কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা হয় | ৩ দিনে ফর্সা হওয়ার উপায়
আপনারা জানলে অবাক হবেন যে প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন ফল খাওয়ার মাধ্যমে ত্বক
উজ্জ্বল করা সম্ভব।তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা হয়।
ফর্সা এবং উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য অনেকে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন
ক্রিম এবং লোশান ব্যবহার করে থাকেন। তবে এসব ক্রিম ব্যবহার করে
আসলে কি ত্বক ফর্সা হয়? আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানাবো কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা
হয় এবং কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়।
পোস্ট সূচীপত্রঃ কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা হয় | ৩ দিনে ফর্সা হওয়ার উপায়
- কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা হয়
- ত্বক উজ্জ্বল করতে ফল খাওয়ার নিয়ম
- ত্বক ফর্সা করার সকল টিপস
- ৩ দিনে ফর্সা হওয়ার উপায়
- অতিরিক্ত ফল খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
- সুষম খাদ্য খেয়ে কিভাবে ত্বক ফর্সা করবেন
- ত্বক ফর্সা করার জন্য কোন ক্রিম ভালো
- ত্বক ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় কি কি
- সূর্যের আলো থেকে ত্বক কিভাবে রক্ষা করবেন
- পানি খেয়ে কি ত্বক ফর্সা করা যায়
- লেখকের শেষ কথা
কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা হয়
ত্বক ফর্সা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফল রয়েছে যেগুলো খাওয়ার মাধ্যমে ত্বকের
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এই ফল গুলোর মধ্যে আছে স্ট্রবেরি, কিউই, আপেল, তরমুজ
ইত্যাদি। এই ফলগুলোতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর
থেকে সুন্দর এবং আমাদের ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। ত্বক ফর্সা করে এমন
১০টি ফলের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
আমরা অনেকেই কমলালেবু খেতে অনেক পছন্দ করি, তবে আপনারা কি জানেন কমলালেবু খেলে
ত্বক ফর্সা করতে সাহায্য করে। কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা
ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং
ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তোলে। কমলালেবুতে বিভিন্ন উপকারী ভিটামিন থাকে যেগুলো
আমাদের ত্বকের উজ্জ্বল করার পাশাপাশি ত্বকের কালো দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।
নিয়মিত কমলালেবু খাওয়ার মাধ্যমে আমরা ত্বকের রঙ হালকা করতে পারবে যার মাধ্যমে
ত্বক ফর্সা হয়ে উঠে। আপনারা নিয়মিত কমলালেবু খাবার একটি ভালো অভ্যাস তৈরি করার
মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা অনেক সহজেই বৃদ্ধি করতে পারেন। আপনার যদি সরাসরি
কমলালেবু খেতে পছন্দ না হয় তাহলে আপনি কমলালেবুর জুস বানিয়ে খেলেও একই উপকার
করতে পারবেন।
পেঁপে আরেকটি সুস্বাদু ফল যেটি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য
করে। পেঁপেতে পেপেইন নামক এনজাইম থাকে যেগুলো আমাদের ত্বকের মৃত কোষগুলোকে
দূর করে এবং নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। পেঁপে প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে
ফর্সা এবং উজ্জ্বল করার জন্য অনেক জনপ্রিয়, অনেকে পেঁপের মাস্ক তৈরি করে
মুখে ব্যবহার করে থাকে। পেঁপেতে ভিটামিন এ, ই এবং সি রয়েছে যা ত্বকের স্বাস্থ্য
রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত পাকা পেঁপে খেলে ত্বকের রুক্ষতা
দূর হয় এবং ত্বক হয়ে ওঠে নরম ও উজ্জ্বল। আপনারা যদি নিয়মিত সকালে খালি
পেতে পেঁপে খেতে পারেন তাহলে বেশী পুষ্টি নিতে পারবেন। পেঁপে খাওয়ার
পাশাপাশি পেঁপের পেস্ট মুখে মাখলেও ত্বক ফর্সা হওয়া যায়।
আম আমাদের ত্বক ফর্সা করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি ফল তবে আমরা অনেকেই এই
বিষয়ে জানিনা। আম সুস্বাদু হওয়ার সাথে আমাদের ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা
করতেও সাহায্য করে। আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে যা
ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে। আমের মধ্যে
থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে ত্বককে
সুস্থ রাখে। নিয়মিত আম খেলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় এবং ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও
উজ্জ্বল। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া উচিত। আমের
রস ত্বকে মাখলেও ত্বক ফর্সা হয়।
আরো পড়ুনঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফর্সা হওয়ার ১০টি উপায়
অনেকে লেবু বিভিন্ন ফেস মাস্ক এর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করে থাকে। লেবু ত্বক
ফর্সা করার জন্য একটি প্রাকৃতিক ভাবে কাজ করে। লেবুতে সাইট্রিক এসিড রয়েছে
যা ত্বকের কালো দাগ এবং পিগমেন্টেশন দূর করতে সাহায্য করে এর পাশাপাশি
লেবুর রস ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমিয়ে দেয় এবং ত্বককে পরিষ্কার করে। আপনার
যদি প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করেন
তাহলে এটি ত্বক এর ভিতর থেকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে। তবে লেবুর রস সরাসরি
ত্বকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে কারণ এটি অনেকের ত্বকে
জ্বালাপোড়া করতে পারে।
অনেকেই তাদের ত্বকের রুক্ষতা নিয়ে চিন্তিত থাকেন তবে নিয়মিত তরমুজ
খাওয়ার মাধ্যমে আপনারা এই সমস্যাটি অনেক সহজেই দূর করতে পারবেন। তরমুজে প্রায়
৯২ শতাংশ পানি থাকায় এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের
উজ্জ্বলতা এবং ফর্সা ভাব বজায় রাখার জন্য সঠিক হাইড্রেশন অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। তরমুজে থাকা লাইকোপেন আমাদের ত্বককে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর
রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং আমরা যদি নিয়মিত তরমুজ খাই তাহলে ত্বক হয়ে ওঠে
আর্দ্র, মসৃণ এবং উজ্জ্বল। এটি ত্বকের রুক্ষতা দূর করে এবং ত্বককে করে তুলে
সতেজ। গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস ত্বক ফর্সা করতে বিশেষভাবে
সাহায্য করতে পারে। আপনারা তরমুজের রস বানিয়ে খাবার মাধ্যমে একই উপকার পেতে
পারবেন।
আনারস অনেকেরই একটি প্রিয় ফল তবে আপনারা কি জানেন নিয়মিত আনারস খেলে ত্বকের
ব্রণ এবং কালো দাগ দূর হয়। এছাড়াও এটি ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতেও অনেক উপকারী।
তবে অতিরিক্ত আনারস খাওয়া উচিত নয় কারণ এটি মুখের ভেতরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি
করতে পারে। সপ্তাহে ২-৩ বার আনারস খেলে ত্বক ফর্সা হয়। আপনারা নিয়মিত
আনারস খাওয়ার মাধ্যমে অনেক সহজেই এ সমস্যাগুলো দূর করতে পারবেন।
কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা হয় এই তালিকায় আরেকটি ফলের নাম
হলো আঙুর। এটি সুস্বাদু ফল হওয়ার পাশাপাশি আমাদের ত্বকের জন্য অনেক
উপকারী। নিয়মিত আঙুর খেলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় থাকে এবং ত্বক হয়ে ওঠে
আরও উজ্জ্বল ও ফর্সা। আঙুরে থাকা ভিটামিন সি এবং ই ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায়
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন এক মুঠো আঙুর খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে
পারলে আপনার ত্বককে অনেক সহজেই উজ্জ্বল করতে পারবেন।
আরেকটি উপকারী ফলের নাম হলো স্ট্রবেরি যেটা আমাদের ত্বকের কালো
দাগ এবং পিগমেন্টেশন দূর করতে অনেক সাহায্য করে এছাড়াও স্ট্রবেরিতে থাকা
এলাজিক এসিড সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। নিয়মিত স্ট্রবেরি
খেলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বক হয়ে ওঠে পরিষ্কার ও
উজ্জ্বল। এছাড়াও স্ট্রবেরি ত্বকের ছিদ্র সংকুচিত করতে সাহায্য করে। তবে যাদের
স্ট্রবেরিতে অ্যালার্জি আছে তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।
নিয়মিত স্ট্রবেরি খাওয়ার মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই ত্বক থেকে সকল
সমস্যাগুলো দূর করতে পারবেন তবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন স্ট্রবেরি খেলে ত্বক ফর্সা
হয়।
কিউই আপনার হয়তো অনেকেই ফলের নাম শুনেছেন কিউই ফলে লেবুর চেয়েও
বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বককে করে তুলে সতেজ ও
ফর্সা। নিয়মিত কিউই খেলে ত্বকের বলিরেখা কমে এবং ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ ও
উজ্জ্বল। কিউইতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে
রক্ষা করে। প্রতিদিন একটি কিউই খেলে ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত হয় এবং ত্বকে
প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
ত্বক উজ্জ্বল করতে ফল খাওয়ার নিয়ম
ত্বক ফর্সা করার জন্য শুধু ফল খাওয়াই যথেষ্ট নয়, সঠিক নিয়মে ফল খেতে হয়।
আমাদের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেতে ফল খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে করে ফলের
পুষ্টি উপাদান শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়ার মাধ্যমে সব
ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব। আর যদি নিয়ম মেনে সঠিক পরিমাণের ফল খেতে
পারি তাহলে অনেক সহজেই ত্বককে উজ্জ্বল করতে পারবো।
ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য তাজা এবং পরিষ্কার ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। ফল খাওয়ার
পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে আরো বেশি ভালো। এতে করে ত্বক থাকবে
আর্দ্র এবং উজ্জ্বল। ফলের জুস বানিয়ে খেলেও একই উপকার পাওয়া যায়। তবে আপনারা
যদি চিনি ছাড়া জুস খেতে পারেন তাহলে বেশি উপকার পেতে পারবেন।
ত্বক ফর্সা করার সকল টিপস
অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন শুধু ফল খেলেই ত্বক ফর্সা হয়ে যায় তবে এটি
সম্পূর্ণভাবে সঠিক না। ত্বকের যত্ন নেবার জন্য ফল আপনাকে অনেকটাই সাহায্য
করতে পারে তবে ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া সম্পূর্ণভাবে আপনার উপরে নির্ভর করে।
আপনাকে ফল খাবার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করতে হবে যেগুলো শরীরের জন্য
প্রয়োজনীয় যেমন প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে যা ত্বকের
আর্দ্রতা বজায় রাখে। কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত সেরা ফলাফল পাবার
জন্য। সূর্যের সরাসরি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার
করতে হবে বা আপনি প্রাকৃতিক ভাবেও এইটি করতে পারেন। আমরা অনেকেই ঠিক
ভাবে ঘুমাই না তবে পর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। রাত ১০টা
থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ঘুমালে ত্বক সবচেয়ে বেশি উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম
করলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। আমরা যদি
ফল খাবার সাথে এই টিপস গুলো মেনে চলি তাহলে অনেক সহজেই ত্বক উজ্জ্বল করতে
পারব।
৩ দিনে ফর্সা হওয়ার উপায়
ত্বক ফর্সা হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরা অত্যন্ত জরুরি আপনি যদি মনে করেন কয়েক
দিনের মধেই ফর্সা হওয়া যায় তাহলে আপনি কিছুটা ভুল। নিয়মিত এই ফলগুলো
খাওয়ার ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে ত্বকে প্রাথমিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তবে
সম্পূর্ণ ফলাফলের জন্য কমপক্ষে ২-৩ মাস নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখতে হবে।
প্রত্যেকের ত্বকের ধরন এবং প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই একজনের যা
কার্যকরী হয়েছে তা অন্যের জন্য একই সময়ে ফলাফল নাও দিতে পারে। যদি কোনো ফলে
অ্যালার্জি দেখা দেয় তাহলে সেটি খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে
হবে। তবে আপনি ৩ দিন ফর্সা না হতে পারলেও ২-৩ মাস এর মধ্যে হতে পারেন।
অতিরিক্ত ফল খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
যদিও এই ফলগুলো সাধারণত সবার জন্য নিরাপদ, তবুও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা
প্রয়োজন। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের চিনিযুক্ত ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়া
উচিত। গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের কোনো নতুন খাদ্য তালিকায় যোগ করার
আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত যেকোনো কিছুই ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এই ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে
খাওয়া উচিত। অনেকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফলে অ্যালার্জি থাকতে পারে তাদের সেই
ফল গুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। আপনার যদি কোন ফল খেলে সমস্যা
হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুষম খাদ্য খেয়ে কিভাবে ত্বক ফর্সা করবেন
ত্বক ফর্সা করার জন্য শুধু ফল খাওয়াই যথেষ্ট নয় এর পাশাপাশি আমাদের সুষম
খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর
চর্বি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মিত সুষমখাদ্য খাবার মাধ্যমে
আমাদের শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি আমরা ত্বক কে ফর্সা করতে পারবো।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের শরীর এর পাশাপাশি আমাদের ত্বকের জন্যও অনেক
ক্ষতিকর। তাই মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর
জন্য ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করতে পারেন যা মানসিক চাপ কমানোর জন্য অনেক
কার্যকারী। এই ছাড়াও আপনারা নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা এবং
ময়েশ্চারাইজ করার মাধ্যমেও অনেক উপকার পেতে পারেন। ত্বকের যত্নে বাজারে
পাওয়া কেমিক্যালযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন এইটি আপনার ত্বক কে অনেক ক্ষতি করে
এবং আমাদের ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে রূপচর্চা করাই সেরা।
ত্বক ফর্সা করার জন্য কোন ক্রিম ভালো
বাজারে অনেক ধরনের ফর্সা হওয়ার ক্রিম পাওয়া যায়। কিন্তু এসব ক্রিম ব্যবহার
করার আগে সতর্ক থাকা উচিত কেনোনা অনেক ক্রিমে স্টেরয়েড, হাইড্রোকুইনোন এবং
পারদের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এসব উপাদান দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকের
মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই জন্য আমাদের ত্বক এর যত্ন নেবার জন্য
প্রাকৃতিক উপাদান গুলোর ব্যবহার করা উচিত। এইগুলো
ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকের তেমন কোন ক্ষতি হয় না।
ত্বক আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এই জন্য ত্বকে কোন কিছু
ব্যবহার করার আগে আমাদের সতর্ক থাকা অনেক জরুরী। কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা
হয় আশা করি এই বিষয় জানতে পেরেছেন সেই ফল গুলো খাবার মাধ্যমে আপনি অনেক
সহজেই প্রাকৃতিক ভাবে ত্বক ফর্সা করতে পারবেন।
ত্বক ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় কি কি
ফল খাওয়ার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া
যায়। এর মধ্যে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ফেস প্যাক গুলো অনেক
জনপ্রিয় সেইগুলোর মধ্যে একটি হলো বেসন এবং লেবুর রসের প্যাক ত্বকের জন্য
বেশ উপকারী। এইটি তৈরি করতে তেমন বেশী কিছু লাগে না অনেক সহজেই তৈরি করা
যায়। এইটি তৈরি করতে প্রয়োজনঃ
- ৩ চামচ বেসন
- ২ চামচ লেবুর রস
- ১ চামচ হলুদ গুঁড়া
এইগুলো ভালো ভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং এটি মুখে মেখে ২০-৩০ মিনিট
রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক ফর্সা করার জন্য এইটি অনেক কার্যকরী একটি ফেস মাস্ক।
এইটি ছাড়াও টমেটো এবং মধুর প্যাকও ত্বক ফর্সা করার জন্য অনেক জনপ্রিয়
হয়ে উঠেছে। এইটি তৈরি করার জন্য আপনার প্রয়োজনঃ
- ১টি টমেটো পেস্ট
- ১ চামচ মধু
আপনি শুধু এই দুটি উপাদান মিশিয়েই একটি মাস্ক তৈরি করতে পারবেন যে আপনার ত্বক
ফর্সা করতে সাহায্য করবে। এই ২ টি উপাদান একসাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন এবং
মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
সূর্যের আলো থেকে ত্বক কিভাবে রক্ষা করবেন
ত্বক ফর্সা রাখতে হলে সূর্যের আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের মেলানিন বৃদ্ধি করে এবং ত্বক কালো করে
দেয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
রোদে বাইরে যাওয়ার সময় ছাতা ব্যবহার করুন। মুখে স্কার্ফ বা মাস্ক পরতে
পারেন। দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রোদে বের না হওয়াই ভালো। কারণ এই সময়ে
সূর্যের আলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক হয়। হাত-পা এবং অন্যান্য অংশেও
সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
পানি খেয়ে কি ত্বক ফর্সা করা যায়
পানি ত্বক ফর্সা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান
করলে ত্বক থাকে আর্দ্র এবং উজ্জ্বল। পানি ত্বকের টক্সিন বের করে দেয় এবং
ত্বককে করে তুলে পরিষ্কার। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করা অভ্যাস করুন। এতে শরীরের বিষাক্ত
পদার্থ বের হয়ে যায় এবং ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। পানির সাথে লেবুর রস
মিশিয়ে খেলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। খাবারের সাথে পানি না খেয়ে
খাবারের ৩০ মিনিট আগে বা পরে পানি পান করুন।
লেখকের শেষ কথা
ত্বক ফর্সা করার জন্য প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করা সবসময়ই উত্তম। উপরে
উল্লেখিত ১০টি ফল নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি দেওয়া
সম্ভব। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, সুন্দর এবং ফর্সা ত্বক পেতে হলে শুধুমাত্র
বাইরের যত্ন নয়, ভেতর থেকে পুষ্টি যোগানো সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুষম
খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের
সমন্বয়ে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর ও ফর্সা ত্বক। আজ থেকেই এই ফলগুলো আপনার
দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যোগ করুন তাহলে অনেক সহজেই পেতে পারবেন
প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে কোন ফল খেলে ত্বক ফর্সা হয় | ৩ দিনে ফর্সা
হওয়ার উপায় পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার
প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে কোন ফল খেলে ত্বক
ফর্সা হয়, ত্বক উজ্জ্বল করতে ফল খাওয়ার নিয়ম, ত্বক ফর্সা করার সকল টিপস, ৩
দিনে ফর্সা হওয়ার উপায়, অতিরিক্ত ফল খাওয়ার ক্ষতিকর দিক, সুষম খাদ্য খেয়ে
কিভাবে ত্বক ফর্সা করবেন, ত্বক ফর্সা করার জন্য কোন ক্রিম ভালো, ত্বক ফর্সা
হওয়ার ঘরোয়া উপায় কি কি, সূর্যের আলো থেকে ত্বক কিভাবে রক্ষা করবেন, পানি
খেয়ে কি ত্বক ফর্সা করা যায় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url