চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায়

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায় জানা আমাদের জন্য জরুরী, কারণ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্যের ব্যাবহারের ফলে অনেকেই  পড়ার সমস্যায় ভুগছে।

চুল-পড়া-বন্ধ-ও-চুলের-গোড়া-শক্ত-করার-উপায়

এই জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে আমাদের চুলের যত্ন নিতে পারি। যা আমরা আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত জানবো।

পেজ সূচিপত্রঃ চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে চুল কেন পড়ে এবং চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় কেন। আমাদের চুল প্রোটিন দিয়ে তৈরি এবং মাথার ত্বকের নিচে থাকা হেয়ার ফলিকল থেকে চুল গজায়। যখন এই ফলিকলগুলো দুর্বল হয়ে যায় বা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না তখন চুল পড়তে শুরু করে এবং নতুন চুল গজানোর ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিকভাবে দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক কিন্তু যদি এর চেয়ে বেশি চুল পড়ে তবে সেটি সমস্যার লক্ষণ।

চুলের গোড়া শক্ত করতে হলে মূলত চুলের ফলিকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে হবে। এর জন্য চুলের যত্ন নিতে হবে যেমন তেল ম্যাসাজ এবং হেয়ার মাস্ক এর পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি দেওয়া, সঠিক খাবার খাওয়াও আমাদের চুল এর জন্য জরুরী। অনেকে শুধুমাত্র বাইরে থেকে চুলের যত্ন নেন কিন্তু খাবারে প্রোটিন ভিটামিন এবং মিনারেলের অভাব থাকলে চুল শক্ত হবে না।

আবার কেউ কেউ শুধু খাবারের দিকে মনোযোগ দেন কিন্তু বাইরে থেকে চুল এর যত্ন নেন না যার ফলে চুল রুক্ষ এবং দুর্বল থাকে। তাই চুলের গোড়া শক্ত করার উপায় হলো বাইরে এবং ভিতরে দুইদিক থেকেই চুল এর খেয়াল রাখতে হবে। আপনি যদি ধৈর্য ধরে নিয়মিত এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেন তবে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে চুলে পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

চুল পড়ার মূল কারণ এবং লক্ষণ কীভাবে চিনবেন

চুল পড়ার মূল কারণ এবং কীভাবে চিনবেন চুল পড়া স্বাভাবিক নাকি সমস্যা এই বিষয়টি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সঠিক কারণ না জানলে সঠিক সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। চুল পড়ার প্রধান কারণগুলো হলো বংশগত কারণ যেখানে পরিবারে কারো চুল পড়ার সমস্যা থাকলে আপনারও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। হরমোন পরিবর্তন বিশেষত থাইরয়েড সমস্যা বা গর্ভাবস্থার পর নারীদের প্রচুর চুল পড়ে। পুষ্টির অভাব বিশেষত আয়রন ভিটামিন ডি, বি এবং প্রোটিনের ঘাটতি চুল দুর্বল করে দেয়। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ চুল পড়ার একটি বড় কারণ যা আমাদের আধুনিক জীবনে প্রতিদিন বাড়ছে।

রাসায়নিক শ্যাম্পু হেয়ার কালার এবং স্ট্রেইটনিং এর অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া এবং হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার চুল পড়ার হার বাড়ায়। স্বাভাবিক চুল পড়া এবং সমস্যাজনিত চুল পড়া আলাদা করার কিছু লক্ষণ আছে। যদি আপনার চুল আঁচড়ানোর সময় বা শ্যাম্পু করার সময় মুঠো মুঠো চুল পড়ে তবে সেটি সমস্যার লক্ষণ। যদি মাথার কোনো নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা হয়ে যায় বা টাক পড়তে শুরু করে তবে সেটি গুরুতর।

যদি চুলের সাথে শেকড় বা সাদা বাল্ব দেখা যায় তবে বুঝতে হবে চুল গোড়া থেকে পড়ছে। যদি মাথার ত্বকে চুলকানি লালচে ভাব বা খুশকি থাকে তবে সেটি স্ক্যাল্প ইনফেকশনের লক্ষণ যা চুল পড়ার কারণ হতে পারে। যদি চুল খুব শুষ্ক এবং ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং সহজেই ভেঙে যায় তবে সেটি পুষ্টির অভাবের লক্ষণ। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা শুরু করা উচিত এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়া অন্যান্য রোগের লক্ষণ হতে পারে।

নারিকেল তেল দিলে কি চুলের গোড়া শক্ত হয়

নারিকেল তেল এবং পেঁয়াজের রস দিয়ে চুলের গোড়া শক্ত করা একটি প্রমাণিত এবং অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক পদ্ধতি যা আমাদের দেশে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নারিকেল তেল হলো প্রকৃতির সেরা হেয়ার অয়েল যার মধ্যে রয়েছে লরিক এসিড ভিটামিন ই এবং প্রোটিন যা চুলের গভীরে প্রবেশ করে পুষ্টি সরবরাহ করে। নারিকেল তেল চুলের প্রোটিন লস কমায় এবং চুলকে শক্তিশালী করে তোলে। এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
পেঁয়াজের রস শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি চুল গজানোর জন্য অসাধারণ কার্যকর কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে যা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং চুলের ফলিকল পুনর্জীবিত করে। পেঁয়াজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বকের সংক্রমণ দূর করে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে নতুন চুল গজানোর জন্য। নারিকেল তেল এবং পেঁয়াজের রস একসাথে ব্যবহার করতে হলে প্রথমে একটি বা দুটি পেঁয়াজ কুচি করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন এবং একটি পরিষ্কার কাপড়ে চেপে রস বের করে নিন।

এরপর তিন চার টেবিল চামচ নারিকেল তেলের সাথে দুই টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে হালকা গরম করুন। এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন বৃত্তাকারে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। ম্যাসাজ করার সময় আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ঘষুন যাতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এরপর আরো ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা রেখে দিন যাতে উপাদানগুলো ভালোভাবে চুলের গোড়ায় প্রবেশ করতে পারে।

তারপর হালকা গরম পানি এবং মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের গন্ধ দূর করতে শেষ ধোয়ার সময় লেবুর রস বা গোলাপজল মিশানো পানি ব্যবহার করতে পারেন। এই পদ্ধতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে দুই তিন মাসে চুল পড়া কমে যাবে এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করবে। অনেকে শুধু পেঁয়াজের রস ব্যবহার করেন কিন্তু নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে উপকারিতা অনেক বেশি হয়।

অ্যালোভেরা ও মেথি দিয়ে কি চুল পড়া বন্ধ করা যায়

অ্যালোভেরা ও মেথি দিয়ে চুল পড়া বন্ধ করার প্রাকৃতিক উপায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি পদ্ধতি যা চুলের জন্য অনেক উপকারী। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী হলো প্রকৃতির একটি আশ্চর্য উদ্ভিদ যার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি এবং ফলিক এসিড যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরায় থাকা এনজাইম মাথার ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে। এটি চুলের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে।
চুল-পড়া-বন্ধ-ও-চুলের-গোড়া-শক্ত-করার-উপায়-জানুন
অ্যালোভেরার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং চুলকানি দূর করে। মেথি বা মেথির বীজ চুলের জন্য অসাধারণ উপকারী কারণ এতে প্রচুর প্রোটিন নিকোটিনিক এসিড এবং লেসিথিন থাকে যা চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুল পড়া কমায়। মেথিতে থাকা হরমোন অ্যান্টিসেডেন্ট চুলের ফলিকল পুনর্নির্মাণ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা এবং মেথি দিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে হলে প্রথমে দুই তিন টেবিল চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন যাতে সেগুলো নরম হয়ে যায়। 

সকালে সেগুলো ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিন। একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা কেটে ভেতরের জেল বের করে নিন বা বাজার থেকে খাঁটি অ্যালোভেরা জেল কিনতে পারেন। মেথি পেস্টের সাথে তিন চার টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। চাইলে এর সাথে এক চা চামচ নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন। এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে এবং চুলে ভালোভাবে লাগান এবং হালকা ম্যাসাজ করুন। এই জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিও।

৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে দিয়ে তারপর ঠাণ্ডা বা হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে চুল পড়া অনেকটাই কমে যাবে এবং চুল হবে মসৃণ এবং চকচকে। অ্যালোভেরা এবং মেথি উভয়ই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং কোনো ক্ষতিকর দিক নেই তবে যাদের এলার্জি আছে তারা প্রথমবার ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

ডিম এবং দই দিয়ে কিভাবে হেয়ার মাস্ক তৈরি করে

ডিম এবং দই দিয়ে চুলের জন্য হেয়ার মাস্ক তৈরি করার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং এই মাস্ক চুলের জন্য প্রচুর পুষ্টিকর। ডিম হলো প্রোটিনের পাওয়ার হাউস এবং চুল যেহেতু প্রোটিন দিয়ে তৈরি তাই ডিম চুলের জন্য অসাধারণ খাবার। ডিমের কুসুমে রয়েছে বায়োটিন ভিটামিন এ এবং ডি যা চুলের বৃদ্ধি করে এবং চুলকে শক্তিশালী করে। ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন এবং কোলাজেন থাকে যা চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমায়।
দই হলো প্রাকৃতিক কন্ডিশনার যার মধ্যে রয়েছে ল্যাকটিক এসিড যা মাথার ত্বক পরিষ্কার করে এবং খুশকি দূর করে। দই চুলকে গভীরভাবে ময়শ্চারাইজ করে এবং চুলের প্রাকৃতিক চকচকে ভাব ফিরিয়ে আনে। দইতে থাকা প্রোবায়োটিক মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং চুলের ফলিকল সুস্থ রাখে। ডিম এবং দই দিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে একটি বাটিতে একটি বা দুটি ডিম ভেঙে নিন পুরো ডিম ব্যবহার করুন অথবা যদি চুল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয় তবে শুধু সাদা অংশ এবং যদি চুল শুষ্ক হয় তবে শুধু কুসুম ব্যবহার করুন।

এরসাথে তিন চার টেবিল চামচ টক দই যোগ করুন এবং ভালোভাবে ফেটিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। চাইলে এর সাথে এক টেবিল চামচ মধু এবং এক চা চামচ অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন যা আরো বেশি পুষ্টি যোগ করবে। এই মিশ্রণটি শুষ্ক চুলে এবং মাথার ত্বকে ভালোভাবে লাগান সেকশন করে করে যাতে সব জায়গায় লাগে। চুলের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ম্যাসাজ করুন এবং পুরো চুল ভালোভাবে কভার করুন। এই জন্য আমাদের চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায় বোঝা অনেক জরুরী।

একটি শাওয়ার ক্যাপ বা পলিথিন দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন এবং ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। মনে রাখবেন গরম পানি দিয়ে ধুলে ডিম জমাট বেঁধে যাবে তাই অবশ্যই ঠাণ্ডা বা হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রথমে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন তারপর একটি মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এই মাস্ক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুল হবে নরম মসৃণ এবং শক্তিশালী এবং চুল পড়া অনেকটাই কমে যাবে।

সঠিক খাবার এবং পুষ্টি কি চুলের গোড়া মজবুত করে

সঠিক খাবার এবং পুষ্টি যা চুলের গোড়া মজবুত করে সেগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি কারণ বাইরে থেকে যত যত্নই করেন না কেন ভেতর থেকে পুষ্টি না পেলে চুল সুস্থ হবে না। প্রোটিন হলো চুলের মূল উপাদান তাই খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল এবং বাদাম প্রোটিনের ভালো উৎস। বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ চুলের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা পাওয়া যায় ডিম বাদাম এবং পুরো শস্যে। আয়রনের ঘাটতি চুল পড়ার একটি প্রধান কারণ বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে তাই পালং শাক কলিজা এবং ডালিম খাওয়া উচিত।

ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে এবং কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে যা লেবু কমলা এবং আমলকীতে পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি এর অভাব চুল পড়ার কারণ হতে পারে তাই রোদে কিছু সময় থাকা এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড মাথার ত্বকে তেল উৎপাদন করে এবং চুলকে হাইড্রেটেড রাখে যা পাওয়া যায় মাছ বিশেষত সামুদ্রিক মাছ চিয়া সিড এবং আখরোটে। জিংক চুলের ফলিকল সুস্থ রাখে এবং এর অভাবে চুল পড়ে যা কুমড়োর বীজ ছোলা এবং ডার্ক চকলেটে পাওয়া যায়।

ভিটামিন এ মাথার ত্বকে সেবাম উৎপাদন করে যা চুল ময়েশ্চার রাখে এবং এটি পাওয়া যায় গাজর মিষ্টি আলু এবং পালং শাকে। সবুজ শাকসবজি ফলমূল এবং প্রচুর পানি পান করা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। জাঙ্ক ফুড অতিরিক্ত চিনি এবং প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলো চুলের ক্ষতি করে। একটি সুষম খাবার যেখানে প্রোটিন ভিটামিন মিনারেল এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সব থাকবে সেটিই চুলের জন্য সেরা খাবার। মনে রাখবেন চুলের সৌন্দর্য শুরু হয় আপনার খাবারের প্লেট থেকে তাই পুষ্টিকর খাবার খান এবং চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করুন।

হেয়ার অয়েল ম্যাসাজ এবং স্ক্যাল্প কেয়ারের সঠিক নিয়ম

হেয়ার অয়েল ম্যাসাজ এবং স্ক্যাল্প কেয়ারের সঠিক নিয়ম জানা থাকলে আপনি সেরা উপকার পেটে পারবেন এবং চুলের গোড়া শক্ত হবে। তেল ম্যাসাজ মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে যার ফলে চুলের ফলিকলে বেশি অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছায় এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার তেল ম্যাসাজ করা উচিত এবং রাতে ম্যাসাজ করে সারারাত রেখে সকালে ধুয়ে ফেলা সবচেয়ে ভালো। তেল ম্যাসাজের জন্য নারিকেল তেল অলিভ অয়েল বাদাম তেল ক্যাস্টর অয়েল বা সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন অথবা এগুলো মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরো ভালো।

তেল ব্যবহারের আগে হালকা গরম করে নিন গরম তেল ত্বকে বেশি কার্যকর তবে খুব বেশি গরম করবেন না। তেল হাতের তালুতে নিয়ে মাথার ত্বকে আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করুন প্রথমে মাথার সামনে তারপর পেছনে এবং পাশে সব জায়গায়। ম্যাসাজ করার সময় হালকা চাপ দিন এবং আঙুলের ডগা দিয়ে স্ক্যাল্প ঘষুন যাতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ম্যাসাজ করুন এবং চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত তেল লাগান। ম্যাসাজের পর মাথায় একটি গরম তোয়ালে জড়িয়ে রাখলে তেল আরো ভালোভাবে প্রবেশ করে এবং উপকার বেশি পাওয়া যায়।

স্ক্যাল্প কেয়ারের জন্য নিয়মিত মাথা পরিষ্কার রাখা জরুরি কিন্তু প্রতিদিন শ্যাম্পু করা ঠিক নয় কারণ এতে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার শ্যাম্পু করা যথেষ্ট তবে যদি খুব তৈলাক্ত মাথা হয় তবে বেশি করতে পারেন। শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন তবে কন্ডিশনার শুধু চুলে লাগাবেন মাথার ত্বকে নয়। স্ক্যাল্প কেয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এক্সফলিয়েশন যা মাসে একবার করা উচিত মৃত ত্বক এবং পণ্যের জমা পরিষ্কার করার জন্য। আপনারা যদি চুলের সমস্যা দূর করতে চান তাহলে জানতে হবে চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায় সম্পর্কে।

রাসায়নিক শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার থেকে দূরে থাকার উপায়

রাসায়নিক শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার থেকে দূরে থাকার উপায় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাজারের বেশিরভাগ শ্যাম্পুতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে যা চুলের মারাত্মক ক্ষতি করে। সালফেট যেমন সোডিয়াম লরিল সালফেট এসএলএস এবং সোডিয়াম লরেথ সালফেট এসএলইএস হলো শক্তিশালী পরিষ্কারক যা চুলের প্রাকৃতিক তেল সম্পূর্ণ তুলে নেয় এবং চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে দেয়। প্যারাবেন যা প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহার করা হয় তা হরমোন ডিসরাপ্টর এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সিলিকন চুলকে সাময়িক চকচকে করে কিন্তু ফলিকল বন্ধ করে দেয় এবং চুলের গোড়া দুর্বল করে। কৃত্রিম রং এবং সুগন্ধি এলার্জি এবং মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। এই সব রাসায়নিক প্রথমে ভালো ফলাফল দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট করে এবং চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।রাসায়নিক শ্যাম্পু থেকে দূরে থাকতে হলে প্রথমে প্রাকৃতিক বা অর্গানিক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন যেগুলোতে সালফেট প্যারাবেন এবং সিলিকন মুক্ত লেখা থাকে। ঘরে তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো বিকল্প।

রিঠা এবং শিকাকাই হলো প্রাকৃতিক শ্যাম্পু যা হাজার বছর ধরে আমাদের দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। রিঠা এবং শিকাকাই সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এটি চুল পরিষ্কার করে এবং পুষ্টি দেয়। ডিমের কুসুম বা দই দিয়েও চুল ধোয়া যায় যা প্রাকৃতিক ক্লিনজার এবং কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। যদি আপনার শ্যাম্পু ব্যবহার করতেই হয় তবে প্যাকেটের ইনগ্রেডিয়েন্ট ভালোভাবে পড়ুন এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল নেই এমনটি বেছে নিন।

চুল পড়া বন্ধ করতে যেগুলো করা অনেক জরুরী

জীবনযাত্রার পরিবর্তন চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন চুল পড়ার একটি বড় কারণ। যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি তখন শরীরে কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি পায় যা চুলের বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত করে এবং চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামক একটি অবস্থা তৈরি করে যেখানে চুলের ফলিকল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায়।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও চুলের ক্ষতি হয় কারণ ঘুমের সময় শরীর মেরামতের কাজ করে। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো মানের ঘুম চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত কার্যকর কারণ ব্যায়াম এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে যা মন ভালো রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত প্রবাহ বাড়ায়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন দিনে অন্তত ৮ গ্লাস কারণ পানিশূন্যতা চুল শুষ্ক এবং ভঙ্গুর করে দেয়। পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটান এবং যা আপনাকে খুশি করে সেই কাজগুলো করুন। একটি সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলুন নিয়মিত খাওয়া ঘুমানো এবং ব্যায়াম করুন। জীবনযাত্রায় এই ছোট ছোট পরিবর্তন আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে এবং চুলও সুস্থ এবং শক্তিশালী হয়ে উঠবে। চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায় জানার মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই চুলের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।

চুল পড়া বন্ধে কোন ঘরোয়া চিকিৎসা নেওয়া উচিত

চুল পড়া বন্ধে ঘরোয়া চিকিৎসা এবং কখন ডাক্তার দেখাবেন এই দুটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ কারণ সব ক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা কাজ করে না। ঘরোয়া চিকিৎসায় আমরা যেসব পদ্ধতি আলোচনা করেছি যেমন তেল ম্যাসাজ হেয়ার মাস্ক এবং সঠিক খাবার এগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে সাধারণ চুল পড়া অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া আমলকী গুঁড়া ক্যারি পাতা এবং কালোজিরা তেল চুলের জন্য অনেক উপকারী। আমলকী গুঁড়া নারিকেল তেলে মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে এবং চুল কালো হয়।
চুল-পড়া-বন্ধ-ও-চুলের-গোড়া-শক্ত-করার-উপায়-বিস্তারিত
ক্যারি পাতা নারিকেল তেলে সিদ্ধ করে সেই তেল ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। কালোজিরা তেলে প্রচুর পুষ্টি উপাদান আছে যা চুল গজাতে সাহায্য করে। সবুজ চা দিয়েও চুল ধোয়া যায় যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং চুল পড়া কমায়। এই সব ঘরোয়া পদ্ধতি তিন থেকে ছয় মাস নিয়মিত অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। যদি হঠাৎ করে অনেক বেশি পরিমাণে চুল পড়তে শুরু করে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাক পড়ে যায় তবে সেটি অ্যালোপেসিয়া আরিয়াটা নামক রোগ হতে পারে।

যদি মাথার ত্বকে চুলকানি লালচে ভাব ফোসকা বা ক্ষত দেখা দেয় তবে সেটি ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে যার জন্য ওষুধ প্রয়োজন। যদি চুল পড়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত ক্লান্তি ওজন পরিবর্তন বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকে তবে সেটি থাইরয়েড বা হরমোনাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যদি ঘরোয়া পদ্ধতি তিন মাস চেষ্টা করার পরও কোনো উন্নতি না হয় তবে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ট্রাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে পুষ্টির ঘাটতি বা হরমোন সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবেন।

লেখকের শেষ কথা

আমাদের মনে রাখতে হবে রাসায়নিক পণ্য থেকে দূরে থাকুন স্ট্রেস কমান পর্যাপ্ত ঘুমান এবং নিজের চুলকে ভালোবাসুন। আপনার চুল আপনার ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সঠিক যত্নে সেটি আপনাকে আরো সুন্দর করে তুলবে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন এবং ধৈর্য ধরুন কারণ প্রকৃতি তার কাজ করতে সময় নেয়।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে চুল পড়া বন্ধ ও চুলের গোড়া শক্ত করার উপায়, চুল পড়ার মূল কারণ এবং লক্ষণ কীভাবে চিনবেন, নারিকেল তেল দিলে কি চুলের গোড়া শক্ত হয়, অ্যালোভেরা ও মেথি দিয়ে কি চুল পড়া বন্ধ করা যায়, ডিম এবং দই দিয়ে কিভাবে হেয়ার মাস্ক তৈরি করে, সঠিক খাবার এবং পুষ্টি কি চুলের গোড়া মজবুত করে, হেয়ার অয়েল ম্যাসাজ এবং স্ক্যাল্প কেয়ারের সঠিক নিয়ম, রাসায়নিক শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার থেকে দূরে থাকার উপায়, চুল পড়া বন্ধ করতে যেগুলো করা অনেক জরুরী, চুল পড়া বন্ধে কোন ঘরোয়া চিকিৎসা নেওয়া উচিত ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url