কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন
কিভাবে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা যায় জেনে নিন
কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন কারণ কবিতা কে শুধু শখের বিষয় মনে
করলেও বাস্তবে এটি আয়ের উৎসে পরিণত করার অনেক পথ আছে।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা
যায়, কোন কোন প্ল্যাটফর্ম ও মাধ্যমে কবিতা থেকে আয় করা সম্ভব এবং একজন
বাংলাদেশি কবি কীভাবে তার সৃজনশীলতাকে একটি স্থায়ী আয়ের উৎসে রূপান্তরিত করতে
পারেন।
পেজ সূচিপত্রঃ কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন
- কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন
- পত্রিকা ও সাহিত্য পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ করে আয়
- নিজের কবিতার বই প্রকাশ করে আয় করার উপায়
- অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কবিতা বিক্রি করে ইনকাম করুন
- ফেসবুক ও ইউটিউবে কবিতা দিয়ে মনিটাইজেশন
- গানের কথা লিখে কবিতা থেকে বেশি আয় করুন
- কর্পোরেট কবিতা ও শুভেচ্ছা কার্ডে আয়ের সুযোগ
- কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান ও ওয়ার্কশপ থেকে আয়
- কনটেন্ট রাইটিং ও ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে আয়ের পথ
- লেখকের শেষ কথা
কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন
কবিতা লিখে টাকা ইনকাম করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বুঝে নেওয়া যে
কবিতা একটি সৃজনশীল শিল্প হলেও এটি থেকে আয় করতে হলে ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনাও
সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুধু ভালো লেখা থাকলেই হয় না সেই লেখা সঠিক জায়গায়
সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়াটাও জানতে হয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে বাংলা কবিতার একটি
বিশাল পাঠক শ্রেণি আছে এবং এই পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর অনেক পথ আছে, তাই হতাশ না
হয়ে সঠিক পদ্ধতিতে কাজ শুরু করলেই ফলাফল আসতে শুরু হয়।
আমার পরিচিত একজন কবি আছেন যিনি বছরের পর বছর শুধু শখের জন্য কবিতা লিখে ড্রয়ারে
রেখে দিতেন, কিন্তু যখন তিনি সেই কবিতাগুলো অনলাইনে প্রকাশ করতে শুরু করলেন এবং
পত্রিকায় পাঠাতে শুরু করলেন তখন মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিচিতি
পেলেন এবং একটি প্রকাশনীও তার কবিতার বই প্রকাশে আগ্রহ দেখাল। এই অভিজ্ঞতা থেকে
বোঝা যায় প্রতিভা থাকলে এবং সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে কবিতা থেকে আয় করা
অসম্ভব কিছু নয়।
কবিতা থেকে আয় করার পথগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবগুলোতেই একটি বিষয় সমান
গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো নিয়মিত লেখার অভ্যাস ও পাঠকের সাথে সংযোগ স্থাপন করা।
ভালো কবিতা লেখার দক্ষতার পাশাপাশি পাঠকের মনোভাব বোঝা, সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে
লেখা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সুযোগ নেওয়া এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখলেই একজন
কবির পক্ষে আয়ের একটি ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।
পত্রিকা ও সাহিত্য পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ করে আয়
পত্রিকা ও সাহিত্য পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ করে আয় করা বাংলাদেশে কবিতা থেকে
আয়ের সবচেয়ে প্রচলিত এবং সম্মানজনক পথগুলোর একটি কারণ এই পথে আয়ের পাশাপাশি
পরিচিতি ও সাহিত্যিক স্বীকৃতিও পাওয়া যায়। প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সমকালসহ
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাহিত্য পাতায় নিয়মিত কবিতা প্রকাশিত হয় এবং গৃহীত
কবিতার জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, যদিও এই পারিশ্রমিক খুব বড় অঙ্কের নয় তবুও
এটি পরিচিতি ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ হিসেবে অনেক মূল্যবান।
আরো পড়ুনঃ
কিভাবে সহজে প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করা যায়
অনিন্দ্য, কবিতাপত্র, শালুক, চারবাক বা ঐতিহ্যর মতো সাহিত্য পত্রিকায় কবিতা
প্রকাশিত হলে সাহিত্য জগতে পরিচিতি দ্রুত বাড়ে এবং এই পরিচিতি পরবর্তীতে বই
প্রকাশ, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ ও অন্যান্য আয়ের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করে।
পত্রিকায় কবিতা পাঠানোর সময় সম্পাদকের পছন্দ ও পত্রিকার ধরন বোঝে সেই অনুযায়ী
কবিতা বাছাই করে পাঠানো উচিত কারণ একই কবিতা সব পত্রিকার জন্য উপযুক্ত নাও হতে
পারে।
পত্রিকায় নিয়মিত কবিতা প্রকাশিত হতে শুরু করলে কবির নাম ও পরিচিতি বাড়তে থাকে
এবং এই পরিচিতি দিয়ে ধীরে ধীরে আরও বড় সুযোগ তৈরি হয়। শুরুতে হয়তো অনেক কবিতা
প্রত্যাখ্যাত হবে কিন্তু প্রতিটি প্রত্যাখ্যানকে শেখার সুযোগ হিসেবে নিয়ে লেখার
মান উন্নত করতে থাকলে একসময় সাফল্য অবশ্যই আসে। এই জন্য কবিতা লিখে কিভাবে
টাকা ইনকাম করা যায় জানুন।
নিজের কবিতার বই প্রকাশ করে আয় করার উপায়
নিজের কবিতার বই প্রকাশ করে আয় করার উপায় জানা থাকলে একজন কবির সবচেয়ে বড়
স্বপ্নটি পূরণের পাশাপাশি আয়ের একটি স্থায়ী উৎসও তৈরি হয়। বাংলাদেশে প্রকাশনীর
মাধ্যমে বই প্রকাশ করলে সাধারণত বিক্রয়ের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রয়্যালটি পাওয়া
যায় এবং যদি বই ভালো বিক্রি হয় তাহলে এটি একটি নিয়মিত আয়ের উৎস হতে পারে।
একুশে বইমেলায় প্রতি বছর অনেক কবিতার বই প্রকাশিত হয় এবং মেলায় ভালো বিক্রি
হলে কবির পরিচিতি ও আয় দুটোই বাড়ে।
যদি প্রকাশনী না পাওয়া যায় বা নিজে পুরো আয় ধরে রাখতে চান তাহলে সেলফ পাবলিশিং
একটি ভালো বিকল্প, নিজের টাকায় বই ছাপিয়ে সরাসরি পাঠকদের কাছে বিক্রি করলে
প্রতিটি কপিতে বেশি লাভ রাখা সম্ভব। অনলাইনে বই বিক্রির জন্য Rokomari.com বা
নিজের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করা যায় এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সারা দেশে বই
পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
Amazon KDP বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ই-বুক হিসেবে বাংলা কবিতার বই
প্রকাশ করলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব এবং
প্রতিটি বিক্রয়ে ৩৫ থেকে ৭০ শতাংশ রয়্যালটি পাওয়া যায়। নিজের ওয়েবসাইট বা
Gumroad এ পিডিএফ আকারে কবিতার বই সরাসরি বিক্রি করলে সব আয় নিজের কাছে থাকে যা
দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কবিতা বিক্রি করে ইনকাম করুন
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কবিতা বিক্রি করে ইনকাম করার সুযোগ ডিজিটাল যুগে অনেক বেড়ে
গেছে কারণ এখন সরাসরি পাঠকের কাছে লেখা পৌঁছানো আর কোনো মধ্যস্থকারীর মুখাপেক্ষী
নয়। Etsy তে ব্যক্তিগতকৃত বা কাস্টমাইজড কবিতা বিক্রি করা একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি,
যেখানে কেউ বিশেষ উপলক্ষ যেমন বিয়ে, জন্মদিন বা বার্ষিকীর জন্য কাস্টম কবিতা
লিখে দেওয়ার অর্ডার নেওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে Poem Store, Poetry Marketplace বা Scribophile এর মতো
প্ল্যাটফর্মে ইংরেজি কবিতা বিক্রি করার সুযোগ আছে এবং বাংলা কবিতা ইংরেজিতে
অনুবাদ করে বিক্রি করার কথাও ভাবা যায়। Gumroad এ নিজের কবিতা সংকলন PDF আকারে
বিক্রি করে সরাসরি পাঠকের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়া সম্ভব এবং বিকাশ বা নগদের
মাধ্যমে দেশি পাঠকদের কাছ থেকেও পেমেন্ট নেওয়া যায়। কবিতা লিখে কিভাবে
টাকা ইনকাম করা যায় জানুন তাহলে সহজেই কবিতা বিক্রি করতে পারবেন।
কাস্টম কবিতা লেখার সার্ভিস বিশেষভাবে লাভজনক কারণ এখানে প্রতিটি কবিতার জন্য
আলাদাভাবে ও তুলনামূলক বেশি অর্থ পাওয়া সম্ভব। একটি বিবাহবার্ষিকীর জন্য কাস্টম
কবিতার দাম বাংলাদেশে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব এবং
আন্তর্জাতিক বাজারে একটি ইংরেজি কাস্টম কবিতার জন্য ১৫ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত
চার্জ করা যায়।
ফেসবুক ও ইউটিউবে কবিতা দিয়ে মনিটাইজেশন
ফেসবুক ও ইউটিউবে কবিতা দিয়ে মনিটাইজেশন একটি আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি কারণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় কবিতার ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে এবং অনেক মানুষ আবৃত্তি বা
কবিতার ভিডিও অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে দেখেন। ইউটিউবে নিয়মিত কবিতা আবৃত্তি বা
কবিতার ভিডিও পোস্ট করলে এবং চ্যানেলে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৪ হাজার ঘণ্টা
ওয়াচ টাইম হলে মনিটাইজেশন চালু করা সম্ভব, তারপর থেকে প্রতিটি ভিউ থেকে
বিজ্ঞাপনের আয় আসতে শুরু করে।
ফেসবুক পেজে নিয়মিত কবিতা পোস্ট করে লাইভ কবিতা পাঠের আয়োজন করলে দর্শকরা
ফেসবুক স্টারস পাঠিয়ে সরাসরি আর্থিক সহায়তা করতে পারেন, এবং একটি ভালো
পাঠকশ্রেণি তৈরি হলে ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ বা স্পনসরশিপের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
কবিতাকে রিলস বা শর্ট ভিডিও ফরম্যাটে উপস্থাপন করলে তরুণ প্রজন্মের কাছে দ্রুত
পৌঁছানো সম্ভব এবং কবিতার সাথে সুন্দর বিজিএম যুক্ত করলে ভিডিওর আবেদন অনেক বেড়ে
যায়।
ফেসবুক ও ইউটিউবে কবিতা ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে বাংলাদেশে অনেক মানুষ সফল হয়েছেন
এবং কেউ কেউ লক্ষাধিক ফলোয়ার সংগ্রহ করে মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় করছেন।
কবিতা ও সৃজনশীলতার এই ডিজিটাল উপস্থাপন শুধু আয়ের পথ নয়, এটি বাংলা সাহিত্যকে
নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করারও একটি দারুণ সুযোগ। এর পাশাপাশি কবিতা
লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন।
গানের কথা লিখে কবিতা থেকে বেশি আয় করুন
গানের কথা লিখে কবিতা থেকে বেশি আয় করা সম্ভব কারণ গীতিকার হিসেবে পেশা গড়ে
তোলা কবিতা বিক্রির তুলনায় অনেক বেশি আয় দিতে পারে এবং একটি জনপ্রিয় গানের
কথার জন্য বারবার রয়্যালটি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন নাটক ও
মিউজিক অ্যালবামের জন্য গানের কথার প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং একজন দক্ষ গীতিকার
একটি গানের কথার জন্য ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
কবিতার মতোই গানের কথা লেখার জন্য ভাষার ওপর দক্ষতা ও ছন্দ বোঝার ক্ষমতা
প্রয়োজন, তাই একজন দক্ষ কবির পক্ষে গানের কথা লেখার দিকে মনোযোগ দেওয়া অনেক
স্বাভাবিক এবং তুলনামূলক সহজ। সংগীতশিল্পী বা সুরকারদের সাথে পরিচয় বাড়ানো এবং
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের গানের কথা প্রকাশ করা গীতিকার হিসেবে পরিচিতি গড়ে তোলার
কার্যকর পদ্ধতি।
YouTube ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে একটি গান যত বেশি স্ট্রিম হয় ততবার
গীতিকার রয়্যালটি পান, তাই একটি জনপ্রিয় গানের কথা লিখলে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত
প্যাসিভ ইনকামের একটি উৎস তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে সংগীত অধিদপ্তর বা CODA র মতো
সংস্থায় নিজের রচনা নিবন্ধন করলে আইনগতভাবে রয়্যালটির অধিকার নিশ্চিত হয় যা
দীর্ঘমেয়াদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
কর্পোরেট কবিতা ও শুভেচ্ছা কার্ডে আয়ের সুযোগ
কর্পোরেট কবিতা ও শুভেচ্ছা কার্ডে আয়ের সুযোগ অনেকের কাছে অজানা হলেও এটি কবিতা
থেকে আয়ের একটি অত্যন্ত কার্যকর পথ। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন,
বিজ্ঞাপন, কর্পোরেট ইভেন্টের আমন্ত্রণপত্র বা শুভেচ্ছা বার্তার জন্য বিশেষ কবিতার
প্রয়োজন হয় এবং এই ধরনের কাজের জন্য ভালো পারিশ্রমিক দেওয়া হয় কারণ এগুলো
কোম্পানির ব্র্যান্ড ইমেজের সাথে যুক্ত থাকে।
গ্রিটিং কার্ড কোম্পানি, ডিজিটাল কার্ড প্ল্যাটফর্ম বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট
কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে নিয়মিত কবিতা সরবরাহের চুক্তি করা সম্ভব। ঈদ, পহেলা
বৈশাখ, ভালোবাসা দিবস বা বড়দিনের মতো বিশেষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা কবিতার চাহিদা অনেক
বেড়ে যায় এবং আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে এই সময়গুলোতে অনেক বেশি কাজ পাওয়া
সম্ভব।
আন্তর্জাতিক বাজারে Hallmark, American Greetings বা Blue Mountain এর মতো
গ্রিটিং কার্ড কোম্পানিগুলো ফ্রিল্যান্স কবিদের কাছ থেকে কবিতা কেনে এবং প্রতিটি
কবিতার জন্য ৫০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করে। ইংরেজিতে কবিতা লেখার দক্ষতা
থাকলে এই আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করা সম্ভব যা দেশীয় বাজারের তুলনায় অনেক
বেশি আয় দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান ও ওয়ার্কশপ থেকে আয়
কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান ও ওয়ার্কশপ থেকে আয় করা বাংলাদেশে একটি ক্রমবর্ধমান সুযোগ
কারণ সাহিত্য উৎসব, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে এখন কবিদের
আমন্ত্রণ জানিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। একজন পরিচিত কবি ঢাকা
লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল বা অন্যান্য সাহিত্য উৎসবে কবিতা পাঠের আমন্ত্রণ পেলে
সম্মানীর পাশাপাশি নতুন পাঠক ও যোগাযোগও পাওয়া যায়।
নিজেই একটি কবিতা ওয়ার্কশপ আয়োজন করে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া কবিতা
থেকে আয়ের একটি কার্যকর পদ্ধতি, এই ওয়ার্কশপে নতুন কবিদের কবিতা লেখার কৌশল
শেখানো হয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়ার্কশপ আয়োজন করলে সারা দেশ থেকে
অংশগ্রহণকারী নেওয়া সম্ভব এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সহজেই পরিচালনা
করা যায়।
বিদ্যালয় ও কলেজে কবিতা লেখার কর্মশালা আয়োজনের চাহিদাও আছে কারণ অনেক
শিক্ষার্থী কবিতা লিখতে আগ্রহী কিন্তু সঠিক গাইডেন্স পায় না। প্রথমে বিনামূল্যে
বা কম মূল্যে কয়েকটি ওয়ার্কশপ করে পরিচিতি বাড়িয়ে তারপর নিয়মিত পেইড
ওয়ার্কশপ আয়োজন করলে এই পথে একটি স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব।
কনটেন্ট রাইটিং ও ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে আয়ের পথ
কনটেন্ট রাইটিং ও ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে আয়ের পথ একজন কবির জন্য স্বাভাবিক কারণ
কবিতার মাধ্যমে যে ভাষাগত দক্ষতা গড়ে ওঠে তা অন্যান্য ধরনের লেখার ক্ষেত্রেও
কাজে আসে। একজন দক্ষ কবি ওয়েবসাইট কনটেন্ট, বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইন, ব্র্যান্ডের
স্লোগান বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট লিখে ভালো পারিশ্রমিক পেতে পারেন। কবিতার
সৌন্দর্য ও শব্দ চয়নের দক্ষতা কপিরাইটিং বা ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে একটি বড়
সুবিধা হিসেবে কাজ করে।
Fiverr বা Upwork এ ক্রিয়েটিভ রাইটার হিসেবে প্রোফাইল খুলে ট্যাগলাইন লেখা,
স্লোগান তৈরি করা বা বিজ্ঞাপনের কনটেন্ট লেখার কাজ পাওয়া সম্ভব এবং এই ধরনের
কাজে অনেক সময় ভালো আয় হয়। গল্প, নিবন্ধ বা ফিচার লেখার দিকেও একজন কবি মনোযোগ
দিতে পারেন কারণ বিভিন্ন পত্রিকা ও ওয়েবসাইট নিয়মিত মানসম্মত লেখার জন্য
পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে।
কবিতার দক্ষতাকে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে কাজে লাগিয়ে একটি বৈচিত্র্যময় আয়ের
পোর্টফোলিও তৈরি করা সম্ভব যেখানে কবিতা বিক্রি, গানের কথা লেখা এবং কনটেন্ট
রাইটিং একসাথে চলতে পারে। এই বৈচিত্র্যময় আয়ের উৎস থাকলে যদি একটি পথে কখনো কাজ
কম থাকে তাহলেও অন্য পথগুলো সক্রিয় থাকে এবং মোট আয়ে বড় ধাক্কা লাগে
না। কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন কারণ একজন কবিতা প্রেমিক
এর জন্য এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
লেখকের শেষ কথা
কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় সেই বিষয়ে আজকের এই আর্টিকেলে পত্রিকায়
প্রকাশ, বই প্রকাশ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ফেসবুক ইউটিউব মনিটাইজেশন, গানের কথা
লেখা, কর্পোরেট কবিতা, ওয়ার্কশপ এবং ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের মতো বিভিন্ন কার্যকর
পথ নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। কবিতা থেকে আয় একদিনে বড় হয় না,
কিন্তু ধৈর্য ধরে বিভিন্ন পথে একসাথে চেষ্টা চালিয়ে গেলে কয়েক মাস বা এক বছরের
মধ্যে একটি স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এই পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে কবিতা লিখে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় জানুন, পত্রিকা ও সাহিত্য
পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ করে আয়, নিজের কবিতার বই প্রকাশ করে আয় করার উপায়,
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কবিতা বিক্রি করে ইনকাম করুন, ফেসবুক ও ইউটিউবে কবিতা দিয়ে
মনিটাইজেশন, গানের কথা লিখে কবিতা থেকে বেশি আয় করুন, কর্পোরেট কবিতা ও শুভেচ্ছা
কার্ডে আয়ের সুযোগ, কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান ও ওয়ার্কশপ থেকে আয়, কনটেন্ট রাইটিং
ও ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে আয়ের পথ ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url