চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়
IELTS ছাড়া ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায় অনেকে জানেন না, তবে একটি ভালো চাকরি পেতে
হলে আপনার জানতে হবে একটি আকর্ষণীয় সিভি তৈরি করার নিয়ম।
সিভি হলো আপনার পেশাগত পরিচয়পত্র, নিয়োগকর্তা প্রথমেই আপনার সিভি দেখে
সিদ্ধান্ত নেন আপনাকে ইন্টারভিউতে ডাকবেন কিনা। তাই একটি ভালো সিভি তৈরি করতে
পারলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
পোস্ট সূচীপত্রঃ চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়
- চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়
- সিভি কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
- সিভিতে কি কি তথ্য থাকা উচিত
- সিভিতে তথ্য সঠিকভাবে লেখার নিয়ম
- সিভিতে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লেখার নিয়ম
- সিভিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখার নিয়ম
- সিভিতে কাজের অভিজ্ঞতা লেখার সঠিক উপায়
- সিভিতে দক্ষতা এবং যোগ্যতা তুলে ধরার পদ্ধতি
- সিভিতে রেফারেন্স দেওয়ার নিয়ম
- সিভি ফরম্যাট এবং ডিজাইন করার নিয়ম
- সিভিতে কভার লেটার কি এবং কেন প্রয়োজন
- অনলাইনে সিভি তৈরির সহজ উপায়
- সিভি পাঠানোর আগে যা করবেন
- লেখকের শেষ কথা
চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়
চাকরির জন্য সিভি লেখার সঠিক নিয়ম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো সিভি
আপনার ব্যক্তিত্ব এবং যোগ্যতা সঠিকভাবে তুলে ধরে। নিয়োগকর্তারা প্রথমে সিভি
দেখেই প্রার্থী নির্বাচন করেন, তাই সিভি পরিষ্কার, সুন্দর এবং তথ্যবহুল রাখা অনেক
জরুরী।
চাকরির জন্য সিভি লেখার সময় আপনাদের মনে রাখতে হবে যে নিয়োগকর্তারা প্রতিদিন শত
শত সিভি দেখেন। তাই আপনার সিভি যদি প্রথম ১০ সেকেন্ডে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে
না পারে তাহলে সেটি বাদ দেওয়া হবে। একটি ভালো সিভিতে সাধারণত ব্যক্তিগত তথ্য,
ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং রেফারেন্স
থাকে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায় সম্পর্কে
বিস্তারিত।
সিভি কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সিভি এর পূর্ণরূপ হলো Curriculum Vitae যার অর্থ জীবনবৃত্তান্ত। সিভি হলো এমন
একটি ডকুমেন্ট যেখানে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং
অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য লেখা থাকে। চাকরিদাতারা সিভি দেখে প্রার্থী সম্পর্কে
ধারণা পান এবং ইন্টারভিউর জন্য ডাকেন।
আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার উপায় ২০২৬
সিভি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটিই আপনার প্রথম পরিচয়। নিয়োগকর্তারা সিভি দেখেই
সিদ্ধান্ত নেন আপনি চাকরির জন্য উপযুক্ত কিনা। একটি ভালো সিভি আপনার সম্ভাবনা
বাড়িয়ে দেয় এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে। সিভি এবং রিজিউমে মধ্যে সামান্য
পার্থক্য আছে। সিভি সাধারণত বিস্তারিত হয় এবং ২-৩ পৃষ্ঠার হতে পারে। রিজিউমে
সংক্ষিপ্ত এবং সাধারণত ১ পৃষ্ঠার মধ্যে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত সিভি শব্দটি
বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সিভিতে কি কি তথ্য থাকা উচিত
একটি সম্পূর্ণ সিভিতে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য থাকা আবশ্যক। আপনারা যদি এই তথ্যগুলো
সঠিকভাবে সাজাতে পারেন তাহলে সিভি দেখতে ভালো হবে এবং নিয়োগকর্তাদের দৃষ্টি
আকর্ষণ করবে। চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায় কিভাবে লিখতে হয় এইটা
জানার মাধ্যমে অনেক সহজেই আপনি একটি ভালো সিভি তৈরি করতে পারবেন।
প্রথমত সিভিতে অবশ্যই ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে হবে যেমন নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর
এবং ইমেইল। এর পরে থাকবে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ যেখানে আপনি কেন এই চাকরি চান তা
সংক্ষেপে লিখবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিভাগে আপনার সকল একাডেমিক ডিগ্রি এবং
সার্টিফিকেটের তথ্য থাকবে। কাজের অভিজ্ঞতা অংশে পূর্ববর্তী চাকরির বিবরণ দিতে
হবে। দক্ষতা এবং যোগ্যতা অংশে আপনার বিশেষ দক্ষতা যেমন কম্পিউটার, ভাষা ইত্যাদি
উল্লেখ করবেন। প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেশন যদি থাকে তাও যোগ করতে হবে। সম্মাননা
এবং পুরস্কার যদি পেয়ে থাকেন তাও উল্লেখ করা ভালো। শখ এবং আগ্রহ অংশটি ঐচ্ছিক
তবে এটি আপনার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে। সবশেষে রেফারেন্স দিতে হবে যারা আপনার
সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন।
সিভিতে তথ্য সঠিকভাবে লেখার নিয়ম
সিভিতে একেবারে শুরুতে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয়। এই অংশটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ
কারণ এখান থেকেই নিয়োগকর্তারা আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন। ব্যক্তিগত তথ্য লেখার
সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সিভির একদম উপরে মাঝখানে আপনার পূর্ণ নাম বড় এবং বোল্ড অক্ষরে লিখুন। নামের
নিচে আপনার বর্তমান ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। ফোন নম্বর দেওয়ার সময়
খেয়াল রাখবেন যেন নম্বরটি সবসময় চালু থাকে এবং আপনি কল রিসিভ করতে পারেন।
ইমেইল অ্যাড্রেস অবশ্যই ভালো নাম দিয়ে হতে হবে। আপনার নাম দিয়ে ইমেইল তৈরি করা
সবচেয়ে ভালো যেমন name@gmail.com। জন্ম তারিখ লেখা যেতে পারে তবে বয়স লেখা
বাধ্যতামূলক নয়। জাতীয়তা এবং ধর্মের তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক। বৈবাহিক অবস্থা
উল্লেখ করতে পারেন। লিঙ্গ উল্লেখ করা যেতে পারে তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। ছবি
দেওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সাইজের ভালো ছবি ব্যবহার করুন। ছবিতে অবশ্যই ফর্মাল
পোশাক পরে থাকতে হবে।
সিভিতে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লেখার নিয়ম
ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ হলো সিভির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেখানে আপনি সংক্ষেপে
আপনার ক্যারিয়ার লক্ষ্য এবং চাকরি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই অংশটি পড়ে
নিয়োগকর্তারা বুঝতে পারেন আপনি কেন এই চাকরি চান এবং আপনি কোম্পানিতে কি অবদান
রাখতে পারবেন। আপনাদের চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায় যানা প্রয়োজন
কেনোনা ভালো চাকরির জন্য প্রয়োজন একটি ভালো সিভি।
ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লেখার সময় মনে রাখবেন এটি ৩-৪ লাইনের মধ্যে হতে হবে। খুব
বেশি লম্বা করবেন না এবং সরাসরি বিষয়ে আসুন। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং
দক্ষতা সংক্ষেপে উল্লেখ করুন। যে পদের জন্য আবেদন করছেন সেই পদ সম্পর্কে স্পষ্ট
করে লিখুন। আপনি কোম্পানিতে কিভাবে অবদান রাখতে পারবেন তা তুলে ধরুন। প্রতিটি
চাকরির জন্য আলাদা ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লিখুন কারণ বিভিন্ন কোম্পানির চাহিদা
ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ আপনি লিখতে পারেন, একজন উদ্যমী এবং পরিশ্রমী
গ্রাজুয়েট হিসেবে আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং অফিসার পদে আমার দক্ষতা
এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কোম্পানির উন্নতিতে অবদান রাখতে চাই।
সিভিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখার নিয়ম
শিক্ষাগত যোগ্যতা সিভির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই অংশে আপনার সকল
একাডেমিক সার্টিফিকেট এবং ডিগ্রির তথ্য থাকবে। সঠিক নিয়মে শিক্ষাগত যোগ্যতা
উপস্থাপন করলে সিভি অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার সময় সর্বশেষ ডিগ্রি থেকে শুরু করে পিছনের দিকে যাবেন।
অর্থাৎ যদি আপনার মাস্টার্স ডিগ্রি থাকে তাহলে সেটি প্রথমে লিখবেন তারপর স্নাতক
এবং সবশেষে এইচএসসি এবং এসএসসি। প্রতিটি ডিগ্রির ক্ষেত্রে পরীক্ষার নাম, বিষয়,
প্রতিষ্ঠানের নাম, পাসের সাল, বিভাগ এবং ফলাফল স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। যদি আপনার
সিজিপিএ বা জিপিএ ভালো হয় তাহলে অবশ্যই উল্লেখ করবেন। যদি কোনো বিশেষ অর্জন
থাকে যেমন বৃত্তি পেয়েছেন বা প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাহলে সেটিও যোগ
করুন। অতিরিক্ত কোর্স বা ডিপ্লোমা যদি করে থাকেন তাও এই অংশে উল্লেখ করতে
পারেন। তবে এসএসসি এবং এইচএসসির স্কুল এবং কলেজের নাম উল্লেখ করা ঐচ্ছিক।
অভিজ্ঞ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য দিলেই চলে।
সিভিতে কাজের অভিজ্ঞতা লেখার সঠিক উপায়
কাজের অভিজ্ঞতা সিভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষত যারা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ
তাদের জন্য। নিয়োগকর্তারা এই অংশ থেকেই বুঝতে পারেন আপনি আগে কোথায় কাজ
করেছেন এবং কি ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই বিষয় টি চাকরির জন্য সিভি লেখার
নিয়ম বাংলায় লেখার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
কাজের অভিজ্ঞতা লেখার সময়ও সর্বশেষ চাকরি থেকে শুরু করবেন। প্রতিটি চাকরির
জন্য কোম্পানির নাম, পদবী, কাজের সময়কাল এবং প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করতে হবে।
আপনি যে কাজগুলো করেছেন সেগুলো পয়েন্ট আকারে লিখুন যাতে পড়তে সুবিধা হয়।
শুধু দায়িত্ব নয় বরং আপনার অর্জন এবং সাফল্যও তুলে ধরুন। যদি কোনো প্রজেক্ট
সফলভাবে সম্পন্ন করে থাকেন বা কোম্পানির লাভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন তাহলে সেটি
উল্লেখ করুন। সংখ্যা এবং তথ্য দিয়ে আপনার কাজের ফলাফল দেখান যেমন, বিক্রয় ২০
শতাংশ বৃদ্ধি করেছি বা ৫০টি ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করেছি। যদি আপনি ফ্রেশার হন এবং
কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে ইন্টার্নশিপ, পার্ট টাইম কাজ বা
স্বেচ্ছাসেবী কাজের তথ্য দিতে পারেন। এছাড়াও প্রজেক্ট এবং অ্যাসাইনমেন্টের
অভিজ্ঞতাও উল্লেখ করা যেতে পারে।
সিভিতে দক্ষতা এবং যোগ্যতা তুলে ধরার পদ্ধতি
দক্ষতা এবং যোগ্যতা অংশে আপনার বিশেষ স্কিল এবং আপনি যে কাজ গুলায় ভালো সেইগুলা
তুলে ধরবেন। এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিয়োগকর্তারা এখান থেকে বুঝতে
পারেন আপনি চাকরির জন্য কতটা উপযুক্ত।
দক্ষতা লেখার সময় প্রথমে টেকনিক্যাল স্কিল উল্লেখ করুন যেমন কম্পিউটার দক্ষতা।
Microsoft Office, Excel, PowerPoint এ দক্ষতা থাকলে লিখুন। গ্রাফিক্স ডিজাইন,
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং এর মতো স্কিল থাকলে অবশ্যই যোগ করুন।
ভাষাগত দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা এবং ইংরেজিতে আপনার দক্ষতা উল্লেখ করুন
এবং বলুন কতটা ভালো জানেন যেমন পড়া, লেখা, বলা। অন্য কোনো ভাষা জানলে সেটিও
যোগ করুন। সফট স্কিল যেমন টিম ওয়ার্ক, লিডারশিপ, কমিউনিকেশন স্কিল, সমস্যা
সমাধান ক্ষমতা এগুলো উল্লেখ করুন। অর্গানাইজেশনাল স্কিল, টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং
মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, কন্টেন্ট
রাইটিং এর মতো আধুনিক স্কিল থাকলে তাও যোগ করুন। তবে মনে রাখবেন যে স্কিল আপনার
নেই সেটি কখনো লিখবেন না কারণ ইন্টারভিউতে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে।
সিভিতে রেফারেন্স দেওয়ার নিয়ম
রেফারেন্স হলো এমন ব্যক্তি যারা আপনার এবং আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে
তথ্য দিতে পারবেন। সিভিতে সাধারণত ২ জন রেফারেন্স দেওয়া হয় তবে কিছু ক্ষেত্রে
৩ জনও দেওয়া যেতে পারে।
রেফারেন্স হিসেবে এমন ব্যক্তি নির্বাচন করুন যারা আপনাকে ভালোভাবে চেনেন এবং
আপনার কাজ সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করতে পারবেন। শিক্ষক, পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তা
বা সিনিয়র কলিগ রেফারেন্স হিসেবে উত্তম। রেফারেন্সের নাম, পদবী, প্রতিষ্ঠানের
নাম, ফোন নম্বর এবং ইমেইল স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। রেফারেন্স দেওয়ার আগে অবশ্যই
তাদের অনুমতি নিয়ে নিন। কখনো পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়দের রেফারেন্স হিসেবে
দেবেন না। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের রেফারেন্স দেওয়া
থেকে বিরত থাকুন। যদি জায়গা কম থাকে তাহলে References available upon request
লিখে রাখতে পারেন এবং পরে চাইলে রেফারেন্সের তথ্য দিতে পারবেন। রেফারেন্স অংশটি
সিভির একদম শেষে দিতে হয়।
সিভি ফরম্যাট এবং ডিজাইন করার নিয়ম
সিভির ফরম্যাট এবং ডিজাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুন্দর এবং পরিষ্কার সিভি
নিয়োগকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পড়তে সুবিধা হয়।
আরো পড়ুনঃ অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি
সিভির ফন্ট সিম্পল এবং পড়ার উপযোগী হতে হবে। Arial, Times New Roman, Calibri
এই ফন্টগুলো ব্যবহার করা ভালো। ফন্ট সাইজ ১০ থেকে ১২ এর মধ্যে রাখুন। হেডিং
একটু বড় করতে পারেন যেমন ১৪-১৬। মার্জিন সব দিকে ১ ইঞ্চি রাখুন যাতে পেজ
ভারসাম্যপূর্ণ দেখায়। লাইন স্পেসিং ১.১৫ বা ১.৫ রাখলে পড়তে সুবিধা হয়।
সিভিতে রঙের ব্যবহার কম করুন। সাদা কালো সিভি সবচেয়ে ভালো দেখায়। তবে হেডিং এ
হালকা নীল বা ধূসর রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে। পেজ লেআউট সুন্দর এবং সুসংগঠিত
হতে হবে। প্রতিটি সেকশন আলাদা করে দেখানোর জন্য হরাইজন্টাল লাইন বা বক্স
ব্যবহার করতে পারেন। সিভিতে খুব বেশি গ্রাফিক্স বা ছবি ব্যবহার করবেন না কারণ
এটি ভালো দেখায় না। সিভি PDF ফরম্যাটে সেভ করুন যাতে ফরম্যাটিং নষ্ট না হয় এবং
ফাইলের নাম সুন্দরভাবে দিন যেমন Your_Name_CV.pdf।
সিভিতে কভার লেটার কি এবং কেন প্রয়োজন
কভার লেটার হলো একটি চিঠি যা সিভির সাথে পাঠানো হয়। এতে আপনি কেন এই চাকরি চান
এবং কেন আপনি এই পদের জন্য উপযুক্ত তা ব্যাখ্যা করেন। অনেক কোম্পানি কভার লেটার
বাধ্যতামূলক করে থাকে।
কভার লেটার গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আপনার ব্যক্তিত্ব এবং আগ্রহ প্রকাশ করে।
সিভিতে শুধু তথ্য থাকে কিন্তু কভার লেটারে আপনি নিজের ভাষায় লিখতে পারেন। কভার
লেটার সাধারণত ১ পৃষ্ঠার হয় এবং ৩-৪ প্যারাগ্রাফে লেখা হয়। প্রথম
প্যারাগ্রাফে আপনি কোন পদের জন্য আবেদন করছেন এবং কোথায় বিজ্ঞাপন দেখেছেন তা
উল্লেখ করবেন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্যারাগ্রাফে আপনার যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা
তুলে ধরবেন এবং কেন আপনি এই চাকরির জন্য উপযুক্ত তা ব্যাখ্যা করবেন। শেষ
প্যারাগ্রাফে ধন্যবাদ জানাবেন এবং ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানাবেন।
কভার লেটার অবশ্যই ফর্মাল এবং ভালো পরিষ্কার ভাষায় লিখতে হবে।
অনলাইনে সিভি তৈরির সহজ উপায়
বর্তমানে অনলাইনে অনেক টুল এবং ওয়েবসাইট আছে যেগুলো ব্যবহার করে আপনারা খুব
সহজে পেশাদার সিভি তৈরি করতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করলে সুন্দর
ডিজাইনের সিভি পাবেন এবং সময়ও বাঁচবে।
জনপ্রিয় কিছু সিভি তৈরির ওয়েবসাইট হলো Canva, Resume.io, Zety, NovoResume
এবং VisualCV। এই সাইটগুলোতে অনেক রেডিমেড টেমপ্লেট আছে যেগুলো ব্যবহার করে
আপনারা মিনিটেই সিভি তৈরি করতে পারবেন। Canva বিশেষভাবে জনপ্রিয় কারণ এটি
বাংলা ফন্ট সাপোর্ট করে এবং ব্যবহার করা সহজ। Microsoft Word এ সিভি টেমপ্লেট
পাওয়া যায় যেগুলো ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। Google Docs এও সিভি
টেমপ্লেট আছে যা ফ্রি এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য। LinkedIn থেকেও সিভি ডাউনলোড করা
যায় যদি আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণ থাকে। তবে মনে রাখবেন টেমপ্লেট ব্যবহার করলেও
আপনার তথ্য সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক হতে হবে।
সিভি পাঠানোর আগে যা করবেন
সিভি পাঠানোর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চেক করে নিতে হবে। এটি নিশ্চিত
করবে যে আপনার সিভি নিখুঁত এবং ভালো ভাবে লিখেছেন।
তার পরে প্রথমত সিভি কমপক্ষে তিনবার পড়ে দেখুন এবং সকল বানান ভুল এবং
ব্যাকরণ ভুল শুদ্ধ করুন। সকল তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করুন বিশেষত ফোন নম্বর
এবং ইমেইল। সিভি পড়ে দেখুন যে এটি পরিষ্কার এবং সুসংগঠিত কিনা। অন্য কাউকে
দিয়ে সিভি দেখিয়ে নিন এবং তাদের মতামত নিন। সিভি PDF ফরম্যাটে কনভার্ট করুন
যাতে সব ডিভাইসে একই রকম দেখায়। ফাইলের সাইজ ২ MB এর নিচে রাখুন যাতে ইমেইলে
পাঠাতে সমস্যা না হয়। ফাইলের নাম আপনার নামে রাখুন যেমন Rakib_Ahmed_CV.pdf।
যদি চাকরির বিজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কিছু চাওয়া হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো সিভিতে
আছে কিনা নিশ্চিত করুন। ইমেইল পাঠানোর সময় বিষয় লাইনে পদের নাম এবং আপনার
নাম উল্লেখ করুন। একটি সংক্ষিপ্ত এবং ভালো ইমেইল লিখুন এবং সিভি ও কভার লেটার
সংযুক্ত করুন।
লেখকের শেষ কথা
একটি সঠিক এবং আকর্ষণীয় সিভি আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে
দেয়। আশা করি আজকের আর্টিকেলে থেকে আপনারা সিভি লেখার সম্পূর্ণ নিয়ম
জানতে পেরেছেন। মনে রাখবেন একটি ভালো সিভি তৈরি করতে সময় এবং পরিশ্রম
লাগে, তাড়াহুড়ো করে সিভি তৈরি করবেন না। প্রতিটি চাকরির জন্য সিভি
কাস্টমাইজ করুন এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যোগ করুন। সিভিতে সত্য এবং সঠিক তথ্য
দিন, নিয়মিত আপনার সিভি আপডেট করতে থাকুন নতুন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা যোগ
করার জন্য। আপনারা যদি এই নিয়মগুলো মেনে চলেন তাহলে একটি ভালো সিভি তৈরি
করতে পারবেন যা আপনার চাকরি পেতে সাহায্য করবে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি
সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও
জানতে পারে চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়, সিভি কি এবং কেন
এটি গুরুত্বপূর্ণ, সিভিতে কি কি তথ্য থাকা উচিত, সিভিতে তথ্য সঠিকভাবে
লেখার নিয়ম, সিভিতে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লেখার নিয়ম, সিভিতে শিক্ষাগত
যোগ্যতা লিখার নিয়ম, সিভিতে কাজের অভিজ্ঞতা লেখার সঠিক উপায়, সিভিতে
দক্ষতা এবং যোগ্যতা তুলে ধরার পদ্ধতি, সিভিতে রেফারেন্স দেওয়ার নিয়ম,
সিভি ফরম্যাট এবং ডিজাইন করার নিয়ম, সিভিতে কভার লেটার কি এবং কেন
প্রয়োজন, অনলাইনে সিভি তৈরির সহজ উপায় ইত্যাদি।





টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url