পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে
Whatsapp এ ডিলিট করা মেসেজ দেখার উপায়
পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে সেটা না জেনে কিনতে গেলে অনেক সময় ভালো
দাম দিয়েও খারাপ পণ্য হাতে আসতে পারে, আর পরে মেরামত করতে গিয়ে নতুন কেনার
চেয়েও বেশি খরচ হয়ে যায়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে কোন কোন
বিষয়গুলো ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে, কোথা থেকে কিনলে ভালো হয় এবং কীভাবে ঠকে
না গিয়ে সঠিক দামে ভালো মানের সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ পাওয়া যায়।
পেজ সূচিপত্রঃ পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে
- পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে
- ল্যাপটপের প্রসেসর ও র্যাম যেভাবে যাচাই করবেন
- ব্যাটারি ও চার্জিং পোর্ট পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি
- স্ক্রিন ও ডিসপ্লে প্যানেল ভালো করে দেখুন
- হার্ডডিস্ক ও এসএসডির অবস্থা কীভাবে বুঝবেন
- কীবোর্ড ট্র্যাকপ্যাড ও পোর্টগুলো পরীক্ষা করুন
- ল্যাপটপের বডি ও কুলিং সিস্টেম দেখুন
- অপারেটিং সিস্টেম ও লাইসেন্স যাচাই করার নিয়ম
- কোথা থেকে পুরাতন ল্যাপটপ কিনলে নিরাপদ হবেন
- লেখকের শেষ কথা
পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে
পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো আপনার নিজের ব্যবহারের
উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা, কারণ শুধু মাইক্রোসফট অফিস ও
ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য যে কনফিগারেশন যথেষ্ট সেটা দিয়ে ভিডিও এডিটিং
বা গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করা সম্ভব হবে না। বাজেট ঠিক করার আগে বুঝুন আপনার
কতটুকু পারফরম্যান্স দরকার এবং সেই অনুযায়ী কনফিগারেশনের তালিকা তৈরি করুন,
তাহলে বিক্রেতার কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত
নিতে পারবেন।
আমি নিজে একবার তাড়াহুড়ো করে সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কিনেছিলাম এবং বাড়ি
এসে দেখলাম ব্যাটারি মাত্র ২০ মিনিট চলে, স্ক্রিনে একটা মরা পিক্সেলের দাগ
আছে এবং কুলিং ফ্যান এত শব্দ করে যে পাশের মানুষ বিরক্ত হয়ে যায়। সেই ভুল
থেকে শিক্ষা নিয়েই এই আর্টিকেলটি লিখছি যাতে আপনাকে একই অভিজ্ঞতার মধ্যে
দিয়ে যেতে না হয় এবং সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
পুরাতন ল্যাপটপের বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সাধারণত তিন থেকে পাঁচ
বছরের মধ্যের ল্যাপটপ কেনা সবচেয়ে ভালো কারণ এর বেশি পুরনো হলে খুচরা
যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হয়ে যায় এবং মেরামতের খরচ অনেক বেড়ে যায়।
ল্যাপটপের মডেল নম্বর জেনে অনলাইনে সার্চ করলে সেই মডেলের সাধারণ সমস্যা ও
ব্যবহারকারীর রিভিউ পাওয়া যায় যা কেনার আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
ল্যাপটপের প্রসেসর ও র্যাম যেভাবে যাচাই করবেন
ল্যাপটপের প্রসেসর ও র্যাম যাচাই করা পুরাতন ল্যাপটপ কেনার সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি কারণ এই দুটি উপাদানই মূলত ল্যাপটপের গতি ও
পারফরম্যান্স নির্ধারণ করে এবং প্রসেসর পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।
ল্যাপটপটি চালু করে This PC বা My Compute এ ডান ক্লিক করে Properties এ
গেলেই প্রসেসরের নাম, গতি এবং র্যামের পরিমাণ দেখা যাবে এবং সেটা
বিক্রেতার দাবির সাথে মিলিয়ে দেখুন।
বর্তমানে সাধারণ কাজের জন্য Intel Core i3 বা AMD Ryzen 3 এর সাথে ৮ জিবি
র্যাম যথেষ্ট, তবে একটু ভারি কাজের জন্য Core i5 বা Ryzen 5 এবং ১৬ জিবি
র্যাম থাকলে ভালো হয়। Task Manager খুলে CPU, Memory ও Disk ট্যাবে
গিয়ে দেখুন কোনো অস্বাভাবিক লোড আছে কিনা কারণ পরিষ্কার অবস্থায় CPU
ব্যবহার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। এর পাশাপাশি
আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে প্রসেসরগুলো কোন জেনারেশনের।
র্যাম আপগ্রেড করা যাবে কিনা সেটাও জেনে নেওয়া দরকার কারণ অনেক আধুনিক
ল্যাপটপে র্যাম মাদারবোর্ডে সোল্ডার করা থাকে এবং পরে বাড়ানো সম্ভব হয়
না। CPU-Z বা Speccy র মতো ফ্রি সফটওয়্যার ইনস্টল করে আরো বিস্তারিত
হার্ডওয়্যার তথ্য দেখা যায় যা প্রসেসরের প্রকৃত ক্ষমতা ও র্যামের ধরন
সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেবে। এই জন্য আমাদের পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে
যা দেখতে হবে বিষয় টি জানতে হবে।
ব্যাটারি ও চার্জিং পোর্ট পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি
ব্যাটারি ও চার্জিং পোর্ট পরীক্ষা করা পুরাতন ল্যাপটপ কেনার সময়
সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয় এবং এই অবহেলাই পরবর্তীতে সবচেয়ে বেশি
সমস্যা ও অতিরিক্ত খরচের কারণ হয়। ল্যাপটপটি চার্জার থেকে খুলে
দেখুন কতটুকু চার্জ দেখাচ্ছে এবং কত দ্রুত কমছে কারণ ৩ থেকে ৫ বছরের
পুরনো ল্যাপটপে ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু
সেটার কথা বিক্রেতা সহজে বলেন না।
Windows ল্যাপটপে Command Prompt খুলে powercfg বা batteryreport
কমান্ড দিলে বিস্তারিত ব্যাটারি রিপোর্ট তৈরি হয় যেখানে ব্যাটারির
মূল ক্ষমতা এবং বর্তমান ক্ষমতার তুলনা দেখা যায়। যদি বর্তমান ক্ষমতা
মূল ক্ষমতার ৬০ শতাংশের কম হয় তাহলে ব্যাটারি শিগগিরই পরিবর্তন করতে
হবে এবং সেই খরচটা দামের সাথে হিসাব করে নেওয়া দরকার।
চার্জিং পোর্ট নড়বড়ে কিনা, চার্জার লাগালে চার্জিং ইন্ডিকেটর জ্বলে
কিনা এবং নির্দিষ্ট কোণে ধরলে চার্জিং বন্ধ হয়ে যায় কিনা সেটা
অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে। পোর্ট আলগা থাকলে বা ঠিকমতো চার্জ না হলে
মেরামতে অনেক খরচ লাগে বলে এই ধাপটা এড়িয়ে গেলে পরে পস্তাতে হতে
পারে।
স্ক্রিন ও ডিসপ্লে প্যানেল ভালো করে দেখুন
স্ক্রিন ও ডিসপ্লে প্যানেল পরীক্ষা করা পুরাতন ল্যাপটপ কেনার
সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ ডিসপ্লের সমস্যা চোখের জন্য ক্ষতিকর
এবং পুরাতন ল্যাপটপের স্ক্রিন পরিবর্তন করলে অনেক টাকা খরচ হয়।
স্ক্রিনটি সম্পূর্ণ সাদা বা কালো রঙে ভরিয়ে দিয়ে দেখুন কোথাও
মরা পিক্সেল আছে কিনা, স্ক্রিনের কোনো কোণে কোনো দাগ বা ছায়া
পড়ছে কিনা এবং উজ্জ্বলতা সঠিকভাবে কমবাড়ছে কিনা।
বিভিন্ন কোণ থেকে স্ক্রিন দেখুন কারণ কিছু পুরনো TN প্যানেলের
স্ক্রিন কোণ পরিবর্তন করলে রঙ ও উজ্জ্বলতা অনেক বদলে যায় যা
দীর্ঘ সময় ব্যবহারে চোখের অস্বস্তি তৈরি করে। IPS বা OLED
প্যানেলের স্ক্রিন থাকলে সেটা অনেক বেশি সুবিধাজনক এবং পুরাতন
ল্যাপটপে এই ধরনের স্ক্রিন থাকলে সেটা একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে
বিবেচনা করতে পারেন।
স্ক্রিনের কব্জা বা হিঞ্জ পরীক্ষা করতে ভুলবেন না কারণ ঢাকনা
বারবার খোলা ও বন্ধ করায় হিঞ্জ ক্ষয় হয়ে যায় এবং হিঞ্জ ভেঙে
গেলে মেরামতে বড় খরচ লাগে। ল্যাপটপের ঢাকনা আস্তে আস্তে বিভিন্ন
কোণে রেখে দেখুন এটি নিজে নিজে খুলে বা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিনা
কারণ হিঞ্জের টান সঠিক থাকলে যেকোনো কোণে রাখলেও স্ক্রিন সেই
অবস্থানেই থাকবে। পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে
জানা থাকলে আপনি সহজেই পুরাতন ল্যাপটপ কিনতে পারবেন।
হার্ডডিস্ক ও এসএসডির অবস্থা কীভাবে বুঝবেন
হার্ডডিস্ক ও এসএসডির অবস্থা বোঝা পুরাতন ল্যাপটপ কেনার সময়
অত্যন্ত জরুরি কারণ স্টোরেজ ডিভাইস ব্যর্থ হলে সমস্ত ডেটা
হারিয়ে যেতে পারে এবং পরিবর্তন করতেও খরচ লাগে।
CrystalDiskInfo নামের বিনামূল্যের সফটওয়্যার দিয়ে
হার্ডডিস্কের স্বাস্থ্য খুব সহজে পরীক্ষা করা যায় এবং এটি
সবুজ Good দেখালে ঠিক আছে, হলুদ Caution দেখালে সতর্ক হতে
হবে এবং লাল Bad দেখালে সেই ড্রাইভ শিগগিরই নষ্ট হওয়ার
আশঙ্কা আছে।
আরো পড়ুনঃ
মোবাইল কতদিন ব্যবহার হয়েছে কিভাবে দেখব
যে ল্যাপটপে HDD বা হার্ডডিস্ক আছে সেটার তুলনায় SSD থাকলে
সেটা অনেক দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য কারণ SSD তে কোনো ঘুরন্ত অংশ
নেই এবং ধাক্কায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম। পুরনো HDD ল্যাপটপে
অনেক সময় SSD লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং বিক্রেতা বলে দ্রুত
SSD আছে, কিন্তু কেনার আগে নিজে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
হার্ডডিস্কে খটখট শব্দ বা ল্যাপটপ চালু হতে অনেক বেশি সময়
নেওয়া সমস্যার লক্ষণ এবং এই লক্ষণ থাকলে কেনার আগে দাম
কমিয়ে নেওয়া বা স্টোরেজ পরিবর্তনের খরচ হিসাব করে নেওয়া
জরুরি। স্টোরেজের পরিমাণ বর্তমান ব্যবহারের চাহিদা বিবেচনা
করে দেখুন কারণ ২৫৬ জিবি SSD সাধারণ কাজের জন্য ঠিক থাকলেও
ভিডিও বা বড় ফাইলের কাজে কম পড়তে পারে।
কীবোর্ড ট্র্যাকপ্যাড ও পোর্টগুলো পরীক্ষা করুন
কীবোর্ড ট্র্যাকপ্যাড ও পোর্টগুলো পরীক্ষা করা পুরাতন
ল্যাপটপ কেনার সময় অনেকেই ভুলে যান কিন্তু এগুলো
প্রতিদিনের ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে এবং সমস্যা
থাকলে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিরক্তি লাগে।
কীবোর্ডের প্রতিটি কী চেপে দেখুন ঠিকমতো কাজ করছে কিনা
এবং কোনো কী আটকে থাকছে বা অস্বাভাবিক শব্দ করছে কিনা,
এর জন্য একটি সাধারণ টাইপিং টেস্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার
করতে পারেন।
ট্র্যাকপ্যাড মসৃণভাবে কাজ করছে কিনা, ক্লিক সঠিকভাবে
রেজিস্টার হচ্ছে কিনা এবং মাল্টি-টাচ জেসচার যেমন দুই
আঙুলে স্ক্রোল করা কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করুন। পুরনো
ল্যাপটপে ট্র্যাকপ্যাডের প্রলেপ উঠে যায় বা অনুভূতি
পরিবর্তন হয়ে যায় যা দীর্ঘ সময় ব্যবহারে অস্বস্তিকর
হয়।
USB পোর্ট, HDMI, ইয়ারফোন জ্যাক এবং SD কার্ড স্লট
সবগুলো পরীক্ষা করুন কারণ একটি পোর্টও নষ্ট থাকলে কাজের
সময় অসুবিধায় পড়বেন। প্রতিটি USB পোর্টে একটি
পেনড্রাইভ লাগিয়ে দেখুন চিনতে পারছে কিনা এবং ডেটা
ট্রান্সফারের গতি স্বাভাবিক কিনা কারণ পোর্ট ঢিলা বা
নষ্ট হলে ডিভাইস সংযুক্ত করতে সমস্যা হয়। পুরাতন
ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে জানা থাকলে সহজেই এটি
নির্বাচন করতে পারবেন।
ল্যাপটপের বডি ও কুলিং সিস্টেম যাচাই করেন
ল্যাপটপের বডি ও কুলিং সিস্টেম দেখা পুরাতন ল্যাপটপ
কেনার সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাইরের অবস্থা
দেখেই অনেকটা বোঝা যায় ল্যাপটপটি কতটা যত্নে রাখা
হয়েছিল এবং ভেতরের যন্ত্রাংশের অবস্থা কেমন হতে
পারে। বড় আঁচড়, ভাঙা কোণ বা বাঁকা কব্জা দেখলে
বুঝতে হবে ল্যাপটপটি কোনো সময়ে পড়ে গিয়েছিল বা
যত্ন ছাড়া ব্যবহৃত হয়েছে এবং এতে ভেতরে লুকানো
সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বেশি।
কুলিং ফ্যানের অবস্থা পরীক্ষা করতে ল্যাপটপে
কিছুক্ষণ ভারি কাজ করুন বা YouTube-এ HD ভিডিও চালান
এবং দেখুন ফ্যান কতটা শব্দ করছে। স্বাভাবিক অবস্থায়
ফ্যানের শব্দ সামান্য হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু
অতিরিক্ত উচ্চ শব্দ, ঘড়ঘড় বা পিষে যাওয়ার মতো
শব্দ ফ্যান সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ল্যাপটপের নিচের ভেন্টগুলো দেখুন ধুলা জমে বন্ধ হয়ে
গেছে কিনা কারণ ধুলায় বন্ধ হয়ে গেলে গরম বের হতে
পারে না এবং অতিরিক্ত গরমে প্রসেসর ও অন্যান্য
উপাদান ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। কিছুক্ষণ
ব্যবহারের পর ল্যাপটপের তলা ও কীবোর্ডের কাছে হাত
রেখে দেখুন অস্বাভাবিক গরম হচ্ছে কিনা কারণ এটি
থার্মাল পেস্ট শুকিয়ে যাওয়া বা কুলিং সিস্টেম
সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
অপারেটিং সিস্টেম ও লাইসেন্স যাচাই করার নিয়ম
অপারেটিং সিস্টেম ও লাইসেন্স যাচাই করা পুরাতন
ল্যাপটপ কেনার সময় অনেকেই গুরুত্ব দেন না
কিন্তু বৈধ লাইসেন্স না থাকলে Windows আপডেট
পাওয়া যায় না এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে।
Windows সেটিংসে গিয়ে System, তারপর About এ
গেলে Windows Activation অংশে দেখুন Activated
লেখা আছে কিনা এবং অনুমোদিত না থাকলে বিক্রেতাকে
জিজ্ঞেস করুন এর কারণ কী।
পুরাতন ল্যাপটপে অনেক সময় পাইরেটেড বা নকল
উইন্ডোজ ইনস্টল করা থাকে এবং বিক্রেতা সেটা বলেন
না কারণ এতে দাম বেশি পাওয়া যায়। Windows Key
দিয়ে Run বক্সে slmgr /xpr টাইপ করলে
লাইসেন্সের মেয়াদ দেখা যায় এবং এই পদ্ধতিতে
বৈধ লাইসেন্স আছে কিনা সহজে বোঝা যায়।
ল্যাপটপে কোনো অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা
অ্যাডওয়্যার ইনস্টল আছে কিনা দেখুন কারণ এগুলো
সিস্টেমকে ধীর করে দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। কেনার পরেই একটি
অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সম্পূর্ণ স্ক্যান করুন এবং
সম্ভব হলে সম্পূর্ণ নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করে
নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। এই জন্য আপনাকে জানতে
হবে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে
হবে।
কোথা থেকে পুরাতন ল্যাপটপ কিনলে নিরাপদ হবেন
কোথা থেকে পুরাতন ল্যাপটপ কিনলে নিরাপদ সেটা
অনেকেই জানেন না এবং এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে
অনেক অসাধু বিক্রেতা নষ্ট বা অতিরিক্ত দামে
পণ্য বিক্রি করেন। বাংলাদেশে ঢাকার এলিফেন্ট
রোড, আগারগাঁও বা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ আইটি
মার্কেটে পুরাতন ল্যাপটপের অনেক দোকান আছে
এবং সেখানে গিয়ে সামনাসামনি পরীক্ষা করে
কেনার সুযোগ আছে যা অনলাইনে কেনার চেয়ে
অনেক বেশি নিরাপদ।
বিশ্বস্ত পরিচিত কারো কাছ থেকে কেনা সবচেয়ে
ভালো কারণ তারা সাধারণত পণ্যের আসল অবস্থা
জানান এবং পরে কোনো সমস্যা হলে সমাধানের
সুযোগ থাকে। Facebook Marketplace এ
কিনলে অবশ্যই সরাসরি দেখা করে পরীক্ষা করে
নিন, শুধু ছবি দেখে বা বিবরণ পড়ে কোনো
সিদ্ধান্ত নেবেন না কারণ ছবিতে অনেক সমস্যা
ঢাকা যায়।
রিফার্বিশড বা নবায়নকৃত ল্যাপটপ কেনার একটি
ভালো বিকল্প হতে পারে কারণ বিশ্বস্ত
প্রতিষ্ঠান এই ল্যাপটপগুলো পরীক্ষা করে
মেরামত করে বিক্রি করে এবং কিছু ক্ষেত্রে
সীমিত ওয়ারেন্টিও দেয়। কোনো প্রতিষ্ঠান
থেকে কিনলে ক্যাশমেমো বা চুক্তি পত্র নেওয়া
নিশ্চিত করুন কারণ পরে কোনো সমস্যা হলে এই
কাগজ কাজে আসবে।
লেখকের শেষ কথা
পুরাতন ল্যাপটপ কেনার বিষয়ে আজকের এই
আর্টিকেলে প্রসেসর থেকে শুরু করে
ব্যাটারি, স্ক্রিন, স্টোরেজ, কীবোর্ড,
কুলিং সিস্টেম, অপারেটিং সিস্টেম এবং কোথা
থেকে কেনা নিরাপদ সব বিষয় বিস্তারিতভাবে
আলোচনা করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো মাথায়
রেখে পরীক্ষা করে কিনলে পুরাতন ল্যাপটপ
থেকেও অনেক ভালো সার্ভিস পাওয়া সম্ভব এবং
অপ্রয়োজনীয় খরচ ও হতাশা এড়ানো যায়।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার আগে যা দেখতে হবে, ল্যাপটপের প্রসেসর ও র্যাম
যেভাবে যাচাই করবেন, ব্যাটারি ও চার্জিং পোর্ট পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি, স্ক্রিন ও
ডিসপ্লে প্যানেল ভালো করে দেখুন, হার্ডডিস্ক ও এসএসডির অবস্থা কীভাবে বুঝবেন,
কীবোর্ড ট্র্যাকপ্যাড ও পোর্টগুলো পরীক্ষা করুন, ল্যাপটপের বডি ও কুলিং সিস্টেম
দেখুন, অপারেটিং সিস্টেম ও লাইসেন্স যাচাই করার নিয়ম, কোথা থেকে পুরাতন ল্যাপটপ
কিনলে নিরাপদ হবেন ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url