ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায়
গুগলে দ্রুত র্যাঙ্ক করার বেসিক SEO টিপস
ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায় জানাটা আমাদের জন্য অনেক জরুরি কারণ আমাদের
মোবাইল ফোনে ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সবকিছুই জমা থাকে।
কিন্তু অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না যে আমাদের স্মার্টফোনটিতে কোনো ভাইরাস বা
ম্যালওয়্যার ঢুকে গেছে কিনা। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো আপনার ফোনে
ভাইরাস আছে কিনা কিভাবে দেখবেন এবং কী করণীয়।
পেজ সূচিপত্রঃ ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায়
- ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায়
- ফোনে ভাইরাস থাকলে কি ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়
- অপরিচিত অ্যাপ ডাউনলোড করলে কি ফোনে ভাইরাস ঢুকে
- ফোনে ভাইরাস ঢুকলে কি ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যায়
- ফোনে ভাইরাস ঢুকলে কি নিজে নিজে রিস্টার্ট হয়
- ভাইরাস কি ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়
- ফোনে ভাইরাস ঢুকলে কি পারফরম্যান্স খুব স্লো হয়
- ফোনে ভাইরাস থাকলে কি সেটিংস নিজে নিজে পরিবর্তন হয়
- ফোনের স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া কি ভাইরাসের লক্ষণ
- ফোনে ভাইরাস থাকলে কি ক্যামেরা নিজে নিজে চালু হয়
- লেখকের শেষ কথা
ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায়
ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায় নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের বুঝতে হবে যে
মোবাইল ভাইরাস আসলে কী এবং কেন এটি আমাদের জন্য বিপদজনক। যখন আপনি কোনো সন্দেহজনক
লিংকে ক্লিক করেন বা অপরিচিত কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করেন তখন আপনার ফোনে ভাইরাস ঢুকে
যেতে পারে। এই ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে এবং
আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিতে পারে। বিশেষ করে আমাদের দেশে এখন
মোবাইল ব্যাংকিং অনেক বেশি ব্যবহার হওয়ায় হ্যাকাররা মানুষের ফোনে ভাইরাস
ঢুকিয়ে জালিয়াতি করার চেষ্টা করছে।
আপনার ফোনে যদি ভাইরাস ঢুকে যায় তবে সেটি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কিছু ভাইরাস শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য তৈরি হয় আবার কিছু ভাইরাস আপনার
পুরো ফোনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। তাই আমাদের সবারই উচিত এই লক্ষণগুলো
জানা যাতে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারি। যদি আপনি আগে থেকেই ভাইরাসের লক্ষণগুলো
চিনতে পারেন তবে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং টাকা নিরাপদ রাখতে পারবেন। এই
কারণেই ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায় সম্পর্কে সবার পরিষ্কার ধারণা থাকা
অত্যন্ত জরুরি।
ফোনে ভাইরাস থাকলে কি ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়
ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া এবং গরম হওয়া হলো ভাইরাসের সবচেয়ে প্রথম
এবং সাধারণ লক্ষণ। যখন আপনার ফোনে কোনো ভাইরাস ঢুকে যায় তখন সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে
কাজ করতে থাকে। এই কাজগুলো করতে গিয়ে আপনার ফোনের প্রসেসর অনেক বেশি কাজ করতে
বাধ্য হয় এবং এর ফলে ব্যাটারি অস্বাভাবিক দ্রুত খরচ হতে শুরু করে। আপনি যদি
লক্ষ্য করেন যে আগে যেখানে সারাদিন চার্জ থাকত এখন সেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টায়
ব্যাটারি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া ভাইরাস যখন আপনার ফোনের প্রসেসরকে ওভারলোড করে দেয় তখন ফোনটি প্রচণ্ড গরম
হয়ে ওঠে। আপনি হয়তো কোনো ভারী গেম খেলছেন না বা ভিডিও দেখছেন না কিন্তু তারপরও
যদি ফোন হাতে নিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায় তবে বুঝতে হবে কিছু একটা সমস্যা আছে।
অনেক সময় ম্যালওয়্যার ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করার জন্য আপনার ফোনের রিসোর্স
ব্যবহার করে যার ফলে ফোন খুব বেশি গরম হয়ে যায়। তাই যদি আপনার ফোনের চার্জিং
সাইকেল হঠাৎ খারাপ হয়ে যায় এবং ফোন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তবে দেরি না করে
এন্টিভাইরাস স্ক্যান চালিয়ে দেখা উচিত।
অপরিচিত অ্যাপ ডাউনলোড করলে কি ফোনে ভাইরাস ঢুকে
অপরিচিত অ্যাপ এবং পপআপ বিজ্ঞাপন বারবার আসা আপনার ফোনে ভাইরাস থাকার একটি
প্রমাণ। যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে আপনার ফোনে এমন কিছু অ্যাপ দেখা যাচ্ছে যেগুলো
আপনি কখনো ইনস্টল করেননি তবে সেটি নিশ্চিতভাবে ভাইরাসের কাজ। এই অ্যাপগুলো
অ্যাডওয়্যার নামে পরিচিত যা নিজে নিজেই ইনস্টল হয়ে যায় এবং আপনার ফোনে
বিজ্ঞাপন দেখাতে থাকে। এই বিজ্ঞাপনগুলো শুধু বিরক্তিকরই নয় বরং এগুলো আরো বেশি
ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
আরো পড়ুনঃ মোবাইলে ইন্টারনেট স্পীড বেশী করার নিয়ম
পপআপ বিজ্ঞাপন যদি আপনার ফোনের হোম স্ক্রিনে বা যখন আপনি অন্য কোনো অ্যাপ ব্যবহার
করছেন তখন হঠাৎ হঠাৎ আসতে থাকে তবে বুঝতে হবে আপনার ফোন ইনফেক্টেড। অনেক সময় এই
পপআপগুলো এমন ভাবে তৈরি করা হয় যে সেগুলো বন্ধ করাও অনেক কঠিন হয়ে পড়ে এবং
ক্রস বাটনে ক্লিক করলেই আরো নতুন পেজ খুলে যায়। এটি একটি খুবই বিপদজনক পরিস্থিতি
কারণ এই বিজ্ঞাপনগুলোর মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে।
ফোনে ভাইরাস ঢুকলে কি ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যায়
মোবাইল ডেটা এবং ইন্টারনেট ব্যবহার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া হলো আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ যা বলে দেয় আপনার ফোনে ভাইরাস আছে। যখন কোনো ভাইরাস বা
স্পাইওয়্যার আপনার ফোনে থাকে তখন সেটি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে হ্যাকারদের
সার্ভারে পাঠানোর চেষ্টা করে। এই কাজটি করতে গিয়ে আপনার মোবাইল ডেটা প্রচুর
পরিমাণে খরচ হতে থাকে এবং আপনি যদি আপনার ডেটা ব্যবহারের রিপোর্ট দেখেন তবে বুঝতে
পারবেন যে কোনো অপরিচিত অ্যাপ বা প্রসেস অনেক বেশি ডেটা ব্যবহার করছে।
এই ধরনের ভাইরাস মূলত ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং আপনার ফোনের কন্টাক্ট লিস্ট
ছবি এবং অন্যান্য ফাইল গোপনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠাতে থাকে। আপনি যদি সেটিংসে
গিয়ে ডেটা ইউসেজ চেক করেন তবে সেখানে এমন কিছু অ্যাপের নাম দেখতে পাবেন যেগুলো
আপনি কখনো ব্যবহার করেননি কিন্তু সেগুলো প্রচুর পরিমাণে ডেটা খরচ করছে। এছাড়া
যদি আপনার ইন্টারনেট স্পিড হঠাৎ খুব স্লো হয়ে যায় এবং সব সময় মনে হয় যে
ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু একটা ডাউনলোড হচ্ছে তবে সেটিও ভাইরাসের কারণে হতে পারে।
ফোনে ভাইরাস ঢুকলে কি নিজে নিজে রিস্টার্ট হয়
ফোন নিজে নিজে রিস্টার্ট হওয়া এবং হ্যাং করা সমস্যাটি অনেক বিরক্তিকর এবং এটি
ভাইরাস সংক্রমণের আরেকটি কারণ। যখন আপনার ফোনে কোনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে যায়
তখন সেটি ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে ফোন
হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা নিজে থেকেই রিস্টার্ট নিতে শুরু করে। আপনি যদি লক্ষ্য
করেন যে আপনার ফোন দিনে কয়েকবার করে নিজে নিজে রিস্টার্ট হচ্ছে বা কোনো অ্যাপ
খোলার সময় ফোন ফ্রিজ হয়ে যাচ্ছে তবে সেটি একটি গুরুতর সমস্যা।
এই সমস্যা বিশেষভাবে তখন বেশি হয় যখন ভাইরাস আপনার ফোনের র্যাম এবং প্রসেসরকে
অতিরিক্ত চাপ দেয়। আপনি হয়তো খুবই সাধারণ একটি কাজ করছেন যেমন হোয়াটসঅ্যাপ
মেসেজ পাঠানো কিন্তু তখনই ফোনটি হ্যাং করে গেল এবং কিছুতেই কোনো বাটন কাজ করছে
না। এই ধরনের ঘটনা যদি বারবার ঘটতে থাকে তবে বুঝতে হবে ফোনের ভেতরে কিছু ক্ষতিকর
প্রোগ্রাম চলছে যা সিস্টেমকে হ্যাং করে তুলছে। এই জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায়।
ভাইরাস কি ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়
ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা কেটে যাওয়া এবং মেসেজ পাঠানো হলো সবচেয়ে বিপদজনক
লক্ষণ যা বলে দেয় আপনার ফোন সম্পূর্ণভাবে হ্যাক হয়ে গেছে। কিছু বিশেষ ধরনের
ভাইরাস যাকে ট্রোজান বলা হয় সেগুলো আপনার মোবাইল ব্যাংকিং পিন এবং পাসওয়ার্ড
চুরি করে নেয় এবং আপনার একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে
বিকাশ নগদ এবং রকেটের মতো সেবা ব্যবহারকারীরা এই ধরনের আক্রমণের প্রধান টার্গেট
হয়ে থাকেন।
এছাড়া আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো আপনার ফোন থেকে নিজে নিজেই অদ্ভুত মেসেজ বা লিংক
আপনার কন্টাক্ট লিস্টের মানুষদের কাছে চলে যাওয়া। এই ভাইরাসগুলো আপনার মেসেজিং
অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্প্যাম লিংক বা ফিশিং ম্যাসেজ পাঠাতে থাকে যাতে আরো
বেশি মানুষ ফাঁদে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আপনার উচিত সাথে সাথে আপনার সব ব্যাংকিং
অ্যাপের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং ব্যাংককে জানানো যাতে তারা আপনার একাউন্ট
সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোনে ভাইরাস ঢুকলে কি পারফরম্যান্স খুব স্লো হয়
ফোনের পারফরম্যান্স খুব স্লো হয়ে যাওয়া হলো ভাইরাসের আরেকটি সাধারণ লক্ষণ যা
প্রায় সব ধরনের ম্যালওয়্যারের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। যদি আপনার ফোন আগে খুব
দ্রুত চলত কিন্তু এখন প্রতিটি অ্যাপ খুলতে অনেক সময় লাগছে এবং স্ক্রল করলে ল্যাগ
হচ্ছে তবে সেটি ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা প্রকাশ করে। ম্যালওয়্যার যখন
ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে তখন সেটি ফোনের র্যাম এবং প্রসেসিং পাওয়ার দখল করে
নেয় যার ফলে আপনার নিজের ব্যবহার করা অ্যাপগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।
এই স্লো পারফরম্যান্স শুধুমাত্র ভাইরাসের কারণেই হয় এমন নয় তবে যদি আপনি ফোন
রিসেট করার পরেও বা অ্যাপ ক্লিয়ার করার পরেও একই সমস্যা থাকে তবে সেটি ভাইরাসের
লক্ষণ। অনেক সময় আপনি হয়তো দেখবেন যে খুবই সাধারণ একটি কাজ যেমন গ্যালারি খোলা
বা ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতেও ফোন অনেক সময় নিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে ফ্রিজ হয়ে
যাচ্ছে। এই ধরনের পারফরম্যান্স সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তবে আপনার উচিত
ফোনকে সেফ মোডে চালু করে দেখা যে সেখানে ঠিকমতো কাজ করছে কিনা।
ফোনে ভাইরাস থাকলে কি সেটিংস নিজে নিজে পরিবর্তন হয়
সেটিংস নিজে নিজে পরিবর্তন হওয়া এবং অ্যাপ ক্র্যাশ করা এই দুটি সমস্যা যদি
একসাথে দেখা দেয় তবে বুঝতে হবে আপনার ফোনে কোনো ভাইরাস ঢুকে গেছে। অনেক সময়
আপনি হয়তো লক্ষ্য করবেন যে আপনার ফোনের ওয়াইফাই নিজে নিজে চালু হয়ে যাচ্ছে বা
ব্লুটুথ নিজে থেকে অন হয়ে আছে যদিও আপনি সেটি বন্ধ করে রেখেছিলেন। এছাড়া কিছু
ম্যালওয়্যার আপনার স্ক্রিন লক সেটিংস বা পারমিশন সেটিংস পরিবর্তন করে দিতে পারে
যাতে সেটি আরো সহজে আপনার ফোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
অ্যাপ ক্র্যাশ করা মানে হলো আপনি যখন কোনো অ্যাপ খুলছেন তখন সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে
যাচ্ছে এবং আপনাকে আবার হোম স্ক্রিনে ফিরিয়ে আনছে। যদি এই সমস্যা শুধুমাত্র একটি
বা দুইটি অ্যাপের ক্ষেত্রে হয় তবে সেটি ওই নির্দিষ্ট অ্যাপের বাগ হতে পারে
কিন্তু যদি প্রায় সব অ্যাপই ক্র্যাশ করতে থাকে তবে সেটি ভাইরাসের কারণে হচ্ছে।
ভাইরাস অনেক সময় আপনার গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ যেমন ব্যাংকিং অ্যাপ বা সিকিউরিটি
অ্যাপকে টার্গেট করে এবং সেগুলোকে ক্র্যাশ করিয়ে দেয় যাতে আপনি সেগুলো ব্যবহার
করতে না পারেন।
ফোনের স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া কি ভাইরাসের লক্ষণ
ফোনের স্টোরেজ দ্রুত ফুল হয়ে যাওয়া আরেকটি লক্ষণ যা ইঙ্গিত করে যে আপনার ফোনে
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আছে। যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে আপনার ফোনে কিছুদিন আগেই
প্রচুর খালি জায়গা ছিল কিন্তু এখন হঠাৎ করে স্টোরেজ ফুল হয়ে গেছে অথচ আপনি তেমন
কিছু ডাউনলোড করেননি তবে সেটি সন্দেহজনক। কিছু ভাইরাস নিজে নিজে বিভিন্ন ফাইল
ডাউনলোড করতে থাকে বা আপনার ফোনের ডেটা কপি করে লুকিয়ে রাখে যার ফলে স্টোরেজ
পূর্ণ হয়ে যায়।
আরো পড়ুনঃ জমির খাজনা অনলাইনে চেক করার নিয়ম ২০২৬
আপনি যদি সেটিংসে গিয়ে স্টোরেজ দেখেন তবে সেখানে হয়তো দেখবেন যে অদ্ভুত নামের
কিছু ফাইল বা ফোল্ডার প্রচুর পরিমাণ জায়গা নিয়ে রেখেছে। অনেক সময় এই ফাইলগুলো
গোপন থাকে এবং ফাইল ম্যানেজার দিয়েও দেখা যায় না যার ফলে আপনি বুঝতে পারেন না
কোথায় স্টোরেজ ব্যবহার হচ্ছে। এই সমস্যা যদি হয় তবে আপনার উচিত একটি ভালো
ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহার করা যা লুকানো ফাইল এবং ক্ষতিকর সফটওয়্যার খুঁজে বের করতে
পারে।
ফোনে ভাইরাস থাকলে কি ক্যামেরা নিজে নিজে চালু হয়
ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন নিজে নিজে চালু হওয়া হলো সবচেয়ে ক্ষতিকর লক্ষণ যা
প্রমাণ করে যে আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে এবং কেউ আপনাকে গোপনে নজরদারি করছে। কিছু
বিশেষ ধরনের স্পাইওয়্যার আছে যেগুলো আপনার ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক নিয়ন্ত্রণ
করতে পারে এবং আপনার অজান্তেই আপনার ছবি তুলতে পারে বা কথোপকথন রেকর্ড করতে পারে। ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায় জানার মাধ্যমে আপনি সহজেই সতর্ক থাকতে পারবেন।
এই ধরনের ভাইরাস সাধারণত টার্গেটেড আক্রমণে ব্যবহার করা হয় যেখানে হ্যাকাররা
নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে চায়। আপনার ব্যাংকিং পিন বা
পাসওয়ার্ড যখন আপনি টাইপ করছেন তখন যদি মাইক্রোফোন অন থাকে তবে হ্যাকাররা সেই
শব্দ রেকর্ড করে আপনার পাসওয়ার্ড অনুমান করার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া আপনার
ব্যক্তিগত মুহূর্ত যেমন ঘরে বসে থাকা বা পরিবারের সাথে কথা বলা এসব কিছু গোপনে
রেকর্ড হয়ে ব্ল্যাকমেইলের কাজে ব্যবহার হতে পারে।
লেখকের শেষ কথা
এই জন্য আমাদের সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা বা অপরিচিত সাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড
করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব সময় গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে
অ্যাপ ইনস্টল করুন এবং নিয়মিত আপনার ফোন আপডেট রাখুন কারণ প্রতিটি আপডেটে নতুন
নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত হয়। একটি ভালো এন্টিভাইরাস অ্যাপ ইনস্টল করে রাখুন এবং
মাঝে মাঝে ফোন স্ক্যান করুন। আপনার সচেতনতাই পারে আপনার ফোন এবং ব্যক্তিগত তথ্যকে
নিরাপদ রাখতে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টটি লেখা আপনাদের যদি এ পোস্টটি সহায়ক
মনে হয় তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে একটি শেয়ার করুন যেন তারাও
জানতে ফোনে ভাইরাস ঢুকেছে কিনা বোঝার উপায়, ফোনে ভাইরাস থাকলে কি ব্যাটারি
দ্রুত শেষ হয়, অপরিচিত অ্যাপ ডাউনলোড করলে কি ফোনে ভাইরাস ঢুকে, ফোনে ভাইরাস
ঢুকলে কি ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যায়, ফোনে ভাইরাস ঢুকলে কি নিজে নিজে
রিস্টার্ট হয়, ভাইরাস কি ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়, ফোনে ভাইরাস ঢুকলে
কি পারফরম্যান্স খুব স্লো হয়, ফোনে ভাইরাস থাকলে কি সেটিংস নিজে নিজে পরিবর্তন
হয়, ফোনের স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া কি ভাইরাসের লক্ষণ, ফোনে ভাইরাস থাকলে কি
ক্যামেরা নিজে নিজে চালু হয় ইত্যাদি।



টেক সমাজের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url