মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় | মানসিক চাপের লক্ষণ


ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা | ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম

বর্তমানে মানসিক চাপ আমাদের জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের আর্টিকেলে পাবেন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায়, লক্ষণ, কারণ এবং সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
মানসিক-চাপ-নিয়ন্ত্রণের-১০টি-উপায়
আমাদের দেশের অনেকর মধ্যেই মানসিক চাপের লক্ষণ দেখা যায়, যা আমাদের জন্য অনেক ক্ষতিকর। কেনোনা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য জটিল রোগের তৈরি করতে পারে। তাই আমাদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় জানা জরুরি।

পোস্ট সূচীপত্রঃ মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় | মানসিক চাপের লক্ষণ

মানসিক চাপ কী এবং কেন হয়

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন চিন্তা এবং সমস্যার কারণে সাধারণত আমাদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ হয়ে থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের শরীর এর জন্য অনেক ক্ষতিকর, এই চিন্তার জন্য আমরা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি এবং এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন প্রভাব ফেলে। আমাদের মানসিক চাপ হবার প্রধান কারন গুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনেক সময় অফিসের খারাপ পরিবেশ এর কারণে , সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা নিয়ে, আর্থিক সমস্যার কারণে , ঋণ এবং আর্থিক অস্থিরতা নিয়ে ইত্যাদি গুলো আমাদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ এর কারন হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। এই ছাড়াও পরিবার এবং জীবনে সমস্যা তো রয়েছেই যেগুলোর কারণে মানসিক চাপ তৈরি হয়ে থাকে।

আমরা অনেক সময় কিশোর-কিশোরী দের মধ্যেও মানসিক চাপ এর সমস্যাটি দেখে থাকি। তাদের মানসিক চাপ এর প্রধান কারন গুলোর মধ্যে থাকতে পারে পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং ক্যারিয়ার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা, অসুস্থতা, দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা অসুস্থতা যা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই ছাড়াও সোশিয়াল মিডিয়াতে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং অন্যদের সাথে নিজেকে তুলনা করা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপ প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। ইউস্ট্রেস চাপ যা স্বল্পমেয়াদী হয়ে থাকে। এইটি আমাদের শরীর এর তেমন কোন ক্ষতি করে না বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করতে পারে। যেমন আমাদের কোন পরীক্ষার আগের বা কোন অফিস প্রেজেন্টেশনের আগে যে মানসিক চাপ হয়ে থাকে এইটি আমাদের কাজে আরও বেশী মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং সেই কাজ টি সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। এইটি ইউস্ট্রেস চাপ যা স্বল্পমেয়াদ এর জন্য থাকে এবং এইটিকে আমরা ভালো মানসিক চাপ বলতে পারি।

অন্যদিকে ডিস্ট্রেস মানসিক চাপ আমাদের অনেক ক্ষতি করতে পারে, এইটি স্বল্পমেয়াদী হয় না বরং অনেক সময় এই মানসিক চাপ টি সারা জীবন এর জন্য থেকে যায় এবং বেশির ভাগ সময় এই চাপ টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই মানসিক চাপটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর এবং চিকিৎসা না নিলে আমাদের শরীরের অনেক ক্ষতি করতে পারে।

মানসিক চাপের প্রধান লক্ষণ

মানসিক চাপের লক্ষণগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে যেমন শারীরিক লক্ষণ, মানসিক লক্ষণ এবং আচরণগত লক্ষণ। আপনি যদি এই লক্ষণগুলো আগে চিনতে পারেন তাহলে সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এই জন্য আপনাদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় জানা প্রয়োজন। প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে, তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যা বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে দেখা যায়।
  • আপনি যদি মানসিক চাপে থাকলে তাহলে আপনার ঘন ঘন মাথাব্যথা, মাইগ্রেন বা মাথার পেছনে চাপ অনুভব হতে পারে। এছাড়াও আপনার পেশীতে টান এবং ব্যথা, বিশেষত ঘাড়, কাঁধ এবং পিঠে ব্যথা দেখা দেয় এবং অনেকের ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পেতে পারে। এর পাশাপাশি হজমে সমস্যা, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং কাঁপুনি অনুভব হয়। ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব করা, এমনকি পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঘন ঘন সর্দি-কাশি এবং অসুস্থ হওয়া। মানসিক চাপের শারীরিক লক্ষণ গুলোর মধ্যে এই সকল লক্ষণ রয়েছে। আপনি যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়া কমিয়ে দেন তাহলে এই সকল সমস্যা গুলো অনেক সহজেই দূর করতে পারবেন।
  • আপনার যদি মানসিক লক্ষণ থাকে তাহলে আপনার ঘন ঘন মন খারাপ হওয়া, বিষণ্ণতা এবং হতাশা অনুভব করা মানসিক চাপের প্রধান লক্ষণ হতে পারে। অকারণ উদ্বেগ, ভয় এবং অস্থিরতা বোধ করা। যে কোনো ছোট বিষয়েও অতিরিক্ত বিরক্তি এবং রাগ হওয়া। কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারা, ভুলে যাওয়া এবং সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা। নিজেকে অযোগ্য মনে করা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এবং নেতিবাচক চিন্তা বৃদ্ধি পাওয়া। একাকীত্ব অনুভব করা এবং কারো সাথে মিশতে না চাওয়া। ভবিষ্যত নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা এবং দুশ্চিন্তা করা। এই সকল কারন গুলো মানসিক লক্ষণ হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।
  • আচরণগত লক্ষণ এর ক্ষেত্রে আপনার ঘুমের সমস্যা হতে পারে এবং রাতে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম হওয়া ইত্যাদি অতিরিক্ত মানসিক চাপ এর লক্ষণ। এছাড়াও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন হয়, খাবারে অরুচি তৈরি হয় অথবা অতিরিক্ত খাওয়া শুরু হয়। সামাজিক কার্যক্রম এড়িয়ে চলা, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। কাজে অমনোযোগী হওয়া, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলা। হঠাৎ রেগে যাওয়া, কারো সাথে ঝগড়া করা এবং আগ্রাসী আচরণ করা ইত্যাদি হতে পারে আপনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ এর লক্ষণ।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় | মানসিক চাপের লক্ষণ

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকরী উপায়

আপনি যদি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন তাহলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় জানার মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই নিজের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনেক সময় আপনাদের মন এবং শরীর এর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই জন্য নিচে দেওয়া এই নিয়ম গুলো জানার মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর নিয়ম গুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে নিয়মিত ব্যায়াম করা। এটি আসলেই আমাদের শরীর এবং মন এর জন্য অনেক কার্যকারী, আপনি প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করার মাধ্যমে অনেক সহজেই মানসিক চাপ কমাতে পারবেন এবং এর পাশি পাশি নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে। ব্যায়াম করার ফলে আমাদের শরীর এন্ডোরফিন, সেরোটোনিন এবং ডোপামিন হরমোন এর পরিমান কমিয়ে দেয় যেগুলো আমাদের মেজাজ ভালো রেখে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ভালো অভ্যাস আপনার দ্রুত শুরু করা উচিত আপনি প্রথমে সকালে হাঁটাহাঁটি, জগিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করার মাধ্যমে ব্যায়াম করার শুরু করতে পারেন।
  • মানসিক চাপ কম করার আরও একটি অসাধারণ উপায় হলো পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং বিশ্রাম নেওয়া। আমাদের সবার প্রতিরাতে কমপক্ষে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো আমাদের শরীরের পাশাপাশি আমাদের মন এর জন্যও অনেক প্রয়োজন। অনেক সময় ঘুম এর অভাবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বেড়ে যায়। নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করলে আপনার মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকটাই সাহায্য করবে। এছাড়াও ঘুমানোর আগে মোবাইল, ল্যাপটপ এবং টিভি দেখা বন্ধ করা প্রয়োজন, ঘুমানোর আগে এইগুলো দেখা একটি খারাপ অভ্যাস এবং এর ফলে আমাদের ঘুম অনেক টাও নষ্ট হতে পারে। আর আপনি ভালো ঘুম এর জন্য ঘর অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক রাখতে পারেন। ভালো ঘুম আমাদের মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং নতুন করে চিন্তা করার শক্তি যোগায়।
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য অনেক ভালো, তবে আপনারা কি জানেন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া আমাদের মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে। তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে শুধু পুষ্টিকর খাবারই আমাদের মানসিক চাপ কমায় এবং ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং চিনি যুক্ত খাবার যদি আমারা বেশী খাই তাহলে আমাদের মানসিক চাপ বেড়েও যেতে পারে। এই জন্য ফল, শাক-সবজি, মাছ, বাদাম জাতিয় পুষ্টিকর খাবার খান যার ফলে আপনাদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এর পাশাপাশি আপনাদের শরীর ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া, খাওয়ার সময় তারাহুরা না করা এবং ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেসিয়াম জাতিয় খাবার খেলে আপনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
  • মানসিক চাপ কমানোর জন্য ব্যায়াম এর পাশাপাশি আপনারা চাইলে মেডিটেশন করতে পারেন। প্রতিদিন ১০-২০ মিনিট মেডিটেশন বা ধ্যান করলে মানসিক শান্তি পেতে পারেন। মেডিটেশন করলে আমাদের মন শান্ত থাকে যার ফলে আমাদের মানসিক চাপ অনেকটাই কমতে পারে। মেডিটেশন মস্তিষ্কের স্ট্রেস সৃষ্টিকারী হরমোন কর্টিসল কমিয়ে দেয়। নিয়মিত মেডিটেশন করলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, মনোযোগ ভালো হয় এবং খারাপ চিন্তা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। শান্ত পরিবেশে বসে চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আপনি সহজেই মেডিটেশন করতে পারবেন।
  • আপনি যদি একাকি থাকার জন্য মানসিক চাপ এর শিকার হয়ে থাকেন তাহলে সামাজিক সংযোগ তৈরি করার মাধ্যমে আপনি মানসিক চাপ অনেকটাই কমাতে পারবেন। আপনি এইটি অনেক সহজেই শুরু করতে পারবেন যেমন পরিবার বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে মনের কথা শেয়ার, একা একা সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা না করে অন্যদের সাহায্য নেওয়া, পরিবারের সাথে খাওয়া, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এবং সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ইত্যাদি। সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করার মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই মানসিক চাপ কমাতে পারবেন।
  • মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন এর পাশাপাশি আপনি চাইলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন যা কিছু টা হলেও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নাক দিয়ে ৫ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন, কিছুক্ষণ ধরে রাখুন এবং মুখ দিয়ে ৫ সেকেন্ড ধরে ছাড়ুন। এই প্রক্রিয়া ১০ বার করতে থাকলে অনেক সহজেই আপনার মানসিক চাপ কমে যাবে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং কর্টিসল হরমোন কমায়। যে কোনো সময় এবং যে কোনো জায়গায় এই ব্যায়াম করা যায়। অফিসে, ট্রাফিকে বা ঘরে বসে যখনই চাপ অনুভব করবেন তখনই এই কৌশল ব্যবহার করতে পারবেন।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের রাখার সেরা উপায় হলো নিজের মন ভালো রাখা। এই জন্য নিজের পছন্দের কাজ করেন যেন আপনার মন ভালো থাকে এবং মানসিক চাপ কমে যায়। গান শোনা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বাগান করা, রান্না করা বা যে কোনো শখের কাজে সময় দিন। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ ঘন্টা নিজের জন্য সময় রাখুন।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার এর কারণেও মানসিক চাপ হয়ে থাকে এর মধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, মোবাইল এবং ইন্টারনেট এর অতিরিক্ত ব্যবহার। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানসিক চাপ বাড়ায় এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। আপনি প্রতিদিন কিছু সময় এর জন্য প্রযুক্তি বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নেবার মাধ্যমে অনেক সহজেই মানসিক চাপ কমাতে পারবেন। আপনি চাইলে ঘুমানোর আগে এই কাজ টি করতে পারেন কেনোনা এইটি সেরা সময়। এছাড়াও আপনি যদি সারা দিন প্রযুক্তি নিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আপনার অবশই বাইরে প্রকৃতিতে সময় কাটানো জরুরী।
  • আপনি যদি অন্য দের সাথে নিজের তুলনা করেন এবং নেতিবাচক চিন্তা করতে থাকেন তাহলে এইটি আপনার মানসিক চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। এই জন্য আমাদের সবার ভালো চিন্তা করা প্রয়োজন। এইটি আপনি অনেক সহজেই পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রথমে আপনাকে খারাপ কিছু বা নেতিবাচক কিছু চিন্তা ভাবনা করা বন্ধ করতে হবে এর জন্য আপনি নেতিবাচক কথা বলা মানুষ থেকে দূরে থাকা থেকে শুরু করতে পারেন। ইতিবাচক মানুষদের সাথে সময় কাটান, নিজের ভালো দিকগুলো ফোকাস করুন এবং সমস্যার সমাধান খুঁজুন। এই মাধ্যমে আপনারা অনেক সহজেই নিজের মানসিক চাপ কমাতে পারবেন এবং এইটি আপনার আদর্শ জীবন গর্তেও অনেকটা সাহায্য  করতে।
  • আপনি যদি সব সময় বিভিন্ন চিন্তা নিয়ে থাকেন এবং সেইগুলোর সমাধান নিয়ে বেস্ত থাকেন তাহলে আপনি বড় সমস্যাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা এবং একবারে একটি সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবার মাধ্যমে অনেক সহজেই আপনার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন এবং এইটি আপনার মানসিক চাপ কমাতেও অনেক সাহায্য করবে। অতিরিক্ত চিন্তা আমাদের মানসিক চাপ বাড়ায় এইটা কমানোর জন্য আমাকে সিখতে হবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করা, অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করা এবং নিয়মিত রুটিন মেনে চলার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল জীবন তৈরি করা।

নিয়মিত ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব

শারীরিক ব্যায়াম শুধুমাত্র শরীরের জন্য নয়, মনের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম করা আমাদের শরীর এর জন্য অনেক উপকারী এবং আমাদের মন কে ভালো রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয় যা মেজাজ ভালো করে এবং মানসিক চাপ কমায়।

ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হয় যা প্রাকৃতিক ব্যথা নিরাময়কারী এবং মেজাজ উন্নতকারী। নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কের নতুন নিউরন তৈরি করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। ব্যায়াম করলে রাতে ভালো ঘুম হয় কারণ শরীর ক্লান্ত হয় এবং মানসিক চাপ কমে। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় কারণ নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের আকার ভালো হয় এবং সুস্থতা বোধ হয়।

আমাদের শরীরের জন্য হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে। বিশেষ করে আমাদের জন্য সকালে হাঁটা আরো বেশি উপকারী। জগিং বা দৌড়ানো আরো একটি ভালো ব্যায়াম যা স্বাস্থ্য উন্নত করে। সাঁতার পুরো শরীরের জন্য চমৎকার ব্যায়াম এবং মন শান্ত রাখে। সাইকেল চালানো, ডান্স, এ্যারোবিক্স এবং ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও ভালো অপশন। যে কোনো খেলাধুলা যেমন ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলতে পারেন। আপনারা এই সকল ব্যায়াম করার মাধ্যমে অনেক সহজেই মানসিক চাপ কমাতে পারবেন।

মেডিটেশন কিভাবে কাজ করে

মেডিটেশন করে মানসিক চাপ কমানোর প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে। এই হাজার হাজার পুরনো মাধ্যম এখনও সঠিক ভাবে কাজ করে এবং অনেক সহজেই মেডিটেশন করে মানসিক চাপ কমাতে পারবেন। মেডিটেশন করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্ট্রেস তৈরি করা সব কোষ গুলো তৈরি বন্ধ করে দেয় এবং নিয়মিত মেডিটেশন করার মাধ্যমে আপনি স্ট্রোক এর সম্ভাবনা কমাতেও পারবেন।

মেডিটেশন করাও অনেক সহজ একটি শান্ত জায়গা খুঁজুন যেখানে কেউ বিরক্ত করবে না। মেঝেতে বা চেয়ারে আরামদায়ক ভাবে বসুন এবং পিঠ সোজা রাখুন। চোখ বন্ধ করুন এবং নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন। যখন মন অন্য কিছু ভাববে তখন আবার শ্বাস-প্রশ্বাসে ফিরিয়ে আনুন। প্রথমে ৫ মিনিট দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। ইউটিউবে গাইডেড মেডিটেশন ভিডিও দেখে শিখতে পারেন।

পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা

ঘুম আমাদের শরীর এবং মনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক বিশ্রাম নেয় এবং পুনর্গঠিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ঘুমের অভাবে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় যা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। মস্তিষ্কের এমাইগডালা অংশ অতিরিক্ত সক্রিয় হয় যা ভয় এবং উদ্বেগ তৈরি করে। ঘুমের অভাবে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব থাকলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এজন্য আপনার জানা প্রয়োজন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায়।

আপনারা ভালো ঘুম এর জন্য যা করতে পারেন সেইগুলো হলো প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করুন। ঘুমানোর ১-২ ঘন্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি বন্ধ রাখুন কারণ নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়। শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত এবং ঠান্ডা রাখুন। ভারী খাবার এবং ক্যাফেইন সন্ধ্যার পরে এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর আগে হালকা বই পড়া বা শান্ত সংগীত শোনা ভালো।
মানসিক-চাপ-কমানোর-সেরা-উপাই

স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

আমরা যা খাই তা আমাদের মনের অবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। কিছু খাবার মানসিক চাপ বাড়ায় আবার কিছু খাবার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। সঠিক পুষ্টি মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মেজাজ স্থিতিশীল রাখে।
স্বাস্থ্যকর শরীর এবং ভালো মন এর জন্য আমাদের যেই খাবার গুলো খাওয়া উচিত সেইগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন সামুদ্রিক মাছ এবং বীজ বা সিম জাতিয় খাবার। সবুজ শাক-সবজিতে ম্যাগনেসিয়াম এবং ফোলেট আছে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। সেইগুলো আমাদের বেশী বেশী খাওয়া উচিত। কমলা, লেবু এবং অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল কর্টিসল হরমোন কমায় এবং এর পাশাপাশি বাদাম, কুমড়ার বীজে ইত্যাদি খাওয়াও আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

 আমাদের যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত তার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় খাবার, চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড এবং ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার ইত্যাদি।

সামাজিক সংযোগ এবং পরিবারের সাথে সময়

আমরা কখনো একা থাকা উচিত না। আমাদের অন্যদের সাথে কথা বলা ও সময় কাটানোর প্রয়োজন আছে। ভালো সামাজিক সম্পর্ক আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন থাকলে আমরা মানসিক ও শারীরিকভাবে ভালো থাকি, কিন্তু একা থাকলে মানসিক চাপ বাড়ে।

আমাদের পরিবারের সাথে নিয়মিত সময় কাটানো খুব জরুরি। একসাথে খাবার খাওয়া, দিনের কথা শেয়ার করা এবং একে অপরের খোঁজ নেওয়া আমাদের সম্পর্ককে শক্ত করে। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখলে মন হালকা হয়। আমরা যখন কারও সাথে আমাদের সমস্যা শেয়ার করি বা অন্যকে সাহায্য করি, তখন আমাদের নিজের মনও ভালো থাকে এবং মানসিক চাপ কমে।

যে লক্ষণ দেখলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

যখন আমাদের মানসিক চাপ এত বেশি হয়ে যায় যে স্বাভাবিক জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে কাজে যেতে ইচ্ছা করে না, পড়াশোনায় মন বসে না তখন এটা হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। যদি আমাদের মনে নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা আসে, বা দীর্ঘদিন ধরে মন খুব খারাপ থাকে, দুশ্চিন্তা বা ভয় কাজ করে, তাহলে অবশ্যই কারও সাহায্য নেওয়া দরকার। ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, খেতে না পারা, শরীর অসুস্থ লাগার দিকে ঝুঁকে পড়াও সতর্ক সংকেত।

এই সময় আমাদের ডাক্তার এর সাহায্য নেওয়া উচিত। সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সবখানেই অভিজ্ঞ ডাক্তার আছেন। বেসরকারি কাউন্সেলিং সেন্টার, মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও অনলাইন কাউন্সেলিং থেকেও সাহায্য নেওয়া যায়। পরিবার বা বন্ধুরা যদি আমাদের নিয়ে চিন্তিত হয়, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

লেখকের শেষ কথা

আশা করি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত। মানসিক চাপ আধুনিক জীবনের একটি বাস্তবতা তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সামাজিক সংযোগ মানসিক চাপ কমাতে অনেক সাহায্য করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। ধৈর্য এবং নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন। ছোট ছোট পরিবর্তন থেকে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে একটি চাপ কমানোর কৌশল অনুসরণ করুন। এইভাবে আপনারা অনেক সহজেই মানসিক চাপ কমাতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায় | মানসিক চাপের লক্ষণ পোস্টটি লেখা আমাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে মানসিক চাপ কী এবং কেন হয়, মানসিক চাপের প্রধান লক্ষণ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকরী উপায়, নিয়মিত ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব, মেডিটেশন কিভাবে কাজ করে, পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, সামাজিক সংযোগ এবং পরিবারের সাথে সময়, যে লক্ষণ দেখলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url