়। তৃতীয়ত, এই কাজে ইনভেস্টমেন্ট কম লাগে শুধু একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট থাকলেই চলবে। চতুর্থত, আপনি ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন বা এজেন্সি খুলতে পারবেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন

গ্রাফিক্স ডিজাইন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের একটি জনপ্রিয় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ডিং এর জন্য গ্রাফিক্স এবং ভিডিওর প্রয়োজন হয়। এই কাজটি শেখা অনেক সহজ হওয়ার কারণে আপনি অনেক সহজেই গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন.

গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা। লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন, বিজনেস কার্ড ডিজাইন, টি-শার্ট ডিজাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন এই সবই গ্রাফিক্স ডিজাইনের অন্তর্ভুক্ত। গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য Adobe Photoshop, Adobe Illustrator, CorelDRAW এবং Canva ব্যবহার করা হয়। একটি লোগো ডিজাইনের জন্য ৫০-৫০০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা যেতে পারে। আপনারা গ্রাফিক্স ডিজাইন করার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

গ্রাফিক ডিজাইনের আরেকটি কাজের মধ্যে রয়েছে ভিডিও এডিটিং যা বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় একটি কাজ। ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভিডিও আপলোড হচ্ছে। এই সকল ভিডিও এডিট করার জন্য ভিডিও এডিটরদের প্রয়োজন হয়। ভিডিও এডিটিং এর জন্য Adobe Premiere Pro, Final Cut Pro, DaVinci Resolve এবং Filmora ব্যবহার করা হয়। একটি ইউটিউব ভিডিও এডিটের জন্য ১০-১০০ ডলার চার্জ করা হয়। আপনারা ভিডিও এডিট করার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা থেকে ১.২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। বিশেষ করে Motion Graphics এবং Animation এর কাজের চাহিদা অনেক বেশি এবং এতে আয়ও বেশি।

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ শিখে কাজ পাওয়ার সমস্যা তেমন হয় না কেননা গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং এর কাজ পাওয়ার জন্য Fiverr সবচেয়ে ভালো প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার গ্রাফিক্স এবং ভিডিও এডিটিং এর অর্ডার আসে। এছাড়া Upwork, Freelancer, 99designs এবং DesignCrowd এও প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। আপনি চাইলে Facebook Group গুলোতেও কাজ খুঁজতে পারেন। বাংলাদেশে অনেক Facebook Group রয়েছে যেখানে নিয়মিত গ্রাফিক্স এবং ভিডিও এডিটিং এর কাজ পোস্ট করা হয়। তাছাড়া আপনি নিজের পোর্টফলিও তৈরি করে Behance এবং Dribbble এ শেয়ার করতে পারেন।

কন্টেন্ট রাইটিং

কন্টেন্ট রাইটিং বর্তমানে অনলাইনে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং চাহিদা সম্পন্ন কাজের মধ্যে একটি। আপনি যদি ইংরেজি বা বাংলা ভাষায় ভালো লিখতে পারেন তাহলে কন্টেন্ট রাইটিং করে ভালো আয় করতে পারবেন।

কন্টেন্ট রাইটিং হলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিজনেসের জন্য লেখালেখি করা। আর্টিকেল রাইটিং, ব্লগ পোস্ট রাইটিং, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন, কপি রাইটিং, রিজিউম রাইটিং এবং টেকনিক্যাল রাইটিং এই সবই কন্টেন্ট রাইটিং এর অন্তর্ভুক্ত। কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য ভালো ইংরেজি বা বাংলা জানা থাকতে হবে এবং গ্রামার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। একজন কন্টেন্ট রাইটার প্রতি ১০০০ শব্দের জন্য ১০-৫০ ডলার চার্জ করেন। আপনারা কন্টেন্ট রাইটিং শেখার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০-৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

এখনের সময় কন্টেন্ট রাইটিং এর চাহিদা অনেক বেশি বিশেষ করে SEO Article Writing এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি কারণ প্রতিটি ওয়েবসাইট গুগলে র‍্যাংক করতে চায়। Blog Post Writing এও অনেক কাজ পাওয়া যায়। Product Description Writing ই-কমার্স সাইটগুলোর জন্য অনেক জরুরী। Copywriting মার্কেটিং এর জন্য প্রয়োজন হয় এবং এতে আয়ও বেশি। Technical Writing সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো প্রয়োজন হয়। Academic Writing স্টুডেন্টদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট এবং থিসিস লেখার কাজ। এছাড়া Social Media Content Writing, Email Writing এবং Script Writing এরও চাহিদা রয়েছে।

আপনি চাইলে কন্টেন্ট রাইটিং শেখা আজকেই শুরু করতে পারেন কেননা কন্টেন্ট রাইটিং শুরু করা খুবই সহজ। প্রথমে আপনাকে ইংরেজি গ্রামার ভালোভাবে শিখতে হবে অথবা আপনারা চাইলে বাংলা ভাষায় আর্টিকেল লেখা শিখতে পারেন। এরপর কিছু স্যাম্পল আর্টিকেল লিখে আপনার পোর্টফলিও তৈরি করতে হবে। Fiverr এ একটি গিগ তৈরি করুন বা Upwork এ প্রোফাইল তৈরি করুন। প্রথম দিকে কম রেটে কাজ করে ভালো রিভিউ সংগ্রহ করুন। পরবর্তীতে আপনি রেট বাড়াতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশি কন্টেন্ট রাইটিং এজেন্সিগুলোতে চাকরির জন্যও আবেদন করতে পারেন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন SEO

SEO বর্তমানে অনলাইনে অনেক চাহিদা সম্পন্ন এবং ভালো বেতনের একটি কাজ। প্রতিটি ওয়েবসাইট মালিক চান তার ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম পেজে আসুক। তাই SEO এক্সপার্টদের চাহিদা অনেক বেশি। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, SEO সম্পর্কে বিস্তারিত।

SEO এর পূর্ণরূপ হলো Search Engine Optimization। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে উপরে নিয়ে আসা হয়। যখন কেউ গুগলে কিছু সার্চ করে তখন যে ওয়েবসাইটগুলো প্রথম পেজে থাকে সেগুলোতে বেশি ভিজিটর আসে। SEO করে ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসা হয়। SEO দুই ধরনের হয় একটি On-Page SEO এবং অন্যটি Off-Page SEO। On-Page SEO তে ওয়েবসাইটের ভিতরের কাজ করা হয় এবং Off-Page SEO তে ব্যাকলিংক তৈরি করা হয়। আপনি একজন SEO এক্সপার্ট হওয়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট একটি সেরা অনলাইন কাজ যেখানে বিশেষ কোনো স্কিলের প্রয়োজন হয় না। যেকেউ চাইলেই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টদের প্রধান কাজ হলো ইমেইল ম্যানেজমেন্ট। ক্লায়েন্টের ইমেইল চেক করা, রিপ্লাই দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল ফরওয়ার্ড করা এই কাজগুলো করতে হয়। অনেক ব্যবসায়ী এবং এন্ট্রাপ্রেনিউর প্রতিদিন শত শত ইমেইল পান এবং সব ইমেইল ম্যানেজ করার সময় পান না। তাই তারা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেন। এই কাজ করে ঘন্টায় ১৫-৩০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়। অথবা আপনার আপনার ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলে একটি মাসিক বেতন ও ঠিক করে নিতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

এই কাজটির সাথে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজের অনেকটাই মিল রয়েছে এবং আপনি যে কোন একটি শেখার মাধ্যমে দুইটি কাজ করতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারদের প্রধান কাজ হলো কন্টেন্ট তৈরি করা এবং সময়সূচি করা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, লিংকডইন এ নিয়মিত পোস্ট করতে হয়। গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং কপিরাইটিং স্কিল থাকলে ভালো কন্টেন্ট তৈরি করা যায়। আপনি একটি একাউন্ট ম্যানেজ করার মাধ্যমে মাসিক ২০-৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
অনলাইনে-কাজ-শুরু-করার-প্রথম-ধাপ

অনলাইনে কাজ শুরু করার প্রথম ধাপ

অনেকেই অনলাইনে কাজ শুরু করতে চান কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন তা বুঝতে পারেন না। অনলাইন কাজ শুরু করার জন্য সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরী। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, অনলাইনে কাজ শুরু করার ধাপগুলো।
প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন স্কিল শিখবেন। আপনার ইন্টারেস্ট এবং সময়ের উপর ভিত্তি করে স্কিল সিলেক্ট করুন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং যেটা ভালো লাগে সেটা শিখুন। একবারে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা না করে একটি স্কিলে ফোকাস করুন। ৩-৬ মাস একটানা শিখলে দক্ষ হওয়া যায়।

ইউটিউবে ফ্রি টিউটোরিয়াল দেখে শেখা যায় তবে কোর্স করলে দ্রুত শেখা যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব কাজ শিখিয়ে থাকে আপনারা তাদের কোর্স নেওয়ার মাধ্যমে অনেক সহজেই এ সকল স্কিলে দক্ষ হতে পারবেন। একটি ভালো কোর্সে এনরোল করে নিয়মিত প্র্যাকটিস করুন। কোর্স শেষে একটি সার্টিফিকেট পাবেন যা পোর্টফলিওতে যুক্ত করতে পারবেন।

অনলাইনে কাজ পেতে হলে একটি ভালো পোর্টফলিও অবশ্যই প্রয়োজন। আপনি যে স্কিল শিখেছেন তার স্যাম্পল কাজ পোর্টফলিওতে যুক্ত করুন। Behance, Dribbble, GitHub এ পোর্টফলিও তৈরি করতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইটও তৈরি করতে পারেন যেখানে আপনার সব কাজ শোকেস করবেন। ভালো পোর্টফলিও থাকলে ক্লায়েন্ট আকৃষ্ট হয় এবং কাজ পাওয়া সহজ হয়।

Upwork, Fiverr, Freelancer, Guru এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে রেজিস্ট্রেশন করুন। প্রোফাইল সুন্দরভাবে সাজান এবং আপনার স্কিল গুলো ভালোভাবে তুলে ধরুন। প্রথমে কম দামে কাজ করে রেভিউ সংগ্রহ করুন। ৫-১০টি ভালো রেভিউ পেলে তারপর দাম বাড়াতে পারবেন। ধৈর্য ধরে নিয়মিত বিড করতে থাকুন তাহলে কাজ পাবেন।

লেখকের শেষ কথা

আশা করি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনলাইনে কাজ শুরু করার আগে একটি স্কিল ভালোভাবে শিখে নিন। ৩-৬ মাস একটানা শিখলে এবং প্র্যাকটিস করলে যে কোনো স্কিলে দক্ষ হওয়া যায়। তারপর একটি ভালো পোর্টফলিও তৈরি করুন এবং মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করুন। এভাবে আপনি আপনার অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করা যাত্রাটি শুরু করতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে আপনাদের যদি অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি পোস্টটি লেখা আমাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন SEO, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, অনলাইনে কাজ শুরু করার প্রথম ধাপ ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url