ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায় কিভাবে

ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার উপায় ২০২৬

ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায় কিভাবে অনেকেই জানতে চান কারণ আমাদের কাছে একটি স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে সহজেই ঘরে বসে আয় করতে পারি।

ঘরে-বসে-মোবাইল-দিয়ে-ইনকাম-করা-যায়-কিভাবে

আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন মোবাইল দিয়ে কীভাবে আয় করা যায় এবং কোন কোন মাধ্যমে আয় করলে আপনি নিয়মিত আয় করতে পারবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায় কিভাবে

ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায় কিভাবে

ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায় কিভাবে জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে যে মোবাইল দিয়ে আয় করা মানে রাতারাতি ধনী হওয়া নয় বরং এটি একটি ধৈর্যের কাজ এবং নিয়মিত পরিশ্রম প্রয়োজন। বর্তমানে মোবাইল দিয়ে আয় করার অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে যেমন ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউব-ফেসবুক মনিটাইজেশন, এফিলিয়েট মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, অনলাইন টিচিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং আরো অনেক কিছু।

প্রতিটি মাধ্যমের নিজস্ব সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আপনার দক্ষতা এবং আগ্রহ অনুযায়ী আপনি যেকোনো একটি বা একাধিক মাধ্যম বেছে নিতে পারেন। মোবাইল দিয়ে আয় করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো সময়ে কাজ করতে পারবেন এবং নিজের সময় নিজে ঠিক করতে পারবেন। আপনি যদি একজন ছাত্র হন তবে পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে পারবেন আর যদি গৃহিণী হন তবে ঘরের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কাজ করে আয় করতে পারবেন।

তবে মনে রাখতে হবে যে প্রথম দিকে আয় কম হবে এবং ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ করতে হবে তবেই ধীরে ধীরে আয় বাড়বে। অনেকে প্রথম মাসেই হাজার হাজার টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখেন কিন্তু বাস্তবতা হলো শুরুর দিকে হয়তো কয়েকশ টাকা বা এক দুই হাজার টাকা আয় হবে কিন্তু কয়েক মাস নিয়মিত কাজ করলে মাসে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে মোবাইল দিয়ে আয়ের উপায়

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে মোবাইল দিয়ে আয় করা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য একটি পদ্ধতি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ফাইভার আপওয়ার্ক ফ্রিল্যান্সার এবং পিপলপারআওয়ার এর মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে লাখ লাখ বায়ার রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সার খুঁজছেন। মোবাইল দিয়ে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন লোগো ডিজাইন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন ভিডিও এডিটিং কন্টেন্ট রাইটিং ডাটা এন্ট্রি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং আরো অনেক কাজ করতে পারবেন।

বর্তমানে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অনেক উন্নত হয়েছে এবং ক্যানভা, ইনশট, ক্যাপকাট এবং পিকসআর্ট এর মতো অ্যাপ দিয়ে প্রফেশনাল মানের ডিজাইন এবং ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ফাইভারে মোবাইল দিয়ে কাজ শুরু করতে হলে প্রথমে একটি প্রফেশনাল প্রোফাইল তৈরি করুন এবং আপনার দক্ষতা অনুযায়ী গিগ তৈরি করুন। গিগ হলো আপনার সার্ভিসের একটি প্যাকেজ যেখানে লেখা থাকে আপনি কী কাজ করবেন এবং কত টাকায় করবেন।

শুরুতে দাম কম রাখুন যাতে প্রথম কিছু অর্ডার পেতে পারেন এবং রিভিউ সংগ্রহ করতে চান। একবার ভালো রিভিউ পেলে আস্তে আস্তে দাম বাড়াতে পারবেন এবং বেশি অর্ডার পাবেন। আপওয়ার্ক এবং ফ্রিল্যান্সারে কাজ পেতে হলে ক্লায়েন্টদের জব পোস্টে প্রপোজাল পাঠাতে হয় যেখানে আপনি লিখবেন কেন আপনাকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। ভালো প্রপোজাল লেখা একটি স্কিল এবং এটি শিখতে সময় লাগে।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সফল হতে হলে ধৈর্য নিয়মিত কাজের মান এবং ভালো কমিউনিকেশন স্কিল অত্যন্ত জরুরি। প্রথম দিকে হয়তো কাজ পেতে সময় লাগবে কিন্তু একবার ভালো রেপুটেশন তৈরি হলে নিয়মিত কাজ এবং আয় পাওয়া সম্ভব এবং অনেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন শুধুমাত্র মোবাইল ব্যবহার করে।

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে মোবাইল থেকে আয় করার উপায়

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে মোবাইল থেকে আয় করার উপায় অনেকেই জানতে চান কারণ ইউটিউব থেকে আয় করা অনেক ইন্টারেস্টিং এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী একটি ক্যারিয়ার করতে পারবেন। বর্তমানে বাংলাদেশী অনেক ইউটিউবার শুধুমাত্র মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। ইউটিউবে সফল হতে হলে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট নিশ বা বিষয় বেছে নিতে হবে যেমন রান্না, টিউটোরিয়াল, মোটিভেশনাল কন্টেন্ট, টেকনোলজি রিভিউ, ভ্রমণ ভ্লগ, কমেডি বা শিক্ষামূলক কন্টেন্ট।
আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ এবং জ্ঞান আছে সেই বিষয়ে ভিডিও তৈরি করা উচিত কারণ তখন কাজটি আপনার কাছে সহজ এবং মজার মনে হবে। মোবাইল দিয়ে ভিডিও শুট করার জন্য ভালো আলো এবং পরিষ্কার শব্দ নিশ্চিত করতে হবে এবং ভিডিও এডিটিং এর জন্য ক্যাপকাট ইনশট বা কাইনমাস্টার এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনার চ্যানেলকে মনিটাইজ করতে হবে যার জন্য ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ টাইম বা ১০ মিলিয়ন শর্টস ভিউ প্রয়োজন। এই টার্গেট পূরণ করতে কয়েক মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে তবে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করলে এটি সম্ভব। মনিটাইজেশন পাওয়ার পর আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে এবং প্রতি হাজার ভিউতে আপনি টাকা পাবেন যা নির্ভর করে আপনার নিশ এবং দর্শকদের লোকেশনের উপর।

বাংলাদেশী কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সাধারণত প্রতি হাজার ভিউতে ১ থেকে ৩ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। ইউটিউবে সফল হতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে সপ্তাহে কমপক্ষে তিন থেকে চারটি ভিডিও। এছাড়া এসইও করতে হবে অর্থাৎ সঠিক টাইটেল ডেসক্রিপশন ট্যাগ এবং থাম্বনেইল ব্যবহার করতে হবে যাতে ভিডিও সার্চে আসে এবং বেশি মানুষ দেখে। ইউটিউব একটি প্যাসিভ ইনকামের উৎস হতে পারে যেখানে একবার ভিডিও আপলোড করলে সেটি বছরের পর বছর ভিউ পেতে থাকবে এবং আয় হতে থাকবে।

ফেসবুক দিয়ে কি মোবাইল থেকে ইনকাম করা যায়

ফেসবুক এবং টিকটক দিয়ে মোবাইল থেকে ইনকাম করা বর্তমানে অনেক সহজ হয়ে গেছে কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের সুযোগ দিচ্ছে। ফেসবুকে আয় করার জন্য প্রথমে একটি পেজ তৈরি করতে হবে এবং সেখানে নিয়মিত ভিডিও কন্টেন্ট পোস্ট করতে হবে। ফেসবুক মনিটাইজেশন পেতে হলে আপনার পেজে ১০ হাজার ফলোয়ার এবং গত ৬০ দিনে ৬০০ হাজার মিনিট ভিডিও ভিউ বা গত ৬০ দিনে ৬ লাখ শর্টস ভিউ প্রয়োজন।
ঘরে-বসে-মোবাইল-দিয়ে-ইনকাম-করা-যায়-কিভাবে-জানুন
ফেসবুকে ইন-স্ট্রিম অ্যাডস চালু হলে আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে এবং আয় হবে। ফেসবুক রিলস এবং শর্ট ভিডিও এখন খুবই জনপ্রিয় এবং এগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় যার ফলে দ্রুত মনিটাইজেশন পাওয়া সম্ভব। ফেসবুক থেকে মাসে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব যদি নিয়মিত ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরি করা যায়।

টিকটক একটি শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম যেখানে ১৫ সেকেন্ড থেকে ৩ মিনিটের ভিডিও তৈরি করা হয়। টিকটকে ভাইরাল হওয়া অনেক সহজ এবং কয়েক হাজার ফলোয়ার থেকেই ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ পাওয়া যায়। টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ড এবং লাইভ গিফটিং এর মাধ্যমে আয় করা যায়। লাইভ গিফটিং এ আপনি লাইভ স্ট্রিমিং করবেন এবং দর্শকরা ভার্চুয়াল গিফট পাঠাবে যা আপনি টাকায় রূপান্তর করতে পারবেন।

এছাড়া ব্র্যান্ড প্রমোশন এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং করেও টিকটক থেকে আয় করা যায়। ফেসবুক এবং টিকটক উভয় প্ল্যাটফর্মেই সফল হতে হলে ট্রেন্ডিং কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে এবং দর্শকদের সাথে নিয়মিত ইন্টারঅ্যাক্ট করতে হবে। কন্টেন্ট হতে হবে আকর্ষণীয় বিনোদনমূলক বা শিক্ষামূলক যাতে মানুষ শেয়ার করতে চায়। এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে অনেকে মাত্র কয়েক মাসেই হাজার হাজার টাকা আয় শুরু করেছেন।

অনলাইন সার্ভে করে কি মোবাইল থেকে আয় করা যায়

অনলাইন সার্ভে এবং মাইক্রো টাস্ক করে মোবাইল থেকে আয় করা একটি সহজ পদ্ধতি যেখানে বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন হয় না এবং যে কেউ শুরু করতে পারে। অনলাইন সার্ভে হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে মানুষের মতামত জানতে চায় এবং এর জন্য টাকা প্রদান করে। সুইগবাকস, টলুনা, ভাইফাইড এবং ওপিনিয়ন ওয়ার্ল্ড এর মতো সাইট এবং অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে আপনি বিভিন্ন সার্ভেতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

প্রতিটি সার্ভে সম্পন্ন করতে ৫ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে এবং আয় হয় ০.৫০ থেকে ৫ ডলার পর্যন্ত। তবে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশী ইউজারদের জন্য সার্ভের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং মাসে ১০ থেকে ২০ ডলার আয় করা সম্ভব। মাইক্রো টাস্ক হলো ছোট ছোট কাজ যেমন ডাটা এন্ট্রি ইমেজ ট্যাগিং কন্টেন্ট মডারেশন অ্যাপ টেস্টিং এবং ওয়েবসাইট ভিজিট করা। অ্যামাজন মেকানিক্যাল টার্ক ক্লিকওয়ার্কার মাইক্রোওয়ার্কার্স এবং এপেন এর মতো প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের কাজ পাওয়া যায়।
প্রতিটি টাস্ক থেকে আয় খুব কম হয় সাধারণত ০.০৫ থেকে ১ ডলার কিন্তু যদি দিনে ২০ থেকে ৩০টি টাস্ক সম্পন্ন করা যায় তবে মাসে ৫০ থেকে ১০০ ডলার আয় করা সম্ভব। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি খুবই সহজ এবং যে কেউ যেকোনো সময়ে করতে পারে এমনকি যাতায়াতের সময়ও। তবে এখানে আয় সীমিত এবং এটি পার্ট টাইম ইনকাম হিসেবে ভালো কিন্তু ফুল টাইম ইনকামের জন্য যথেষ্ট নয়। অনেকে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে শুরু করেন এবং পরবর্তীতে অন্য ভালো মাধ্যমে চলে যান।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কি মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায়

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করার পদ্ধতি একটি জনপ্রিয় এবং লাভজনক উপায় যেখানে আপনি অন্যের পণ্য বা সেবা প্রমোট করে কমিশন পান। এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল ধারণা হলো আপনি একটি কোম্পানির পণ্য আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেলে প্রমোট করবেন এবং আপনার লিংক দিয়ে যদি কেউ পণ্য ক্রয় করে তবে আপনি কমিশন পাবেন। বাংলাদেশে দারাজ এফিলিয়েট প্রোগ্রাম খুবই জনপ্রিয় যেখানে আপনি বিভিন্ন পণ্যের লিংক শেয়ার করে বিক্রয়ের উপর ১ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন পেতে পারেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম যেমন অ্যামাজন এসোসিয়েটস ক্লিকব্যাংক শেয়ারএসেল এবং সিজে এফিলিয়েট এও রেজিস্ট্রেশন করে কাজ করা যায়। মোবাইল দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে প্রথমে একটি নিশ বেছে নিন যেমন ফ্যাশন ইলেকট্রনিক্স বুক বা হেলথ প্রোডাক্ট। তারপর একটি ফেসবুক পেজ ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগ তৈরি করুন এবং সেখানে নিয়মিত কন্টেন্ট পোস্ট করুন যেখানে পণ্যের রিভিউ তুলনা এবং ব্যবহারের টিপস থাকবে। আপনার এফিলিয়েট লিংক ডেসক্রিপশন বা কমেন্টে দিন এবং মানুষকে উৎসাহিত করুন ক্লিক করতে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ সফল হতে হলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি কারণ মানুষ তখনই আপনার লিংকে ক্লিক করবে যখন তারা আপনাকে বিশ্বাস করবে। সততার সাথে পণ্যের ভালো এবং খারাপ দিক উল্লেখ করুন যাতে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে মাসে কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব যদি আপনার ভালো অডিয়েন্স বেস থাকে এবং সঠিক প্রোডাক্ট প্রমোট করেন। এটি একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স হতে পারে যেখানে একবার কন্টেন্ট তৈরি করলে দীর্ঘদিন আয় হতে থাকে।

কন্টেন্ট রাইটিং এবং ব্লগিং করে মোবাইল থেকে আয়

কন্টেন্ট রাইটিং এবং ব্লগিং করে মোবাইল থেকে আয় করা একটি দক্ষতা নির্ভর কাজ যেখানে আপনি আপনার লেখালেখির মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারেন। কন্টেন্ট রাইটিং হলো অন্যদের জন্য আর্টিকেল ব্লগ পোস্ট প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং স্ক্রিপ্ট লেখা। ফাইভার আপওয়ার্ক এবং ফ্রিল্যান্সার এ কন্টেন্ট রাইটিং এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং প্রতি ৫০০ শব্দের আর্টিকেলের জন্য ৫ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায় যা নির্ভর করে আপনার অভিজ্ঞতা এবং নিশের উপর।

বাংলাদেশী অনেক কন্টেন্ট রাইটার আছেন যারা মাসে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে লিখে। মোবাইল দিয়ে লেখা সহজ করতে গুগল ডক্স বা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন এবং ভয়েস টাইপিং ফিচার ব্যবহার করলে আরো দ্রুত লেখা যায়। ব্লগিং হলো নিজের একটি ব্লগ সাইট তৈরি করা এবং সেখানে নিয়মিত আর্টিকেল লিখে গুগল অ্যাডসেন্স এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং স্পন্সরশিপ থেকে আয় করা। ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেস এ একটি ব্লগ তৈরি করা খুবই সহজ এবং মোবাইল দিয়েই সব কাজ করা যায়।

একটি নিশ বেছে নিন যেমন টেকনোলজি হেলথ ফাইন্যান্স বা লাইফস্টাইল এবং সেই বিষয়ে নিয়মিত ভালো মানের আর্টিকেল লিখুন। এসইও শিখুন যাতে আপনার আর্টিকেল গুগল সার্চে র‍্যাঙ্ক করে এবং অর্গানিক ট্রাফিক পান। গুগল অ্যাডসেন্স পেতে হলে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০টি মানসম্মত আর্টিকেল এবং ভালো ট্রাফিক প্রয়োজন। একবার অ্যাডসেন্স পেলে আপনার ব্লগের ভিজিটর সংখ্যা অনুযায়ী আয় হতে থাকবে। ব্লগিং একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া যেখানে প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছর তেমন আয় নাও হতে পারে কিন্তু একবার ব্লগ জনপ্রিয় হলে মাসে ২০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত প্যাসিভ ইনকাম হতে পারে।

অনলাইন টিচিং করে কি মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায়

অনলাইন টিচিং এবং কোর্স বিক্রয় করে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা একটি সম্মানজনক এবং লাভজনক উপায় যেখানে আপনার জ্ঞান এবং দক্ষতা শেয়ার করে টাকা আয় করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষার চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষ ঘরে বসে নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী। আপনি যদি কোনো বিষয়ে ভালো জানেন যেমন ইংরেজি ম্যাথ প্রোগ্রামিং গ্রাফিক্স ডিজাইন ডিজিটাল মার্কেটিং বা যেকোনো স্কিল তবে সেটি অনলাইনে শেখাতে পারেন।

জুম গুগল মিট বা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল দিয়ে মোবাইল থেকেই লাইভ ক্লাস নেওয়া যায় এবং প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ করা যায় বিষয় এবং আপনার অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। ফেসবুক গ্রুপ পেজ বা ইউটিউবে নিজেকে প্রমোট করুন এবং ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ করুন। অনলাইন কোর্স তৈরি করা হলো একটি প্যাসিভ ইনকাম মডেল যেখানে আপনি একবার কোর্স তৈরি করবেন এবং বারবার বিক্রয় করবেন।

ইউডেমি স্কিলশেয়ার টিচেবল বা থিংকিফিক এর মতো প্ল্যাটফর্মে কোর্স আপলোড করতে পারেন বা নিজের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজে বিক্রয় করতে পারেন। মোবাইল দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করুন পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড বা স্ক্রিন রেকর্ডিং করুন এবং একটি সম্পূর্ণ কোর্স তৈরি করুন। কোর্সের দাম ৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাখতে পারেন এবং মাসে যদি ৫০ থেকে ১০০ জন কোর্স কিনে তবে মাসে ২৫ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় সম্ভব।

অনলাইন টিচিং এবং কোর্স বিক্রয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একটি সম্মানজনক পেশা এবং আপনি মানুষের উপকার করতে পারছেন এবং একই সাথে আয়ও করছেন। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই বিষয়ে দক্ষ হতে হবে এবং ভালোভাবে শেখাতে পারতে হবে তবেই সফল হবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করে কি আয় করা যায়

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা প্রদান করে মোবাইল দিয়ে আয় করা বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় এবং চাহিদাপূর্ণ একটি কাজ। প্রতিটি ব্যবসা এখন অনলাইনে উপস্থিতি চায় এবং তাদের ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম টিকটক এবং লিংকডইন পেজ ম্যানেজ করার জন্য দক্ষ মানুষ খুঁজছে। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে আপনার কাজ হবে ক্লায়েন্টের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করা পোস্ট তৈরি এবং শিডিউল করা কমেন্ট এবং মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া এবং ফলোয়ার বৃদ্ধির জন্য কৌশল প্রয়োগ করা।
মোবাইল দিয়ে ক্যানভা দিয়ে পোস্ট ডিজাইন করা ভিডিও এডিট করা এবং ফেসবুক বিজনেস ম্যানেজার দিয়ে পেজ ম্যানেজ করা সম্পূর্ণ সম্ভব। প্রতিটি ক্লায়েন্টের জন্য মাসে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ করা যায় এবং যদি ১০টি ক্লায়েন্ট থাকে তবে মাসে ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় সম্ভব। ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা হলো ক্লায়েন্টের জন্য ফেসবুক অ্যাড গুগল অ্যাড এসইও ইমেইল মার্কেটিং এবং কন্টেন্ট মার্কেটিং করা।

এই কাজ শিখতে হলে ফ্রি অনলাইন কোর্স করতে পারেন যেমন গুগল ডিজিটাল আনলকড বা ফেসবুক ব্লুপ্রিন্ট। মোবাইল দিয়ে ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন চালানো যায় এবং ক্লায়েন্টের বিক্রয় বাড়ানো যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি শুরু করতে পারেন এবং লোকাল ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে পারেন।

এই কাজের চাহিদা প্রতিদিন বাড়ছে কারণ প্রতিটি ব্যবসা এখন অনলাইনে মার্কেটিং করতে চায়। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কিছু সময় লাগলেও একবার শিখে ফেললে এটি একটি চমৎকার ক্যারিয়ার এবং আয়ের উৎস হতে পারে। এই কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সম্পূর্ণ মোবাইল ফ্রেন্ডলি এবং যেকোনো জায়গা থেকে করা যায়।

মোবাইল দিয়ে আয় করতে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন

মোবাইল দিয়ে আয় করতে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন সেগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনলাইনে অনেক জালিয়াতি এবং স্ক্যাম রয়েছে। প্রথমত যেকোনো সাইট বা অ্যাপ যদি আপনাকে বলে যে রেজিস্ট্রেশন ফি দিলে বা কোনো প্যাকেজ কিনলে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারবেন তবে সেটি অবশ্যই স্ক্যাম। মনে রাখবেন সত্যিকারের অনলাইন আয়ের প্ল্যাটফর্মে কখনো আপনার কাছে টাকা চায় না বরং আপনাকে টাকা দেয়।

দ্বিতীয়ত এমএলএম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং স্কিম থেকে দূরে থাকুন যেখানে আপনাকে অন্যদের রেফার করে টাকা আয়ের কথা বলা হয়। এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পিরামিড স্কিম এবং শেষে আপনি টাকা হারাবেন। তৃতীয়ত কোনো সাইট যদি দাবি করে যে আপনি মাত্র ক্লিক করে বা অ্যাড দেখে দিনে হাজার টাকা আয় করতে পারবেন তবে সেটিও মিথ্যা কারণ এত সহজে কখনো বেশি টাকা আয় হয় না।
এফিলিয়েট-মার্কেটিং-করে-কি-মোবাইল-দিয়ে-ইনকাম-করা-যায়
চতুর্থত আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার বা বিকাশ পিন কখনো কাউকে দেবেন না এমনকি যদি সে বলে যে আপনার অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট পাঠাবে। পঞ্চমত খুব তাড়াহুড়া করবেন না এবং ধৈর্য হারাবেন না। অনলাইন আয় একটি ধীর প্রক্রিয়া এবং প্রথম কয়েক মাস কম আয় হতে পারে কিন্তু সেটি দেখে হতাশ হয়ে ছেড়ে দেবেন না।

ষষ্ঠ বিষয় হলো একসাথে অনেকগুলো প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু না করে একটি বা দুইটি প্ল্যাটফর্মে ফোকাস করুন এবং সেখানে ভালোভাবে কাজ শিখুন। সপ্তমত ফ্রি ট্রেনিং বা কোর্সের নামে যদি কেউ টাকা চায় তবে সতর্ক থাকুন কারণ ইউটিউবে এবং অনলাইনে অনেক ফ্রি রিসোর্স আছে যেখান থেকে আপনি শিখতে পারবেন। এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনি নিরাপদে মোবাইল দিয়ে আয় করতে পারবেন এবং স্ক্যামের শিকার হওয়া থেকে বাঁচবেন।

লেখকের শেষ কথা

আমাদের মনে রাখতে হবে সফলতার জন্য কোনো শর্টকাট নেই এবং যারা শর্টকাট খুঁজে তারাই সাধারণত স্ক্যামের শিকার হন। বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্মে কাজ করুন স্ক্যাম থেকে সতর্ক থাকুন এবং নিজেকে উন্নত করতে থাকুন। অনলাইন আয় শুধু টাকা পাওয়ার মাধ্যম নয় বরং এটি আপনাকে নতুন দক্ষতা শেখায় এবং স্বাবলম্বী করে তোলে।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায় কিভাবে, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে মোবাইল দিয়ে আয়ের উপায়, ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে মোবাইল থেকে আয় করার উপায়, ফেসবুক দিয়ে কি মোবাইল থেকে ইনকাম করা যায়, অনলাইন সার্ভে করে কি মোবাইল থেকে আয় করা যায়, এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কি মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায়, কন্টেন্ট রাইটিং এবং ব্লগিং করে মোবাইল থেকে আয়, অনলাইন টিচিং করে কি মোবাইল দিয়ে ইনকাম করা যায়, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করে কি আয় করা যায়, মোবাইল দিয়ে আয় করতে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url