বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশ থেকে ভিসা ফ্রি যাওয়া যায় এমন ৪৮টি দেশ
আপনারা অনেকেই উচ্চশিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা বা ভ্রমণের জন্য আমেরিকায় যেতে চান।
তবে অনেকেই জানেন না বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে। এ বিষয়টা
সম্পূর্ণ আপনার ভিসার ধরনের উপরে নির্ভর করে থাকে।
আজকের আর্টিকেলে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যেতে কত টাকা লাগে, কোন কোন ভিসা দিয়ে
আমেরিকায় যাওয়া যায়, ভিসার খরচ কতো, টিকিটের দাম এবং এসব বিষয় নিয়ে থাকছে
আপনাদের জন্য বিস্তারিত তথ্য।
পোস্ট সূচীপত্রঃ বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে
আপনি যদি আমেরিকায় যেতে চান তাহলে এই বিষয়টি আপনার জানা প্রয়োজন যে বাংলাদেশ
থেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের খরচ হয়ে থাকে। শুধুমাত্র ভিসা ও
প্লেনের টিকিটেই খরচ হয় না এর পাশাপাশি বিভিন্ন খরচ হয় যেগুলো সম্পর্কে জানার
মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারবেন।
আমেরিকায় যাওয়ার জন্য আপনার প্রথমে প্রয়োজন একটি বৈধ পাসপোর্ট। এরপরে প্রয়োজন
ভিসা আবেদন ফি, প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট তৈরি করা, প্লেনের
টিকিট কেনা, ইন্সুরেন্স তৈরি করা এবং আমেরিকায় পৌঁছানোর
পরে সেখানে থাকা খাওয়ার খরচ তো রয়েছে। এছাড়া আপনি যদি
উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকার যান তাহলে আপনার টিউশনের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন আলাদা
খরচ হতে পারে।আপনাদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে
তার একটি তালিকা দেওয়া হলো যেটি দেখার মাধ্যমে আপনারা সকল খরচ সম্পর্কে
জানতে পারবেন।
- পাসপোর্ট তৈরি
- ভিসা আবেদন ফি
- প্লেন টিকেটের দাম
- ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স
- মেডিকেল চেকআপ
- আমেরিকায় প্রথম মাসের খরচ
- ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত খরচ
আমেরিকায় যাওয়ার জন্য সাধারণত এ সকল খরচ হয়ে থাকে এর পাশাপাশি আরও আনুষঙ্গিক
খরচ তো রয়েছেই।
আমেরিকার ভিসা কত টাকা
আমেরিকায় যাওয়ার জন্য ভিসা সবচেয়ে বড় বাধা এবং এর ভিসা তৈরি করতে আর তার
বড় খরচ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত আমেরিকায় যাওয়ার ভিসা নিতে কত টাকা লাগবে
এটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করছেন তার উপরে।
আমেরিকায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিসা থাকে যেমন ট্যুরিস্ট ভিসা,
স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা ইত্যাদি। এই ভিসার ধরনের উপরে নির্ভর করে আপনার
ভিসার দাম এবং এটি তৈরি হতে কত সময় লাগবে সম্পূর্ণ কিছু। তাহলে চলুন জেনে
নেওয়া যাক আমেরিকায় যাওয়ার জন্য সকল ভিসার দাম।
- ট্যুরিস্ট ভিসাঃ ১৬০ ডলার বা প্রায় ১৭,৫০০ টাকা
- স্টুডেন্ট ভিসাঃ ১৬০ ডলার + ৩৫০ ডলার SEVIS ফি, মোট প্রায় ৫৬,০০০ টাকা
- এক্সচেঞ্জ ভিসাঃ ১৬০ ডলার + ২২০ ডলার SEVIS ফি, মোট প্রায় ৪৬,৫০০ টাকা
- ওয়ার্ক ভিসাঃ ১৯০ ডলার বা প্রায় ২০,৮০০ টাকা
- ইমিগ্রান্ট ভিসাঃ ৩২৫ ডলার বা বা ৩৫,৬০০ টাকা
আপনি শুধুমাত্র টাকা দিলেই আমেরিকার ভিসা পেয়ে যাবেন এটা এর জন্য আপনাকে
কিছু ডকুমেন্ট দিতে হয় এর পাশাপাশি কিছু টেস্ট রয়েছে যেমন মেডিকেল
টেস্ট। এছাড়াও ভিসা তৈরির জন্য মাঝে মাঝে অনেক সময় লেগে
যায়, এইজন্য আমেরিকার পেতে আপনি আগে থেকে আবেদন করে রাখলে ভালো।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা বিমান ভাড়া কত
আমেরিকায় যাওয়ার ভিসা তৈরির পরে আপনার সব থেকে বড় খরচ হলো আমেরিকায় যাওয়ার
প্লেনের টিকিটের দাম। এই টিকিটের দাম সাধারণত নির্ভর করে আপনি কোন সময়
যাচ্ছেন, কোন এয়ারলাইন্স থেকে যাচ্ছেন এবং কতদিন আগে থেকে টিকিট কিনে রেখেছেন
এর উপরে। আপনি যদি কিছুদিন আগে থেকে আমেরিকার টিকিট কিনে রাখেন তাহলে
সাধারণত দামের কিছুটা অল্প টাকায় টিকিট পেতে পারেন এবং টিকিট কেনার সময়
একটি সঠিক এয়ারলাইন্স বেছে নেওয়া অনেক জরুরী।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য আপনার ইকোনমিক ক্লাসের টিকিটের খরচ
প্রায় ৮০,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে আপনি
যদি পিক সিজন বা ব্যস্ত মৌসুমের সময় যান তাহলে টিকিটের দাম আরো বেশি হয়ে
যেতে পারে। এছাড়াও অফ সিজনে আমেরিকায় যাওয়ার টিকিটের দাম সাধারণ
তুলনায় কিছুটা কম হয়ে থাকে। আপনার যদি বাজেট কম থাকে তাহলে আপনি এই সময়
আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
আমেরিকায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স রয়েছে যেগুলোর
মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই আমেরিকায় যেতে পারবেন। যেমন Emirates,
Qatar Airways, Turkish Airlines, Etihad Airways এবং Singapore
Airlines এগুলো অনেক জনপ্রিয় এবং আপনি যদি প্রথমবার আমেরিকায়
যাচ্ছেন তাহলে একটি বিশ্বস্ত এয়ারলাইন্স বেছে নেওয়াই আপনার
জন্য উত্তম হবে।
পাসপোর্ট তৈরি এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন খরচ
আমেরিকায় যাওয়ার জন্য ভিসার পাশাপাশি পাসপোর্ট থাকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পাসপোর্ট ছাড়া আপনি আমেরিকায় যাওয়ার টিকিট কিনতে পারবেন না। এজন্য আপনার যদি
একটি পাসপোর্ট না থাকে তাহলে নতুন করে পাসপোর্ট বানাতে হবে এবং আপনার
পাসপোর্টের যদি মেয়াদ না থাকে তাহলে পাসপোর্ট রিনিউ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
আমেরিকায় যাওয়ার জন্য আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাসের মত থাকতে
হবে।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য আপনার ৩,৫০০ টাকা থেকে ৭,৫০০ টাকা টাকা
পর্যন্ত লাগতে পারে পাসপোর্ট এর বিভিন্ন ধরনের উপরে নির্ভর করে। এছাড়াও
আমেরিকার যাওয়ার জন্য আপনাকে পাসপোর্ট এর পাশাপাশি পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে হয়।
এটি করার জন্য তেমন কোন অফিশিয়াল ফি না থাকলেও ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত
আপনার খরচ হতে পারে পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে।পাসপোর্ট এর ধরন অনুযায়ী খরচের একটি
তালিকা দেওয়া হলো যার মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই পাসপোর্ট তৈরির দাম দেখতে
পারবেন।
- ই-পাসপোর্ট রেগুলার: ৩,৫০০ টাকা
- ই-পাসপোর্ট এক্সপ্রেস: ৫,৫০০ টাকা
- এমআরপি পাসপোর্ট রেগুলার: ৫,০০০ টাকা
- এমআরপি পাসপোর্ট এক্সপ্রেস: ৭,৫০০ টাকা
আমেরিকা ভিসা ইন্টারভিউ
আমেরিকায় যাওয়ার ভিসা পেতে ইউএস এম্বাসিতে ইন্টারভিউ দিতে হয়, এটা
সবার জন্য বাধ্যতামূলক। এই ইন্টারভিউ ভালো দেওয়ার জন্য আপনাদের
প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এই আপনারা যদি এই ইন্টারভিউতে পাস না
করেন তাহলে আপনি আমেরিকার ভিসা পাবেন না। সাধারণত ইন্টারভিউ এর
প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কিছু খরচ হয়ে থাকে।
প্রথমত আপনাকে ভিসার জন্য সকল ডকুমেন্ট ঠিকঠাকভাবে প্রস্তুত করতে
হবে। যে সকল কাগজপত্র লাগে তার মধ্যে রয়েছে আপনার ব্যাংক
স্টেটমেন্ট, চাকরির সার্টিফিকেট, শিক্ষাগত
যোগ্যতার সার্টিফিকেট ইত্যাদি। এই ডকুমেন্ট গুলো ফটোকপি এবং
ল্যামিনেট করতে প্রায় ১,০০০ - ২,০০০ টাকা খরচ হয়। যদি কোনো ডকুমেন্ট
ইংরেজিতে অনুবাদ করাতে হয় তাহলে প্রতি পেজ ৫০০ - ১,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
অনেকে ভিসা ইন্টারভিউ এর জন্য কোচিং নেন যার খরচ ৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত
হতে পারে। ঢাকায় এম্বাসিতে যাওয়া আসার খরচ যদি আপনি ঢাকার বাইরে থাকেন
তাহলে ৩,০০০ - ১০,০০০ টাকা হতে পারে। এছাড়া ইন্টারভিউ এর দিন খাওয়া দাওয়া
এবং অন্যান্য খরচ ১,০০০ - ২,০০০ টাকা হতে পারে।
আমেরিকায় থাকা খাওয়ার খরচ
আপনি যদি আমেরিকায় যেতে চান তাহলে আপনার জন্য আমেরিকায় গিয়ে থাকা
খাওয়ার খরচ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমেরিকায় থাকা খাওয়ার
খরচ নির্ভর করে আপনি কোন শহরে থাকবেন এবং কোন ধরনের লাইফস্টাইল মেইনটেইন
করবেন তার উপরে। আপনি যদি একটি বড় শহরে থাকতে চান সেক্ষেত্রে সেখানে বাড়ি
ভাড়া অনেক বেশি এবং একটি সাধারণ লাইফ স্টাইল মেনে চললেও খরচ অনেক বেশি হয়ে
যায়।
নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো, লস এঞ্জেলেসের মতো বড় শহরে থাকার খরচ অনেক
বেশি। ছোট শহরে খরচ তুলনামূলক কম। আপনি যদি আমেরিকায় একা যেতে চান
তাহলে খরচ বাঁচানোর জন্য শেয়ারড এপার্টমেন্টে থাকতে
পারেন। আপনি যদি আমেরিকায় থাকতে চান তাহলে প্রতিমাসে প্রায় ৫০০ -
১,০০০ ডলার এর মত খরচ হতে পারে এবং খাওয়ার খরচ হতে পারে প্রায় ২০০-
৩০০ ডলার। এছাড়াও আমেরিকা অবস্থায় আপনার বিভিন্ন খরচ হতে পারে
যেমন ইন্টারনেট এবং অন্যান্য ইউটিলিটি বিল প্রায় ১০০ - ১৫০
ডলার। জরুরি জিনিসপত্র কেনাকাটা যেমন কাপড়, বিছানার চাদর ইত্যাদিতে
প্রায় ২০০ - ৩০০ ডলার। সব মিলিয়ে প্রতিমাসে আপনার কমপক্ষে ১,৫০০
- ২,৫০০ ডলার খরচ হতে পারে যা ১,৬৫,০০০ - ২,৭৫,০০০
টাকার সমান। এটা সম্পূর্ণভাবে আপনার লাইফ স্টাইল এর উপরে এবং কোন
জায়গায় থাকবেন সেটার উপরে নির্ভর করে।
শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত খরচ
আপনি যদি আমেরিকায় স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে চান তাহলে আপনার
আনুষঙ্গিক আরো কিছু অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। এই খরচটা সাধারণত
আমাদের স্টুডেন্ট ভিসার সাথেই নিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে যার মধ্যে
টিউশন ফি যুক্ত থাকে। এজন্য আমেরিকা যাওয়ার স্টুডেন্ট ভিসার ফি
অন্যান্য সকল ভিসার তুলনায় বেশি।
আমেরিকার পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট টিউশন ফি বছরে প্রায়
১০,০০০ - ৩৫,০০০ ডলার বা ১১,০০,০০০ - ৩৮,৫০,০০০ টাকা। প্রাইভেট
ইউনিভার্সিটিতে টিউশন ফি আরও বেশি প্রায় ৩৫,০০০ - ৫০,০০০ ডলার বা
৩৮,৫০,০০০ - ৫৫,০০,০০০ টাকা বছরে। গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের খরচও প্রায়
একই রকম বা কিছু ক্ষেত্রে বেশি।
এছাড়া বই এবং স্টাডি ম্যাটেরিয়াল কিনতে বছরে প্রায় ১,০০০ - ১,৫০০ ডলার
বা ১,১০,০০০ - ১,৬৫,০০০ টাকা খরচ হয়। হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক যার
খরচ বছরে প্রায় ১,৫০০ - ২,৫০০ ডলার বা ১,৬৫,০০০ - ২,৭৫,০০০ টাকা।
ক্যাম্পাসে থাকলে ডরমিটরি ফি বছরে ৮,০০০ - ১২,০০০ ডলার বা ৮,৮০,০০০ -
১৩,২০,০০০ টাকা।
আপনি যদি আমেরিকায় স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে চান তাহলে আপনার এ সকল
অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। আশা করি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত
টাকা লাগে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য এটা বুঝতে পেরেছেন।
আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ
অনেকেই আমেরিকা ভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকায় যেতে চান
অথবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে।তবে অনেকেই জানেন না ট্যুরিস্ট ভিসায় আমেরিকায়
যেতে সব মিলিয়ে কত টাকা খরচ হয়।ট্যুরিস্ট ভিসায় আমেরিকার যাওয়ার খরচ
স্টুডেন্ট ভিসা থেকে অনেকটাই কম কারণ এতে কোন আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত করার
নেই।
প্রথমত আপনাকে পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে যদি আপনার না থাকে এবং অবশ্যই পাসপোর্ট
এর মেয়াদ দেখে নিবেন যেন ছয় মাসের মতো সময় থাকে। এর পাশাপাশি
আপনার ডকুমেন্ট প্রস্তুতি এবং ইন্টারভিউ খরচ তো রয়েছেই এবং
প্রয়োজন প্লেন টিকেট। আপনি যদি আমেরিকায় কোন আত্মীয় থাকে তাহলে
আপনি তার কাছে থাকতে পারেন যদি না থাকে তাহলে প্রতি সপ্তাহে থাকার জন্য আপনার
টাকা দিতে হবে। এ সকল বিষয়ে আপনার সব মিলিয়ে যে টাকার প্রয়োজন তা হলঃ
- পাসপোর্টঃ ৩,৫০০ - ৭,৫০০ টাকা
- ভিসা ফিঃ ১৭,৫০০ টাকা
- ডকুমেন্ট ও ইন্টারভিউঃ ৫,০০০ - ১৫,০০০ টাকা
- প্লেন টিকেটঃ ৮০,০০০ - ১,৫০,০০০ টাকা
- ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সঃ ৩,০০০ - ৮,০০০ টাকা
- থাকা খাওয়াঃ ৬০,০০০ - ১,১০,০০০ টাকা
আমেরিকায় ট্যুরিস্ট হিসেবে গেলে আপনার অন্যান্য ভিসার তুলনায়
অনেকটাই কম খরচ হয় এবং আপনি মোট ২,০০,০০০ - ৩,৫০,০০০ টাকা টাকার
মধ্যেই আমেরিকা থেকে ঘুরে আসতে পারবেন।
আমেরিকা যাওয়ার খরচ কমানোর উপায়
আপনি যদি আমেরিকায় যেতে চান এবং আপনার বাজেট কম থাকে তাহলে খরচ কমানোর জন্য
বিভিন্ন উপায় আছে যেগুলো মেনে চলার মাধ্যমে আপনি অনেক সহজেই আমেরিকায়
যাওয়ার খরচ কমাতে পারবেন।
প্রথমেই প্লেনের টিকিট কেনার জন্য অফ সিজন এর অপেক্ষা করুন কারনা এই
সময় সাধারণের তুলনায় অনেক কম দামেই বিমানের টিকিট পাওয়া
যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে টিকেট
সস্তা পাওয়া যায়। আপনি যদি টিকিটের খরচ আরও বেশি কমাতে চান তাহলে
কয়েক মাস আগে থেকে টিকিট বুক করে রাখুন তাহলে আরো বেশি ডিসকাউন্ট পেতে
পারবেন। এছাড়া টিকিট কেনার সময় অবশ্যই সকল
জনপ্রিয় এয়ারলাইন্সের তাদের দামের সাথে তুলনা করুন এবং
যেখানে কম দামে পাবেন সেখানে থেকে টিকিট নিয়ে নিন।
আমেরিকায় যাওয়ার পরে সেখানে খরচ কমানোর জন্য একটি শেয়ারড
এপার্টমেন্টে থাকুন। নিজে রান্না করে খান যার ফলে খাবার খরচ অনেকটাই কমে
যাবে। যানবাহনের জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার
করুন ট্যাক্সি বা উবার ব্যবহারের বদলে। এ সকল টিপস মেনে চলার
মাধ্যমে আপনারা অনেক সহজেই আমেরিকায় যাওয়ার খরচ কমাতে পারবেন।
লেখকের শেষ কথা
আশা করি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন বাংলাদেশ থেকে
আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে এবং এই বিষয়ে সকল তথ্য। আপনি যদি একটু
ট্যুরিস্ট হিসেবে আমেরিকা যেতে চান তাহলে অনেক কম খরচেই যেতে পারবেন তবে
আমেরিকা যাওয়ার খরচ কমানোর উপায় জানার মাধ্যমে আপনি আরো কমাতে
পারবেন। স্টুডেন্ট ভিসার জন্য অনেক বেশি খরচ হলেও আপনি যদি স্কলারশিপ
পান তাহলে সেখানে খরচ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। আপনি যদি ভালো
জীবনযাপনের জন্য আমেরিকা যেতে চান তাহলে সেটি আপনার জন্য অনেক সেরা হতে
পারে। কারণ আমেরিকা একটি উন্নত দেশ যেখানে আপনি উন্নত কাজের পাশাপাশি
বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই
পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও জানতে
পারে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে, আমেরিকার ভিসা কত টাকা,
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা বিমান ভাড়া কত, পাসপোর্ট তৈরি এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন
খরচ, আমেরিকা ভিসা ইন্টারভিউ, আমেরিকায় থাকা খাওয়ার খরচ, শিক্ষার্থীদের
জন্য অতিরিক্ত খরচ, আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ, আমেরিকা যাওয়ার খরচ কমানোর
উপায় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url