IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে
আপনারা অনেকেই ইউরোপের দেশগুলোতে ভ্রমণে, ব্যবসা বা পড়াশোনা উদ্দেশ্যে যেতে চান
তবে IELTS না করার কারণে যেতে পারেন না? এজন্য অনেকে জানতে চান
IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়।
ইউরোপ হলো বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত মহাদেশগুলোর মধ্যে একটি। তবে
অনেকেই মনে করেন ইউরোপে যেতে হলে অবশ্যই IELTS করতে হয়,
কিন্তু IELTS ছাড়াও আপনি ইউরোপের অনেকগুলো দেশে যেতে
পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেই IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে
যাওয়া যায়।
পোস্ট সূচীপত্রঃ IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
- IELTS কী এবং কেন প্রয়োজন
- IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
- IELTS ছাড়া কোন ইউরোপীয় দেশগুলোতে পড়াশোনা করা যায়
- IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন দেশে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া সহজ
- IELTS ছাড়া ইউরোপের যে দেশগুলো কাজ করা সেরা
- IELTS ছাড়া ইউরোপে ভিসা পাওয়ার সহজ উপায় কী কী
- স্কলারশিপ পেয়ে ইউরোপে যাওয়ার উপায়
- ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব ভুল হয়ে থাকে
- লেখকের শেষ কথা
IELTS কী এবং কেন প্রয়োজন
আপনার হয়তো অনেকেই IELTS সম্পর্কে জানেন, IELTS এর পূর্ণরূপ হলো
International English Language Testing System। এটি এক ধরনের পরীক্ষা যা আপনার
ইংরেজিতে কথা বলা, শোনা, পড়া এবং ইংরেজিতে লেখার দক্ষতা যাচাই করে। এই পরীক্ষাটি
বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিছু দেশে যাওয়ার জন্য
IELTS পাস করা জরুরী। তবে অনেকগুলো দেশ রয়েছে যেগুলোতে আপনি IELTS পাস
না করে যেতে পারবেন না।
বিদেশে পড়াশোনা বা কাজ করার জন্য IELTS প্রয়োজন হয় মূলত আপনার ইংরেজি
ভাষায় ঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারার জন্য। ইংরেজিকে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে
নির্বাচিত করা হয় এজন্য বেশিরভাগ দেশেই তাদের মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা
জানা গুরুত্বপূর্ণ। এই জন্য ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং
নিয়োগকর্তারা নিশ্চিত হতে চান যে আপনি ইংরেজিতে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে এবং কাজ
করতে পারবেন। এছাড়া IELTS একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষা হওয়ায়
এটি বিশ্বের ১৪০ টিরও বেশি দেশে রয়েছে।
IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
অনেকেই মনে করে IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায় না তবে আপনি জানলে
অবাক হবেন ইউরোপের অনেক দেশে IELTS ছাড়াই পড়াশোনা এবং কাজের জন্য যাওয়া
যায়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া
যায়।
IELTS ছাড়া যে দেশগুলোতে যাওয়া যায়ঃ
- জার্মানি
- ফ্রান্স
- ইতালি
- স্পেন
- নরওয়ে
- সুইডেন
- ডেনমার্ক
- নেদারল্যান্ডস
- বেলজিয়াম
- গ্রীস
- পর্তুগাল
- পোল্যান্ড
- চেক রিপাবলিক
- হাঙ্গেরি
- রোমানিয়া
- বুলগেরিয়া
- সার্বিয়া
- ক্রোয়েশিয়া
- স্লোভাকিয়া
- স্লোভেনিয়া
- লিথুয়ানিয়া
- লাটভিয়া
- এস্তোনিয়া
- সাইপ্রাস
- মাল্টা
- অস্ট্রিয়া
উপরে দেওয়া দেশগুলোতে আপনি IELTS ছাড়াই যেতে পারবেন। তবে এই দেশগুলোর
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম আছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়
IELTS এর পরিবর্তে MOI সার্টিফিকেট নিয়ে থাকে এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়
তাদের নিজস্ব ভাষা পরীক্ষা নিয়ে থাকে। আপনার যে দেশে যেতে চান সেই দেশের
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
IELTS ছাড়া কোন ইউরোপীয় দেশগুলোতে পড়াশোনা করা যায়
আপনারা IELTS ছাড়াই ইউরোপের অনেকগুলো দেশগুলোতে পড়াশোনা
করতে পারবেন।
সেই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, নরওয়ে, ফ্রান্স ইত্যাদি। ইউরোপে
পড়াশোনা করার জন্য এই দেশগুলো অনেক জনপ্রিয় এবং এই দেশগুলোতে
পড়াশোনার মান অনেক ভালো। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই দেশগুলো সম্পর্কে
বিস্তারিত তথ্য।
জার্মানি ইউরোপের একটি উন্নত দেশ যেখানে অনেক মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়
রয়েছে। জার্মানির বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি একদম ফ্রি বা
খুবই কম। জার্মানিতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে IELTS ছাড়াই
ভর্তি হওয়া যায়। আপনি যদি জার্মান ভাষায় পড়াশোনা করতে চান তাহলে আপনাকে
জার্মান ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। আর যদি ইংরেজিতে পড়াশোনা করতে চান
তাহলে MOI সার্টিফিকেট দিয়ে ভর্তি হতে পারবেন।
নরওয়ে হলো ইউরোপের একটি সুন্দর এবং উন্নত দেশ। এখানে পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি ফ্রি। নরওয়ের
অনেক বিশ্ববিদ্যালয় IELTS এর পরিবর্তে MOI সার্টিফিকেট গ্রহণ করে।
এছাড়া নরওয়েতে অনেক প্রোগ্রাম ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয় যেখানে
IELTS ছাড়াই ভর্তি হওয়া যায়। তবে নরওয়ের জীবনযাত্রার খরচ কিছুটা
বেশি তাই যাওয়ার আগে ভালোভাবে প্ল্যানিং করতে হবে।
ফ্রান্স ইউরোপের একটি জনপ্রিয় শিক্ষার্থী গন্তব্য। ফ্রান্সে অনেক মানসম্মত
বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ফ্রান্সের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রেঞ্চ ভাষায়
পড়াশোনা হয়। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে প্রোগ্রাম রয়েছে
যেখানে IELTS ছাড়াই ভর্তি হওয়া যায়। আপনি যদি ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখে নেন
তাহলে ফ্রান্সে পড়াশোনা এবং চাকরির ক্ষেত্রে আরো বেশি সুযোগ পাবেন।
IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন দেশে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া সহজ
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ করার উদ্দেশ্যে
যেতে চান। ইউরোপে কাজের বেতন ভালো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ায় সবার
স্বপ্ন থাকে সেখানে যাওয়ার। তবে অনেকেই মনে করেন ইউরোপে ওয়ার্ক পারমিট পেতে
হলে অবশ্যই IELTS করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ইউরোপের কিছু দেশে
IELTS ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া সম্ভব।
ইউরোপের অনেক দেশ রয়েছে যেখানে IELTS ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া
যায়। এই দেশগুলোতে গার্মেন্টস, কনস্ট্রাকশন, হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট সহ
বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক,
IELTS ছাড়া ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় এমন দেশগুলোর তালিকা।
যে দেশগুলোতে IELTS ছাড়া ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়ঃ
- রোমানিয়া
- বুলগেরিয়া
- পোল্যান্ড
- সার্বিয়া
- হাঙ্গেরি
- লিথুয়ানিয়া
- লাটভিয়া
- চেক রিপাবলিক
- স্লোভাকিয়া
- ক্রোয়েশিয়া
IELTS ছাড়া ইউরোপের যে দেশগুলো কাজ করা সেরা
উপরের তালিকায় দেওয়া দেশগুলোতে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো যার মাধ্যমে আপনারা সহজে জানতে পারবেন কোন দেশটি আপনার জন্য সেরা হবে এবং এই সকল দেশের ওয়ার্ক পারমিট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
রোমানিয়া ইউরোপের একটি উন্নত দেশ যেখানে বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রবাসী কাজ
করছেন। রোমানিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ এবং এখানে
IELTS এর প্রয়োজন হয় না। রোমানিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে সাধারণত
৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এখানে গার্মেন্টস সেক্টরে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
রোমানিয়ায় একজন গার্মেন্টস ওয়ার্কারের মাসিক বেতন হয় প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০
ইউরো। এছাড়া ওভারটাইম করলে আরো বেশি আয় করা সম্ভব। রোমানিয়ায় কাজ করার
সুবিধা হলো এখানে থাকা খাওয়ার খরচ তুলনামূলক কম এবং কাজের পরিবেশ ভালো।
বুলগেরিয়া ইউরোপের এমন একটি দেশ যেখানে বাংলাদেশ থেকে সহজেই ওয়ার্ক পারমিট
ভিসা পাওয়া যায়। বুলগেরিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে অনেক কর্মী নিয়োগ করছে
বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে। বুলগেরিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে খরচ হয়
প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা। এটি ইউরোপের তুলনামূলক কম খরচে যাওয়া যায় এমন
একটি দেশ। বুলগেরিয়ায় গার্মেন্টস ওয়ার্কারের মাসিক বেতন হয় প্রায় ৫০০ থেকে
৭০০ ইউরো। বুলগেরিয়ায় IELTS ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় এবং ভিসা
প্রসেস তুলনামূলক দ্রুত হয়। বুলগেরিয়ায় কাজের পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ করার
সুযোগও রয়েছে।
পোল্যান্ড ইউরোপের একটি বড় দেশ যেখানে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। পোল্যান্ডে
বিভিন্ন সেক্টরে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বেতনও ভালো। পোল্যান্ডে ওয়ার্ক
পারমিট ভিসা পেতে খরচ হয় প্রায় ৭ থেকে ৯ লক্ষ টাকা। পোল্যান্ডে একজন
ওয়ার্কারের মাসিক বেতন হয় প্রায় ৮০০ থেকে ১২০০ ইউরো। এখানে কনস্ট্রাকশন,
গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি এবং লজিস্টিক সেক্টরে কাজের চাহিদা বেশি। পোল্যান্ডে
IELTS ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়। পোল্যান্ডের সুবিধা হলো এখানে
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় জীবনযাত্রার খরচ কম এবং কাজের পরিবেশ ভালো।
সার্বিয়া ইউরোপের এমন একটি দেশ যেখানে বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট
পাওয়া তুলনামূলক সহজ। সার্বিয়ায় বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে এবং
বেতনও মন্দ নয়। সার্বিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে ৮
লক্ষ টাকা। সার্বিয়ায় একজন ওয়ার্কারের মাসিক বেতন হয় প্রায় ৫০০ থেকে ৮০০
ইউরো। এখানে গার্মেন্টস, কনস্ট্রাকশন এবং এগ্রিকালচার সেক্টরে কাজের চাহিদা
বেশি। সার্বিয়ায় IELTS ছাড়াই ভিসা পাওয়া যায় এবং থাকা-খাওয়ার খরচ
কম। সার্বিয়া থেকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভ্রমণ করাও সহজ।
হাঙ্গেরি ইউরোপের একটি সুন্দর দেশ যেখানে কাজের ভালো সুযোগ রয়েছে। হাঙ্গেরিতে
ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় তবে বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে
গেছে। হাঙ্গেরিতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে খরচ হয় প্রায় ৮ থেকে ১২ লক্ষ
টাকা। হাঙ্গেরিতে একজন ওয়ার্কারের মাসিক বেতন হয় প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ ইউরো।
এখানে গার্মেন্টস এবং ফ্যাক্টরিতে কাজের চাহিদা আছে। হাঙ্গেরিতে
IELTS ছাড়া ভিসা পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে হাঙ্গেরি স্টুডেন্ট ভিসা
কমিয়ে দিয়েছে কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট এখনো দেওয়া হচ্ছে।
লিথুয়ানিয়া ইউরোপের একটি ছোট কিন্তু উন্নত দেশ। এখানে কাজের সুযোগ ভালো এবং
বেতনও মন্দ নয়। লিথুয়ানিয়ায় IELTS ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়।
লিথুয়ানিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে খরচ হয় প্রায় ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকা।
লিথুয়ানিয়ায় একজন ওয়ার্কারের মাসিক বেতন হয় প্রায় ৮০০ থেকে ১২০০ ইউরো।
এখানে কনস্ট্রাকশন, লজিস্টিক এবং ফ্যাক্টরিতে কাজের চাহিদা বেশি। লিথুয়ানিয়ার
জীবনযাত্রার মান ভালো এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত। লিথুয়ানিয়া থেকে
ইউরোপের অন্যান্য দেশে যাওয়া সহজ কারণ এটি শেনজেন ভুক্ত দেশ।
লাটভিয়া ইউরোপের একটি দেশ যেখানে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
লাটভিয়ায় কাজের ভালো সুযোগ রয়েছে এবং IELTS এর প্রয়োজন হয় না।
লাটভিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে ৯ লক্ষ টাকা।
লাটভিয়ায় একজন ওয়ার্কারের মাসিক বেতন হয় প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ ইউরো। এখানে
গার্মেন্টস, কনস্ট্রাকশন এবং লজিস্টিক সেক্টরে কাজের চাহিদা আছে। লাটভিয়া একটি
শেনজেন ভুক্ত দেশ তাই এখান থেকে ইউরোপের ২৬টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়।
লাটভিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট বা স্টুডেন্ট ভিসা যে কোনো ভিসা সঠিক নিয়মে আবেদন
করলে সহজে পাওয়া যায়।
IELTS ছাড়া ইউরোপে ভিসা পাওয়ার সহজ উপায় কী কী
অনেকেই ইউরোপে উচ্চ শিক্ষার জন্য বা কাজের জন্য যেতে চান। ইউরোপের উন্নত
দেশগুলোতে রয়েছে মানসম্মত শিক্ষা, ভালো কর্মসংস্থান এবং উন্নত জীবনযাত্রা।
কিন্তু অনেকেই মনে করেন ইউরোপে যেতে হলে অবশ্যই IELTS করতে হবে এবং ভালো
স্কোর পেতে হবে। তবে IELTS ছাড়াও ইউরোপে ভিসা পাওয়ার বেশ কিছু সহজ
উপায় রয়েছে সেগুলোর মধ্যেই হল MOI সার্টিফিকেট দিয়ে ভিসা নেওয়া, স্টুডেন্ট
ভিসা IELTS ছাড়া নেওয়া, টুরিস্ট ভিসা নেওয়া ইত্যাদি। এ বিষয়ে
সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো যাক যার মাধ্যমে আপনারা সহজে বুঝতে
পারবেন IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়।
MOI হলো Medium of Instruction যা IELTS এর একটি দুর্দান্ত বিকল্প এবং
শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সেরা চয়েস। এটি এমন একটি সার্টিফিকেট যা প্রমাণ করে যে
আপনার পূর্ববর্তী শিক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। MOI সার্টিফিকেট তোলা
খুবই সহজ এবং খরচও কম। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন
সেখানে গিয়ে রেজিস্ট্রার অফিসে আবেদন করতে হবে। সাধারণত ৩-৭ দিনের মধ্যে MOI
সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন এবং খরচ হবে ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে। MOI সার্টিফিকেট
দিয়ে আপনি জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডস সহ অনেক
ইউরোপীয় দেশে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যারা ইউরোপে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যেতে চান তাদের জন্য, ইউরোপের অনেক
বিশ্ববিদ্যালয় IELTS এর পরিবর্তে অন্যান্য পদ্ধতিতে ইংরেজি দক্ষতা যাচাই
করে থাকে। তাই IELTS ছাড়াই স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সম্ভব। প্রথমত আপনাকে
এমন বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে বের করতে হবে যেখানে IELTS বাধ্যতামূলক নয়।
পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরি এবং রোমানিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় MOI
সার্টিফিকেট গ্রহণ করে। এছাড়া কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংরেজি পরীক্ষার
মাধ্যমে ভর্তি করে থাকে যা অনেক সহজ। দ্বিতীয়ত আপনার একাডেমিক রেজাল্ট ভালো
থাকতে হবে। তৃতীয়ত প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। চতুর্থত
ভিসা ইন্টারভিউতে সঠিকভাবে
উত্তর দিতে হবে।
উত্তর দিতে হবে।
আপনি যদি ইউরোপের দেশগুলোতে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যেতে চান তাহলে টুরিস্ট ভিসা
আপনার জন্য সেরা হতে পারে। কেননা টুরিস্ট ভিসার জন্য সাধারণত IELTS এর
প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি ইউরোপ ভ্রমণ করতে চান তাহলে টুরিস্ট ভিসা একটি ভালো
অপশন। টুরিস্ট ভিসা পেতে হলে প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন দেশে যেতে
চান। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন এবং গ্রীস এই দেশগুলোতে টুরিস্ট ভিসা তুলনামূলক
সহজ। এরপর আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত টাকা আছে।
সাধারণত ৩-৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে থাকতে হবে। তৃতীয়ত হোটেল বুকিং এবং ফ্লাইট
টিকেটের কপি জমা দিতে হবে। চতুর্থত ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কিনতে হবে। টুরিস্ট
ভিসা সাধারণত ১৫-৯০ দিনের জন্য দেওয়া হয়।
স্কলারশিপ পেয়ে ইউরোপে যাওয়ার উপায়
স্কলারশিপ পেলে আপনার পড়াশোনার খরচ অনেকাংশে কমে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে
IELTS এর প্রয়োজন হয় না। জার্মানির DAAD স্কলারশিপ বাংলাদেশি
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় মাধ্যম ইউরোপে যাওয়ার। এই স্কলারশিপে টিউশন
ফি ফ্রি এবং মাসিক স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। নরওয়েতে পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি ফ্রি এবং অনেক স্কলারশিপ পাওয়া যায়। ফ্রান্সের
এফিল স্কলারশিপ এবং ইতালির সরকারি স্কলারশিপও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত।
স্কলারশিপ পেতে হলে আপনার একাডেমিক রেজাল্ট ভালো থাকতে হবে এবং সময়মতো আবেদন
করতে হবে।
ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
ভিসা পাওয়ার জন্য সঠিক ডকুমেন্টস জমা দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। ডকুমেন্টস না
থাকলে বা ভুল থাকলে ভিসা রিজেক্ট হতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কি
কি ডকুমেন্টস লাগবে।
বৈধ পাসপোর্ট যার মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে। সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট
এবং মার্কশিট। ব্যাংক স্টেটমেন্ট যেখানে পর্যাপ্ত টাকা দেখাতে হবে। পুলিশ
ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। মেডিকেল সার্টিফিকেট। ভিসা আবেদন ফর্ম সঠিকভাবে
পূরণ করা। পাসপোর্ট সাইজ ছবি। এডমিশন লেটার বা জব অফার লেটার। ভিসা ফি
পেমেন্ট রিসিপ্ট।
ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব ভুল হয়ে থাকে
অনেক সময় ছোট ছোট ভুলের কারণে ভিসা রিজেক্ট হয়ে যায়। তাই ভিসা আবেদনের সময়
সাবধান থাকতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, সাধারণ ভুল গুলো।
ডকুমেন্টস যাচাই না করে জমা দেওয়া একটি বড় ভুল। সব ডকুমেন্টস ভালোভাবে চেক
করে তারপর জমা দিতে হবে। ভিসা ফর্ম ভুলভাবে পূরণ করা আরেকটি কমন ভুল। ফর্ম
পূরণের সময় সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। পর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালেন্স না
দেখানো। ভিসা ইন্টারভিউতে নার্ভাস হয়ে ভুল উত্তর দেওয়া। ভুল তথ্য দিয়ে
আবেদন করা যা পরবর্তীতে ধরা পড়ে। দেরিতে আবেদন করা। তাই সময়মতো এবং সঠিক
তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে।
লেখকের শেষ কথা
ইউরোপে যেতে অবশ্যই IELTS লাগবে এটি একটি ভুল ধারণা।
IELTS ছাড়াও আপনার বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমেও ইউরোপে ভিসা পাওয়া
সম্ভব। বিশেষ করে পোল্যান্ড, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং পর্তুগালে
IELTS ছাড়া ভিসা পাওয়া অনেক সহজ। তাই IELTS এ ভালো স্কোর করতে না
পারলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সঠিক প্রস্তুতি এবং সঠিক তথ্য জানা থাকলে
IELTS ছাড়াই ইউরোপে যাওয়া সম্ভব। প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে
IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায় পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ
পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন
তারাও জানতে পারে IELTS কী এবং কেন প্রয়োজন, IELTS ছাড়া ইউরোপের
কোন কোন দেশে যাওয়া যায়, IELTS ছাড়া কোন ইউরোপীয় দেশগুলোতে পড়াশোনা
করা যায়, IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন দেশে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া সহজ,
IELTS ছাড়া ইউরোপের যে দেশগুলো কাজ করা সেরা, IELTS ছাড়া ইউরোপে
ভিসা পাওয়ার সহজ উপায় কী কী, স্কলারশিপ পেয়ে ইউরোপে যাওয়ার উপায়, ভিসা
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব ভুল
হয়ে থাকে ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url