দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায়
মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ | হার্ট অ্যাটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা
দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায় জানা আপনাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী
কেননা ডায়াবেটিস বর্তমান সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
আমাদের দেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং আমরা অনেকেই
জানিনা কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আজকের এই
আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায়
সম্পর্কে বিস্তারিত।
পোস্ট সূচীপত্রঃ দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায়
- দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায়
- ডায়াবেটিস কি এবং কেন হয়
- ব্যায়াম করলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে
- করলা খেলে কি ডায়াবেটিস কমে
- মেথি খেলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে
- দারুচিনি কি ডায়াবেটিস কমায়
- আমলকি খেলে কি ডায়াবেটিস কমে
- নিম পাতা খেলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে
- অতিরিক্ত পানি পান করা কতটা জরুরি
- ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ডায়াবেটিসে যে খাবার এড়িয়ে চলতে হয়
- লেখকের শেষ কথা
দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায়
দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঘরোয়া উপায় অনেক কার্যকর। আপনারা সঠিক
খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। ২০২৬ সালে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অনেক প্রাকৃতিক
উপায় আবিষ্কার হয়েছে যেগুলো জানার মাধ্যমে আপনার অনেক সহজেই ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায় জেনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের
জন্য আপনাদের প্রথমে জানতে হবে কোন কোন খাবার এবং পদ্ধতি ডায়াবেটিস কমাতে
সাহায্য করে। আপনারা যদি প্রাকৃতিক উপাদান এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে চলেন
তাহলে রক্তের সুগার লেভেল ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারবেন।
ডায়াবেটিস কি এবং কেন হয়
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেখানে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের
চেয়ে বেশি থাকে। আমাদের শরীর যখন ইনসুলিন সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে না বা
ব্যবহার করতে পারে না তখন ডায়াবেটিস হয়। ইনসুলিন হলো একটি হরমোন যা রক্তের
সুগার কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস একটি সাধারণ রোগ মনে
হলেও এটি আমাদের শরীরের ভেতরে বিভিন্ন ক্ষতি করে।
ডায়াবেটিস হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বংশগত কারণ, অতিরিক্ত ওজন,
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানসিক চাপ। আমাদের
দেশে ডায়াবেটিসের হার অনেক বেশি যা সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর হয়ে থাকে তবে
বর্তমানে অল্প বয়সীদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে। ডায়াবেটিসের
লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি,
ওজন কমে যাওয়া এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া।
ব্যায়াম করলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে
ব্যায়াম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রাকৃতিক
পদ্ধতি, ব্যায়াম করলে শুধুমাত্র ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকেনা বরং আমাদের
শরীর অসুস্থ থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে অগ্ন্যাশয় সুস্থ থাকে এবং ইনসুলিন
তৈরি বৃদ্ধি পায় এবং আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি
নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় এবং রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে
রাখে।
আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম হলো হাঁটা। প্রতিদিন সকালে
এবং বিকেলে ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটুন। জগিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা
এই ব্যায়ামগুলোও অনেক উপকারী। আপনারা ঘরে বসে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও
করতে পারেন। ব্যায়াম করার সময় খেয়াল রাখবেন যেন শরীরে ঘাম হয় এবং
হৃদস্পন্দন বাড়ে। সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ব্যায়াম করা উচিত। খাওয়ার ১
থেকে ২ ঘণ্টা পর ব্যায়াম করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। নিয়মিত
ব্যায়াম করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।
করলা খেলে কি ডায়াবেটিস কমে
আপনারা হয়তো অনেকেই শুনেছেন নিয়মিত করলার জুস খেলে বিভিন্ন রোগের নিরাময়
করা যায়। এটি আসলে অনেক উপকারী, করলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত
কার্যকর একটি সবজি। আপনারা নিয়মিত করলা খেলে রক্তের গ্লুকোজ লেভেল কমে যায়।
করলাতে থাকা পলিপেপটাইড-পি নামক উপাদান প্রাকৃতিক ইনসুলিনের মতো কাজ করে। এছাড়া
করলায় ক্যারান্টিন এবং ভাইসিন নামক দুটি উপাদান রয়েছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা
কমাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত করলা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করলার রস
খাওয়া। ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ করলার রস খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। আপনারা চাইলে
করলা রান্না করেও খেতে পারেন। তবে ভাজা এড়িয়ে সিদ্ধ বা হালকা তেলে রান্না করা
ভালো। যাদের লো ব্লাড প্রেশার আছে তাদের অতিরিক্ত করলা খাওয়া উচিত নয়। নিয়মিত
করলা খেলে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রক্তের সুগার লেভেল কমে আসতে শুরু
করে। দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায় গুলোর মধ্যে করলা
খেয়ে ডায়াবেটিস কমানো একটি সেরা মাধ্যম।
মেথি খেলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে
প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য মেথি অনেক কার্যকরী একটি উপাদান এবং মেথি
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি চমৎকার ঘরোয়া উপাদান। মেথিতে থাকা ফাইবার এবং
অন্যান্য উপাদান রক্তে শর্করার শোষণ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। আপনারা নিয়মিত নিয়মিত
মেথি খেলে রক্তের গ্লুকোজ লেভেল ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে যা আমাদের
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে অনেকটাই সাহায্য করে।
আপনারা যদি নিয়মিত মেথি খাওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান তাহলে,
মেথি খাওয়ার সঠিক নিয়ম হলো রাতে ১ থেকে ২ চা চামচ মেথি পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খান এবং পানি পান করুন। এভাবে ৩ মাস নিয়মিত খেলে
ভালো ফলাফল পাবেন। আপনারা চাইলে মেথি গুঁড়া করে খেতে পারেন। প্রতিদিন ১ চা চামচ
মেথির গুঁড়া হালকা গরম পানির সাথে খেতে পারেন। আপনার যদি মেথি রান্না করে খেতে
চান তাহলে মেথি রান্নায়ও ব্যবহার করে খেতে পারেন তবে অতিরিক্ত মেথি খেলে আমাদের
সমস্যা হতে পারে এ জন্য পরিমাণ মত মেথি খাওয়া প্রয়োজন।
দারুচিনি কি ডায়াবেটিস কমায়
দারুচিনি কে আমরা সাধারণত রান্নার ক্ষেত্রে মসলা হিসেবে ব্যবহার করে থাকি
তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি অনেক কার্যকর একটি মসলা। দারুচিনিতে থাকা
বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা
কমায়। নিয়মিত দারুচিনি খেলে খালি পেটের সুগার লেভেল এবং খাবারের পরের সুগার
লেভেল দুটোই নিয়ন্ত্রণে থাকে। আপনি যদি নিয়মিত দারুচিনি খান তাহলে
মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলেও আপনার তেমন সমস্যা হবে না তবে অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয়
খাবার তেমন বেশি না খাওয়া ভালো।
দারুচিনি খাওয়ার সহজ উপায় হলো প্রতিদিন সকালে ১ কাপ গরম পানিতে আধা চা চামচ
দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন। আপনারা চা, দুধ বা স্মুদিতে দারুচিনি মিশিয়ে
খেতে পারেন। দারুচিনির লাঠি পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করতে
পারেন। তবে দিনে ১ চা চামচের বেশি দারুচিনি খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত দারুচিনি
লিভারের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ২ থেকে ৩ মাস নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে ভালো ফলাফল পাবেন।
আমলকি খেলে কি ডায়াবেটিস কমে
আপনি যদি ফল খেতে পছন্দ করেন তাহলে আমলকি আপনার জন্য অনেক উপকারী হতে পারে কেননা
আমলকি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অসাধারণ ফল। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা অগ্ন্যাশয়কে সুস্থ রাখে এবং ইনসুলিন
তৈরিতে সাহায্য করে। আমলকি রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি
কোলেস্টেরলও কমায়।
আমলকি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কাঁচা আমলকি খাওয়া। প্রতিদিন সকালে খালি
পেটে ১ থেকে ২টি আমলকি চিবিয়ে খেতে পারেন। আপনারা আমলকির রস করেও খেতে পারেন। ২
থেকে ৩ চামচ আমলকির রস পানিতে মিশিয়ে পান করুন। আমলকি গুঁড়া করে মধুর সাথে
মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। আমলকি আচার বা মোরব্বা হিসেবেও খাওয়া যায়। নিয়মিত
আমলকি খেলে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
নিম পাতা খেলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে
নিম পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান।
নিম পাতায় থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং গ্লাইকোসাইড রক্তের গ্লুকোজ শোষণ কমিয়ে দেয়
এবং ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত নিম পাতা
খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
নিম পাতা খাওয়ার সঠিক নিয়ম হলো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৩ থেকে ৪টি কচি নিম
পাতা চিবিয়ে খান। আপনারা চাইলে নিম পাতা বেটে রস বের করে খেতে পারেন। নিম পাতার
রস তিতা হওয়ায় অনেকের খেতে সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে মধু বা গুড়ের সাথে মিশিয়ে
খেতে পারেন। নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি পান করতে পারেন। তিন মাস নিয়মিত খেলে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভালো ফলাফল পাবেন। তবে গর্ভবতী মহিলা এবং ছোট শিশুদের নিম
পাতা খাওয়া উচিত নয়।
অতিরিক্ত পানি পান করা কতটা জরুরি
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি
আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আমাদের কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত
জরুরি। পানি রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত সুগার কিডনির মাধ্যমে বের করে দিতে সাহায্য
করে এবং পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। সকালে
ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ২ গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। খাবারের আধা ঘণ্টা আগে
এক গ্লাস পানি পান করলে খাবারের পরিমাণ কমে যায়। আপনারা চাইলে পানিতে লেবু বা
শসা মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে চিনিযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয় এবং প্যাকেটজাত জুস
একেবারেই এড়িয়ে চলুন। এগুলো রক্তে সুগার দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। সবুজ চা বা
হার্বাল চা পান করতে পারেন যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আপনারা
নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার মাধ্যমে অনেক সহজে ডায়াবেটিস কমাতে
পারবেন যা দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ঘরোয়া উপায় গুলোর মধ্যে
সবথেকে সহজ একটি উপায়।
ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক
গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাবে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায় যা রক্তে সুগার
বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপও একইভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। আমরা যদি
সঠিকভাবে না ঘুমায় তাহলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে এবং মানসিক চাপের
ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মস্তিষ্কের ক্ষতি
করতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি রাতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। রাত ১০টার
মধ্যে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন এবং সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠুন। ঘুমানোর আগে
মোবাইল, টিভি দেখা বন্ধ করুন। শোবার ঘর অন্ধকার এবং শান্ত রাখুন। মানসিক চাপ
কমানোর জন্য মেডিটেশন এবং যোগব্যায়াম করতে পারেন। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট
মেডিটেশন করলে মন শান্ত থাকে। পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটান এবং নিজের
পছন্দের কাজ করুন যা মনকে ভালো রাখে। ভালো ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তি ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডায়াবেটিসে যে খাবার এড়িয়ে চলতে হয়
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। এই
খাবারগুলো রক্তে সুগার দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
তৈরি করে। অনেকেই জানেন ডায়াবেটিসের রোগীদের মিষ্টি খাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ
তবে একেবারে যদি আপনি মিষ্টি না খান তাহলে লো সুগারের সমস্যা হতে পারে এজন্য আপনি
চাইলে মাঝে মাঝে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পারেন।
প্রথমত সাদা চাল, সাদা আটার রুটি এবং ময়দার তৈরি খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলোর
পরিবর্তে লাল চাল এবং লাল আটা খান। চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ বাদ
দিতে হবে। কেক, পেস্ট্রি, চকলেট, আইসক্রিম এগুলো খাওয়া যাবে না। ফাস্ট ফুড, তেলে
ভাজা খাবার, প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন। কোমল পানীয় এবং প্যাকেটজাত জুসে প্রচুর
চিনি থাকে তাই এগুলো খাবেন না। আলু, মিষ্টি আলু পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
অতিরিক্ত লবণ এবং চর্বিযুক্ত মাংস এড়িয়ে চলুন। ধূমপান এবং মদ্যপান সম্পূর্ণ
বন্ধ করতে হবে। এই খাবারগুলো এড়িয়ে চললে ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
লেখকের শেষ কথা
ধৈর্য ধরে নিয়মিত এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ভালো ফলাফল
পাবেন। তবে মনে রাখবেন ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা এবং
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি। আপনারা যদি সঠিক নিয়মে জীবনযাপন করেন তাহলে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই
পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের
সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার
ঘরোয়া উপায়, ডায়াবেটিস কি এবং কেন হয়, ব্যায়াম করলে কি ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে থাকে, করলা খেলে কি ডায়াবেটিস কমে, মেথি খেলে কি ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণ থাকে, দারুচিনি কি ডায়াবেটিস কমায়, আমলকি খেলে কি ডায়াবেটিস কমে,
নিম পাতা খেলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে, অতিরিক্ত পানি পান করা কতটা
জরুরি, ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডায়াবেটিসে যে খাবার এড়িয়ে
চলতে হয় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url