২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু

অনলাইনে ওমরাহ ভিসা আবেদন করার নিয়ম
২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু হবে এই বিষয়ে আপনারা অনেকেই জানতে চান কারণ রমজান মাস আমাদের জন্য কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মাস।
২০২৬-সালের-রোজা-কত-তারিখ-থেকে-শুরু
আমরা এই পবিত্র মাসে রোজা পালন করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার চেষ্টা করি। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো রমজান মাস কত তারিখ থেকে শুরু হবে, রমজান মাসে রোজার সময়সূচী, ঈদুল ফিতর কবে হতে ইত্যাদি বিষয়ে সকল তথ্য।

পোস্ট সূচীপত্রঃ ২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু

২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু

আমরা সবাই জানি মূলত ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান মাস নির্ধারণ করা হয় যা চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে থাকে। এক্ষেত্রে আমরা যদি হিসাব অনুযায়ী দেখি তাহলে ২০২৬ সালের রোজা ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে অথবা মার্চ মাসের প্রথম দিকে শুরু হতে পারে। এই বিষয়টি জানা আমাদের সকলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ সবাই রমজান মাস এর জন্য আগে থেকেই অপেক্ষা করে থাকে।

এই জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন রোজা কখন শুরু হবে। ২০২৬ সালের রমজান মাস সম্ভবত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ অথবা মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তারিখ নির্ধারণ করা হবে চাঁদ দেখার মাধ্যমে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ইসলামিক মাস নির্ধারণের জন্য চাঁদ দেখা।

আমাদের দেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি রমজান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকে। তাই আমরা সবাই চেষ্টা করবো খবর এর জন্য অপেক্ষা করতে এবং সঠিক তারিখ জেনে রোজা শুরু করতে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ইসলামিক সংস্থা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদ দেখার খবর প্রচার করা হয়। সাধারণত আমাদের দেশে রোজা শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরবে রোজা শুরু হয়ে থাকে আমরা সেটা দেখেও ধারনা নিতে পারি।

২০২৬ সালের রমজান মাসের সঠিক তারিখ

২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু এবং এর সঠিক তারিখ আমরা অনেকেই জানতে চাই। তবে ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতি বছর রমজান মাস ১০ থেকে ১২ দিন আগে আসে। এক্ষেত্রে আমরা যদি ২০২৫ সালের রমজান মাসের হিসাব থেকে দেখি তাহলে ২০২৬ সালের রমজান মাস আরও কিছুদিন আগে শুরু হবে। এই হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের রমজান মাস ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা এবং ইসলামিক ক্যালেন্ডার বিশেষজ্ঞরা আগে থেকে হিসাব করে রাখেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের রমজান মাস ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হতে পারে। তবে এটি সঠিক তারিখ নাও হতে পারে এবং রোজা শুরু হবার তারিখ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত সৌদি আরব এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের চাঁদ দেখার খবরও বিবেচনা করা হয় যার মাধ্যমে আমরা অনেক সহজেই রোজার তারিখ জানতে পারি।

এছাড়াও আমরা যদি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিসাব করি তাহলে ২০২৬ সালের রমজান মাস মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই জন্য আমাদের উচিত হবে চাঁদ এর উপরে নির্ভর করা এবং খবর দেখা যেন চাঁদ উঠলে আমরা জানতে পারি। যার মাধ্যমে আমরা সঠিক তারিখ জেনে রোজা শুরু করতে পারবো এবং পবিত্র রমজান মাস যথাযথভাবে পালন করতে পারবো।

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের রোজার সময়সূচী

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের রোজার সময়সূচী নিয়ে জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত রোজার সময়সূচী নির্ধারণ করা হয় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় অনুযায়ী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেহরি এবং ইফতারের সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আমরা যদি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করি তাহলে রোজার সময়কাল মোটামুটি ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা হতে পারে।
এক্ষেত্রে রমজান মাসের শুরুতে সেহরির সময় সকাল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে শেষ হবে। আর ইফতারের সময় হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে। তবে এই সময়সূচী আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হতে পারে কারণ দিন যত বড় হতে থাকবে রোজার সময়কালও বাড়তে থাকবে। এই কারণে আমাদের প্রতিদিন সঠিক সময়সূচী দেখে সেহরি এবং ইফতার করা উচিত।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি বছর রমজান মাসের জন্য বিস্তারিত সময়সূচী প্রকাশ করে থাকে। যার মাধ্যমে আমরা সঠিকভাবে রোজা পালন করতে পারি। আমাদের সকলের উচিত হবে এই সময়সূচী অনুসরণ করে সঠিকভাবে রোজা পালন করা। আপনারা অনলাইন থেকে অনেক সহজেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের রোজার সময়সূচী দেখে নিতে পারবেন।

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কবে হতে পারে

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কবে হতে পারে এই বিষয়টি জানা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূলত রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিন হয়ে থাকে এবং এর পরেই আসে ঈদুল ফিতর। এক্ষেত্রে যদি রমজান মাস ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় তাহলে ঈদুল ফিতর ২৯ অথবা ৩০ মার্চ তারিখে হতে পারে। তবে এই তারিখ সম্পূর্ণ ভাবে চাঁদ এর উপরে নির্ভর করে থাকে।
২০২৬-সালের-ঈদুল-ফিতর-কবে-হতে-পারে
আমাদের দেশে ঈদুল ফিতর আমাদের জন্য একটি আনন্দের উৎসব যা আমারা অনেক আনন্দে পালন করে থাকি। এক্ষেত্রে রমজান মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা কমিটি বসে এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন ঈদ পালন করা হয়। আর যদি চাঁদ দেখা না যায় তাহলে আরও একদিন রোজা রেখে ৩০ তারিখে ঈদ পালন করা হয়। এই নিয়ম অনুসরণ করে আমরা সঠিকভাবে ঈদুল ফিতর পালন করতে পারি।

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর সম্ভবত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে। কত তারিখে ঈদ হবে সেটা জানার মাধ্যমে আমরা আগে থেকেই ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারব। যার মাধ্যমে ঈদ এর উদযাপন আরও সুন্দরভাবে এবং পরিবার এর সাথে আনন্দময় সময় কাটাতে পারবেন।

রমজান মাসের চাঁদ দেখার নিয়ম

২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু এবং রমজান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য রয়েছে যেগুলো আমাদের জানা প্রয়োজন। মূলত ইসলামিক ক্যালেন্ডার চান্দ্র মাস অনুসরণ করে এবং প্রতিটি মাস শুরু হয় নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে। এই জন্য রমজান মাস শুরু হওয়ার জন্য শাবান মাসের ২৯ তারিখে আকাশে নতুন চাঁদ দেখার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

চাঁদ দেখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম থাকে যা ইসলামিক শরীয়তে উল্লেখ আছে যে সম্পর্কে আমারা অনেকেই জানি। সে সকল নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত ঈদের চাঁদ এবং রোজার জন্য চাঁদ দেখা হয়ে থাকে এবং নির্দিষ্ট তারিখ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এখন আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যা প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাঁদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। তবে ইসলামে চাঁদ দেখার প্রথাগত পদ্ধতিই বেশি গুরুত্ব পায়। এই কারণে আমরা সবাই চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করি।

বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার সময় ভিন্ন হতে পারে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। এই জন্য কোনো কোনো দেশে আগে চাঁদ দেখা গেলেও আমাদের দেশে পরে দেখা যেতে পারে। আমাদের দেশে আমরা নিজস্ব চাঁদ দেখার রিপোর্ট মেনে চলি তবে অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের দেশের চাঁদ দেখার খবরও বিবেচনায় নেওয়া হয়। যার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় এবং আমরা সবাই একসাথে রমজান মাস পালন করতে পারি।

রোজার আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

রোজা শুরু হওয়ার আগে যেসব প্রস্তুতি নিতে হয় সেই বিষয়ে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত রমজান মাস আসার আগে আমাদের বিভিন্ন প্রস্তুতি নিতে হয়ে থাকে। বিশেষ করে শাবান মাসে নফল রোজা রাখার মাধ্যমে আমরা রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি। এছাড়াও কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া-দরুদ পড়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। যার মাধ্যমে আমরা রমজান মাসে আরও বেশি ইবাদত করতে পারবো।
পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে রমজানের জন্য রোজা রাখলে বিশেষ রহমত পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সেহরি এবং ইফতারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন যেন আমাদের পেটে কোন সমস্যা না হয় এবং আমরা কোন সমস্যা ছাড়াই রোজা থাকতে পারি। এর পাশাপাশি আমাদের যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হল রমজান মাস বিলাসিতার জন্য নয় বরং সংযম এবং ইবাদতের জন্য। তাই খাবার দাবারে তেমন বিলাসিতা না করা উচিত।

রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফজিলত

রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব সবার জানা উচিত কারণ এই মাস আল্লাহর বিশেষ রহমতের মাস। মূলত রমজান মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল যা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত। এক্ষেত্রে এই মাসে রোজা রাখা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। এই কারণে আমাদের এই মাসকে পূর্ণভাবে কাজে লাগানো উচিত। এই জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন ২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু, এটি জানা থাকলে আমরা সকল ফজিলত গুলো মেনে চলতে পারবো।

রমজান মাসের একটি বিশেষ রাত হলো লাইলাতুল কদর যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাতে ইবাদত করলে অসংখ্য সওয়াব পাওয়া যায়। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে রমজান মাসে রোজা রাখলে পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এছাড়াও এই মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রমজান মাসে তারাবীহ নামাজ পড়া সুন্নত এবং এতে অনেক সওয়াব রয়েছে। আমারা যদি প্রতিদিন তারাবীহতে কুরআনের একটি অংশ তিলাওয়াত করা হয় যার মাধ্যমে পুরো কুরআন শোনার সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও এই মাসে দান সদকা করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে অধিক পরিমাণে দান করতেন। তাই আমাদের উচিত এই মাসে বেশি বেশি দান সদকা করা এবং অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

রোজা রাখার সকল নিয়ম ও শর্তাবলী

২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু ও রোজা রাখার নিয়ম ও শর্তাবলী বিস্তারিত জানা আমাদের সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূলত রোজা রাখার জন্য সেহরির সময় নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য আমাদের প্রথমে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা উচিত এইটা না করলেও হবে তবে মনে মনে রোজা রাখার ইচ্ছা করতে হবে। এর পাশাপাশি আমাদের জানতে হবে যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমাদের কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় খাওয়া যাবে না।

আমাদের রোজা রাখার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে যা পূরণ করা জরুরি। প্রথমত আমাদের কে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। এছাড়াও সুস্থ থাকতে হবে এবং মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক এর সময় রোজা রাখা যাবে না। তবে পরবর্তীতে এই রোজাগুলো কাজা আদায় করতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তি এবং মুসাফিরদের জন্যও রোজা না রাখার নিয়ম রয়েছে।

রোজা ভঙ্গ হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে যা সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকা উচিত। আমরা যদি ইচ্ছা করে খাবার বা পানীয় খেয়ে থাকি তাহলে রোজা ভেঙে যায়। এই ছাড়াও আমরা যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করি তাহলেও রোজা ভেঙে যায়। তবে অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোজা ভাঙবে না। আমাদের উচিত রোজা রাখার নিয়মকানুন ভালোভাবে জেনে সঠিক পদ্ধতিতে রোজা পালন করা।

সেহরি ও ইফতারের সঠিক সময় নির্ধারণ

সেহরি ও ইফতারের সঠিক সময় নির্ধারণ করা রোজা পালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত সেহরি খাওয়ার সময় শেষ হয় সুবহে সাদিকের সময় অর্থাৎ ফজরের আজান হওয়ার আগ পর্যন্ত। এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আজানের পরে কোনো খাবার মুখে না যায়। আমাদের আজানের কয়েক মিনিট আগেই সেহরি শেষ করা উচিত। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সেহরি খাওয়া বরকতময় তাই সেহরি না খেয়ে রোজা রাখা উচিত না।
ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয় সূর্যাস্তের সাথে সাথে। এক্ষেত্রে মাগরিবের আজান হওয়ার সাথে সাথেই ইফতার করা সুন্নত। দেরি করে ইফতার করা মাকরুহ তাই আজান শোনার সাথে সাথে কিছু খেজুর অথবা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন এবং খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করতেন। এই সুন্নত অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক সওয়াবের কারণ।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন মসজিদ থেকে প্রতিদিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী প্রকাশ করা হয়। এই জন্য আমাদের উচিত এই সময়সূচী অনুযায়ী ঘড়ি দেখে সঠিক সময়ে সেহরি ও ইফতার করা। এছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যেখানে রোজার সময়সূচী পাওয়া যায়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা সহজেই সঠিক সময় জানতে পারি।

রমজান মাসে বিশেষ আমল ও ইবাদত

রমজান মাসে বিশেষ আমল ও ইবাদত করা আমাদের জন্য অনেক উপকারী। মূলত এই মাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল করেন। এক্ষেত্রে কুরআন তিলাওয়াত করা সবচেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ। আমাদের চেষ্টা করা উচিত প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করার এবং সম্ভব হলে পুরো রমজান মাসে একবার কুরআন খতম করার। এছাড়াও তাফসীর পড়ে কুরআনের অর্থ বুঝার চেষ্টা করা উচিত যা আমাদের ঈমান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
রমজান-মাসে-বিশেষ-আমল-ও-ইবাদত
তারাবীহ নামাজ রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত। এক্ষেত্রে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়া অনেক সওয়াবের কাজ। মহিলারা চাইলে ঘরে তারাবীহ নামাজ পড়তে পারেন। এছাড়াও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া রমজান মাসে খুবই ফজিলতপূর্ণ। শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমাদের সকলের চেষ্টা করা উচিত রমজান মাসে এই বিশেষ নামাজগুলো আদায় করার।

রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করা একটি বিশেষ ইবাদত। এক্ষেত্রে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মশগুল থাকা হয় এবং দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে দূরে থাকা হয়। এই সময়ে লাইলাতুল কদর তালাশ করা হয় যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এছাড়াও দান সদকা করা, গরীব-মিসকিনদের সাহায্য করা এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রাখা রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমল। আমরা যদি এই সকল ইবাদত ও আমল করি তাহলে রমজান মাসের পূর্ণ বরকত পাবো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবো।

লেখকের শেষ কথা

রমজান মাস আমাদের জন্য একটি বিশেষ ও পবিত্র মাস যা আমাদের জীবন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ। এই মাস কে পবিত্র মাস বলা হয়ে থাকে এবং আমরা এই মাসে যত পারবো আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার চেষ্টা করব কেননা এ মাসে ইবাদত করলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নেকি পাওয়া যায়। আমরা যদি সুস্থ থাকি তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করবো সবগুলো রোজা রাখার এবং অন্যদেরও রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করব।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে ২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ থেকে শুরু, ২০২৬ সালের রমজান মাসের সঠিক তারিখ, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের রোজার সময়সূচী, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কবে হতে পারে, রমজান মাসের চাঁদ দেখার নিয়ম, রোজার আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি, রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফজিলত, রোজা রাখার সকল নিয়ম ও শর্তাবলী, সেহরি ও ইফতারের সঠিক সময় নির্ধারণ, রমজান মাসে বিশেষ আমল ও ইবাদত ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url