নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

চোখের নিচে কালো দাগ ও গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম জানাটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করার মাধ্যমে ত্বক সুন্দর রাখতে চান।
নিম-পাতা-ও-কাঁচা-হলুদ-মুখে-দেওয়ার-নিয়ম
নিম পাতা এবং কাঁচা হলুদ এমন দুটি প্রাকৃতিক উপাদান যা সহজেই পাওয়া যায় এবং এগুলো ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকরী। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহার করে কিভাবে ত্বক উজ্জ্বল করা যায়।

পেজ সূচিপত্রঃ নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে কেন এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান একসাথে ব্যবহার করা হয়। নিম পাতা হলো প্রকৃতির একটি ঔষধি গাছ যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণাগুণ। অন্যদিকে কাঁচা হলুদে রয়েছে কারকিউমিন নামক একটি উপাদান যা ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। যখন এই দুটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয় তখন এদের গুণ অনেক বেড়ে যায় এবং যার ফলে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

অনেক আগে থেকেই মেয়েদের বিয়ের আগে নিম পাতা ও হলুদ বাটা মুখে ব্যবহার করা হয় কারণ এটি ত্বককে সুন্দর এবং উজ্জ্বল করে তোলে। নিয়মিত নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহার করলে ত্বকের ব্রণ কালো দাগ এবং অন্যান্য সমস্যা দূর করা যায়। এটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য নয় বরং ছেলেরাও এটি ব্যবহার করে তাদের ত্বকের যত্ন নিতে পারে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো এটি প্রাকৃতিক এবং কোনো ক্ষতি নেই যদি সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা হয়।

নিম পাতা ও কাঁচা ত্বকে কেন ব্যবহার করবেন

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম জানার আগে জানতে হবে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের উপকারিতা এবং ত্বকে কেন ব্যবহার করবেন। নিম পাতায় রয়েছে নিম্বিডিন এবং নিম্বিন নামক দুটি শক্তিশালী উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে মেরে ফেলে এবং নতুন ব্রণ হওয়া থেকে রক্ষা করে। নিম পাতার রস ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বককে সতেজ রাখে। এছাড়া নিম পাতায় রয়েছে অ্যান্টি এজিং উপাদান যা ত্বকের বলিরেখা এবং বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে কাঁচা হলুদ হলো একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। হলুদের কারকিউমিন উপাদান ত্বকের কালো দাগ এবং রঙের অসমতা দূর করতে অসাধারণ কাজ করে। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল এবং মসৃণ। হলুদ রোদে পোড়া ত্বক সারাতে বিশেষভাবে কার্যকর এবং এটি ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে ত্বককে ঠাণ্ডা রাখে। এই কারণেই হাজার বছর ধরে আমাদের দেশে এই দুটি উপাদান একসাথে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ বাটা কিভাবে বানাবেন

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ বাটা তৈরি করার সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরি কারণ ভুল পদ্ধতিতে তৈরি করলে এর উপকারিতা অনেক কমে যেতে পারে। প্রথমে আপনাকে তাজা নিম পাতা সংগ্রহ করতে হবে। একমুঠো পরিমাণ নিম পাতা নিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন যাতে কোনো ধুলোবালি বা পোকামাকড় থেকে যেতে না পারে। এরপর পাতাগুলো একটু শুকিয়ে নিতে হবে যাতে অতিরিক্ত পানি না থাকে। একইভাবে একটি ছোট টুকরো কাঁচা হলুদ নিয়ে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করুন এবং বাইরের খোসা ছাড়িয়ে নিন।
এবার একটি পরিষ্কার পাথরের শিল বা ব্লেন্ডার নিয়ে নিম পাতা এবং হলুদ একসাথে বাটতে শুরু করুন। বাটার সময় অল্প একটু পানি বা দুধ যোগ করতে পারেন যাতে পেস্টটি মসৃণ হয়। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয় তবে দুধ ব্যবহার করুন আর যদি তৈলাক্ত হয় তবে সাধারণ পানি ব্যবহার করুন। তবে মনে রাখবেন পেস্টটি খুব বেশি পাতলা বা খুব বেশি ঘন হওয়া উচিত নয় এটি এমন হতে হবে যাতে মুখে সহজে লাগানো যায় এবং পড়ে না যায়। এই পেস্টটি তৈরি করার পর সাথে সাথে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো কারণ তাজা পেস্টে উপাদানগুলোর উপকারিতা বেশি থাকে।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার ক্ষতি কি

সাধারণত নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দিলে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না তবে কিছু বিশেষ সতর্কতা আমাদের মেনে চললে ভালো হয়। প্রথমত নিম পাতা ও হলুদ বাটা লাগানোর আগে অবশ্যই আপনার মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। একটি ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে সমস্ত ময়লা এবং মেকআপ তুলে ফেলুন। মুখ পরিষ্কার না করে সরাসরি মাস্ক লাগালে উপাদানগুলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং কার্যকারিতা অনেক কমে যাবে। মুখ ধোয়ার পর একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে হালকা করে মুখ মুছে নিন।
নিম-পাতা-ও-কাঁচা-হলুদ-মুখে-দেওয়ার-নিয়ম-জানুন
দ্বিতীয়ত আপনার ত্বকে কোনো কাটা জায়গা বা খোলা ঘা থাকলে সেখানে নিম পাতা ও হলুদ বাটা লাগাবেন না কারণ এটি জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে হলুদ অনেক শক্তিশালী এবং খোলা ক্ষতে লাগলে ব্যথা হতে পারে। আপনার ত্বক যদি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয় তবে প্রথমবার ব্যবহারের আগে একটি ছোট্ট প্যাচ টেস্ট করে নিন। হাতের কব্জিতে অল্প একটু পেস্ট লাগিয়ে দেখুন কোনো এলার্জি হয় কিনা।

যদি ১৫ মিনিটের মধ্যে কোনো চুলকানি বা লাল হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে সেটি আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। এছাড়া মাস্ক লাগানোর সময় চোখের চারপাশ এড়িয়ে যাবেন কারণ চোখের ত্বক খুবই নাজুক এবং সেখানে এই উপাদান লাগালে সমস্যা হতে পারে। এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনি নিরাপদে এবং কার্যকরভাবে নিম পাতা ও হলুদ বাটা ব্যবহার করতে পারবেন।

নিম পাতা ও হলুদ বাটা কতক্ষণ মুখে লাগাতে হয়

নিম পাতা ও হলুদ বাটা মুখে লাগানোর নিয়ম এবং কতক্ষণ মুখে লাগাতে হয় এ বিষয়ে জানলে আপনি এই মাস্ক টি আরো ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। যখন আপনার পেস্ট তৈরি হয়ে যাবে এবং মুখ পরিষ্কার করা হবে তখন একটি পরিষ্কার ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে মাস্কটি মুখে লাগাতে শুরু করুন। মনে রাখবেন মাস্ক লাগানোর সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে হালকা করে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করতে করতে লাগান। এতে ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং উপাদানগুলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। পুরো মুখে সমান ভাবে পেস্ট লাগান কিন্তু চোখের চারপাশ এবং ঠোঁটে লাগানো এড়িয়ে যান।

মাস্ক লাগানোর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কতক্ষণ রাখবেন। নিম পাতা ও হলুদ বাটা মুখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখা সবচেয়ে সেরা। এই সময়ের মধ্যে উপাদানগুলো ত্বক থেকে ময়লা এবং তেল শোষণ করে নেয় এবং তাদের পুষ্টি উপাদান ত্বকে প্রবেশ করে। খুব বেশি সময় রাখলে মাস্ক শুকিয়ে গিয়ে ত্বকে আটকে যেতে পারে এবং তুলতে গিয়ে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। আবার খুব কম সময় রাখলে পুরো উপকারিতা পাবেন না। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন এবং ত্বকে একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

নিম পাতা ও হলুদের ব্যবহারে কি ব্রণের দাগ দূর হয়

ব্রণ এবং ব্রণের দাগ দূর করতে নিম পাতা ও হলুদের ব্যবহার করলে অনেক সাহায্য করতে পারে। ব্রণ হলো ত্বকের তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট একটি সমস্যা যা বিশেষত তরুণদের মধ্যে খুবই সাধারণ। নিম পাতার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং ত্বকের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে। অন্যদিকে হলুদের অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্রণের ফোলাভাব এবং লালচে ভাব কমিয়ে দেয়। যখন এই দুটি উপাদান একসাথে মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করা হয় তখন ব্রণের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
ব্রণের দাগ যা আমাদের মুখে কালো বা বাদামি দাগ হয়ে থেকে যায় সেগুলো দূর করতেও এই মিশ্রণ বিশেষভাবে কার্যকর। হলুদের কারকিউমিন ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দেয় যার ফলে কালো দাগ হালকা হতে শুরু করে। নিম পাতা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন স্বাস্থ্যকর ত্বক তৈরিতে সহায়তা করে। যদি আপনার মুখে পুরোনো ব্রণের দাগ থাকে তবে এই মাস্কটি কমপক্ষে তিন মাস নিয়মিত সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন।

নিম পাতা ও হলুদের মাস্ক ব্যবহার করলে কি ত্বক ফর্সা হয়

ত্বক ফর্সা এবং উজ্জ্বল করতে নিম পাতা ও হলুদের মাস্ক ব্যবহার করা হাজার বছরের পুরোনো একটি পদ্ধতি। আমাদের দেশে বিয়ের আগে মেয়েদের গায়ে হলুদ দেওয়ার যে ঐতিহ্য রয়েছে তার মূল কারণ হলো হলুদ ত্বককে উজ্জ্বল এবং মসৃণ করে তোলে। নিম পাতা যোগ করলে এর কার্যকারিতা আরো বেড়ে যায় কারণ নিম পাতা ত্বক থেকে ময়লা এবং অতিরিক্ত তেল দূর করে ত্বককে পরিষ্কার রাখে। এছাড়া নিম পাতায় রয়েছে ভিটামিন ই যা ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং ত্বককে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দেয়।

যদি আপনি আপনার ত্বককে দ্রুত ফর্সা এবং উজ্জ্বল করতে চান তবে নিম পাতা ও হলুদ বাটার সাথে একটু দুধ এবং মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। দুধে থাকা ল্যাকটিক এসিড ত্বকের মৃত কোষ তুলে ফেলে এবং মধু ত্বককে আর্দ্র রাখে। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে তিনবার নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার ত্বক স্বাভাবিকভাবেই ফর্সা হতে শুরু করবে। মনে রাখবেন ত্বক ফর্সা করার অর্থ এই নয় যে আপনার প্রাকৃতিক রং পরিবর্তন হবে বরং আপনার ত্বক পরিষ্কার উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে যার ফলে ত্বক দেখতে উজ্জ্বল লাগবে।

নিম পাতা ব্যবহার করলে কি ত্বকের তেল দূর হয়

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ হলো সবচেয়ে উত্তম প্রাকৃতিক সমাধান যা আপনার ত্বককে ম্যাট এবং তেলমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বক হলো এমন একটি সমস্যা যেখানে ত্বকের তেল গ্রন্থি অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে যার ফলে মুখ চকচক করে এবং ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নিম পাতায় থাকা প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট গুণাগুণ ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ছিদ্র সংকুচিত করে দেয়। এতে করে ত্বক দেখতে মসৃণ হয় এবং তেলের পরিমাণ অনেক কমে যায়।

যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদের জন্য নিম পাতা ও হলুদ বাটার সাথে অল্প একটু লেবুর রস এবং মুলতানি মাটি মিশিয়ে নিতে পারেন। এই মিশ্রণটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয় এবং ত্বককে ফ্রেশ রাখে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই মাস্ক সপ্তাহে অন্তত তিনবার ব্যবহার করা উচিত বিশেষত গ্রীষ্মকালে যখন তেলের সমস্যা বেশি হয়। মাস্ক লাগানোর পর যখন ধুয়ে ফেলবেন তখন শেষে একবার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন যাতে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং তেল কম বের হয়।

এছাড়া তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো মাস্ক ব্যবহারের পর কোনো ভারী ক্রিম ব্যবহার করবেন না বরং একটি হালকা জেল টাইপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। নিম পাতা ও হলুদ নিয়মিত ব্যবহারে তৈলাক্ত ত্বক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বক দেখতে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর হয়।

 নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহারে কি এলার্জি হয়

সংবেদনশীল ত্বকে নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহারের সতর্কতা থাকা জরুরি কারণ এই ত্বক সহজেই জ্বালাপোড়া বা এলার্জিতে আক্রান্ত হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক হলো এমন একটি ত্বক যা বেশিরভাগ প্রোডাক্ট সহ্য করতে পারে না এবং দ্রুত লাল হয়ে যায় বা চুলকায়। যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল হয় তবে নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিন। হাতের কনুইয়ের ভেতরের দিকে বা কানের পেছনে একটু মাস্ক লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি কোনো লালচে ভাব চুলকানি বা জ্বালাপোড়া না হয় তবেই মুখে ব্যবহার করুন।
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নিম পাতা ও হলুদের পরিমাণ কম রাখা উচিত এবং এর সাথে দই বা গোলাপজল মেশানো ভালো। দই ত্বককে ঠাণ্ডা রাখে এবং জ্বালাপোড়া কমায়। এছাড়া সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে মাস্ক ১৫ মিনিটের বেশি রাখবেন না এবং সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার করবেন না। যদি মাস্ক লাগানোর সময় বা পরে কোনো অস্বস্তি অনুভব করেন তবে সাথে সাথে ধুয়ে ফেলুন। অনেকের ক্ষেত্রে নিম বা হলুদে এলার্জি থাকতে পারে এবং সেক্ষেত্রে এই মাস্ক ব্যবহার না করাই ভালো।

নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহারে যে ভুল হয়ে থাকে

নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহারে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন সেগুলো জানা থাকলে আপনি ভালো ফলাফল পাবেন এবং কোনো ক্ষতি এড়াতে পারবেন। প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ভুল হলো খুব বেশি পরিমাণ হলুদ ব্যবহার করা। হলুদ অত্যন্ত শক্তিশালী একটি উপাদান এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকে হলুদ রং থেকে যেতে পারে যা সহজে যায় না। সবসময় অল্প পরিমাণ হলুদ ব্যবহার করুন এবং নিম পাতার পরিমাণ বেশি রাখুন।
নিম-পাতা-ও-হলুদ-ব্যবহারে-যে-ভুল-হয়ে-থাকে
দ্বিতীয় ভুল হলো মাস্ক খুব বেশিক্ষণ রেখে দেওয়া। কেউ কেউ মনে করেন যে বেশিক্ষণ রাখলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে কিন্তু বাস্তবে এটি ত্বক শুকিয়ে ফেলতে পারে এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তৃতীয় ভুল হলো প্রতিদিন এই মাস্ক ব্যবহার করা। প্রাকৃতিক উপাদান হলেও এগুলো শক্তিশালী এবং প্রতিদিন ব্যবহারে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার যথেষ্ট। চতুর্থ ভুল হলো মাস্ক ধোয়ার সময় ঘষে ঘষে তোলা। মাস্ক যখন শুকিয়ে যায় তখন অনেকে জোরে ঘষতে থাকেন যা ত্বকের ক্ষতি করে।

সবসময় পানি দিয়ে মাস্ক ভিজিয়ে নরম করুন তারপর আলতো করে তুলে ফেলুন। পঞ্চম ভুল হলো রোদে যাওয়ার আগে মাস্ক ব্যবহার করা। হলুদ ত্বককে আলোর প্রতি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে তাই মাস্ক ব্যবহারের পর কমপক্ষে এক ঘণ্টা ঘরে থাকুন এবং বাইরে যেতে হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চললে আপনি নিম পাতা ও হলুদ থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাবেন এবং আপনার ত্বক হবে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর।

লেখকের শেষ কথা

আমাদের মনে রাখতে হবে ত্বকের যত্ন হলো একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এতে ধৈর্য প্রয়োজন। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আশা করবেন না বরং নিয়মিত সঠিক নিয়মে নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহার করুন এবং আপনার ত্বকের উন্নতি লক্ষ্য করুন। এছাড়া স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম হলো সুন্দর ত্বকের মূল ভিত্তি। বাইরে থেকে যত যত্নই নিন না কেন ভেতর থেকে যদি শরীর সুস্থ না থাকে তবে ত্বক সুন্দর হবে না।

প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে পারে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম, নিম পাতা ও কাঁচা ত্বকে কেন ব্যবহার করবেন, নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ বাটা কিভাবে বানাবেন, নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার ক্ষতি কি, নিম পাতা ও হলুদ বাটা কতক্ষণ মুখে লাগাতে হয়, নিম পাতা ও হলুদের ব্যবহারে কি ব্রণের দাগ দূর হয়, নিম পাতা ও হলুদের মাস্ক ব্যবহার করলে কি ত্বক ফর্সা হয়, নিম পাতা ব্যবহার করলে কি ত্বকের তেল দূর হয়, নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহারে কি এলার্জি হয়, নিম পাতা ও হলুদ ব্যবহারে যে ভুল হয়ে থাকে ইত্যাদি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url