সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
আপনারা অনেকেই নিম পাতার অবিশ্বাস্য উপকার সম্পর্কে জানেন, নিম পাতা আমাদের
শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তবে আপনারা কি জানেন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে
কি হয়?
নিম পাতার কথা শুনলেই আমাদের মনে আসে তেতো স্বাদের কথা। কিন্তু এই তিতা পাতার
মধ্যে লুকিয়ে আছে অসংখ্য ঔষধি গুণ। এই জন্য এই আর্টিকেলে আপনাদের জন্য থাকছে
খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা, নিম পাতা খাওয়ার নিয়ম এবং নিমের পুষ্টি
উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।
পোস্ট সূচীপত্রঃ সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
- নিম পাতার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান
- নিম পাতা খেলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে
- সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
- নিম পাতা কি ত্বক এবং চুলের জন্য ভালো
- নিম পাতার রস কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
- কিভাবে নিম পাতা রস তৈরি করবেন
- নিম পাতার রস খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- নিম পাতার রস খাওয়ার অপকারিতা
- নিম পাতা রস খেলে কি গ্যাস হয়
- লেখকের শেষ কথা
নিম পাতার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান
নিম পাতা একটি প্রাকৃতিক ওষুধ যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য পুষ্টি উপাদান এবং ঔষধি
গুণ। এই ছোট্ট পাতার মধ্যে যে সব স্বাস্থ্যকর উপাদান আছে তা জানলে আপনি অবাক
হবেন। নিম পাতায় রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন ধরনের মিনারেল যা
আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
নিম পাতার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের ক্ষতিকর
ব্যাকটেরিয়া গুলো দূরে রাখে। এতে আছে ফ্ল্যাভোনয়েড, গ্লাইকোসাইড, টারপেনয়েড
এবং পলিফেনলিক যেগুলো বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে এবং নিম
পাতায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান
আছে থাকে যেগুলো বিভিন্ন সংক্রমণ জাতীয় রোগ থেকেও প্রতিরোধ করতে সাহায্য
করে।
নিম পাতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো Quercetin যা আমাদের ক্যান্সার
প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করতে পারে। নিম পাতা আসলে একটি অসাধারণ পাতা যেটি
নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে আপনার অনেক সহজেই বিভিন্ন রোগ থেকে নিজেকে সুস্থ রাখতে
পারবেন। নিম পাতার মধ্যে থাকা এ সকল উপাদানের জন্য আমাদের শরীর বিভিন্ন পুষ্টি
উপাদান পেয়ে থাকে এবং এই পুষ্টি উপাদান একসাথে কাজ করে আমাদের শরীরকে সুস্থ এবং
রোগমুক্ত রাখে। এজন্য আপনার জানা প্রয়োজন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় এবং এর সকল উপকারিতা সম্পর্কে।
নিম পাতা খেলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে
ডায়াবেটিস বর্তমান যুগের একটি মহামারী রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই রোগ নিয়ন্ত্রণে
রাখতে নিম পাতার গুরুত্ব অনেক হতে পারে। বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ
ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডায়াবেটিস বিভিন্ন ভাবে
হয়ে থাকে এটি হতে পারে আপনার বংশগত কারণ, অতিরিক্ত ওজন এর
জন্য, অতিরিক্ত চিনি ও জাঙ্ক ফুড খেলে অথবা হতে পারে অস্বাস্থ্যকর
জীবনযাপন এর জন্য। তবে আপনারা চাইলে অনেক সহজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে
পারবেন নিয়মিত নিম পাতার খাওয়ার মাধ্যমে।
নিম পাতায় থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং গ্লাইকোসাইড রক্তের গ্লুকোজ শোষণ করার মাত্রা
কমিয়ে দেয় যার মাধ্যমে ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এছাড়াও নিম পাতার মধ্যে থাকা অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষকে উদ্দীপ্ত করে যা
ইনসুলিন তৈরি করতে অনেক সাহায্য করে। নিম পাতা শরীরের কোষগুলোকে ইনসুলিনের প্রতি
বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। এর ফলে রক্তের শর্করা কোষে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তে
শর্করার মাত্রা কমে। আমাদের ডায়াবেটিস কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
হচ্ছে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে যা আমরা নিম পাতার রস খাওয়ার
মাধ্যমে অনেক সহজেই করতে পারবেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৩ থেকে ৪টি কচি নিম পাতা
চিবিয়ে খান। যদি চিবিয়ে খেতে না পারেন তাহলে নিম পাতা বেটে রস বের করে খাতে
পারেন। আপনার যদি নিম পাতার রস সরাসরি খেতে সমস্যা হয় তাহলে আপনি এক চামচ পরিমাণ
মধু বা গুড়ের সাথে মিশিয়েও নিম পাতার রস খেতে পারেন। ভালো ফলাফল পাবার জন্য
আপনারা তিন মাস নিয়মিত খেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন নিম পাতা ডায়াবেটিসের ওষুধ
নয়, এটি একটি সহায়ক চিকিৎসা। নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন এবং ডাক্তারের
পরামর্শ মেনে চলুন।
সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা অনেক যেটা সম্পর্কে আমরা অনেকেই
জানি না। নিয়মিত নিম পাতার রস খেলে আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে, ক্যান্সারের
ঝুঁকি কমায়, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে ইত্যাদি অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে।
প্রাচীন কাল থেকেই নিম পাতা বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়ে আসছে।
নিম পাতার রস খাওয়ার বিশেষ কিছু উপকারিতা নিচে দেওয়া হলো।
আপনারা অনেকেই পেটের বিভিন্ন সমস্যায় বিরক্ত থাকলে নিম পাতার রস খাওয়ার অভ্যাস
গড়ে তুলতে পারেন। কেননা আপনারা নিম পাতা রস খাওয়ার মাধ্যমে পেটের সকল সমস্যা
এবং হজমের সমস্যা দূর করতে পারবেন। নিম পাতার রসের মধ্যে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ
থাকে যা পেটের সকল ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলো মেরে ফেলে। এর ফলে আমাদের পেটে
গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপা হওয়ার মতো সকল সমস্যা গুলো কমে
যায়। নিম পাতা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখে এছাড়াও নিম
পাতা পেটের আলসার এবং অন্ত্রের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে।
নিম পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আপনারা নিয়মিত নিম পাতার রস খেলে
সর্দি-কাশি, জ্বর এবং সাধারণ সংক্রমণ এর মতো সকল রোগ থেকে সুস্থ থাকতে পারবেন।
আপনারা অনেকেই রূপচর্চার জন্য নিম পাতার ব্যবহার করে
থাকেন, এটি আসলেই আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত নিম পাতার
রস খেলে ব্রণ, ফুসকুড়ি, একজিমা এবং সোরাইসিস কমে। নিম পাতার
অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ত্বকের সংক্রমণ
প্রতিরোধ করে এবং নিম পাতা আমাদের রক্ত পরিষ্কার করে যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে
পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল হয়। আপনি যদি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে চান তাহলে
নিম পাতার ব্যবহার করার মাধ্যমে অনেক সহজেই করতে পারবেন।
সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খালি পেটে খাওয়ার মাধ্যমে আপনারা ডেন্টিস্ট
কেউ দূরে রাখতে পারবেন। কেননা নিম পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁত এবং মাড়ি অনেক
শক্তিশালী হয়, নিম পাতা দাঁতের গর্ত প্রতিরোধ করে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর
করে। নিম পাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ মুখের ব্যাকটেরিয়া
ধ্বংস করে, মাড়ির প্রদাহ, রক্তপাত এবং ব্যথা কমায়। প্রাচীনকাল থেকেই নিমের
ডাল দিয়ে দাঁত মাজার প্রচলন আছে কারণ এটি দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো
রাখে। আপনারা নিয়মিত নিমের ব্যবহার দাঁতে
করার মাধ্যমে দাঁতের সকল সমস্যা দূর করতে পারবেন।
করার মাধ্যমে দাঁতের সকল সমস্যা দূর করতে পারবেন।
আপনারা যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদেরকে নিম পাতা অনেক সাহায্য
করতে পারে।কেননা নিম পাতা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক কার্যকর। নিম পাতা
রক্তনালী প্রসারিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। নিয়মিত নিম পাতার
রস খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। নিম পাতা কোলেস্টেরলও কমাতেও সাহায্য করে যা
আমাদের হার্টের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মিত খালি পেটে এক কাপ পানিতে নিম পাতার
রস এবং মধু মিশিয়ে খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক সাহায্য করতে পারে।
আপনার অনেকেই অতিরিক্ত ওজন কমানোর চেষ্টা করেন তবে অনেকে ক্ষেত্রে এটি সম্ভব
হয়ে ওঠে না। আপনারা যদি নিয়মিত ব্যায়াম করার পাশাপাশি নিম পাতার রস খান
তাহলে অনেক সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন। নিম পাতা শরীরের মেটাবলিজম
বৃদ্ধি করে যা ওজন কমাতে সাহায্য অনেক করে এবং নিম পাতা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি
কমাতেও সাহায্য করে। নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে
থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এছাড়াও নিম পাতা হরমোনের ভারসাম্য
ঠিক রাখে যা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
নিম পাতা কি ত্বক এবং চুলের জন্য ভালো
ত্বক এবং চুলের যত্নের জন্য নিম পাতা একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান। হাজার
বছর ধরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে।
বর্তমানে অনেক দামি কসমেটিক্স পণ্যেও নিম পাতার রসের ব্যবহার করা হয়।
তবে সে সকল পণ্যে নিম পাতার ব্যবহার অনেক কম হয়ে থাকে এবং
বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেগুলো আমাদের ত্বকের
জন্য ক্ষতিকর। এজন্য আমরা যদি খালি পেটে নিম পাতার রস খাই তাহলে অনেক সহজেই
আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখার পাশাপাশি ত্বক এবং চুলের যত্ন নিতে
পারবো।
আপনি যাদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য নিম পাতা অসাধারণ একটি
উপাদান। কেননা নিম পাতা ত্বকের ব্রণ দূর করার জন্য খুবই কার্যকর। নিম পাতার
মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মেরে
ফেলে। নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় এবং ত্বক ভেতর
থেকে পরিষ্কার হয়। নিম পাতা ত্বকের তৈলাক্ততা কমায় এবং ছিদ্র পরিষ্কার
রাখে। নিম পাতার পেস্ট মুখে লাগালে ব্রণের দাগ কমে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা
বৃদ্ধি পায়।
নিম পাতা চুলের জন্যও খুবই উপকারী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি মাথার ত্বকে রক্ত
চলাচল ভালো করে, ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয়। নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল
গুণ খুশকি কমাতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমায়। নিম পাতা বেটে চুলে লাগালে
চুল নরম হয়, ঘন দেখায় এবং স্বাভাবিক কালো ভাব বজায় থাকে। এছাড়া নিয়মিত নিম
পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুলে চুল পরিষ্কার থাকে, সুস্থ হয় এবং
সুন্দর উজ্জ্বল দেখায়। আপনারা নিম পাতার ব্যবহার করার মাধ্যমে চুল এবং
ত্বক উভয় যত্ন নিতে পারবেন এবং আপনি চাইলে অন্যান্য উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান
গুলোর সাথে নিমপাতার ব্যবহার করতে পারেন সেরা ফলাফল পাওয়ার জন্য।
নিম পাতার রস কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আমরা এখন অনেকেই ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে থাকি কেননা আগে তুলনায় আমাদের শরীরের
ইমিউনিটি অনেক কমে গেছে যার ফলে আমরা ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে। তবে আপনারা যদি
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চান এবং সুস্থ থাকতে চান তাহলে রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়াতে নিম পাতা অনেক সাহায্য করতে পারে। নিম পাতা আমাদের শরীরের
ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য
করে। বিশেষ করে মৌসুমী রোগ এবং সংক্রমণ থেকে বাঁচতে নিম পাতা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় এ বিষয়ে জানার পাশাপাশি আমাদের জানা প্রয়োজন নিম পাতার রস খাওয়ার সঠিক নিয়ম।
নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরকে
সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। আমরা যদি নিয়মিত নিম পাতার রস খাই তাহলে
সর্দি-কাশি, জ্বর এবং ফ্লু হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। নিম পাতা
শ্বাসনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ফুসফুস সুস্থ রাখে এবং নিম পাতা গলা
ব্যথা এবং টনসিলের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। সুতরাং আপনারা নিম পাতা
খাওয়ার মাধ্যমে সকল ধরনের অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে পারবেন।
কিভাবে নিম পাতা রস তৈরি করবেন
নিম পাতার রস তৈরি করা খুবই সহজ এবং বাড়িতে সহজেই করা যায়। তবে সঠিক পদ্ধতি
জানা থাকলে রসের গুণাগুণ ঠিক থাকে এবং বেশি উপকার পাওয়া যায়। আপনাদের জন্য
নিম পাতার রস তৈরি করার বিভিন্ন পদ্ধতি দেওয়া হলো।
প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি কচি এবং সতেজ নিম পাতা সংগ্রহ করুন। পাতা গুলো ভালোভাবে
পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি পাত্রে পাতা গুলো নিয়ে পরিমাণ মতো
পানি দিয়ে ব্লেন্ড করুন বা পিষে নিন। একটি কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে রস
আলাদা করে নিন। এই তাজা রস সকালে খালি পেটে এক থেকে দুই চামচ পরিমাণে খান।
চাইলে রসের সাথে সামান্য মধু বা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন যাতে স্বাদ একটু
ভালো হয়।
যদি রস তৈরি করতে না পারেন তাহলে সরাসরি নিম পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। সকালে
খালি পেটে ৩ থেকে ৫টি কচি নিম পাতা ভালোভাবে ধুয়ে মুখে নিয়ে ধীরে ধীরে
চিবান। পাতা সম্পূর্ণ চিবিয়ে রস গিলে ফেলুন। এরপর সামান্য পানি খেয়ে নিন।
এই পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ এবং বেশি কার্যকর কারণ এতে নিম পাতার সব গুণাগুণ
পাওয়া যায়।
নিম পাতার রস খাওয়ার সঠিক নিয়ম
নিম পাতার রস খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং পরিমাণ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয় এবং নিম পাতার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আমাদের
জন্য সঠিক পরিমাণে নিম পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায় কিন্তু অতিরিক্ত খেলে
ক্ষতি হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৩ থেকে ৫টি কচি নিম পাতা
যথেষ্ট। যদি রস বানিয়ে খান তাহলে এক থেকে দুই টেবিল চামচ রস খাবেন। নিম পাতা
খাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে নাস্তা খাবেন। টানা তিন মাস নিয়মিত
খাওয়ার পর এক মাস বিরতি নিন। এরপর আবার শুরু করতে পারেন। সপ্তাহে ৫ দিন
খেলেও ভালো ফল পাবেন। প্রতিদিন খেতে না পারলে সপ্তাহে ৩ দিনও যথেষ্ট।
আর শিশুদের ক্ষেত্রে ৫ বছরের নিচের শিশুদের নিম পাতা খাওয়ানো উচিত নয়। ৫
থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য ১ থেকে ২টি কচি নিম পাতা বা অর্ধেক চা চামচ রস
যথেষ্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ানো উচিত।
নিম পাতার রস খাওয়ার অপকারিতা
নিম পাতা যদিও অত্যন্ত উপকারী তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা
প্রয়োজন। নিম পাতা খাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া উচিত
যাতে কোনো সমস্যা ছাড়াই নিম পাতা সকল উপকারিতা গ্রহণ করতে পারেন।
কোন কিছুই অধিক পরিমাণে খাওয়া ঠিক না তেমনি নিম পাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত
পরিমাণে নিম পাতা খেলে বমি বমি ভাব এবং পেট খারাপ হতে পারে। কারো কারো নিম
পাতায় অ্যালার্জি থাকতে পারে যার ফলে চুলকানি বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে
পারে। তবে নিম পাতা খাওয়ার ফলে যদি আপনার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
দেখা দেয় তাহলে নিম পাতা খাওয়া বন্ধ করুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছেন তাদের নিম পাতা খাওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে
কারণ নিম পাতা রক্তের শর্করা কমায়। একসাথে দুটো খেলে রক্তের শর্করা অতিরিক্ত
কমে যেতে পারে যা বিপজ্জনক। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন তাদেরও সতর্ক
থাকতে হবে। অপারেশনের দুই সপ্তাহ আগে থেকে নিম পাতা খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
যেকোনো নিয়মিত ওষুধ খেলে ডাক্তারকে জানিয়ে নিম পাতা খাওয়া শুরু করুন।
নিম পাতা রস খেলে কি গ্যাস হয়
নিম পাতার রস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে
গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। কারণ নিম স্বভাবতই খুব তিতা এবং শক্ত প্রকৃতির।
খালি পেটে বা বেশি পরিমাণে নিম পাতার রস খেলে অনেকের পেটে গ্যাস, অস্বস্তি,
পেট ফাঁপা বা হালকা ব্যথা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল,
অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা
বেশি।
তবে সঠিক নিয়মে খেলে সাধারণত তেমন সমস্যা হয় না। অল্প পরিমাণে নিম পাতার রস
খাওয়া, খাবারের পর গ্রহণ করা বা পানির সাথে মিশিয়ে খেলে গ্যাসের ঝুঁকি কমে।
প্রথমবার খাওয়ার সময় শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে নেওয়াও জরুরি। কোনো
অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করা উচিত। এজন্য আমরা যদি সঠিক পরিমাণে
নিম পাতা রস খায় তাহলে অনেক সহজে নিমপাতা সকল উপকারিতা গ্রহণ করতে পারবো।
লেখকের শেষ কথা
খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি এবং এটি আমাদের শরীরের জন্য
অনেক উপকারী। আশা করি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন সকালে
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়, নিম পাতার পুষ্টিগুণ, উপকারিতা, খাওয়ার
নিয়ম এবং এ সম্পর্কে সকল বিস্তারিত তথ্য। নিম পাতা একটি প্রাকৃতিক ওষুধ যা
ডায়াবেটিস, পেটের সমস্যা, ত্বকের রোগ এবং আরো অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান
দিতে পারে এর পাশাপাশি আপনার রোগ প্রতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে যার
মাধ্যমে আপনি সুস্বাস্থ্য অর্জন করতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের
সুবিধার্থে সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি
এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন
তারাও জানতে পারে নিম পাতার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান, নিম পাতা খেলে কি
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়, নিম
পাতা কি ত্বক এবং চুলের জন্য ভালো, নিম পাতার রস কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়ায়, কিভাবে নিম পাতা রস তৈরি করবেন, নিম পাতার রস খাওয়ার সঠিক নিয়ম, নিম
পাতার রস খাওয়ার অপকারিতা, নিম পাতা রস খেলে কি গ্যাস হয় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url